বুধবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

Old Husky, New Bottle.




আজ থেকে ঠিক ২ মাস আগে আইন মন্ত্রী আনিসুল হক শিল্পকলা একাডেমী তে গিয়ে বলেছিলেন যে মুক্তমনা লেখক, সাংবাদিক ও অনলাইন এ যারা লেখা লেখি করে তাদের দীর্ঘ দিনের চাওয়া বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ( আইসিটি ) আইনের ৫৭ ধারা আর থাকছে না। খুব ভালো সংবাদ তখন মনে হয়েছিলো সরকার মনে হয় সত্যি মানুষের বাকস্বাধীনতা টুকু কেড়ে নিতে চাই না। আবার তিনি মে মাসের ১৮ তারিখের দিকে একবার গাড়ির চাবি দিতে গিয় বলেছেন যে, আইসিটি এক্টের ৫৭ ধারা সহজ নতুন ডিজিটাল সিকিউরিটিজ আইনে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। এতে করে আইসিটি এক্টের ৫৭ ধারার মধ্যমে স্বাধীন মত প্রকাশের পথ আর রুদ্ধ হবে না। 
এই জন্য ৫৭ ধারার সহজিকরন করে ডিজিটাল সিকিউরিটিজ আইনে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। মন্ত্রীপরিষদ নাকি তখন এই আইনের নীতিগত একটি খসড়া অনুমোদন দিয়েছিলো। এবং তখন তিনি বলেছিলেন আইন মন্ত্রণালয় নাকি আইনটি যাচাই বাছাই করছিল। যাচাই বাছাই পর্ব শেষ হলে স্টেকহোল্ডারদের সাথে মত বিনিময় করে সেই আইনটি চুড়ান্ত করা হবে। তখন তিনি আমাদের একটি গল্পও শোনান ৭২ এর সংবিধানে নাকি একটি আইন করা হয়েছিলো যার নাম বিশেষ ক্ষমতা আইন এবং সেই আইন নাকি রাজনৌতিক বিভিন্ন হয়রানি মুলক কাজে ব্যবহার করার কারনে ২০০৯ সাল থেকে এই আইনকে বিলুপ্ত করা হয়। ঠিক তেমনি এই স্বাধীন মত প্রকাশে বাধা দেওয়া ধারা ৫৭ নাকি বিলুপ্ত করা হবে। সেখানেও আইনমন্ত্রীর কথায় অনেকেই আশার আলো দেখতে পান। এর পরে ২১ জুলাই মুক্তমনা ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে লিখে চলা একজন প্রিয় ব্যক্তিত্ব বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইমতিয়াজ মাহমুদের এর নামে মামলা করা হয়। তার নামে অভিযোগ আনা হয় ফেসবুকে তিনি নাকি বিভিন্ন ধরনের উস্কানি মুলক পোষ্টের মাধ্যমে পার্বত্য অঞ্চলের আদিবাসী দের মধ্য দ্বিমত ঢুকিয়ে দিচ্ছেন। আর তার ৪ দিন পরে মঙ্গলবার বনানী তে একটি অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী বলেন যে, আইসিটি আইনের ৫৭ ধারা শুধু সাংবাদিক দের জন্য নয় দেশের ১৬ কোটি মানুষের জন্য প্রযোজ্য। সে তো আমরা জানিই যে সংবিধান দেশের সকল নাগরিকের জন্যই। 
তিনি আরো বলেছেন যারাই অপরাধ করবে তাদেরকেই শাস্তির আওতায় আনা হবে। তবে নতুন সিকিউরিটি আইনে অপরাধ গুলো সুস্পষ্ট করে কোন ধরনের অপরাধে কি শাস্তি হবে তা বিস্তারিত ভাবে জানানো হবে। সেখানে তিনি আরো বলেন বরগুনা ইউ এন ও গ্রেপ্তার এর ঘটনার কথা ও সেখানকার বিচারক সরানোর কথা। সব কিছুর পরে আজকে মনে হচ্ছে সরকারের বক্তব্য গুলোর মধ্যে নানান সময়ে শুধু নানান ধরনের ভিন্নতাই ছিলো যা থেকে অনেকেই মনে করেছিলেন যে ৫৭ ধারাটি বাতিল করা হবে। কিন্তু এটা কেউ ভাবেনি কোন নতুন ধারার সাথে একত্রিত করে নতুন ভাবে সংযোজন ও সংশোধন করে আবার এই ৫৭ ধারারই আরেকটি কপি তৈরি করা হচ্ছে এবং তা হবে বর্তমানে প্রচলিত ৫৭ ধারা থেকেও কঠিন। আমি জানি না এই লেখা লিখে কি আমিও সেই ধারা তে শাস্তির আওত্তায় এসেছি কিনা। কারন সেই ধারা এখনও আমাদের মাঝে আত্তপ্রকাশ করে নি। তবে এটুকু জানা গিয়েছে যে, ৫৭ ধারা থেকেও সেই ধারা হবে কঠিন এমনকি অনলাইন গণমাধ্যম বিষয়ক খসড়া আইনেও তথ্য ও যোগাযোগ আইনের বিষয়গুলি থাকছে। এতেই পরিস্কার বোঝা যাচ্ছে যে সরকার যেভাবেই হোক ৫৭ ধারাটি রেখে দিতে চাইছে নতুন নামে। কিন্তু সরকার কি বুঝতে পারছেন যে ৫৭ ধারাটি রেখে দেওয়ার যে প্রক্রিয়া চালাচ্ছে সেটা সরকারের জন্য কতটুকু ভাবমর্যাদার অনুকুল হবে।

৫৭ ধারা নিপাতযাক, বাকস্বাধীনতা মুক্তিপাক।

---------- মৃত কালপুরুষ
              ২৭/০৭/২০১৭

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন