আমার ইসলামিক জ্ঞান। লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
আমার ইসলামিক জ্ঞান। লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

সোমবার, ২৩ অক্টোবর, ২০১৭

রামেসিস দ্বিতীয় বা কথিত ফেরাউন এর পরিচয়।


বাংলা ফেরাউন ও আরবি ফৌরান আসলে কোন একক ব্যাক্তি বা একজন মানুষের নাম নয়। বর্তমান মিশরে প্রাচীনকালে সকল ফারাও রাজবংশের রাজাদের এই নামেই ডাকা হতো এবং একেকজন ফারাও বা ফেরাউনদের এর একেকটি নাম ছিলো। যেমন তাদের মধ্যে একজন ছিলেন বর্তমান মুসলমান, ইহুদী ও খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের প্রধান গ্রন্থের উল্লেখিত ফেরাউন যার আসল নাম (ইংরেজি) রামেসিস দ্বিতীয় বা রামেসিস ২ যার জন্ম খ্রিস্টপুর্ব ১২৭৯ মৃত্যু খ্রিস্টপুর্ব ১২১৩ সাল। বর্তমানে ইজিপ্ট বা মিশর নামে পরিচিত দেশের প্রাচীন অধিবাসী বা মিশরীয়দের কাছে “ইউর্মার ত্রেস্তেপেনের” নামে পরিচিত ছিলো যার বাংলা অর্থ “সঠিক ভারসাম্য রক্ষার শক্তিশালী রক্ষক” এছাড়াও তিনি ওজামন্ডিয়াস এবং গ্রেট রামেসিস নামেও অনেকের কাছে পরিচিত ছিলেন। বর্তমান মিশরের প্রাচীন মিশরীয় রাজবংশের মধ্যে ১৯ তম রাজবংশের তৃতীয় ফারাও রাজা ছিলেন তিনি। খ্রিস্টপুর্ব ১২৯২ সাল থেকে খ্রিস্টপুর্ব ১১৮৬ সর্বোমোট ১০৬ বছর এই ১৯তম রাজবংশ তাদের রাজত্বকালে সমস্ত মিশরের নিম্ন রাজ্য শাসন করেছিলো। এই রাজবংশের ভেতরে একজন অন্যতম রাজা ছিলেন এই রামেসিস ২। রামেসিস কাদেশের যুদ্ধে হিট্টয়দের সাথে জয়লাভ করে মিশরকে রক্ষা করেছিলেন সেসময়। এখানে কাদেশ প্রাচীন মিশরের একটি শহর আর হিট্টিয় একটি জাতি। পুর্বের অনেক মিশরীয় রাজারা যাদের সাথে যুদ্ধে পরাজিত হয়ে মিশরের উচ্চ রাজ্যের বেশ কিছু স্থানের দখল হারিয়েছিলেন। প্রকৃতপক্ষে এই যুদ্ধটিই ছিলো পৃথিবীর প্রথম যুদ্ধ যেখানে শান্তি চুক্তি হয়েছিলো এবং যুদ্ধ ড্র হবার মতো কারনে তা সেখানেই স্থগিত করা হয়েছিলো। সেটা ছিলো খ্রিস্টপুর্ব ১২৫৮ সালের কথা। এই সেই ব্যক্তি যিনি বর্তমান খ্রিস্টান ধর্ম ও ইসলাম ধর্মের অনুসারীদের কাছে এক নামে পরিচিত “ফেরাউন”।

কিন্তু আশ্চর্যের ব্যাপার কি সেটা দেখুন একবার। পৃথিবীর কোথাও এই বিষয়ে কোন ঐতিহাসিক বা প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণ নেই যে তিনিই ইহুদী ধর্মের সেই ফেরাউন বা তার মৃত্যুর ১ হাজার ৮২৩ বছর পরে তৈরি হওয়া বা প্রচার হওয়া ধর্ম ইসলাম ধর্মের মূল গ্রন্থ কোরানে উল্লখিত ফেরাউন আসলে তিনিই ছিলেন। কিন্তু বর্তমানে ইহুদী, খ্রিস্টান ও মুসলিম জাতি এক মনে বিশ্বাস করে থাকেন যে, এই “ইউর্মার ত্রেস্তেপেনের” সেই ফেরাউন যার কথা কোরান ও তাওরাত শরিফ এ লেখা আছে কিন্তু তার নাম কোথাও উল্লেখ করা নেই। বর্তমান যুগে প্রাচীন মিশরীয়দের লেখা চিত্রলিপি বা হায়ারগ্লাফিক্স পাঠউদ্ধার করে এসবই আজ মানুষ জানতে পেরেছে এবং খুব পরিষ্কার ভাবেই তা জানা গিয়েছেএই ফেরাউন বা ফারাও রাজা রামেসিস দ্বিতীয় যার নাম “ইউর্মার ত্রেস্তেপেনের” তার মৃত দেহ কোনদিন পচবে না বা নষ্ট হবে না এমন কথা এসব ধর্ম গ্রন্থ গুলিতে বলা আছে কিন্তু এই রাজার থেকে আরো ২ হাজার বছর পুরাতন মৃত দেহ এখন পর্যন্ত মিশর সহ পৃথিবীর আরো অনেক দেশ থেকেই উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে যা এই মিথ বা ভুলধারনা ভেঙ্গে দেবার জন্য যথেষ্ট। শুধু তাই নয় মুসলমানরা এটাও বিশ্বাস করে থাকেন যে এই মৃত দেহটি ৬২ ফুট লম্বা কিন্তু প্রকৃত পক্ষে তা মাত্র ৬ ফুটের কাছাকাছি একটি স্বাভাবিক মানুষের মৃত দেহের মতো।


 আসুন সেই কথিত ফেরাউনদের একজন সেই রামেসিস ২ সম্পর্কে আরোকিছু জানার চেষ্টা করি। রামেসিস ২ এর জীবিত অবস্থায় তার প্রায় ২০০ এর উপরে স্ত্রী এবং উপ-স্ত্রী ছিলো। তার সন্তান ছিলো ১১২ জন যার মধ্যে ছেলে সন্তান ছিলো ৯৬ জন আর কন্যা সন্তান ছিলো ১৬ জন। এই রাজা রামেসিস ২ তার নিজের প্রচার এতো পরিমানে করেছিলো সেসময়ের প্রাচীন মিশরে যে, মিশরের নিম্ন রাজ্যের একপ্রান্ত থেকে আরেকপ্রান্তের এমন কোন শিলালিপি বা বড় পাথর বা খন্ড ছিলো না যেখানে তার উল্লেখ পাওয়া যাবে না। এই রাজা রামেসিস ২ এর মৃত্যুর পরে তার রাজ্যের প্রজারা প্রচন্ড ভয়ের ভেতরে ছিলেন। তাদের ধারনা ছিলো রামেসিস ২ এর মৃত্যুর ফলে এই পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে এমন ভয়। তাঁর রাজত্বের সময় তাঁর সমস্ত প্রজারা তাকে দেবতাদের একজন বলেই ভাবতেন।

রাজা রামেসিস ২ এর প্রাথমিক জীবন যাপন সম্পর্কে এপর্যন্ত যা কিছু জানা সম্ভব হয়েছে তা চুড়ান্ত বলেই গ্রহন করা হয়। রামেসিস ২ ছিলেন সেটি আই (Seti I)  এবং রানী “তুয়ায়” (Tuya) এর পুত্র। যে তার পিতার সাথে ১৪ বছর বয়স থেকেই বর্তমান লিবিয়া ও প্যালেস্টাইনের বিভিন্ন সামরিক অভিযানের সাথে ছিলেন। পরবর্তিতে রামেসিস ২ এর বয়স যখন ২২ বছর হয় তখন সে তার ছেলে খাইময়েসেট ও আমুনুরওয়ারেমফের সাথে বর্তমান মিশরের  নুবিয়াতে নিজের প্রচারাভিযানের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন এবং সেই সময়েই রামেসিস ২ কে তার পিতা সেটি আই এর সহ-শাসক হিসেবে গ্রহন করা হয়। রামেসিস ২ তার পিতা সেটি আই এর অধীনে থেকে প্রাচীন মিশরের আভারিসে নামক স্থানে একটি প্রাসাদ ও একটি বিশাল বিশ্রামাগার বানানোর প্রকল্প হাতে নিয়েছিলো। খ্রিস্টপুর্বাব্দ ১৩৪৪ থেকে ১৩২২ সাল পর্যন্ত হিট্টিয় রাজা Suppiluliuma 1  (উচ্চারন জানা নেই) বর্তমান মিশরের প্রাচীন মিশর, বর্তমান সিরিয়া এবং কনানে সহ আরো অনেক গুরুত্বপূর্ণ স্থান তার অধীনে ছিলো যা রামেসিস ২ ও তার পিতা সেটি আই দখল করেছিলো। এরপর রামেসিস ২ এর পিতা সেটি আই এর মৃত্যুর পরে রামেসিস ২ সিংহাসনে বসেন এবং রাজ্যভার হাতে নেন। তখন আরেক হিট্টি রাজা “মুওয়াতি দ্বিতীয়”  এর কাছ থেকে একযোগে মিশরীয় সীমান্ত পুনরুদ্ধার করেন রামেসিস ২। এসময় এই রাজা বর্তমান মিশর, সিরিয়া ও কোনানে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বানিজ্য কেন্দ্র গড়ে তোলেন।

এই রাজা রামেসিস ২ এর রাজত্বের শেষ শতাব্দীতে এসে কিছুটা বিতির্কিত হয়ে উঠেন তার রাজ্যেরই কিছু পন্ডিত ও মন্দিরের পুরোহিত দ্বারা। অনেকেই বিভিন্ন কারনে দাবী করেছিলেন যে রামেসিস ২ একজন প্রপাগান্ডিস্ট তার তেমন কোন শক্তি নেই যে তাকে দেবতা মনে করতে হবে। কিন্তু তার রাজত্বকালের নিদর্ষন ও অতীত রেকর্ড, মন্দির, স্মৃতিসৌধের লিখিত ও ভৌত প্রমান আমাদের এটা দেখায় তার রাজত্ব ছিলো একটি স্থিতিশীল এবং সমৃদ্ধ রাজ্যের পক্ষে যুক্তিযুক্ত। তিনি মিশরের কয়েকজন শাসকদের মধ্যে একজন ছিলেন এবং দীর্ঘকালীন শাসন করার জন্য যোগ্য ছিলেন। তিনি বিভিন্ন ধরনের ধর্মীয় উৎসব পালন করতেন যা ফেরাউন বা রামেসিস ২ কে পুনরুজ্জীবিত করার জন্য তার মৃত্যুর পরেও আরো ৩০ বছর ধরে অনুষ্ঠিত হয়েছিলোতিনি দেশের সীমানা সুরক্ষিত করেছিলেন, তার সম্পদ বৃদ্ধি করেছিলেন এবং তার ব্যবসার সুযোগ বৃদ্ধি করেছিলেনযদিও তিনি বিভিন্ন শিলালিপি ও স্মৃতিসৌধে তাঁর কৃতকর্মের প্রশংসা করছিলেন, তার পরেও তিনি মিশরবাসীর গর্বিত হওয়ার উপযুক্ত একজন রাজা ছিলেন।

রামেসিস ২ বা রামেসিস দ্যা গ্রেট এর মমিকৃত মৃত দেহটি ১৮১৮ সালে আজ থেকে প্রায় ২০০ বছর আগে উদ্ধার করা হয় যা বর্তমানে ইজিপ্ট মিউজিয়ামে সংরক্ষন করা আছে। তার মমিকৃত মৃত দেহটি দেখে বোঝা যায় তিনি ছিলেন খুবই শক্তিশালী এবং সুদর্ষন একজন সুপুরুষ। আজ থেকে ৩ হাজার ২৩০ বছর আগে তার বাস্তব চেহারা কেমন ছিলো তাও থ্রিডি প্রিন্টার দিয়ে তৈরি করে দেখানো হচ্ছে নতুন প্রজন্মকে। অত্যাধুনিক পদ্ধতি ব্যাবহার করে তার মৃত দেহ থেকে আরো অনেক অজানা তথ্য আবিষ্কার করা সম্ভব হয়েছে যেমন তার ছিলো একটি শক্ত চোয়াল, পাতলা নাক এবং পরু ঠোট। জীবিত অবস্থায় তার প্রকৃত উচ্চতা ছিলো ৬ ফুট +- ১ ইঞ্চি। জীবিত অবস্থায় তিনি দাতের সমস্যায় ভুগছিলেন এবং অধিকাংশ পরিক্ষা করেই দেখা যায় তিনি বার্ধক্য বা হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যবরন করেন। তিনি পরবর্তীকালে মিশরীয়দের 'মহান পূর্বপুরুষ' হিসাবে পরিচিত ছিলেন এবং অনেক ফারাও রাজা তাঁকে তাঁর নিজের নামে যুক্ত করে সম্মান দিয়েছিলেনতাদের কিছু, যেমন (Ramessess III) রামেসিস তৃতীয় যাকে অনেক ফারাওদের চেয়েও ভাল শাসক হিসেবে বিবেচনা করা হয় তবে তাদের কেউই প্রাচীন মিশরীয়দের মন ও অন্তরে রামিসেস দ্য গ্রেটের এর মতো মহৎ কৃতিত্ব এবং মহিমা দেখিয়ে রামেসিস দ্বিতীয়কে অতিক্রম করতে পারেনি। রামেসিস ২ এর জীবনী সম্পর্কে আরো অনেক কিছু জানা সম্ভব হয়েছে যার ১০% আমি তুলে ধরতে পারিনি লেখা সংক্ষেপ করার কারনে। এই লেখাটি Joshua J. Mark এর মিশর বিষয়ক গবেষনা থেকে রুপান্তর করে লিখেছি, তিনি  নিউ ইয়র্ক এর ম্যারিস্ট কলেজ এর দর্শন এর প্রফেসর।

---------- মৃত কালপুরুষ
               ২৩/১০/২০১৭
x

মঙ্গলবার, ৩ অক্টোবর, ২০১৭

মুর্তি পূজা, হুবাল দেবতা ও ইসলাম ধর্ম (২য় পর্ব)


হুবাল দেবতা সম্পর্কে আমি আগের লেখাটিতে আপনাদের হুবালের পরিচয় দিয়েছিলাম সাথে তার তিন কন্যা লাত, উজ্জা আর মানাত এর সাথেও সংখিপ্ত পরিচয় করিয়েছি। আমার সেই লেখাটিতে এক ভাই একটি মন্তব্য করেছিলেন। তার মন্তব্য ছিলো এরকম, যেই হুবাল বর্তমান সৌদিআরব এর মক্কা শহরের কাবা শরিফ এর প্রধান দেবতা ছিলো সেই হুবালের মুর্তি বর্তমানে সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কো তে দামাস্কাস মিউজিয়ামে সংরক্ষিত আছে। যখন হুবালের মুর্তি সংরক্ষন করা বা স্থানান্তর করা হয় তখন মুর্তিটির একটি হাত (ডান হাত) ভাঙ্গা ছিলো এবং সিরিয়ার বাদশা হাফিজ আল আসাদ সরকার সেই হাতটি প্রতিস্থাপন করেন সোনা দিয়ে। এটা ছিলো তার করা মন্তব্যের মূল কথা কিন্তু সময়কাল তিনি উল্লেখ করেনি সেখানে। তার কথায় একটু দ্বিমত আছে আমার। বিষয়টি বড় বলে মন্তব্য করে উত্তর দেওয়া সম্ভব না তাই এই লেখার প্রথমেই তা যোগ করলাম।

আমরা হিশাম ইবনে আল কালবি লিখিত কিতাব "আল-আসনাম" থেকে জানতে পারি, হুবালের মূর্তিটি আঁকা ছিলো যার ডান হাত তখনই ভাঙা ছিলো এবং সেটা সোনার হাত দিয়ে প্রতিস্থাপিত। এখন আমার কথা হচ্ছে বর্তমান সিরিয়া নামের দেশটির একটি শহর এর নাম হচ্ছে হোমস। আর এই শহরের বর্তমান বয়স প্রায় ২০০০ বছর। কিন্তু সুলেমানি সাম্রাজ্য বা অটোমান সাম্রাজ্য শুরুর ইতিহাস কিন্তু ১২৯৯ খ্রিষ্টপুর্ব থেকে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ পর্যন্ত অর্থাৎ ১৯১৪-১৮ সাল পর্যন্ত। তাহলে এই হোমস শহরে যখন মানুষ বসবাস শুরু করে তখন কিন্তু সেই যায়গার বা সেই দেশের নাম সিরিয়া ছিলো না। আর আমরা জানি ইসলাম ধর্মানুসারীদের প্রধান নবী মুহাম্মদ (সাঃ) তার সঙ্গী সাথীদের নিয়ে ৬২৪ খ্রিষ্টাব্দে এই হুবাল অনুসারীদের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হন যার নাম বদরের যুদ্ধ। আর তার ৬ বছর পরে তৎকালীন মক্কা শহর দখল করার পরে বর্তমান কাবা শরিফ যা তখন ছিলো এই হুবাল দেবতার মন্দির সেই মন্দির থেকে হুবাল সহ সর্বোমোট ৩৬০ টি মুর্তি সরিয়ে ফেলেন বা একেবারেই ধ্বংস করে ফেলেন যাতে পরবর্তিতে মুহাম্মদ (সাঃ) এর তৈরি করা ইসলাম ধর্ম বিতর্কিত না হয়। নবী মুহাম্মদ (সাঃ) প্যাগান ধর্মের সম্পৃক্ততা ধ্বংস করেছিলেন সাদ ইবনে যায়িদ আল আশহালি এর সাথে ৬৩০ খ্রিষ্টাব্দে। তাহলে বর্তমানে যদি দামস্কাস মিউজিয়ামে কোন হুবালের মুর্তি সংরক্ষিত থাকে সেটা কি এই হুবাল। আর হলেও নবী মুহাম্মদ (সাঃ) তখন কি ধ্বংস করেছিলেন।

আবার আমরা হুবাল প্রসঙ্গে ফিরে যায়। ইসলাম ধর্মের প্রধান নবী মুহাম্মদ (সাঃ) এর জন্মেরও অনেক আগে মানে কয়েক হাজার বছর আগে থেকেই মক্কা শহরের এই কাবা নামক মন্দিরটি বিভিন্ন ধর্মীয় মানুষের একটি ধর্মীয় উপাশনালয় ছিলো। কাবা প্যাগান ধর্মাবলম্বীদের দেওয়া একটি নাম। কাবা শব্দের বাংলা অর্থ হচ্ছে চারকোনা বা বর্গাকার। প্যাগান ধর্মাবলম্বি সহ মক্কার আদীবাসীদের বিভিন্ন দেব দেবীর মুর্তিতে কাবা পরিপুর্ন ছিলো। সেখানে একই সাথে অনেক ধর্মের মানুষের অনেক রকম আচার অনুষ্ঠান পালন করা হত। যায়গাটি ইসলাম ধর্ম তৈরি হবার আগ পর্যন্ত একটি সাংস্কৃতিক অঙ্গন হিসেবেও পরিচিত ছিলো সেখানে নাচ গান এর কথাও উল্লেখ আছে অনেক যায়গায়। ছবি আকার প্রতিযোগিতা হতো কাবা সহ তার আশেপাশের অঞ্চলে। আর বর্তমানে যে কাবা শরিফ তা ছিলো এই হুবাল দেবতার নামে উৎসর্গ করা মন্দির। আর এই কাবা সহ মক্কার প্রধান দেবতা ছিলো এই হুবাল। সেই হুবালের তিন কন্যাতিন প্রধান দেবী লাত, উজ্জা ও মানাতের মূর্তি ছিল এই কাবা শরিফে ও আরো দুইটি কাবা ঘরে যা পরে ইসলাম প্রচারক নবী মোহাম্মদ (সাঃ) তার দলবল নিয়ে ভেঙ্গে ফেলেন।

ইসলামের আজকের দিনে আল্লাহ্‌ বলতে যেমন একমাত্র ঈশ্বর বোঝায়, ইসলাম আবির্ভাবের পুর্বে আরবে তা ছিল না। আল্লাহ শব্দটির ইতিহাস ইসলামের চেয়ে অনেক প্রাচীন এবং বহুল প্রচলিত। আল্লাহ্‌শব্দটির অর্থ নিয়ে বিভিন্ন ধরণের মতামত পাওয়া যায়। নবী  মুহাম্মদ (সাঃ) এর বাবার নাম ছিল আবদ আল্লাহ্‌ বা আব্দুল্লাহ ইবন আবদ আল মুত্তালিব। আবদ আল্লাহ বা আব্দুল্লাহ অর্থ আল্লাহ্‌-এর দাস। আমরা জানি যে নবী মোহাম্মদ এর পিতা তার জন্মের আগে মারা গিয়েছেন। আর ইসলাম ধর্ম প্রচার শুরু হয়েছে মুহাম্মদ (সাঃ) এর বয়স যখন ৪০ বছর তখন থেকে। তার আগে কিন্তু ইসলাম ধর্ম বা তার প্রধান ঈশ্বর আল্লাহ ছিলেন না। তাহলে নবী মুহাম্মদ (সাঃ) এর পিতা কোন আল্লাহর দাস ছিলেন।  প্রাক-ইসলামী খ্রিস্টান, ইহুদি ও হানাফি নামে পরিচিত একেশ্বরবাদী আরবরা বিসমিল্লাহ্‌শব্দটিও ব্যবহার করত। আরবের শিলালিপিগুলিতে ইসলামের আবির্ভাবের কয়েক শতাব্দীর আগেও আল্লাহ্‌’-কে সর্বোচ্চ দেবতা বা সৃষ্টিকর্তা দেবতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ধারনা করা হয় এই আল্লাহ শব্দের উৎপত্তি হয়েছে এই হুবাল দেবতা থেকে। হুবালের থেকে আরেকটু কম ক্ষমতার দেবতা ছিলেন মানাফ নামের আরেক দেবতা। মক্কাবাসীদের আরেকটি অন্যতম দেবতা ছিলেন এই মানাফ(আরবি: مناف)তিনি ছিলেন নারী ও ঋতুস্রাবের দেবতা। যার নামে মিল রেখে তখনকার সময়ে শিশুদের নাম রাখা হত। যেমন, Abd Manāf al Mughirah ibn Quai নবী মুহাম্মদ (সাঃ) এর প্র-প্র-পিতামহ, Hashim ibn ‘Abd Manaf al Mughirah নবী মুহাম্মদ (সাঃ) এর প্রপিতামহ এবং Wahb ibn `Abd Manaf নবী মুহাম্মদ (সাঃ) এর মাতা আমিনার পিতার নাম ছিলো।

এহাড়াও তখন মক্কায় তিন প্রধান দেবী ছিলো এই দেবতা হুবাল এর তিন কন্যা লাত, উজ্জা ও মানাত। এদের প্রত্যেকের বিশেষ বিশেষ ক্ষমতা এবং কাজের ক্ষেত্র ছিল এবং মক্কা কাবা ও তাইফের কাছে মূর্তি সহ মন্দিরও ছিল। সেই সকল মূর্তিই পরিবর্তীতে বদরের যুদ্ধে ও মক্কা দখলের পরে ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে যাতে ইসলাম ধর্ম বিতর্কিত না হয়।

লাত ছিলো সমস্ত আরবের দেবী যাকে চন্দ্রের দেবী বলা হত। লাত বা আল-লাত ছিল আরবের প্রাক-ইসলামী যুগের একজন দেবী। সে মক্কার তিনজন প্রধান দেবীর একজন। মুসলমানদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ কোরআন শরীফের ৫৩ নম্বর সুরা নজমের ১৯ নম্বর আয়াত বা বাক্যে লাতের কথা বর্ণিত হয়েছে, যা থেকে জানা যায় ইসলাম-পূর্ববর্তী সময়ে আরবের অধিবাসীগন মানাত ও উজ্জার সাথে লাতকেও ঈশ্বরের মেয়ে হিসেবে বিবেচনা করতো। মতান্তরে, আল-লাত (ইলাহ) থেকেই আল্লাত বা আল-ইলাহ বা আল্লাহ নামের উৎপত্তি, সে ক্ষেত্রে আল্লাহ স্ত্রীবাচক এবং সেই পৌরাণিক দাবিই বেশি জোরালো।

এবার উজ্জা কে নিয়ে আলোচনার পালা। উজ্জা ছিলো প্রাক ইসলামিক যুগে মক্কার কাবা ঘরে অবস্থিত তিন মুর্তি লাত ও মানাতের মাঝখানের মুর্তি। এই উজ্জাকেও সেই সময়ের কুরাইশ বংশের লোকেরা হুবালের মতো সমৃদ্ধি ও কল্যানের আশায় পুজা করতো। মক্কা বিজয়ের পর নবী মুহাম্মদ (সাঃ) এর নির্দেশে খালিদ বিন ওয়ালিদ তার একটি অভিযানের মাধ্যমে নাখলা নামক স্থানে উজ্জার প্রতি উৎসর্গীকৃত একমাত্র মন্দির ও তার ভেতরে অবস্থিত উজ্জার দু'টি মূর্তিই ধ্বংস করে দেন।

মানাত হলো ইসলাম-পূর্ব যুগে মক্কায় পৌত্তলিকদের তিন প্রধান দেবীর অন্যতমা আরেক দেবী। আল লাত, উজ্জা ও মানাত এই তিন দেবীর মধ্যে মানাত সবচেয়ে প্রাচীন। মতান্তরে, মানাতকে হুবালের স্ত্রীও বিশ্বাস করে কেউ কেউ। প্রাচীন আরবগণ তাদের সন্তানদের নামকরণ আবদ মানাত এবং যায়িদ মানাত করতো। মানাতের মূর্তি কুদায়িদ-এর নিকটবর্তী সমুদ্র উপকূলে ছিল, যা মক্কা ও মদিনার মধ্যবর্তী স্থান। আরবগণ তাকে অর্চনা ও তার কাছে উৎসর্গ করতো। আউস, খাজ্রায, মক্কা-মদিনা ও তাঁর আশেপাশের নাগরিকরা তার পূজা করতো, তার কাছে বলি দিতো এবং তাকে নৈবেদ্য প্রদান করতো। আউস, খাজ্রায এবং ইয়াশ্রিবরা তীর্থযাত্রায করতো বর্তমানে মুসলমানেরা যেমন হজ্জ্ব পালন করে থাকে। হজ্জ্ব শব্দের পুরাতন অর্থ হচ্ছে মুর্তি দর্শন করা। তীর্থযাত্রার পরে তারা বাড়ি ফিরতো না বরং যেখানে মানাত পূজা হয়েছিল, সেখানে মস্তকমুণ্ডণ করতো এবং কিছু সময় অতিবাহিত করতো। মানাত দর্শন না করা পর্যন্ত তারা তীর্থযাত্রা অসম্পূর্ণ মনে করতো। বর্তমানে হজ্বগামী হাজ্বীদের যেমন মাথামুণ্ডণ করতে হয়।

ইসলাম ধর্মের প্রধান নবী মুহাম্মদ (সাঃ) এর আবির্ভাবের পূর্ব পর্যন্ত আরবগণ মানাতের পূজা করত। মানাতের মন্দির নবী মুহাম্মদ (সাঃ) নির্দেশে সাদ ইবনে যায়িদ আল আশহালি জানুয়ারি ৬৩০ খ্রিষ্টাব্দে ধ্বংস করেন।

এই লেখাটিতে ইচ্ছা ছিলো হুবাল দেবতা কিভাবে তৎকালীন আরবের কয়েক হাজার বছর ধরে প্রচলিত প্যাগান ও আরবের আদীবাসী ধর্মানুসারীদের মধ্যে এসেছিলো সেটা নিয়ে কথা বলার। কিন্তু হুবাল ও তার তিন কন্যা লাত, মানাত ও উজ্জা সম্পর্কে এই তথ্য গুলোও দরকার ছিলো আগে জানার। পরবর্তি লেখাতে বর্তমান কাবা ঘর ও ধ্বংস করে ফেলা আরো দুইটি কাবা ঘর ও হুবাল সম্পর্কে আরো জানানোর চেষ্টা করবো।

---------- মৃত কালপুরুষ
               ০৪/১০/২০১৭







সোমবার, ২ অক্টোবর, ২০১৭

আইএসআইএস এর স্বীকারোক্তি ও ট্রাম্পের অস্বীকার। (লাস ভেগাস হামলা)


গতকাল রাতে আমেরিকার লাস ভেগাস স্ট্রেটের নামকরা ক্যাসিনো ও নাইটক্লাব মান্দালয় বে ক্যাসিনো সংলগ্ন উন্মুক্ত স্থানে জনপ্রিয় এক সঙ্গীত গ্রুপ ও সংগীতশিল্পী জ্যাসন আলদিয়ান এর  কনসার্ট চলার সময় রুট নাইনটি ওয়ান হারভেস্ট নামের অনুষ্ঠানে সমবেত প্রায় ২২০০০ দর্শকের উপর বেপরোয়া গুলি চালায় এক বন্দুকধারী। স্বয়ংক্রিয় আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ওই বন্দুকধারী মান্দালয় বেতে অবস্থান নিয়ে কনসার্টে সমবেতদের উপর গুলি চালায় বলে জানিয়েছে পুলিশ ও বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম। স্থানীয় সময় রোববার (অক্টোবর ০১) দিবাগত রাতে সংঘটিত এ হামলার ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৫৮ জন নিহত হওয়ার খবর দিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম গুলো। এছাড়া আহত হয়েছেন ৫১৫ জন (স্কাই নিউজ সংবাদ)। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে ধারণা করা হচ্ছে। স্টিভেন প্যাডক নামে ৬৪ বছর বয়সী এক হামলাকারীকে পরে মান্দালয় বের ৩২ তলায় কোণঠাঁসা করতে সক্ষম হয় পুলিশ। সেখানে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয় বন্দুকধারী বলে পুলিশ জানলেও সংবাদ মাধ্যম গুলো জানাচ্ছে সে নিজেই আত্তহত্যা করছে।

আমার কাছে এখন পুরা ঘটনা টম ক্রুজের ২০১২ সালের মুভি জ্যাক রিচার্ড নেভার গো ব্যাকএর মতো মনে হচ্ছে। ঘটনার সাথে সাথেই বিভিন্ন সোস্যাল মিডিয়াতে হামলার ভিডিও সরাসরি দেখা যায় উপস্থিত দর্শকদের ক্যামেরাতে। এবং অল্প সময়ের মধ্যেই তা ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বব্যাপী। ঘটনার পর এক টুইট বার্তায় ডোনাল্ড জ ট্রাম্প বলেন, লাস ভেগাসের ভয়াবহ হামলার হতাহতদের এবং তাদের পরিবারকে গভীর সমবেদনা ও সহানুভূতি জানাচ্ছি। ঈশ্বর আপনাদের সহায় হোন। এই ব্যাপারে ইনভেস্টিগেশন চলছে এবং ইসলামি জঙী গোষ্ঠি আইএসআইএস এর মধ্যেই স্বীকার করেছে এই হামলার কথা। আরো প্রমান পাওয়া যাচ্ছে যে স্টিভেন প্যাডক নামে ৬৪ বছর বয়সী ওই হামলাকারীকে কয়েক মাস আগে ইসলাম ধর্ম গ্রহন করে এবং একটা সময় সে মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কিছু দেশেই সেনা সদস্য হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন। তাই ইসলামি জঙী সংগঠনের সাথে তার সম্প্রিক্ততা থাকা অস্বাভাবিক কিছুই না। কিন্তু শুরু থেকেই ট্রাম্প সরকার ও আমেরিকার গোয়েন্দা সংস্থা গুলি জানিয়ে আসছে এটা একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা হতে পারে।

আসলে আমাদের ভাবার বিষয় এখানে। দেখুন ট্রাম্প ইলেকশনে জয়ী হবার পর থেকে বিশ্ববাসীকে নানান গল্প শুনিয়ে এসেছেন। আসলে ট্রাম্প হচ্ছে একজন খাটি বা ১০০% ব্যবসায়ী মানুষ। মাথার হ্যাট থেকে শুরু করে জাহাজের ব্যবসা পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী ছড়ানো আছে তার। আজ পর্যন্ত সে তার ব্যাক্তিগত সম্পতির পরিমান সাধারন জনগনের কাছে প্রকাশ করেনি। আচ্ছা বাদ দিলাম, এগুলা সবই তার ব্যক্তিগত ব্যাপার আর সে প্রেসিডেন্ট হবার আগে থেকেই একজন বিলিয়নিয়ার। কিন্তু নির্বাচিত হবার আগে ওবামা সরকারের সময় সে, যে বয়ান গুলা দিয়েছিলো সেগুলা কি সে রাখতে পেরেছে একটাও। ইসলামিক জঙ্গি গোষ্ঠি আইএস দ্বারা গতকাল যে হামলা লাস ভেগাসে হয়েছে এবং তাতে যে রক্তের হলি খেলা হয়েছে এটা যদি সে বা তার সরকার বা আমেরিকার গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই যদি তা প্রকাশ করে তাহলে ট্রাম্পের জবাব দেবার যায়গা থাকে না। তাই সে কৌশলে এই বিষয়টি এড়িয়ে যেতে চাচ্ছে নাকি ভেবে দেখুন।

কিন্তু এরকম একটা সময়ে আবার জঙী গোষ্ঠী আইএসআইএস এই হত্যা কান্ডের দ্বায় স্বীকার করে ট্রম্পের ভাষ্যকে আবারও প্রশ্নবিদ্ধ করলো। আইএস এর যে ওয়েবসাইট আছে তা সাধারনের জন্য উন্মুক্ত নয় তাই আমরা সরাসরি তা দেখতে পারি না। প্রচলিত সার্চ ইঙ্গিন গুলোর কোনটাই আইএস এর সাইট শো করে না কারন আইএস জঙ্গীরা তাদের নিজস্ব ভিপিএন সার্ভার ব্যবহার করে থাকে। কিন্তু জঙ্গী গোষ্ঠি আইএস যে তাদের ওয়েবসাইটে এই হামলার কথা স্বীকার করেছে তা বর্তমানে গার্ডিয়ান, ইনডিপেন্ডেন্ট, নিউ ইয়র্ক পোস্ট, দা সান, সিএনএন সহ আরো অনেক মিডিয়া তা প্রকাশ করেছে।


এখন কথা হচ্ছে দুই দিন আগেই আমারা শুনেছিলাম চীন ইসলাম ধর্মানুসারীদের প্রধান ধর্মীয় কিতাব পবিত্র কোরান শরিফ কে একটি জঙ্গী ও উস্কানি মূলক বই হিসেবে চিহ্নিত করে সেই পবিত্র গ্রন্থ কাছে রাখা ও বহন করা বা সংরক্ষন করা সম্পুর্ন নিষেধ ঘোষনা করেছে এবং সকল কোরান শরিফ মুসলিম নাগরিকদের নিকটস্থ পুলিশ ষ্টেশনে জমা দিতে বলেছে। তাদের ধারনা মুসলমান জাতী এই কোরান শরিফ পড়ে আরো বেশি সন্ত্রাসী আর জঙ্গী হচ্ছে। কারন সেখানে লেখা আছে জিহাদই হচ্ছে একমাত্র বেহেস্তে যাবার পথ। জিহাদ করলে সরাসরি জান্নাত পাওয়া যায়। এমন ধারনা থেকে তারা এই জাতীয় সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে। আজকের এই লাস ভেগাসের হামলাকারী আবার কি প্রমান করলো সেটা সত্য হতে পারে ? বা আইএসআইএস জঙ্গীরা মুসলিম নাও হতে পারে ?
লাস ভেগাসের পুলিশ জানিয়েছে স্টিভেন প্যাডক নামে ৬৪ বছর বয়সী ওই হামলাকারী মাত্র কয়েক মাস আগে ইসলাম ধর্ম গ্রহন করেছিলো। সে মূলত আমেরিকার নেভাডা স্ট্রেটের একজন বাসিন্দা ছিলো সম্প্রতি ইসলাম ধর্ম গ্রহন করার পর সে লাস ভেগাসে এসে বসবাস করছে। এখন কথা হচ্ছে সে যদি কোন মানুষিক রোগী হতো বা তার অন্য কোন সমস্যা থাকতো তাহলে একই সাথে প্রায় ১০০ রাউন্ড গুলি সে হইতো করতে পারতোনা সেই ৩২ তলার একটি হোটেলের কক্ষ থেকে। যেখানে পুলিশ সর্বোমোট ১০ টি আগ্নেয়াস্ত্র পেয়েছে। পুলিশ দাবী করছে তাকে নাকি তারা গুলি করে হত্যা করেছে। কিন্তু এখানে বলে রাখি অনেক সংবাদ মাধ্যম তার আগেই জানিয়েছে যে সে গুলি করে মানুষ হত্যা করার পর নিজেই আত্তহত্যা করেছে। সেটা সাধারনত জঙ্গী বা জিহাদি আত্তঘাতীরা করে থাকে। আর এভাবেই তারা মনে করে তাদের সারা জীবনের পাপ মুক্ত হয়ে জান্নাতে প্রবেশ করলো।

আরো কিছু তথ্য দিচ্ছি একটু ভেবে দেখবেন। স্টিভেন প্যাডক নামে ৬৪ বছর বয়সী ওই হামলাকারী তার কর্ম জীবন অতিবাহিত করেছে সেনা সদস্য হিসাবে মধ্যপ্রাচ্যের কিছু দেশে। এই জাতীয় সরকারী চাকুরীজীবিরা ধারনা করে যে তারা সারা জীবন যে পাপ করেছে তা থেকে মুক্ত হতে হবে। একটা সময় জীবনের শেষ প্রান্তে এসে তদের ভেতরে মৃত্যু ভয় কাজ করতে থাকে। আর সেই মৃত্যু ভয় থেকে তারা বিভিন্ন ধরনের ধর্মীয় বিশ্বাসে তাদের বিশ্বাস স্থাপন করতে থাকে। কারন ধর্ম গুলি এটা দেখায় যে মানুষ সারা জীবনে যে পাপ নামক কোন এক বস্তু করবে তা থেকে মুক্তির উপায় আছে। আর সেই মুক্তি লাভের জন্য তারা এই জাতীয় ধর্ম একটু গুরুত্ব দিয়ে পালন করতে থেকে। এটাই হচ্ছে ধর্ম ব্যবসায়ীদের একটি বড় ধরনের প্লাস পয়েন্ট। তারা এই সময় ব্যক্তির সম্পুর্ন মানুষিকতা পরিষ্কার বুঝতে পারে এবং তাকে দিয়ে যে কোন ধরনের কাজ করিয়ে নিতে পারে। যেমন মুসলমান জাতী বিশ্বাস করে যে জিহাদ, কিতাল, কিসাস, আল-কাতল সবই হচ্ছে জান্নাতে যাবার সহজ পথ। তারা এটা মানে তলোয়ার এর নিচেই হচ্ছে জান্নাত তাই তারা জিহাদ করতে বলে।

আসলে এই ঘটনাটি আমেরিকার ইতিহাসে সবচেয়ে বড় একটি বন্দুকধারী হামলা বলা হচ্ছে। কারন এর আগে সেদেশে একটি হামলায় সর্বোচ্চ ৪৯ জন এর মৃত্যু হয়েছিলো। কিন্তু এটি তা ছাড়িয়েছে। পা্ঠক এখানে আমার কথা ভুল থাকতে পারে বা আপনাদের দ্বিমত থাকতে পারে যা আপনারা জানাতে পারেন। আমি এই হামলায় নিহত সকলের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাচ্ছি ও শোক প্রকাশ করছি।   

---------- মৃত কালপুরুষ

           ০২/১০/২০১৭

রবিবার, ১ অক্টোবর, ২০১৭

কোরান শরিফ কেন নিষিদ্ধ করা হচ্ছে ?


গতকাল থেকেই একটি সংবাদ ফেসবুক সহ বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যম গুলিতে ব্যপক ভাবে প্রচারিত হচ্ছে দেখে এই বিষয়টি নিয়ে লেখার প্রয়োজন মনে করলাম। গত আগস্ট ২০১৭ তে আমরা সবাই একটি সংবাদ শুনেছিলাম যে, চীনে মুসলমানদের জন্য যে প্রধান উপাশনালয় বা মসজিদ গুলি আছে সেগুলি থেকে সমস্ত লাউড স্পিকার খুলে ফেলার আদেশ দিয়েছেন সেদেশের সরকার। কারন লাউড স্পিকার ব্যবহার করে তারা তাদের ধর্মানুসারীদের মসজিদে ডাকার পাশাপাশি নাকি আরো অন্য সাধারন মানুষদের মধ্যে শব্দ দূষন করছিলো দীর্ঘদিন ধরেই এমন অভিযোগ আছে অনেকের। এরই ধারাবাহিকতায় সেই মাসের একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই সমস্ত মসজিদ থেকে লাউড স্পিকার খুলে ফেলা হয়। আপনারা হয়তো জানবেন যে বিশ্বের সমস্ত উন্নত দেশে শব্দ দূষন এর উপরে একটি আইন আছে এবং লাউড স্পিকার ব্যবহার করতে হলে সেই আইন মেনে করতে হয়। আমেরিকা ও ইউরোপের মসজিদ গুলির কথা বলি, সেখানে এমন ভাবে মসজিদ আছে যা কেউ বুঝতে পারবে না। নিজস্ব কোন ভবন নেই। সাধারন অফিস বা কমার্শিয়াল এরিয়াতে ফ্লোর ভাড়া করে মসজিদ নামে মুসলমান ধর্মাবলম্বীদের সমস্ত কাজ সেখানে করা হয় মসজিদ মনে করে। কোন লাউড স্পিকার বাজাবার অনুমতি নেই। তাছাড়াও আরো অনেক রেস্ট্রেকশন আছে এই জাতীয় উপাশনালয় পরিচালিত করার ক্ষেত্রে তবে কিছু কিছু এলাকায় এর ব্যতিক্রম হলে হতে পারে।

গতকাল থেকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম গুলি প্রকাশ করেছে, চীন আবারও মুসলমান সম্প্রদায়ের উপরে নতুন আইন করেছে। মুসলমানদের প্রধান ঐশরিক কিতাব পবিত্র কোরান শরিফ বহন করা, কাছে রাখা এবং সংরক্ষন করা একেবারেই নিষেধ করেছে। চীনা পুলিশ মুসলিম নাগরিকদের জানিয়েছে যে, যত দ্রুত সম্ভব তাদের এই পবিত্র গ্রন্থ যাতে নিকটস্থ পুলিশ ষ্টেশন এ গিয়ে জমা দেয়। অন্যথায় তারা অন্য ব্যবস্থা গ্রহন করবে। ইতিমধ্যেই অনেক কোরান সংগ্রহ করেছে তারা। এর কারন চীনাদের ধারনা এই ঐশরিক কিতাব জঙ্গীবাদ ছড়াচ্ছে যা থেকে মুসলিমরা বেশি সন্ত্রসী করছে। তাই তারা সীদ্ধান্ত নিয়েছে এই কিতাব নিষিদ্ধ করার।

আমার কথা হচ্ছে সারা বিশ্বের মুসলিম সম্প্রদায় কি এই বিষয়ে চুপ থাকবে না এর বিপক্ষে দাঁড়াবে। এটা মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষের কাছে আমার প্রশ্ন। আমার মনে হয় বিপক্ষে দাড়াবার মতো কারন তারা তৈরি করতে পারেনি। কারন বিশ্ব জুড়ে যত হানাহানী, যুদ্দ্ব, হত্যা, হামলা, জঙ্গীপনা, সন্ত্রাসীপনা, জিহাদ, কিতাল, কিসাস, আল-কাতল সহ ইসলাম ধর্মে আর যা কিছু আছে সেগুলোর কোনটাই প্রমান করে না এটা একটি শান্তির ধর্ম। আগে বলি কেউ আমার কথা খারাপ ভাবে নিবেন না। আমি অতি সাধারন মানুষ। আমি শুধু জানতে চাচ্ছি চীনের বিরুদ্ধে যদি কোরান নিষিদ্ধ করা নিয়ে আপনারা প্রতিবাদ করেন তাহলে কি অজুহাত এর প্লে কার্ড হাতে নিয়ে রাস্তায় দাড়াবেন সেটা জানতে চাচ্ছি এর বেশি কিছু না। আমার জানা মতে অন্যান্য দেশের মুসলমান সম্প্রদায়ের থেকে বাংলাদেশের মুসলমান জাতি এই ইসলাম ধর্ম নিয়ে একটু বেশি আবেগ প্রবন। তার প্রমান হচ্ছে, এই যে বর্তমান সময়ের সব চেয়ে আলোচিত ইস্যু রোহিঙ্গা ইস্যু। আমার মনে হয় মুসলমানদের জন্য রোহিঙ্গা ইস্যুর চেয়ে আরো বড় ইস্যু হবার কথা ছিলো এই কোরান কে জিহাদি বই বলে নিষিদ্ধ ঘোষনা করার বিপক্ষে আন্দোলন করা বা পথে নামা। কিন্তু তা হচ্ছে না কেন।

আমি “রোহিঙ্গা ইস্যুর নতুন সম্ভবনা” নামের আমার একটি লেখাতে এর আগেই আপনাদের দক্ষিন এশিয়ার যে কোল্ড ওয়ার বা ঠান্ডা যুদ্ধের কথা বলেছিলাম সেটা মনে আছে নিশ্চয়। কেউ না পড়ে থাকলে এখানে লিংক দিলাম পড়তে পারেন। চীন কিন্তু মায়ানমারে তাদের অনেক টাকা বিনিয়োগ করেছে সেটা বা এতে আবার কেউ ভাববেন না রাখাইন রাজ্য সহ আরো বেশ কিছু অঞ্চলে যে, বড় বড় কিছু খনির সন্ধান পাওয়া দিয়েছে সেটা এই ইস্যুর সাথে জড়িত তাহলে ভূল করবেন। আবারও আমি বাংলাদেশের সাধারন মুসলিম ভায়েদের বলবো প্যান ইসলামিস্টদের চিনে রাখুন। এদের উদ্দেশ্য আসলে অন্য কিছু।

আমি অনেক আগে বলতাম বাংলাদেশের সাধারন মুসলমানেরা বা সাধারন ধার্মিকেরা আসলে এই জিহাদ, জঙ্গি, সন্ত্রাসী, আইসিস, বোকো হারাম, তালেবান, আল-কায়েদা বা আরসা এতো কিছু বোঝে না। তারা মানুষ হত্যা করা, অন্য ধর্মের মানুষকে ঘৃনা করা, নারীকে অপমান করা, বহু বিবাহ, শিশু বিবাহ, মানবাধিকার লঙ্ঘন এসবকে প্রস্রয় দেয়না। কারন আমি দেখতাম বাংলাদেশের সাধারন মুসলিমরা কখনই কোন বেধর্মীকে হত্যা করার কথা বলে না। তারা সর্বোচ্চ এটুকু বলে যে এরা ইহকাল পরকাল কোন কালেই শান্তি পাবে না এর বেশি কিছু না। কিন্তু অনেকেই আমার এই কথার দ্বিমত পোষন করে বলেছেন যে, “আপনি কি জানেন যে ইসলামেই কেন এই জংগীপনা আর গুপ্তহত্যা বেশি করা হয় ? কারন এর বীজ বোনা আছে অন্য কোথাও একটু চেষ্টা করলে দেখতে পারবেন নিশ্চয়। আপনার লেখার পক্ষে থাকতে পারলাম না বলে দুঃখিত”। এই কথার পরে চেষ্টা করলাম আরো ভাল ভাবে জানার আসলে কি বীজ বোনা আছে এর মধ্যে যে এখান থেকে এই জাতীয় মানুষিকতা তৈরি হচ্ছে।

এরকম নানা কারনেই আমার আজকের এই প্রশ্ন যে, “কোরান শরিফ কেন নিষিদ্ধ করা হচ্ছে ?” একটু ভেবে দেখবেন। ১৯৭০ সালের দিকে আফগানিস্তানের নারীরা প্রকাশ্যে স্বাধীন ভাবে চলাফেরা করতে পারতো। তাদের ছিলোনা কোন পোশাকের বাধা ধরা নিয়ম। তখন নারীরা কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে খুব স্বাভাবিক ভাবেই পড়াশোনা করেছে এবং অফিস আদালতে চাকুরীও করেছে। কিন্তু তালেবান নামের ইসলামি জঙ্গী গোষ্ঠী আফগানিস্তা্নে তৈরি হবার পর থেকে ৭০ এর দশক থেকেই হতে থাকে তার পরিবর্তন। আস্তে আস্তে নারীদের প্রকাশ্যে চলাফেরাই বাধা দেওয়া শুরু হয়। তাদেরকে বোরকা নামক বস্তা বন্দী করা হয়। পঞ্চম শ্রেনীর উপরে কোন নারীকে শিক্ষা গ্রহন করতে দেওয়া যাবে না বলে আইন করা হয়। এমনকি কোরান বাদে অন্য যত বই আছে তা রাখা এবং পড়া নিষিদ্ধ করা হয়, এই বলে যে, কোরান বাদে আর যত বই আছে তা সবই শয়তানি কিতাব। এই বই রাখলে বা পড়লে মানুষের ঈমান নষ্ট হয়ে যাবে এবং তাকে ধর্মান্তরিত করা হবে। আর ইসলামে বেধর্মিকে হত্যা করা জায়েজ। তাহলে কি আজ চীন সরকার কোরান শরিফ নিষিদ্ধ করে ভালো করলো না খারপ করলো এটা আমার জানার বিষয়।

---------- মৃত কালপুরুষ
               ০১/১০/২০১৭

       

শনিবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

(মুর্তি পূজা) হুবাল দেবতা ও ইসলাম ধর্ম।


সবাইকে শ্বারদীয় শুভেচ্ছা, যেহেতু চলছে এটাই। প্রতি বছর হিন্দু ধর্মাবলম্বিদের এই বড় উৎসবটি নিয়ে নানা কথা শোনা যায়। বিশেষ করে বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিম বঙ্গে বেশি শোনা যায় হিন্দুদের দেব দেবীদের মূর্তি ভাঙ্গার কথা। যারা ভাঙ্গে তারাও একটি ধর্মে বিশ্বাসী এবং তাদেরও দেবতা, ঈশ্বর বা আল্লাহ নামের একজন সৃষ্টিকর্তা আছেন। এর মধ্যে মুসলিমদের বেশি দেখা যায় বাংলাদেশে এই সনাতন ধর্মীয়দের মূর্তি বেশি ভাঙ্গে। এবার দেখলাম বিভিন্ন অঞ্চলে সরকার থেকে পাহারার ব্যবস্থা করে রাখা হয়েছিলো যাতে এরা মুর্তি না ভাঙ্গতে পারে। আমার কথা হচ্ছে ইসলাম ধর্মাবলম্বিরা কি জানে তাদের সাথে মূর্তির একটি বড় সম্পর্ক আছে। আমার মনে হয় জানে না। সকল ধর্ম বিশ্বাসী মানুষদের উচিৎ অন্যের ধর্ম বা অন্য ধর্মের উৎসবে বাধা দেওয়ার আগে তাদের নিজের ধর্মটি নিয়ে আগে ক্রিটিক্যালী সেটাকে এনালাইসিস করতে শেখা। নিজের ধর্ম সম্পর্কে জানাবোঝার যায়গা বাড়ানো। বাপ দাদার পৈত্রিক সম্পত্তি হিসেবে পাওয়া ধর্মটাকে রক্ষা করতে যাওয়ার আগে তার ইতিহাস জানা। আজ প্রাক ইসলামিক যুগের এক দেবতা “হুবাল” দেবতার কথা বলবো, যার প্রাক্তন মন্দির হচ্ছে মুসলিম ধর্মানুসারিদের পবিত্র শহর মক্কায় অবস্থিত কাবা ঘর।

হুবাল হচ্ছে একটি আরবী শব্দ এবং এটি প্রাক ইসলামিক যুগের একজন উপাস্য দেবতার নাম। একসময় মক্কা নগরীর কাবাঘরে হুবালের মূর্তি স্থাপিত ছিলো। এবং ইসলাম ধর্ম তৈরি হবার হাজার বছর আগে থেকেই এই হুবাল দেবতাকে পূজা করে আসা হতো। তার মূর্তিটি মনুষ্যাকৃতির ছিলো। হুবাল অনুসারীগণ তার সামনে রক্ষিত তীরের সাহায্যে দেবতার মতামত নিত। আর যারা এই হুবাল দেবতাকে তখন বিশ্বাস করতো তারাই পরবর্তিতে সব মুসলমান মানে ইসলাম ধর্মের অনুসারী হয়েছিলো। হুবাল সম্পর্কে খুব বেশি জানা যায় না। উত্তর আরবে বর্তমান সিরিয়া এবং ইরাক থেকে পাওয়া নবতাইয়া লিপিতে হুবালের কথা উল্লেখ আছে। হুবাল বিশেষ কোন ক্ষমতার যেমন বৃষ্টির দেবতা ছিলেন। হুবালের উপাসনা এবং রক্ষনাবেক্ষণের ভার ছিলো মক্কার কুরাইশ বংশের উপর্। ৬২৪ খিস্টাব্দে মুসলমানদের বদরের যুদ্ধে হুবাল দেবতার মূর্তিপূজারীগণ তৎকালীন ইসলাম ধর্মের নবী মুহাম্মদ (সাঃ) এর অনুসারী দের সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত হয়। তার প্রায় ৬ বছর পরে ৬৩০ খিস্টাব্দে মক্কা বিজয়ের পর মুহাম্মদ (সাঃ) এবং তার অনুসারীরা কাবাঘরের রক্ষিত হুবাল সহ সর্বোমোট ৩৬০টি মূর্তি সরিয়ে ফেলেন বলে অনেক উল্লেখ আছে।

কিন্তু পরবর্তিতে মুসলমানদের নবী মুহাম্মদ (সাঃ) এর উপরে ইসলাম ধর্ম অনুসারীদের প্রধান ঐশরিক কিতাব পবিত্র কোরান শরীফ নাজিল হবার যে কথা শোনা যায়, তার পরেও এই হুবাল দেবতার কিছু নিয়ম কানুন, আচার অনুষ্ঠান ইসলাম ধর্মের মধ্যে থেকে যাওয়ার নমুনা আছে অনেক। যেমন মুসলমানেরা চাঁদ দেখে তাদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব পালন করেন মুসলমানদের ধর্মীয় প্রতিক চাঁদ,তারা ইত্যাদি বাদেও আরো অনেক কিছু হুবাল দেবতা থেকে প্রাপ্ত। কাবা শরিফের চারদিকে ৭ পাক দেওয়া, শয়তান কে লক্ষ করে পাথর মারা ইত্যাদি সহ ইসলাম ধর্মানুসারীদের কাছে একটি নাম খুবই প্রিয় আর তা হচ্ছে “আব্দুল্লাহ”। প্রায়ই দেখা যায় মুসলিম পরিবারে কোন সন্তান জন্ম নিলে তার নাম রাখা হয় আব্দুল্লাহ নাম ব্যবহার করে। আর মুসলামানদের অনেকের দাবী এই নামের অর্থ হচ্ছে আল্লাহর দাস, কিন্তু কোন আল্লাহর দাস সেটা কিন্তু তারা বলতে পারে না। তারা মনে করে এটি একটি ইসলামিক নাম কারন এটি ছিলো নবী মুহাম্মদ (সাঃ) এর পিতার নাম “আব্দুল্লাহ”। একটু ভেবে দেখবেন নবী মোহাম্মদ (সাঃ) এর পিতা আব্দুল্লাহ কিন্তু নবীর জন্মের পুর্বেই মারা গিয়েছিলেন।

ইসলামের প্রচলন শুরু হয় ৬১০ খৃষ্টাব্দ থেকে (নবীর বয়স যখন ৪০ বছর)।  তখন নবী সহ যে সকল মানুষ জীবিত ছিল তারা জন্মের সময় কি মুসলমান ছিল না ছিলনা চিন্তা করুন। তারা ইসলাম ধর্মে দিক্ষিত হয়ে কি তাদের নাম পাল্টে ফেলেছিলো না সেই নামই ছিলো। তাদের জন্মের সময় তাদের যে নাম রাখা হয়েছিলো সেই নাম সমুহ কি আদৌ ইসলামী নাম হতে পারে ? বরং যদি দাবি করা হয় যে ঐ সকল নাম খাটি প্যাগানদের বা হুবালের অনুসারীদের নাম তাহলে তা অস্বিকার করার কোন পথ খোলা থাকবে না। বর্তমানে বিভিন্ন মুসলিম পরিবারে সন্তুানের নাম রাখাহয় বিখ্যাত সাহাবিদের নামে। সেইসব সাহাবাদের জন্মের সময় কি তাদের ইসলামী নাম ছিল ? অবশ্যই তাদের নাম রাখা হয়েছিলো প্যাগান ধর্ম, ঐতিয্য অনুসরনে।আব্দুল্লাহনামটি সবথেকে বেশি সহী ইসলামী নাম। আব্দুল্লাহ ছিলেন নবীজির পিতা যিনি নবীজির জন্মেরও আগে মারা যান। খেয়াল রাখতে হবে, আব্দুল্লাহ  পৌত্তলিক হিসেবেই মারা যান সে কিন্তু মুসলমান ছিলেন না। আব্দুল্লাহ নামের অর্থ আল্লাহর দাস। কিন্তু কোন আল্লাহর দাস ? তখনও ইসলামের জন্মও হয়নি এবং ইসলামের প্রচারকেরও জন্ম হয়নি। ইসলামের পুর্ববর্তি ইহুদি খৃষ্টান ধর্মেও আল্লাহ বলে কোন শব্দই নেই। এই আল্লাহ সেই প্যাগানদের মধ্যে প্রচলিত আল্লাহ নামের দেবতা যে লাত, মানাত ও উজ্জাত নামের তিন কন্যার পিতা এই হুবাল যার আরেক নাম হচ্ছে আল্লাহ।

এখন দেখুন ইসলাম ধর্ম তৈরি হবার পরে তাদের কোরানেও এই হুবাল দেবতার মুর্তি পূজার কথা উল্লেখ করা হয়েছে পজেটিভ ভাবেই। মানে তারা যে ছিলো তা ইসলাম ধর্মানুসারীরা কোন মতেই অস্বীকার করতে পারবেন না। তাদের কোরান বলছে-

সূরা আল আম্বিয়া (الأنبياء), আয়াত: ৯৮
إِنَّكُمْ وَمَا تَعْبُدُونَ مِن دُونِ ٱللَّهِ حَصَبُ جَهَنَّمَ أَنتُمْ لَهَا وَٰرِدُونَ
উচ্চারণঃ ইন্নাকুম ওয়ামা-তা‘বুদূ না মিন দূ নিল্লা-হি হাসাবুজাহান্নামা আনতুম লাহা-ওয়া-রিদূ ন।
অর্থঃ তোমরা এবং আল্লাহর
পরিবর্তে তোমরা যাদের পুজা কর, সেগুলো দোযখের ইন্ধন। তোমরাই তাতে প্রবেশ করবে।

সূরা আয্‌-যুখরুফ (الزّخرف), আয়াত: ৮৬
وَلَا يَمْلِكُ ٱلَّذِينَ يَدْعُونَ مِن دُونِهِ ٱلشَّفَٰعَةَ إِلَّا مَن شَهِدَ بِٱلْحَقِّ وَهُمْ يَعْلَمُونَ
উচ্চারণঃ
ওয়ালা-ইয়ামলিকুল্লাযীনা ইয়াদ‘ঊনা মিন দূনিহিশশাফা-‘আতা ইল্লা-মান শাহিদা বিলহাক্কি ওয়া হুম ইয়া‘লামূন।
অর্থঃ তিনি ব্যতীত তারা যাদের
পুজা করে, তারা সুপারিশের অধিকারী হবে না, তবে যারা সত্য স্বীকার করত ও বিশ্বাস করত।

সূরা আল আহ্‌ক্বাফ (الأحقاف), আয়াত: ৫
وَمَنْ أَضَلُّ مِمَّن يَدْعُوا۟ مِن دُونِ ٱللَّهِ مَن لَّا يَسْتَجِيبُ لَهُۥٓ إِلَىٰ يَوْمِ ٱلْقِيَٰمَةِ وَهُمْ عَن دُعَآئِهِمْ غَٰفِلُونَ
উচ্চারণঃ ওয়ামান আদাল্লুমিম্মাইঁ
ইয়াদ‘ঊ মিন দূনিল্লা-হি মাল্লা-ইয়াছতাজীবুলাহূইলা-ইয়াওমিল কিয়া-মাতি ওয়াহুম ‘আন দু‘আইহিম গা-ফিলূন।

অর্থঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর
পরিবর্তে এমন বস্তুর পূজা করে, যে কেয়ামত পর্যন্তও তার ডাকে সাড়া দেবে না, তার চেয়ে অধিক পথভ্রষ্ট আর কে? তারা তো তাদের পুজা সম্পর্কেও বেখবর।

শুধু মুসলমানদের কোরান শরিফ এ যে তার উল্লেখ আছে তা কিন্তু না। প্যাগান আরবের পুরাণ থেকে প্রাপ্ত তথ্যাদি থেকে হুবালের আসল পরিচয় বা কাজ বের করা একটু কঠিন। ১৯ শতকের শিক্ষাবিদ জুলিয়াস ওয়েলহাউসেন দাবী করেন হুবাল ছিলেন আল লাতের পুত্র এবং ওয়াদ এর ভাই। ২০ শতকের প্রথম দিকের শিক্ষাবিদ হুগো উইংক্লার হুবালকে চন্দ্রদেবতা হিসেবে দাবী করেন। অনেক শিক্ষাবিদ এই দাবীকে সমর্থন করেন। দক্ষিণ আরবীয়রা ট্রিনিটি তত্বে বিশ্বাস করতো। চন্দ্র-পিতা, সূর্য-মাতা এবং সন্ধ্যা তারা(শুক্র গ্রহ)-পুত্র হিসেবে বিশ্বাস করতো।
মিরসিয়া এলিয়েড এবং চার্লস যে. এডামস হুবালকে বৃষ্টির দেবতা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। প্রাক ইসলামী যুগে কুরাইশগণ এবং তাদের মিত্র কিনানা এবং তিহামা গোত্র হুবালকে আন্তঃগোত্রীয় যুদ্ধ দেবতা হিসেবে পূজা করতো।

আল আজরাকির বর্ণনানুসারে, হুবালের মূর্তিটি মেসোপটেমিয়ার হিট অঞ্চল থেকে মক্কা নগরীতে নিয়ে আসা হয়। বর্তমানে হিট অঞ্চলটি ইরাকে অবস্থিত। ফিলিপ কে হিট্টি হুবাল শব্দের সংগে আরামীয় শব্দের মিল খূঁজে পান যার অর্থ শক্তি। সেটার উপর ভিত্তি করে তিনি দাবী করেন হুবালের ছবিটি উত্তর আরব সম্ভবত মোয়াব অথবা মেসোপটেমিয়া থেকে মক্কা নগরীতে আনা হয়। হুবাল শব্দটি সম্ভবত হু এবং বাল সহযোগে গঠিত হয়েছে। হু শব্দের অর্থ শক্তি বা দেবতা এবং বাল অর্থ প্রভু বা খোদা। বাল ছিলেন মোয়াব ধর্মাবলম্বীদের খোদা। দক্ষিণ আরবের বাইরে শুধু মাত্র নাবাতিয় পুঁথিতে হুবালের কথা দেবতা দুশারা এবং মানাওয়াতু (মানাত নামে সমধিক পরিচিত) এর সাথে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে অনেক পুঁথিতে ব্যক্তি বিশেষের নাম হিসেবে হুবালের উল্লেখ আছে যেমন, হুবালের পুত্র।

আমি জানি এই কথাগুলি শুনতে ইসলাম ধর্মানুসারীদের একটু খারাপ লাগবে। কিন্তু জেনে রাখুন এটাই হচ্ছে প্রকৃত সত্য। এরকম আরো হাজার হাজার মিল আছে ইসলাম ধর্মে যা প্যাগান ধর্ম ও হুবাল দেবতার সাথে মিলে যাবে। আমি আমার পরবর্তি একটি লেখাতে এই হুবাল দেবতা কিভাবে সেই মেসোপটেমিয়া, রোমান আর পারস্য দেবতাদের থেকে আরব্য সাংস্কৃতিতে এসেছে এবং তা থেকে পরবর্তীতে ইসলাম ধর্মে প্রবেশ করেছিলো তা নিয়ে লিখবো। তাই ইসলাম ধর্মাবলম্বিদের কাছে অনুরোধ করবো সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানকে আপনাদের ধর্মীয় নিয়ম অনুযায়ী পাপ মনে করার আগে নিজেদের ধর্মেও যে মুর্তি পুজার ইতিহাস আছে সেটা আগে জানার চেষ্টা করুন।

---------- মৃত কালপুরুষ

              ৩০/০৯/২০১৭