বুধবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

জ্বীন, ভূত আর আত্তা দেখা।


আমি ২০১০ সালের ব্লগ আমলের একটি লেখার লিংক শেয়ার করলাম। এই লেখাটাতে ফিজিক্স এবং নিউরো সায়েন্স এর সুত্রমতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়। যা থেকে পরিস্কার বোঝা যায় এই জ্বীন, ভুত, আত্তা দেখা আসলে কোন জাতীয় মানুষের দ্বারা সম্ভব। তবে আমার কাছে আরো একটি যুক্তি আছে যেটা "আরজ আলী মাতুব্বর" তার "সত্যের সন্ধানে" উল্লেখ করেছেন। প্রাথমিক ভাবে আমি তার যুক্তিটিই সঠিক ধরে নিয়েছিলাম। কারন আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা তে এরকম কয়েকটি ঘটনার পরিচয় পায়। যাদের প্রত্যেকের বিষয় আরজ আলী মাতুব্বর এর সাথে মিলে যায়। কিন্তু শুধু যে তার যুক্তিই মানুষের জ্বীন, ভুত, আর অশ্বরিরী আত্তা দেখার জন্য দায়ী নয় তার সাথে আরো কিছুর যোগ আছে, সেটার উল্লেখ আছে এই লেখাটিতে।
পৃথিবীরর প্রায় প্রতিটি ধর্ম ও ধর্ম গ্রন্থে উল্লেখ ধর্মগুরুরা সবাই যে অপরাক্ষ অশ্বরিরী আত্তা দর্শনের দাবী করে গেছেন -সেটা যে মস্তিস্ক্বের হ্যালুশিনেশন সে ব্যাপারে ত সন্দেহ নেই। এই ব্যাপারে আরো অনেক গবেষনা লদ্ধ ফল আছে-কিভাবে মাথায় স্পেস টাইমের সেপারেশনের যে অনুভূতি সেটা লোপ পেতে পারে-লোকে এক অলীক ডাইমেনশনের মধ্যে ঢুকে ঈশ্বরের সাথে কথা বলিলাম বলে দাবী করতে পারে যা প্রচলিত সকল ধর্মের ধর্মগুরুরা খুব বর্ণনায়িত করে বলে গিয়েছেন।
কিন্ত তারপরেও এদের ধাপ্পাবাজিতে লোকে বিশ্বাস করে কেন? সেই উত্তরটা কিন্ত নিউরোসায়েন্স দিয়ে আসবে না। শক্তিশালী সমাজের জন্ম দেওয়ার জন্যে সেই যুগের জন্যে ধর্মের বানী কিন্ত ঠিকই ছিল আজকে তা যতই হাস্যকর বা অমানবিক লাগুক না কেন। সেটাত ধর্মগুরুদের কোন হ্যালুশিনেশন থেকে আসে নি-এসেছে গভীর উপলদ্ধি বোধ থেকে। আমার ত মনে হয় এরা অনেক বেশী ফোকাস করতে পারত-অনেক গভীরে গিয়ে ভাবতে পারত-যেটা মেডিটেশনের বাই প্রোডাক্ট। যেমন আমরা অনেকেই অনেক ধরনের মোবাইল এপ ব্যবহার করে থাকি, কেউ গুগল ক্রোম ব্রাউজার তো কেউ ফায়ারফক্স। যার যে যেটাতে চোখ এবং ব্যবহার এর মজা খুজে পাই সে সেটাই ব্যবহার করে এরকম একটা ব্যাপার থেকেই মানুষ যুগে যুগে এই জাতীয় বিশ্বাস পুষে রেখেছেন। সেক্ষেত্রে আবার "আরজ আলী মাতুব্বর" এর যুক্তি গুলি কাজ দিবে। তবে যত যুক্তিই আসুক বিজ্ঞান এই জাতীয় যত ঘটনা ঘটে থাকে তার সাথে মানুসিক কিছু সমস্যার জড়িত থাকার কথা বলে থাকেন। আজ পর্যন্ত কোন সুস্থ মস্তিষ্কের কোন মানুষ পাওয়া যায় নাই যারা বলেছেন তারা সরাসরি জ্বীন, পরী, ভূত বা ধর্মগ্রন্থ গুলোতে উল্লেখ যে সব অশ্বরিরী প্রানীদের কথা উল্লেখ করা আছে তাদের দেখেছেন বা উপস্তিতি বুঝতে পেয়েছেন।



প্রানী জগতে এমন নমুনাও আছে, যাদের মস্তিষ্কে শুধু এই সমস্যা হই না বরং তাদের মৃত্য পর্যন্ত হয়। এক জাতীয় ইদুর আছে যাদের নির্দিষ্ট একটি সময়ে শরীরের টেষ্টোস্টেরন হরমোনের পরিমান এতো পরিমানে বৃদ্ধি পায় যার ফলে পুরুষ ইদুর গুলো মৃত্যুবরণ করে থাকে। মানুষের জ্বীন, ভূত আর অশ্বরীরি আত্তা দেখের পেছনে বিজ্ঞান মতে কিছু কারন হচ্ছে -
১) ইডিওমোটর এফেক্ট (Ideomotor Effect)
২) পরিচলন (Convection)
৩) অটোম্যাটিজম (Automatism)
৪) বৈদ্যুতিক স্টিমুলেশান (Electric Stimulation)
৫) ইনফ্রাসাউন্ড (Infrasound)
৬) স্লিপ প্যারালাইসিস (Sleep Paralysis)
৭) কার্বন মনোক্সাইড বিষক্রিয়া (Carbon Monoxide Poisoning)
৮) ফসফিন (Phosphine) এবং মিথেন (Methane)
৯) গণহিস্টেরিয়া (Mass Hysteria)
১০) আয়ন (Ions)

----------মৃত কালপুরুষ
            ০৫/০৮/২০১৭

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন