রাশিয়ার একজন নিউরো
সাইনটিস্ট যার নাম “দিমিত্রি ইটস্কভ” বদলে দিতে যাচ্ছে মানুষের মৃত্যুর ইতিহাস। আজ
যখন বিশ্বের তৃতীয় শ্রেনীর দেশ গুলি ধর্ম আকড়ে ধরে উন্নত বিশ্বের সাথে তাল মেলাতে
গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে, সেখানে দিমিত্রি ইটস্কভ নিয়ে আসছে সেই সব ধার্মিকদের জন্য দাত
ভাঙ্গা জবাব। আমি আগেই বলছি আমি নিজেও এই ব্যপারটি নিয়ে কনফিউজড বলা চলে। পৃথিবীর
প্রচলিত সকল ধর্মই মানুষকে একটি ভয়ই দেখিয়ে আসছে সেই আদি যুগে ধর্ম নামক প্রথা বা
নিয়ম কানুন চালু হবার পর থেকে। আর তা হচ্ছে মৃত্য পরবর্তি জীবনের ভয়। একেকটি ধর্মে
একেকটি কেচ্ছা কাহিনী দিয়ে ভরপুর করা আছে এই মৃত্যু পরবর্তি জীবন যাপন সম্পর্কে।
কিছু কিছু ধর্ম একেবারেই হাস্যকর কিছু তথ্য দিয়ে গিয়েছে এই জীবনটি সম্পর্কে। কিন্তু
আসল কথা হচ্ছে কেউ সেই জীবন চোখে দেখেনি। এ জেনো না দেখেই আপনার সারা জীবনের আয়
করা টাকা দিয়ে বসুন্ধরাতে ফ্লাট বা প্লট কেনার মতো ব্যপার। আপনাকে আপনার সারা জীবন
ব্যয় করে আয় করা টাকা দিয়ে বসুন্ধরার একটা প্লট বা একটা ফ্লাট কিনতে বলা হচ্ছে
কিন্তু এই প্লট বা ফ্লাট আপনাকে কেনার আগে দেখতে দেওয়া হচ্ছে না।
প্রচলিত ধর্ম গুলি বলছে
মানুষ মারা গেলে শুরু হবে তার পরবর্তি জীবনের কার্যক্রম। পৃথিবীর বিভিন্ন
কার্যক্রমের উপরে ভিত্তি করে তার বিচার আচার শেষে তাকে তার উপযুক্ত অবস্থান প্রেরন
করা হবে। তবে সব ধর্মই একই কথা বলছে না। কেউ কেউ আবার পুনর্জন্মের কথাও বলে।
কিন্তু এই নিউরো সাইনটিস্ট দিমিত্রি ইটস্কভ বলছে মারা যাওয়ার পরেই তার মস্তিষ্ক
আবার সচল করা হবে। এবং সে আবারও পৃথিবীর সকল কার্যক্রম স্বাভাবিক ভাবেই করতে
পারবে। তার মানে, এখানে দিমিত্রি ইটস্কভ প্রমান করতে চাচ্ছে “সকল প্রানীকেই
মৃত্যুর স্বাদ গ্রহন করতে হবে” কথাটি ভুল ছিলো। অবশ্য বিজ্ঞান কখনই বলে না যে কোন
বিজ্ঞানী যদি একটি ধারনা দিয়ে থাকে তবে সেটাই সারা জীবন মানতে হবে। মানে পৃথিবীর
শেষ না হওয়া পর্যন্ত, যেমনটি সকল ধর্ম বলে থাকে। বিজ্ঞান বলছে আমাকে তোমরা ততক্ষন
বিশ্বাস করো যতক্ষন না আমার দেওয়া তত্ব কেউ ভুল প্রমান করতে পারছে। দেখুন এখানেও
কিন্তু ধর্মের সাথে বিজ্ঞানের বড় একটি দ্বিমত দেখা যাচ্ছে, যাকে সংঘর্ষও বলা চলে।
বিজ্ঞান অতীতে এই জাতীয় যত
রকম প্রজেক্ট হাতে নিয়েছিলো তা ধর্মান্ধ মৌলবাদীদের তীব্র সমালোচনার মধ্যে পড়েছিলো
এবং একটি না একটি সময় উদ্দোক্তাকে সেই প্রজেক্ট বন্ধ করে দিতে হয়েছিলো। অতীত
রেকর্ড কিন্তু তাই বলে। একবার ক্লোন করা মানুষের কথা মনে করে দেখুন। পৃথিবীতে
প্রকাশ্যে ক্লোন করা এখন নিষেধ করা হয়েছে। বিজ্ঞানের সাথে ধর্মের দ্বন্দ থাকার
কারন গুলা হচ্ছে ধর্ম গুলো অতীতে যা যা বলে এসেছে তা সবই বিজ্ঞান ভুল প্রমান করে
দিচ্ছে। একসময় ধর্মান্ধরা বলতো গর্ভের সন্তান ছেলে হবে না মেয়ে হবে তা কেউ জানে
না। কারন তাদের ধারনাই ছিলো না যে কোন একদিন বিজ্ঞানীরা আল্ট্রাসোনো আবিষ্কার করতে
পারবে যা দিয়ে কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই জানা যাবে গর্ভের সন্তান ছেলে না মেয়ে। আর এখন
দিমিত্রি ইটস্কভ নিয়ে আসছে মৃত্যু পরবর্তি জীবনের কেচ্ছা কাহিনী প্রকাশ করার খবর।
আমি জানি এখানে সে নানা বাধার মুখে পড়বে। কিন্তু ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে সে
বিশ্ববাসীকে তার প্রজেক্ট প্রপোজাল দিখিয়েছিলো। সে কিভাবে আর কত বছরের মধ্যেই তার
এই প্রজেক্ট বাস্তবায়ন করবে সেটা সে তখনই সবাইকে জানিয়ে দিয়েছিলো।
বর্তমানে দিমিত্রি ইটস্কভের
এই প্রজেক্ট এর ওয়েবসাইটে গেলে দেখা যায় জাতিসংঘ তার এই প্রজেক্টকে সাধুবাদ
জানিয়েছে। ধর্মীয় গুরুদের মধ্যে দালাই লামা দিমিত্রি ইটস্কভকে অভিন্দন জানিয়েছে এই
প্রজেক্ট সম্পর্কে। দিমিত্রি ইটস্কভ ২০১২ সালে জানিয়েছিলো কিভাবে তার প্রজেক্ট
শুরু করতে চাচ্ছে। সে এটাও জানিয়েছিলো ২০৪৫ সালের মধ্যেই মানুষ অমরত্ব পেতে
যাচ্ছে। এক নজরে দেখে নিন তার পরিকল্পনা। তার প্রথম ধাপ শুরু হবে আমেরিকার সান
ফ্রান্সিকোতে একটি ব্যায়বহুল গবেষনাগার স্থাপনের মাধ্যমে। যার জন্য সে ফেসবুক ও
ইউটিউব সহ সকল অনলাইন প্লাটফর্মে ব্যপক প্রচার প্রচারনা চালাবে বলে জানাই। কারন এই
গবেষনাগার ও প্রজেক্ট হবে অত্যান্ত ব্যায়বহুল একটি প্রজেক্ট যার জন্য তার দরকার
হবে পার্টনারশীপের। সে উদ্যোগ নিয়েছে প্রথমেই পৃথিবীর সকল ধনী বিলিয়নিয়ার এর কাছে
সে চিঠি পাঠাবে অর্থ সাহায্য চেয়ে। আর যারা সেচ্ছায় এই প্রজেক্টের অংশীদার হতে
চাইবে তাদেরকে প্রজেক্ট ওয়েবসাইটে যোগাযোগ করতে বলা হচ্ছে। এখানে কিছু ধর্মীয়
মৌলবাদী গোষ্ঠী আগেই বলে বসবে যে, এই লোক টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ভালো একটা ধান্দা বের
করেছে। কিছু ধর্মীয় মোড়ল দেশ অলরেডি এই কথা বলেও দিয়েছে যে দিমিত্র ইটস্কভ
প্রজেক্টের নামে টাকা আত্বসাত করছে।
বর্তমানে দিমিত্রি ইটস্কভ
সানফ্রান্সিকোতে গবেষনাগার প্রতিষ্ঠা করে ফেলেছে। এবং সে এই প্রজেক্টের প্রধান
ফাউন্ডার। সেখানে তার গবেষনা কার্যক্রমের প্রথম ধাপ শুরু হয়েছে ২০১৫ সাল থেকে।
২০১৫ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে তার প্রথম ধাপ এর কাজ শেষ হবে বলে সে জানিয়েছে। এই
ধাপে বলা হচ্ছে কোন একটি মানুষের চেহারা আর শরীরের সাথে মিল রেখে হুবহু একটি রোবটিক
বডি তৈরি করা হবে। তার ২য় ধাপের কাজ শুরু হবে ২০২০ সালে এবং শেষ হবে ২০২৫ সালে
গিয়ে। এই ধাপে সে, যখন একটি মানুষ মারা যাবে তখন তার ব্রেইনটিকে সেই রবোটিক বডিতে
স্থাপন করবে। ৩য় ধাপ শুরু হবে ২০২৫ সালে এবং শেষ হবে ২০৩৫ সালে। এই ধাপে সেই
স্থাপন করা ব্রেইন থেকে তার সত্বাকে বা বোধকে একটি কম্পিউটার চীপ এ ধারন করা হবে।
আর শেষ ধাপটি হবে ২০৩৫ সাল থেকে ২০৪৫ সালের মধ্যে আর এই ধাপটিতে আগের ওই তিনটি
ধাপের সংমিশ্রন করে সেই রোবোটিক বডিতে মানব সত্বাকে সচল করে দেওয়া হবে। এতে করে
আবার সেই আগের মানুষটিই পৃথিবীতে ফিরে আসতে পারবে সাথে অমরত্ব নিয়ে।
আমি এই “২০৪৫ আভাতার
প্রজেক্ট” কে অতি সংক্ষেপে এখানে তুলে ধরেছি। কেই যদি এই প্রজেক্ট সম্পর্কে আরো ভালো
করে জানতে চান তাহলে উপরের ৭ মিনিটের ভিডিওটি ভালো করে আরেকবার দেখুন সেখানে এই
সম্পর্কে অনেক তথ্য দেওয়া আছে সাথে প্রজেক্ট এর ওয়েব এড্রেস সহ। মুল গবেষনায় আরো
অনেক তথ্য ও ব্যাখ্যা, বিশ্লেষণ করা আছে। এখন শুধু দেখার পালা রিলিজিয়াস মানুষ
গুলি এই বিষয়টিকে কে কিভাবে নিচ্ছে। তাদের কাছ থেকেই প্রথম বাধা এসেছিলো দিমিত্রি
ইটস্কভের কাছে। কিন্তু দালাই লামা তাকে সাধুবাদ জানিয়ে অনেকের পাকা ধানে মই দিয়ে
দিয়েছেন। যদি দিমিত্রি সাকসেস হয়ে যায়, তবে ধর্ম ব্যবসায়ীদের মৃত্য পরবর্তি জীবনের
ভয় আর কাজ করবে না। কারন অমরত্ব পাওয়া ব্যাক্তিটি কিন্তু সামনেই থাকবে।
---------- মৃত কালপুরুষ
২৭/০৯/২০১৭




কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন