বুধবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

গুগল, উইকিপিডিয়া আর টুইটার যার কারনে বন্ধ হয়ে গিয়েছিলো তাকে গভীর শ্রদ্ধা জানাচ্ছি।


কিভাবে শুরু করবো বুঝতে পারছি না। যাই হোক, আপনাদের কি মনে আছে ২০০৯ সালের ২৫শে জুন এর কথা। যেই দিনটিতে বিশ্বের ইতিহাসে ইন্টারনেট এর সবথেকে বড় জটিলতা তৈরি হয়েছিলো। যার কারন ছিলো এমন একজন ব্যক্তি যাকে পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি মানুষ ভক্তি করতো। মানে তার ফ্যান ছিলো আরকি। আমিও তাদের একজন। ছোট বেলা থেকেই, বয়স তখন আমার বেশি না হাফ প্যান্ট পরতাম মনে করুন। সেই সময়ে টেকনোলজি ব্যবহার করা ছিলো খুব দুরূহ ব্যাপার। আমার একটা লাল রঙের ন্যাশনাল টেপ রেকর্ডার এর কথা এর আগেও শুনেছেন। সেটাতে ফিতাওলা ক্যাসেট চলতো। যাদের ২০০০ সালের পরে বা কিছু আগে জন্ম তারা হয়তো এটাকে দেখেইনি। যাই হোক তখন আমি সেই লোকটার গান শুনতাম। সেটা ছিলো ১৯৯৫ থেকে ৯৭ সালের ভেতরে। খুব ভালো লাগতো তার গান শুনতে কিন্তু ভাঙ্গা ভাঙ্গা ছাড়া বুঝতাম না গানের কথা। এই যে ২০০৯ সালের ২৫ শে জুন এর কথা বলেছি। সেই দিনটিতে তার মৃত্যু হয়েছিলো।
তার মৃত্যুতে সারা পৃথিবিতে আলোড়ন পরে যায়। TMZ যখন তাদের ওয়েবসাইটে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে তারপর তা সবজায়গায় খুবই দ্রত ছড়িয়ে পড়ে। তার মৃত্যুর ফলে পৃথিবির ইন্টারনেট ব্যাবস্থা এক প্রকার ভেঙে পড়ে। তার সম্পর্কে বিস্তারিত জানার জন্য পৃথিবির সকল অঞ্চল থেকে তার ভক্ত ও সাধারণ মানুষ গুগল এ সার্চ করা শুরু করে। তার নামের শব্দটি এত বেশি(মিলিয়ন মিলিয়ন) ইনপুট হবার কারনে গুগল এর প্রকৌশলীরা ভেবেই বসে DDoS Virus এ তাদের সার্চ ইঞ্জিন আক্রান্ত হয়েছে যার ফলে তারা প্রায় ৩০ মিনিট গুগল বন্ধ রাখে। তখনকার সময়ে এটি ছিলো গুগলের জন্য প্রথম ঘটনা। উইকিপিডিয়া তে ১ ঘন্টার মধ্যে ১২ লাখেরও বেশি মানুষ এই মানুষটির বায়োগ্রাফি দেখে, আর এই চাপ উইকিপিডিয়া লোড নিতে সক্ষম না হওয়াতে Crash করে(পরে কর্তৃপক্ষ জানায় তাদের ইতিহাসে এরকম ঘটনা এই প্রথম), একিরকম ভাবে টুইটার-ও Crash হয়,যেখানে মোট টুইটের ১৫ % মেনশন করা হচ্ছিল তার নাম দিয়ে (প্রতি মিনিটে ৫০০০+ টুইট)। এছাড়াও বিভিন্ন নিউজ পোর্টালে,ইন্টারনেটে মানুষের আনাগোনা বেড়ে যাওয়ায় সাধারন ইন্টারনেট ট্রাফিকের ১১% হতে তা ২০% এ উন্নিত হয়। এমটিভি ২৪ ঘন্টা ধরে তার মিউজিক ভিডিও, ডকুমেন্টারি, ভক্ত, ফ্যামিলি ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয় প্রচার করার সিদ্ধান্ত নেয়। তার শেষ কৃত্যানুষ্ঠান পৃথিবির ৩০০ কোটিরও বেশি মানুষ সরাসরি টেলিভিশন ও অনলাইনে দেখে,যা এই পর্যন্ত সর্বোচ্চ কারো কৃত্যানুষ্ঠান দেখা হয়েছে।আমার জানা মতে বর্তমান বিশ্বের সব থেকে বেশি শক্তিশালী মাধ্যম হচ্ছে ধর্ম। এই ধর্মের যে সমস্ত এজেন্ট বা গুরুরা আছেন তাদের কাউকেই আমি এতো অনুসারীর ভালোবাসা পেতে দেখিনি।
এক কথায় পৃথিবীর এমন কোন ধর্ম নেই যে ধর্মের অনুসারীর সংখ্যা এই পপ তারকার অনুসারীদের সমপরিমাণ হতে পারে। কি মনে পড়ছে তার কথা ? এই জন্যই তার এই ভক্ত আর সাধারণ মানুষের ভালোবাসার কথা আগে তুলে ধরলাম যে আজ তার জন্মদিনে আরো একটিবার তাকে স্বরন করে ভেবে দেখুন তার জনপ্রিয়তার কথা। কেন গিনেসরেকর্ড তার জন্য কিছুই ছিলো না। মানুষ তাকে অন্তর থেকে ভালোবেসেছে। কারন সে সাম্প্রদায়িকতা, ধর্ম, জাতিগত বিভেদ যুদ্ধ, মানুষ হত্যা, এসবের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছে। এছাড়াও গিনেস বুক অফ ওয়ার্লড তাকে বিশ্বরেকর্ড এ ভুষিত করেছে বিনোদন জগতের মানুষ হিসেবে সবচেয়ে বেশি দান খয়রাত করবার জন্যে, এবং তার দানকৃত অর্থের পরিমাণ ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের এর বেশি। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি নানা কেলেঙ্কারিতে(যা পরবর্তিতে প্রত্যেকটি ভুল প্রমাণিত হয়) জড়ালেও প্রায় ৪০ বছর ধরে সারাবিশ্বে বিখ্যাত হয়ে ছিলেন এবং তিনি পৃথিবীর সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ গায়ক এবং নৃত্যশীল্পির সিংহাসনে বসে আছেন।
১৯৫৮ সালের আজকের এই দিনে অর্থাৎ ২৯ আগস্ট তিনি জন্মগ্রহন করেন। আজকের এই দিনে তাকে আমি আমার অন্তরের গভীর থেকে আরো একবার শ্রদ্ধার সাথে স্বরন করছি। আমি জানি বর্তমান বিশ্বে তার যায়গা কেউ নিতে পারবে না। হাজার হাজার, লক্ষ লক্ষ সঙ্গীত শিল্পী ও পপ তারকা তাকে এই জগতের সম্রাটের আসনে বসিয়েছেন। তার গানের চর্চা আজো করে চলেছেন। তাকে বাচিয়ে রেখেছেন সঙ্গীতের মাধ্যমে। আমি জানি আপনাদের মধ্যেও ৮০% মানুষ তাকে এবং তার গানকে পছন্দ করতেন এবং এখনও করেন। আমাদের মাঝেই এই পপ তারকা বেচে থাকবে আরো কয়েক হাজার বছর এই আশাই করি। তার সব প্রতিবাদী গান দিয়ে একদিন দূর করা হবে সকল কুসংস্কার এ ঘেরা ধর্ম ব্যাবস্থা ও অন্ধ বিশ্বাস যা মানুষে মানুষে তৈরি করে বিভেদ। আবার সাম্প্রদায়িকতা মুক্ত একটি পৃথিবী দেখতে চাই তার গানের মাধ্যমে।
নিচের ভিডিওটিতে মাইগেল রিভারার হাতের জাদুতে সোলো গিটারের সুরে পপ সম্রাটের বিখ্যাত একটি গানের সুর শুনুন।

---------- মৃত কালপুরুষ
             ২৯/০৮/২০১৭

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন