বুধবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

একজন প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ ও মাছ খেকো বাঙ্গালী।


বেশ কিছুদিন আগের একটি বিষয় যেটা আবার নতুন করে তুলতে বাধ্য হলাম। কারন ইদানীং নতুন নতুন কিছু ফেসবুকার তৈরি হয়েছে যারা কথায় কথায় প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদের উধাহরন টেনে নিয়ে এসে যুক্তি দিচ্ছে। এই বিষয়টি এতোটাই মানে এই প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ বইটি এতটাই যুক্তিহীন একটি হাস্যকর বই মনে করে অনেকে যার প্রমাণ হচ্ছে, আমি এটা নিয়ে লিখবো কি লিখবো না এমন একটি দ্বিধা দ্বন্দের মধ্যে পড়ে ব্লগার বন্ধু-দের সাথে কয়েক বার আলোচনা করেছি। তাদের সবারই মতামত ছিল এটা নিয়ে লেখার কোন দরকার নেই তাতে এই জাতীয় ফাচুকি বই এর আরো প্রচার করা হবে। এতে করে বাংলার যে চিরদিন অন্ধকারে থাকা মানষ গুলো আছে তাদেরকে অন্ধকারেই থাকার জন্য উৎসাহিত করা হবে। যেমনটি করেছেন এই বইয়ের লেখক আরিফ আজাদ। আমি আসলে ব্যক্তিগত ভাবে এমন কিছু মনে করতাম না করান লেখক আরিফ আজাদের পরিশ্রম আমার কাছে ভালো লেগেছিল। যদিও সেটা ছিলো এক প্রকারের বোকা মানুষগুলিকে চীরজিবন বোকাই বানিয়ে রাখার একটি সুক্ষ্ণ কৌশল মাত্র। তার বই পড়ার আগেই আমি বুঝতে পেরেছিলাম এটা এশিয়া খ্যাত ডাঃ জাকির নায়েকের মতো ভাঁওতা বাজি ছাড়া আর কি লেখা হতে পারে। বইটি যখন বের হয়েছিলো হুজুগে বাঙ্গালী বলে একটা কথা আছে এদের হাউকাউ শুনে আমি বইটি পড়েছিলাম। তবে পড়ার আগে মোফাসসিল ইসলাম এর ১ মিনিটের একটি ভিডিও রিভিউ দেখেছিলাম তাতেই আমি অনেক বিনোদন পেয়েছিলাম।
বিশ্বাস করবেন কি না জানি না, এই বইটির প্রতি আমার বিন্দু মাত্র কৌতূহল ছিলো না । আমি আগে থেকেই জানতাম যা শুনেছিলাম সেই হিসেবে এখানে আরিফ আজাদ ছলে বলে কৌশলে কিছু মানুষকে পচাবে ছাড়া কিছুই না। সে যতই বিজ্ঞান এর যুক্তি দিয়ে কিছু বোঝাতে যাবে ততই নিজেকে হাসির পাত্র বানানো ছাড়া আর কিছুই করবে না সেটা আমি জানতাম। কারণ সে এমন একটি বিষয় এখানে বিশ্বাস করাতে উঠে পড়ে লেগেছে যার কোন অস্তিত্ব নেই। এর সাথে তার যে বিশাল ফলোয়ার গ্রুপ আছে তারা মনে হয় জীবনে বিজ্ঞান কি জিনিস তা ক্রিটিকালি এনালাইসিস করার প্রয়োজন মনে না করে তাকে এমন গাছে তোলাই তুলেছে তাতে বাংলাদেশে আরিফ আজাদের প্রচারটা ভালোই হয়েছে। আবার এমনও দেখেছি তাকে বা তার এই বই নিয়ে কেউ লিখেছে তো তার ফলোয়াররা হইহই করে ছুটে এসে তাদের চিরপরিচিত কিছু ভাষার ব্যবহার করা শুরু করেছে। এই বাজে ভাষা ব্যবহার করে মন্তব্য আসবে সেই ভয়ে আমি এই জাতীয় বিতর্কিত লেখা লেখাতেই চাই না।
শুরু করা যাক, প্রথমেই যখন বইটি পড়ার ১০ মিনিট পরের ঘটনাটা শুনুন। বইয়ের প্রথম অধ্যায় “একজন অবিশ্বাসীর বিশ্বাস” পড়ার পরে বইটি বন্ধ করে রাখি এবং ১০ মিনিট পায়চারি করি। কারন খুবই হাসি পাচ্ছিলো আর একা একা হাসলে কেউ যদি দেখে ফেলে তো ভেবে বসতে পারে অন্য কিছু তাই পায়চারী করে আবার পড়া শুরু করেছিলাম। ইচ্ছা হচ্ছিলো না শেষ পর্যন্ত যাও্য়ার তার পরেও গিয়েছিলাম অনেক টেনেটুনে। সে এমন একটি ফালতু কথা বলেছে তার এই অধ্যায়ে মানে যেটা শোনার পরে সাজিদ ফজরের নামাজ পড়েছিলো আরকি। আমরা জানি যে একজন বায়োলজিক্যাল বাবা ছাড়া কখনই একটি মানব সন্তানের জন্ম হবে না। তবে অন্য উপাইও আছে। যেমন ক্লোন, টেস্ট টিউব ইত্যাদি। আরিফ আজাদের যুক্তিটি এখানে ছিলো সাজিদতো চোখে দেখিনি তার বাবার সিমেন থেকেই তার জন্ম হয়েছে তাহলে কেন সে তার বাবাকে বাবা বলে বিশ্বাস করে। আমি ব্যাক্তিগত ভাবে মনে করি এটা কোন যুক্তিই না। কোন বিতর্ক প্রতিযোগিতাই যদি কেউ এই জাতীয় যুক্তি দেই তবে তাকে বলা হবে কুযুক্তি ছাড়া কিছুইনা। আরিফ আজাদ কতটা বোকামি করেছে তার এই বিতর্কিত বই প্যরাডক্সিক্যাল সাজিদ এ তা একবার আপনিই বিচার করুন। সে পৃথিবীর বিখ্যাত বিখ্যাত সব বিজ্ঞানীদের পাশাপাশি বাংলাদেশের বিখ্যাত বিখ্যাত লেখকদের এবং নাম করা কয়েকজন অনলাইন এক্টিভিস্ট ও ব্লগারদের পচানোর বৃথা চেষ্টা করেছেন। এবং সেই সাথে নিজেই বইয়ের ভেতরে বেশ কয়েক যায়গায় গোলমাল লাগিয়ে বসে আছেন যেমন একটি হচ্ছে সে তার বইয়ের প্রথম অধ্যায়ে সাজিদকে স্মোকার বানিয়েছেন আবার ৪র্থ অধ্যায়ে গিয়ে স্বপ্ন দেখেছেন সে স্মোকার না হলেও সাথে ম্যাচ বা লাইটার রাখেন যখন স্বপ্নের মধ্যে হুমায়ন আজাদ স্যারকে যুক্তি দিয়ে হারিয়ে দিচ্ছিলেন।
বাংলাদেশের কিছু ধর্মান্ধ সম্প্রদায় আছেন যারা জীবনের প্রথম এই রকম বিজ্ঞান ভিত্তিক কিছু আবাং মার্কা যুক্তি দেখে মনে করেছিলো এই বাংলার লেখক মনে হয় সকল বিজ্ঞানীদের জ্ঞান ও যুক্তিকে খন্ডন করে দিয়েছেন । যে সমস্ত বিস্ববিখ্যাত বিজ্ঞানীদের যুক্তিকে আরিফ আজাদ তার মতবাদ কে প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে অযৌক্তিক ভাবে তুলে ধরেছে তাদের মধ্যে আছেন চার্লস ডারউইন, টলেমি, কোপারনিকাস, স্টেফেন হকিংস, লিওনার্দো স্লোদিনো, আইনস্টাইন, আইজ্যাক নিউটন, আলেকজান্ডার ফ্রিদম্যান, জর্জ ল্যামেট্রি সহ আরো অনেকেই। বাংলাদেশের কিংবদন্তী লেখক হুমায়ন আহমেদের লেখা চরিত্র হিমু এর সাথে তুলনা করেছেন তার বানানো চরিত্র সাজিদের। লেখক সেক্সপিয়ার এর ভুল ধরতে গিয়েছেন তার মনোভাব প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে। লেখক হুমায়ন আজাদ, ব্লগার অভিজিত রায় কে বানিয়েছেন মিথ্যাচার প্রচারকারী। ব্লগার আসিফ মহিউদ্দি সহ ফেসবুক ও অনলাইন মাধ্যমে লেখালেখি করা সকল ব্লগারদের বানিয়েছেন বোকা।
এসবই আরিফ আজাদ তার নিজের বিশ্বাস আর ভক্তিকে অন্যান্যদের মাঝে একমাত্র সত্য তা প্রমান করা ও তা প্রতিষ্ঠা করার জন্য করেছেন। এই জ্ঞানী গুনী ব্যাক্তিবর্গ তার যুক্তির কাছে যে কিছুই না তা প্রমান করতে গিয়েছেন নানা ভাবে। আমি এর আগে কোন বই এর রিভিউ লেখি্নি কারন প্রয়োজন পড়েনি। যেই লেখা আমার কাছে বিতর্কিত বা মিথ্যা বলে মনে হয়েছে সেটার পেছনে সময় দেওয়ার প্রয়োজন মনে করিনি। আরিফ আজাদের লেখা বই প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ এর পরের কয়েকটি অধ্যায় নিয়ে আরেকটি রিভিউ লেখবো। কারন এখানে লেখার কোন বিষয় উপস্থাপন করার আগেই লেখা অনেক দীর্ঘ হয়ে গিয়েছে। অনেকেই দীর্ঘ লেখা পড়তে বিরক্তবোধ করে তাই আর দীর্ঘায়িত করবো না ।

চলবে…………………

------------মৃত কালপুরুষ
                ১৮/০৯/২০১৭

২টি মন্তব্য:

  1. দাদা আপনাকে আমি চিনি । ব্লগারে আমিও নতুন একটা ব্লগ খুলেছি যেখানে মুক্তচিন্তা নিয়ে লেখালেখি করছি। আপনার ব্লগের ডিজাইনটা দেখে আমার খুব ভালো লেগেছে। কিন্তু এই ডিজাইনটা কিভাবে করেছে, সে ব্যাপারে একটু উপকার করতে পারেন আমাকে?

    উত্তরমুছুন
  2. দুঃখিত, আগে আপনার বাংলা ভাষায় কিভাবে ব্লগিং করতে হয় সেটা শেখা উচিত। হ্যাঁ অবশ্যই আমিও স্বীকার করি তার লেখায় যথেষ্ট ক্রুটি আছে, কিন্তু তাতে নাস্তিকদের বিরুদ্ধে জবাব দেয়ার যথেষ্ট যুক্তি আছে। দুঃখের সাথে জানাচ্ছি যে, যতগুলো ব্লগ পড়েছি আরিফ আজাদ এর বই নিয়ে তাতে যুক্তিসঙ্গত সমস্যাকে হাইলাইট কেউই করে নি। শুধুমাত্র একজনই ডিফেন্ড করেছেন বিবর্তনবাদ তত্ত্ব নিয়ে। আর সেটিকেও আমি সম্মান জানাই। ভুল কিন্তু তিনি স্বীকারও করেন নি পাবলিসিটির জন্যে। তবে আপনাদের মতো আচো* ব্লগারদের কাউকেই ভালো কোনো যুক্তি খন্ডাতে দেখলাম না। বইয়ের ক্রুটিগত ভুল ধরতে জানলে সবগুলো বাংলা বইয়েই প্রায় পাওয়া যায়। কিন্তু শুরুটা কেউ করেছে এটাতেই সবাই আশাবাদী আর সেটিই হবার দরকার ছিলো। তাই গোজামিল ঠুনকো জায়গায় না ধরে ব্যাখ্যাগুলোকে দাঁড় করান। কারণ আপনাদের যতসব সমস্যা দেখি আল-কুরআনকে নিয়েই তৈরি হয়। সেটিকে একটু হাইলাইট করুন যখন আপনার কাছে ব্যাপারগুলি গোঁজামিলওয়ালাই লাগছে।

    উত্তরমুছুন