সমসাময়িক লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
সমসাময়িক লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

মঙ্গলবার, ৬ নভেম্বর, ২০১৮

মডারেট ধার্মিক হলেও সে কি পারবে তার আদর্শ গোপন রাখতে ?


প্রমাণ এই যে দেখুন, সম্প্রতি কওমী মাদ্রাসা বিষয়ক ইস্যু নিয়ে জনৈক সেই বিজ্ঞানমনষ্ক লেখক আরিফ আজাদের ভাষ্য। একটা বিচার করবেন সকলেই নিরাপেক্ষভাবে, এটাই কি মডারেট মুসলিমদের আধুনিক জিহাদের ডাক ? কারণ এরা বলছে সময় এখনও ফুরিয়ে যায়নি, সামনে সুসময় আসবেই এবং তারাও নাকি সেই প্রতীক্ষায় আছে। আর তাছাড়াও সে তার সম্পুর্ণ বক্তব্যে এটাই প্রকাশ করেছেন যে হেফাযতে ইসলাম প্রধানমন্ত্রীকে যে সংবর্ধনা দিয়েছে তাতে তারা মোটেও খুশি নয়। 
তাদের যুদ্ধই নাকি আওয়ামীলীগের সাথে। এইযে সোস্যাল মিডিয়াতে তার একটি বিশাল ফলোয়ার গোষ্ঠী, যাদেরকে সে প্রায়ই এই জাতীয় উস্কানি দিয়ে তাদের ব্রেন ওয়াশ করে এবং দেশের সরকারের বিরুদ্ধে দাড় করিয়ে দেয় বাংলাদেশ সরকার কি তাদের চোখে দেখে না ? 
নাকি এইযে এতো সাইবার এক্ট, স্পেশাল টিম তার সবই শুধুই মুক্তচিন্তক ও ব্লগারদের স্বাধীন মতামত প্রকাশে বাধা দেবার জন্যই তৈরি করা হয়েছে ?
আমরা ইতিহাস থেকে জানতে পারি পাকিস্তান গঠিত হবার মাত্র ২৪ বছরের মাথায় ধর্মীও মৌলবাদ আর ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করার ফলে ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের সাথে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ডাকে বাঙালী জাতি সাড়া দিয়ে দীর্ঘ ৯ মাস মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে প্রায় ৩০ লক্ষ বাঙালীর প্রাণ আর ২ লক্ষ নারীর সম্ভ্রমের বিনিময়ে ভৌগলিক ভাবে স্বাধীনতা অর্জন করেছিলো বাঙ্গালী জাতি।
এই ১৯৭১ এ যারা স্বাধীনতা আন্দোলনের বিপরীতে থেকে পাকিস্তানি সেনাদের সাথে কাধে কাধ মিলিয়ে বাঙালী জাতিকে হত্যা, ধর্ষণ, লুট করতে সহযোগিতা করেছিলো তাদের ৯০% এর বেশি ছিলো মাদ্রাসার ছাত্র এবং শিক্ষক। এই কথা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু বেশ কয়েকবার অত্যান্ত দুঃখের সাথে উপস্থাপন করেছিলো যখন সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশে তাদের যুদ্ধাপরাধী হিসাবে বিচার করা হচ্ছিলো। 
তারপরেও বঙ্গবন্ধু তাদের দূরে সরিয়ে না দিয়ে তৈরি করে দিয়েছিলেন “ইসলামী ফাইন্ডেশন” এবং মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যাবস্থাকে স্বীকৃতি দিয়েছিলেন।
বর্তমানে বাংলাদেশে টিকে থাকা আজকের দিনের সকল মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থার সুত্রপাত ঠিক এভাবেই। আজ স্বাধীনতার ৪৭ বছর পরে যখন দেখা গেলো এই মাদ্রাসার একটি বিরাট জনগোষ্ঠী বাংলাদেশের জন্য বোঝা হয়ে চলেছে, কারণ তাদের শিক্ষা ব্যবস্থা একেবারেই মানসম্মত নয়, আধুনিক বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলার মতো কোন যোগ্যতায় এই মাদ্রসা শিক্ষার্থীদের নেই, যেকারণেই বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তাদেরকে একটা মানসম্মত পর্যায়ে নিয়ে আসার জন্য কওমী মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদীস শিক্ষাব্যাবস্থাকে বাংলাদেশের সাধারণ শিক্ষা ব্যবস্থার মাস্টার্স এর সমমান ঘোষণা করলেন।
এর মাধ্যমে মাদ্রাসা শিক্ষার্থিদের অন্ধকারে না ঠেলে দিয়ে সাথে নিয়েই একটি আধুনিক বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখলেন। 
শেখানে এই "আরিফ আজাদ"-এর মতো হাতে গোনা কিছু কৌশলে উগ্রবাদী এবং সেই মাদ্রাসার তরুনদের মধ্যে উস্কানী দাতা মডারেট ধার্মিকরা একেবারেই খুশি হতে পারলেন না। 
দেখুন বর্তমানে প্রকাশ্যে তারা তাদের এই মনোভাব কিভাবে প্রকাশ করছে। এখন শুধু একটি প্রশ্ন সবার আগে চলে আসছে, আসলে তারা চায় কি ?
মৃত কালপুরুষ
০৫/১১/২০১৮
ঢাকা

অভিজিৎ রায়’দের কোনদিন হত্যা করা সম্ভব নয়, তারা এভাবেই বেচেঁ থাকবে।



বর্তমানে বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে সোস্যাল মিডিয়ার তূমুল আলোচনা সমালোচনার মধ্যে একটি মন ভালো করে দেবার মতো তথ্য আজ আবারও নতুন করে বাংলাভাষীদের উদ্দেশ্যে বাংলাতে প্রকাশ করলেন নতুন প্রজন্ম এবং মুক্তচিন্তকদের বহুল পঠিত বই “বিবর্তনের পথ ধরে” বইয়ের লেখিকা এবং বাংলাদেশে জ্ঞান বিজ্ঞানের প্রচার এবং প্রসারে অগ্রনী ভূমিকা রাখা অভিজিৎ রায়ের প্রতিষ্ঠিত “মুক্তমনা”র বর্তমান প্রধান Bonya Ahmed আপু। তিনি বাংলাদেশের এলজিবিটিকিউ আন্দোলনের সাথে যারা আজ জড়িত এবং এই আন্দোলনের জন্য অতীতে বাংলাদেশের একশ্রেনীর মানুষের হাতে নিজেদের জীবন দিতে হয়েছিলো যাদের তাদের জন্য একটি বৃহৎ প্রাপ্তির খবর দিলেন আমাদের।
বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে এলজিবিটিকিউ বা (LGBTQ - Lesbian, Gay, Bi-sexual, Transgender, Queer) সম্পর্কে চিরকাল ধরে প্রচলিত থাকা নানা কুসংস্কার এবং তাদের প্রতি ঘৃণার বিপক্ষে কথা বলার বা এই সম্পর্কে সাধারণ মানুষদের সঠিক তথ্য দেবার মতো কেউ ছিলোনা একটা সময়। যে কারণেই প্রকৃতিগতভাবেই যারা মানসিক এবং শারিরিক ভাবে Lesbian, Gay, Bi-sexual, Transgender, Queer এর অধিকারী ছিলেন তাদের কথা চাপা পড়েই থাকতো বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের কাছে। তাদের প্রতি একপ্রকারের ক্ষোভ, ঘৃণা এবং সর্বপরী কিছু ধর্মীও ও কিছু সামাজিক নেতিবাচক ধ্যান ধারনার কারনে নিজেদের অধিকার আদায়ে ব্যার্থ হওয়া এবং নিজেদের অধিকারের কথা বলার কোন উপাই খুজে পেতো না তারা। এরই মধ্যে এই বিষয়ে তাদের কথা বলা এবং তাদের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে ধীরে ধীরে এগিয়ে আসতে দেখেছিলাম প্রথম ২০০১ সালের মে মাসে প্রকৌশলী, লেখক এবং ব্লগার অভিজিৎ রায় এর প্রতিষ্ঠিত “মুক্তমনা” নামক মুক্তবুদ্ধির চর্চাকারী ওয়েবসাই্টটিকে।
মুক্তমনার ওয়েবসাইটে প্রথম তাদের পক্ষে কমবেশি অনেকেই কথা বলা শুরু করেছিলো। এখান থেকেই তাদের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে অনুপ্রাণিত হয়ে অনেক পরে প্রকাশিত হওয়া একটি ম্যাগাজিন এর নাম সবাই জানতে পারলো প্রথম ২০১৪ সালের জানুয়ারী মাসে। অনেকেই হয়তো ধরতে পেরেছেন আমি সেই “রুপবান” ম্যাগাজিনের কথাই বলছি। আমার জানা মতে এখন পর্যন্ত বর্তমানে বাংলাদেশে এই “রুপবান” ম্যাগাজিনই প্রথম এবং একমাত্র ম্যাগাজিন যা Lesbian, Gay, Bi-sexual, Transgender, Queer এর পক্ষে কথা বলে। এই বিষয়টিকে বাংলাদেশের গোড়া ধার্মীক এবং বিজ্ঞান সম্পর্কে যাদের জ্ঞান সীমিত তাদের পক্ষে মেনে নেওয়াটা যে একেবারেই কঠিন কাজ ছিলো সেটা সকলেরই জানা ছিলো। সমস্যাটা ঠিক তখন শুরু হয়নি হয়েছিলো তার আরো পরে যখন এই রুপবান ম্যাগাজিনের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক এবং সহ-সম্পাদক দুইজন এলজিবিটি হিউম্যান রাইটস এক্টিভিস্ট কে বাংলাদেশের মৌলবাদীদের টার্গেটে ফেলা হলো।
বাংলাদেশি একজন কমিউনিটি লিডার এবং এলজিবিটি হিউম্যান রাইটস এক্টিভিস্ট জুলহাজ মান্নান এই রুপবান পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা এবং সম্পাদক ছিলেন জিনি প্রথম ২০১৪ সালের জানুয়ারীতে রুপবান নামক ম্যাগাজিন প্রকাশ করেন। এরপরে ২০১৫ সালে জুলহাস মান্নান এর সাথে তার বন্ধু মাহাবুব রাব্বী তনয় এই রুপবান পত্রিকার প্রথম সাধারণ সম্পাদক হিসাবে যোগ দেন এবং এই এলজিবিটি আন্দোলনের পক্ষে কাজ করা শুরু করেন। কিন্তু তারা দুইজনেই খুব শীঘ্রই বাংলাদেশের মৌলবাদীদের টার্গেটে পরিনত হয় রুপবান নামক ম্যাগাজিন প্রকাশের ফলে। মাত্র ২ বছরের ব্যাবধানে ২০১৬ সালের এপ্রিল মাসে এই দুইজনকে একই সাথে তাদের বাসায় ঢুকে নির্মমভাবে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে এবং গুলি করে হত্যা করে কিছু ধর্মীও উগ্রবাদী অমানুষেরা। তারপরেও থেমে থাকেনি মানুষের অধিকারের পক্ষে রুপবানের কথা বলা এবং এগিয়ে চলা।
সম্প্রতি হঠাৎ বন্যা আপুর এই পোস্ট দেখে সত্যিই খুব ভালো লাগছে যে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্যে সাহসিকতার সাথে কাজ করা এবং নিজেদের জীবন দিয়ে যারা তার প্রতিদান দিয়েছেন সেই দুইজন মানুষ এবং তাদের প্রতিষ্ঠিত ম্যাগাজিন রুপবানকে মুল্যায়ন করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিকোর একটি প্রতিষ্ঠান ফ্রিডম ফ্রম রিলিজিয়ন ফাউন্ডেশন (FFRF) এবং মুক্তমনা এটা শুনে। সেই সাথে আরো ভালো লাগছে এটা দেখে যে (FFRF) এবং মুক্তমনা এই বিষয়ক যে বাৎসরিক পদক বা এওয়ার্ড দেবার সীদ্ধান্ত নিয়েছেন যার নামকরণ করা হয়েছে “অভিজিৎ সাহসিকতা পুরস্কার” বা (Avijit Courage Award) নামে সেটা দেখে। বাংলাদেশের মুক্তবুদ্ধির চর্চাকারীদের আলোর যাত্রী “অভিজিৎ রায়” এভাবেই আমাদের মাঝে থাকবে। যারা একদিন “অভিজিৎ রায়কে” প্রকাশ্যে হত্যা করেছিলো তারা আবারও দেখুক তারা ব্যার্থ, তারা অভিজিৎ রায়কে কখনই হত্যা করতে পারবেনা, অভিজিৎ রায়েরা এভাবেই বেচেঁ থাকবে সকলের মাঝে চিরোকাল। কৃতজ্ঞতা জানাই (FFRF) এবং মুক্তমনা কে। এবং অনেক অনেক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা রইলো রূপবান এর প্রতি।
বন্যা আপুর টাইমলাইনে প্রকাশিত এই বিষয়ক বাংলা লেখাটি এই লিংকে দেখতে পারেন। https://www.facebook.com/bonya.ahmed/posts/2058823654139417
-মৃত কালপুরুষ
০৬/১১/২০১৮

বৃহস্পতিবার, ৪ অক্টোবর, ২০১৮

একটি প্রশ্ন।




মূল বিষয়টি সত্যিই খুব দারুন ছিলো, এভাবে অনেকেই সব কিছু দেখে না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা যদি এভাবেই চিন্তা করতে পারে তাহলে আগামীর বাংলাদেশ হবে অনেক উন্নত যা প্রকাশ করে বোঝানো যাবে না। গতকাল আমিও এই ছবি গুলোর থেকেই একটা ছবি দেখেছিলাম কারো পোস্ট করা ফেসবুক স্টাটাসে, যেখানে ছবির ছেলেটির চেহারা ঢেকে দেওয়া হয়েছিলো। এই কারনে অনেকেই মন্তব্য করেছেন হয়তো নেতিবাচক মনোভাব নিয়ে। আমার মনে হয়েছে সেটা করা ঠিক আছে। কারণ, প্রতীকি ছবি হোক আর কোন সন্তান গ্রাজুয়েট হবার পরে তার রিক্সাচালক বাবাকে তার গাউন পরিয়ে যদি ছবি তুলে সোস্যাল মিডিয়াতে দিয়েই থাকেন তাহলে তার চেহারা ঢেকে সেই ছবি শেয়ার করা ঠিক হয়নি। এতে করে একটা হীনমানসিকতার প্রকাশ দেখা যায়।

এখন কথা হচ্ছে, যারা না বুঝেই এটা নিয়ে নেতিবাচক স্টাটাস দিয়েছিলেন বা মন্তব্য করেছিলেন তারা মূল ঘটনা না জেনে না বুঝে করেছেন ঠিক আছে তারা সবাই বোকামী করেছেন। অতিরিক্ত আবেগ দেখাতে গিয়ে তারা বোকা হয়েছেন। আর যদি এই ছবির ব্যাক্তিটির কাছ থেকে বা ফটোগ্রাফারের কাছ থেকে আসল ছবি নিয়ে কেউ ছেলেটির মুখ ঢেকে সেই ছবি আবার নতুন করে পাবলিশড করে থাকেন তাহলে যারা ছেলেটির চেহারা ঢাকার কাজটি করেছেন সেটা চরম অন্যায় করেছেন। এই কারণেই অন্যায় হয়েছে, ছবিটিতে সকল বাবাদেরকে ছোট করে দেখানো হচ্ছে তাই। আর সর্বোপরি সেই ছবির আসল ব্যাক্তিটির (যদি হয়ে থাকে) নিচের পোস্টটি থেকে জানা যাচ্ছে সে নিজেই নাকি তার মুখটি ঢেকে সোস্যাল মিডিয়াতে তা শেয়ার করেছিলো।

এটা তার করা নিচের পোস্টে তার স্বীকারোক্তি এবং এই মুখ ঢাকার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে সকলের কাছে ক্ষমা চেয়ে যদি তিনি এই স্টাটাসটি দিয়েই থাকেন তাহলে তার নতুন করে আবার এই কথাটি বলা কতটা যৌক্তিক ছিলো ? "দুঃখিত আমি যে মুখ ঘোলা করার জন্য তবুও বলি, এসব মানুষের মাথা খালি বলেই আমাদের মাথায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হুড! যাঁরা ভুল বুঝেছেন আমি তাঁদের কাছে ক্ষমা চাচ্ছি ফটোগ্রাফারের হয়ে" নতুন করে এখানে যেই মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ আবার দেখছি সেটা কি (তার কথা মতে) “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হুড” মাথায় থাকা কোন ব্যাক্তির মনোভাব হতে পারে ? পাঠকদের কাছে আমার একটি প্রশ্ন আসলে ভুলটি কার ছিলো ?


Liton Mustafiz

স্যালুট...
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫১তম সমাবর্তনে এ ছবির একটি বিশেষ অংশ গতকাল সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ ছবির ঐ অংশটি সম্ভবত বিভিন্ন গ্রুপ হয়ে ব্যক্তি থেকে আরম্ভ করে জাতীয় পর্যায়ের গণমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। ফটোগ্রাফার শাহরিয়ার সোহাগ গতকাল অপরাজেয় বাংলার সামনে থেকে এ ছবিটি তোলেন। রিকশায় যিনি বসে আছেন তিনি আমাদের গর্বিত একটি অংশ। মনেই হয়নি সে মুহূর্তে তিনি অন্য একটি অংশ। পৃথিবীর আর সব বাবার মতো এ বাবার চোখেও আমি স্বপ্ন খুঁজে পাই। মোটেও মনে হয় নি তার গায়ের ঘাম লাগলে দুর্গন্ধী হয়ে উঠবে আমার গাউন। এমন ঘামের চর্মশরীরে বেড়ে ওঠা আমার। আমি বিশ্বাস করি পৃথিবীর চাকা এ 'পিতা'দের ঘামে ও দমে ঘোরে।


আমরা যখন খুব আনন্দ করছিলাম তখন তিনি আনমনা নজরে আমাদের দিকে তাকিয়ে থাকেন। বিষয়টি আমি বুঝে 'পিতা'কে ডাক দেয়। তিনি সাড়া দেন। আমি আমার গাউন, হুড খুলে 'পিতা'কে পরিয়ে দেই। তারপর ছবি তোলা হয়। একজন গর্বিত গ্রাজুয়েট মনে হচ্ছিলো তখন আমার। এঁদের রক্ত ঘামানো অর্থেই আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে পেরেছি। এ 'পিতা'র পোশাক দেখে স্যালুট না করে পারি নি। এ ছবি তুলে রাতেই ফেইসবুকে পোস্ট করেন ফটোগ্রাফার। ছবিটি ভাইরাল হলে দেখা যায় অনেকেই আমাকে ভুল বুঝছেন। বিভিন্ন গণমাধ্যমে ছবিটি নিউজ হয়ে গেছে। দুঃখিত আমি যে মুখ ঘোলা করার জন্য তবুও বলি, এসব মানুষের মাথা খালি বলেই আমাদের মাথায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হুড! যাঁরা ভুল বুঝেছেন আমি তাঁদের কাছে ক্ষমা চাচ্ছি ফটোগ্রাফারের হয়ে। এসব মানুষেরা আমাদের সত্যিকার বাবা-ই। কারণ আমি নিজেও কৃষকের লাঙলের ফালা বেয়ে উঠে এসেছি...

 -মৃত কালপুরুষ
  ০৪/১০/২০১৮

বুধবার, ২৭ ডিসেম্বর, ২০১৭

ধর্মীয় মৌলবাদ ও বাংলাদেশের বাক স্বাধীনতা।


ধর্মীও অনুভূতিতে আঘাত দিয়ে কিছু বলা যাবে না, এই কথা বাংলাদেশের ১৮ বছর বয়সী কোন ইন্টারনেট ব্যবহারকারির না জানার কথা নয়। বরং তার থেকে কম বয়সের যে সমস্ত ইউসার আছে তারও এটা খুব ভালো করেই জানে যে এই কাজটি করা ঠিক নই। তবে কথা হচ্ছে আমরা কি সঠিক ভাবে বুঝতে পারছি আসলে কোন অনুভূতির কথা বা কোন স্বাধীনতার কথা এখানে বলা হচ্ছে ? বাংলাদেশ হচ্ছে ৮৯% মুসলমান নাগরিকের দেশ তাই অন্য ধর্ম নিয়ে সমালোচনা করেন অসুবিধা নেই তবে ইসলাম নিয়ে কথা বলা যাবেনা কারন তারা এই দেশে অনেক শক্তিশালী অবস্থানে আছে এরকম ধারনা আসলে সবার মধ্যেই ছড়িয়ে দেওয়া হয়। আর যদি সাধারণ মানুষের মধ্যে এমন ধারনা থেকে থাকে তাহলে সরকার কেন এই থেকে পিছিয়ে থাকবে তাইনা। তাইতো সরকার সেই ৮৯% মডারেট মানুষদের খুশি করার জন্য এমন কিছু আইন করে দিয়েছে যেখানে ধর্মীয় অনুভূতি্র নামেই একটি প্রজন্মকে বোবা বানিয়ে রাখা হয়েছে। 

আমি বাংলাদেশ সরকারের ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল ‘আওয়ামী লীগ’ কে বলতে চাই, আপনারা যে বাংলাদেশের বাইরে অর্থাৎ বহিঃবিশ্বে মানুষের কাছে বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে বোঝাবার চেষ্টা করেন “বাংলাদেশ একটি ধর্মনিরপেক্ষ ও সেক্যুলার কান্ট্রি” তার এখন কি হলো ? সম্প্রতি আইসিটি এক্টের অধীনে ৫৭ ধারায় একটি অনলাইন এক্টিভিস্ট যে একজন ভিডিও ব্লগার ছিলো যার নাম ‘আসাদ নূর’ তাকে এই ধারায় আটক করে বাংলাদেশ কি প্রমাণ করলো। এপর্যন্ত বাংলাদেশের নিউজ মিডিয়া এই বিষয়ে যতটা না প্রকাশ করেছে তার থেকেও বেশি দেখলাম আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মিডিয়া খবর প্রকাশ করেছে “Blogger arrested at Dhaka airport Bangladesh in case filed under ICT act  এই শিরোনামে। এতেকরে কি বহিঃবিশ্বে বাংলাদেশ একটি ধর্ম নিরপেক্ষ ও সেক্যুলার রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে না এই সংবাদে এটা প্রামণিত হচ্ছে বাংলাদেশ সরকার একটি ধর্মীয় মৌলবাদী সরকার যারা মানুষের বাক স্বাধীনতা রোধ করছে।  

একটা কথা এখানে না বললেই নয় যেটা শুনতে খারাপ লাগলেও সত্য কথা, আসলে বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন প্রশাসনের সাথে সংশ্লিষ্টরা আদৌ জানে না ধর্মীয় মৌলবাদ কি জিনিস। যদি তাই জানতো তাহলে তারা এই ৫৭ ধারার মতো কোন একটি আইনকে বৈধ করে দেশের সাধারণ জনগন ও বর্তমান প্রজন্মের কথা বলার অধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করতো না। এই বিষয়ে খুব গভীরে গিয়ে কিছু বলতে চাচ্ছি না কারণ বাংলাদেশ সরকারের ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের নতুন প্রজন্ম এবং প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় নিজেদের ধর্মনিরপেক্ষ ও সেক্যুলার বলে পরিচয় দিতে চাইনা বলে জানিয়েছিলেন বহু পুর্বে। বাংলাদেশের মধ্যে চলতি বছরের কোন একসময় বাংলাদেশের বিভিন্ন নিউজ মিডিয়ায় প্রকাশ করা হয়েছিলো যদিও এই সরকার বহিঃবিশ্বে বলে থাকে বাংলাদেশে একটি ধর্ম নিরপেক্ষ ও সেক্যুলার দেশ। আগেই বলেছিলাম ধর্মীও মৌলবাদ কি জিনিস সেটা মনে হয় এই দেশের অনেকেই জানেনা তাই সেটা নিয়ে দুইটা কথা বলে শেষ করবো।

আমাদের দেশে আসলে দুই প্রকৃতির মানুষ আছে। যাদের একদল আসলে একেবারেই অযৌক্তিক কোন কিছুর উপরে ভরসা করে বসে থাকে তাদেরকেই মূলত আমরা মৌলবাদী বলে থাকি। মৌলবাদ হচ্ছে বাস্তব বর্জিত, অর্থহীন, যুক্তিহীন, বৈজ্ঞানিক চিন্তা-ভাবনাহীন, নৃতত্ব, সমাজতত্ব, বিবর্তনাবাদ সম্পর্কে একাবারেই জ্ঞানহীন, প্রচার ও প্রসারহীন, অসুস্থ এবং গোড়ামী ও কুসংস্কারাচ্ছন্ন একটি মতবাদ। আর এই মতবাদে যারা মনে প্রানে বিশ্বাস ও আস্থা রেখে থাকে তারাই হচ্ছে আসলে মৌলবাদী এই জন্যই আমি সবার আগেই বলেছিলাম যারা আসলে অযৌক্তিক কোন কিছুর উপরে ভরসা করে বসে থাকে তাদেরকেই আমরা মূলত মৌলবাদী বলে থাকি। এদের জন্য সব থেকে লজ্জার কথা হচ্ছে এই ধর্মীয় মৌলবাদীরা আসলে তাদের জীবন ধারন করে থাকে সভ্যতার বিজ্ঞান ও বর্তমান কালের সকল বৈজ্ঞানিক সুযোগ সুবিধা ব্যবহার করে। কিন্তু তারাই আবার শতশত বছর আগের কিছু অযৌক্তিক ধর্মীয় রীতি-নীতি চালু করতে চাই এই বর্তমান সমাজ ব্যবস্থায় যা বর্তমান যুগে পুরাপুরি অযোগ্য ও অচল বলে প্রামাণিত।

যারা এই অচল সমাজ ব্যবস্থা আর সহস্রাব্দবছর আগের কিছু অবৈজ্ঞানিক ধর্মীয় রীতি-নীতি ও অস্ত্বিত্বহীন কিছু ধর্মবিশ্বাস যে কোন প্রক্রিয়ায় (সেটা হোক কাউকে হত্যা করে) সাধারণ মানুষের মাঝে প্রতিষ্ঠা করতে চাই তারাই হচ্ছে ধর্মীয় মৌলবাদী। এদের সব থেকে বড় সমস্যা হচ্ছে এই মৌলবাদীরা তাদের ধর্মের দোহায় দিয়ে একটি গনতান্ত্রিক দেশের মধ্যে মানুষের স্বাভাবিক জীবন যাপনে বিভিন্ন ভাবে বাধা দিয়ে থাকে। তারা সাধারন মানুষের চিন্তার স্বাধীনতা রোধ করে। একটি মানুষ কি চিন্তা করতে পারবে আর কি চিন্তা করতে পারবে না তা তারা নির্ধারন করে দিতে চায়। সাধারণ মানুষের স্বাধীন মত প্রকাশে তারা বাধা দিয়ে থাকে। একটি মানুষ কোন বিষয়ে তার মতামত দিতে  পারবে আর কোন কোন বিষয়ে তাদের মতামত দিতে পারবে না তারা তা নির্ধারন করে দিতে চায়। এই ধর্মীয় মৌলবাদীদের আরেকটি খারাপ দিক হচ্ছে তারা সাধারণ মানুষের ব্যাক্তিগত আচার আচরনের কোন স্বাধীনতা দিতে চায়না অথবা একজন মানুষের ব্যাক্তিগত পছন্দ বা অপছন্দ করার অধিকার তারা দেয়না।

আসলে এই ধর্মীয় মৌলবাদ এমন একটি মতবাদ যা আমাদের দেশের ও সমাজের শিরাই উপশিরাই মিশে আছে এই মতবাদের এরকম হিসাব দিয়ে শেষ করা যাবেনা যা কেন বর্তমান যুগের মানব সভ্যতার জন্য ক্ষতিকারক। এই মতবাদের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে আপনি যত গুরুত্বপুর্ণ বিষয়ই উপস্থাপন করুননা কেন যতক্ষন পর্যন্ত এই মৌলবাদীদের স্ব স্ব ধর্মের কথিত ধর্মীয় ঐশরিক কিতাবের সাথে না মিলবে ততক্ষন আপনার কথার কোন অস্তিত্বই এই বাহীনি স্বীকার করবেনা। কারণ এদের এমন একটা ধারনা সেই শিশুকাল থেকেই দেওয়া হয়ে থাকে যেখানে বলা হয় ‘সবকিছুই ধর্মগ্রন্থে রয়েছে’ টাইপের কথা। এবং তারা বিশ্বাসও করে তাই। সেই সাথে এই মনভাবের কারনে তাদের ধারনা ধর্মগ্রন্থে যা নেই তা মানুষের জীবনেও দরকার নেই। এই ধর্মীয় মৌলবাদীদের মধ্যে মুসলিম মৌলবাদীদের উদ্দেশ্য পৃথিবীর প্রতিটি দেশেই খিলাফত শাসন প্রতিষ্ঠা করা। এই খিলাফত শাসনের মাধ্যমে ইসলামী শরিয়াহ আইনের অধীনে সম্পুর্ণ রাষ্ট্রকাঠামো পরিচালনা করা। কিন্তু এই মৌলবাদীদের হাভভাব দেখে আপনার মনে হবে তারা কিছুই জানেনা যে এই শরিয়াহ আইন আর খিলাফত শাসন বর্তমানের আধুনিক বিশ্বে গণতন্ত্র বলে পরিচিত রাষ্ট্রকাঠামোর একটি স্বাভাবিক ধারনার সম্পূর্ণ বিপরীত ও সাংঘর্ষিক।

ছবিঃ বোবা ওয়ার্ল্ড।

---------- মৃত কালপুরুষ

               ২৮/১২/২০১৭

আমরা চাই কুসংস্কার মুক্ত এবং সচেতন মানুষের বাংলাদেশ।


সম্প্রতি বাংলাদেশ আসাদুজ্জামান নূর নামের একজন ইউটিউবার (ভিডিও ব্লগার) আটক হওয়াকে কেন্দ্র করে দেশে বিদেশে বেশ কিছু নিউজ মিডিয়া তাকে নিয়ে ইতিবাচক ও নেতিবাচিক অনেক কথায় লিখেছেন, যা কারো নজরে পড়তে আসলে বাকি থাকার কথা না। আসাদ নূর মোটামুটি বাংলাদেশ ভারত সহ বিশ্বের অন্যান্য দেশের বাংলাভাষী মানুষদের কাছে দীর্ঘদিন ধরেই একজন পরিচিত মুখ ছিলেন। তবে বিভিন্ন ধর্মের মধ্যে ইসলাম ধর্মের কঠোর সমালোচনা করার কারনে সে অনেক আগে থেকেই এক শ্রেনীর মানুষের রোষানলে পড়েন তাই তাকে বিভিন্ন সময়ে গা ঢাকা দিয়ে থাকতে হয়েছে। এমনকি তার নামে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারী মাসে তথ্য ও প্রযুক্তি আইনের আওতায় ৫৭ ধারায় একটি মামলাও করা হয়েছিলো। এরপর বেশ কিছুদিন আমরা তার ভিডিও খুব একটা দেখতে পারিনি অনলাইন মাধ্যম গুলাতে। যথা সম্ভব সে অনলাইনে কম এক্টিভ ছিলো কিছুদিন। সম্প্রতি তার বাংলাদেশে আটকের ঘটনায় মানুষ আবারও তার সম্পর্কে জানতে পারলো।

আমরা সবাই কমবেশি জানি বাংলাদেশে মুক্তভাবে কথা বলার অধিকার কারও নেই। এই দেশে আইন করে তা বন্ধ করা আছে। বাংলাদেশে এমন কিছু আইন আছে যা ব্যবহার করে এই দেশের প্রতিটি মানুষকেই আইনের আওতায় আনা যায়বর্তমানে বাংলাদেশে যে বা যারাই এই আসাদ নূর এর মতো ব্লগারদের পক্ষে কথা বলবে তারা সবাই এই দেশের সেই শ্রেনীর মানুষের দ্বারা বিতর্কিত হবে এটা সকলেরই জানা কথা। কারণ আসাদ নূর যেভাবে এতোদিন সমালোচনা করেছে তাতে করে তার পক্ষে কথা বলার মানুষের থেকে বিপক্ষে কথা বলা মানুষের সংখ্যা এখন বেশি হবে এই দেশে। বাংলাদেশের ধার্মীকদের একটি ভূল ধারনা আছে বাক স্বাধীনতা নিয়ে। তারা মনে করে বাক স্বাধীনতা হচ্ছে কেউ মুক্তভাবে চিন্তা করে কিছু লিখলে তার লেখার সমালোচনা না করে সেই ব্যাক্তির সমালোচনায় তার চোদ্দগুষ্টিও উদ্ধার করে ফেলাকে বাক স্বাধীনতা বলে। এদের সিংহভাগ বাংলাদেশের বিভিন্ন মাদ্রাসার ছাত্র আর নয়তো গোড়া ধার্মীক। তারা বিভিন্ন সময় অনেক ব্লগারের লেখার সমালোচনা না করে তাদের সমালোচনাতেই বেশি সময় ব্যয় করে থাকে। আমারও এই অভিজ্ঞতা কম না। আসলে কিন্তু তাদের কারো সাথে আমার ব্যাক্তিগত কোন পরিচয় নেই, শুধু ভার্চুয়ালে ও সোস্যাল মিডিয়াতে লেখা দেখেই তারা এমন আচরন করে থাকে। তারা এটা ভুলে যায় যে, আসলে কিন্তু প্রতিবাদের রাস্তা খোলা আছে বা কেউ যদি ভুল কিছু বা মিথ্যা কিছু বলে থাকে বা লিখে থাকে সেটার বিপক্ষে বলার অধিকার তারও আছে। কিন্তু অধিকাংশ সময়ে তারা সেটা না করে লেখককে ব্যাক্তি আক্রমন করতে তাদের সময় ব্যয় করে থাকে।

Freedom of speech বলতে আমরা যা বুঝি এই বাংলাদেশের ধার্মীকরা তা বুঝে না, তারা মনে করে থাকে মুক্তমনারা  যা করে তাকে Heat of speech বলা হয়। কারন তারা শুধু ধর্মেরই সমালোচনা করে, তাও আবার শুধুই ইসলাম ধর্মের সমালোচনা করে। আবার আরেকটা সমস্যা দেখা যায় এখানে, যেমন অনেক হিন্ধু ধর্মাবলম্বী আছে যারা কোন মুক্তমনা লেখকের ইসলাম ধর্মের খারাপ দিক গুলো তুলে ধরে কিছু লেখা দেখলেই হাতে তালি দেয় আর যখনই হিন্ধু ধর্মের সমালোচনা করা হয় তখন সেই তারাই আবার তাদের পুর্ণ জীবনে শেখা সকল খারাপ ভাষার ব্যবহার করা শুরু করে দেয়। বিপরিত ভাবেও একই আচরন ঘটে থাকে। এরকমই হচ্ছে বাংলাদেশের ধার্মীকদের মধ্যে বাক-স্বাধীনতা ধারনা । আমার মতে কথা বলার অধিকার সকলেরই থাকা উচিত সবাই কথা বলবে। আপনার যা খুশি আপনি তাই বলবেন, ধর্ম নিয়ে বলবেন, রাজনীতি নিয়ে বলবেন, কোথাও অন্যায় হতে দেখলে তা বলবেন, মানব সভ্যতা ও মানব জাতির জন্য কোন কিছু হুমকি স্বরুপ বলে মনে করলে আপনি তার বিরুদ্ধে বলবেন এবং অবশ্যয় বলবেন। কিন্তু তার মানে এই না যে ভাষার সঠিক ব্যবহার বা মার্জিত বা সামাজিক বলে যে কথাগুলা আছে তা আপনি ভুলে যাবেন। আপনাকে এই বিষয় গুলি মাথায় রেখে কথা বলতে হবে বলতে হবে শালীনতা বজায় রেখে।

মুক্তভাবে যারা চিন্তা করে বা সমাজের প্রথাবিরোধী আন্দোলনের সাথে যারা জড়িত আছে দীর্ঘদিন ধরে, যারা কুসংস্কার আর গোড়ামীর বিরুদ্ধে লিখে আসছে ও বিভিন্ন ভিডিও ব্লগিং এর মাধ্যমে বলে আসছে তারা আসলে সবসময় এই বিষয়গুলি মাথায় নিয়েই কাজ করে। তাই এমন কিছু ভাবার দরকার নেই যে আসাদ কাউকে ব্যাক্তি আক্রমন করে কোন সমালোচনা করেছে। সে যদি সমালোচনা করে থাকে তাহলে গোড়ামীর বিরুদ্ধে করেছে। আপনারা যারা তার ফাঁসির দাবীতে আন্দোলনে যেতে চাচ্ছেন তারা একটিবার ভেবে দেখুন সে কি আপনাদের কাউকে ব্যাক্তিগত আক্রমন করে কোন কথা বলেছে ? না আপনার সাথে তার জমিজমা নিয়ে আগে বিরোধ ছিল তাই আপনি আসাদ নূর গ্রেপ্তারের কথা শুনে তার ফাঁসির দাবীতে রাস্তায় নামতে চাচ্ছেন কোনটা ? কি এমন অনুভূতি আপনার যে একজন আসাদের কিছু ভিডিও দেখেই তাতে আঘাত লেগে যায়। আগে অনুভূতিকে একটু শক্ত করুন। আসাদ ভুল কিছু বলে থাকলে আপনিও তার বিপক্ষে ভিডিও বানান আর আপলোড করুন। আপনার কথা বলুন। এটা না করে আপনারা সেই কথা বলার অধিকার কেড়ে নেবার পক্ষেই যাচ্ছেন। এতে করে যে বাংলাদেশের সমস্ত মানুষের সাথে সাথে আপনারও কথা বলার অধিকার বন্ধ হয়ে যাচ্ছে সেটাও খেয়াল করুন।

অবশ্যয় বাক স্বাধীনতার কিছু সীমা আছে। নিজের ইচ্ছা মতো রাস্তার উলটা সাইড দিয়ে যেমন গাড়িচালানো যায়না তেমনি নিজের ইচ্ছা মতো যাকে তাকে যা খুশি তাই বলা যায়না যদি তার বিরুদ্ধে সেই সমস্ত উল্লেখ করা অভিযোগ না থাকে। বর্তমানে বাংলাদেশে বাক স্বাধীনতার বিপক্ষে যে কয়েকটি আইন প্রচলিত আছে তাতে এই বাক স্বাধীনতার সীমা আসলে কতটুকু সেটা খুবই ঘোলাটে এবং বিতর্কিত একটা ইস্যু হয়ে আছে। বর্তমানে ভার্চুয়াল জগতে বাংলাদেশের মানুষের অনলাইনে এক্টিভিটির কারনে সেটা আবার আরেক মোড় নিয়েছে। সামনা সামনি কেউ কারো সাথে যে কথায় বলুক না কেন তাতে বলার একটা ভঙ্গী আমরা সামনা সামনি দেখতে পায় যেখানে আমরা ধারনা করে নেই এই মানুষটি আসলে কি বলতে চাচ্ছে। কিন্তু অনলাইনে লেখা আর ভিডিও ব্লগিং দেখে বা পড়ে কিন্তু অনেক সময় মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হতে পারে তাই কিছু আইন থাকার দরকার আছে তবে একটি জাতিকে পুরাটায় বোবা বানিয়ে রাখা সেই আইন হতে পারেনা। বাংলাদেশের মানুষকে মনে রাখতে হবে মানুষের কথা বলার মাধ্যমেই কিন্তু আলোচনার রাস্তা খোলা হবে আর যত আলোচনা হবে ততই একটি মতবাদের ফাইন্ডেশন শক্ত হবে। আর যদি তা না করা হয় তাহলে আমাদের থেকে বিশ্ব এগিয়ে যাবে আমরা সেই পিছনে তো পেছনেই পড়ে থাকবো।

ছবিঃ ক্যাফেটেরিয়া।

---------- মৃত কালপুরুষ

               ২৭/১২/২০১৭              

শুক্রবার, ১৭ নভেম্বর, ২০১৭

দীপিকা পাডুকোন ও বানসালীর মাথার মুল্য এখন পাঁচ কোটি রুপি।

সম্প্রতি ভারতে “সঞ্জয় লীলা বানসালী” পরিচালিত চলচ্চিত্র “পদ্মাবতী” বানানোর জন্য রাজস্থানের জয়পুর, যোধপুর, উদেয়পুরের রাজপরিবারের এক হিন্দু রাজপুত পরিচালক “সঞ্জয় লীলা বানসালী” ও জনপ্রিয় অভিনেত্রী “দীপিকা পাডুকোন” এর মাথার দাম ধার্য করেছে ৫ কোটি রুপি। কেউ যদি এদের কাউকে শিরোচ্ছেদ করতে পারে তাহলে তাকে এই ৫ কোটি রুপি দেওয়া হবে। রাজস্থানের রাজ পরিবারের দাবী রানী পদ্মাবতীর যে ইতিহাস সমস্ত ভারতের মানুষ জানে সেই ইতিহাস নাকি এই চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বিকৃত করা হয়েছে। আসলে আমরা এখন পর্যন্ত কেউ জানি না আসলে সঞ্জয় লীলা বানসালী আমাদের পদ্মাবতী চলচ্চিত্রে কি দেখাতে যাচ্ছে, কারন এই ছবি চলতি ২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে মুক্তি পাবার কথা থাকলেও এই হিন্দু রাজপুতের আন্দোলনের কারনে শোনা যাচ্ছে আগামী বছর জানুয়ারী মাসের আগে তা মুক্তি পাবে না। রানী পদ্মাবতীর ইতিহাস ও চিতর কেল্লা ট্রাজেডি ইতিহাসে হিন্দু ও মুসলিম জাতির পরিচয় বহন করে থাকে বলে অনেকের ধারনা। হিন্দুরা বর্তমানে এটা ভেবে থাকে তাদের ধর্মের যে একটি বর্বর অধ্যায় ছিলো যা ১৮২৯ সালে ব্রিটিশরা আইন করে বন্ধ করেছিলো সেই সতীদাহ প্রথা এই রানী পদ্মাবতী ও চিতর কেল্লা থেকেই শুরু হয়েছে যদিও তারও হাজার হাজার বছর আগেও হিন্দু ধর্মে এই প্রথার সন্ধান পাওয়া গেছে। আবার অনেকেই মনে করে এই প্রথাটি হিন্দু ধর্মে অনেক আগেই বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিলো। কিন্তু পরে আবার ১৩০৩ খ্রিস্টাব্দের দিকে দিল্লির মুসলিম শাসক আলাউদ্দীন খিলজির অত্যাচার ও নারী লোভী মনোভাবের কারনে এই রানী পদ্মাবতী দ্বারা আবার চালু হয়েছিলো। তাই রাজস্থান সহ সমস্ত ভারতবর্ষে ও হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে এই রানী পদ্মাবতী দেবী একটি স্পর্সকাতর চরিত্র হয়ে আছে।
ইতিহাস যাই হোক, এটা নিয়ে একটি চলচ্চিত্র তৈরি করা হয়েছে তাতে এই রাজাস্থানবাসির স্বাগত জানানো উচিত ছিলো। আর যদি সঞ্জয় লীলা বানসা্লী রানী পদ্মাবতীর ইতিহাস বিকৃত করেই থাকে তাহলে তাকে হুমকি ধামকি না দিয়ে এবং অভিনেত্রীদের মাথা না কাটতে চেয়ে উচিত ছিলো তার বিপক্ষে প্রকৃত সত্য জানিয়ে আরেকটি ছবি বানিয়ে তার জবাব দেওয়া। কিন্তু রাজপুতের এই আচরন আসলে প্রমান করে হিন্দু ধর্মের মধ্যেও মুসলিম জিহাদি মৌলবাদীদের মতো আচরন আছে যা কোন অংশেই কম নয়। মুসলিমরা যেমন তাদের নবী বা ধর্ম নিয়ে কথা বললে মানুষের মাথা কাটতে চায় হিন্দুরাও ঠিক তেমনই করতে চায়। তারাও মুক্তভাবে মত প্রকাশ করতে দিতে চায়না। তাই যদি না হতো তাহলে এই “পদ্মাবতী” চলচ্চিত্রের জের ধরে এই হত্যা হুমকি ও মাথার মুল্য ধার্য না করে সারা ভারতবর্ষের নির্যাতিত হিন্দু জাতিদের জন্য কাজ করতো। বাংলাদেশে যে প্রতিনিয়ত হিন্দুদের ওপরে নির্যাতন হচ্ছে তার বিপক্ষে কথা বলতো এই হিন্দু রাজপুতেরা। অথবা এই “পদ্মাবতী” চলচ্চিত্র বর্জন করে তার জবাব দিতে পারতো, কিন্তু সেটা না করে তারা তাদের ক্ষমতার অপব্যাবহার করছে। বিশাল রাজপুত কিংডম নামে পরিচিত বর্তমান ভারতের রাজস্থানের পুরাটায় এই রাজপুতদের দখলে থাকায় ভারতের মোদী সরকারও মনে হয় এদের কাছে কিছুটা অসহায়। আর যদি তাই হয় তাহলে জনগনের নিরাপত্তা না দিতে পারার কারনে এই সরকারের পদত্যাগ করা উচিত বলে মনে করি।
আসলে যে রানী পদ্মাবতীকে নিয়ে এতো কাহিনী তার ইতিহাস পড়লে যেমন চোখে পানি চলে আসবে ঠিক তেমনই আবার প্রমান করে দেওয়া যাবে এই রানী পদ্মাবতী বলে কেউ ছিলোই না। পদ্মাবতীর অস্তিত্ব নিয়েও অনেক প্রশ্ন আছে ইতিহাসে। তবে মুসলিম শাসক বর্বর আলাউদ্দীন খিলজীর ইতিহাস নিয়ে কোন সমস্যা নেই এখন পর্যন্ত। তবে রানী পদ্মাবতী বর্তমান ভারতবর্ষের একটি মর্মস্পর্শী ইতিহাস যা এখন পর্যন্ত টাটকা হয়ে আছে হিন্দু জাতিদের কাছে। তাইতো তাদের এই নিয়ে এতো অনুভূতি দেখা যাচ্ছে। তবে দুঃখের বিষয় এই রাজপুতেরা সেই ইতিহাস কতটুকু জানে আর সঞ্জয় লীলা বানসালীর মতো পরিচালকেরাইবা কতটুকু জানে। আমি হিন্দু ধর্মের বর্বর প্রথা সতীদাহ নিয়ে একটি লেখাতে এই এই পদ্মাবতি ট্রাজেডির কথা একবার উল্লেখ করেছিলাম। কারন এই ইতিহাসের সাথে সতীদাহ প্রথাটি জড়িত আছে। সেটা অন্য আলোচনা তবে এখানে পদ্মাবতী ট্রাজেডির কিছু ইতিহাস যেমন চিতর কেল্লা, রানী পদ্মাবতী ও আলাউদ্দীন খিলজীর কিছু সংক্ষিপ্ত পরিচয় না দিলে মনে হয় আধুরী থেকে যাবে।
প্রাপ্ত ইতিহাস অনুযায়ী আমরা জানতে পারি মুসলিম শাসক আলাউদ্দিন খিলজি তার আপন চাচা ও খিলজি বংশের প্রতিষ্ঠাতা জালালউদ্দিন খিলজিকে হত্যা করে ১২৯৬ খ্রিস্টাব্দে দিল্লির সিংহাসন দখল করেন অর্থের বিনিময়ে । তিনি ১২৯৬ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৩১০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত রাজত্ব করেন । ইলবেরি তুর্কি আমলে ভারতে দিল্লিতে মুসলিম সুলতানির যে ভিত্তি স্থাপিত হয়েছিল, আলাউদ্দিন খিলজির সময় তা পরিপূর্ণ রূপ গ্রহন করেছিল । উত্তর ও দক্ষিণ ভারতের বিস্তৃত এলাকা জুড়ে সাম্রাজ্য স্থাপনের সঙ্গে সঙ্গে শাসনতান্ত্রিক সংস্কার চালু করে নিজ কর্তৃত্ব সুদৃঢ় করতে তিনি সচেষ্ট হয়েছিলেন এই শাসক । এই দিক দিয়ে বিচার করলে তাঁকে সুলতানি আমলের শ্রেষ্ঠ সম্রাট বলা যেতে পারে । তবে প্রকৃত এই আলাউদ্দীন খিলজি ছিলো একজন মাতাল ও লম্পট টাইপের মানুষ। তার বাইসেক্সুয়ালিটি অভ্যাস ছিলো। তার বৈধ স্ত্রীর সংখ্যা ছিলো শতাধিক। তা বাদেও তার হারেমে প্রায় ৭ হাজার এর মতো নারী, শিশু ও বালক ছিলো। এই আলাউদ্দীন খিলজির তারপরেও এমন অভ্যাস ছিলো যে, যদি কোন যায়গায় কোন সুন্দরী রমনীর কথা শুনতো বা সন্ধান পেতো তাহলে তাকে নিজের বশে না আনা পর্যন্ত সে ক্ষান্ত হতো না এবং এর জন্য সে যেকোন কিছু করতে রাজি থাকতো। খিলজি রাজবংশ ছিল তুর্কি বংশোদ্ভুত মুসলিম রাজবংশ যারা পরবর্তিতে তুর্কিতে ইসলামের দোহায় দিয়ে প্রায় ১৫ লক্ষ আর্মেনীয়কে হত্যা করেছিলো প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময়। ১২৯০ থেকে ১৩২০ সাল পর্যন্ত সময়ের মধ্যে এই রাজবংশ দক্ষিণ এশিয়ার বিরাট অংশ শাসন করে। জালালউদ্দিন ফিরোজ খিলজি এই রাজবংশের পত্তন করেন। এটি দিল্লি সালতানাত শাসনকারী দ্বিতীয় রাজবংশ। আলাউদ্দিন খিলজির সময় খিলজিরা সফলভাবে মোঙ্গল আক্রমণ ঠেকাতে সক্ষম হয়।
তার শাসনামলে দিল্লি থেকে সব থেকে কাছের রাজ্য বর্তমান রাজস্থানের চিতরের রাজা ছিলেন হিন্দু রতন সিং। আর এই রতন সিং এর স্ত্রী ছিলেন রানী পদ্মাবতী। রানী পদ্মাবতী এতই সুন্দরী ছিলেন যে আশেপাশের দশ রাজ্যে তার নাম মানুষ জানতো বলে প্রচার ছিলো। তবে অনেক ইতিহাসবিদের মতে খিলজির শাসনামলে রানী পদ্মাবতী ছিলো না। সে যাই হোক, রানী পদ্মাবতীর রুপ আর সৌন্দর্যের কথা এই আলাউদ্দীন খিলজি যে কোন ভাবে জানতে পারে। কিভাবে জানতে পারে তা নিয়েও অনেক ইতিহাস আছে তা আর এখানে তুলছি না। আলাউদ্দীন খিলজী রানী পদ্মাবতীর রুপের কথা শুনে পাগল হয়ে যায়। শোনা মাত্র সে তার বিশাল সৈন্য বাহিনী নিয়ে রাজস্থানের চিতর আক্রমনের উদ্দেশ্য ১৩০৩ সালের ২৮ জানুয়ারী বেরিয়ে পড়ে। যখন সে চিতরের কেল্লার কাছে আসে তখন দেখতে পায় চিতর কেল্লার নিরাপত্তা খুবই মুজবুত যা ভেঙ্গে ভেতরে যাওয়া একেবারেই অসম্ভব। তাই সে মতলব আটে এবং রাজা রতন সিং এর কাছে তার দুত পাঠায় এই বলে যে, সে রানী পদ্মাবতীকে তার বোনের মতো জানে তাই তাকে একবার দেখে সে আবার দিল্লি চলে যাবে। তার কোন প্রকারের যুদ্ধ করার ইচ্ছা নেই। এই শুনে রানী পদ্মাবতী তার প্রজাদের দিকে তাকিয়ে লম্পট আলাউদ্দীন খিলজিকে দেখা দেবেন বলে রাজি হন। তবে শর্ত থাকে সে আয়নাতে তার চেহারা দেখতে পারবেন। এই আয়নাটি নিয়েও অনেক ইতিহাস আছে কারন এই ঘটনা যখন ঘটেছিলো তখন আমরা আয়না বলে যাকে জানি তা আসলে ছিলো না। তবে সোনা, রুপা, তামা, পিতল বা কাসার তৈরি আয়নার চল ছিলো তখন। অনেকের মতে এই আয়না আলাউদ্দীন খিলজি দিল্লি থেকেই নিয়ে এসেছিলো।
আলাউদ্দীনের আয়না সাথে নিয়ে আসার কারন ছিলো। সে জানতো যে হিন্দু রাজপরিবারের রাজরানীদের কোন বাইরের পুরুষের সামনে যাওয়ার চল তখন ছিলোনা। যখন আলাউদ্দীন রানী পদ্মাবতীকে আয়নায় দেখতে পান তখন তার মাথা আরো খারাপ হয়ে যায়। সে পদ্মাবতী সম্পর্কে যা শুনেছিলেন আর ভেবেছিলেন তার থেকেও অনেকগুন বেশি সুন্দরী ছিলো এই রানী পদ্মাবতী। সাথে সাথে তার মত পাল্টে ফেলেন লম্পট আলাউদ্দীন খিলজি এবং সুযোগ খুজতে থাকেন কিভাবে রানী পদ্মাবতীকে তার দখলে নিবেন। তার বিদায়ের সময়ে সৌজন্য রক্ষা করতে রাজা রতন সিং আলাউদ্দীনকে কে কিছুদূর এগিয়ে দেবার জন্য কেল্লার বাইরে আসেন। এই সুযোগ হাতছাড়া করেননি লম্পট আলাউদ্দীন খিলজি। রাজা রতন সিং কে বন্দি করে রাখেন কেল্লার বাইরে। আর খবর পাঠান রানী পদ্মাবতীর কাছে, যদি সে স্বইচ্ছায় তার কাছে চলে যায় তাহলে সে রাজা রতন সিং কে জীবিত ছেড়ে দেবে এবং কোন ক্ষতি না করে আবার দিল্লি ফিরে যাবে। এই কথা শুনে রানী পদ্মাবতী রাজী হয়ে আলাউদ্দীনকে জানায় যেহেতু সে রানী তাই একা যাবে না তার ৭০০ দাস দাসী তার সাথে যাবে সেবা করার জন্য। এতেও লম্পট আলাউদ্দীন খিলজি রাজী হয়ে যান। রানী পদ্মাবতী ৭০০ পালকিতে করে তার বাছাই করা সৈন্য বাহিনী পাঠান। এবং তারা কৌশলে রাজা রতন সিং কে উদ্ধার করে আবার চিতর কেল্লাতে নিয়ে আসেন।
এতে করে আলাউদ্দীন ক্ষিপ্ত হয়ে চিতর দখল করার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু চিতরের কেল্লা এমন ভাবে তৈরি করা ছিল যা ভেদ করে ভেতরে যাওয়ার কোন উপায় খুজে না পেয়ে চারদিক থেকে অবরোধ করে রাখেন। তার পরিকল্পনা মতো অল্প কিছুদিনের মধ্যেই কেল্লার ভেতরে খাবারের সংকট দেখা দেয়। তখন রাজা রতন সিং বাধ্য হয়ে আলাউদ্দীন খিলজির বিশাল বাহিনীর সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হন এবং মারা যান। এরপরেও সে কেল্লার ভেতরে প্রবেশ করতে পারে না। এরকম অবস্থায় রানী পদ্মাবতী সহ সকল নারীরা তাদের সতীত্ব রক্ষা করার জন্য জীবন্ত আগুনে পুড়ে আত্তহননের সীদ্ধান্ত নেন। কেল্লার ভেতরে তৈরী করা বিশাল চিতার আগুনে রানী পদ্মাবতী তার সতীত্ব রক্ষা করার জন্য হিন্দু ধর্মের সতীদাহ প্রথা অনুযায়ী নিজেকে পুড়িয়ে ফেলেন। সেই সাথে তাকে অনুসরন করে সমস্ত রাজবধু ও দাসীরা প্রায় ছয়শো থেকে সাতশো নারী একসাথে আত্তাহুতি দেন। লম্পট আলাউদ্দীন খিলজি যখন কেল্লার ভেতরে প্রবেশ করে তখন দেখতে পায় আগুনের ভেতরে শুধুই হাড়্ গোড় পড়ে আছে। এতে সে ক্ষিপ্ত হয়ে সমস্ত রাজপুত সৈন্যদের হত্যা করে এবং চিতর দখলে নেয়।
এটা ছিলো রানী পদ্মাবতী ও চিতর কেল্লার রাজপুতদের ট্রাজেডির একটি সংক্ষিপ্ত ধারনা। আসলে রানী পদ্মাবতীর ইতিহাস যে বিস্তর ভাবে ভারতবর্ষে ছড়িয়ে আছে আর কথিত আছে তা নিয়ে লিখলে ঘন্টার পর ঘন্টা লেখা যাবে তারপরও শেষ হবে না এই ইতিহাস। আমি এখানে লেখাটা সংক্ষিপ্ত করতে গিয়ে অনেক গুরুত্বপুর্ণ বিষয় বাদ দিয়েছে যা এই ঘটনার সাথে সুক্ষভাবে জড়িত। এই ইতিহাসকে যদি বিশ্বের দরবারে তুলে ধরে ভারতের কোন পরিচালক তা নিয়ে চলচ্চিত্র বানিয়ে থাকে তাহলে রাজস্থানের রয়েল ফ্যামিলির উচিত হবে তাদেরকে অভিবাদন জানানো তাদের মাথা কাটতে চাওয়া না। অভিনেত্রী “দীপিকা পাডুকোন” এর আগেও “রাম লীলা” ছবি করে হুমকির শিকার হয়েছিলেন। রাজস্থানের ইতিহাসের বড় অংশ জুড়ে থাকা সম্রাট আকবরের ইতিহাস নিয়ে “যোধা আকবর” চলচ্চিত্র করতে গিয়েও পরিচালক “আসুতোষ” এই রাজপুতদের বাধায় পড়ে তাদের মনগোড়া কিছু ইতিহাস ঢুকিয়েছিলেন সেই চলচ্চিত্রে। কিন্তু একই কাজ আবার এরা “সঞ্জয় লীলা বানসালি”র সাথে করতে না পেরে এখন হয়তো ক্ষিপ্ত হয়ে এই ছবি মুক্তি না দেওয়ার জন্য আন্দোলন করছেন এবং তার ও দীপিকার মাথার দাম তুলে দিয়েছেন তাদের হত্যা করার জন্য। এখন আমাদের ভেবে দেখতে হবে সেই মধ্যযুগে আলাউদ্দীন যা করেছিলো তার সাথে এই বর্তমান যুগের রাজপুতদের পার্থক্য কি থাকলো। তবে বাকি থাকলো “পদ্মাবতী” চলচ্চিত্র দেখা, দেখার পরে না হয় আরেকটা রিভিউ লেখা যাবে।

---------- মৃত কালপুরুষ
১৮/১১/২০১৭

সোমবার, ১৩ নভেম্বর, ২০১৭

আর কত ভাবে নারীকে ছোট করা হবে ?



সম্প্রতি দাউদ হায়দারের কবিতা নিশ্চয় সবাই পড়েছেন। আমি আসলে এটাকে কবিতা বলতে পারছি না। আমার কাছে মনে হয়েছে এটা তার নারীর প্রতি ব্যাক্তিগত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। তিনি যে আসলে এই একটি ব্যাপারে মানুষিকভাবে সুস্থ আছেন কিনা আমার তাতেও সন্ধেহ আছে যথেষ্ট। কারন বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় মনোবিজ্ঞানীদের মতে যারা নারীদের প্রতি আক্রমনাত্মক ও উদ্দেশ্য প্ররোচিত লেখনি লিখে থাকে তাদের ব্যাক্তিগত জীবনে কোন না কোন সময়ে এই নারীর কাছ থেকেই যে কোন ভাবে আঘাত প্রাপ্ত হয়ে এমন মনোভাবের সৃষ্টি হয়। আমি কাউকে ব্যাক্তিগত আক্রমন করতে চাই না তাই এই বিষয়ে আলোচনায় যাবো না। তবে আমাদের মতো সাধারন পাঠকদের যদি এধরনের ধারনা হয়ে থাকে তাহলে যে সেটা ভুল নাও হতে পারে তাই এই কথাটুকু তোলা। কবি দাউদ হায়দার এই কবিতার মাধ্যমে সমস্ত নারীবাদী নারীদের পাশাপাশি সমস্ত কবিদেরও অপমান করেছে। কারন তিনি একটি নয়, তিনটি বিষয় এখানে তিনি তুলে ধরেছেন বলে আমি মনে করি। একটি হচ্ছে তিনি নারীবাদী লেখিকাদের সাথে নিজেকে তুলনা করে নিজেকে ছোট করে ভেবেছেন আর তাই এমন কিছু তার মাথা থেকে এসেছে। দুই হচ্ছে তিনি যে একজন পুরূষতান্ত্রিক সমাজের স্বপ্ন দেখেন সেটা এখানে প্রমানিত। আর তিন হচ্ছে তিনি এইজাতীয় শব্দ “ছিনাল” ব্যাবহার করে নারীদেরকে শুধু ছোট করেনি সাথে ধর্ষক পুরুষদেরকেও আরো উস্কে দিয়েছে এই জাতীয় পর্নো কবিতা রচনার মাধ্যমে।

একসময় আমাদের দেশে তসলিমা নাসরিনের মতো লেখিকা ছিলো। আজ তারা নেই, নেই তাতেই ভালো হয়েছে, কারন যদি আজ এই দেশে সে থাকতো তাহলে হয়তো একদিন একশ্রেনীর কাঙ্গালী খুনী টাইপের মানুষরা তার হাড় পর্যন্ত মাটিতে মিশিয়ে দিতো। তারাও কিন্তু অতীতে “ছিনাল” জাতীয় কথা ব্যাবহার করে এই নারী লেখিকাকে আক্রমন করেছিলো। কবি দাউদ হায়দার আসলে কাকে আক্রমন করে এই জাতীয় কবিতা লিখেছেন তা এখানে পরিষ্কার না। তবে এটা পরিষ্কার তিনি নারীদের এগিয়ে চলায় ক্ষুদ্ধ হয়ে আছেন। তার আচরনে এমন কিছু প্রকাশ পেয়েছে যা মৌলবাদীরা অনেক আগেই আমাদের দেখিয়েছে। তাহলে কি আমরা ভেবে নেবো সেই পুরাতন কবি যাকে অনেকেই বহু বছর ধরে চেনেন সে এখন মৌলবাদীদের কন্ঠে কন্ঠ মিলিয়ে কথা বলছে। নারীদের অপমান করছে। তাহলে কেন এযুগের কবি হয়ে দাউদ হায়দার আজ মধ্যযুগের মানুষের মতো আচরন করবে। এই নারীরাই তো কৃষির সূচনা করেছিলো মানব সভ্যতাই। তাদের কাছ থেকে আবার পুরুষেরা এই ক্ষমতা ছিনিয়ে নিয়ে তাদেরকে “ছিনাল” বলেছিলো তখন। আজ আবার কি কেড়ে নিতে নারীদের উপরে এমন আচরন এই কবিদের। আছে হয়তো কিছু। যেমন ধরুন নারীরা এখন অনলাইন ও সাইবার জগতে বাংলাদেশ এ পশ্চিমবঙ্গ সহ বেশ কিছু অঞ্চলে বাংলা ভাষায় অনেক এক্টিভ। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকেও বাংলাভাষী লেখিকারা খুব ভালো ভাবেই তাদের অবস্থান ধরে রেখেছে বর্তমান অনলাইন জগতে।
কিন্তু এই দাউদ হায়দারের মতো অনেক লেখক এখনও অনলাইন জগতে এতোটা পরিচিতি আনতে পারেনি যতটা নারীরা এতোদিনে করে ফেলেছে। আমার জানামতে সোস্যাল মিডিয়াতে তার এখনও একটি একাউন্ট পর্যন্ত নেই। আমার ভুল হতে পারে আমি সঠিক নাও জানতে পারি। তবে আমি নিশ্চিত দাউদ হায়দারের কোন সোস্যাল মিডিয়া একাউন্ট নেই। তিনি বর্তমান যুগের নারীবাদী নারীদের থেকে এই বিষয়ে অনেক পিছিয়ে আছেন। এমতাবস্থায় যদি হঠাৎ করে অনলাইনে সাড়া ফেলতে চাই তাহলে একমাত্র বড় উপায় হচ্ছে নারীবাদীদের উদ্দেশ্য করে এমন কিছু লেখা যাতে তাদেরকে ছোট করে উপস্থাপন করা যায়। অতএব বলা চলে তাদের কাছ থেকে বর্তমানে অনলাইন ও সোস্যাল অনলাইন প্লাটফর্ম গুলো ছিনিয়ে নিতে এমন আচরনের কোন জুড়ি থাকার কথা না। দাউদ হাওয়াদার যাকেই উদ্দেশ্য করে এই জাতীয় লেখা লেখুক না কেন তিনি অবশ্যয় বর্তমান সময়ের প্রগতিশীল সমাজের বিরুদ্ধাচার করেছে। তিনি যে জঘন্য ভাষার ব্যাবহার মানে মৌলবাদী বা মুমিনদের মতো ভাষার ব্যাবহার এখানে করেছেন। শুধু তাই নয়, তিনি এখানে প্রমান করেছেন তিনি নিজেও এই জাতীয় মনোভাব বয়ে নিয়ে বেড়ান যা মনস্তাত্বিক দিক থেকেও নিচু মানের।
এখানে “নারীবাদী ছিনাল লেখিকা” এই বাক্যটি কিভাবে কবিতার ভাষা হতে পারে ? এই লেখটি দিয়ে দাউদ হায়দার কি প্রগতিশীল সমাজের বিরুদ্ধাচরন করেনি। একটু খেয়াল করে দেখবেন এখন দেশে নারীবাদীদের আন্দোলনে ও লেখালেখিতে যেভাবে দেশের ধর্ষকদের বিরুদ্ধে মানুষ গর্জে উঠছে ঠিক তখনই এমন কিছু লিখে সেই নারীদের দমিয়ে দেবার চেষ্টাকে আমরা কি বলতে পারি। প্রথমে যে তিনটি বিষয়ের কথা বলেছিলাম সেই তিনটি বিষয়ের মিল কি এখন খুজে পাচ্ছেন। হ্যা আসলেই দাউদ হায়দার মনে হয় এই সমস্ত কারনে মানুষিক চাপের ভেতরে আছেন যার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে তার এই “নারীবাদী ছিনাল লেখিকা” কবিতায়। তিনি নিজেকে নারীদের সাথে তুলনা করে আবিষ্কার করেছেন নারীবাদী লেখিকা থেকে তার অবস্থান অনেক নিচে যাকে বলা হয়ে থাকে (ইনফেরিয়োরিটি কমপ্লেক্স)। তিনি আসলে তার যৌন হতাশা থেকেও এমন কিছু বলেছেন তারও প্রমান এখান থেকে পাওয়া যায়। অশ্লীল ভাবে পর্নগ্রাফী রচনা করার একটি বড় কারন এটা হতে পারে। আরো প্রমানিত হয়েছে তিনি পুরূষতন্ত্রের ঝান্ডা হাতে নিয়ে নারীদের পেছনে লেগেছে এই লেখা দিয়ে। তিনি এই জাতীয় পর্ন কবিতা রচনা করে ধর্ষকদের এক প্রকার সমর্থন করেছেন বলে মনে করি।
আমার পরিচিত বেশ কয়েকজন আছেন যারা এই কবি দাউদ হায়দারের লেখার ভক্ত ছিলেন। কিন্তু তার এমন নিম্ন রুচির আক্রমনাত্মক লেখাতে তারা তার প্রকৃত রুপ দেখতে পেয়েছেন। অনেকেই মন্তব্য করেছেন এই কবিকে সামাজিক কোন অনুষ্ঠানে কখনই কোন ইস্যুতে চিন্তাশীল কোন আলোচনা করতে দেখি নাই। এমনও হতে পারে তিনি হয়তো অতীত ভুলে গিয়ে নতুন করে যারা নারীবাদীদের “ছিনাল” বলে থাকেন তাদের দলে ভিড়ছেন। আসলে তাকেও তো একটা সময় সেই শ্রেনীর মানুষেরাই এই দেশ ত্যাগ করতে বাধ্য করেছিলো ঠিক তসলিমা নাসরিনের মতো। তবে একটা ব্যাপার হয়তো এই কবির জানা নেই যে, পর্ন কবিতা রচনা বা নারীদের আক্রমন করে লিখেই যে সেলিব্রেটি হওয়া যায় না। যদি সেলিব্রেটি হতেই হয় তবে তাকে সবার আগে এই দেশের মৌলবাদীদের মন জয় করতে হবে। তাহলে কি তিনি অবশেষে সেই চেষ্টাই করছেন ?
---------- মৃত কালপুরুষ
              ১৩/১০/২০১৭

রবিবার, ১২ নভেম্বর, ২০১৭

শুভ জন্মদিন হুমায়ুন আহমেদ।


আজ হুমায়ুন আহমেদের জন্মদিন। গুগল সার্চ ইঞ্জিন আজকের এই দিনে তাকে স্বরন করে তাদের ডুডলে এনেছে হুমায়ুন আহমেদের শ্রেষ্ট চরিত্র হিমু ও তার প্রতিকৃতি। হুমায়ূন আহমেদ (১৩ নভেম্বর, ১৯৪৮ — ১৯ জুলাই, ২০১২) বিংশ শতাব্দীর বাঙালি জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিকদের মধ্যে অন্যতম। তাঁকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা পরবর্তী শ্রেষ্ঠ লেখক গণ্য করা হয়। তিনি একাধারে ঔপন্যাসিক, ছোটগল্পকার, নাট্যকার এবং গীতিকার। বলা হয় আধুনিক বাংলা কল্পবিজ্ঞান সাহিত্যের তিনি পথিকৃৎ। নাটক ও চলচ্চিত্র পরিচালক হিসাবেও তিনি সমাদৃত। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা দুই শতাধিক। বাংলা কথাসাহিত্যে তিনি সংলাপপ্রধান নতুন শৈলীর জনক। তাঁর বেশ কিছু গ্রন্থ পৃথিবীর নানা ভাষায় অনূদিত হয়েছে, বেশ কিছু গ্রন্থ স্কুল-কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যসূচীর অন্তর্ভুক্ত। সত্তর দশকের শেষভাগে থেকে শুরু করে মৃত্যু অবধি তিনি ছিলেন বাংলা গল্প-উপন্যাসের অপ্রতিদ্বন্দ্বী কারিগর। এই কালপর্বে তাঁর গল্প-উপন্যাসের জনপ্রিয়তা ছিল তুলনারহিত।
তাঁর সৃষ্ট হিমু ও মিসির আলি চরিত্রগুলি বাংলাদেশের যুবকশ্রেণীকে গভীরভাবে উদ্বেলিত করেছে। তাঁর নির্মিত চলচ্চিত্রসমূহ পেয়েছে অসামান্য দর্শকপ্রিয়তা। তবে তাঁর টেলিভিশন নাটকগুলি ছিল সর্বাধিক জনপ্রিয়। সংখ্যায় বেশী না হলেও তাঁর রচিত গানগুলিো সবিশেষ জনপ্রিয়তা লাভ করে। তাঁর অন্যতম উপন্যাস হলো নন্দিত নরকে, মধ্যাহ্ন, জোছনা ও জননীর গল্প, মাতাল হাওয়া ইত্যাদি। তাঁর নির্মিত কয়েকটি চলচ্চিত্র হলো দুই দুয়ারী, শ্রাবণ মেঘের দিন, ঘেঁটুপুত্র কমলা ইত্যাদি। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক হিসাবে দীর্ঘকাল কর্মরত ছিলেন। লেখালিখি এবং চলচ্চিত্র নির্মাণের স্বার্থে তিনি অধ্যাপনা ছেড়ে দেন। ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানী সেনাবাহিনী তাঁকে আটক করে এবং নির্যাতনের পর হত্যার জন্য গুলি চালায়। তিনি অলৌকিকভাবে বেঁচে যান।
হুমায়ূন আহমেদ ১৯৪৮ সালের ১৩ই নভেম্বর তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের ময়মনসিংহ জেলার অন্তর্গত নেত্রকোণা মহুকুমার মোহনগঞ্জে তাঁর মাতামহের বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা শহীদ ফয়জুর রহমান আহমদ এবং মা আয়েশা ফয়েজ। তাঁর পিতা একজন পুলিশ কর্মকর্তা ছিলেন এবং তিনি ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তৎকালীন পিরোজপুর মহকুমার এসডিপিও (উপ-বিভাগীয় পুলিশ অফিসার) হিসেবে কর্তব্যরত অবস্থায় শহীদ হন। তার বাবা সাহিত্য অনুরাগী মানুষ ছিলেন। তিনি পত্র-পত্রিকায় লেখালিখি করতেন। বগুড়া থাকার সময় তিনি একটি গ্রন্থও প্রকাশ করেছিলেন। গ্রন্থের নাম দ্বীপ নেভা যার ঘরে । তাঁর মা'র লেখালিখির অভ্যাস না-থাকলেও একটি আত্ম জীবনী গ্রন্থ রচনা করেছেন যার নাম জীবন যে রকম । পরিবারে সাহিত্যমনস্ক আবহাওয়ায় ছিল।
তাঁর অনুজ মুহম্মদ জাফর ইকবাল দেশের একজন বিজ্ঞান শিক্ষক এবং কথাসাহিত্যিক; সর্বকনিষ্ঠ ভ্রাতা আহসান হাবীব রম্য সাহিত্যিক এবং কার্টুনিস্ট। তাঁর রচিত উপন্যাস থেকে জানা যায় যে ছোটকালে হুমায়ূন আহমেদের নাম রাখা হয়েছিল শামসুর রহমান; ডাকনাম কাজল। তাঁর পিতা (ফয়জুর রহমান) নিজের নামের সাথে মিল রেখে ছেলের নাম রাখেন শামসুর রহমান। পরবর্তীতে আবার তিনি নিজেই ছেলের নাম পরিবর্তন করে ‌হুমায়ূন আহমেদ রাখেন। হুমায়ূন আহমেদের ভাষায়, তাঁর পিতা ছেলে-মেয়েদের নাম পরিবর্তন করতে পছন্দ করতেন। তাঁর ছোট ভাই মুহম্মদ জাফর ইকবালের নাম আগে ছিল বাবুল এবং ছোটবোন সুফিয়ার নাম ছিল শেফালি। ১৯৬২-৬৪ সালে চট্টগ্রামে থাকাকালে হুমায়ুন আহমেদের নাম ছিল বাচ্চু।
ছবিঃ কলুর বলদ।
---------- মৃত কালপুরুষ
             ১৩/১০/২০১৭

সোমবার, ১৬ অক্টোবর, ২০১৭

বাংলাদেশ সরকার ও ইহুদী নাসারাদের ষড়যন্ত্রকারী পেপ্যাল (Paypal)

ভেবেছিলাম চলতি মাসের ১৯ তারিখের আগে এই পেপ্যাল ইস্যু নিয়ে কোন কথা বলবো না। আগে দেখতে চাইছিলাম বাংলাদেশ সরকারের স্টেট মিনিস্টার অব আইসিটি জুনায়েদ আহমেদ পলক স্যার এই বিষয়টি সবাইকে ক্লিয়ার করে কিনা। আসলে আমাদের মন্ত্রী জুনেয়েদ আহমেদ পলক স্যার দেশের তরুন প্রজন্ম ও ফ্রিল্যন্সারদের জন্য একজন গর্বিত ব্যাক্তিত্ব যার ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মানে অনেক অবদান আছে যেটা আমাদের স্বীকার করতে হবে। ২০১৩ সালে একবার তিনি আমাদের আশা দিয়েছিলেন বাংলাদেশে এই পেপ্যাল সুবিধা চালু করার জন্য যে যে পদক্ষেপ গ্রহন করতে হবে তা তিনি করবেন। ইউএসএ তে তিনি সেবছরই পেপ্যাল ইউএস কর্পোরেশন এর সাথে আলোচনা শেষে আমাদের জানিয়েছিলেন পেপ্যাল নাকি এখনও বাংলাদেশে চালু করার মতো সময় হয়নি তারা আমাদেরকে পরিক্ষামূলক কিছু সার্ভিস ব্যবহারের সুযোগ দিতে চায় যেমন ঝুম এর সার্ভিস। এপর্যন্ত আমরা জানার পরে এই ইস্যুটি এখানেই দীর্ঘ সময়ের জন্য আটকে থাকে। বর্তমানে আজ আবার প্রায় ৪ বছর পরে এসে তিনি আমাদের আশার কথা শুনেয়েছেন চলতি মাসের ১৯ তারিখে বাংলাদেশে পেপ্যাল তার কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে। ৫ দিন আগে যশোর জেলার সফটওয়ার পার্ক পরিদর্শনে গিয়েও তিনি আবারও সেই একই কথা বলেন। গতকাল প্রথম আলোর প্রকাশিত একটি সংবাদে আমরা আবার দেখতে পেলাম এমন কিছু আভাষ যে পেপ্যাল এখনও আমাদের থেকে অনেক দূরে। তখনই একটু বুঝতে পেরেছিলাম এবারও বাঙ্গালীকে ভূগোল বুঝ দেওয়া হচ্ছে মনে হয়। অনেকেই দেখলাম খুশিতে আত্তহারা হচ্ছে এই কথা শুনে যে বাংলাদেশে অবশেষে সেই ইহুদী নাসারাদের পেপ্যাল সেবা চালু হতে যাচ্ছে।
একটু আগে সকাল ৯ টার দিকে মন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক স্যার তার একটি স্টাটাস এ সেটা ক্লিয়ার করলেন অন্তত সেই জন্য তাকে ধন্যবাদ দেওয়া যায়। দেখুন আমাদের আর ১৯ তারিখ পর্যন্ত অপেক্ষা করা লাগছে না এই ইস্যু নিয়ে। এখন আমরা সবাই ক্লিয়ার হতে পারলাম পেপ্যাল এর নামে আসলে বাংলাদেশে কি সেবা চালু করা হচ্ছে। এটা আসলে Xoom  জুম নামের আরেকটি মানি ট্রান্সফার সার্ভিস যা পেপ্যাল ইউএস কর্পোরেশন এর সাথে যৌথভাবে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে তাদের সেবা দিয়ে আসছেন। এটা এমন একটা ব্যাপার, আসছে শীতের ছুটিতে কেউ মেক্সিকো সী বিচ ভ্রমনে যাচ্ছে আর কেউ যাচ্ছে কক্সবাজার সী বিচে। কিছুক্ষন আগে জুনায়েদ আহমেদ পলক স্যার তার  Is this PayPal or is this Xoom ? নামক শিরোনামের এক স্টাটাস এ নানা ভাবে বুঝাতে চেয়েছেন যে জুম কোন অংশেই পেপ্যাল থেকে কমা কিছু নয়। আমি অত্যান্ত দুঃখের সাথে জানাচ্ছি যে আমাদের দেশের মন্ত্রী মিনিস্টার আর যারা প্রচুর লাফালাফি করছে পেপ্যাল এর সেবা চালু হবার কথা শুনে সেসব ফ্রিল্যান্সাররা কি আসলেই পেপ্যাল আর জুম এর মধ্যেকার পার্থক্য বুঝে কিনা। আসুন একটু জানার চেষ্টা করি পেপ্যাল কি আর ঝুম কি।

পেপ্যাল একটি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান যারা অর্থের স্থানান্তর বা হাতবদল ইন্টারনেটের মাধ্যমে করা সহায়তা দিয়ে থাকে। অননলাইন স্থানান্তরের এই পদ্ধতি গতানুগতিক অর্থের লেনদেনের পদ্ধতি যেমন চেক বা মানি অর্ডারের বিকল্প হিসেবে ব্যাবহৃত হয়ে থাকে। একটি পেপ্যালের একাউন্ট খোলার জন্য কোন ব্যাঙ্ক একাউন্টের ইলেকট্রনিক ডেবিট কার্ড অথবা ক্রেডিট কার্ডের প্রয়োজন পড়ে। পেপ্যালের মাধ্যমে লেনদেনের ক্ষেত্রে গৃহীতা পেপ্যাল কর্তৃপক্ষের নিকট চেকের জন্য আবেদন করতে পারে, অথবা নিজের পেপ্যাল একাউন্টের মাধ্যমে খরচ করতে পারে অথবা তার পেপ্যাল একাউন্টের সাথে সংযুক্ত ব্যাঙ্ক একাউন্টে জমা করতে পারে। পেপ্যাল অনলাইন বিক্রেতাদের জন্য অর্থ লেনদেনকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করে, এছাড়াও অনলাইন , নিলামের ওয়বসাইট, ও অন্যান্য বানিজ্যিক ওয়েবসাইট পেপ্যালের সেবা গ্রহণ করে যার জন্য পেপ্যাল ফী বা খরচ নিয়ে থাকে। এছাড়াও অর্থ গৃহণের জন্যেও ফী নিয়ে থাকে যা মোট গৃহীত অর্থের সমানুপাতিক হয়ে থাকে। এই ফী বা খরচ নির্ভর করে কোন দেশের মূদ্রা ব্যাবহার হচ্ছে, কিভাবে অর্থের লেনদেন হচ্ছে প্রেরক ও প্রাপকের দেশ, পাঠানো অর্থের পরিমাণ ও প্রাপকের একাউন্টের ধরণের ওপরে। এছাড়াও, ইবে ওয়েবসাইট থেকে পেপ্যালের মাধ্যমে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে কেনাকাটা করলে পেপ্যাল আলাদা অর্থ গ্রহণ করতে পারে যদি ক্রেতা ও বিক্রেতা ভিন্ন মূদ্রা ব্যাবহার করে।

বর্তমানে, পেপ্যাল ১৯০টি দেশে বাজারে পরিচালনা করে, এবং এইটি ২৩.২ কোটির বেশি অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করে, তাদের মাঝে সক্রিয়ের সংখ্যা ৮.৭ কোটির চেয়ে বেশি। পেপ্যাল ২৪ টি মূদ্রায় গ্রাহকদের অর্থ পাঠাতে, গ্রহণ করতে ও অর্থ সংরক্ষণ করার সুযোগ দিয়ে থাকে। এই মূদ্রাগুলো হল অস্ট্রেলিয়ান ডলার, ব্রাজিলের রিয়েল, কানাডার ডলার , চীনের ইউয়ান (শুধুমাত্র কিছু চীনা একাউন্টে ব্যাবহারযোগ্য), ইউরো, পাউন্ড স্টার্লিং, জাপানী ইয়েন, চেক ক্রোনা, ডেনিশ ক্রোন, হং কং ডলার , হাঙ্গেরীর ফ্রইন্ট, ইজরাইলের নতুন শেকেল, মালেশিয়ার রিঙ্গিত, মেক্সিকোর পেসো, নিউ জিল্যান্ডের ডলার , নরওয়ের ক্রোন, ফিলিপাইনের পেসো, পোল্যান্ডের যোলটি, সিঙ্গাপুরের ডলার, সুইডেনের ক্রোনা, সুইস ফ্র্যাঙ্ক, নতুন তাইওয়ানের ডলার, থাইল্যন্ড এর বাথ এবং U.Sআমেরিকান ডলার পেপ্যাল স্থানীয়ভাবে ২১ টি দেশে কাজ করে। এটা হচ্ছে পেপ্যাল ইউএস কর্পরেশন এর প্রাথমিক পরিচয়। এবার দেখুন জুম কি।

Xoom is a service of PayPal, Inc., a licensed provider of money transfer services. All money transmission is provided by PayPal, Inc. pursuant to PayPal, Inc.'s licenses. PayPal, Inc.   এই ঝুম ওপরের পেপ্যাল এর মতোই কিছুটা ব্যাতিক্রম আরেকটি মানি ট্রান্সফার সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান। ঝুম একটি ‘অনলাইন’ রেমিট্যান্স কোম্পানি। ঝুম এর মাধ্যামে টাকা পাঠানোর ‘উৎস’ হিসেবে ব্যাংক হিসাব, ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ডের নম্বর দিতে হবে। গন্তব্য হিসেবে বাংলাদেশের যেকোনো ব্যাংকের হিসাবের নম্বর উল্লেখ করা যাবে। xoom.com ওয়েবসাইটটি ভিজিট করে আমরা দেখতে পায় যে, টাকা পাঠানোর ‘উৎস’ হিসেবে যেসব ব্যাংকের হিসাব নম্বর দেওয়া যাবে, তাতে পৃথিবীর বহু দেশের বহু ব্যাংক রয়েছে। আর ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ডের যে নম্বর ব্যবহার করা যাবে, তা যেকোনো ব্যাংক কর্তৃক ইস্যু করা ভিসা ও মাস্টার কার্ড হতে হবে। কিন্তু টাকা পাঠানোর উৎস হিসেবে ‘পেপ্যাল অ্যাকাউন্ট’ নির্বাচন করার কোনো সুযোগ নেই। লক্ষণীয় যে অন্যান্য রেমিট্যান্স কোম্পানির মতো ঝুমের কোনো সরাসরি এজেন্টও নেই, যেখানে গিয়ে ক্যাশ প্রদান করা যাবে।

এবার আমার পরিষ্কার কথা শুনুন। পেপ্যাল সরাসরি এমন কোনো সার্ভিস নিয়ে আপাতত বাংলাদেশে আসছে না, আসছে অন্যভাবে। পেপ্যাল অনেক আগেই ঝুম (xoom.com) নামের আমেরিকাভিত্তিক এই অনলাইন রেমিট্যান্স কোম্পানিকে কিনে নিয়েছে, যার মাধ্যমে তারা বাংলাদেশে শুধু রেমিট্যান্সের টাকা পাঠানোর সার্ভিস প্রদান করবে। কিন্তু আমাদের একটু ভালোভাবে বুঝতে হবে এখানে যেসব বাংলাদেশি ফ্রিল্যান্সররা তাদের আয় করা টাকা লেনদেন করবেন এটার মালিক কিন্তু তারা নিজেই কারন এই টাকা তার ইনকাম করা টাকা এটা রেমিট্যান্স না। তবে যেহেতু পেপ্যাল (PayPal) ‘ঝুম’ নামের এই অনলাইনভিত্তিক রেমিট্যান্স কোম্পানিকে কিনে নিয়েছে, তাই আশা করা যায় যে অচিরেই কোম্পানিটি ঝুম সিস্টেমে টাকা পাঠানোর উৎস হিসেবে ‘পেপ্যাল হিসাবকে’ অন্তর্ভুক্ত করবে। তখন আমাদের দেশের অগণিত ফ্রিল্যান্সার সরাসরি তাঁদের পেপ্যাল অ্যাকাউন্টে যে ডলার জমা হবে, তা ঝুমের মাধ্যমে বাংলাদেশে আনতে পারবেন।

আজকের এই পেপ্যাল বিষয়ক শেষ কথা দেখে আমার আবার মনে হলো যে বাংলাদেশে বহুক প্রচলিত নেটেলার সার্ভিস এই ঝুম থেকে অনেক ভালো কাজ করছে। তবে যেটা বলতে চাই সেটা হচ্ছে পেপ্যাল এর বদলে ঝুম এর পেছনে না ছুটে পেপ্যাল বাংলাদেশকে যে সমস্ত শর্ত দিয়েছিল সেগুলো পূরণ করে কিভাবে পেপ্যালকে দেশে আনা যায় সেই চিন্তা করা। আমার মনে হয় বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সাররা আবারও আরেকবার ধোকা খেলো কারন তাদের সাথে আবারও একটা বাটপারি করা হলো। কারন হিসেবে বলবো যেই সরকার কথায় কথায় মুক্তিযুদ্ধের রেফারেন্স দেয় অথচ অসংখ্য তরুণদের দাবী এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রমানের বড় সুযোগ এই পেপাল চালু করার কথা বলে ভুয়া পেপাল ঝুম বা পেপ্যাল এর বাচ্চা বা জটিল একটি পদ্ধতি তারা উদ্ভোধন করতে যাচ্ছে ঢাক ঢোল পিটিয়ে যেটা সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশে গড়ার পথে একটি ব্যর্থ প্রচেষ্টা মনে করি। যেখানে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম ফ্রিল্যান্সিং এর বাজার হল বাংলাদেশ আর সেখানে পেপালের মত জনপ্রিয় একটি অর্থ প্রেরণ স্থানান্তর সেবা চালু না করতে পারা সরকারের বড় অযোগ্যতা  ও ব্যর্থতা প্রমানে যথেষ্ট বলে মনে করি যার তীব্র নিন্দা জানাই।
----------- মৃত কালপুরুষ
  ১৭/১০/২০১৭

রবিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০১৭

নারী’র চিন্তাজগত উন্মোচনের অবারিত ক্যানভাস।



ব্যাক্তিগতভাবে আমি সকল নারীবাদী নারীদের শ্রদ্ধা করি। আমি প্রকাশ্যেই বলি আমি তসলিমা নাসরিন এর আদর্শ ফলো করি। আর তসলিমা নাসরিন এর আদর্শ যেসব নারী ফলো করে তাদেরকেও আমি সম্মান করি। কারন তারাই পারবে আমাদের সাথে কন্ঠ মিলিয়ে ধর্মান্ধ এই পচা সমাজের পরিবর্তনে এক বড় ভূমিকা রাখতে এবং রাখছেও তারা। তাই পুরুষ হবার পরেও তাদের পুরুষবিদ্বেষি কথাবার্তা আমার কাছে ভালো লাগে যা আমি কখনই তা গায়ে নেইনা। কারন আমি জানি তারা যে কাজটি করছে তা অনেক কঠিন একটি পথে হাটার মতো কাজ করছে। আমি মনে করি নারীবাদ একটি জটিল বিষয়। এটা গভীরভাবে বুঝতে হলে নিজেকে সমাজের ঐ স্তরে নিয়ে যেতে হয়। না হলে চিন্তার সীমাবদ্ধতা ধরা পড়তে পারে। এখন আমি যদি নিজেকে মুক্তমনা দাবী করে নারীবাদীদের কথা নিজের গায়ে নিয়ে নেই তাহলে আমি মুক্তমনাদের কাতারে থাকলাম কিভাবে ? আজকের এই লেখাটি এলিজা আকবর কে নিয়ে সমালোচনা করছেন তাদের উদ্দেশ্য, পাশাপাশি আবার এলিজা আকবর ও সমমনাদের উদ্দেশ্যেও সমান মনে করতে পারেন।
বর্তমানে দেখছি আবার নতুন করে এভ্রিল প্রসঙ্গ দারুন ভাবে ভাইরাল হয়েছে। কেউ তার পক্ষে আছে তো কেউ বিপক্ষে। আমি সবসময় লিঙ্গ নিরাপেক্ষ থেকে এসব বিষয় দেখার চেষ্টা করি। এভ্রিল প্রসঙ্গে আসিফ মহিউদ্দীন এর একটি লেখা আমার কাছে সব থেকে ভালো লেগেছে যা না বলে পারিনা। কিন্তু বর্তমানের অনেক নারীবাদী নারীকে দেখে আমার মনে হয় তারা লেখার জন্য বা আলোচনার জন্য হয়তো কোন টপিক্স খুজে পায় না। কারন তাদের একমুখী চিন্তা ভাবনা আর একই বিষয়ে বারবার আলোচনা কিন্তু তার প্রমান দিচ্ছে। আমি জানি এবং ভয় পায়, না জানি অযাচিত কোন কথা বলে আবার কারো আক্রোশে না পড়ি। নারীবাদীরা নিঃসন্ধেহে যথেষ্ট ভালো কাজ করছে এবং তারা যেভাবে সমাজের প্রথা বিরোধী কাজে অংশ গ্রহন করছে তা আর কাউকে দেখিনা। কিন্তু আমার মনে হয় দ্বিমত বা সমালোচনা থাকা প্রয়োজন। তাই যদি না হয় তবে তারা যে সঠিক পথে আছে বা কোন ভুল হচ্ছে না সেটা কিভাবে বোঝা যাবে। সেটা কিন্তু আপনার লেখার নেগেটিভ কমেন্টস গুলা দেখে বোঝা সম্ভব না। আপনার দৃষ্টিভঙ্গি আমাদের এই পচা সমাজে কতটুকু আলোচিত হচ্ছে বা তা কতটুকু ফলপ্রসূ।
প্রথমেই আমার সমমনা পুরুষদের বলবো নারীবাদীদের পরুষবিদ্বেষী কোন কথা আপনার অনুভুতিতে আঘাত লাগার কথা বলে নিজের দিকে টেনে না নেওয়ার অনুরোধ রইলো। কারন আপনার যদি এসব অনুভুতি থাকে তাহলে ধর্মান্ধদের যে চাপাতি অনুভুতি আমরা দেখি তার সাথে কোন পার্থক্য থাকলো না কিন্তু। আমি মনে করি আমাদের আগে দেখা উচিত তারা কিভাবে আমাদের ঘুনে ধরা সমাজে আঘাত করছে। আর সেই আঘাতটাই জরুরী। সকলেরই উচিত হবে নারীবাদীদের গভীরের তত্বটা উপলব্ধি করার চেষ্টা করা, হোক সেটা পুরুষবিদ্বেষী।
এবার এলিজা আকবর প্রসঙ্গ নিয়ে দু চারটা কথা বলি। নারীতে তার লেখা দেখলাম। আমরা জানি আমাদের সমাজে ধর্ষন একটি বড় সমস্যা আর অবশ্যয় নারীবাদীদের এব্যাপারে আরো সোচ্চার হতে হবে আরো আরো প্রচার করতে হবে এটা বন্ধ করার জন্য। এখন কথা হচ্ছে আরো অনেকেই করেছে এরকম জেনারেলাইজ কিন্তু বারবার এই জেনারেলাইজ করে গড়ে সব পুরুষদের এক দলে ফেলে দেওয়া মনে হয় এক প্রকারের উৎসাহ দেওয়া হয়ে যায় এই সব ধর্ষকদের। অবশ্য এটা আমার ব্যাক্তিগত মতামত। এলিজা আকবর এর লেখা আমি বলবো সহজ ও সাবলিল ভাষা ব্যবহার করে খুব সুন্দর যুক্তি দিয়ে শেষ করা হয়েছে। আমি তার লেখার বিষয়বস্তুর সাথে একমত হতে পারলেও বহুল আলোচিত একটি কথা “সব পরুষই মস্তিষ্কে ধর্ষক” এই কথাটির সাথে তার লেখার মিল খজে পাই নাই।
আমি জানিনা সে এই কথাতে কি বোঝাতে চাইছে কারন সে ভেতরে বলেছে আবার “সব দেশেই, সব পুরুষ'ই সম্ভাব্য ধর্ষণকারী। পৃথিবীতে পৌরাণিক কাল আর নেই, তাই দেবতারা আর ধর্ষণ করে না। তবে আজকাল আমি, তুমি, সে এবং আমরাই প্রকৃত ধর্ষণকারী” এই কথার সাথে কিন্তু সম্ভাব্য কথাটা যোগ করা আছে। তাহলে কিন্তু শিরনামের সাথে প্রথমেই একটি অমিল দেখা যাচ্ছে। যেই কারনে আমি এটা নিয়ে সমালোচনা করছি এর বেশি কিছু না। এই বিষয়টিকে নেগেটিভ ভাবে নিবেন না। আমি জানি এলিজা এখানে নিজেকে ভিক্টিমাইজেশন করছে না। এরকম বিতর্কিত বিষয়টি বা কথাটি তার শিরনামে দিয়ে সে আমাদের দৃষ্টি আকর্ষন করার চেষ্টাও করছে না আবার তার উদ্দেশ্য আলোচনায় থাকা এমন ভাবারও কোন কারন নেই। কারন আমাদের দেশে ধর্ষন কিন্তু বন্ধ হইনি। কিন্তু একটু ভেবে দেখবেন কি, আমাদের দেশের সাধারন জনগন কিন্তু ভেবে বসে থাকবে যে ধর্ষন করা কিন্তু পুরুষের সহজাত বৈশিষ্ঠ তখন আপনার এই লেখার উদ্দেশ্য কোন পর্যায়ে থাকবে।
আমার মনে হয় নারীবাদীরা এগিয়ে যাক আমরা সব সময় তাদের সাথে আছি। তারা বারবার এই সমাজে আঘাত করুক, জাতে আর কিছু না হলেও সেই শ্রেনীর তাদের সেই স্থান জ্বলে পুড়ে যায়। নারীকে শুধুই ধর্ম ছোট করেনি, রাষ্ট্র, সমাজ সমান ভাবেই এর জন্য দায়ী। আমরা সব সময় তাদের পাশে আছি। তবে কথা হচ্ছে তাদেরকেও খেয়াল রাখতে হবে তাদের সমমনাদের সাপোর্ট হারিয়ে কিন্তু এই পরিবর্তন আনা সম্ভব না। তাই খেয়াল রাখতে হবে ধর্মান্ধদের মত কোন বেফাশ কথা যেনো তারা না বলে ফেলে।

---------- মৃত কালপুরুষ
              ১৫/১০/২০১৭

শুক্রবার, ১৩ অক্টোবর, ২০১৭

ইসলাম ধর্মের সূরা আম্বিয়ার ৩০ নং আয়াত ও বিগ ব্যাং।


অনেক মুসলমান ধার্মিক ভায়েদের ধারনা যে এই ক্ষুদ্র পৃথিবী যেই বিশাল সৌরজগত এর মধ্যে আছে, আর সেই সৌরজগত যে মহাবিশ্বের মধ্যে আছে, সেই মহাবিশ্বের যেভাবে সৃষ্টি তত্ব বিজ্ঞানীরা দিয়ে থাকেন বা বিজ্ঞানীরা যেভাবে ব্যাখ্যা করেছেন তার সাথে এই পৃথিবীর প্রচলিত ৫২০০ টি ধর্মের মধ্যে ইসলাম ধর্মের পবিত্র ঐশরিক কিতাব আল কোরানের ২১ তম সূরা আল আম্বিয়া এর ১১২টি আয়াতের মধ্যে ৩০ নম্বর আয়াতের মিল খুজে পাওয়া যায়। আর তাই তাদের ধারনা --- কি সেটা বুঝতেই পারছেন। আমি সুরা আল আম্বিয়ার ৩০ নম্বর আয়াত আর বিগ ব্যাং নিয়ে কিছু আলোচনা করছি একটু মিলিয়ে দেখুন ঠিক আছে নাকি। প্রথমেই আমরা একটু দেখে নেবো সূরা আল আম্বিয়া সেই ৩০ নম্বর আয়াত আমাদের কি বলছে। সূরা আল আম্বিয়া (আরবিسورة الأنبياء "নবীগণ") মুসলমানদের  ধর্মীয় গ্রন্থ  কুরআনের একুশতম সূরা। এই সূরাটি মক্কায় অবতীর্ণ হয়েছে এবং এর আয়াত সংখ্যা ১১২ টি। যে সূরার বিষয়বস্তু হচ্ছে হযরত মুহাম্মদ (সঃ) ও কুরাইশদের সাথে মধ্যে যে বিবাদ ছিল তা এখানে প্রতিফলিত হয়েছে। যার ৩০ নাম্বার আয়াতে বলা হচ্ছে –

أَوَلَمْ يَرَ الَّذِينَ كَفَرُوا أَنَّ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ كَانَتَا رَتْقًا فَفَتَقْنَاهُمَا وَجَعَلْنَا مِنَ الْمَاء كُلَّ شَيْءٍ حَيٍّ أَفَلَا يُؤْمِنُونَ

30
উচ্চারন -  আওয়ালাম্ ইয়ারল্লাযীনা কাফারূ য় আন্নাস্ সামা-ওয়া-তি অল্ র্আদ্বোয়া কা-নাতা- রত্ক্বন্ ফাফাতাক্বনা-হুমা-অজ্বাআল্না-মিনাল্ মা-য়ি কুল্লা শাইয়িন্ হাইয়িন্; আফালা-ইয়ু মিনূন্।

অর্থ - কাফেররা কি ভেবে দেখে না যে, আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর মুখ বন্ধ ছিল, অতঃপর আমি উভয়কে খুলে দিলাম এবং প্রাণবন্ত সবকিছু আমি পানি থেকে সৃষ্টি করলাম। এরপরও কি তারা বিশ্বাস স্থাপন করবে না ?




এটা হচ্ছে সূরা আল আম্বিয়ার ৩০ নাম্বার আয়াত। এখন দেখুন বিগ ব্যাং তত্ব নিয়ে সংক্ষিপ্ত কিছু আলোচনা। আজ থেকে হাজার হাজার বছর আগে থেকেই এই পৃথিবীর মানুষ একটি জিনিষ সঠিক ভাবে জানার অনেক চেষ্টা করেছে। আর সেটা হলো আমাদের এই চারপাশের সুন্দর পৃথিবী যে মহাজগৎ এর মধ্যে আছে সেই মহাবিশ্ব কিভাবে সৃষ্টি হয়েছে আর কেনই বা সৃষ্টি হয়েছে। এখানে আমরা কিভাবে এসেছি এরকম নানা প্রশ্ন। আর এই সব প্রশ্নের উত্তর খুজতে গিয়ে মানুষ যুগে যুগে তৈরি করেছে অনেক যৌক্তিক আর কিছু অযৌক্তিক গল্প। সেই সাথে তৈরি করেছে নানান নামের নানান শক্তির হরেক রকমের কল্পিত ঈশ্বর যারা আজকের এই পৃথিবীর অর্ধেক মানুষের মস্তিষ্ক দখল করে আছে। কিন্তু বিজ্ঞান আমাদেরকে দিয়েছে তার কিছু সঠিক নমুনা। বিজ্ঞান এর আবিষ্কার আমরা কখনই কল্পিত ঈশ্বর এর সৃষ্টির সাথে মেলাতে পারিনা। কারন ঈশ্বর প্রদত্ত সৃষ্টি রহস্য গুলা কয়েকটি কয়েকশো পাতার বই দিয়ে ইতি টানা হয়েছে। অনেকের বিশ্বাস যে এখানেই লুকায়িত আছে সকল সৃষ্টি রহস্য ও সমস্ত বিজ্ঞান জ্ঞান। কিন্তু বিজ্ঞান আমাদের তা বলে না। বিজ্ঞান আমাদের বলছে একটি নতুন তত্ব আবিষ্কার হবার পরে তার আগের তত্বটি আর ভ্যালিড থাকে না। শুরু হয় যেখানে এসে শেষ হয়েছিলো শেখান থেকে আবার নতুন করে নতুন তত্বের জন্য তথ্য সংগ্রহ করা। এই সৃষ্টি রহস্য আবিষ্কার করতে গিয়ে আজ বিজ্ঞান অনেক ভাগে বিভক্ত হয়েছে। লক্ষ লক্ষ বই লেখার প্রয়োজন পড়েছে আমাদের সৃষ্টি রহস্য প্রমান করতে গিয়ে। নতুন নতুন অনেক তত্ব আজো আবিষ্কার করে চলেছে বিজ্ঞানীরা। তবে আজ পর্যন্ত সব চেয়ে বেশি গ্রহনযোগ্য তত্ব হচ্ছে এই বিগ ব্যাং তত্ব।


বিগ ব্যাং বা একটি বিশাল বিস্ফোরন যার মাধ্যমে এই বিশ্বজগতের সৃষ্টি হয়েছে সেই তত্ত্ব মতে বিশ্বজগতের সৃষ্টির শুরুতে সমস্ত বিশ্বজগতের মোট উপাদান এক বিন্দুতে মিলিত ছিল এবং এর ফলে তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে বিগ ব্যাং সংগঠিত হয়েছে  শুরু হয়েছে বিশ্বজগতের যাত্রা এবং এই যাত্রায় নতুন করে যোগ হয়েছে সময় নামের একটা নতুন মাত্রার  ফলে আমাদের এই ত্রিমাত্রিক বিশ্বজগতে একটি নতুন মাত্রাসময় যুক্ত হয়ে চতুর্মাত্রিক জগতের সৃষ্টি হয়েছে সেই সাথে হয়েছে দিন এবং রাতের মতো পরিবেশ বিগ ব্যাং-এর পূর্বে সময়হীন একটা জগত ছিল, যে জগতে কোন সময় ছিল না , দিন বা রাত বলে কিছুই ছিলো না। বিগ ব্যাং-এর পরেই সময়ের সৃষ্টি হয়েছে যেমন করে ত্রিমাত্রিক জগত সৃষ্টি হয়েছে l তাই আজো আমাদের কাছে এই বিগ ব্যাং এক রহস্য হয়ে আছে।

বর্তমান যুগে আমরা অনেকেই মেনে নিতে পারি না এমন একটা সময় অতীতে ছিলো যেখানে কোন সময় ছিলো না। এটা অনেকের দাবী যে সময়হীন একটি বিশ্বজগত থাকা সম্ভব নয়। আসলে এখানে এসেই বিজ্ঞানীদের মাথা গুলিয়ে যায় যে বিগ ব্যাং এর পুর্বে এরকম কি ছিলো যা সেই বিন্দুতে এসে আটক হয়ে ছিলো এবং পরবর্তীতে তা আবার বিস্ফোরন হলো। অথবা আমরা চিন্তাই করতে পারি না যে বিগ ব্যাং-এর পূর্বে কোন সময় ছিল না এবং বিশ্বজগত এক বিন্দুতে মিলে ছিল আর এই এক বিন্দুর কোন অতীত নেই যেমন নেই কোন পূর্ব মুহূর্ত বা পাস্ট এবং এই এক বিন্দুর বাইরে কিছু ছিলনা। অর্থাৎ বিশ্বজগত এই এক বিন্দুতেই স্বীমাবদ্ধ ছিল এর বাইরে কিছু থাকা সম্ভব নয় এটা স্থান কালহীন এক অবস্থা যেটা সময়ের জগতে বসে কল্পনাও করা অসম্ভব আর এই অসম্ভব অকাল্পনিক অবস্থাই ছিল বিশ্বজগতের শুরুতে l বর্তমানে অনেক বিজ্ঞানী এই বিগ ব্যাং এর পুর্বের ঘটনা জানার চেষ্টা করছেন। তাদের অনেকেই কিছু নতুন তত্ব নিয়ে গবেষনা করছেন। কিন্তু ফলাফল সেই একই বিন্দুতে গিয়ে আটক হচ্ছে। তবে আজ আমি সেব্যপারে আলোচনা করবো না।


বর্তমানে মানুষের মনে এই বিগ ব্যাং নিয়ে কিছু প্রশ্ন ঘুরপাক খেতে থাকে তা হচ্ছে এই বিন্দু কিভাবে আসলো কোথা থেকে আসলো বা এই মহাবিশ্বের মূল উপাদান কিভাবে তৈরি হলো এরকম নানা প্রশ্ন। এব্যাপারে অনেকেই অনেক কথা বলতে পারেন কিন্তু আসল কথা হচ্ছে এর সঠিক উত্তর আমরা জানি না এবং বুঝতেও পারি না  এগুলো বিজ্ঞানের কঠিন হিসাব বা ক্যালকুলেশন যেগুলো বিজ্ঞানী ছাড়া খুব কম মানুষই বুঝতে পারে আর তাই মানুষ বুঝতে পারে না কেন বিগ ব্যাং-এর কোন পূর্ব মুহূর্ত অথবা কোন অতীত বা পাস্ট থাকা সম্ভব নয় তারা শুধু জানে যে বিগ ব্যাং-এর কোন অতীত বা পাস্ট নেই  কিন্তু সেই অতীত বা পাস্ট অর্থাৎ সময়হীন জগতটা কিভাবে থাকা সম্ভব সেটা মানুষের ধারণ ক্ষমতার বাইরে এই বাস্তব সত্যটি যেভাবে তাত্তিকভাবে ব্যাখ্যা করা যায় কিন্তু সেভাবে কল্পনা করা যায় না ফলে অনেকের কাছেই বিগ ব্যাং-এর আদি অবস্থাটা অর্থাৎ শুরুর অবস্থাটা ধুয়াশাময় থেকে যায়।  আমরা বিগ ব্যাং পর্যন্ত জগতকে চিন্তা করতে পারব অথবা জানতে পারব কিন্তু এর উত্পত্তি কেন হলো কিভাবে হলো অথবা এর কোন অতীত কেন থাকবে না অথবা এর অতীত যদি থেকেই থাকে তাহলে সেটা কেমন থাকা উচিত এসব প্রশ্ন অর্থহীন হয়ে যায় যখন বাস্তবতা বা থিওরি অথবা পদার্থ বিজ্ঞান বিগ ব্যাং -এর পূর্ব অবস্থা বর্ণনা করতে যায়  কারণ তাত্তিকভাবে অথবা পদার্থ বিজ্ঞানের তত্ত্ব অনুযায়ী বিগ ব্যাং-এর কোন অতীত অবস্থা বা এর কোন ভিন্ন অবস্থা থাকা সম্ভব নয় l

আমরা জানি বিগ ব্যাং তত্ত্ব অনুযায়ী মহাবিশ্ব অতীতে এক বিন্দুতে মিলিত ছিল যখন বিগ ব্যাং শুরু হলো এটি চারদিকে ছুটতে শুরু করে যেমন করে রাতের আকাশে আমরা তারা বাজি দেখে থাকি l ডানে বায়ে সামনে পেছনে উপরে নিচে সব দিকেই এই মহাবিশ্ব বিগ ব্যাং এর পরে সমান তালে বাড়তে থাকলো। এর পর থেকে এটি প্রসারিত হতে হতে আজকের এই মহাবিশ্বের আকার ধারণ করে l কিন্তু এটি যে সেখানেই থেমে গিয়েছিলো তা নয়, এটি প্রসারিত হতেই থাকছে এবং এর বিস্তার বাড়তেই থাকছে আর তাই আমরা জানতে পারি এই বিগ ব্যাং তত্ত্ব অনুযায়ী এটির একটি শুরু আছে এবং এটি এখনো প্রসারিত হচ্ছে অসীমের দিকে যার কোন সীমা পরিসীমা নেই l সৌর বিজ্ঞানীগণ মহাবিশ্বের প্রসারণ লক্ষ করে অনুমান করেছে যে এই মহাবিশ্ব বিগ ব্যাং-এর সময়ে এক বিন্দুতে মিলিত অবস্থায় ছিল এবং বিগ ব্যাং-এর মাধ্যমে এটি প্রসারিত হয়েছে এবং আজ অবধি তা হয়েই যাচ্ছে এখন মহাবিশ্বের বিগ ব্যাং থেকে আজকের দিন পর্যন্ত প্রসারণকে যদি আমরা একটি বৃত্তের সাথে তুলনা করি যে বৃত্তের একটা বর্তমান আয়তন আছে এবং এটি শুরুতে এক বিন্দুতে মিলিত অবস্থায় ছিল তাহলে আমরা কি দেখতে পায়  দেখবো যে এই বিন্দু বাড়তে বাড়তে আমাদের আজকের এই মহাবিশ্বের আকৃতি পেয়েছে।


আরেকটু সহজ ভাবে বোঝার জন্য আমরা এখন চেষ্টা করবো একটি বেলুন এর ব্যবহার করতে। ধরুন একটি বেলুন শুরুতে ছোট্ট একটি বস্তু ছিলো কিন্তু আমরা যখন এতে বাতাস দিতে থাকলাম তখন থেকে এটা তার আগের আকৃতি থেকে বাড়তে শুরু করলো। একটা সময় সেটা তার পুর্বের আকৃতি থেকে বেড়ে বড় একটি আকৃতি নিলো। এভাবেই শুরুতে ছোট্ট একটি বিন্দু থেকে বিস্ফোরনের মাধ্যমে প্রায় ১৩ বিলিয়ন বছরের ব্যবধানে আমাদের এই মহাবিশ্ব আজকের আকৃতিতে এসে দাড়িয়েছে। এখানেই এসে কিন্তু সেটা থেমে যায়নি বরং পুর্বের মতো আরো বৃদ্ধি হচ্ছে সমান তালে অসীমের দিকে। এখন আবার আরেকবার চিন্তা করে দেখুন এরকম একটি বেলুন কথা, যদি আমরা তার ভেতরের বাতাস বেরিয়ে যেতে দেখি তাহলে কি হবে। আমরা আমাদের সময়ের উলটা গননা যদি করি সময় যত পেছনে যাচ্ছে মানে বেলুনের বাতাস যত বেরিয়ে যাচ্ছে তত বেলুনের আকৃতি ছোট হচ্ছে। এভাবে ছোট হতে হতে একটা পর্যায়ে এসে আবার সেই পুর্বের আকৃতিতে এসে আটকে যাবে। আর এভাবে যেখান থেকে এই বিগ ব্যাং শুরু হয়েছিলো সেই বিন্দুতে গিয়ে থেমে যাবে। তার থেকে কিন্তু আর কমতে পারবে না। একটা সময় অবশ্যয় ক্ষুদ্র একটি আকৃতিতে গিয়ে তাকে থামতে হচ্ছে। আমরা যদি তার থেকেও ক্ষুদ্র কোন আয়তনের কথা ভাবী তাহলে সেটা হয়ে যাবে একটি শূন্য আয়তন। কিন্তু শূন্য আয়তনে কোন বিন্দু থাকতে পারেনা তাই নির্দিষ্ট একটি অবস্থানে গিয়ে তাকে থেমে যেতে হচ্ছে। আর সেটাই হচ্ছে বিগ ব্যাং এর পুর্ব অবস্থা। আর এর ভেতরেই ছিলো আজকের এই মহাবিশ্বের সমস্ত উপাদান।

এখন অনেক ঈশ্বরবাদীদের প্রশ্ন থাকতে পারে যে তাহলে আপনার এই বিন্দুর আগে কি ছিলো এই মহাবিশ্ব। আমি কিন্তু সে কথা আগেই বলেছি। সেটা একটা সময়হীন স্তব্ধ ব্যাপার আর তাই আমাদের এই সময় ও দিন রাত দ্বারা পরিচালিত পৃথিবীতে বসে কারো পক্ষে তার আগের ইতিহাস জানা সম্ভব না। তবে একটি বিন্দু অর্থাৎ যা থেকে আর ছোট হওয়া সম্ভব নয় সেই অবস্থায় গিয়ে চিন্তা শক্তি থেমে যাওয়া। আমাদের এই মহাবিশ্ব আজকের এই অবস্থানে এসে দাড়িয়েছে আনুমানিক প্রায় সাড়ে ১৩ বিলিয়ন বছরের ব্যবধানে। অর্থাৎ আজ থেকে সাড়ে ১৩ বিলিয়ন বছর আগে এই বিগ ব্যাং সংগঠিত হয়ে আমাদের এই মহাবিশ্বের সৃষ্টি হয়েছিলো আমরা যাকে মহাবিশ্বের যাত্রা বলে থাকি। আর এখানে এই মহাবিশ্বের ক্ষুদ্র থেকে অতি ক্ষুদ্র মানে এটা বলে বোঝানো সম্ভব নয়। যেমন ধরুন ৯৯,৯৯% বাদ রেখে যে বাকী সংখ্যাটা থাকে তার থেকে আবার ৯৯.৯৯% বাদ দিলে যা থাকবে সেই আকৃতির একটি ক্ষুদ্র পৃথিবীর মানুষের বিশ্বাস করা কল্পিত ঈশ্বর এর দ্বারা এই মহাবিশ্ব সৃষ্টির কোন কিছুই ঘটে নাই এটা নিশ্চিত থাকুন। এটা মহাবিশ্বের প্রচলিত প্রাকৃতিক নিয়মেই ঘটেছিলো এর বাইরে কিছুই ঘটেনি।


প্রথম আমাদেরকে বিজ্ঞানী হাবল এই বিগ ব্যাং এর কথা বলেছিলো। কিন্তু আজ হাজার হাজার বিজ্ঞানী ও নাসার মহাকাশ গবেষকেরা এই তত্বেই আটক আছেন। তবে এর সাথে নতুন অনেক কিছু যুক্ত হয়েছে যেমন আজ বিজ্ঞানীরা এটাও বের করে দেখতে সার্থক হয়েছেন যে এই মহা বিস্ফোরন বা বিগ ব্যাং এর মাত্র ১০ সেকেন্ড পর থেকেই আমাদের এই সৌরজগত এর সমস্ত উপাদান তৈরি হয়েছিলো। সৃষ্টির প্রাথমিককালে মহাবিশ্ব সুষম এবং সমতাপীয় রূপে একটিই অতি উচ্চ শক্তি ঘনত্ব এবং উচ্চ তাপমাত্রা ও চাপবিশিষ্ট পদার্থ দ্বারা পূর্ণ ছিল। মহাবিশ্ব সৃষ্টির ১০৪৩ সেকেন্ড পর পদার্থবিজ্ঞানের সূত্রগুলো কার্যকারিতা লাভ করে। তাই এই সময়কে প্ল্যাংকের সময় বলা হয়। প্ল্যাংকের সময়ের প্রায় ১০৩৫ সেকেন্ড পর একটি দশা পরিবর্তন তথা অবস্থান্তর অবস্থার সূচনা ঘটে যার ফলে মহাজাগতিক স্ফীতিশুরু হয়। এই সময় মহাবিশ্ব সম্প্রসারিত হতে শুরু করে। এ সময় থেকে মূলত মহাবিশ্বের exponential সম্প্রসারণ শুরু হয়।


---------- মৃত কালপুরুষ
               ১৪/১০/২০১৭