বুধবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

চন্দ্রগ্রহণ সমাচার।




পৃথিবী তার পরিভ্রমণ অবস্থায় চাঁদ ও সূর্যের মাঝখানে এলে কিছু সময়ের জন্য পৃথিবী, চাঁদ ও সূর্য একই সরল রেখায় অবস্থান করতে থাকে। তখন পৃথিবী পৃষ্ঠের মানুষ/প্রাণীদের থেকে চাঁদ কিছু সময়ের জন্য অদৃশ্য হয়ে যায়। এটাকে চন্দ্রগ্রহণ বলে। আরবিতে খুসুফ এবং ইংরেজীতে Lunar eclipse বলে। তবে সৌরবিজ্ঞানীদের মতে আজকের চন্দ্রগ্রহণটিকে বলা হচ্ছে "পিনামব্রল একস্লিপ" বিজ্ঞানীদের মতে আজকের গ্রহনটি একটি বিরল চন্দ্রগ্রহণ।
ক্যালেন্ডার এর হিসাব অনুযায়ী আজ রাত ০৯:৪৫ মিনিট থেকে পৃথিবী থেকে চন্দ্র গ্রহন দেখা যাবে। কিন্তু আমি ১০:১০ মিনিটে দেখেছি তখনও কোন পরিবর্তন নাই সাথে আকাশে প্রচুর মেঘ। তাই মনে হলো আরো দেরি হবে হইতো। এই সময়ে কিছু একটা লেখি। সমস্যা নেই যদি কেউ চন্দ্রগ্রহণ দেখতে না পারেন, তাহলে ইউটিউবে সার্চ দিলে আরো ভালো ভাবে ব্যাখ্যা সহ দেখতে পারবেন চন্দ্রগ্রহণ কে, কি এবং কেন সহ তা আমার লিখে জানাবার দরকার নেই। তবে ছোট্ট একটি ঘটনা বলি, এরকম এক চন্দ্রগ্রহণ এর রাতে আমার এক বন্ধু একবার সৌদিআরব থেকে জানালো কিরে এখানেতো সবাই মসজিদ গুলাতে নামাজ পড়ছে আর কান্নাকাটি করছে ঘটনা কি। আমিও বুঝতে পারি নি আসলে ঘটনা কি। বললাম কই বাংলাদেশে তো এমন কাউকে দেখলাম না যারা নামাজ পড়ছে। এরা তো নিয়ম অনুযায়ী যে নামাজ পড়ে তাই পড়ছে। বন্ধু আমাকে বলে মনে হয় পৃথিবীর কোন সমস্যা হয়েছে। আমি আর কি বলবো বলেন, শুধু বললাম পৃথিবীর আবার কি হবে। চাঁদ নাকি দেখা যাচ্ছে না বলে সে জানালো, মনে হচ্ছে পৃথিবী ধংস হয়ে যাবে। আমি বলেছিলাম বোকা এটাকে চন্দ্রগ্রহণ বলা হয়। আর তুই যেটা ভাবছিস সেটা অনেক আগে মানুষ এমন ধারনা করতো। কিন্তু বিজ্ঞান আজ তার প্রমান করেছে কেন চন্দ্রগ্রহণ হয়, কি ভাবে হয়, আরো অনেক কিছু, কয়েক ঘন্টা পরে আবার আকাশ দেখিস চাঁদ আগের যায়গায়ই আছে দেখবি, আর কিছু বলি নাই সেদিন তাকে।
এখন জানি কিছু ধর্মমতে এরকম সৌরজগৎ এর কিছু নিয়ম নিয়ে অনেক অনেক কল্পকাহিনী রচিত আছে। মিশরীয় দেবতা আমন-রা এর মতে চন্দ্রকে সুর্য গিলে খেয়ে ফেলে কিন্তু গিলতে না পেরে তা কিছু সময় পরে আবার বের করে দেয়। তাই তখন মন্দিরে গিয়ে আমন-রা এর কাছে প্রার্থনা করার কথা বলে পুরোহিতেরা। আরো পরের কিছু গ্রীক দেবতারা এই বিষয়ে মাথা ঘামিয়েছেন যাদের নাম, "ক্যায়োস" সে ছিলো গ্রীকদের আদি দেবতা তার কন্যা "ইউরোনোমে" এবং সর্পরূপী ওফিয়োন এর সূত্রে সৃষ্টি হয়েছিল বিশ্বচরাচর। কালক্রমে জন্মলাভ করেছিল দেববংশ টাইটান।
এই টাইটানদের উপর সাতটি গ্রহ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা প্রদান করেছিলেন। এরপর এই দেবী তৈরি করলেন সাতটি গ্রহনিয়ন্ত্রক শক্তি। এই শক্তিগুলো যাঁদেরকে প্রদান করেছিলেন, তাঁরা হলেন। থেইয়া এবং হাইপেরিয়ান সূর্যের জন্য, ফিবি এবং এ্যাটলাস চাঁদের জন্য, ডাইওনে এবং ক্রিয়াস মঙ্গলের জন্য, মেটিস এবং কোয়েসাস বুধের জন্য, থেমিস এবং ইউরিমেডোন বৃহস্পতির জন্য, টেথিস এবং ওসিনাস শুক্রের জন্য, রিয়া ও ক্রোনাস শনির জন্য। গ্রিক পৌরাণিক কাহিনীর শেষের দিকে ব্যাপকভাবে আলোচিত চরিত্র হিসেবে পাওয়া যায় জিউসকে। এরা সবাই চন্দ্রগ্রহণ এর সময়টিকে নানা ভাবে মানুষের জন্য ব্যাখ্যা করে গিয়েছেন। এরকম পৃথিবীর প্রচলিত ৩০০০ ধর্মের ভেতরে প্রায় প্রতিটি ধর্ম মতে এই চন্দ্রগ্রহণ এর কিছু না কিছু ব্যাখ্যা পাওয়া যায় স্পট ভাবে। তবে বিজ্ঞান তার সমাধান দিয়েছে সঠিক ভাবে। তবে বিজ্ঞানের এটা সম্ভব হইনি যে কোন একটি গ্রন্থ বা বই দিয়ে চন্দ্রগ্রহণ এর মতো সৌরজগৎ এর এরকম নানান ক্রিয়াকে সমাধান করে দেওয়ার। এর জন্য সৌরবিজ্ঞানীগনের প্রয়োজন হয়েছে শত শত বই বা গ্রন্থ লেখার। যাই আরেকবার গিয়ে দেখে আসি চন্দ্রগ্রহণ। আর হ্যা এখন পর্যন্ত সৌরজগৎ এর ৯৯.৯৯ % বিষয় মানুষের অজানা আছে আর বই লেখা বা তথ্য সংগ্রহের কাজ এখনও চলমান আছে। সৌরজগৎ এর এমন অনেক বিষয় আছে যা মানুষের কল্পনা শক্তির ভেতরে ধরা পড়ে না, তাই আমার এখন খুব মনে হচ্ছে ইঞ্জিনিয়ার "রাজকুমার হীরানি" পরিচালিত ও " আমির খান" অভিনীত পিকে মুভির কথা, যার ঠিক শেষ ভাগে পিকে ধর্মগুরুকে বিলেছিলো তুমি করবা এই পৃথিবী রক্ষা ?

-----------মৃত কালপুরুষ
             ০৭/০৮/২০১৭

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন