সমাজ গবেষণা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
সমাজ গবেষণা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

মঙ্গলবার, ৬ নভেম্বর, ২০১৮

মডারেট ধার্মিক হলেও সে কি পারবে তার আদর্শ গোপন রাখতে ?


প্রমাণ এই যে দেখুন, সম্প্রতি কওমী মাদ্রাসা বিষয়ক ইস্যু নিয়ে জনৈক সেই বিজ্ঞানমনষ্ক লেখক আরিফ আজাদের ভাষ্য। একটা বিচার করবেন সকলেই নিরাপেক্ষভাবে, এটাই কি মডারেট মুসলিমদের আধুনিক জিহাদের ডাক ? কারণ এরা বলছে সময় এখনও ফুরিয়ে যায়নি, সামনে সুসময় আসবেই এবং তারাও নাকি সেই প্রতীক্ষায় আছে। আর তাছাড়াও সে তার সম্পুর্ণ বক্তব্যে এটাই প্রকাশ করেছেন যে হেফাযতে ইসলাম প্রধানমন্ত্রীকে যে সংবর্ধনা দিয়েছে তাতে তারা মোটেও খুশি নয়। 
তাদের যুদ্ধই নাকি আওয়ামীলীগের সাথে। এইযে সোস্যাল মিডিয়াতে তার একটি বিশাল ফলোয়ার গোষ্ঠী, যাদেরকে সে প্রায়ই এই জাতীয় উস্কানি দিয়ে তাদের ব্রেন ওয়াশ করে এবং দেশের সরকারের বিরুদ্ধে দাড় করিয়ে দেয় বাংলাদেশ সরকার কি তাদের চোখে দেখে না ? 
নাকি এইযে এতো সাইবার এক্ট, স্পেশাল টিম তার সবই শুধুই মুক্তচিন্তক ও ব্লগারদের স্বাধীন মতামত প্রকাশে বাধা দেবার জন্যই তৈরি করা হয়েছে ?
আমরা ইতিহাস থেকে জানতে পারি পাকিস্তান গঠিত হবার মাত্র ২৪ বছরের মাথায় ধর্মীও মৌলবাদ আর ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করার ফলে ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের সাথে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ডাকে বাঙালী জাতি সাড়া দিয়ে দীর্ঘ ৯ মাস মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে প্রায় ৩০ লক্ষ বাঙালীর প্রাণ আর ২ লক্ষ নারীর সম্ভ্রমের বিনিময়ে ভৌগলিক ভাবে স্বাধীনতা অর্জন করেছিলো বাঙ্গালী জাতি।
এই ১৯৭১ এ যারা স্বাধীনতা আন্দোলনের বিপরীতে থেকে পাকিস্তানি সেনাদের সাথে কাধে কাধ মিলিয়ে বাঙালী জাতিকে হত্যা, ধর্ষণ, লুট করতে সহযোগিতা করেছিলো তাদের ৯০% এর বেশি ছিলো মাদ্রাসার ছাত্র এবং শিক্ষক। এই কথা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু বেশ কয়েকবার অত্যান্ত দুঃখের সাথে উপস্থাপন করেছিলো যখন সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশে তাদের যুদ্ধাপরাধী হিসাবে বিচার করা হচ্ছিলো। 
তারপরেও বঙ্গবন্ধু তাদের দূরে সরিয়ে না দিয়ে তৈরি করে দিয়েছিলেন “ইসলামী ফাইন্ডেশন” এবং মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যাবস্থাকে স্বীকৃতি দিয়েছিলেন।
বর্তমানে বাংলাদেশে টিকে থাকা আজকের দিনের সকল মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থার সুত্রপাত ঠিক এভাবেই। আজ স্বাধীনতার ৪৭ বছর পরে যখন দেখা গেলো এই মাদ্রাসার একটি বিরাট জনগোষ্ঠী বাংলাদেশের জন্য বোঝা হয়ে চলেছে, কারণ তাদের শিক্ষা ব্যবস্থা একেবারেই মানসম্মত নয়, আধুনিক বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলার মতো কোন যোগ্যতায় এই মাদ্রসা শিক্ষার্থীদের নেই, যেকারণেই বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তাদেরকে একটা মানসম্মত পর্যায়ে নিয়ে আসার জন্য কওমী মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদীস শিক্ষাব্যাবস্থাকে বাংলাদেশের সাধারণ শিক্ষা ব্যবস্থার মাস্টার্স এর সমমান ঘোষণা করলেন।
এর মাধ্যমে মাদ্রাসা শিক্ষার্থিদের অন্ধকারে না ঠেলে দিয়ে সাথে নিয়েই একটি আধুনিক বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখলেন। 
শেখানে এই "আরিফ আজাদ"-এর মতো হাতে গোনা কিছু কৌশলে উগ্রবাদী এবং সেই মাদ্রাসার তরুনদের মধ্যে উস্কানী দাতা মডারেট ধার্মিকরা একেবারেই খুশি হতে পারলেন না। 
দেখুন বর্তমানে প্রকাশ্যে তারা তাদের এই মনোভাব কিভাবে প্রকাশ করছে। এখন শুধু একটি প্রশ্ন সবার আগে চলে আসছে, আসলে তারা চায় কি ?
মৃত কালপুরুষ
০৫/১১/২০১৮
ঢাকা

বৃহস্পতিবার, ৪ অক্টোবর, ২০১৮

একটি প্রশ্ন।




মূল বিষয়টি সত্যিই খুব দারুন ছিলো, এভাবে অনেকেই সব কিছু দেখে না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা যদি এভাবেই চিন্তা করতে পারে তাহলে আগামীর বাংলাদেশ হবে অনেক উন্নত যা প্রকাশ করে বোঝানো যাবে না। গতকাল আমিও এই ছবি গুলোর থেকেই একটা ছবি দেখেছিলাম কারো পোস্ট করা ফেসবুক স্টাটাসে, যেখানে ছবির ছেলেটির চেহারা ঢেকে দেওয়া হয়েছিলো। এই কারনে অনেকেই মন্তব্য করেছেন হয়তো নেতিবাচক মনোভাব নিয়ে। আমার মনে হয়েছে সেটা করা ঠিক আছে। কারণ, প্রতীকি ছবি হোক আর কোন সন্তান গ্রাজুয়েট হবার পরে তার রিক্সাচালক বাবাকে তার গাউন পরিয়ে যদি ছবি তুলে সোস্যাল মিডিয়াতে দিয়েই থাকেন তাহলে তার চেহারা ঢেকে সেই ছবি শেয়ার করা ঠিক হয়নি। এতে করে একটা হীনমানসিকতার প্রকাশ দেখা যায়।

এখন কথা হচ্ছে, যারা না বুঝেই এটা নিয়ে নেতিবাচক স্টাটাস দিয়েছিলেন বা মন্তব্য করেছিলেন তারা মূল ঘটনা না জেনে না বুঝে করেছেন ঠিক আছে তারা সবাই বোকামী করেছেন। অতিরিক্ত আবেগ দেখাতে গিয়ে তারা বোকা হয়েছেন। আর যদি এই ছবির ব্যাক্তিটির কাছ থেকে বা ফটোগ্রাফারের কাছ থেকে আসল ছবি নিয়ে কেউ ছেলেটির মুখ ঢেকে সেই ছবি আবার নতুন করে পাবলিশড করে থাকেন তাহলে যারা ছেলেটির চেহারা ঢাকার কাজটি করেছেন সেটা চরম অন্যায় করেছেন। এই কারণেই অন্যায় হয়েছে, ছবিটিতে সকল বাবাদেরকে ছোট করে দেখানো হচ্ছে তাই। আর সর্বোপরি সেই ছবির আসল ব্যাক্তিটির (যদি হয়ে থাকে) নিচের পোস্টটি থেকে জানা যাচ্ছে সে নিজেই নাকি তার মুখটি ঢেকে সোস্যাল মিডিয়াতে তা শেয়ার করেছিলো।

এটা তার করা নিচের পোস্টে তার স্বীকারোক্তি এবং এই মুখ ঢাকার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে সকলের কাছে ক্ষমা চেয়ে যদি তিনি এই স্টাটাসটি দিয়েই থাকেন তাহলে তার নতুন করে আবার এই কথাটি বলা কতটা যৌক্তিক ছিলো ? "দুঃখিত আমি যে মুখ ঘোলা করার জন্য তবুও বলি, এসব মানুষের মাথা খালি বলেই আমাদের মাথায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হুড! যাঁরা ভুল বুঝেছেন আমি তাঁদের কাছে ক্ষমা চাচ্ছি ফটোগ্রাফারের হয়ে" নতুন করে এখানে যেই মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ আবার দেখছি সেটা কি (তার কথা মতে) “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হুড” মাথায় থাকা কোন ব্যাক্তির মনোভাব হতে পারে ? পাঠকদের কাছে আমার একটি প্রশ্ন আসলে ভুলটি কার ছিলো ?


Liton Mustafiz

স্যালুট...
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫১তম সমাবর্তনে এ ছবির একটি বিশেষ অংশ গতকাল সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ ছবির ঐ অংশটি সম্ভবত বিভিন্ন গ্রুপ হয়ে ব্যক্তি থেকে আরম্ভ করে জাতীয় পর্যায়ের গণমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। ফটোগ্রাফার শাহরিয়ার সোহাগ গতকাল অপরাজেয় বাংলার সামনে থেকে এ ছবিটি তোলেন। রিকশায় যিনি বসে আছেন তিনি আমাদের গর্বিত একটি অংশ। মনেই হয়নি সে মুহূর্তে তিনি অন্য একটি অংশ। পৃথিবীর আর সব বাবার মতো এ বাবার চোখেও আমি স্বপ্ন খুঁজে পাই। মোটেও মনে হয় নি তার গায়ের ঘাম লাগলে দুর্গন্ধী হয়ে উঠবে আমার গাউন। এমন ঘামের চর্মশরীরে বেড়ে ওঠা আমার। আমি বিশ্বাস করি পৃথিবীর চাকা এ 'পিতা'দের ঘামে ও দমে ঘোরে।


আমরা যখন খুব আনন্দ করছিলাম তখন তিনি আনমনা নজরে আমাদের দিকে তাকিয়ে থাকেন। বিষয়টি আমি বুঝে 'পিতা'কে ডাক দেয়। তিনি সাড়া দেন। আমি আমার গাউন, হুড খুলে 'পিতা'কে পরিয়ে দেই। তারপর ছবি তোলা হয়। একজন গর্বিত গ্রাজুয়েট মনে হচ্ছিলো তখন আমার। এঁদের রক্ত ঘামানো অর্থেই আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে পেরেছি। এ 'পিতা'র পোশাক দেখে স্যালুট না করে পারি নি। এ ছবি তুলে রাতেই ফেইসবুকে পোস্ট করেন ফটোগ্রাফার। ছবিটি ভাইরাল হলে দেখা যায় অনেকেই আমাকে ভুল বুঝছেন। বিভিন্ন গণমাধ্যমে ছবিটি নিউজ হয়ে গেছে। দুঃখিত আমি যে মুখ ঘোলা করার জন্য তবুও বলি, এসব মানুষের মাথা খালি বলেই আমাদের মাথায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হুড! যাঁরা ভুল বুঝেছেন আমি তাঁদের কাছে ক্ষমা চাচ্ছি ফটোগ্রাফারের হয়ে। এসব মানুষেরা আমাদের সত্যিকার বাবা-ই। কারণ আমি নিজেও কৃষকের লাঙলের ফালা বেয়ে উঠে এসেছি...

 -মৃত কালপুরুষ
  ০৪/১০/২০১৮

বৃহস্পতিবার, ২৫ জানুয়ারি, ২০১৮

আবেগীয় সম্পর্কের কোন নির্ধারিত বয়স নেই।


স্বামী বা স্ত্রী ছাড়া অন্য কোন ব্যক্তির সাথে বিবাহোত্তর বা বিবাহবহির্ভুত প্রেম, বন্ধুত্ব, ভালোবাসা, যৌন সম্পর্ক বা এরকম কোন ঘনিষ্ট সম্পর্ককে বাংলাদেশ বা বিশ্বের কিছু স্বল্প শিক্ষিত দেশে খুবই নেতিবাচক একটি দিক বলে বিবেচিত হয়ে থাকে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে এই জাতীয় সম্পর্কের জন্য মানুষকে (নারী, পুরুষ) উভয়কেই শাস্তি পর্যন্ত ভোগ করতে হয়। বহু পূর্বে থেকেই ধারনা করা হয় সমাজে বা মানব সভ্যতায় যখন থেকেই বিবাহ প্রথার শুরু হয়েছিলো তখন থেকেই এই জাতীয় সম্পর্ককে একটি লঘু বা নেতিবাচক সম্পর্ক বলে বিবেচনা করা হয়ে থাকে। আসলে কিন্তু বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর দিকে তাকিয়ে দেখলে আমরা দেখতে পারি এটা শাস্তি যোগ্য কোন অপরাধ নয় যদিও এই জাতীয় সম্পর্ককে নেতিবাচক বলে গন্য করা হলেও এটি কখনই আইনত অপরাধ বলে বিবেচিত হয়না। তবে এধরনের সম্পর্কের অভিযোগ যদি প্রমাণিত হয়ে থাকে তবে যার উপরে এমন অভিযোগ আসে তার বিবাহিত সঙ্গী তার সাথে বিবাহ বিচ্ছেদের জন্য দেশ ভিত্তিক আইন অনুযায়ী বিবাহবিচ্ছেদের জন্য কোর্টে আবেদন করতে পারে এটুকুই।

মনোবিজ্ঞানীদের মতে এধরনের সম্পর্কের কারনে সেই পরিবারের সন্তানদের উপরে এক ধরনের বিরুপ প্রতিক্রিয়া পড়তে পারে যা সন্তানদের মানুষিক ও শারীরিক স্বাস্থের জন্য ভালো নয়। এধরনের সম্পর্কের কারনে সামাজিক যোগাযোগেও ব্যাঘাত ঘটতে পারে তাছাড়াও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দাম্পত্য সম্পর্কের অবনতিতে এটা সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখে। এবার দেখুন অন্য কিছু দিক, যেমন আমরা যদি প্রতিটি মানুষের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে থাকি তাহলে স্বাধীন মত প্রকাশ ও স্বাধীনভাবে সুখি হবার চেষ্টা করাকে অবশ্যয় ইতিবাচক ভাবেই দেখতে হবে। এতে করে প্রতিটি মানুষের স্বাধীন মত প্রকাশকেও সমর্থন করা হবে। একটি মানুষ তার জীবনের নির্দিষ্ট একটি সময়ে এসে নিজেকে সুখি করার জন্য যেকোন পদক্ষেপ গ্রহন করতে পারে। এই পদক্ষেপকে আপনি যদি সমর্থন করেন তাহলে আপনিও মত প্রকাশ করার স্বাধীনতায় বিশ্বাসী একজন মানুষ হবেন। তবে যদি সামাজিক নিয়ম কানুন আর ধর্মীয় রীতিনীতি যেমন, ইসলাম ধর্ম মতে বিবাহোত্তর বা বিবাহবহির্ভুত প্রেম, বন্ধুত্ব, ভালোবাসা, যৌন সম্পর্ক বা এরকম কোন ঘনিষ্ট সম্পর্কে কেউ যদি জড়িয়ে যায় এবং প্রামণিত হয় তবে তাকে বা তাদেরকে পাথর নিক্ষেপের ব্যবস্থা আছে এমন কিছুতে আপনি বিশ্বাসী হয়ে থাকেন তাহলে আপনাকে কখনই প্রথাবিরোধী বা প্রগতিশীল একজন মানুষ বলে ধরে নেওয়া যাবে না।

সম্প্রতি এই ধরনের সম্পর্ক নিয়ে সোস্যাল মিডিয়া সহ বিভিন্ন পোর্টালে দেখলাম প্রচুর আলোচনা চলছে যার হয়তো নির্দিষ্ট কোন কারণ থাকলেও থাকতে পারে। ধরুন একজন চল্লিশউর্ধো পুরুষ দুইটি সন্তানের পিতা থাকবে এটাই স্বাভাবিক এবং সে তার সাধ্যমতো চেষ্টা করবে তার ভালোবাসার পরিবারটিকে সবসময় সুখি রাখতে। মন না চাইলেও তার স্ত্রী সন্তানদের প্রতি আবেগীয় আচরন করবে। কিন্তু এমনও হতে পারে সেই ব্যাক্তির স্বাধীনভাবে একটু সুখ খোজার জন্য নতুন করে কাউকে আপন মনে করে খুবই ব্যাক্তিগত কিছু কথা ভাগাভাগি করতে পারে। আর এটা কিন্তু নতুন কিছুই না এরকম ঘটনা আমরা সচরাচর অনেক দেখে থাকি। ঠিক এরকম একটি পুরুষের ক্ষেত্রে ঘটলে একটি নারীর ক্ষেত্রেও ঘটতে পারে এটাই স্বাভাবিক। তবে যেহেতু তারা এই ধরনের সম্পর্কে সব কিছু জেনে বুঝে মেনেই জড়িয়েছে বা জড়াচ্ছে তাহলে এটাও বোঝা উচিত দেশ ভেদে এধরনের সম্পর্কের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে। আর যদি প্রশ্ন উঠেই যায় তাহলে দুইজনের স্বার্থে তার প্রাইভেসি রক্ষা করা উচিত এবং তা দুইজনের পক্ষ থেকেই সমানভাবেই হতে হবে। কেউ প্রাইভেসি রক্ষা করতে ব্যার্থ হলে ধরে নিতে হবে এখানে কোন স্বার্থ কাজ করছে।

---------- মৃত কালপুরুষ
               ২৫/০১/২০১৮


সোমবার, ১৩ নভেম্বর, ২০১৭

আর কত ভাবে নারীকে ছোট করা হবে ?



সম্প্রতি দাউদ হায়দারের কবিতা নিশ্চয় সবাই পড়েছেন। আমি আসলে এটাকে কবিতা বলতে পারছি না। আমার কাছে মনে হয়েছে এটা তার নারীর প্রতি ব্যাক্তিগত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। তিনি যে আসলে এই একটি ব্যাপারে মানুষিকভাবে সুস্থ আছেন কিনা আমার তাতেও সন্ধেহ আছে যথেষ্ট। কারন বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় মনোবিজ্ঞানীদের মতে যারা নারীদের প্রতি আক্রমনাত্মক ও উদ্দেশ্য প্ররোচিত লেখনি লিখে থাকে তাদের ব্যাক্তিগত জীবনে কোন না কোন সময়ে এই নারীর কাছ থেকেই যে কোন ভাবে আঘাত প্রাপ্ত হয়ে এমন মনোভাবের সৃষ্টি হয়। আমি কাউকে ব্যাক্তিগত আক্রমন করতে চাই না তাই এই বিষয়ে আলোচনায় যাবো না। তবে আমাদের মতো সাধারন পাঠকদের যদি এধরনের ধারনা হয়ে থাকে তাহলে যে সেটা ভুল নাও হতে পারে তাই এই কথাটুকু তোলা। কবি দাউদ হায়দার এই কবিতার মাধ্যমে সমস্ত নারীবাদী নারীদের পাশাপাশি সমস্ত কবিদেরও অপমান করেছে। কারন তিনি একটি নয়, তিনটি বিষয় এখানে তিনি তুলে ধরেছেন বলে আমি মনে করি। একটি হচ্ছে তিনি নারীবাদী লেখিকাদের সাথে নিজেকে তুলনা করে নিজেকে ছোট করে ভেবেছেন আর তাই এমন কিছু তার মাথা থেকে এসেছে। দুই হচ্ছে তিনি যে একজন পুরূষতান্ত্রিক সমাজের স্বপ্ন দেখেন সেটা এখানে প্রমানিত। আর তিন হচ্ছে তিনি এইজাতীয় শব্দ “ছিনাল” ব্যাবহার করে নারীদেরকে শুধু ছোট করেনি সাথে ধর্ষক পুরুষদেরকেও আরো উস্কে দিয়েছে এই জাতীয় পর্নো কবিতা রচনার মাধ্যমে।

একসময় আমাদের দেশে তসলিমা নাসরিনের মতো লেখিকা ছিলো। আজ তারা নেই, নেই তাতেই ভালো হয়েছে, কারন যদি আজ এই দেশে সে থাকতো তাহলে হয়তো একদিন একশ্রেনীর কাঙ্গালী খুনী টাইপের মানুষরা তার হাড় পর্যন্ত মাটিতে মিশিয়ে দিতো। তারাও কিন্তু অতীতে “ছিনাল” জাতীয় কথা ব্যাবহার করে এই নারী লেখিকাকে আক্রমন করেছিলো। কবি দাউদ হায়দার আসলে কাকে আক্রমন করে এই জাতীয় কবিতা লিখেছেন তা এখানে পরিষ্কার না। তবে এটা পরিষ্কার তিনি নারীদের এগিয়ে চলায় ক্ষুদ্ধ হয়ে আছেন। তার আচরনে এমন কিছু প্রকাশ পেয়েছে যা মৌলবাদীরা অনেক আগেই আমাদের দেখিয়েছে। তাহলে কি আমরা ভেবে নেবো সেই পুরাতন কবি যাকে অনেকেই বহু বছর ধরে চেনেন সে এখন মৌলবাদীদের কন্ঠে কন্ঠ মিলিয়ে কথা বলছে। নারীদের অপমান করছে। তাহলে কেন এযুগের কবি হয়ে দাউদ হায়দার আজ মধ্যযুগের মানুষের মতো আচরন করবে। এই নারীরাই তো কৃষির সূচনা করেছিলো মানব সভ্যতাই। তাদের কাছ থেকে আবার পুরুষেরা এই ক্ষমতা ছিনিয়ে নিয়ে তাদেরকে “ছিনাল” বলেছিলো তখন। আজ আবার কি কেড়ে নিতে নারীদের উপরে এমন আচরন এই কবিদের। আছে হয়তো কিছু। যেমন ধরুন নারীরা এখন অনলাইন ও সাইবার জগতে বাংলাদেশ এ পশ্চিমবঙ্গ সহ বেশ কিছু অঞ্চলে বাংলা ভাষায় অনেক এক্টিভ। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকেও বাংলাভাষী লেখিকারা খুব ভালো ভাবেই তাদের অবস্থান ধরে রেখেছে বর্তমান অনলাইন জগতে।
কিন্তু এই দাউদ হায়দারের মতো অনেক লেখক এখনও অনলাইন জগতে এতোটা পরিচিতি আনতে পারেনি যতটা নারীরা এতোদিনে করে ফেলেছে। আমার জানামতে সোস্যাল মিডিয়াতে তার এখনও একটি একাউন্ট পর্যন্ত নেই। আমার ভুল হতে পারে আমি সঠিক নাও জানতে পারি। তবে আমি নিশ্চিত দাউদ হায়দারের কোন সোস্যাল মিডিয়া একাউন্ট নেই। তিনি বর্তমান যুগের নারীবাদী নারীদের থেকে এই বিষয়ে অনেক পিছিয়ে আছেন। এমতাবস্থায় যদি হঠাৎ করে অনলাইনে সাড়া ফেলতে চাই তাহলে একমাত্র বড় উপায় হচ্ছে নারীবাদীদের উদ্দেশ্য করে এমন কিছু লেখা যাতে তাদেরকে ছোট করে উপস্থাপন করা যায়। অতএব বলা চলে তাদের কাছ থেকে বর্তমানে অনলাইন ও সোস্যাল অনলাইন প্লাটফর্ম গুলো ছিনিয়ে নিতে এমন আচরনের কোন জুড়ি থাকার কথা না। দাউদ হাওয়াদার যাকেই উদ্দেশ্য করে এই জাতীয় লেখা লেখুক না কেন তিনি অবশ্যয় বর্তমান সময়ের প্রগতিশীল সমাজের বিরুদ্ধাচার করেছে। তিনি যে জঘন্য ভাষার ব্যাবহার মানে মৌলবাদী বা মুমিনদের মতো ভাষার ব্যাবহার এখানে করেছেন। শুধু তাই নয়, তিনি এখানে প্রমান করেছেন তিনি নিজেও এই জাতীয় মনোভাব বয়ে নিয়ে বেড়ান যা মনস্তাত্বিক দিক থেকেও নিচু মানের।
এখানে “নারীবাদী ছিনাল লেখিকা” এই বাক্যটি কিভাবে কবিতার ভাষা হতে পারে ? এই লেখটি দিয়ে দাউদ হায়দার কি প্রগতিশীল সমাজের বিরুদ্ধাচরন করেনি। একটু খেয়াল করে দেখবেন এখন দেশে নারীবাদীদের আন্দোলনে ও লেখালেখিতে যেভাবে দেশের ধর্ষকদের বিরুদ্ধে মানুষ গর্জে উঠছে ঠিক তখনই এমন কিছু লিখে সেই নারীদের দমিয়ে দেবার চেষ্টাকে আমরা কি বলতে পারি। প্রথমে যে তিনটি বিষয়ের কথা বলেছিলাম সেই তিনটি বিষয়ের মিল কি এখন খুজে পাচ্ছেন। হ্যা আসলেই দাউদ হায়দার মনে হয় এই সমস্ত কারনে মানুষিক চাপের ভেতরে আছেন যার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে তার এই “নারীবাদী ছিনাল লেখিকা” কবিতায়। তিনি নিজেকে নারীদের সাথে তুলনা করে আবিষ্কার করেছেন নারীবাদী লেখিকা থেকে তার অবস্থান অনেক নিচে যাকে বলা হয়ে থাকে (ইনফেরিয়োরিটি কমপ্লেক্স)। তিনি আসলে তার যৌন হতাশা থেকেও এমন কিছু বলেছেন তারও প্রমান এখান থেকে পাওয়া যায়। অশ্লীল ভাবে পর্নগ্রাফী রচনা করার একটি বড় কারন এটা হতে পারে। আরো প্রমানিত হয়েছে তিনি পুরূষতন্ত্রের ঝান্ডা হাতে নিয়ে নারীদের পেছনে লেগেছে এই লেখা দিয়ে। তিনি এই জাতীয় পর্ন কবিতা রচনা করে ধর্ষকদের এক প্রকার সমর্থন করেছেন বলে মনে করি।
আমার পরিচিত বেশ কয়েকজন আছেন যারা এই কবি দাউদ হায়দারের লেখার ভক্ত ছিলেন। কিন্তু তার এমন নিম্ন রুচির আক্রমনাত্মক লেখাতে তারা তার প্রকৃত রুপ দেখতে পেয়েছেন। অনেকেই মন্তব্য করেছেন এই কবিকে সামাজিক কোন অনুষ্ঠানে কখনই কোন ইস্যুতে চিন্তাশীল কোন আলোচনা করতে দেখি নাই। এমনও হতে পারে তিনি হয়তো অতীত ভুলে গিয়ে নতুন করে যারা নারীবাদীদের “ছিনাল” বলে থাকেন তাদের দলে ভিড়ছেন। আসলে তাকেও তো একটা সময় সেই শ্রেনীর মানুষেরাই এই দেশ ত্যাগ করতে বাধ্য করেছিলো ঠিক তসলিমা নাসরিনের মতো। তবে একটা ব্যাপার হয়তো এই কবির জানা নেই যে, পর্ন কবিতা রচনা বা নারীদের আক্রমন করে লিখেই যে সেলিব্রেটি হওয়া যায় না। যদি সেলিব্রেটি হতেই হয় তবে তাকে সবার আগে এই দেশের মৌলবাদীদের মন জয় করতে হবে। তাহলে কি তিনি অবশেষে সেই চেষ্টাই করছেন ?
---------- মৃত কালপুরুষ
              ১৩/১০/২০১৭

শুক্রবার, ১০ নভেম্বর, ২০১৭

শহীদ নূর হোসেন দিবস আজ।


নূর হোসেন (১৯৬১ - ১০ নভেম্বর ১৯৮৭) বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সবচেয়ে স্মরণীয় নাম। ১৯৮৭ সালের ১০ নভেম্বর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি লেফটেন্যান্ট জেনারেল হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে সংগঠিত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলন চলাকালে পুলিশের গুলিতে তিনি নিহত হন। নূর হোসেনের পৈতৃক বাড়ি পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া উপজেলার ঝাটিবুনিয়া গ্রামে। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের পর তার পরিবার স্থান পরিবর্তন করে ঢাকার৭৯/১ বনগ্রাম রোডে আসে। পিতা মুজিবুর রহমান ছিলেন পেশায় অটো-রিকশা চালক। তাঁর মায়ের নাম মরিয়ম বিবি। অথর্নৈতিক অসচ্ছলতার কারণে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত পড়ার পর নূর হোসেন পড়াশোনা বন্ধ করে মোটর চালক হিসেবে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। নূর হোসেন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। তিনি ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের বনগ্রাম শাখার প্রচার সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন।
১৯৮৭ সালের ১০ই নভেম্বর দেশের দুটি রাজনৈতিক দল বিএনপি ও আওয়ামী লীগ একত্র হয়ে স্বৈরশাসক এরশাদের পতনের লক্ষ্যে ঢাকা অবরোধ কর্মসূচির ঘোষণা করে। এরপূর্বে এরশাদ ১৯৮২ সালে একটি সেনা উত্থানের মধ্যদিয়ে ক্ষমতা গ্রহণ করেন এবং ১৯৮৭ সালের নির্বাচনে জয়্লাভ করেন, কিন্তু বিরোধী দলগুলো তার এই নির্বাচনকে জালিয়াতি বলে অভিযুক্ত করে। তাদের একমাত্র দাবী ছিল নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নিয়ন্ত্রনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন করা। অবরোধ কর্মসূচীর অংশ হিসেবে ঢাকায় একটি মিছিলে নূর হোসেন অংশ নেন এবং প্রতিবাদ হিসেবে বুকে পিঠে সাদা রঙে লিখিয়ে নেন “স্বৈরাচার নিপাত যাক, গণতন্ত্র মুক্তি পাক” । মিছিলটি ঢাকা জিপিও-র সামনে জিরো পয়েন্টের কাছাকাছি আসলে স্বৈরশাসকের মদদপুষ্ট পুলিশবাহিনীর গুলিতে নূর হোসেনসহ মোট তিনজন আন্দোলনকারী নিহত হন, এসময় বহু আন্দোলনকারী আহত হন। নিহত অপর দুই ব্যক্তি হলেন যুবলীগ নেতা নুরুল হূদা বাবুল এবং আমিনুল হূদা টিটু।
এই হত্যাকান্ডের প্রতিক্রিয়া স্বরূপ বিরোধী দলগুলো ১১ ও ১২ই নভেম্বর সারা দেশে সকাল সন্ধ্যা হরতাল ঘোষনা করে। বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী মানুষ বিক্ষোভে ফেটে পড়েন, ফলে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন আরোও ত্বরান্বিত হয়। এই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর জেনারেল এরশাদ পদত্যাগ করেন। এর মধ্য দিয়ে স্বৈরাচারী সরকারের পতন ঘটে গণতন্ত্র পুণ-প্রতিষ্ঠিত হয়। এরশাদ পদত্যাগ করলে বাংলাদেশে দুটি হ্যাঁ-না ভোটের মধ্য দিয়ে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার এবং প্রধানমন্ত্রী শাসিত সরকার ব্যবস্থা চালু হয়। জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, এতে বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। এর এক বছর পর সরকারের পক্ষ থেকে নূর হোসেন এর মৃত্যুর দিনটি সরকারীভাবে উদযাপনে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। দিনটিকে প্রথমে ঐতিহাসিক ১০ই নভেম্বর দিবস হিসেবে ঘোষনা করা হলেও আওয়ামী লীগ এটিকে শহীদ নূর হোসেন দিবস করার জন্য সমর্থন প্রদান করে এবং এই নামটি এখন পর্যন্ত বহাল রয়েছে।পদত্যাগের পর এরশাদের জাতীয় পার্টি আওয়ামী লীগের সাথে একত্রে মহাজোট গঠন করে। ১৯৯৬ সালে এরশাদ, নূর হোসেনের মৃত্যুর জন্য জাতীয় সংসদে অফিসিয়াল ভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করে। তার দল জাতীয় পার্টি এখন ১০ই নভেম্বরকে গণতন্ত্র দিবস হিসেবে পালন করে।
২০১২ সালে এরশাদ অভিযোগ করেন বিরোধী দলগুলো নূর হোসেনকে তার সরকার বিরধী একটি প্রতীকে রুপান্তরিত করেছে। তিনি বলেন, "আপনারা (বিরোধী দল) আমাকে সরাতে লাশ নিয়ে এসেছিলেন, কারণ আন্দোলনকে চাঙ্গা করতে এটা দরকার ছিল।" প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১০ই নভেম্বরের স্মৃতিচারন করে বলেন, সেদিন আমরা যখন মিছিল শুরু করছিলাম তখন নূর হোসেন আমার পাশে দাড়িয়ে ছিল। আমি তাকে কাছে ডাকলাম এবং বললাম তার গায়ের এই লেখাগুলোর কারণে তাকে পুলিশ গুলি করবে। তখন সে তার মাথা আমার গাড়ির জানালার কাছে এনে বলল, "আপা আপনি আমাকে দোয়া করুন, আমি গণতন্ত্র রক্ষায় আমার জীবন দিতে প্রস্তুত।" নূর হোসেনের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তার নামে স্মারক ডাকটিকেট প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতি বছরের ১০ই নভেম্বর বাংলাদেশে নূর হোসেন দিবস হিসেবে পালন করা হয়। এছাড়া তিনি যে স্থানে পুলিশের গুলিতে নিহত হন, তার নামানুসারে সেই জিরো পয়েন্টের নামকরণ করা হয়েছে নূর হোসেন স্কয়ার। ১০ই নভেম্বর তার মৃত্যুর কিছু সময় পূর্বে তোলা তার গায়ে লেখাযুক্ত আন্দোলনরত অবস্থার ছবিটি বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
সুত্রঃ উইকিপিডিয়া। ছবিঃ অনীশ্বরবাদী।
---------- মৃত কালপুরুষ
              ১০/১১/২০১৭

রবিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০১৭

নারী’র চিন্তাজগত উন্মোচনের অবারিত ক্যানভাস।



ব্যাক্তিগতভাবে আমি সকল নারীবাদী নারীদের শ্রদ্ধা করি। আমি প্রকাশ্যেই বলি আমি তসলিমা নাসরিন এর আদর্শ ফলো করি। আর তসলিমা নাসরিন এর আদর্শ যেসব নারী ফলো করে তাদেরকেও আমি সম্মান করি। কারন তারাই পারবে আমাদের সাথে কন্ঠ মিলিয়ে ধর্মান্ধ এই পচা সমাজের পরিবর্তনে এক বড় ভূমিকা রাখতে এবং রাখছেও তারা। তাই পুরুষ হবার পরেও তাদের পুরুষবিদ্বেষি কথাবার্তা আমার কাছে ভালো লাগে যা আমি কখনই তা গায়ে নেইনা। কারন আমি জানি তারা যে কাজটি করছে তা অনেক কঠিন একটি পথে হাটার মতো কাজ করছে। আমি মনে করি নারীবাদ একটি জটিল বিষয়। এটা গভীরভাবে বুঝতে হলে নিজেকে সমাজের ঐ স্তরে নিয়ে যেতে হয়। না হলে চিন্তার সীমাবদ্ধতা ধরা পড়তে পারে। এখন আমি যদি নিজেকে মুক্তমনা দাবী করে নারীবাদীদের কথা নিজের গায়ে নিয়ে নেই তাহলে আমি মুক্তমনাদের কাতারে থাকলাম কিভাবে ? আজকের এই লেখাটি এলিজা আকবর কে নিয়ে সমালোচনা করছেন তাদের উদ্দেশ্য, পাশাপাশি আবার এলিজা আকবর ও সমমনাদের উদ্দেশ্যেও সমান মনে করতে পারেন।
বর্তমানে দেখছি আবার নতুন করে এভ্রিল প্রসঙ্গ দারুন ভাবে ভাইরাল হয়েছে। কেউ তার পক্ষে আছে তো কেউ বিপক্ষে। আমি সবসময় লিঙ্গ নিরাপেক্ষ থেকে এসব বিষয় দেখার চেষ্টা করি। এভ্রিল প্রসঙ্গে আসিফ মহিউদ্দীন এর একটি লেখা আমার কাছে সব থেকে ভালো লেগেছে যা না বলে পারিনা। কিন্তু বর্তমানের অনেক নারীবাদী নারীকে দেখে আমার মনে হয় তারা লেখার জন্য বা আলোচনার জন্য হয়তো কোন টপিক্স খুজে পায় না। কারন তাদের একমুখী চিন্তা ভাবনা আর একই বিষয়ে বারবার আলোচনা কিন্তু তার প্রমান দিচ্ছে। আমি জানি এবং ভয় পায়, না জানি অযাচিত কোন কথা বলে আবার কারো আক্রোশে না পড়ি। নারীবাদীরা নিঃসন্ধেহে যথেষ্ট ভালো কাজ করছে এবং তারা যেভাবে সমাজের প্রথা বিরোধী কাজে অংশ গ্রহন করছে তা আর কাউকে দেখিনা। কিন্তু আমার মনে হয় দ্বিমত বা সমালোচনা থাকা প্রয়োজন। তাই যদি না হয় তবে তারা যে সঠিক পথে আছে বা কোন ভুল হচ্ছে না সেটা কিভাবে বোঝা যাবে। সেটা কিন্তু আপনার লেখার নেগেটিভ কমেন্টস গুলা দেখে বোঝা সম্ভব না। আপনার দৃষ্টিভঙ্গি আমাদের এই পচা সমাজে কতটুকু আলোচিত হচ্ছে বা তা কতটুকু ফলপ্রসূ।
প্রথমেই আমার সমমনা পুরুষদের বলবো নারীবাদীদের পরুষবিদ্বেষী কোন কথা আপনার অনুভুতিতে আঘাত লাগার কথা বলে নিজের দিকে টেনে না নেওয়ার অনুরোধ রইলো। কারন আপনার যদি এসব অনুভুতি থাকে তাহলে ধর্মান্ধদের যে চাপাতি অনুভুতি আমরা দেখি তার সাথে কোন পার্থক্য থাকলো না কিন্তু। আমি মনে করি আমাদের আগে দেখা উচিত তারা কিভাবে আমাদের ঘুনে ধরা সমাজে আঘাত করছে। আর সেই আঘাতটাই জরুরী। সকলেরই উচিত হবে নারীবাদীদের গভীরের তত্বটা উপলব্ধি করার চেষ্টা করা, হোক সেটা পুরুষবিদ্বেষী।
এবার এলিজা আকবর প্রসঙ্গ নিয়ে দু চারটা কথা বলি। নারীতে তার লেখা দেখলাম। আমরা জানি আমাদের সমাজে ধর্ষন একটি বড় সমস্যা আর অবশ্যয় নারীবাদীদের এব্যাপারে আরো সোচ্চার হতে হবে আরো আরো প্রচার করতে হবে এটা বন্ধ করার জন্য। এখন কথা হচ্ছে আরো অনেকেই করেছে এরকম জেনারেলাইজ কিন্তু বারবার এই জেনারেলাইজ করে গড়ে সব পুরুষদের এক দলে ফেলে দেওয়া মনে হয় এক প্রকারের উৎসাহ দেওয়া হয়ে যায় এই সব ধর্ষকদের। অবশ্য এটা আমার ব্যাক্তিগত মতামত। এলিজা আকবর এর লেখা আমি বলবো সহজ ও সাবলিল ভাষা ব্যবহার করে খুব সুন্দর যুক্তি দিয়ে শেষ করা হয়েছে। আমি তার লেখার বিষয়বস্তুর সাথে একমত হতে পারলেও বহুল আলোচিত একটি কথা “সব পরুষই মস্তিষ্কে ধর্ষক” এই কথাটির সাথে তার লেখার মিল খজে পাই নাই।
আমি জানিনা সে এই কথাতে কি বোঝাতে চাইছে কারন সে ভেতরে বলেছে আবার “সব দেশেই, সব পুরুষ'ই সম্ভাব্য ধর্ষণকারী। পৃথিবীতে পৌরাণিক কাল আর নেই, তাই দেবতারা আর ধর্ষণ করে না। তবে আজকাল আমি, তুমি, সে এবং আমরাই প্রকৃত ধর্ষণকারী” এই কথার সাথে কিন্তু সম্ভাব্য কথাটা যোগ করা আছে। তাহলে কিন্তু শিরনামের সাথে প্রথমেই একটি অমিল দেখা যাচ্ছে। যেই কারনে আমি এটা নিয়ে সমালোচনা করছি এর বেশি কিছু না। এই বিষয়টিকে নেগেটিভ ভাবে নিবেন না। আমি জানি এলিজা এখানে নিজেকে ভিক্টিমাইজেশন করছে না। এরকম বিতর্কিত বিষয়টি বা কথাটি তার শিরনামে দিয়ে সে আমাদের দৃষ্টি আকর্ষন করার চেষ্টাও করছে না আবার তার উদ্দেশ্য আলোচনায় থাকা এমন ভাবারও কোন কারন নেই। কারন আমাদের দেশে ধর্ষন কিন্তু বন্ধ হইনি। কিন্তু একটু ভেবে দেখবেন কি, আমাদের দেশের সাধারন জনগন কিন্তু ভেবে বসে থাকবে যে ধর্ষন করা কিন্তু পুরুষের সহজাত বৈশিষ্ঠ তখন আপনার এই লেখার উদ্দেশ্য কোন পর্যায়ে থাকবে।
আমার মনে হয় নারীবাদীরা এগিয়ে যাক আমরা সব সময় তাদের সাথে আছি। তারা বারবার এই সমাজে আঘাত করুক, জাতে আর কিছু না হলেও সেই শ্রেনীর তাদের সেই স্থান জ্বলে পুড়ে যায়। নারীকে শুধুই ধর্ম ছোট করেনি, রাষ্ট্র, সমাজ সমান ভাবেই এর জন্য দায়ী। আমরা সব সময় তাদের পাশে আছি। তবে কথা হচ্ছে তাদেরকেও খেয়াল রাখতে হবে তাদের সমমনাদের সাপোর্ট হারিয়ে কিন্তু এই পরিবর্তন আনা সম্ভব না। তাই খেয়াল রাখতে হবে ধর্মান্ধদের মত কোন বেফাশ কথা যেনো তারা না বলে ফেলে।

---------- মৃত কালপুরুষ
              ১৫/১০/২০১৭