বুধবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

আমার ৫৭ ধারা ও সংবিধান জ্ঞান এর খোলা চিঠি ( পর্ব - ৩ ) শেষ পর্ব।


গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে কোন আইনের ধারা পরিবর্তন সম্পর্কে স্পষ্ট লেখা আছে যে, সংবিধান ( পঞ্চাদশ সংশোধন ) আইন, ২০১১ ( ২০১১ সনের ১৪ নং আইন ) - এর ৪১ ধারাবলে সংশোধন করা, সংযোজনা করা, প্রতিস্থাপন করা, বা বিলুপ্ত করা যাবে। যেভাবে ১৯৭৩ সালের প্রথম সংশোধিত জরুরী অবস্থা আইন ২০১১ সালের পঞ্চাদশ সংশোধনীতে এই ২০১১ সালের ১৪ নং আইন এর ৪১ ধারাবলে তা বিলুপ্ত করা হয়। আর আইন মন্ত্রী আনিসুল হক স্যার আমাদের সেরকম একটি গল্পও শুনিয়েছে যা আমি আমার আগের একটি লেখাতে বলেছি। এই ধারাবাহিক লেখাটি লেখার জন্য আমাকে ৫৭ ধারার সুত্রপাত সম্পর্কে অনেক খোজ খবর নেওয়া লেগেছে। ৫৭ ধারা বিলুপ্ত হবার দাবী যেসব মুক্তমনারা আগে থেকেই জানিয়ে আসছিলো তাদের সাথে আমি সহমত রেখে লিখেছি । কিন্তু ইমতিয়াজ মাহমুদ ভাই এর মতো মানুষকে যখন এই ৫৭ ধারায় আসামী হতে দেখলাম তখন থেকেই ৫৭ ধারার সৃষ্টি রহস্য আমাকে ভাবাতে শুরু করলো। তাই আমি অনেকের কাছ থেকে মতামত নিয়ে লেখার চেষ্টা করেছি। এরকম একজনের মত হচ্ছে-
আইসিটি এক্টের ৫৭ ধারার এই আইনটি প্রনয়নের আগে বাংলাদেশ সফটওয়ার এ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি, আইএসপি এসোসিয়েশন, এবং বেশ কিছু আই টি বিশেষজ্ঞের সাথে মন্ত্রণালয় অনেক আলোচনা করেছে। যদিও তারা হয়তো মূলতঃ টেকনিক্যাল বিষয়গুলোতেই দৃষ্টি নিবদ্ধ রাখতে পেরেছে, কিন্তু ৫৭ ধারাটির ব্যাপারেও তারা কেন মুখ বুজে থাকলেন বুঝতে পারছি না।



এই মন্তব্যর পরে আমি যা বলেছিলাম তা আর লেখছি না, তবে ২০০৬ সালে যখন এই আইন আইসিটি এক্ট তৈরি করা হলো তখন কেন একসাথে এই বিষয় গুলো যুক্ত হলো না। তখন কি ব্লগার রা অনলাইনে লিখতো না। নাকি সোশ্যাল মিডিয়া ছিলো না। আচ্ছা ঠিক আছে ২০০৬ সালের অনলাইন আর সোশ্যাল মিডিয়ার ইউসার কম ছিলো তা মানছি। তাই ২০১৩ আবার সংশোধন করার প্রয়োজন পড়েছে। কিন্তু এই সংশোধনের পুর্বে কেন শুধু বাংলাদেশ সফটওয়্যার এসোসিয়েশন, বাংলাদেশ কম্পিউটার এসোসিয়েশন, আইএসপি এসোসিয়েশন, আর কিছু আইটি বিশেষজ্ঞের সাথে কথা বলা হলো। আমার মনে হয় তারা সরকারকে শুধু টেকনিক্যাল কিছু বিষয়েই ধারনা দিয়ে এই আইনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। সরকার কিছু লেখকের সাথে কথা বলে এই সীদ্ধান্ত নিলেন না কেন। এখানে কারো নাম উল্লেখ করতে চাচ্ছিলাম না তার পরও জাফর ইকবাল স্যারের কথা চলে আসে। তার লেখায় আমি কখনও উস্কানী মুলক কিছু পাই নাই সব সময় তার লেখা ফলো করে এসেছি। তার আদর্শ ফলো করি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর দর্শন বিভাগের অধ্যাপক আমিনুল হক স্যার এর লেখাও ভালো লাগে।আর দেশে ছোট বড় পর্যায়ের কিছু লেখা ব্লগার তো আছেই। আমি মনে করি এই জাতিয় আইন বাস্তবায়ন এর ক্ষেত্রে অবশ্যয় তাদের সাথে কথা বলা উচিৎ। কারন সবাই নিজস্ব স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়েই ভাবে। তারা হয়তো কেবল টেকনিক্যাল বিষয়েই মত দিয়েছেন। ৫৭ ধারা নিয়ে বলতে হবে লেখকদেরই-- তাদের তো আর ডাকা হয়না।
আমার লেখার উদ্দেশ্য হচ্ছে যথোপযুক্ত সুনির্দিষ্ট সুস্পষ্ট সুলিখিত অতি শীঘ্র আইসিটি আইন সংশোধন করে প্রয়োগ করা হোক। কীভাবে তা করা যায় সমালোচনার পাশাপাশি তার রূপরেখাও কেউ আলোচনা করেন। যদিও আইন মন্ত্রী বলেছেন আমাদের, যে ৫৭ ধারা বাতিল করা হবে। কিন্তু তার চেয়ে জটিল আরো প্যাঁচওয়ালা কিছু কথা আমার মনে হচ্ছে যে ১৯ ও ২০ ধারার সাথে যোগ করা হচ্ছে। আমি চাই আবার সবাইকে নিয়ে আলোচনা করা হোক লেখকদের মতামত সংগ্রহ করা হোক। যেহেতু গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে স্পষ্ট উল্লেখ আছে জনগন এর মতামত দেওয়ার অধিকার আছে। এর আগের পর্বের লেখাতে রেফারেন্স দিয়েছি আর দেওয়া লাগবে বলে মনে করছি না।



আমার একটি মতামত হচ্ছে, যেহেতু অনলাইন বিষয়ক আইন তাই সরকারি ভাবে অনলাইনে একটি জরিপ এর ব্যবস্তা করা হোক। জনগণের মতামত চাইতে হবে। ওয়েবসাইটে দিন-তারিখবিহীন নোটিস রেখে দিলে তো হবে না।পত্রিকায়,অনলাইনে,রেডিওতে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে মতামত চাইতে হবে-জনগণ কী চায় শুনতে হবে। তাদের জন্য একটি সাইট খুলে রাখতে হবে যেখানে তারা তাদের মতামত লিপিবদ্ধ করে রাখতে পারে।
আইনটা আগামী সরকারের জন্য বর্তমান সরকারের এক বিশেষ উপহার। আগামীতে বিএনপি জামাত যদি ক্ষমতায় আসে তাহলে মাসখানেকের মধ্যে এই আইনের বলে ব্লগ-ফেসবুকে যারা যুদ্ধাপরাধীর বিচার নিয়ে যারা গলা শুকিয়ে ফেলেছে, মুক্তিযুদ্ধের পতাকাকে সর্বোচ্চ স্থানে রাখার জন্য হাতের আঙুলের গিট ব্যথা করে ফেলেছে, তাদের সবাইকে সাফা করে ফেলতে পারবে।
শুধু তাই না, ব্লগ, ফেসবুক, ইউটিউব, মায় তাবত ইন্টারনেটই নিষিদ্ধ হয়ে যেতে পারে। কারণ সবগুলোর মধ্যে অনুভুতিকে কাতকুতু দেবার ক্ষমতা আছে। কার মনে কোন কারণে ব্যথা লাগে তা তো বলা যায় না। ব্যথা লাগলেই পুলিশ কেস, সাত বছরের জেল।
যে কাজটা বিএনপি জামাত সরকার আসলে করতো, সেটা আগেই করে দিল আওয়ামী লীগ। যাতে বন্ধুরা ক্ষমতায় এসেই খপাখপ ধরপাক্রামি শুরু করতে পারে।



এসব বলা ৫৭ ধারা মতে একেবারেই আইনের চোখে তুখোড় অপরাধীর পর্যায়ে পড়ে। বলে আমি এগুলা কাউকে বলছি না। এটা শুধুই আমার মনোভাব ও সংবিধান জ্ঞান। তাই এই লেখা তিনটা আমি খোলা চিঠির আকারে আমার ওয়ালে পোস্ট করলাম। এই লেখার মাধ্যমে কেউ যদি কষ্ট পেয়ে থাকেন তাহলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। ধন্যবাদ সবাইকে।

-------মৃত কালপুরুষ
        ১৩/০৮/২০১৭

#Act_57 #৫৭_ধারা #৫৭_ধারা_নিপাত_যাক #বাকস্বাধীনতা_মুক্তি_পাক

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন