বুধবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

ধর্মীয় জঙ্গিবাহিনী আল কায়েদার তাণ্ডবলীলা।


মুসলিম জাতির হত্যা ও হামলার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা ও আজকের এই দিনে বিশ্বব্যাপী পরিচিতি লাভ করা মুসলিম জঙ্গিবাহিনী আল কায়েদার কথা আরো একবার জেনে নিন। ২০০১ সালের সেপ্টেম্বর মাসের ১১ তারিখ ইউটিসি সময় ১০:২৮ মিনিট হতে ম্যানহাটন, নিউ ইয়র্ক সিটি, নিউ ইয়র্ক আর্লিংটন কাউন্টি, ভার্জিনিয়া, শ্যাণ্ডসভিল, পেনসিলভানিয়া এর পাশের স্টোনসিকি টাউনশিপে এক সাথে পর পর অল্প কিছু সময়ের ব্যবধানে হামলা ও গণহত্যা করে ইসলামিক জঙ্গিবাহিনী আল কায়েদা বিশ্বব্যাপী পরিচিতি লাভ করে। তাদের হামলার প্রধান টার্গেট ছিলো ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার এর দ্যা টুইন টাওয়ার ও পেন্টাগন হাউজ। এই জঙ্গিবাহিনী আল কায়েদা সেদিন হামলায় ব্যবহার করেছিলো কিছু ছিনতাই করা যাত্রীবাহী প্লেন যার নাম (এএ১১ এবং ফ্লাইট ১৭৫) টুইনটাওয়ার, (এএ৭৭) পেন্টাগন , হোয়াইট হাউস বা ইউএস ক্যাপিটল হামলায় ব্যর্থ হওয়া (ইউএ ৯৩)।
এই সবই ছিলো ইসলামিক জঙ্গিবাহিনী আল কায়েদার মোট ১৯ জন সদস্যের একটি আত্তঘাতী দলের পরিকল্পিত হামলা। যা বিশ্ববাসীর কাছে আজো গনহত্যা বলে স্বীকৃত। এই সন্ত্রাসী হামলায় আজকের দিনে নিহত হয়েছিলো ২,৯৯৬ জন মানুষ যার মধ্যে ২,৯৭৭ জন ঘটনার শিকার + ১৯ অপহরণকারী এবং আহত হয়েছিলো ৬০০০+ মানুষ। এদের কারো ধর্ম আর নাগরিকতা আমার জানার দরকার পড়ে না আমি শুধু জানি তারা ছিলো মানুষ। যে ১৯ জন মানুষের দ্বারা এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটানো হয়েছিলো তারাও ছিলো মানুষ কারন তারাও দেখতে ছিলো হোমোস্যাপিয়েন্স এর বংশধরদের মতোই। হয়তো তারা বিশ্বাস করতো তারা ছিলো আদম নামক কোন এক হাইব্রিড মানবের বংশধর। যেটাই কাল হয়েছিলো আজ থেকে ১৬ বছর আগের আজকের এই দিনটিতে ঘটে যাওয়া ঘটনার শিকার হওয়া মানুষগুলির জীবনে।



আল-কায়িদা বা আল-কায়দা একটি আন্তর্জাতিক ইসলামী জিহাদি সন্ত্রাসবাদী জঙ্গি সংগঠন। যাদের জাল ছড়িয়ে আছে সারা বিশ্বে। তারা মুসলমানদের পক্ষে কাজ করে, বর্তমান মায়ানমার এর রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মতো নির্যাতিত মুসলমানদের সাহায্য করে বেড়াই, এমনটি দাবি করে থাকে দলটি। তবে সর্বোপ্রথম ১১ সেপ্টেম্বর ২০০১ সালের সন্ত্রাসী হামলার ঘটনার জন্য বহুলভাবে পরিচিত এই দলটিকে আজ পর্যন্ত কোন মানব জাতিকে সাহায্য বা সহযোগিতার কথা কোথাও শোনা যায় নাই। পরবর্তিতে এই মুসলিম জঙ্গিবাহিনী আল কায়েদাকে ধ্বংস করা ও এর প্রধান ওসামা বিন লাদেনের মৃত্যু সংবাদ পাওয়া গিয়েছিলো বলে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম দাবী করে। কিন্তু নতুন করে আল কায়েদা ইন এরাবিয়ান পেনিনসুলা নামের আরো একটি ইসলামী জঙ্গিবাহিনীর বিভিন্ন জিহাদ এর কথা ছড়াতে থাকে।
আল-কায়েদা ইন অ্যারাবিয়ান পেনিনসুলা সংক্ষেপে একিউএপি। এই সংগঠনটি ইয়েমেনভিত্তিক হলেও আফ্রিকার প্রায় প্রতিটি জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গেই এদের সম্পর্ক আছে। পাকিস্তান ও আফগানিস্তানে দীর্ঘ মার্কিন সামরিক অভিযানে এ অঞ্চলের আল-কায়েদা দুর্বল হয়ে পড়লে এর গুরুত্ব বেড়ে যায়। বর্তমানে আল-কায়েদার শাখা সংগঠনগুলোর মধ্যে একিউএপি-ই সবচেয়ে শক্তিশালী। বর্তমান ইসলামিক জঙ্গি বাহিনীর মধ্যে আইএসাইএস, বোকো হারাম, আল কায়েদা ও তালেবান প্রধান। এদের কিছু ভাই ব্রাদার হচ্ছে মায়ানমার এর রাখাইন রাজ্যের রোহিঙ্গা জঙ্গিবাদী দল গুলি। কিন্তু তারা এদের তুলনায় এতই সামান্য যে এদের নাম বললে কেউ চিনবে না। যেমন আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি বা এ আর এস এ এবং আল আকসা। এই রকম প্রায় ৫০টি জঙ্গিগোষ্ঠি আছে এই আরাকান বা রাখাইন রাজ্যে। তাদের উৎপাতে আজ বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ১১ লক্ষ অসহায় রোহিঙ্গা জাতি বা মানুষের মুখের দিকে তাকালে বোঝা যায় ইসলামী জিহাদি জঙ্গিদের ভয়াবহতা।
এখন কথা উঠিতে পারে এই কথা কেন বলছেন না, বৌদ্ধ আর মায়ানমার সেনাবাহিনীর অত্যাচার এর কথা। তাদের উদ্দেশ্যে বলা, ভাই এক হাতে তালি বাজে না তা আমি কি করবো। লেখার উদ্দেশ্য পালটে যাচ্ছে তাও একটু বলি। এটা তোলার কারন বাংলাদেশের চলচ্চিত্র জগতের একজন প্রাক্তন পরিচিত মানুষ ওমর সানীর করা একটি উস্কানি মূলক কথার প্রতিক্রিয়া জানিয়ে একটি লেখা দেওয়াতে এক জঙ্গিবাদী ভাই আমাকে বলেছিলো আপনি কেন লিখেছেন "যদি" নির্যাতন হয়েই থাকে। এই "যদি" কথাটার জন্য এই আইটেমটি আমার লেখার অন্তসার শুন্য বলে দাবী করেছে। তাই এই জাতীয় দেশি কিছু আইটেম এর উদ্দেশ্যেই এই ছোট্ট ক্যাচাল টি আমাকে করতে হলো। যাই হোক আমরা আবার ১১ সেপ্টেম্বর এর সেই মর্মান্তিক ইসলামিক জঙ্গিদের হামলায় ফিরে আসি।
১১ সেপ্টেম্বরের হামলা বা 9/11 হামলার পরিচিতি অন্যভাবেও আছে। সেপ্টেম্বর ১১, ২০০১ এর হামলা (ইংরেজিতে 9/11 নামেও পরিচিত) সেপ্টেম্বর ১১, ২০০১ এর মঙ্গলবার সকালে যুক্তরাষ্ট্রের উপর আল কায়েদার জঙ্গিবাহিনীর একইসাথে চারটি সমন্বিত সন্ত্রাসী হামলা এই ৯/১১ এর ঘটানাকেই বোঝাই। এই ৯/১১ হামলায় প্রায় ৩০০০ মানুষের মৃত্যু এবং ধ্বংসপ্রাপ্ত হয় ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের অধিক অবকাঠামো ও সম্পদ। যা আমেরিকার ইতিহাসে এক বিরাট বিপর্যয় ছিলো।
৯/১১ এর হামলা নিয়ে পরবর্তীকালে অনেক ইনভেস্টিগেশন হয়। তাতে বিভিন্ন ধরনের কথা উঠে আসে। এরকম একটি প্রামাণ্য চিত্রের কথা একটু বলি। যেটা ইউটিউব এ গেলেই দেখতে পারবেন। এই প্রামান্য চিত্রতে ৯/১১ তে আমেরিকায় তথাকথিত সন্ত্রাসী হামলার তাৎক্ষনিক টেলিভিশন রিপোর্টগুলোর সাথে আছে কিছু যৌক্তিক বিশ্লেষণ। এতে বেরিয়ে আসছে যে বুশ প্রশাসনের দেয়া ব্যাখ্যা মনগড়া। দুই টাওয়ার ধ্বসে পড়ায় জেট ফুয়েলের কোন ভূমিকা নেই। ওগুলো আগে থেকে পেতে রাখা বোমা দিয়ে উড়িয়ে দেয়া হয়েছে প্রশাসনের লোকজনের ব্যক্তিগত স্বার্থ সিদ্ধির জন্য। ইন্টারনেটের মত একটা মাধ্যম না থাকলে এই ঘটনাটা অতি সহজেই ধামাচাপা দিয়ে ফেলতো সংশ্লিষ্টরা। এরকম মনোভাবও ব্যাক্ত করেন কিছু জঙ্গিবাদী মুসলমানেরা।



কিছু জঙ্গিবাদী ইসলামী মানুষের মতে, এটাকে কনস্পিরেসি থিওরীও বলে উড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, এটা বানানোর সাথে জড়িতদেরকে বিভিন্ন ভাবে নাকাল করা হচ্ছে। মুক্তচিন্তার দেশ আমেরিকার প্রচারমাধ্যমে এটা কখনও প্রচার হয়নি। নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার দুটি টিভি চ্যানেল এই রকম আরেকটি ভিডিও প্রচার করে, চাইলে ইউটিউব এ গিয়ে সেটাও দেখতে পারবেন। আসুন আমরা আজকের দিনে এই ধর্মীয় হামলায় প্রান দেওয়া সেই, প্রায় ৩ হাজার মানষকে কিছু সময়ের জন্য মনে করে শ্রদ্ধা জানাই।

----------- মৃত কালপুরুষ
               ১১/০৯/২০১৭

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন