একজন মুক্তমনা আর একজন ধার্মিক ব্যক্তির মধ্যে বড় একটি পার্থক্য হচ্ছে, যদি কোন ধার্মিক ভুল এবং মিথ্যা কথা তার ধর্মের নাম ব্যবহার করে প্রকাশ করতে থাকে তবে আর দশজন ধার্মিক তার কথাকে যাচাই বাছাই না করেই না দেখেই বাহবা দিতে শুরু করে। মনে করে সেই একমাত্র সঠিক আর বাকি যা কিছু আছে সবই মিথ্যা। কিন্তু একজন মুক্তমনা লেখক যদি ভুল কোন তথ্য ব্যবহার করে কিছু লিখে থাকে, তবে অন্যান্য মুক্তমনারা তার লেখা খুব দক্ষতার সাথে খুটিয়ে খুটিয়ে দেখে তার ভুল ধরিয়ে দেয় বা সেই বিষয়ে আলোচনা করে। ধার্মিকদের মধ্যে ৮০% থাকে একেবারেই অজ্ঞ মূর্খ প্রকৃতি্র।যারা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার বাইরে যে জ্ঞান আছে সেই বিষয়ে একেবারেই অজ্ঞ। যারা ফেসবুক নামক প্লাটফর্মটিকে ব্যবহার ঠিকই করে কিন্তু “আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি” এই কথাটুকু লিখতে গিয়ে ৬ যায়গায় বাংলা ভাষাটিকে ধর্ষণ করে। মানে বানানের ভুল করে আরকি।
এই জাতীয় কিছু ধার্মিক বান্দাদের এখন ফেসবুক প্লাটফর্মে খুব বেশি দেখা যাচ্ছে। যারা অনেকেই কথার আগামাথা না বুঝেই লেখকের উপরে তাদের গালাগালির তালিকা নিয়ে দলে দলে ঝাপিয়ে পড়ছে এবং তাদের ঈমানী ধর্ম পালন করছে। কিছুক্ষন আগে Abdullah Al Masud এর নাম দিয়ে বানানো একটি আইডি থেকে আমার কাছে একটি ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট আসে। আইডিটা দেখি "আবদুল্লাহ আল মাসুদ" এর নাম, তার ফেসবুক প্রফাইলে যে ছবি ব্যবহার করা আছে সেই ছবি এসব দিয়েই তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু আইডিটি তৈরি করা কয়েছে মাত্র ১ ঘন্টা আগে। এর মধ্যে আমাকে Bonggoj Bihonggo সতর্ক করে দিয়ে জানালো Abdullah Al Masud এর আইডি ফেক করা হয়েছে এবং তা থেকে সবাইকে রিকুয়েস্ট পাঠানো হচ্ছে। আমি সাথে সাথে আব্দুল্লাহ আল মাসুদ এর কাছে ম্যাসেজ করে জানতে চাই ঘটনা কি। সে আমাকে তার পোস্ট দেখতে বলে। নিচে প্রথম কমেন্টে তার পোস্ট এর লিঙ্ক। তার পরেই আমি বুঝতে পারলাম এটা কোন না কোন ধার্মিকের কাজ। আবদুল্লাহ আল মাসুদের কোন কথার জবাব না দিতে পেরে এখন তার নামে ফেক একাউন্ট খুলে এই জাতীয় মিথ্যাচার ছড়াচ্ছে। নিচের ছবিটি যার প্রমান।
তাহলে ভেবে দেখুন সত্য পথ অবলম্বন করে কারা কথা বলে আর মিথ্যার আশ্রয় কারা নেয়। এই ঘটনা থেকে কি প্রমাণিত হচ্ছে একটু ভেবে দেখবেন। কিছু কাঠমোল্লা টাইপের আইটেম আছে ফেসবুকে। যাদের মাথা সাধারন মানুষের থেকে একটু মোটা বলা চলে। যারা যুক্তি বা তর্ক করে মুক্তমনাদের ভুল ধরতে পারে না তারা প্রথমে গালাগাল আর খারাপ ভাষার ব্যবহার করে তাদের প্রাথমিক পরিচয় দিয়ে থাকে । পরবর্তিতে এই ধরনের হাস্যকর কিছু কাজ করে নির্বুদ্ধিতার ষোলকলা প্রমান করে। আমার লেখার উদ্দেশ্য সেই সব ধার্মিক ভায়েদের কাউকেই ব্যক্তিগত আঘাত করা নয়। তাদেরকে এটাই বোঝানো যে, এগুলো সঠিক পন্থা নয়। আপনার জ্ঞান মানুষের মাঝে প্রচার করার ইচ্ছা থাকলে। আপনি যদি ভূল না হয়ে সঠিক হয়ে থাকেন তবে আসল পরিচয় নিয়ে সামনে আসুন আর আপনার কি মনোভাব আছে তা ব্যাক্ত করুন। যদি সাধারন মানুষ সহ সকলের কাছে তা গ্রহন যোগ্য হয়, তবে অবশ্যয় আপনাকে আপনার প্রাপ্য সম্মান করা হবে।
অবশেষে বলা যায় এই লেখাটির কারনে অনেকেই আমার উপরে খুব রেগে যাবেন। যারা রেগে যাবেন তাদের জন্য এই মূহুর্তে আমার করূণা ছাড়া আর কিছুই হচ্ছে না। আমি জানি তারাই হচ্ছেন আগামীর ধর্মীয় পথ প্রদর্শক এবং বিজ্ঞানী ও ধর্মীয় লেখক আর ফেসবুকার। এর মধ্যেই যারা এই কাজ করেছেন তারা হইতো আবদুল্লাহ আল মাসুদ এর আইডির নকল বানানোর কারনে অনেকের কাছে প্রশংসার পাত্রও হয়ে গিয়েছে। কেউ কেউ বলা শুরু করেছে এরাই হচ্ছে আগামীর আল্লামা সাইদী বা অন্য কেউ। আমি মনে করি এই সমস্যা তাদের না। এটা তারা পেয়েছে তাদের ধর্মীয় শিক্ষা ব্যাবস্থা থেকে। এখানে কমপ্লিটলি দায়ী তাদের ধর্মীও শিক্ষা ব্যাবস্থা। সেই ব্যার্থতা নিতে হবে আমাদের সকলেরই। হয়তো আমার দেশের ধর্মব্যাবস্থা দ্বারা পরিচালিত সমাজব্যাবস্থা তাদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করতে পারেনি। এখন যারা আমাকে গালি দিবেন বা আমার কল্লা নিয়ে চিন্তা করবেন তাদের উপরে আমি আমার প্রশ্ন ছুড়ে দিলেম। আপনারাই বিবেচনা করে দেখবেন আপনারা কোন পথ অবলম্বন করছেন।
----------- মৃত কালপুরুষ
২২/০৯/২০১৭
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন