মহাবিশ্ব লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
মহাবিশ্ব লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

রবিবার, ২৪ ডিসেম্বর, ২০১৭

মহাকাশের সৃষ্টিতত্ব ও ধর্মীয় মতবাদ।


খুব সহজ একটি কথা বিভিন্ন ধর্মের বিভিন্ন ঈশ্বর বিশ্বাসী অথবা সৃষ্টিবাদীদের আমারা বলতে শুনে থাকি। যেমন- আমাদের এই পৃথিবী যেই গ্যালাক্সির মধ্যে আছে বা এরকম বিলিয়ন বিলিয়ন, ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন গ্যালাক্সি যেই মহাবিশ্বের (ইউনিভার্স) এর মধ্যে আছে অথবা এরকম আরো বিলিয়ন বিলিয়ন মহাবিশ্ব (মাল্টিভার্স)যদি থেকে থাকে তাহলে এসবই যেকোন একজন বা বহুজন ঈশ্বর সৃষ্টি করেছেন (যার যার ধর্মের ঈশ্বর অনুযায়ী)। কিন্তু আজ পর্যন্ত পৃথিবীর কোন ধর্মের ঐশরিক কিতাব বা ঈশ্বরের বানীতে তার ৯৯,৯৯% বাদ দিয়ে যা থাকে তা থেকেও সব বাদ দিয়ে মাত্র ০,০১% এর মতো তথ্য কেন ঈশ্বরেরা এই পৃথিবীর সাধারন মানুষকে দিতে পারেনি আজো ? এটা একটা ছোট্ট প্রশ্ন রাখা হোক সমস্ত ঈশ্বরে বিশ্বাসী মানুষদের কাছে। এই সব গ্রহ, উপগ্রহ, নক্ষত্র, গ্যালাক্সি, ছায়াপথ, মহাবিশ্ব সবই যদি কোন একজন ঈশ্বর বা কয়েকজন ঈশ্বরের সৃষ্টি হয়ে থাকবে তাহলে এতো বিলিয়ন বিলিয়ন, ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন গ্রহ, উপগ্রহ, নক্ষত্র, গ্যালাক্সি, ছায়াপথ, মহাবিশ্ব বাদ দিয়ে সেই সৃষ্টিকর্তা কেন এই (পৃথিবীর মাপ অনুযায়ী) অনু বা পরমানু সাইজের একটা গ্রহ “পৃথিবী” নিয়ে এতো চিন্তিত হবেন এবং এতো আদেশ উপদেশ দিবেন এখানে বসবাস করা সাধারণ মানুষদের ? এটা আরেকটা প্রশ্ন রাখা যেতে পারে।

আধুনিক বিজ্ঞান আমাদের এই পৃথিবী যে গ্যালাক্সির মধ্যে আছে এবং সেই গ্যালাক্সির মতো বিলিয়ন বিলিয়ন গ্যালাক্সি যেই মহাবিশ্বের মধ্যে আছে সেই মহাবিশ্বের সৃষ্টি হবার কারণ “বিগ ব্যাং” বা একটি বড় বিস্ফোরন বলে থাকে। তার মানে এই মহাবিশ্বের মতো যদি আরো অনেক মহাবিশ্ব থেকে থাকে (যা বিজ্ঞানীরা ধারণা করেন মাত্র) সেগুলোও নিশ্চয় একই নিয়মে তৈরি হয়ে থাকবে। কিন্তু মহাবিশ্ব সৃষ্টির কোন কথা বা এই কোটি কোটি গ্রহ, উপগ্রহ, নক্ষত্র, গ্যালাক্সী, ছায়াপথ, মহাবিশ্ব তৈরি হবার কথা আমাদের এই পৃথিবীর একেকটি ধর্ম একেক রকমের ব্যাখ্যা দিয়ে থাকেন। বিজ্ঞানের মতো তাদের সকলের ব্যাখ্যা আবার এক নয়। একেকজন একেক রকমের ব্যাখ্যা দেন এবং প্রতিটি ব্যাখ্যার সাথেই বিজ্ঞানের অমিল পাওয়া যাওয়ার কারণেই সৃষ্টিবাদীদের সাথে বিবর্তনবাদীদের মতের অমিল দেখা যায়। তবে এক্ষেত্রে সৃষ্টিবাদীদের শিশুকাল থেকেই ধর্মের ওপরে আস্থা তৈরি করে রাখার ফলে যুক্তিসংগত আলাপ আলোচনার একটি পর্যায়ে আচরনিক সমস্যা দেখা দেয়। কিন্তু অপরদিকে একজন বিবর্তনবাদী কখনই তার আচরন খারাপ করেনা সেই আলোচনার মধ্যে, বরং চেষ্টা করে যুক্তিযুক্ত আলোচনার মাধ্যমে সঠিক ও সত্য ঘটনাটা বোঝানোর।  

যেহেতু আজকের দিনে কোন সাধারন মানুষের এই বিগ ব্যাং থিউরীর কথা অজানা থাকার কথা নয় যা প্রথম ১৯২৭ সালে বেলজিয়ামের একজন বিজ্ঞানী “জর্জ লেমিটর” আমাদেরকে বলেছিলো। পরবর্তিতে “এডুইন হাবল” নামের আরেকজন বিজ্ঞানী এই মতবাদের সমর্থন করে তা পর্যবেক্ষন করে সঠিক বলে গ্রহন করেছিলো এবং ব্যাখ্যাও করেছিলো যা আজ পর্যন্ত সেখানেই আটকে আছে। যদি এই থিউরীর বাইরে অন্য কেউ নতুন কোন গ্রহনযোগ্য তত্ব দিতে পারে তাহলে সাথে সাথে এই তত্ব বাতিল হয়ে যাবে কিন্তু তা এখনও কেউ দিতে পারেনি। আমি এখানে বিগ ব্যাং তত্বটি কি এবং কেমন তার বিস্তারিত দিয়ে আর লেখটি বড় করতে চাই না। এখন দেখুন কয়েকটি ধর্ম আমাদেরকে এই বিষয়ে কি ধারনা দেয়। যেমন প্রথমেই আমরা দেখবো এই ছোট্ট পৃথিবীর সব থেকে বহুল প্রচলিত ধর্ম “খ্রিস্টান ধর্ম” আজকে যারা তাদের সব চেয়ে বড় বাৎসরিক উৎসব পালন করবে তারা এই সৃষ্টিতত্বের ব্যাখ্যা কিভাবে দিয়ে থাকেন। এই ধর্মটির প্রধান ও পবিত্র বা ঐশরিক কিতাবের নাম হচ্ছে “বাইবেল”। এই বাইবেলের আবার বর্তমানে দুইটি ভাগ করা হয়েছে যার একটি আমরা আদিপুস্তক বলে থাকি (ওল্ড স্টেটমেন্ট) এবং অপরটিকে নতুনপুস্তক (নিউ স্টেটমেন্ট) বলে থাকি। সে বাইবেলের আদিপুস্তকের প্রথম অধ্যায়ের নাম হচ্ছে “জেনেসিস”। এই জেনেসিস শুরু হয়েছে এই মহাবিশ্ব সৃষ্টির তত্ব দিয়েই। বাইবেল মতে এই মহাবিশ্ব সৃষ্টির কারণ এখানে দেখুন -

১ শুরুতে, ঈশ্বর আকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টি করলেন। প্রথমে পৃথিবী সম্পূর্ণ শূন্য ছিল; পৃথিবীতে কিছুই ছিল না।
২ অন্ধকারে আবৃত ছিল জলরাশি আর ঈশ্বরের আত্মা সেই জলরাশির উপর দিয়ে ভেসে বেড়াচ্ছিল।
৩ তারপর ঈশ্বর বললেন, “আলো ফুটুক!তখনই আলো ফুটতে শুরু করল।
৪ আলো দেখে ঈশ্বর বুঝলেন, আলো ভাল। তখন ঈশ্বর অন্ধকার থেকে আলোকে পৃথক করলেন।
৫ ঈশ্বর আলোর নাম দিলেন, “দিনএবং অন্ধকারের নাম দিলেন রাত্রি।সন্ধ্যা হল এবং সেখানে সকাল হল। এই হল প্রথম দিন।
৬ তারপর ঈশ্বর বললেন, “জলকে দুভাগ করবার জন্য আকাশমণ্ডলের ব্যবস্থা হোক।
৭ তাই ঈশ্বর আকাশমণ্ডলের সৃষ্টি করে জলকে পৃথক করলেন। এক ভাগ জল আকাশমণ্ডলের উপরে আর অন্য ভাগ জল আকাশমণ্ডলের নীচে থাকল।
৮ ঈশ্বর আকাশমণ্ডলের নাম দিলেন আকাশ।সন্ধ্যা হল আর তারপর সকাল হল। এটা হল দ্বিতীয় দিন।
৯ তারপর ঈশ্বর বললেন, “আকাশের নীচের জল এক জায়গায় জমা হোক যাতে শুকনো ডাঙা দেখা যায়।এবং তা-ই হল।
১০ ঈশ্বর শুকনো জমির নাম দিলেন, “পৃথিবীএবং এক জায়গায় জমা জলের নাম দিলেন, “মহাসাগর।ঈশ্বর দেখলেন ব্যবস্থাটা ভাল হয়েছে।

এরকম সর্বোমোট ২৫টি পয়েন্ট আছে এই জেনেসিস অধ্যায়ে যা আমি আর এখানে দিয়ে আপনাদের মুল্যবান সময় অপচয় করাতে চাচ্ছিনা। আপনারা কেউ চাইলে বাইবেলের প্রথম অধ্যায়টি পড়ে দেখতে পারেন। এবার একটু দেখবো এশিয়া মহাদেশের আরেকটি বহুল প্রচলিত ধর্ম “হিন্দু ধর্ম” আসলে হিন্দু ধর্ম বলে কোন ধর্ম নেই, আছে “সনাতন ধর্ম” সেই সনাতন ধর্ম এই সৃষ্টি তত্ব নিয়ে কি বলে দেখুন। এই ধর্মটিতে আসলে নির্দিষ্ট কোন ঈশ্বর প্রদত্ত বা ঐশরিক কিতাবের সন্ধান পাওয়া যায়না। এই ধর্মে যে সমস্ত কিতাব বা গ্রন্থ প্রচলিত আছে তা সবই এই ধর্মের প্রাচীন ঋষিদের রচিত বেশ কিছু গ্রন্থ। আর এই সমস্ত গ্রন্থের সাথে প্রচলিত আছে আরো কিছু পৌরানিক উপাখ্যান। এই হিন্দু ধর্মে যে এক এবং অদ্বিতীয় সত্তা আছে তার নাম হচ্ছে ব্রহ্ম। আর এই ব্রহ্ম সম্পর্কে তাদের ঈশ উপনিষদে বলা আছে – (“ঈশা ব্যসমিদং সর্বং যতকিঞ্চ জগত্যাং জগত্‍। তেন ত্যক্তেন ভুঞ্জীথা মা গৃধঃ কস্যস্বিদ্‌ ধনম্”) জগতে যে কিছু পদার্থ আছে, তৎসমস্তই আত্মরূপী পরমেশ্বর দ্বারা আচ্ছাদন করিবে, অর্থাৎ একমাত্র পরমেশ্বরই সত্য, জগৎ তাহাতে কল্পিতমিথ্যা, এই জ্ঞানের দ্বারা জগতের সত্যতা-বুদ্ধি বিলুপ্ত করিবে। (তাহাতেই তোমার হৃদয়ে আসক্তি-ত্যাগরূপ সন্ন্যাস আসিবে) সেই ত্যাগ বা সন্ন্যাস দ্বারা আত্মার অদ্বৈত নির্ব্বিকার ভাব রক্ষা কর কাহারো ধনে আকাঙ্ক্ষা করিও না। এছাড়াও এটি হিন্দু ধর্মের একেশ্বরবাদী রূপ। “যার ভিত্তি এক ও অদ্বিতীয় সত্তা ব্রহ্ম। তিনি সবকিছুর উৎস। বেদের শেষ ও দার্শনিক অংশ উপনিষদে বলা হয়েছে তিনি অদ্বিতীয় সত্তা। তিনি সূক্ষ্ম ও স্থূল সব কিছুরই উৎস। এর থেকে জগতের বিভিন্ন উপকরণের সৃষ্টি হয়েছে” তারমানে এখানেই আমরা সৃষ্টির রহস্য পেয়ে যাচ্ছি।   

এছাড়াও হিন্দু ধর্মের মার্কেণ্ডয় পুরাণ মতে- যা অব্যক্ত এবং ঋষিরা যাকে প্রকৃতি বলে থাকেন, যা ক্ষয় বা জীর্ণ হয় না, রূপ রস গন্ধ শব্দ ও স্পর্শহীন, যার আদি অন্ত নেই, যেখান থেকে জগতের উদ্ভব হয়েছে, যা চিরকাল আছে এবং যার বিনাশ নেই, যার স্বরূপ জানা যায় না, সেই ব্রহ্ম সবার আগে বিরাজমান থাকেন। আরো দেখুন - সৃষ্টি প্রক্রিয়া বিভিন্ন স্তরে সম্পন্ন হয়। এখানে তিনটি গুণ রয়েছে। এই তিনটি গুণ হলো সত্ত্ব, রজ ও তম। সত্ত্ব হলো প্রকৃতি। রজের প্রভাবে অহংকারসহ অন্যান্য খারাপগুণের জন্ম এবং তম হলো অন্ধকার। শ্রী সুবোধকুমার চক্রবর্তৗ অনূদিত মার্কেণ্ডয় পুরাণে বলা হয়েছে- এই তিন গুণ তাঁর মধ্যে পরস্পরের অনুকূলে ও অব্যাঘাতে অধিষ্ঠিত আছে। সৃষ্টির সময়ে তিনি (ব্রহ্ম) এই গুণের সাহায্যে সৃষ্টিক্রিয়ায় প্রবৃত্ত হলে প্রধান তত্ত্ব প্রাদুর্ভূত হয়ে মহত্তত্ত্বকে (মহৎ নামক তত্ত্ব) আবৃত করে। এই মহত্তত্ত্ব তিনগুণের ভেদে তিন প্রকার। এর থেকে তিন প্রকার ত্রিবিধ অহংকার প্রাদুর্ভূত হয়। এই অহংকারও মহত্তত্ত্বে আবৃত ও তার প্রভাবে বিকৃত হয়ে শব্দতন্মাত্রের সৃষ্টি করে। তা থেকেই শব্দ লক্ষণ আকাশের জন্ম। অহংকার শব্দমাত্র আকাশকে আবৃত করে এবং তাতেই স্পর্শতন্মাত্রের জন্ম। এতে বলবান বায়ু প্রাদুর্ভূত হয়। স্পর্শই বায়ুর গুণ। শব্দমাত্র আকাশ যখন স্পর্শমাত্রকে আবৃত করে, তখন বায়ু বিকৃত হয়ে রূপমাত্রের সৃষ্টি করে। বায়ু থেকে জ্যোতির উদ্ভব, রূপ ঐ জ্যোতির গুণ। স্পর্শমাত্র বায়ু যখন রূপমাত্রকে আবৃত করে, তখন জ্যোতি বিকৃত হয়ে রসমাত্রের সৃষ্টি করে। তাতেই রসাত্মক জলের উদ্ভব। সেই রসাত্মক জল যখন রূপমাত্রকে আবৃত করে তখন জল বিকৃত হয়ে গন্ধমাত্রের সৃষ্টি করে। তাতেই পৃথিবীর জন্ম হয়।

আবারও মুল্যবান সময় অপচয় না করার স্বার্থে আমি এর বেশি হিন্দু ধর্মের তত্ব এখানে দিলাম না। তবে সবশেষে মধ্যপ্রাচ্যের একটি বহুল প্রচলিত ধর্ম যার অবস্থান এই পৃথিবীতে এখনও দ্বিতীয় বলা চলে সেই “ইসলাম” ধর্ম মতে তাদের বিশ্বাস করা সৃষ্টিতত্ব এখানে না দিলে অন্যায় হয়ে যাবে। দেখুন ইসলাম ধর্ম এই সৃষ্টিতত্ব সম্পর্কে কি বলে। ইসলাম ধর্মের প্রধান ও ঐশরিক কিতাব হচ্ছে একটি যার নাম “আল-কোরান”। এই গ্রন্থে যা যা লেখা আছে তা এই ধর্মের অনুসারীরা একমনে কোনকিছু যাচাই বাছাই না করে মনে প্রাণে বিশ্বাস করে থাকে। তাদের ধারনা এই গ্রন্থে যা কিছু লেখা আছে তা এই পৃথিবীর বিজ্ঞানের সকল শাখার ব্যাখ্যা একত্র করে একটি বই আকারেই প্রকাশ করা হয়েছে যার নাম এই আল-কোরান। এই ধর্মের অনুসারীদের অনেকের দাবী এই কিতাবে সব বিষয়েই সংক্ষিপ্ত ভাবে এসব বিষয়ে ব্যাখ্যা করা আছে। কিন্তু বাস্তবে আমরা যখন মহাকাশ তত্বের আথে তার মিল খুজে দেখতে যায় তখন বাধে তার সাথে বড় ধরনের দ্বন্দ। এই কোরানে প্রাচীন গ্রিক, প্রাচীন মিশরীয় বা ইহুদী ও খ্রিস্টান ধর্মের মতো শুরুতেই সৃষ্টিতত্ব দিয়ে শুরু করা হয়নি। এই কোরানের মাঝে মাঝে (৬ থেকে সাড়ে ৬ হাজার আয়াতের) বিভিন্ন সময় বিভিন্ন যায়গায় এই সৃষ্টি তত্বের কথা বলা আছে। যেমন –

সূরা আরাফ (আয়াত-৫৪)
إِنَّ رَبَّكُمُ اللّهُ الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضَ فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ يُغْشِي اللَّيْلَ النَّهَارَ يَطْلُبُهُ حَثِيثًا وَالشَّمْسَ وَالْقَمَرَ وَالنُّجُومَ مُسَخَّرَاتٍ بِأَمْرِهِ أَلاَ لَهُ الْخَلْقُ وَالأَمْرُ تَبَارَكَ اللّهُ رَبُّ الْعَالَمِينَ
54
অর্থঃ নিশ্চয় তোমাদের প্রতিপালক আল্লাহ। তিনি নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলকে ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর আরশের উপর অধিষ্টিত হয়েছেন। তিনি পরিয়ে দেন রাতের উপর দিনকে এমতাবস্থায় যে, দিন দৌড়ে রাতের পিছনে আসে। তিনি সৃষ্টি করেছেন সূর্য, চন্দ্র ও নক্ষত্র দৌড় স্বীয় আদেশের অনুগামী। শুনে রেখ, তাঁরই কাজ সৃষ্টি করা এবং আদেশ দান করা। আল্লাহ, বরকতময় যিনি বিশ্বজগতের প্রতিপালক।
সূরা হা-মীম সেজদা (আয়াত-৯)
قُلْ أَئِنَّكُمْ لَتَكْفُرُونَ بِالَّذِي خَلَقَ الْأَرْضَ فِي يَوْمَيْنِ وَتَجْعَلُونَ لَهُ أَندَادًا ذَلِكَ رَبُّ الْعَالَمِينَ
অর্থঃ বলুন, তোমরা কি সে সত্তাকে অস্বীকার কর যিনি পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন দুদিনে এবং তোমরা কি তাঁর সমকক্ষ স্থীর কর? তিনি তো সমগ্র বিশ্বের পালনকর্তা।

 সূরা হা-মীম সেজদা (আয়াত-১০)
وَجَعَلَ فِيهَا رَوَاسِيَ مِن فَوْقِهَا وَبَارَكَ فِيهَا وَقَدَّرَ فِيهَا أَقْوَاتَهَا فِي أَرْبَعَةِ أَيَّامٍ سَوَاء لِّلسَّائِلِينَ
অর্থঃ তিনি পৃথিবীতে উপরিভাগে অটল পর্বতমালা স্থাপন করেছেন, তাতে কল্যাণ নিহিত রেখেছেন এবং চার দিনের মধ্যে তাতে তার খাদ্যের ব্যবস্থা করেছেন-পূর্ণ হল জিজ্ঞাসুদের জন্যে।

 সূরা হা-মীম সেজদা (আয়াত-১১)
ثُمَّ اسْتَوَى إِلَى السَّمَاء وَهِيَ دُخَانٌ فَقَالَ لَهَا وَلِلْأَرْضِ اِئْتِيَا طَوْعًا أَوْ كَرْهًا قَالَتَا أَتَيْنَا طَائِعِينَ
অর্থঃ অতঃপর তিনি আকাশের দিকে মনোযোগ দিলেন যা ছিল ধুম্রকুঞ্জ, অতঃপর তিনি তাকে ও পৃথিবীকে বললেন, তোমরা উভয়ে আস ইচ্ছায় অথবা অনিচ্ছায়। তারা বলল, আমরা স্বেচ্ছায় আসলাম।




এছাড়াও ইসলাম ধর্মের পবিত্র গ্রন্থ আল-কোরানের আরো বেশ কিছু আয়াতে এই সৃষ্টিতত্ব সম্পর্কে আরো কিছু কথা বলা আছে যেমন – সূরা আন-নাযিয়াত (আয়াত-২৭ থেকে ৩০) এ বলা আছে। তারপর সূরা আম্বিয়া (আয়াত-৩০) এ বলা আছে এই জাতীয় একই কথা যা বর্তমান মহাকাশ বিজ্ঞান বা সৌরবিজ্ঞানের সাথে কোন মিল খুজে পাওয়া যায়না। এই সমস্ত ধর্মীয় বানীকে এই ধর্মের বর্তমান যুগের মডারেট কিছু ধর্ম বিশ্বাসী বিজ্ঞানের সাথে মিল আছে দেখিয়ে “জল পড়ে পাতা নড়ে” টাইপের কিছু ব্যাখ্যাও করে থাকেন তারা। কিন্তু তাতেও যে খুব একটা সফল হচ্ছেন তারা তাও কিন্তু না। নিচের ভিডিওটি একটু ভালো করে দেখলে আপনার কিছুটা ধারনা হতে পারে আমাদের এই পৃথিবীর অবস্থান আসলে কোথায় যা নিয়ে আমাদের এতো রহস্য।

---------- মৃত কালপুরুষ

               ২৪/১২/২০১৭

শুক্রবার, ১৩ অক্টোবর, ২০১৭

ইসলাম ধর্মের সূরা আম্বিয়ার ৩০ নং আয়াত ও বিগ ব্যাং।


অনেক মুসলমান ধার্মিক ভায়েদের ধারনা যে এই ক্ষুদ্র পৃথিবী যেই বিশাল সৌরজগত এর মধ্যে আছে, আর সেই সৌরজগত যে মহাবিশ্বের মধ্যে আছে, সেই মহাবিশ্বের যেভাবে সৃষ্টি তত্ব বিজ্ঞানীরা দিয়ে থাকেন বা বিজ্ঞানীরা যেভাবে ব্যাখ্যা করেছেন তার সাথে এই পৃথিবীর প্রচলিত ৫২০০ টি ধর্মের মধ্যে ইসলাম ধর্মের পবিত্র ঐশরিক কিতাব আল কোরানের ২১ তম সূরা আল আম্বিয়া এর ১১২টি আয়াতের মধ্যে ৩০ নম্বর আয়াতের মিল খুজে পাওয়া যায়। আর তাই তাদের ধারনা --- কি সেটা বুঝতেই পারছেন। আমি সুরা আল আম্বিয়ার ৩০ নম্বর আয়াত আর বিগ ব্যাং নিয়ে কিছু আলোচনা করছি একটু মিলিয়ে দেখুন ঠিক আছে নাকি। প্রথমেই আমরা একটু দেখে নেবো সূরা আল আম্বিয়া সেই ৩০ নম্বর আয়াত আমাদের কি বলছে। সূরা আল আম্বিয়া (আরবিسورة الأنبياء "নবীগণ") মুসলমানদের  ধর্মীয় গ্রন্থ  কুরআনের একুশতম সূরা। এই সূরাটি মক্কায় অবতীর্ণ হয়েছে এবং এর আয়াত সংখ্যা ১১২ টি। যে সূরার বিষয়বস্তু হচ্ছে হযরত মুহাম্মদ (সঃ) ও কুরাইশদের সাথে মধ্যে যে বিবাদ ছিল তা এখানে প্রতিফলিত হয়েছে। যার ৩০ নাম্বার আয়াতে বলা হচ্ছে –

أَوَلَمْ يَرَ الَّذِينَ كَفَرُوا أَنَّ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ كَانَتَا رَتْقًا فَفَتَقْنَاهُمَا وَجَعَلْنَا مِنَ الْمَاء كُلَّ شَيْءٍ حَيٍّ أَفَلَا يُؤْمِنُونَ

30
উচ্চারন -  আওয়ালাম্ ইয়ারল্লাযীনা কাফারূ য় আন্নাস্ সামা-ওয়া-তি অল্ র্আদ্বোয়া কা-নাতা- রত্ক্বন্ ফাফাতাক্বনা-হুমা-অজ্বাআল্না-মিনাল্ মা-য়ি কুল্লা শাইয়িন্ হাইয়িন্; আফালা-ইয়ু মিনূন্।

অর্থ - কাফেররা কি ভেবে দেখে না যে, আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর মুখ বন্ধ ছিল, অতঃপর আমি উভয়কে খুলে দিলাম এবং প্রাণবন্ত সবকিছু আমি পানি থেকে সৃষ্টি করলাম। এরপরও কি তারা বিশ্বাস স্থাপন করবে না ?




এটা হচ্ছে সূরা আল আম্বিয়ার ৩০ নাম্বার আয়াত। এখন দেখুন বিগ ব্যাং তত্ব নিয়ে সংক্ষিপ্ত কিছু আলোচনা। আজ থেকে হাজার হাজার বছর আগে থেকেই এই পৃথিবীর মানুষ একটি জিনিষ সঠিক ভাবে জানার অনেক চেষ্টা করেছে। আর সেটা হলো আমাদের এই চারপাশের সুন্দর পৃথিবী যে মহাজগৎ এর মধ্যে আছে সেই মহাবিশ্ব কিভাবে সৃষ্টি হয়েছে আর কেনই বা সৃষ্টি হয়েছে। এখানে আমরা কিভাবে এসেছি এরকম নানা প্রশ্ন। আর এই সব প্রশ্নের উত্তর খুজতে গিয়ে মানুষ যুগে যুগে তৈরি করেছে অনেক যৌক্তিক আর কিছু অযৌক্তিক গল্প। সেই সাথে তৈরি করেছে নানান নামের নানান শক্তির হরেক রকমের কল্পিত ঈশ্বর যারা আজকের এই পৃথিবীর অর্ধেক মানুষের মস্তিষ্ক দখল করে আছে। কিন্তু বিজ্ঞান আমাদেরকে দিয়েছে তার কিছু সঠিক নমুনা। বিজ্ঞান এর আবিষ্কার আমরা কখনই কল্পিত ঈশ্বর এর সৃষ্টির সাথে মেলাতে পারিনা। কারন ঈশ্বর প্রদত্ত সৃষ্টি রহস্য গুলা কয়েকটি কয়েকশো পাতার বই দিয়ে ইতি টানা হয়েছে। অনেকের বিশ্বাস যে এখানেই লুকায়িত আছে সকল সৃষ্টি রহস্য ও সমস্ত বিজ্ঞান জ্ঞান। কিন্তু বিজ্ঞান আমাদের তা বলে না। বিজ্ঞান আমাদের বলছে একটি নতুন তত্ব আবিষ্কার হবার পরে তার আগের তত্বটি আর ভ্যালিড থাকে না। শুরু হয় যেখানে এসে শেষ হয়েছিলো শেখান থেকে আবার নতুন করে নতুন তত্বের জন্য তথ্য সংগ্রহ করা। এই সৃষ্টি রহস্য আবিষ্কার করতে গিয়ে আজ বিজ্ঞান অনেক ভাগে বিভক্ত হয়েছে। লক্ষ লক্ষ বই লেখার প্রয়োজন পড়েছে আমাদের সৃষ্টি রহস্য প্রমান করতে গিয়ে। নতুন নতুন অনেক তত্ব আজো আবিষ্কার করে চলেছে বিজ্ঞানীরা। তবে আজ পর্যন্ত সব চেয়ে বেশি গ্রহনযোগ্য তত্ব হচ্ছে এই বিগ ব্যাং তত্ব।


বিগ ব্যাং বা একটি বিশাল বিস্ফোরন যার মাধ্যমে এই বিশ্বজগতের সৃষ্টি হয়েছে সেই তত্ত্ব মতে বিশ্বজগতের সৃষ্টির শুরুতে সমস্ত বিশ্বজগতের মোট উপাদান এক বিন্দুতে মিলিত ছিল এবং এর ফলে তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে বিগ ব্যাং সংগঠিত হয়েছে  শুরু হয়েছে বিশ্বজগতের যাত্রা এবং এই যাত্রায় নতুন করে যোগ হয়েছে সময় নামের একটা নতুন মাত্রার  ফলে আমাদের এই ত্রিমাত্রিক বিশ্বজগতে একটি নতুন মাত্রাসময় যুক্ত হয়ে চতুর্মাত্রিক জগতের সৃষ্টি হয়েছে সেই সাথে হয়েছে দিন এবং রাতের মতো পরিবেশ বিগ ব্যাং-এর পূর্বে সময়হীন একটা জগত ছিল, যে জগতে কোন সময় ছিল না , দিন বা রাত বলে কিছুই ছিলো না। বিগ ব্যাং-এর পরেই সময়ের সৃষ্টি হয়েছে যেমন করে ত্রিমাত্রিক জগত সৃষ্টি হয়েছে l তাই আজো আমাদের কাছে এই বিগ ব্যাং এক রহস্য হয়ে আছে।

বর্তমান যুগে আমরা অনেকেই মেনে নিতে পারি না এমন একটা সময় অতীতে ছিলো যেখানে কোন সময় ছিলো না। এটা অনেকের দাবী যে সময়হীন একটি বিশ্বজগত থাকা সম্ভব নয়। আসলে এখানে এসেই বিজ্ঞানীদের মাথা গুলিয়ে যায় যে বিগ ব্যাং এর পুর্বে এরকম কি ছিলো যা সেই বিন্দুতে এসে আটক হয়ে ছিলো এবং পরবর্তীতে তা আবার বিস্ফোরন হলো। অথবা আমরা চিন্তাই করতে পারি না যে বিগ ব্যাং-এর পূর্বে কোন সময় ছিল না এবং বিশ্বজগত এক বিন্দুতে মিলে ছিল আর এই এক বিন্দুর কোন অতীত নেই যেমন নেই কোন পূর্ব মুহূর্ত বা পাস্ট এবং এই এক বিন্দুর বাইরে কিছু ছিলনা। অর্থাৎ বিশ্বজগত এই এক বিন্দুতেই স্বীমাবদ্ধ ছিল এর বাইরে কিছু থাকা সম্ভব নয় এটা স্থান কালহীন এক অবস্থা যেটা সময়ের জগতে বসে কল্পনাও করা অসম্ভব আর এই অসম্ভব অকাল্পনিক অবস্থাই ছিল বিশ্বজগতের শুরুতে l বর্তমানে অনেক বিজ্ঞানী এই বিগ ব্যাং এর পুর্বের ঘটনা জানার চেষ্টা করছেন। তাদের অনেকেই কিছু নতুন তত্ব নিয়ে গবেষনা করছেন। কিন্তু ফলাফল সেই একই বিন্দুতে গিয়ে আটক হচ্ছে। তবে আজ আমি সেব্যপারে আলোচনা করবো না।


বর্তমানে মানুষের মনে এই বিগ ব্যাং নিয়ে কিছু প্রশ্ন ঘুরপাক খেতে থাকে তা হচ্ছে এই বিন্দু কিভাবে আসলো কোথা থেকে আসলো বা এই মহাবিশ্বের মূল উপাদান কিভাবে তৈরি হলো এরকম নানা প্রশ্ন। এব্যাপারে অনেকেই অনেক কথা বলতে পারেন কিন্তু আসল কথা হচ্ছে এর সঠিক উত্তর আমরা জানি না এবং বুঝতেও পারি না  এগুলো বিজ্ঞানের কঠিন হিসাব বা ক্যালকুলেশন যেগুলো বিজ্ঞানী ছাড়া খুব কম মানুষই বুঝতে পারে আর তাই মানুষ বুঝতে পারে না কেন বিগ ব্যাং-এর কোন পূর্ব মুহূর্ত অথবা কোন অতীত বা পাস্ট থাকা সম্ভব নয় তারা শুধু জানে যে বিগ ব্যাং-এর কোন অতীত বা পাস্ট নেই  কিন্তু সেই অতীত বা পাস্ট অর্থাৎ সময়হীন জগতটা কিভাবে থাকা সম্ভব সেটা মানুষের ধারণ ক্ষমতার বাইরে এই বাস্তব সত্যটি যেভাবে তাত্তিকভাবে ব্যাখ্যা করা যায় কিন্তু সেভাবে কল্পনা করা যায় না ফলে অনেকের কাছেই বিগ ব্যাং-এর আদি অবস্থাটা অর্থাৎ শুরুর অবস্থাটা ধুয়াশাময় থেকে যায়।  আমরা বিগ ব্যাং পর্যন্ত জগতকে চিন্তা করতে পারব অথবা জানতে পারব কিন্তু এর উত্পত্তি কেন হলো কিভাবে হলো অথবা এর কোন অতীত কেন থাকবে না অথবা এর অতীত যদি থেকেই থাকে তাহলে সেটা কেমন থাকা উচিত এসব প্রশ্ন অর্থহীন হয়ে যায় যখন বাস্তবতা বা থিওরি অথবা পদার্থ বিজ্ঞান বিগ ব্যাং -এর পূর্ব অবস্থা বর্ণনা করতে যায়  কারণ তাত্তিকভাবে অথবা পদার্থ বিজ্ঞানের তত্ত্ব অনুযায়ী বিগ ব্যাং-এর কোন অতীত অবস্থা বা এর কোন ভিন্ন অবস্থা থাকা সম্ভব নয় l

আমরা জানি বিগ ব্যাং তত্ত্ব অনুযায়ী মহাবিশ্ব অতীতে এক বিন্দুতে মিলিত ছিল যখন বিগ ব্যাং শুরু হলো এটি চারদিকে ছুটতে শুরু করে যেমন করে রাতের আকাশে আমরা তারা বাজি দেখে থাকি l ডানে বায়ে সামনে পেছনে উপরে নিচে সব দিকেই এই মহাবিশ্ব বিগ ব্যাং এর পরে সমান তালে বাড়তে থাকলো। এর পর থেকে এটি প্রসারিত হতে হতে আজকের এই মহাবিশ্বের আকার ধারণ করে l কিন্তু এটি যে সেখানেই থেমে গিয়েছিলো তা নয়, এটি প্রসারিত হতেই থাকছে এবং এর বিস্তার বাড়তেই থাকছে আর তাই আমরা জানতে পারি এই বিগ ব্যাং তত্ত্ব অনুযায়ী এটির একটি শুরু আছে এবং এটি এখনো প্রসারিত হচ্ছে অসীমের দিকে যার কোন সীমা পরিসীমা নেই l সৌর বিজ্ঞানীগণ মহাবিশ্বের প্রসারণ লক্ষ করে অনুমান করেছে যে এই মহাবিশ্ব বিগ ব্যাং-এর সময়ে এক বিন্দুতে মিলিত অবস্থায় ছিল এবং বিগ ব্যাং-এর মাধ্যমে এটি প্রসারিত হয়েছে এবং আজ অবধি তা হয়েই যাচ্ছে এখন মহাবিশ্বের বিগ ব্যাং থেকে আজকের দিন পর্যন্ত প্রসারণকে যদি আমরা একটি বৃত্তের সাথে তুলনা করি যে বৃত্তের একটা বর্তমান আয়তন আছে এবং এটি শুরুতে এক বিন্দুতে মিলিত অবস্থায় ছিল তাহলে আমরা কি দেখতে পায়  দেখবো যে এই বিন্দু বাড়তে বাড়তে আমাদের আজকের এই মহাবিশ্বের আকৃতি পেয়েছে।


আরেকটু সহজ ভাবে বোঝার জন্য আমরা এখন চেষ্টা করবো একটি বেলুন এর ব্যবহার করতে। ধরুন একটি বেলুন শুরুতে ছোট্ট একটি বস্তু ছিলো কিন্তু আমরা যখন এতে বাতাস দিতে থাকলাম তখন থেকে এটা তার আগের আকৃতি থেকে বাড়তে শুরু করলো। একটা সময় সেটা তার পুর্বের আকৃতি থেকে বেড়ে বড় একটি আকৃতি নিলো। এভাবেই শুরুতে ছোট্ট একটি বিন্দু থেকে বিস্ফোরনের মাধ্যমে প্রায় ১৩ বিলিয়ন বছরের ব্যবধানে আমাদের এই মহাবিশ্ব আজকের আকৃতিতে এসে দাড়িয়েছে। এখানেই এসে কিন্তু সেটা থেমে যায়নি বরং পুর্বের মতো আরো বৃদ্ধি হচ্ছে সমান তালে অসীমের দিকে। এখন আবার আরেকবার চিন্তা করে দেখুন এরকম একটি বেলুন কথা, যদি আমরা তার ভেতরের বাতাস বেরিয়ে যেতে দেখি তাহলে কি হবে। আমরা আমাদের সময়ের উলটা গননা যদি করি সময় যত পেছনে যাচ্ছে মানে বেলুনের বাতাস যত বেরিয়ে যাচ্ছে তত বেলুনের আকৃতি ছোট হচ্ছে। এভাবে ছোট হতে হতে একটা পর্যায়ে এসে আবার সেই পুর্বের আকৃতিতে এসে আটকে যাবে। আর এভাবে যেখান থেকে এই বিগ ব্যাং শুরু হয়েছিলো সেই বিন্দুতে গিয়ে থেমে যাবে। তার থেকে কিন্তু আর কমতে পারবে না। একটা সময় অবশ্যয় ক্ষুদ্র একটি আকৃতিতে গিয়ে তাকে থামতে হচ্ছে। আমরা যদি তার থেকেও ক্ষুদ্র কোন আয়তনের কথা ভাবী তাহলে সেটা হয়ে যাবে একটি শূন্য আয়তন। কিন্তু শূন্য আয়তনে কোন বিন্দু থাকতে পারেনা তাই নির্দিষ্ট একটি অবস্থানে গিয়ে তাকে থেমে যেতে হচ্ছে। আর সেটাই হচ্ছে বিগ ব্যাং এর পুর্ব অবস্থা। আর এর ভেতরেই ছিলো আজকের এই মহাবিশ্বের সমস্ত উপাদান।

এখন অনেক ঈশ্বরবাদীদের প্রশ্ন থাকতে পারে যে তাহলে আপনার এই বিন্দুর আগে কি ছিলো এই মহাবিশ্ব। আমি কিন্তু সে কথা আগেই বলেছি। সেটা একটা সময়হীন স্তব্ধ ব্যাপার আর তাই আমাদের এই সময় ও দিন রাত দ্বারা পরিচালিত পৃথিবীতে বসে কারো পক্ষে তার আগের ইতিহাস জানা সম্ভব না। তবে একটি বিন্দু অর্থাৎ যা থেকে আর ছোট হওয়া সম্ভব নয় সেই অবস্থায় গিয়ে চিন্তা শক্তি থেমে যাওয়া। আমাদের এই মহাবিশ্ব আজকের এই অবস্থানে এসে দাড়িয়েছে আনুমানিক প্রায় সাড়ে ১৩ বিলিয়ন বছরের ব্যবধানে। অর্থাৎ আজ থেকে সাড়ে ১৩ বিলিয়ন বছর আগে এই বিগ ব্যাং সংগঠিত হয়ে আমাদের এই মহাবিশ্বের সৃষ্টি হয়েছিলো আমরা যাকে মহাবিশ্বের যাত্রা বলে থাকি। আর এখানে এই মহাবিশ্বের ক্ষুদ্র থেকে অতি ক্ষুদ্র মানে এটা বলে বোঝানো সম্ভব নয়। যেমন ধরুন ৯৯,৯৯% বাদ রেখে যে বাকী সংখ্যাটা থাকে তার থেকে আবার ৯৯.৯৯% বাদ দিলে যা থাকবে সেই আকৃতির একটি ক্ষুদ্র পৃথিবীর মানুষের বিশ্বাস করা কল্পিত ঈশ্বর এর দ্বারা এই মহাবিশ্ব সৃষ্টির কোন কিছুই ঘটে নাই এটা নিশ্চিত থাকুন। এটা মহাবিশ্বের প্রচলিত প্রাকৃতিক নিয়মেই ঘটেছিলো এর বাইরে কিছুই ঘটেনি।


প্রথম আমাদেরকে বিজ্ঞানী হাবল এই বিগ ব্যাং এর কথা বলেছিলো। কিন্তু আজ হাজার হাজার বিজ্ঞানী ও নাসার মহাকাশ গবেষকেরা এই তত্বেই আটক আছেন। তবে এর সাথে নতুন অনেক কিছু যুক্ত হয়েছে যেমন আজ বিজ্ঞানীরা এটাও বের করে দেখতে সার্থক হয়েছেন যে এই মহা বিস্ফোরন বা বিগ ব্যাং এর মাত্র ১০ সেকেন্ড পর থেকেই আমাদের এই সৌরজগত এর সমস্ত উপাদান তৈরি হয়েছিলো। সৃষ্টির প্রাথমিককালে মহাবিশ্ব সুষম এবং সমতাপীয় রূপে একটিই অতি উচ্চ শক্তি ঘনত্ব এবং উচ্চ তাপমাত্রা ও চাপবিশিষ্ট পদার্থ দ্বারা পূর্ণ ছিল। মহাবিশ্ব সৃষ্টির ১০৪৩ সেকেন্ড পর পদার্থবিজ্ঞানের সূত্রগুলো কার্যকারিতা লাভ করে। তাই এই সময়কে প্ল্যাংকের সময় বলা হয়। প্ল্যাংকের সময়ের প্রায় ১০৩৫ সেকেন্ড পর একটি দশা পরিবর্তন তথা অবস্থান্তর অবস্থার সূচনা ঘটে যার ফলে মহাজাগতিক স্ফীতিশুরু হয়। এই সময় মহাবিশ্ব সম্প্রসারিত হতে শুরু করে। এ সময় থেকে মূলত মহাবিশ্বের exponential সম্প্রসারণ শুরু হয়।


---------- মৃত কালপুরুষ
               ১৪/১০/২০১৭



বৃহস্পতিবার, ১২ অক্টোবর, ২০১৭

ব্ল্যাক হোল (Black hole) বা কৃষ্ণ গহ্বর এক মহাআশ্চর্য।


গতকাল বাংলাদেশ রাইস রিসার্চ ইনস্টিটিউট, গাজীপুর এর একজন এক্স সিনিয়র সাইন্টিস্ট আমার সাথে বিগ ব্যাং তত্ব নিয়ে আলোচনা করতে চেয়েছে। আমি তাকে বলেছি এই দুঃসাহস যেনো আমার না হয় এতে তিনি কি মনে করেছেন জানি না। যেকোন কারনে আমি তার নাম এখানে বলছি না তবে আজকের এই লেখাটা তাকে স্বরন করে। বিগ ব্যাং তত্ব নিয়ে কথা উঠাতেই আমি এটা নিয়ে লেখার কথা চিন্তা করি। বিগ ব্যাং নিয়ে যতটুকুই জানি সেটা নিয়ে পরে আরেকদিন লেখার চেষ্টা করবো আজ ব্ল্যাক হোল নিয়েই আলোচনা করবো। এখানে আমি চেষ্টা করেছি সকলের সহজ বোঝার সুবিদার্থে একদম সহজ ভাষা ব্যবহার করার।


আমাদের পৃথিবীটা যেই সৌরজগত এর মধ্যে অবস্থিত সেই সৌরজগত এর বাইরে যে মহাবিশ্ব আছে সেখানে খুবই রহস্যময় হাজার হাজার বিষয় ও বস্তু আছে। আমরা কিন্তু সবাই সেই বিষয়গুলি নিয়ে খুব একটা জানতে চাই না। তবে যারা বিজ্ঞানের উপরে বিশ্বাস রাখে তাদের ৫০% কে দেখা যায় এসব অজানা নিয়ে আরো জানতে আগ্রহী কিন্তু, বাকী ৫০% জীবনে কয়েকবার মাত্র আকাশের দিকে যখন সময় পায় তখন একটু তাকিয়ে মনে মনে কল্পনা করে কি আছে এই আকাশে। কিছু তারা ও চাঁদ দেখতে পারলেই মহাকাশ সম্পর্কে জানার ইচ্ছা শেষ হয়ে যায় তাদেরএরা তো তাও একটু আছে বলতে হবে, কিন্তু তাদের কথা একটু ভেবে দেখুন যারা সৌরজগতের এই সব প্রাকৃতিক ঘটনার সাথে তাদের ধর্মীয় কিতাব এর মিল খুজে তারা আবার কি জিনিষ। তাদের ধারনা সৌরজগত এর এসব ঘটনা কেউ একজন সৃষ্টি করেছেন এবং আজকের সৌরবিজ্ঞানীরা এই সৌরজগত নিয়ে যা আবিষ্কার করছে তা আজ থেকে হাজার বছর আগেই কোন ধর্মীয় কিতাবে লেখা ছিলো। সেই আলোচনায় আজকে যাবো না আজ ব্ল্যাক হোল বা কৃষ্ণ গহ্বর নিয়ে অল্প কিছু আলোচনা করবো।


এই রহস্যময় মহাবিশ্বের অনেক রহস্যময় জিনিসের মধ্যে মানুষ আজ পর্যন্ত খুব অল্প কিছুই জানতে পেরেছে। কিন্তু সেটা কতটুকু তা বলার চেয়ে এটা বলা আমি শ্রেয় মনে করি যে আজ পর্যন্ত মানুষ এই মহাবিশ্বের কতটুকু জানতে পারেনি সেটা হচ্ছে ৯৯,৯৯% এখনও মানুষের অজানা। তাহলে একবার ভেবে দেখুন এই মহাবিশ্বের কি জানতে পেরেছে আজকের পৃথিবীর মানুষ। তবে বিশ্বাসীদের মতে পৃথিবী থেকে দুইভাগ করে ফেলা সেই চাদে মানুষ আজ থেকে প্রায় অর্ধশত বছর আগেই ঘুরে এসেছেন। চাদের থেকেও এই মহাবিশ্বের আরো একটি রহস্য হচ্ছে এই ব্ল্যাক হোল। মহা বিশ্বের  সবচেয়ে বড় রহস্য, সবচেয়ে বড় মহাজাগতিক বিস্ময়, ব্ল্যাক হোল বা কৃষ্ণ গহ্বর। ব্ল্যাক হোল হলো আমাদের সূর্যের মত এক ধরনের নক্ষত্র। কোন নক্ষত্রের যদি অনেক ভর ও ঘনত্ত্ব থাকে, তাহলে তার মহাকর্ষীয় শক্তি এতই শক্তিশলী হবে যে আলো পর্যন্ত সেখান থেকে নির্গত হতে পারবে নামহাকর্ষীয় শক্তি আবার কি তাই না ? এ মহাবিশ্বের যেকোন দুটি বস্তুর মধ্যে যে আকর্ষন তাই হচ্ছে মহাকর্ষীয় শক্তি। এই নক্ষত্রের থেকে আলো কিছু দূর যাওয়ার আগেই নক্ষত্রটির মহাকর্ষীয় আকর্ষন দারা তাকে পিছনে নিয়ে আসে। পৃথিবীর জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা এই কৃষ্ণ গহ্বর সম্পর্কে এ পর্যন্ত  জানতে পেরেছেন সামান্যই। তবে যতটা তথ্য উদ্ধারে সক্ষম হয়েছেন তা যথার্থই অভাবনীয়, সাধারণ চিন্তার বাইরে।


এই ব্ল্যাক হোল গুলা কিন্তু আমাদের পৃথিবী তেকে সরাসরি দেখা সম্ভব হয় না। ধারনা করা হয় মহাবিশ্বের এই ব্ল্যাক হোলের জন্ম হয়েছে নক্ষত্র যখন তার জ্বালানি পুড়িয়ে শেষ করে ফেলে তখন নক্ষত্র গুলো সংকুচিত হতে থাকে। সাধারনত গ্যালাক্সি গুলোর মাঝে অবস্থানরত বড় বড় নক্ষত্র তাদের বিবর্তনের সর্বশেষ পরিণতিতে সুপারনোভা বিস্ফোরনের মাধ্যমে ব্ল্যাক হোল সৃষ্টি করে। নক্ষত্র গুলো অনেক বেশি সংকুচিত হয়েই ব্ল্যাক হোলের জন্ম দেয়। কিন্তু সেই সংকুচিত হওয়ার মাত্রা কতটুকু তা শুনে হয়তো একটু অবাক হবেন। উদাহরণস্বরূপ, সূর্যের ব্যাসর্ধ প্রায় ৬.৯৬০০০০০ কিলোমিটার। এই বিশালাকার আয়তনকে যদি কোনোভাবে মাত্র ১০ কিলোমিটারে নামিয়ে আনা যায়, তাহলে সেটি এই মহাবিশ্বের একটি ব্ল্যাক হোলে পরিণত হবে। আর আমাদের পৃথিবীকেই যদি চেপেচুপে মাত্র দশমিক ৮৭ সেন্টিমিটা বানানো যায়, তাহলে পৃথিবীও একটি ক্ষুদে ব্ল্যাক হোলে পরিণত হতে পারে। ব্ল্যাক হোল হওয়া তাহলে সোজা ব্যপার না তাই না এটা কিন্তু পরিষ্কার।


এই ব্ল্যাক হোল এর আরো একটি আশ্চর্য করার মতো বিষয় আছে। ব্ল্যাক হোল থেকে আলো কিছু দূর যাওয়ার আগেই ব্ল্যাক হোলটির মহাকর্ষীয় আকর্ষন দ্বারা তাকে পিছনে নিয়ে আসে। ঠিক বুঝলেন না ব্যাপারটা। আরো ভালো করে বোঝার জন্য আপনাকে ইউটিউবের কিছু ভিডিও দেখতে বলবো। ধরুন এমন কি কখনও হতে পারে আপনি টর্চ লাইট দিয়ে সোজা আলো মারলেন কিন্তু সেটা মাঝামাঝি গিয়ে বাকা হয়ে অন্য যায়গায় গিয়ে পড়লো। এরকম ঘটতে পারে মহাবিশ্বের এই ব্লাক হোল নামক যায়গাটিতে। অবাক হবার কিছুই নাই এর চেয়ে অবাক করার মতো কথা হচ্ছে আপনি যদি স্বশরীরে এই ব্ল্যাক হোল এর ভেতরে পড়ে যান তাহলে আমরা আপনাকে পড়ে যেতে দেখবো কিন্তু সমস্যা হচ্ছে আপনি নিচে পড়ছেন তো পড়ছেনই যার কোন শেষ হচ্ছে না আমরা যদি কয়েক বছর পরেও আবার আপনাকে দেখতে যায় যে নিচে পড়েছেন কিনা তখনও দেখবো আপনি পড়ছেন তো পড়ছেনই মনে হচ্ছে উপর থেকে নিচের কোন শেষ নাই। আবারও বলছি আমি আসলে সকলের বোঝার সুবিধার্থে এখানে খুবই সহজ ভাষা ব্যবহার করার চেষ্টা করেছি।


এরকম আরো কি আশ্চর্য হবার মতো ঘটনা আছে এই ব্ল্যাক হোল এর ভেতরে যা আমাদের এই পৃথিবীতে কখনই ঘটে না। আলোর ব্যাপারটি দেখুন। যেহেতু এই ব্লাক হোল থেকে আলো পর্যন্ত বের হয়ে আসতে পারে না তাহলে ব্ল্যাক হোলের অস্তিত্ত কিভাবে দেখা যায় বা বুঝা যায় এরকম প্রশ্ন উঠতে পারে। মহাকাশ বিজ্ঞানীদের মতে, অনেক সময়েই মহাকাশে প্রচুর তারকারাশি দেখা যায় যারা একটি বিশেষ বিন্দুকে কেন্দ্র করে ঘুরছে অথবা সর্পিলাকার গ্যাসীয় বস্তু দেখা যায় যা কোন বিন্দুকে কেন্দ্র করে অবস্থান করছে। এই বিশেষ বিন্দুগুলোই হল ব্ল্যাক হোল যেগুলোকে দেখা যাচ্ছে না ঠিকই কিন্তু তারা নিজেদের অস্তিত্ব জানান দিচ্ছে তারকারাশি বা গ্যাসীয় বস্তুগুলোর অবস্থান আর তাদের গতি-প্রকৃতির মাধ্যমে। বর্তমানে কিছু উন্নত প্রযুক্তি ব্যাবহার করে কিছু টেলিস্কোপ দিয়ে নেগেটিভের মতো কিছু ছবিও তুলে দেখাতে সক্ষম হয়েছে সৌরবিজ্ঞানীরা।


ব্ল্যাক হোল থেকে এক জাতীয় চম্বুকীয় তরঙ্গ বের হতে থাকে যা এই ব্ল্যাক হোল এর আশেপাশে থাকা সকল বস্তুকে ভেতরের দিকে টানে। এই ব্ল্যাক হোল অতিমাত্রায় কৃষ্ণকায় বা কালো হওয়ার দরুণ ব্ল্যাক হোল আমাদের কাছে এই পৃথিবী থেকে অদৃশ্য বটে কিন্তু এর থেকে নিঃসরিত বিকিরণ জনিত শক্তি প্রতিনিয়তই নির্ণেয়মান। যা থেকে সৌরবিজ্ঞানীরা আমাদের সঠিকভাবেই বলতে পারেন এই ব্লাক হোল এর অবস্থান ও তার গতিবিধি। এই ব্ল্যাক হোল সম্পর্কে এখনো বিজ্ঞানিরা ৯৯,৯৯% জানতে পারে নি। তাই এটি এখনো রহস্যময় একটি জগত হয়ে আছে আমাদের কাছে। তারপরেও আমরা যতটুকু জানতে পেরেছি তা থেকে খুব ভালোভাবেই বোঝা যায় ব্ল্যাক হল এর আচরন কেমন। আবার আরেকটি উদাহরন দেখুন, ধরা যাক, আপনার পা ব্ল্যাক হোলের দিকে আছে। ফলে আপনার শরীরে কি ঘটছে তা দেখতে পাবেন। আপনার পা ব্ল্যাক হোল এর দিকে থাকার কারণে আপনার শরীরের নিচের অংশ বেশী আকর্ষণ অনুভব করবে। আকর্ষণের টানে আপনার শরীর চুইং গামের মত হয়ে যাবে। তারপর একসময় আপনার শরীর নুডুলসের মত হয়ে যাবে। এরপর আপনি ব্ল্যাক হলের ভেতরে গিয়ে পড়বেন আর এসবই হবে সেই চম্বুকীয় তরঙ্গের কারনে।


সূর্যের চেয়ে কমপক্ষে দশগুণ বড় নক্ষত্রদের জ্বালানি শেষ হয়ে গেলে এরা সঙ্কুচিত হতে হতে অতি খুদ্র অন্ধকার বিন্দুতে পরিণত হয়। এধরণের ব্ল্যাক হোল কে বলা হয় স্টেলার মেস (Stellar Mass)  ব্ল্যাক হোল। বেশীরভাগ ব্ল্যাক হোলই এধরণের। কিন্তু নক্ষত্রের সঙ্কুচিত হয়ে ব্ল্যাক হোলে পরিণত হওয়ার পরও ব্ল্যাক হোলে নক্ষত্রের সমান ভর ও অভিকর্ষ টান থাকে। আমাদের গ্যালাক্সিতে সম্ভবত ১০০ মিলিয়ন ব্ল্যাক হোল রয়েছে যার কয়েকটির মাত্র সন্ধান আমরা পেয়েছি আজ পর্যন্ত। জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে প্রতি সেকেন্ডে একটি ব্ল্যাক হোল সৃষ্টি হয়। আরেক ধরণের ব্ল্যাক হোল হল সুপার মেসিভ (Super massive) ব্ল্যাক হোল। তাদের এক মিলিয়ন তারার ভর এমনকি এক বিলিয়ন তারার ভরও থাকতে পারে। সুপার মেসিভ ব্ল্যাক হোলরা কোন গ্যালাক্সির মিলিয়ন বা বিলিয়ন তারাকে একত্রে ধরে রাখে। আমাদের গ্যালাক্সিতেও কিন্তু একটি সুপার মেসিভ ব্ল্যাক হোল আছে। সেটির নাম Sagittarius A  (উচ্চারণ আমার জানা নাই), যা আবিষ্কৃত হয়েছিল আজ থেকে প্রায় ৪০ বছর আগে। তাহলে একবার একটু ছোট্ট একটি চিন্তা করুন আমরা জানি যে আমাদের এই বিশাল পৃথিবী থেকে যেই ছোট্ট সূর্যটি আমরা দেখতে পায় তা আমাদের এই পৃথিবী থেকে ১৩ লক্ষ গুন বড় একটি বস্তু। তার মানে এই সূর্যের কাছে আমাদের পৃথিবী কিছুই না। আবার যেই নক্ষত্র বা তারার কথা বলা হচ্ছে যাদের এই ব্ল্যাক হোল গিলে ফেলতে পারে সেই নক্ষত্র গুলার একেকটার আকৃতি কিন্তু এই সুর্য থেকে কয়েক হাজার এমনকি কয়েক লক্ষ গুন বড় হতে পারে। তাহলে একটি ব্ল্যাক হোল বা (Super massive) ব্ল্যাক হোল এর ভেতরে আমাদের এই পৃথিবীর সমান কতটা পৃথিবী ধরতে পারে একটু চিন্তা করে দেখুন একবার। দরকার নেই থাক। আমাদের বিশ্বব্রহ্মাণ্ড এতোই বিশাল যে এর গ্রহ-উপগ্রহ, তারা, নক্ষত্র বিজ্ঞানীদের প্রায়ই ধাঁধায় ফেলে দেয়। আর এখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত ইউওয়াই স্কুটি’ (UY Scuti) নামের সবচাইতে বড় তারা যেটা একাই বিজ্ঞানীদের মাথা গুলিয়ে দেয়ার জন্য যথেষ্ট।

---------- মৃত কালপুরুষ
               ১৩/১০/২০১৭