মঙ্গলবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

বাংলাদেশের বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র।


আমার লেখার উদ্দেশ্য কাউকে ব্যক্তিগত আক্রমন করা নয়। ইদানিং কিছু শিক্ষিত ছাগু দেখা যাচ্ছে যারা মনে করে তারা হোমোস্যাপিয়েন্স না। তারা এডাম বা আদম এর বংশধর। আসলে আমি মনে করি এদের দোষ দেওয়া ঠিক না। কারন আমাদের দেশের সমাজ ব্যবস্থা যে ধর্ম ব্যবস্থা দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে তাতে তাদের এ ধরনের মনোভাব একটা প্রত্যাশিত ব্যাপার ছাড়া কিছুই না বলে আমার কাছে মনে হয়। কারন দেখুন, এদের কেমন হাস্যকর মনোভাব তারা চার্লস রবার্ট ডারউইনের মতো জীব বিজ্ঞানীদের মনোভাব মানতে রাজি না। আমরা কি কেউ খুজে দেখেছি কি সেই কারন। আসুন আমরা আজকে এর একটি কারন নিয়ে আলোচনা করি। কিছু ধর্ম বিশ্বাসীদের ধারনা চার্লস রবার্ট ডারউইন এর বিখ্যাত বই “অরিজিন অব স্পিস” এ মিথ্যা কথা লেখা আছে। যে বই আজ প্রায় ১৭০ বছর ধরে পৃথিবীর সকল বিখ্যাত বিখ্যাত জীব বিজ্ঞানীদের কৌতুহলের কেন্দ্র হয়ে আছে তার সেই থিওরী নাকি মধ্যপ্রাচ্যের কোন একটি ধর্ম বিশ্বাসীরা ভুল প্রমান করেছে।

এমন মনভাব আমাদের এই ছোট্ট দেশের বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রদের মধ্যে কেনো তৈরি হয়েছে তা নিয়ে খুব একটা আলোচনা হয় না। লক্ষ্য করে দেখবেন আমাদের দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় একটি মহল সক্রিয় ভাবে এমন কিছু বিষয় ছাত্রদের পাঠ্যবই থেকে চুপিচুপি আলাদা করে দিয়েছে যা কেউ বুঝতেও পারে নাই। বিবর্তন নিয়ে আমাদের দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় ছাত্রদের কোন শিক্ষাই দেয় না। জীববিজ্ঞানের একত্রীকরণ তত্ত্ব, যা জীববৈচিত্রের ব্যাখ্যা প্রদান করে এমন বিষয় গুলি পাঠ্য বই গুলি থেকে একেবারেই নাই করে দেওয়া হয়েছে। তাই তো যেখানে সেখানে দেখা যায় শিক্ষিত যুব সমাজের পোলাপাইন আগ বাড়িয়ে বলতে আসে আমি হোমোস্যাপিয়েন্স না, আমি এডামের বংশধর। লজ্জা হয় এই জাতীয় বাঙ্গালী দেখে কিন্ত তাদের দোষ দিতে পারি না কারন আজ যদি এই ছেলেটিই বাংলাদেশ বাদে পশ্চিমা কোন দেশে বা ইউরোপের কোন দেশে জন্ম নিত তবে সে আদমের সন্তান না হয়ে হোমস্যাপিয়েন্স-ই হতো। কারন সেসমস্ত দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় ঢালাও ভাবে বিবর্তন নিয়ে শিক্ষা দেওয়া হয়। তারা কোন ধর্মীয় পুস্তকের চেয়ে এই বিবর্তনবাদকেই বেশি সম্মান করে থাকে।

চার্লস রবার্ট ডারউইন, জন্ম ১২ ফেব্রুয়ারি ১৮০৯ – মৃত্যু ১৯ এপ্রিল ১৮৮২ যিনি ছিলেন ঊনিশ শতকের একজন ইংরেজ জীববিজ্ঞানীতিনিই প্রথম প্রত্যক্ষ পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে বিবর্তনবাদের ধারণা দেন। তিনিই সর্বপ্রথম অনুধাবন করেন যে সকল প্রকার প্রজাতিই কিছু সাধারণ পূর্বপুরুষ হতে উদ্ভূত হয়েছে এবং তার এ পর্যবেক্ষণটি সাক্ষ্য-প্রমাণ দিয়ে প্রতিষ্ঠা করেন বিবর্তনের এই নানান শাখা-প্রশাখায় ভাগ হবার বিন্যাসকে তিনি প্রাকৃতিক নির্বাচন হিসাবে অভিহিত করেন। তার জীবদ্দশাতেই বিবর্তনবাদ একটি তত্ত্ব হিসাবে বিজ্ঞানী সমাজ ও অধিকাংশ সাধারণ মানুষের কাছে স্বীকৃতি লাভ করে, তবে ১৯৩০ থেকে ১৯৫০ এর মধ্যে বিকশিত আধুনিক বিবর্তনিক সংশ্লেষের মাধ্যমে বিবর্তন প্রক্রিয়ায় প্রাকৃতিক নির্বাচনের গুরুত্ব পূর্ণরূপে অনুধাবন করা সম্ভব হয়। পরিবর্তিত রূপে ডারউইনের বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার ছিল জীববিজ্ঞানের একত্রীকরণ তত্ত্ব, যা জীববৈচিত্রের ব্যাখ্যা প্রদান করে।

প্রথম দিকে ডারউইন এর এই তত্ব দেখে অনেকেই মর্মাহত হয়েছিলেন। বিশেষ করে তখনকার মৌলবাদী গোষ্ঠী। কারন ডারউইন যে সত্য তখন প্রকাশ করেছিলো তাতে কোথাও একজন মহান শক্তি বা কোন হায়ার পাওয়ার এর কথা উল্লেখ ছিলোনা। তিনিই প্রথম প্রকাশ করেন জীব জগত সৃষ্টি হতে কোন সৃষ্টিকর্তার প্রয়োজন নেই যা একা একাই কোটি কোটি বছর ধরে তৈরি হয়েছে। কিন্তু ইনি তার বিখ্যাত বই “অরিজিন অব স্পিস” এ মানুষে বা হোমোস্যাপিয়েন্স এর বিবর্তন উল্লেখ করেছিলো না। কারন মানুষ নিয়ে পৃথিবিতে অশংখ্য ধর্ম নানান মত দিয়ে গিয়েছিলো। তার মধ্যে একটি হচ্ছে, মানুষকে কেউ একজন মাটি দিয়ে বানিয়ে তাকে প্রথিবীতে এনে ছেড়ে দিয়েছে এমন মনোভাব। ডারউইন পরবর্তিতে অবশ্য হোমোস্যাপিয়েন্স নিয়ে আরেকটি বই লিখে তা পরিষ্কার করে গিয়েছেন।

যুগে যুগে তৈরি হওয়া ধর্ম মানুষের মাঝে শুধুই বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে। মানব সভ্যতার জন্য অতুলনীয় অবদান রাখা সব বিজ্ঞানীদের করেছে অপমানিত। এমন কি এই ধর্মীয় বিশ্বাসীরা সু-কৌশলে মানুষকে প্রকৃত জ্ঞানের থেকে দূরে সরিয়ে রেখেছে। কারন যদি আমার দেশের ছাত্রদের বিবর্তন আর ডারউইন এর তত্ব সম্পর্কে বেশি বেশি শিক্ষা দেওয়া হয়, তাহলে তাদের ক্ষেত্রে ধর্ম ও ধর্মের ভয় ভীতি ঠিক মতো কাজ করবে না। এতে যে সমস্ত মোড়ল ধর্মীয় দেশ গুলি আজ ধর্মের নামে ব্যবসা পেতে রেখেছে, তাদের ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাবে। তাই তারা আজ অনেক দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে বিবর্তনবাদ নিয়ে শিক্ষা ধীরে ধীরে তুলে দিচ্ছে। যতই বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করা হোক তারা হোমোস্যাপিয়েন্স হতে পারছে না, তারা আদমের বংশধরই থেকে যাচ্ছে। আমার এই লেখা পড়ে যদি নুন্যতম লজ্জাবোধ থাকে তাদের তাহলে একটু ভেবে দেখবেন আপনি কি জ্ঞান অর্জন করছেন।

---------- মৃত কালপুরুষ
              ২৬/০৯/২০১৭
  

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন