বুধবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

আমার ৫৭ ধারা ও সংবিধান জ্ঞান এর খোলা চিঠি ( পর্ব - ১ )


আমি বাংলাদেশের একজন সচেতন নাগরিক এবং বাংলাদেশের সংবিধান এর দ্বিতীয় ভাগ এর ( রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি ) মালিকানা নীতির, ১৩ নং উৎপাদনযন্ত্র, উৎপাদনব্যবস্থা ও বন্টনপ্রণালীসমূহের মালিক বা নিয়ন্ত্রক হইবেন জনগণ এবং এই উদ্দেশ্যে মালিকানা-ব্যবস্থা নিম্নরূপ হইবে:
(ক) রাষ্ট্রীয় মালিকানা, অর্থাৎ অর্থনৈতিক জীবনের প্রধান প্রধান ক্ষেত্র লইয়া সুষ্ঠু ও গতিশীল রাষ্ট্রায়ত্ত সরকারী খাত সৃষ্টির মাধ্যমে জনগণের পক্ষে রাষ্ট্রের মালিকানা।
এই মতে আমি বাংলাদেশের মালিক। তাহলে দেশের ভালো এবং মন্দ নিয়ে কথা বলার অধিকার অবশ্যয় আমাকে আইন অনুযায়ী দেওয়া হয়েছে। তাহলে ৫৭ ধারার প্রতি আমি যথেষ্ট শ্রদ্ধা জানিয়ে কিছু বলতে চাই। ৫৭ ধারাকে শ্রদ্ধা জানাই কারন যেহেতু এটি বাংলাদেশের আইন তবে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান মতে কিছু যায়গায় আমি এই আইনের বিধান নিয়ে দোটানায় পড়ে যাচ্ছি। এখানে বাংলাদেশ সংবিধান এর মৌলিক অধিকার সম্পর্কে বলা হয়েছে এবং প্রতিটি দেশের সংবিধানেই মৌলিক অধিকারের বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে। বাংলাদেশ সংবিধানের তৃতীয় ভাগে মৌলিক অধিকার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।
সংবিধানের ২৬ থেকে ৪৭ (ক) অনুচ্ছেদগুলো মৌলিক অধিকার সংশ্লিষ্ট। তৃতীয় ভাগের শুরুতে অর্থাৎ ২৬ নম্বর অনুচ্ছেদেই বলা হয়েছে, মৌলিক অধিকারের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ কোনো আইন করা যাবে না। আর যদি করা হয় তবে তা বাতিল হয়ে যাবে। সরকার বা মন্ত্রিপরিষদ ইচ্ছা করলেই মৌলিক অধিকার পরিপন্থী আইন তৈরি করে এর ব্যত্যয় ঘটাতে পারবে না।
সংবিধানের এই অনুচ্ছেদটি আমার খুব ভালো লেগেছে। আমি ২০১১ সালের সংবিধানের পঞ্চাদশ সংশোধনী তে তার একটি প্রমান ও পেয়েছি যেমন, ১৯৭৩ সালের প্রথম সংশোধন এ নতুন একটি আইন যোগ করা হয়েছিলো যা উত্থাপন করা হয় ১৮ সেপ্টেম্বর ১৯৭৩। গৃহীত হয় ২০ সেপ্টেম্বর ১৯৭৩ এবং রাষ্ট্রপতির অনুমোদন ২২ সেপ্টেম্বর ১৯৭৩। এ সংশোধনীর মাধ্যমে রাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগের ক্ষমতা বাড়ানো হয়, নিবর্তনমূলক আটক এবং রাষ্ট্রপতিকে যুদ্ধ, বহিরাক্রমন বা দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি স্বাক্ষর নিয়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করার ক্ষমতা প্রদান করা হয়। এবং মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে মামলা করার অধিকারও হিত করা হয়। প্রধানত এই সংশোধনী দেশের নাগরিকদের বিনা বিচারে আটকের বিধান, মৌলিক অধিকার কেড়ে নেয়ার বিধান এবং সংসদ অধিবেশন ৬০ দিনের বদলে ১২০ দিনের মধ্যে আহ্বান করার সুযোগ তৈরি করে দেয়। উত্থাপনকারী : আইনমন্ত্রী মনোরঞ্জন ধর।
এবং পরবর্তীতে দেখা যায় যে, এই জরুরী অবস্থা ঘোষনা আইন দিয়ে কিছু কিছু ক্ষেত্রে রাজনৈতিক হয়রানির অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। একসময় দেশের সচেতন নাগরিক মহল এটি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন ও এই আইন দারা নির্যাতিত মানুষের জন্য প্রতিবাদ করেন। পরবর্তিতে সরকারের উদ্দোগে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সংবিধানে পঞ্চাদশ সংশোধনী আনা হয় যা ছিলো পঞ্চদশ সংশোধনী আইন সংবিধান আইন ২০১১ (পঞ্চদশ সংশোধনী) পাস হয় ২০১১ সালের ২৫ জুন। এই সংশোধনী দ্বারা সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা পুনর্বহাল করা হয় এবং রাষ্টীয় মুলনীতি হিসেবে জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার নীতি সংযোজন করা হয়। এই সংশোধনীর মাধ্যমে দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের নায়ক শেখ মুজিবুর রহমানকে জাতির জনক হিসেবে স্বীকৃতিও দেয়া হয়। এই সংশোধনীর দ্বারা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করা হয়, জাতীয় সংসদে মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত আসন সংখ্যা বিদ্যমান ৪৫-এর স্থলে ৫০ করা হয়। সংবিধানে ৭ অনুচ্ছেদের পরে ৭ (ক) ও ৭ (খ) অনুচ্ছেদ সংযোজন করে সংবিধান বহির্ভূত পন্থায় রাষ্টীয় ক্ষমতা দখলের পথ রুদ্ধ করা হয়।



আর এই সংশোধনীর মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে তৈরি ৭২’র সংবিধানের চার মূলনীতি জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা ফিরিয়ে আনা হয়। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা পত্র এই সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তাহলে সংবিধান মতে ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শ মতে যদি আমার মতো বাংলাদেশের সাধারন নাগরিক সচেতন হয়ে প্রচলিত বাকস্বাধীনতা হরনকারী আইন ৫৭ ধারা কে বিলুপ্ত করার আহবান জানাই তাহলে অবশ্যয় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার বিষয়টি বিবেচনায় নিবে বলে আশা করি। এই সম্পর্কে আরো বলতে গেলেই আগে আসে সংশোধনী কি ? সংশোধনী কেন ? এবং সংবিধান বিষয়ক আরো আলোচলা। আশা করি আমার পরবর্তী সংবিধান জ্ঞানের খোলা চিঠির পর্বে তা লিখবো।
চলবে.......
দ্রঃ আমার কিছু লেখা অনেকেই কপি করে আবার পাবলিশ করেছেন, সে ব্যাপারে আমি কিছু বলছি না। আর এই সংবিধান জ্ঞান এর খোলা চিঠি আমি কোন ব্লগ বা ওয়েব সাইটের জন্য লেখি নাই তবে কেউ পুনঃপ্রকাশ করতে চাইলে আমাকে ইনবক্স করতে পারেন। কপি পেষ্ট এর ক্ষেত্রেও আমাকে জানাতে হবে। নতুবা আমি রিপোর্ট করবো। ধন্যবাদ।

----------- মৃত কালপুরুষ
             ০৮/০৮/২০১৭

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন