গত কয়েকদিনে আমরা আবারও প্রমান করলাম আমরা হুজুগে বাংগালী এবং আমরা
ভালো ভাবে যাচাই বাছাই না করেই যে কোন বিষয় নিয়ে প্রচুর পরিমানে লাফালাফি করতে
খুবই ভালোবাসি। লাফাতে লাফাতে আমরা আরো দশজনকে সাথেও নিতে পছন্দ করি। সম্প্রতি ব্লু
হোয়েল নামের একটি গেমস যার প্রমান। আমি ভেবেছিলাম এই বিষয়ে কিছু লিখবো না কিন্তু
অনেক জানাবোঝা মানুষও দেখলাম ভুল করে এটা নিয়ে অনেক লেখালেখি করে ভরে ফেলেছে। আমি
জানি আমার এই লেখাটি দেখার পরে তারা কিছুটা চিন্তিত হবেন বা কষ্ট পাবেন আসলে দেখুন
আমি সবার কাছে আগেই ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি কিন্তু আমি যেটা বলতে চাচ্ছি সেটা খুব শক্ত
এবং জোরালো ভাবেই বলছি কেউ আমার মতের বিপক্ষে দ্বিমত পোষন করতে পারেন কোন সমস্যা
নাই। আজকেও আমার ইনবক্সে ৪ জন একই ম্যাসেজ পাঠিয়েছে এই ব্লু হোয়েল গেমস নিয়ে তাই
বাধ্য হয়ে এই লেখাটি।
বাংলাদেশে, ভারত ও অন্যান্য বেশ কিছু দেশের নাম করা সব ইলেকট্রনিক মিডিয়া যেখানে এই হুজুগের বাইরে নেই সেখানে আপনারা কিভাবে থাকবেন। আমাদের দেশের কয়েকটি মিডিয়ার নাম বলছি শুনে আপনিও অবাক হবেন এদের মতো মিডিয়া এই হুজুগে খবরটা ছড়াতে পারলো। যেমন ধরুন – প্রথম আলো, কালের কন্ঠ, চ্যানেল আই অনলাইন, বিবিসি বাংলা, জি লাইভ, নিউজ ২৪ সহ আরো অনেক নামীদামী ইলেক্ট্রনিক্স মিডিয়া এমন খবর ছড়িয়ে বাবা মায়েদের সচেতন করার চেষ্টা করেছেন যে ,ব্লু হোয়েল নামের একটি অনলাইন গেমস এ আশক্ত হয়ে আপনার সন্তান আত্তহত্যা করতে পারে তাই এই ব্যাপারে আপনারা সচেতন হন। আপনার সন্তানকে বাচান। এটা আরো জোরালো ভাবে মিডিয়া গুলা প্রচার করা শুরু করে যখন শোনা গেলো বাংলাদেশেও একটি ১৪ বছর বয়সী মেয়ে যার নাম অপূর্বা বর্ধন আত্তহত্যা করার পর থেকে। আসুন আগে জেনে নেই কে এই অপুর্বা বর্ধন।
বাংলাদেশে, ভারত ও অন্যান্য বেশ কিছু দেশের নাম করা সব ইলেকট্রনিক মিডিয়া যেখানে এই হুজুগের বাইরে নেই সেখানে আপনারা কিভাবে থাকবেন। আমাদের দেশের কয়েকটি মিডিয়ার নাম বলছি শুনে আপনিও অবাক হবেন এদের মতো মিডিয়া এই হুজুগে খবরটা ছড়াতে পারলো। যেমন ধরুন – প্রথম আলো, কালের কন্ঠ, চ্যানেল আই অনলাইন, বিবিসি বাংলা, জি লাইভ, নিউজ ২৪ সহ আরো অনেক নামীদামী ইলেক্ট্রনিক্স মিডিয়া এমন খবর ছড়িয়ে বাবা মায়েদের সচেতন করার চেষ্টা করেছেন যে ,ব্লু হোয়েল নামের একটি অনলাইন গেমস এ আশক্ত হয়ে আপনার সন্তান আত্তহত্যা করতে পারে তাই এই ব্যাপারে আপনারা সচেতন হন। আপনার সন্তানকে বাচান। এটা আরো জোরালো ভাবে মিডিয়া গুলা প্রচার করা শুরু করে যখন শোনা গেলো বাংলাদেশেও একটি ১৪ বছর বয়সী মেয়ে যার নাম অপূর্বা বর্ধন আত্তহত্যা করার পর থেকে। আসুন আগে জেনে নেই কে এই অপুর্বা বর্ধন।
এই কিশোরির আত্তহত্যার পরে জানা যায় অপূর্বা বর্ধনের নিজের কোন
স্মার্টফোন ছিল না। মায়ের স্মার্টফোনটি ব্যবহার করত সে। সেই ফোনেই ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, ভাইবার ব্যবহার
করতো ১৪ বছরের এই কিশোরী। স্মার্টফোনে এসব ব্যবহারের মাত্রাটা অপূর্বার মা সানি
বর্ধনেরও নজর এড়ায়নি। স্কুল থেকে ফিরেই মেয়ের স্মার্টফোনে ঢুকে পড়ার প্রবণতা এবং
প্রথম শ্রেণি থেকে প্রথম স্থান অধিকার করা মেয়েটি হঠাৎ পড়ালেখায় অমনোযোগী হওয়ায়
উদ্বিগ্ন ছিলেন তিনি। মেয়ের আচরণে উদ্বিগ্ন ছিলেন জানিয়ে অপূর্বার মা সানি বর্ধন
মিডিয়াকে বলেন, ‘ক্লাস সেভেনে ওঠার পর থেকে ওর রেজাল্ট
কিছুটা খারাপ হওয়া শুরু করে। আমি এজন্য ওকে বুঝিয়ে বলেছিলাম। ফেসবুকে ওর একটা
ফ্রেন্ড সার্কেল ছিল। তবে ওরা কারা আমরা সেটা জানি না। কারণ অপূর্বা মোবাইলফোনটি
প্যাটার্ন লক দিয়ে রাখতো, ফেসবুক থেকে বের হয়ে লগআউট করতো।
আমরা পাসওয়ার্ড জানতাম না। স্কুল থেকে ফিরেই জামা-কাপড় না বদলে, না খেয়েই মোবাইলটা নিয়ে বসে পড়তো।
এরপর গত বৃহস্পতিবার তার কক্ষেই মেয়েকে সিলিং
ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান অপূর্বার মা। এরপর হাসপাতালে নিয়ে জানতে
পারেন দুই ঘণ্টা আগেই মৃত্যু হয়েছে ফুটফুটে মেয়েটির। মেয়ের এমন অকালমৃত্যুর একদিন
পরে সানি বর্ধনের মোবাইল ফোনে অপূর্বার বন্ধু পরিচয়ে কয়েকজন কল করে। এদেরই একজন অপূর্বার
বাবা-মাকে জানায়, মেয়েটি হয়তো
আত্মহত্যায় প্ররোচিত করা ‘ব্লু হোয়েল গেমে’র শিকার হয়েছে। রাজধানীর নামী স্কুলে
পড়ুয়া মেয়ের রহস্যময় মৃত্যুর পর কয়েকটি গণমাধ্যমকে অপূর্বার বাবা অ্যাডভোকেট
সুব্রত বর্ধন জানান, ব্লু হোয়েল গেমটিকে সন্দেহ করছেন তারা।
একটি তরুন প্রান ঝরে যাওয়ার শোকের মধ্যে এটা একটা হাস্যকর কথা আমার কাছে। কারন দেখুন এই কথা গুলির সাথে কিন্তু ব্লু হোয়েল নামের কোন গেমস এর কোন সম্পর্ক নেই।
পুলিশ বলছে, এক রুশ তরুণের উদ্ভাবিত এই ব্লু হোয়েল গেমের ৫০টি ধাপের সর্বশেষ ধাপ হচ্ছে আত্মহত্যা। চূড়ান্ত ধাপে যাওয়ার আগে নিজের হাতে ব্লেড দিয়ে কেটে তিমি আঁকতে হয়। এরকম কোন কিছুই অপূর্বা বর্ধনের শরীরে পাওয়া যায়নি। এমনকি মায়ের যে ফোনটি সে ব্যবহার করতো সেটিও খতিয়ে দেখে কিছু পায়নি পুলিশ। তাই ফোনটিও অপূর্বার মা সানি বর্ধনের কাছে ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে। ব্যাস এটুকুই হলো বাংলাদেশে ব্লু হোয়েল গেমস দারা আক্রান্ত এক কিশোরীর মৃত্যু ঘটনা। এবার আসুন সংক্ষেপে জানার চেষ্টা করি এই ব্লু হোয়েল গেমস সম্মন্ধে মিডিয়া গুলা কি তামাশা করছে একটু দেখি। ব্লু হোয়েল গেম কী।
পুলিশ বলছে, এক রুশ তরুণের উদ্ভাবিত এই ব্লু হোয়েল গেমের ৫০টি ধাপের সর্বশেষ ধাপ হচ্ছে আত্মহত্যা। চূড়ান্ত ধাপে যাওয়ার আগে নিজের হাতে ব্লেড দিয়ে কেটে তিমি আঁকতে হয়। এরকম কোন কিছুই অপূর্বা বর্ধনের শরীরে পাওয়া যায়নি। এমনকি মায়ের যে ফোনটি সে ব্যবহার করতো সেটিও খতিয়ে দেখে কিছু পায়নি পুলিশ। তাই ফোনটিও অপূর্বার মা সানি বর্ধনের কাছে ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে। ব্যাস এটুকুই হলো বাংলাদেশে ব্লু হোয়েল গেমস দারা আক্রান্ত এক কিশোরীর মৃত্যু ঘটনা। এবার আসুন সংক্ষেপে জানার চেষ্টা করি এই ব্লু হোয়েল গেমস সম্মন্ধে মিডিয়া গুলা কি তামাশা করছে একটু দেখি। ব্লু হোয়েল গেম কী।
বলা হচ্ছে এটি একটি অনলাইন গেমস। এতে সর্বমোট ৫০টি ধাপ রয়েছে। আর ধাপগুলো খেলার জন্য ব্লু হোয়েল গেমস কমিউনিটির অ্যাডমিন বা পরিচালক খেলতে ইচ্ছুক ব্যক্তিকে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ দিবে। আর প্রতিযোগী সে চ্যালেঞ্জ পূরণ করে তার ছবি আপলোড করবে। শুরুতে মোটামুটি সহজ এবং কিছুটা চ্যালেঞ্জিং কাজ দেয়া হয়। যেমন, মধ্যরাতে ভূতের সিনেমা দেখা। খুব সকালে ছাদের কিনারা দিয়ে হাঁটা এবং ব্লেড দিয়ে হাতে তিমির ছবি আঁকা। তবে ধাপ বাড়ার সাথে সাথে কঠিন ও মারাত্মক সব চ্যালেঞ্জ দেয় পরিচালক। যেগুলো অত্যন্ত ভয়াবহ এবং এ খেলার ৪৯ টি ধাপ শেষ করার পর ৫০ নাম্বার বা সর্বশেষ ধাপ হলো আত্মহত্যা করা। অর্থাৎ গেম শেষ করতে হলে প্রতিযোগীকে আত্মহত্যা করতে হবে। কিন্তু সেই গেমস এর নির্মাতা আর পরিচালক কিন্তু আজও আত্মহত্যা করে নাই মনে রাখতে হবে। আর বাংলাদেশ ভারত সহ যতগুলা দেশেই এই গেমস নিয়ে লেখালেখি হয়েছে সেখনে শুধু বলাই হয়েছে যে এই গেমস এ ৫০ টি ধাপ আছে কিন্তু এই ৩ টি ধাপের কথা ছাড়া আজ পর্যন্ত ৪র্থ ধাপের কোন আলামত কেউ কোথাও পাই নাই।
এই গেমস এর জন্ম কিভাবে হলো দেখুন। একটি মিথ ছড়িয়ে গিয়েছে যে, এই খেলার জন্ম রাশিয়ায়। জন্মদাতা ২২ বছরের তরুণ ফিলিপ বুদেকিন নামের কেউ যার কোন সন্ধান নাই। ২০১৩ সালে রাশিয়ায় প্রথম সূত্রপাত। ২০১৫ সালে প্রথম আত্মহত্যার খবর পাওয়া যায়। তবে এহেন গর্হিত কাজের জন্য নিজেকে অপরাধী না বলে বরং সমাজ সংস্কারক বলে নিজেকে অভিহীত করে বুদেকিন। সে জানায়, এই চ্যালেঞ্জের যারা শিকার তারা এ সমাজে বেঁচে থাকার যোগ্য নয়। এ গেম নিয়ে রীতিমত অবাক রাশিয়া পুলিশ। তদন্তের পর তারা জানায় অন্তত ১৬ জন কিশোরী এ গেমের কারণে আত্মহত্যা করেছে। এমনকি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রায় ১৩০ জনের আত্মহত্যার জন্য এ গেম দায়ী। একটি গেমস কিভাবে তরুণ-তরুণীদের আত্মঘাতী করছে সে বিষয়ে চিন্তিত মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে ব্রিটেন-আমেরিকায় এ গেম জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। সম্প্রতি ভারতে এ গেমের ফলে আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে বলেও মিডিয়া গুলা ছড়াচ্ছে। শুরুতে তুলনামূলক সহজ এবং সাহস আছে কি না এমন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয়ায় তা যুবক-যুবতীদের কাছে আকৃষ্ট হয়। তবে একবার এ খেলায় ঢুকে পড়লে তা থেকে বের হয়ে আসা প্রায় অসম্ভব। খেলার মাঝপথে বাদ দিতে চাইলে প্রতিযোগীকে ব্লাকমেইল করা হয়। এমনকি তার আপনজনদের ক্ষতি করার হুমকিও দেয়া হয়। আর একবার মোবাইলে এই অ্যাপটি ব্যবহারের পর তা আর ডিলিট করা যায় না। কিন্তু এমন কাউকে পাওয়া যায় নাই যে এই জাতীয় কোন গেমস তার মোবাইল এ ইন্সটল করেছে।
এই হচ্ছে ব্লু হোয়েল গেমস এর ঘটনা। এবার আমি যা বলছি সেটা শুনুন আমি বলছি খুব শক্ত ভাবেই বলছি আমি এটা নিয়ে অনেক সময় ব্যয় করে আসল তথ্য বের করার চেষ্টা করে এই তথ্য বের করেছি। আসলে ব্লু হোয়েল নামে কোন গেমস নেই হ্যা, আবারও শোনেন এই নামে ব্ল হোয়েল নামে কোন গেমস নেই এই নামে কোন গেমস অতীতেও ছিলো না এবং এখনও নেই। এবার আমার কথা পারলে কেউ ভুল প্রমান করেন। যারা আত্মহত্যা করেছে বা ব্লু হোয়েল নামের গেমস এর কারনে যাদের মৃত্যু ঘটেছে বলে দাবি করা হচ্ছে তারা কেই এই জাতীয় কোন গেমস খেলে আত্মহত্যা করে নাই। কারো কাছে কোন প্রমান থাকলে তা সামনে আনুন। এখন কথা উঠতে পারে যারা আত্তহত্যা করলো তারা আত্তহত্যা কেন করলো। এর উত্তর হচ্ছে আগে জেনে আসুন ভালো করে আত্মহত্যা মানুষ কেনো করে। আর কাদের ভেতরে বেশি আত্মহত্যার প্রবনতা দেখা যায়। যে সব পিতা মাতাকে তাদের সন্তানদের সম্পর্কে সচেতন করতে গিয়ে এই বাংলার মিডিয়া গুলা ব্লু হোয়েল এর নাম করেছে সেই সব অভিভাবকদের বলবো আগে নিজেদের সন্তানের মনের কথা জানার চেষ্টা করুন এর বেশি কিছু না।
আত্মহত্যা মানুষ কেন আর কারা করে সে বিষয়ে বলতে গেলে এমনিতেই পাওয়া যায় তরুন ও কিশোর বয়সে এই আত্তহত্যার প্রবনতা বেশি দেখা যায়। তবে মধ্যবয়স্ক মানুষের ভেতরেও আত্মহত্যার কথা শোনা যায়। বিশেষ করে সাইক্রিয়াট্রিস্টরা নারীদের বা ওমেন সাইক্লোজিতে এই সম্ভাবনা বেশি থাকে বলে দাবি করেন। টিন এজারদের চিন্তা ভাবনা ও কোন কিছু গ্রহন করার মাত্রা বা পরিধি একটু বেশি থাকে। তারা অল্পতেই খুব বেশি আবেগীয় ভাবে যে কোন বিষয় গ্রহন করে থাকে। তাদের মধ্যে বিবেকের চেয়ে আবেগের ব্যাবহার একটু বেশি দেখা যায়। এই মনোভাবের কারনে এদের মধ্যে এই আত্মহত্যার প্রবনতা বেশি দেখা যায়। চাহিদা মতো কোন কিছু না পাওয়া সেটা হোক একটা মোবাইল ফোন বা অন্য কিছু, প্রেম বা ভালোবাসা জনিত ঘটনা, প্রচন্ড হতাশা, মানুষিক চাপ সহ্য করতে না পারা, পারিপার্ষিকতা সহ আরো বেশ কয়েকটি কারনে আত্মহত্যা সংগঠিত হয়ে থাকে। এখানে যারা মনে করে যে ব্লু হোয়েল টাইপের কোন একটি গেমস দারা কেউ আত্মহত্যা করতে পারে তাদের আমি বলবো বোকা ছাড়া আর কিছুই না। দুঃখিত আমি আপনাদের এই কথা বলার জন্য। আমি জানি অনেকেই ভালোভাবে খোজ না নিয়ে এটা নিয়ে লেখালেখি করে ফেলেছেন।
আরেকটু তথ্য নিয়ে নিন। যেহেতু বলা হচ্ছে এটি একটি অনলাইন গেমস ও এটাতে নিয়মিত আপডেট নিয়ে খেলতে হয় তাই সবাই প্রথমেই জেনে রাখুন, তা হবে একদমই যুক্তুহীন একটি কথা যে এই জাতীয় গেমস যদি ১৭০ জন কিশোর কিশোরির মৃত্যুর জন্য দায়ীই হবে তা আজো কিভাবে অনলাইনে ওপেন থাকে। যেখানে কোন ফেক ফেসবুক ইউসার যদি ফেসবুকে একাউন্ট ওপেন করে চালাতে থাকে তাহলে কারো একটি রিপোর্টেই সেটা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। বা মিথ্যা অভিযোগ করলেও তা ব্লক করে রাখা হয় যতক্ষন পর্যন্ত সত্য প্রমান না হয়। মোবাইল ভার্সন বলতে গুগল প্লে স্টোরে এই নামে দুইটি গেমস আছে যা এই জাতীয় মিথ তৈরি হবার পরে কেউ হয়তো মজা করে আপলোড করেছে গেমস নাম দিয়ে আমি জানি না তা এখনও প্লে স্টোর এ আছে কিনা আমি বেশ কয়েক মাস আগে যখন ইউটিউবে এই ব্লু হোয়েল নিয়ে খুব মাতামাতি চলছিলো তখন দেখেছিলাম একবার। এবার শুনন কিছু অনলাইনের গোপন খবর। অনলাইনে তিন ধরনের ওয়েব সাইট থাকে। একটি হচ্ছে ওপেন সাইট একটি হচ্ছে ডিপ সাইট আরেকটি হচ্ছে ডার্ক সাইট। এখন এগুলা আবার কেমন ?
ওপেন সাইট, এই জাতীয় সাইট গুলা হচ্ছে সবসময় ওপেন থাকে যার এড্রেস শুরু হয়ে থাকে WWW দিয়ে। এই যে আমরা যত সাইট প্রতদিন ভিসিট করি অনলাইনে বা ইন্টারনেটে এসবই হচ্ছে ওপেন সাইট যেমন গুগল, ইউটিউব, ফেসবুক, নেটফ্লিক্স, টুইটার এরকম যত অনলাইন সাইট আছে তা সবই ওপেন ওয়েবসাইট যেখানে আমরা নির্দিষ্ট কোন নাম লিখেই ঢুকে যেতে পারি। এবার দেখুন ডিপ সাইট কাকে বলে। এটা অচ্ছে এমন কিছু সাইট যা নির্দিষ্টি ইউসার ছাড়া কেউ সেখানে ধুকতে পারবে না। যেমন ধরুন গুগল ড্রাইভ, ড্রপবক্স, বক্স, এরকম যত ক্লাউড স্টোরেজ আছে যা নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা একাউন্ট এর মালিক ছাড়া সেখানে ধুকতেও পারবে না বা কিছু দেখতেও পারবে না এগুলাই হচ্ছে ডিপ সাইট নামে পরিচিত। আর ডার্ক সাইট বা অন্ধকার সাইট বলতে আমরা বুঝবো প্রচলিত কোন ব্রাউজার দিয়ে সেসব সাইটে আমরা ঢুকতে পারবো না বা গুগিল এর মতো কোন সার্চ ইঞ্জিন দিয়েও হাজার সার্চ করেও আমরা ডার্ক সাইটের একটি লিংক এর দেখাও পাবো না। কিন্তু সেখানেও অনেক লক্ষ লক্ষ ডার্ক ওয়েব সাইট আছে। যেমন ধরুন জঙ্গী সংগঠন গুলা এই সব সাইট ব্যবহার করে, কাউকে খুন করতে চাইলে আপনি এই ডার্ক সাইট থেকে কিলার ভাড়া করতে পারবেন, কোন দেশে কত টাকা লাগবে খুন করতে তা জানতে পারবেন, অস্ত্র কেনা বেচা করতে পারবেন, মাদক কেনাবেচা করতে পারবেন, বিভিন্ন দেশের মাফিয়াদের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করতে পারবেন, কোন সাইট হ্যাক করতে চাইলে হ্যাকার ভাড়া করতে পারবেন ইত্যাদি। চাইলে বিশ্বের যে কোন দেশের অরিজিনাল পাসপোর্ট বানিয়ে নিতে পারবেন এই সব ডার্ক সাইট থেকে। এই হচ্ছে সেই ইন্টারনেটের অন্ধকার জগত বা ডার্ক সাইট গুলার কাজ। কিন্তু এগুলা সর্বোসাধারনের জন্য উন্মুক্ত না সেখানকার কোন সাইটের এড্রেস WWW দিয়ে শুরু হয় না। সেখানে ঢুকতে হলে কিছু নির্দিষ্ট ব্রাউজার কিছু নির্দিষ্ট সফটওয়ার ব্যাবহার করতে হবে। সেখানেও আজ পর্যন্ত কেউ কন গেমস এর সন্ধান পায় নাই যার নাম ব্লু হোয়েল। কেউ পেয়ে থাকলে আমাকে জানাবেন।
ব্লু হোয়েল গেমস নিয়ে যারা খুবই মাতামাতি করছেন তাদের বলবো পারলে আগে একটা ব্লু হোয়েল গেমস এর লিংক খুজে বের করেন। কারন ওপেন সাইট গুলাতে তো দুরের কথা কোন ডিপ সাইটে এমনকি ডার্ক সাইটেও এই নামে কোন গেমস এর সন্ধান আজ পর্যন্ত খুজে পাওয়া যায় নাই। তাহলে কি এতো গুজব এই ব্লু হোয়েল গেমস নিয়ে ? আর কি সবই গুজব বা মিথ্যা ? আমি বলবো হ্যা এসবই মিথ্যা ও গুজব ছাড়া আর কিছুই না। অনেক বড় লেখা লিখে ফেলেছি পড়তে গিয়ে অনেকেই বিরক্ত হয়ে যাবেন। আমি একটি কথায় বলবো যারা এপর্যন্ত আগ্রহ নিয়ে পড়েছেন তারা এই বিষয়টি নিয়ে আর মাথা ঘামাবেন না কারন সেটা হবে বোকামী। আর যারা এটা নিয়ে ফেসবুক সহ অনান্য অনলাইন মাধ্যম গুলাতে মাতামাতি করছে তাদেরকে এই বিষয়টি জানান।
---------- মৃত কালপুরুষ
০৯/১০/২০১৭



কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন