আমার ধারাবাহিক লেখাতে শুধু গতকালই রোহিঙ্গা ইস্যু সৃষ্টি হবার মূল কারন নিয়ে কয়েকটি কথা বলেছে। তাতেই বিভিন্ন জনের বিভিন্ন মানুষিকতার মানুষের বিভিন্ন মতামত এসেছে আমার কাছে। আমি সত্য কথাগুলি সবার সামনে উপস্থাপন করার শেষে যা ভেবেছিলাম ঠিক তাই হচ্ছে। আমার ইনবক্সই তার প্রমান। আমি আপনাদের সবাইকে আরো একবার বলতে চাই আমি মানবতা বিরোধী নই। আগে আমাকে বলতে দিন তার পর সব বুঝতে পারবেন। এদের মধ্যে অনেকের প্রশ্ন ছিলো আপনি মুসলিম জঙ্গিদের কথায় শুধু কেন বলছেন বৌদ্ধ ভিক্ষু গুলা যে জীব হত্যা মহা পাপ, জীব হত্যা মহা পাপ বলে বেড়াই তারাও কি সমান অপরাধা করছে না। নির্বিচারে রোহিঙ্গা মুসলিমদের কিন্তু তারাও হত্যা করেছে বলে প্রমান আছে। তাদের উদ্দেশ্যই বলা কার্ল মার্কস এর উক্তিটি আরো একবার মনে করবেন। ভয়াবহ মাদক আর ধর্মকে কেন একসাথে তুলনা করা হয়েছে তা গভীরভাবে চিন্তা করবেন। সেক্ষেত্রে এই দুটির অভিজ্ঞাতই থাকতে হবে। আশা করি আপনাদের উত্তর পেয়ে যাবেন। এই আরাকানের ঘটে যাওয়া ঘটনাই আরো একবার তার প্রমান দেয়। আপনি যেমন তেতুল হুজুর, রাম রহিম আর এই বৌদ্ধ, মগদের আলাদা করতে পারবেন না। ঠিক তেমনই মায়ানমার এর রোহিঙ্গা জিহাদি জঙ্গিবাদীদের আলাদা করতে পারবেন না। এরা সবাই সমান ভাইরাস, আজকের এই রোহিঙ্গা পরিস্থিতির জন্য।
মানবতা মানবতা বলে চিৎকার করা মানুষগুলা কি একবারও ভেবে দেখেছেন বাংলাদেশ আর মায়ানমার এর মাঝে ছোট্ট একটি নদী যার নাম নাফ নদী। এই নদী কিন্তু সমস্যা নয়। বাংলাদেশেও আছে একদল ইসলামী জঙ্গি সম্প্রদায় নদীর ওপারে মায়ানমারেও আছে আরেক দল বৌদ্ধ সন্ত্রাসী আর জঙ্গি রোহিঙ্গা সম্প্রদায় সবার হাতেই কিন্তু পিষ্ঠ হচ্ছে সাধারন মানুষ। কেউ কি ভেবে দেখেছেন কেন এই মানুষগুলিকেই এই পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে হচ্ছে। কারন বেধর্মী আক্ষা দিয়ে হত্যা করা হলে জান্নাত পাচ্ছে আর নাস্তিক ও মুরতাদ অাখ্যা দিয়ে হত্যা করলে দায়বদ্ধতা মওকুফ হয়ে যায়, কিন্তু কেন? অনুভূতিতে অাঘাতের নামে মানুষের জীবন ও স্বপ্ন নষ্ট করলে তা বৈধতা পায়, কিন্তু কেন? খুনের বদলে খুন, ধর্ষণের বদলে ধর্ষণ, অাঘাতের বদলে অাঘাতই কি সমাধান? এই সমাধান কারা দিয়েছে, কি তাদের উদ্দেশ্য একটু গভীরে গিয়ে ভাবুন।
আমি ব্যক্তিগত ভাবে এই রোহিঙ্গা জাতির মতো একটি জিহাদি জঙ্গী গোষ্ঠীকে খুব একটা পছন্দ করি না। বিশেষত এদের যে খুনি গ্রুপ গুলি আছে যারা মানুষ জবাই করে মুরগীর মতো। তবে অসহায় নারী, শিশুদের স্বাভাবিক জীবন ফিরিয়ে দেবার জন্য লিখতে চাই। বিশ্ব মোড়ল দেশ গুলির কানে এদের কথা পৌছিয়ে দিতে চাই। কাকে আমার পছন্দ আর কাকে অপছন্দ সেটা মূল কথা নয়। যেখানে মানবতা লঙ্ঘন করা হচ্ছে সেখানে আমি কথা বলতেই পারি। আমি জানি আজ দেশের মুক্তমনা লেখকদের মধ্যে দুইটি ভাগ দেখা যাচ্ছে এই রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে তাদের সাথে আলাপচারিতা শেষে বোঝা যাচ্ছে তাদের মনোভাব এই মুসলিম জঙ্গি গুলাই বেয়াড়া তাদের একটু পানিশমেন্ট দরকার। তাদের উদ্দেশ্যেই বলবো এরা একদল মানুষ আর ওদের উপর অত্যাচার হচ্ছে, ওরা বিপদে আছে- এইভাবে দেখেন। মানুষ মরছে, আর যারা জিজ্ঞাসা করে নাস্তিক না, বৌদ্ধ না, হিন্দু না ওরা মুসলিম' ঐসব এক্সট্রা অর্ডিনারী মানুষদের কথা বাদ দেন। আমার দেশের হিন্দুদের উপর অত্যাচারের বিরুদ্ধে কে প্রতিবাদ করেছে, আদিবাসীদের উপর অত্যাচারকে কে সমর্থন করে সেগুলি ইস্যু এনে রোহিঙ্গাদের প্রতি সহানুভূতির ব্যাপারটা এড়িয়ে যাবেন না। সবাই এই মানুষ গুলিকে রক্ষা করার জন্য লিখুন। কিছু হলেও লিখুন।
ধর্ম মানেই মানব সভ্যতার জন্য একটি ভাইরাস তা আরো একবার প্রমানিত হচ্ছে মায়ানমারে। এই ধর্মের এজেন্ট নামের ছদ্মবেশধারী মানুষগুলি মানুষহোক। ধর্মিয় ভিক্ষু আর দরবেশ বাবারা মানুষহোক। মোল্লা হজুর নামের জিহাদি জঙ্গি সুফিরা মানুষ হোক। ঠাকুর বাবা, পণ্ডিত আর ফাদারেরা মানুষহোক। দেবতা প্রিয় পুরোহিতেরা মানুষহোক। রাজনীতিবিদ এবং সুশীল নামক কুশীলবেরা মানুষহোক।
আরেকবার আমাদের দেশে বিদেশে যে সব বাংলাভাষী মুক্তমনা লেখকদ্বয় আছেন তাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই। আসুন এই ভাগাভাগি করা বাদ দেই। এই ভাগ করা হচ্ছে ধর্মান্ধদের কাজ যেমন তারা নিজেদের ধর্মেও করে থাকে, ক্যাথলিক জিসুস, শিয়া সুন্নি, ব্রাহ্মণ কর্মকার, এই ভাবে চিন্তা না করি। ভাগ যদি করতেই হয় তাহলে মানবতাবাদী আর মানবতাবিরোধী ভাগ করুন।। সাদা কালো, ধনী গরীব, আস্তিক নাস্থিক, ধার্মিক অধার্মিক, নারী পুরুষ, এরকম নই। ভাবুন সমাজ আর রাষ্ট্র যদি ধর্মনামক ভাইরাস দ্বারা অসুস্থতাজনিত কারনে মানুষ হত্যা করে তবে একজন ডাক্তার হিসেবে দেখার চেষ্টা করুন। রোগী নারী না পুরুষ তা ডাক্তার চিকিৎসা পুর্বেই জেনে যায়। কিন্তু সে কি জানার চেষ্টা করে রোগী হিন্দু না মুসলিম, পাহাড়ি না বাঙ্গালী, আর যদি ডাক্তার এই জাতীয় বাছাই করে রোগীর চিকিৎসায় ভিন্ন ভিন্ন ট্রিটমেন্ট দেয় তবে সেই ডাক্তার হবে তার পেশাগত দিক থেকে অসৎ।
আর এই পেশাগত অসদাচরণ এর কারনে যদি ডাক্তারি লাইসেন্স বাতিল হয়ে যায় তবে মানবিক অসদাচরণ এর জন্য কিন্তু মানুষ পরিচয় বাতিল হতে পারে আপনার। যদি কোন স্বার্থ না থাকে তবে আপনি কেন এই ভাগাভাগি করতে যাবেন। তবে কেন লিঙ্গ বা ধর্মের ভিত্তিতে অসহায় মানুষগুলির প্রতি আপনার মনোভাব ভিন্ন করবেন। যদি তাই করেন তবে আপনি করবেন মানবিক অসদাচরন। আসুন একবার এভাবে চিন্তা করি। সমসাময়িক রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে এটাই আপাতত আমার শেষ লেখা। তবে অসহায় রোহিঙ্গা গোষ্ঠী গুলোর জন্য লিখে যাবো। তাতে যদি কারো কারো মনে কিঞ্চিৎ পরিমান কষ্ট দিয়ে থাকি তবে ক্ষমা করবেন। আমি মনে করি ধর্মের দোহায় দিয়ে অভিযোগ এনে কিছু এড়িয়ে যাওয়াও এক প্রকার দুর্বলতা যা মানব সভ্যতার জন্য ক্ষতিকর হতে পারে ঠিক ধর্মীও ভাইরাসের মতো। পাশাপাশি এই রোহিঙ্গা জিহাদি জঙ্গি গুলিকেউ একপ্রকার সাপোর্ট করা। আমাদের উচিৎ হবে এইসব অসহায় রোহিঙ্গাদের এই পরিস্থিতির জন্য জিহাদ আর জঙ্গিবাদই যে দায়ী তা বোঝানো। তাদের মধ্যে জঙ্গি বিরোধী আন্দোলন করার উৎসাহ যুগাতে হবে। তা না করে যদি সীল করা বর্ডার খুলে তাদের বাংলাদেশে আশ্রয় দিতে থাকি তবে একদিন এই জঙ্গি আর জিহাদিদের দ্বারা আমার দেশই ক্ষতিগ্রস্ত হবে সেটাও বলছি। আসুন আরেকবার বলি যেকোন নীতিতেই অস্ত্রের মুখে নিরীহ অসহায় মানব হত্যার তীব্র নিন্দা জানাই।
আর তাদের উদ্দেশ্য বলা, কি যে বলবো বুঝতে পারছি না। যারা না বুঝেই ফেসবুক আর অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া গুলিতে উল্টাপাল্টা রেফারেন্স বিহীন ছবি আর ভিডিও আপলোড করে দেশের মধ্যে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাধাবার চেষ্টা করছেন। অথবা যারা কিছুই না বুঝে মানবতা মানবতা করে এই কাজ করছেন তাদের বলি, মানুষ হিসেবে আমাদের সবারই রোহিঙ্গাদের প্রতি সহানুভূতি দেখানো জরুরি। রোহিঙ্গাদের প্রতি সহানুভূতি দেখানো, রোহিঙ্গাদের উপর হওয়া নিপীড়ণের প্রতিবাদ করা মানে বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়াকে সমর্থন করা নয়। যারা আশ্রয়ের কথা বলে তারা বাংলাদেশে জঙ্গি কার্যক্রমকে উৎসাহিত করার কথা বলে প্রকারান্তে। বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়া রোহিঙ্গা ইস্যুর কোন সমাধান নয়। আমাদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে রোহিঙ্গাদের উপর মায়ানমারের করা এই অত্যাচারের প্রতিবাদ করা উচিত।
ছবিঃ আলজাজিরা নেটওয়ার্ক।
---------- মৃত কালপুরুষ
৩১/০৮/২০১৭
৩১/০৮/২০১৭


কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন