বুধবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

আমার ৫৭ ধারা ও সংবিধান জ্ঞান এর খোলা চিঠি ( পর্ব - ২ )


প্রথম পর্বের লেখা থেকে কিছুটা ধারনা হইতো পাওয়া গিয়েছে যে, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সংবিধানে যে আইন বিষয়ক পরিবর্তন করা যায়। ১৯৭২ সালে সংবিধান গঠন করার পরে ১৯৭৩ সালের প্রথম সংশোধনী তে যে, জরুরি অবস্থা বিষয়ক আইন যোগ করা হয়েছিলো তা ২০১১ সালের পঞ্চাদশ সংশোধনীতে বিলুপ্ত করা হয়েছে। তাহলে সংশোধন সম্ভব। অর্থাৎ এমন কোন আইন যদি দেশ ও দেশের নাগরিকদের জন্য কোন সুফল বয়ে নিয়ে আসতে না পারে তবে সরকার চাইলে তার পরিবর্তন, পরিবর্ধন বা সংশোধন করার আইন আছে। এ পর্যন্ত ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৪ সালের ষোড়শ সংশোধনী হাইকোর্টের আদেশে বাতিল হবার আগে বাংলাদেশের সংবিধান সর্বমোট ১৫ বার সংশোধীত হয়েছে।
এই সংবিধান সংশোধনের জন্য জাতীয় সংসদের সদস্যদের মোট সংখ্যার দুই তৃতীয়াংশ ভোটের প্রয়োজন হয়। তবে ত্রয়োদশ ও ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের আদেশে বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট রায় দিয়েছে যে, সংবিধানের মূল কাঠামো পরিবর্তন হয়ে যায় এরূপ কোনো সংশোধনী এতে আনা যাবে না। আনা হলে তা হবে এখতিয়ার বহির্ভূত। অন্যান্য দেশের মধ্যে ভারতে ৭৪ বার সংবিধান সংশোধন করা হয়েছে এবং মার্কির যুক্তরাষ্ট্রে ৩০ বার সংবিধান সংশোধন করা হয়েছে।
এবার আসুন ৫৭ ধারা নিয়ে কিছু লেখা যাক, এই ৫৭ ধারার অপরাধ হচ্ছে, ইলেকট্রনিক মাধ্যমে মিথ্যা, অশ্লীল বা মানহানিকর তথ্য প্রকাশ-সংক্রান্ত অপরাধ এই ধারায় গণ্য হবে। ইচ্ছাকৃতভাবে ওয়েবসাইটে বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক বিন্যাসে মিথ্যা ও অশ্লীল কিছু প্রকাশ করলে এবং তার কারণে মানহানি, আইনশৃঙ্খলার অবনতি, ব্যক্তির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন বা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগলে বা কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের বিরুদ্ধে উসকানি দেওয়া হলে তা অপরাধ বলে গণ্য হবে।
আর যে এই আইন লঙ্ঘন করবে তাকে অনধিক ১০ বছর কারাদণ্ড এবং অনধিক এক কোটি টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হওয়ার বিধান আছে। এখন আপনারাই বুঝে নেন কে কে শাস্তি পাবে বা পাবে না।



ইন্টারনেটে ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে অপরাধের দমন, প্রতিরোধ ও বিচারের জন্য ২০০৬ সালের আইসিটি আইন ২০১৩ সালে সংশোধন করে ৫৭ ধারা যুক্ত করা হয়। আর সার্বিকভাবে ডিজিটাল অপরাধগুলোর প্রতিকার, প্রতিরোধ, দমন ও বিচারের জন্য সম্প্রতি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রণয়নের কাজ চলছে। আমার কাছে ২০০৬ সালের আইসিটি আইন যথেষ্ট ছিলো বলে মনে হয়েছে। এই আইসিটি আইনের আওতায় থেকে দেশের মুক্তমনা লেখক, লেখিকারা তাদের মুক্ত মত প্রকাশ করতে পেরেছে। আসলে একটি গণপ্রজাতন্ত্রী সরকার ব্যবস্থা কেমন চলছে তা জানার একটি প্রধান মাধ্যম হচ্ছে মানুষের বাক স্বাধীনতা প্রদান করা। কিন্তু ২০১৩ সালে যখন এই আই সিটি আইন সংশোধন করে ৫৭ ধারা যুক্ত করা হয়েছিলো। তার পর থেকে মুক্তমনা লেখক, লেখিকা ও সাংবাদিক সহ দেশের ছাত্র সমাজ ও সচেতন নাগরিকদের প্রকাশকে বাধা দেওয়া হয়েছে। যার ফলে পরবর্তীতে এই ৫৭ ধারা তীব্র সমালোচনার মধ্যে পড়ে।



ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের দ্বিতীয় খসড়ায় দেখা যাচ্ছে তথ্য প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় আলোচিত 'মানহানি', 'মিথ্যা-অশ্লীল', 'আইন শৃঙ্খলার অবনতি' ও 'ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত' এই বিষয়গুলো আইনের ১৯ ও ২০ ধারায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এই বিষয়টি আমি মনে করি আগের ৫৭ ধারাটিকেই আবার নতুন করে ক্লোন করা হয়েছে, যা নিয়ে কিছুদিন আগে আমি একটি লেখা দিয়েছিলাম " পুরাতন হুইস্কি, নতুন বোতল" নামক একটি প্রতিক্রিয়ায়।
এছাড়া আইসিটি আইনের ৫৭ ধারায় যেখানে 'নীতিভ্রষ্ট বা অসৎ হতে উদ্বুদ্ধ' এবং 'রাষ্ট্র ব্যক্তির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন' এই শব্দগুলি ছিল, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে সেটি 'মনকে বিকৃত ও দূষিত করা' এবং 'মর্যাদাহানি ও হেয় প্রতিপন্ন'- এভাবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। তাহলে কি বুঝছেন, প্রয়োজনে এই কথা গুলি আরো দুই বার পড়ুন আমি ১০ বার পড়ে বোঝার চেষ্টা করেছি।
চলবে...........

-----------মৃত কালপুরুষ
              ০৯/০৮/২০১৭

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন