বুধবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

ধর্ম বিশ্বাসীদের মানব সভ্যতার ইতিহাস আর বিজ্ঞান।




ভেবেছিলাম মমি বা "জিঞ্জার" এর ব্যাপারটি নিয়ে কিছুই লিখবো না। তবে কিছু শিক্ষিত পোলাপাইন এর অশিক্ষিত আচরনে লেখার প্রয়োজন পড়লো। কেন লিখি না সেটার কারন হচ্ছে আমাদের দেশের মানুষদের আবার আরব্য সভ্য মানুষের মতো অনুভূতিতে খুব বেশি আঘাত লাগে। এত নরম অনুভূতিওলা মানুষ গুলা যে এতো জ্ঞানি তা বলে বোঝানো যাবে না। তাদের প্রধান প্রধান ঐশ্বরিক কিতাব সমুহ একটু ভালো ভাবে বুঝে পড়লেই তার নমুনা পাওয়া যাবে।
আমাদের দেশের সমাজের কিছু মানুষের রুগ্ন মানুষিকতা বহন করা দেখে মাঝে মধ্যেই ঘৃনা হয়। কিছু বিশ্বাসী মানুষ মনে করে হাজার বছর আগে পাবলিশড হওয়া কোন কোন বই পৃথিবীর সকল ইতিহাস ও আধুনিক বিজ্ঞান এর জ্ঞান তাকে দিয়ে দিবে। এরা মনে করে পৃথিবীর সব মানুষ বোকা। কিন্তু তারা কখনও ভেবে দেখে না যে, তাদের সংখ্যা মাত্র ২১% অর্থাৎ ১.১ বিলিয়ন মাত্রা। তাই বলে আমি বলছিনা যে বাকি ৭৯% মানুষ সবাই যুক্তি এবং মুক্ত চিন্তায় বিশ্বাসী। তাহলে এই ২১% মানুষেরা কেন ভেবে দেখে না যখন তারা একজন মানুষকে অমানুষ বলে ঠিক তার বিপরীতে তাকে তার চার গুন মানুষ একই কথা বলে।



"এটা বলবেন না, সেটা বলবেন না। নিজে বিশ্বাস না করলে না করুন, অন্যের বিশ্বাসে আঘাত হানবেন না" এই হচ্ছে তাদের প্রথম যুক্তি। আমার নিজের বিভিন্ন বিশ্বাসে যে প্রতিনিয়ত আঘাত লাগে তার কোন যুক্তি নাই। আমার বুদ্ধিভিত্তিক বিশ্বাসের বিরুদ্ধে অনলাইন মিডিয়া আর ব্লগ সাইট গুলিতে সারাক্ষণই নানান কথা শুনতে হয় আমাকে। ব্যক্তির নিজের বিশ্বাস কি একেবারেই মূল্যহীন। আমি নিজে অনেক ভেবে, অনেক দেখে, অনেক বুঝে যা বিশ্বাস করতে শিখলাম তার বিরুদ্ধে যা কিছু যায় তার সবই তো আমার বলার অধিকার আছে। আর যাই হোক আলোচনা তো অন্তত চলতে পারে। এতে আবার অনুভূতিতে আঘাত লাগার কারন কি? তাই আগেই বলে নিচ্ছি নরম অনুভূতি দ্বারা তৈরি মানুষ দূরে থাকুন।
প্রথমেই একটি ৫৪০০ থেকে ৫৭০০ বছরের পুরাতন মৃতদেহের সাথে পরিচয় করাই। এটি বর্তমানে ব্রিটিশ মিউজিয়াম এ রাখা আছে। যা দর্শনার্থী দের জন্য উন্মুক্ত। তো বিশ্বাসী মানুষেরা আবার প্রশ্ন তুলতে পারেন আপনি জানলেন কিভাবে। তাদের উদ্দেশ্য করে বলা ইহুদীদের তৈরি ফেসবুক যেহেতু ব্যবহার করছেন সেহেতু আপনার ব্রাউজার এ গিয়ে ব্রিটিশ মিউজিয়াম টুকু লিখতে কষ্ট হবার কথা না। ব্রিটিষ মিউজিয়াম আস্ত একটা ওয়েব সাইট বানিয়ে রেখেছে যারা এসব বিষয়ে পড়াশোনা করতে চাই তাদের জন্য। এই মৃত দেহটির নাম "জিঞ্জার " ইংরেজি Ginger রেখেছেন মিশরের বায়োলজিস্ট ও ইতিহাসবীদেরা। এই জিঞ্জার কে নিয়ে গবেষণা করছেন ব্রিটিশ মিউজিয়ামের ইজিপ্টসিয়ান মিথলজি সেকশন। এটি সাউথ ইজিপ্টের গেবেলিয়েন নামের একটি জায়গার মরুভূমি থেকে সংগ্রহ করা হয়। মৃতদেহটি মরুভূমির একটি পাথরের নিচে প্রচন্ড গরমের মধ্যে থাকার কারণে প্রাকৃতিকভাবেই মামীফাইড হয়ে যায়। এটাকে একরকম ড্রাই মৃতদেহ বলা যেতে পারে। যদিও পরে এটাকে খুব সামান্য রিকন্সট্রাক্ট করা হয়েছে। মৃতব্যক্তিটির মাথায় সামান্য কিছু চুলও আছে তবে কিছুটা ফেইড হয়েগেছে। সিটিস্ক্যানের মাধ্যমে জানা যায় উনি একজন শক্তিশালী পুরুষ ছিলেন এবং উনার বামদিকের শোল্ডারে আঘাত পেয়ে অতিরিক্ত রক্তখরনের কারণে মৃত্যু হয়।



বর্তমানের সবচেয়ে কোয়ালিফাইড এবং ওয়েল রিকগনাইজড ধর্ম অনুসারে পৃথিবীর প্রথম মানব ও মানবীর পৃথিবীতে পদার্পণ খ্রিস্টপূর্ব ৪০০৪ সালে। তার মানে এর আগে পৃথিবীতে কোন মানুষ ছিলো না। এবং সেই সমস্ত ঐশ্বরিক কিতাব মতে ৫৫০০ থেকে ৬০০০ বছর আগের মানব সভ্যতার কোন ইতিহাস পাওয়া যায় না। বিশেষ করে যদি ইসলাম ধর্মের সর্বপ্রথম মানব "আদম" এর কথা ধরি উনার আবির্ভাব হয়েছিল যেটা লেখা আছে ৪০০৪ খ্রিস্টপূর্ব আর বর্তমানে চলে ২০১৭ + ৪০০৪ = ৬০২১ বছর মাত্র এবং এটাও বলা হয় উনার উচ্চতা ছিল ৯০ ফিট। তাহলে দক্ষিন আমেরিকার ইনকা সভ্যতার যে মৃত দেহ ও আলামত পাওয়া গিয়েছে তা কিভাবে বিজ্ঞানীরা দাবী করছেন ৭০০০ হাজার বছর পুরাতন সভ্যতা হচ্ছে এই ইনকা সভ্যতা। আর লিবিয়া, দক্ষিন আফ্রিকা, চীন, অস্ট্রেলিয়া, আর্জেন্টিনা, সিরিয়া, চেক রিপাবলিক, হাঙ্গেরী, জার্মানি, গ্রীনল্যান্ড, কানাডা এসব অঞ্চল সহ পৃথিবীর আরো যেসব অঞ্চল গুলিতে মানুষের মমিফাইড দেহ পাওয়া গিয়েছে সেগুলো কাদের দেহ। তারা কিভাবে পৃথিবীতে আসলো।
যে মৃতদেহটির ছবি এখানে দিয়েছি সেটির সাথে এখনকার মানুষের শারীরিক গঠনগত কোন পার্থক্য নেই৷ তারমানে "আদম" এর যুগের মানুষগুলোও ঠিক এখনকার মতো ছিল। এমনকি বর্তমানে আমরা প্রায় ৩ লাখ বছর আগের মানুষের ফসিল ও পাই। তারমানে এটা প্রমাণিত হয় যে আদম সর্বপ্রথম মানুষ না। এরমধ্যে কোথাও কোনো ৯০ ফিট উচ্চতার মানুষের ফসিল পাওয়া যায় নাই। অবাক হই যখন ধার্মিকদের নূন্যতম লজ্জাবোধ থাকে না। এখনকার জেনারেশন বাপ দাদার সম্পত্তির মতো উত্তরাধিকার সূত্রে একটা ধর্ম পায় যেটাকে ক্রিটিকালি এনালাইসিস করার দরকার মনে করে না। জয় মা কালী অথবা অন্য কোন ডায়ালগ দিয়ে এক মনে বিশ্বাস করতে থাকে। আর দুঃখের বিষয় হচ্ছে এরা যে একেবারেই অশিক্ষিত তাও না। এরা ভালো শিক্ষিতও আছে। তাদের দেখলে আমার হুমায়ন আজাদ স্যার এর কথা মনে পড়ে।



আর যদি বলি মিসরের সবচেয়ে বড় পিরামিডের উচ্চতা ৪৮০ ফুট ও প্রস্থ ৭৫৬ ফুট। কীভাবে এত বড় বড় বেলে পাথর উত্তোলন করে ওই বিশাল আয়তনের পিরামিড তৈরি করা হয়েছিল তার সঠিক মত পাওয়া যায় না। ভালো যে সৌদিআরব বা তার আশেপাশের কোথাও এই সপ্তম আশ্চর্য গুলা তৈরি করে নাই তখনকার ফারাওরা, তানা হলে না জানি কি হয়ে যেত। আশা করছি আরেকদিন ফেরাঊনদের ২য় বংশধর রামেসিস ২ কে নিয়ে লিখবো। যার মৃত্য ঘটেছিল ৮০ বছর বয়সে স্বাভাবিক ভাবেই খ্রিস্টপূর্ব ১২১৩ সালে। যার মমিকৃত মৃতদেহ উদ্ধার এর পর কিছু ধর্ম বিশ্বাসীরা কলিকাতা হারবাল এর মতো এতো হাইলাইট করেছে যে কিছু বলতে গেলেই আগে এই ফেরাউনদের ২য় রামেসিস এর মৃত দেহের কথা তুলে আনে। অন্যান্য দেশের খবর জানি না তবে আমাদের দেশে এর প্রচার কিভাবে হয়েছিলো তা আমার মনে আছে। সেটা ছিলো ফেসবুক তৈরি হবার ১০ বছর আগের ঘটনা। আপনাদের অনেকের মনে আছে একসময় রিকশায় মাইকিং করে কিছু বই বিক্রি হতো মুল্য মাত্র ৫ টাকা বলে। এবং তখন সিডি প্লেয়ার এর যুগ ছিলো। তো এই সিডি ও অই বই ব্যবসায়ীদের প্রচারের ফলে আজ আমাদের দেশের এক শ্রেনীর বিশ্বাসী মানুষ এই ফেরাউন এর প্রতি আজন্ম বিশ্বাস স্থাপন করে বসেছেন। আমি শুধু এই একটি প্রচারের কারন বলছি না তার আরো কারন আছে।
সব শেষে এই যুব ও তরুন সমাজের প্রতি অনুরোধ তোমরা বাপ দাদার সম্পতির মতো পাওয়া কোন বিষয়কে সর্বোচ্চ সত্য মনে করার আগে যাচাই বাছাই করতে শেখ। ক্রিটিকালি এনালাইসিস কর নিজের জ্ঞানের যায়গার পরিধি বাড়াও। এমন কোন বিশ্বাস এর কাছে নিজের বিবেককে আটকিয়ে রেখো না।
সুত্রঃ- উইকিপিডিয়া, ব্রিটিশ মিউজিয়াম এর ওয়েবসাইট, লুক এক্স এনসাইক্লোপিডিয়া ওয়েবসাইট, স্যপিয়েন্স স্টোরি সাইট। ছবিঃ- ইজিপ্ট অরিজিন ওয়েবসাইট।

--------------মৃত কালপুরুষ
                  ২১/০৮/২০১৭

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন