সম্প্রতি খুব পরিষ্কারভাবে বোঝা যাচ্ছে নারীবাদী নামে যে আন্দোলনটি
চলছে তার সাথে মুক্তমনা, আজ্ঞেয়বাদী, সংশয়বাদী ও নাস্তিক্যবাদ এর একটা ঠান্ডা কিন্তু
তূমুল যুদ্ধ চলছে যেমনটা কল্পিত ঈশ্বরবাদী ও অনীশ্বরবাদীদের মধ্যে পরিলক্ষিত হয়ে
থাকে। আমার কাছে এই বিষয়টা বারবার ভাবনার বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে। আমরা যারা মুক্তমনা
আছি তারা সাধারনত নারীবাদীদের করা এই ঘুনে ধরা সমাজের প্রতি সকল অভিযোগের পক্ষে
থেকে সাধুবাদ জানিয়ে থাকি। কিন্তু দেখা যাচ্ছে বর্তমান সময়ে খুব বেশি করা কিছু
অভিযোগ যেমন “সকল পুরুষই মস্তিষ্কে ধর্ষক” টাইপের কথাগুলা এই মুক্তমনা সমাজের
অধিকাংশই একেবারে মেনে নিতে পারছে না। তারা বারবার একই বিষয় নিয়ে বহু যুক্তিতর্ক
করে সোস্যাল মিডিয়ার কমেন্টস থ্রেট গুলা দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর করেও মনে হয় সবশেষে
সঠিক সমাধানে আসতে পারছে না।
আমি সেই চেষ্টা এখানে করবো যারা নারীবাদীদের বলা এই সমস্ত কথা সঠিক
আছে না বেঠিক আছে এই নিয়ে এখনও সংশয় এর মধ্যে আছেন তাদের সেই সংশয় দূর করা। আমি
জানি এটা বললে আমার অতিরিক্ত বলা হয়ে যাবে যা অনেকেই গ্রুহন করতে পারবেন না হয়তো। আর পরে শেষমেষ দেখা যাবে আমার কিছু
অযাচিত কথার কারনে আমি হয়তো আবার আমার সমমনা অনেকের আক্রোশে পড়ে যাচ্ছি। যেখানে এমনিতেই আমরা এক শ্রেনীর
মানুষের চরম আক্রোশের মধ্যেই থাকি। তাই আমি আমার এই লেখার মাধ্যমে যারা সিনিয়র
লেখক আছেন আমাদের কমিউনিটিতে তাদেরকে অনুরোধ করবো এই বিষয়টি নিয়ে আমাদের মাঝে কিছু
বলুন যাতে আমরা পরিষ্কার হতে পারি এই জাতীয় বিষয়ে।
সোস্যাল মিডিয়া সহ অনেক ওয়েবসাইটে যেখানে আমরা এধরনের আলোচনা দেখতে
পায় এরকম বেশ কিছু আলোচনা ও লেখা আমার চোখে পড়েছে কিন্তু কোথাও কাউকে এই বিষয়ে
সুস্পষ্ট ধারনা দিতে দেখিনি। যা দেখেছি তাকে আমি এই সমস্যা সমাধানের পথ বলবো না।
কারন এর মধ্যে কিছু কিছু লেখা আমার কাছে মনে হয়েছে অযাচিত আর অতি রঙমাখানো কিছু
কথা দিয়ে ঠাসা একেকটা লাড্ডু টাইপের মিষ্টি যা খেয়ে অনেকের তালগোল পাকিয়ে যাচ্ছে
এবং ঘুরে ফিরে সেই একই যুক্তিতর্কে এসে যোগ দিচ্ছে। এখানে বলা বাহুল্য যে আমি যদি
কোথাও বলতে যায় “সকল পুরুষই মস্তিষ্কে ধর্ষক” কথাটা ঠিক আছে বা এর কিছু ব্যাখ্যাও
আছে তাহলে আমি আমার সমমনাদের কাছেই হয়ে যাবো সমালোচনার পাত্র। তাই যত দ্রুত সম্ভব
এই বিষয়ে কিছু লেখা চায় তাদের কাছে যাদের কথা খুব বেশি গ্রহনীয় হয়ে থাকে আমাদের
মাঝে। অনেকের সাথে কথা বলেছি এই ব্যাপারে তারা এমন একটাধারনা দেয় যে এই
জাতীয় বিতর্কিত বিষয়ে লিখতে চায় না। অনেকেই আবার দেখছি এই নিয়ে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে
নারীবাদীর সাথে মুক্তমনা বা নাস্তিক্যবাদের সম্পর্কই চুকিয়ে দিচ্ছেন। তাদের বলার
ভাব এমন যে নারীবাদী নারীদের কোন মুক্তমনা পুরুষের সাপোর্ট এর দরকারই নাই তারা
একাএকাই এই ঘুনে ধরা সমাজের প্রথা বিরোধী আন্দোলন চালিয়ে যেতে পারবেন।
এখানে আরেকটা কথা বলার প্রয়োজন মনে করি, আমরা জানি যে নারীবাদ হচ্ছে
নারী ও পুরুষের সমতার অধিকারের আন্দোলন। সবাই সমান এখানে কোন নির্দিষ্ট লিঙ্গের
কারনে কাউকে আলাদা আলাদা চোখে দেখা চলবে না। সকল ক্ষেত্রে যেমন পরিবারে, সমাজে, অর্থনৈতিক,
রাজনৈতিক সব যায়গায় নারী পুরুষের সমান অধিকারের আন্দোলন হচ্ছে এই নারী আন্দোলন বা
নারীবাদ। আমার মনে হয় বর্তমানে দক্ষিন এশিয়ার দেশগুলিতে এখন মুক্তমনা মানুষের
সংখ্যা নেহায়েত কম হবার কথা না যারা সবাই চায় লিঙ্গ পিরাপেক্ষ সমাজ গঠন করা হোক।
আমাদের দেশের মুক্তমনা সমাজ কিন্তু তাই চাই। তাহলে তারাও কিন্তু এক হিসাবে এই
আন্দোলনের সাথে আছে, এখন নারীবাদীরা যদি তাদেরকে বিভিন্নভাবে এই আন্দোলন থেকে বাদ
দিতে চায় তাহলে দেখুন একটি ক্ষুদ্র স্বার্থের কারনে বৃহৎ স্বার্থের ক্ষতি ছাড়া
কিন্তু কোন লাভ হচ্ছে না। অনেকেই হয়তো বলবেন এটা কোন সাবজেক্টই না আর এটাকে আলাদা
করার কোন পথ নেই। কিন্তু আমি বলবো পরিস্থিতি কিন্তু কিছুটা এরকম তাই চাইছি
নারীবাদের মতো বৃহৎ আন্দোলনকে অনিচ্ছাকৃত ভাবেও কোন ক্ষুদ্র স্বার্থের জন্য
নাস্তিক্যবাদ বা মুক্তমনাদের থেকে আলাদা করার চেষ্টা করবেন না। যা দেখে সেই
শ্রেনীর মানুষেরা যারা আমাদের উভয়ের বিপক্ষে কথা বলে তারা এবার মন খুলে হাসাহসি
করে নিতে পারে। ইতিপুর্বে অনেকেই করেছেন তাই।
এমন কথাও আমি বলতে দেখলাম একজন নারীবাদীকে, আস্তিক হয়েও নাকি নারীবাদ
সমর্থন করতে পারে নারীরা। আমি আসলে ঠিক বুঝে উঠতে পারলাম না এটা কিভাবে সম্ভব।
প্রচলিত ধর্ম গুলির ভেতরে সব গুলাই পুরুষতান্ত্রিক ধর্ম বলা যায়না তাই বলে কি বাদ
বাকী ধর্ম পালন করেও নারীবাদ আন্দোলন করা সম্ভব। এরকম কথাও এখন নারীবাদীরা বলছেন
শুনে আমি নিজেই সংশয়ের মধ্যে পড়লাম। আমার মনে হয় আমাদের এই বিষয়গুলিতে নজর দেওয়া
দরকার। মৌলিক কথাবার্তা নাই বা হালকা কথাবার্তায় পরিপুর্ণ মৌলিক তথ্যাভিজ্ঞ নয় এমন
আলোচনা না করায় ভালো। নারীবাদ একটি বৃহৎ ও সুদূর প্রসারী আন্দোলন। শুধুই আলোচনায়
অংশ গ্রহন করা বা যৌনতা নিয়েই লেখালেখি করা এর মূল উদ্দেশ্য নয়। আমরা চাই প্রথা
বিরোধি এই আন্দোলনে নারীদের ভূমিকা সব থেকে বেশি থাকুক। এই ধর্মান্ধ কুসংস্কারাচ্ছন সমাজে যে
তারাই পারবে বারবার আঘাত করে এর পরিবর্তন করতে। জানিনা কারো ভাবনার দরজায় আঘাত
করতে পেরেছি কিনা আমার লেখার উদ্দেশ্য আলাদা আলাদা ভাবে নয় একত্রে থেকে অগ্রসর হতে
চায়।
---------- মৃত কালপুরুষ
১৮/১০/২০১৭

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন