সম্প্রতি নারীবাদী ও মুক্তমনা ব্লগারদের মধ্যে যে প্রকাশ্য দ্বন্দ্ব দেখতে পাচ্ছি তা আমার কাছে মোটেও ভালো বিষয় বলে মনে হচ্ছে না। যেখানে সবাই চেষ্টা করা হয় অসাম্প্রদায়িক লিঙ্গ নিরপেক্ষ একটি সমাজ গড়ে তোলার সেখানে এই জাতীয় ঘটনা ঘটবেই এটা স্বাভাবিক মনে করি। তবে খুজে দেখতে হবে এর পেছনে অন্য কোন উদ্দেশ্য কাজ করছে কিনা। আমি খুব ছোট মানুষ আমার জ্ঞানও সব বিষয়ে পরিপুর্ন না, তার পরেও অনেক সিনিয়র ব্লগারদের কিছু কাণ্ড আমার কাছে ভালো লাগছে না। যদি বলেন, আপনি না বুঝে সব কিছু নিয়ে কেন এতো মাথা ঘামান তাহলে বলবো এই ছাড়া কিছু করার যোগ্যতা নাই তাই। আগেও লেখেছি, তবে ছদ্বনাম ব্যবহার করে, তবে এখন লেখছি প্রকাশ্যে। অনুরোধ সকলের প্রতি যত দ্রুত সম্ভব এর সমাধান করুন।
যখন ব্লগার সুব্রত শুভ, মশিউর রহমান, রাসেল পারভেজকে আটক করে দেশের সামনে তাদের সাথে অপরাধীর মতো আচরন করা হলো তখনও তাদের পক্ষেও লিখেছি আবার নারীবাদীদের পক্ষেও বলেছি। এই তিন জনের অপরাধ ছিলো তারা ব্লগে, ফেসবুকে ধর্মীয় মৌলবাদ, ধর্মান্ধতা, প্রতিক্রিয়াশীলতা সহ আরো অনেক নেতিবাচক বিষয়ের বিরুদ্ধে লিখতো। লেখতো একটি অসাম্প্রদায়িক দেশ গঠনের লক্ষ্যে। ব্লগার নীলয় নীল, অভিজিৎ রায় আজ জীবন দিয়ে তা পালন করে গিয়েছেন। লেখিকা তসলিমা নাসরিনও তার বাইরে নন। আর এই বর্তমানের কমিউনিকেশন এর যুগে এসে যদি আমরা মুক্তমনা ও নারীবাদীদের আলাদা করতে থাকি তবে তা কারো জন্য সুফল বয়ে আনবে বলে আমার মনে হয় না।
আর নারীদের উদ্দেশ্যে বলতে গেলে বেশিরভাগ নারীদের ধারণা পুরুষেরা শুধু শরীর খোঁজে, শরীরের আনন্দ খোঁজে। পুরুষের সব আবেগ শরীর থেকে শুরু হয়ে শরীরেই শেষ হয়ে যায়। আমি অনেক নারীবাদী নারীকেই শ্রদ্ধা করি যাদের মধ্যে তসলিমা নাসরিন একজন তাই বলছি কেউ অন্যভাবে নিবেন না। আপনারা কি কখনও ভেবে দেখেছেন কেউ পুরুষ কি শুধু শরীরের খোজই করে ? একটি বিষয় আমার মাথায় আসে না। কেন আমরা বারবার একজনকে দিয়ে পুরা গোষ্ঠীকে বিবেচনা করি। শরীর উপভোগের আনন্দ কিন্তু শুধু পুরুষ না, নারীও উপভোগ করে ভুলে যাবেন না। আর আমাদের চারপাশে এমন কিছু চরিত্রই আছে যারা শুধু শরীর, টাকা আর সম্পদই চিনে থাকে। এখন যদি কেউ নির্দিষ্ট কোন স্বার্থের কারনে খুব বেশি প্রকাশ করতে থাকে তবে কিন্তু তার মুক্তচিন্তা প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।
কেন আমরা সবাই ভাবতে পারি না একসাথে পথ চলতে গেলে ঝগড়া ঝাটি হতেই পারে কিন্তু সেটাকে পুরা দেশের সামনে এনে নিজেদের ছোট করা ছাড়া আর কিছুই হবে না। উইমেন চেপ্টার এর সম্পাদক সুপ্রীতি ধর যাকে আমি অনেক শ্রদ্ধা করি তিনি গতকাল সুন্দর কথা লিখেছেন যা আমি মনে করি তার আরো আগেই এই লেখাটি লেখার দরকার ছিলো। তার মতো আমিও আসলে ভাষা খারপ করতে পারি না। অনুরোধ থাকবে সবার কাছেই যারা এ পর্যন্ত কিটিবাদী, চিবিবাদী, পায়ের তলার মাটি যে যাই বলেছেন তার সমাপ্তি যাতে সেখানেই হয়।
নারী, পুরুষ লিঙ্গভেদে সবাই চাই একটু মমতা। সবাইকে ইতিবাচক ভাবে চিন্তা করার জন্য Moshiur Rahman ভাই এর ফেসবুক ওয়াল থেকে আমি নিচের লেখাটুকু কপি করে শেয়ার করলাম।
"পৃথিবীর বেশিরভাগ মেয়ের ধারণা ছেলেরা শুধু শরীর খোঁজে, শরীরের আনন্দ খোঁজে। পুরুষের সব আবেগ শরীর থেকে শুরু হয়ে শরীরেই শেষ হয়ে যায়। দিন শেষে গড়ে সব পুরুষের গায়ে "শরীর সর্বস্ব" লেবেল এঁটে যায়।
কিন্তু আসলে কি পুরুষ শুধু শরীর খোঁজে? কিংবা নারী কি শরীরের আনন্দ উপভোগ করে না? পৃথিবীতে এক শ্রেণীর মানুষই আছে এমন যারা কেবল শরীর, টাকা আর জাগতিক বস্তু চেনে। তাঁদের মাঝে পুরুষ যেমন আছে, নারীও আছে। এদের সাথে সবাইকে মিলিয়ে ফেললে হবে না। এরা তো মানুষ না...
কিন্তু আসলে কি পুরুষ শুধু শরীর খোঁজে? কিংবা নারী কি শরীরের আনন্দ উপভোগ করে না? পৃথিবীতে এক শ্রেণীর মানুষই আছে এমন যারা কেবল শরীর, টাকা আর জাগতিক বস্তু চেনে। তাঁদের মাঝে পুরুষ যেমন আছে, নারীও আছে। এদের সাথে সবাইকে মিলিয়ে ফেললে হবে না। এরা তো মানুষ না...
কিন্তু ব্যক্তিগত ভাবে আমার মনে হয় একজন পুরুষকে আপন করে নেয়া আসলে খুব সোজা। আমাদের সমাজে ছোটবেলা থেকে নিজের আবেগ গোপন করতেই শেখানো হয় পুরুষদেরকে। অনুভব গুলো চেপে রাখতে রাখতে তারা যেন কেমন কেমন হয়ে যায়।
অথচ আমি নিজেই দেখেছি... সহস্র চুমুর চাইতেও পুরুষেরা বেশি গুরুত্ব দেয় কেউ আদর করে পাশে বসিয়ে খাওয়াক, এটা ওটা পাতে তুলে দিক। অতি সুন্দরী এক নারীর সাথে রাত্রি যাপনের চাইতেও সেই মেয়েটি তাঁদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ, দিনশেষে যার কোলে মাথা রাখা যায়। অতি সাহসী পুরুষেরাও চায় খুব কষ্টের দিনগুলোতে কেউ একজন পরম মমতায় বুকে টেনে নিক, মাথায় হাত বুলিয়ে দিক। আদর করে বলুক- সব ঠিক হয়ে যাবে, সব ঠিক হয়ে যাবে...
একজন নারী যেভাবে তাঁর পুরুষটিকে সমস্ত শক্তির উৎস হিসাবে চায়, একজন পুরুষও কিন্তু তাই। সেও চায় একান্ত নারীটি তাঁকে বুঝুক, জানুক, তাঁকে অনুপ্রেরণা দিতে পারুক। ... অন্যদের কথা জানি না, কিন্তু আমি নিজের জীবনে এমন পুরুষদেরকেই দেখেছি। বাবা, ভাই, বন্ধু, প্রেমিক... আরও না জানি কত রূপে। দেখেছি তারা ভালোবাসার বড় কাঙাল। একটু ভালোবাসা, একটু মমতা, একটু আদর দিয়ে তাঁদেরকে কিনে নেয়া যায়... আজীবনের জন্য!
অদ্ভুত বিষয়টা হচ্ছে, যে যাই বলুক না কেন, যতই লিঙ্গগত ঝগড়াঝাটি থাকুক না কেন, আমার কখনও মনে হয় না নারী-পুরুষ পরস্পরের শত্রু। তারা পরস্পরের পরিপূরক, একে অন্যকে ছাড়া অপূর্ণ। কখনও পুরুষ এই সত্য অস্বীকার করে, কখনও নারী।
অথচ তারা পরস্পরের পরিপূরক... অথচ তারা পরস্পরকে ছাড়া অপূর্ণ... খাপে খাপে মেলানো প্রকৃতির অদ্ভুত সুন্দর সৃষ্টি মানব ও মানবী।"
--------------------
খুব বেশী দিন আগের কথা না। ফেসবুকে যখন ওড়না পেইজ গুলির অত্যাচার অতি মাত্রায় বাড়তেছিল তখন সেগুলির প্রতিবাদে একটা পেইজ চালাতাম আমরা কয়েকজনে। উপরের লেখাটা সেখানের। লিখেছিলেন Sohana Rahman Mun নামের একজন ।
লেখাটা পড়ুন আর ভেবে দেখুন ২০১৪ থেকে ২০১৭ র দূরত্ত কি খুব বেশী হয়ে গেছে
১৫/০৮/২০১৭

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন