মঙ্গলবার, ৬ নভেম্বর, ২০১৮

মডারেট ধার্মিক হলেও সে কি পারবে তার আদর্শ গোপন রাখতে ?


প্রমাণ এই যে দেখুন, সম্প্রতি কওমী মাদ্রাসা বিষয়ক ইস্যু নিয়ে জনৈক সেই বিজ্ঞানমনষ্ক লেখক আরিফ আজাদের ভাষ্য। একটা বিচার করবেন সকলেই নিরাপেক্ষভাবে, এটাই কি মডারেট মুসলিমদের আধুনিক জিহাদের ডাক ? কারণ এরা বলছে সময় এখনও ফুরিয়ে যায়নি, সামনে সুসময় আসবেই এবং তারাও নাকি সেই প্রতীক্ষায় আছে। আর তাছাড়াও সে তার সম্পুর্ণ বক্তব্যে এটাই প্রকাশ করেছেন যে হেফাযতে ইসলাম প্রধানমন্ত্রীকে যে সংবর্ধনা দিয়েছে তাতে তারা মোটেও খুশি নয়। 
তাদের যুদ্ধই নাকি আওয়ামীলীগের সাথে। এইযে সোস্যাল মিডিয়াতে তার একটি বিশাল ফলোয়ার গোষ্ঠী, যাদেরকে সে প্রায়ই এই জাতীয় উস্কানি দিয়ে তাদের ব্রেন ওয়াশ করে এবং দেশের সরকারের বিরুদ্ধে দাড় করিয়ে দেয় বাংলাদেশ সরকার কি তাদের চোখে দেখে না ? 
নাকি এইযে এতো সাইবার এক্ট, স্পেশাল টিম তার সবই শুধুই মুক্তচিন্তক ও ব্লগারদের স্বাধীন মতামত প্রকাশে বাধা দেবার জন্যই তৈরি করা হয়েছে ?
আমরা ইতিহাস থেকে জানতে পারি পাকিস্তান গঠিত হবার মাত্র ২৪ বছরের মাথায় ধর্মীও মৌলবাদ আর ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করার ফলে ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের সাথে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ডাকে বাঙালী জাতি সাড়া দিয়ে দীর্ঘ ৯ মাস মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে প্রায় ৩০ লক্ষ বাঙালীর প্রাণ আর ২ লক্ষ নারীর সম্ভ্রমের বিনিময়ে ভৌগলিক ভাবে স্বাধীনতা অর্জন করেছিলো বাঙ্গালী জাতি।
এই ১৯৭১ এ যারা স্বাধীনতা আন্দোলনের বিপরীতে থেকে পাকিস্তানি সেনাদের সাথে কাধে কাধ মিলিয়ে বাঙালী জাতিকে হত্যা, ধর্ষণ, লুট করতে সহযোগিতা করেছিলো তাদের ৯০% এর বেশি ছিলো মাদ্রাসার ছাত্র এবং শিক্ষক। এই কথা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু বেশ কয়েকবার অত্যান্ত দুঃখের সাথে উপস্থাপন করেছিলো যখন সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশে তাদের যুদ্ধাপরাধী হিসাবে বিচার করা হচ্ছিলো। 
তারপরেও বঙ্গবন্ধু তাদের দূরে সরিয়ে না দিয়ে তৈরি করে দিয়েছিলেন “ইসলামী ফাইন্ডেশন” এবং মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যাবস্থাকে স্বীকৃতি দিয়েছিলেন।
বর্তমানে বাংলাদেশে টিকে থাকা আজকের দিনের সকল মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থার সুত্রপাত ঠিক এভাবেই। আজ স্বাধীনতার ৪৭ বছর পরে যখন দেখা গেলো এই মাদ্রাসার একটি বিরাট জনগোষ্ঠী বাংলাদেশের জন্য বোঝা হয়ে চলেছে, কারণ তাদের শিক্ষা ব্যবস্থা একেবারেই মানসম্মত নয়, আধুনিক বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলার মতো কোন যোগ্যতায় এই মাদ্রসা শিক্ষার্থীদের নেই, যেকারণেই বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তাদেরকে একটা মানসম্মত পর্যায়ে নিয়ে আসার জন্য কওমী মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদীস শিক্ষাব্যাবস্থাকে বাংলাদেশের সাধারণ শিক্ষা ব্যবস্থার মাস্টার্স এর সমমান ঘোষণা করলেন।
এর মাধ্যমে মাদ্রাসা শিক্ষার্থিদের অন্ধকারে না ঠেলে দিয়ে সাথে নিয়েই একটি আধুনিক বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখলেন। 
শেখানে এই "আরিফ আজাদ"-এর মতো হাতে গোনা কিছু কৌশলে উগ্রবাদী এবং সেই মাদ্রাসার তরুনদের মধ্যে উস্কানী দাতা মডারেট ধার্মিকরা একেবারেই খুশি হতে পারলেন না। 
দেখুন বর্তমানে প্রকাশ্যে তারা তাদের এই মনোভাব কিভাবে প্রকাশ করছে। এখন শুধু একটি প্রশ্ন সবার আগে চলে আসছে, আসলে তারা চায় কি ?
মৃত কালপুরুষ
০৫/১১/২০১৮
ঢাকা

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন