আমি বুঝি না অনেক কিছু নিয়েই লেখি। শুধু যে ধর্ম আর দর্শনের কথাই লিখি তা কিন্তু না। তবে যখনই ইসলাম ধর্ম নিয়ে কোন বিষয় চলে আসে তখনই হট কেক টাইপের কিছু হয়ে যায়। আলোচনার ঝড় বয়ে যায়। আমি চাই সবাই তার নিজ নিজ অবস্থান থেকেই তার মনোভাব জানাক। একজন আমার একটি লেখাতে বলেছেন যে অনেকেই নাকি কম দামি বা ফ্রী ইসলাম ধর্মের পবিত্র গ্রন্থ কোরআন পড়ে জ্ঞান অর্জন করে বলেই তারা কোরআন এর ভুল দেখতে পায়। মানে তার কথাতে আমরা কি ধরে নেবো বুঝতে পারছি না। তাহলে কি উনি সবাইকে দামী কোরআন পড়তে বলছেন নাকি সেটা কিন্তু জানান নাই। যাহোক আমি কিন্তু প্রতিটি লেখাতেই ধর্ম নিরপেক্ষ থেকে লিখতে চেষ্টা করি। আজকের এই লেখাটি উপরোক্ত কথাটির উপরে ভিত্তি করে ইসলাম ধর্ম মতে ইসলামের পবিত্র ধর্ম গ্রন্থ পবিত্র কোরআন শরীফ তৈরির ঘটনা নিয়ে লিখবো। আমি আগেই বলে নিচ্ছি যে আমার লেখার পক্ষে বা বিপক্ষে অনেক অমত, অমিল বা লজিক থাকতে পারে। তা যদি কারো কাছে মনে হয় আমার লেখতে মন্ত্যব্য করে জানাতে পারেন। তবে অনুরোধ। অনেকেই নাকি একজন আরেকজনকে ছোট করে কথা বলেন যেমন আমাকে অনেকেই ইনবক্স করেছেন " ভাই আপনার ফলোয়ার আমাকে নাস্তিক বললো কেন, ভাই অমুক ভাই আমার পরিবার নিয়ে কথা বলছে কেন, ভাই উনি আমাকে মাল বললো কেন। তো সবাইকে অনুরোধ এই জাতীয় ব্যবহার হতে বিরত থেকে লজিক দিয়ে কথা বলুন। আমার লেখায় যদি কোন ভুল থাকে তো আমাকে ধরিয়ে দিন। আর যারা গরু, ছাগল, পাঠা, ভেড়া, উট, দুম্বা ইত্যাদির ব্যবস্যা করেন তারা কোরবানি ঈদের প্রস্তুতি নিন। কারন ঈদের ছুটির আর এক সপ্তাহ বাকি আছে। তাহলে শুরু করা যাক।
পবিত্র কোরআন এর উৎপত্তি ( ইসলাম ধর্ম মতে )
মুসলিম জাতির প্রধান ঐশ্বরিক কিতাব হচ্ছে পবিত্র কোরআন। এটি মুসলমানদের ধর্ম গ্রন্থ এবং এটি আসমানি কিতাব বা ঐশ্বরিক গ্রন্থ বলে পরিচিত। এপর্যন্ত ইসলাম ধর্মে যত ঐশ্বরিক কিতাবের দাবী করা হয় তার মধ্যে এই পবিত্র কোরআন সর্বোৎকৃষ্ট এবং সর্বোশ্রেষ্ঠ এতে কোন সন্ধেহ নেই বরং এটি অতুলনীয়।
মুসলমান জাতিদের মতে এই পবিত্র ধর্ম গ্রন্থ কোরআন এর প্রচারক হজরত মোহাম্মদ (সাঃ)। তিনি ৫৭১ খ্রীস্টাব্দে বর্তমান মধ্যপ্রাচ্যের সৌদিআরব এর মক্কা নামক একটি শহরে জন্মলাভ করেন। অনেকের মতে সেটা ছিলো খ্রিস্টপূর্ব ৫৭১ এর এপ্রিল মাসের ২০ তারিখে। এই দিনটিকে মুসলমানেরা আজো স্বরন করেন। হজরত মোহাম্মদ (সাঃ) শৈশবেই মাতৃ পিতৃহীন হয়ে অনেক দুঃখ কষ্টে তদীয় পিতা মহের দ্বারা প্রতিপালিত হন। তখনকার পরিস্থিতিতে তিনি শৈশবে লেখাপড়া শেখার কোন সুযোগ পেয়েছিলো না। হজরত মোহাম্মাদ (সাঃ) ছিলেন আশৈশব শান্ত, ধীর, সত্যবাদী, ও চিন্তাশীল। যৌবনে পদার্পণ করার সাথে সাথে তিনি হন একাধারে বিশ্বাসী, ন্যায়বান, দয়ালু, নির্ভীক, পরোপকারী ও ক্ষমাশীলাদি সহ আরো শত শত গুনের অধিকারী একজন অত্যন্ত ভাবুক ব্যাক্তি।
আর তখনকার সময়ের বর্তমান সৌদিআরব এর বাসিন্দারা ছিলো নানান দলে বিভক্ত। বিভিন্ন ধরনের কুকর্মের জন্যই তাদেরকে অন্যন্য সভ্য দেশের মানুষেরা আরব্য বেদুঈন জাতি বলতো। এদের পেশা ছিলো ডাকাতি করা লুট করা আরো অনেক অনেক খারাপ কাজ যা ইসলামে খুব ভালো করেই উল্লেখ আছে। তাদের চরিত্রও খুব একটা ভালো ছিলো বলে কোথাও উল্লেখ নাই। তখনকার সময়ে আরব দেশগুলিতে যদিও ইহুদী ও খ্রিস্টান ধর্মের প্রাধান্য ছিলো, তবুও অনেকের মতে সেখানে সে সময় মুর্তি পূজার প্রচলন ছিলো। যার যথেষ্ট প্রমান ঐশ্বরিক কিতাব সমুহে পাওয়া যায়। এই আরব্য বেদুঈন জাতির কাজই নাকি ছিলো মারামারি, কাটাকাটি, হিংসা, দ্বেষ, পরনিন্দা, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই ইত্যাদি। আর এসমস্ত আচার ব্যবস্থায় নাকি এসে জড়ো হয়েছিলো সেই সময়ের আরবের মক্কা শহরে। নিজের দেশ এবং নিজের জন্মভূমির এই করুন দশা দেখে হজরত মোহাম্মদ (সাঃ) খুবই কষ্ট পেলেন। তারপর থেকেই তিনি শুধুই চিন্তা করতেন যে, কি করে এই অশিক্ষিত বর্বর জাতির এই অধোগতি থামানো যায়। কি করে তাদের অজ্ঞানতাকে দূর করে জ্ঞানের আলো দেওয়া যায়। অন্ধকার থেকে আলোর পথে নিয়ে আসা যায়। তিনি আরো চিন্তা করতে থাকেন কিভাবে এই অশিক্ষিত প্রকৃত জ্ঞানের আলো থেকে বঞ্চিত জাতিকে একত্রিত করা যায়। কিভাবে এদেরকে ইহকাল ও পরকালের সরল পথ দেখিয়ে একটি বড় গোষ্ঠী তৈরি করা যায়।
হজরত মোহাম্মদ (সাঃ) এর বয়স যতই বাড়তে থাকলো ততই বাড়তে থাকলো তার চিন্তা ক্ষেত্রের পরিসর। নিজ শহর মক্কার ছোট ছোট কিছু চিন্তা বাদেও সে বড় বড় চিন্তা করতে শুরু করলো। যা বর্তমান সময়ে ডোনাল্ড জে ট্রাম্প এর দারাও সম্ভব নয়। তার সেই চিন্তা শুধু বর্তমান মধ্যপ্রাচ্যের সৌদিআরব এর মক্কা শহরেই সীমাবদ্ধ থাকলো না। তা আস্তে আস্তে দেশ, দেশ থেকে আশেপাশের দেশের জাতি গোষ্ঠী এমনকি তা পর্যবসিত হলো সমস্ত বিশ্বেশ্বর মানুষের কল্যাণের চিন্তায়। তিনি চিন্তায় ডুবে থাকতেন একটি জনমানব শুন্য নিরিবিলি জায়গাতে। ধীরে ধীরে হজরত মোহাম্মাদ (সাঃ) ডুব দিলেন চিন্তাসমুদ্রের গভীর তলদেশে মক্কা শহর এর অদুরবর্তী একটি পাহাড়ের গুহায়। যে পাহাড়টিকে বর্তমানে হেরা পর্বত নাম দেওয়া হয়েছে।
হজরত মোহাম্মাদ (সাঃ) এর বয়স যখন প্রায় ৪০ বছর তখন ৬১০ খ্রিস্টাব্দের একটি দিনে (অনেকের মতে তা ছিলো চলতি মাস অর্থাৎ আগস্ট মাসের ৬ তারিখে) সেই হেরা পর্বতের গুহায় ধ্যানমগ্ন অবস্থায় বসে ছিলেন এমন সময় তিনি শুনতে পাইলেন যে, আল্লাহর ফেরেশতা জেব্রাইল ( একজন সর্গীয় দূত।) এসে তাকে সম্বোধন করে বলছেন "আল্লাহর বানী আপনার উপর নাজিল হইলো, আপনি আল্লাহর রসূল।" আর সেই দিন থেকেই হজরত মোহাম্মদ (সাঃ) হয়ে গেলেন একজন পয়গম্বর, অর্থাৎ আল্লাহর প্রেরিত মহান বানীবাহক।
হজরত মোহাম্মাদ (সাঃ) এর বয়স যখন প্রায় ৪০ বছর তখন ৬১০ খ্রিস্টাব্দের একটি দিনে (অনেকের মতে তা ছিলো চলতি মাস অর্থাৎ আগস্ট মাসের ৬ তারিখে) সেই হেরা পর্বতের গুহায় ধ্যানমগ্ন অবস্থায় বসে ছিলেন এমন সময় তিনি শুনতে পাইলেন যে, আল্লাহর ফেরেশতা জেব্রাইল ( একজন সর্গীয় দূত।) এসে তাকে সম্বোধন করে বলছেন "আল্লাহর বানী আপনার উপর নাজিল হইলো, আপনি আল্লাহর রসূল।" আর সেই দিন থেকেই হজরত মোহাম্মদ (সাঃ) হয়ে গেলেন একজন পয়গম্বর, অর্থাৎ আল্লাহর প্রেরিত মহান বানীবাহক।
সেই দিনেরপর থেকেই হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) তার যত সমস্যাসমূহের সমাধান প্রাপ্ত হতে থাকেন। তিনি, জেব্রাইল ফেরেশতা মারফত প্রাপ্ত আল্লাহর বানী সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রচার করতে থাকেন "ভাববানী" রুপে। বর্তমান পৃথিবীজোড়া যে সমস্ত অঞ্চলে এই মুসলিম জাতি বসবাস করছে তাদের সকলের ইহকাল ও পরকাল বিষয়ক তাদের কর্তব্য কাজ সম্মন্ধে আল্লাহর বানীরুপে জেব্রাইল ফেরেশতার মারফত হজরত মোহাম্মদ (সাঃ) এর উপরে আমরন যে সমস্ত আদেশ উপদেশাদি প্রাপ্ত হয়েছেন, তারই একটি সংকলন হচ্ছে এই মহা পবিত্র কোরআন শরীফ মহা গ্রন্থখানা।
মুসলিম জাতি আরো দাবী করেন যে, হজরত মোহাম্মাদ (সাঃ) অশিক্ষিত মুর্খ এক ছাগলের রাখাল হওয়া সর্তেও কিছু আসমানি শক্তির দ্বারা পবিত্র কোরআন বাদেও তিনি স্বয়ং ধর্ম জগতের আবশ্যকীয় অনেক বিধান প্রদান করেছেন। আর সেই সমস্ত বিধানের সঙ্কলনকে বলা হয় পবিত্র হাদীস গ্রন্থ। এই ইসলাম ধর্ম প্রধানত পবিত্র কোরআন ও হাদিস গ্রন্থের বিধানের উপর প্রতিষ্ঠিত।
এই হচ্ছে ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের মতে তাদের প্রধান ধর্ম গ্রন্থের ঘটনা। কিন্তু এটা বাদেও আরো বেশ কিছু মত প্রচলিত আছে এই ধর্ম গ্রন্থ তৈরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে। যেমন খ্রিষ্টান বা ইহুদী ধর্মাবলম্বীদের একটি মত আছে, দার্শনিক ও ইতিহাসবিদদের একটি মত আছে, বৈজ্ঞানিক কিছু মত আছে। সে যেটাই হোক আমি বরাবরই বলি যে সভ্যতা গঠনে আমি মানুষের তৈরি করা বিভিন্ন ধর্মের অনেক অবদান পেয়েছি। ইসলাম ধর্মও তার বাইরে না। তবে এই যে এক মন্তব্যকারীর কথার প্রেক্ষিতে আমি এই লেখাটি লিখলাম তাদের এই ধারনা কি মানুষের কল্যাণের কথা বলে। যে বেশি দামী কোরআন পড়লে বেশি জ্ঞানি হবেন তাতে কোন ভুল থাকবে না। আর কম দামী বা ফ্রী বই পড়লে তাতে ভুল থাকবে আর জ্ঞান হবে না। এই জাতীয় সহী মুসলমান ভাইদের বলবো আগে স্যার ওয়াশিংটন এর আত্তজীবনী পড়েন, রেনে দেকার্দ এর দর্শন সম্পর্কে ধারনা নেন। তার পর আমার লেখাতে আলোচনায় আসেন।
এখন যদি এই পবিত্র কোরআন তৈরির আরো যে প্রচলিত ঘটনা যা ইতিহাসে পাওয়া যায় তা বলি তাহলে অনেকেই আমার জ্ঞান এর সীমা যাচাই বাছাই করতে উঠে পড়ে লাগবে। আগে জানার চেষ্টা করবে না বা বোঝার চেষ্টা করবে না। কারন সে সমস্ত কথাতে এই ঘটনাটি মনে হবে একেবারেই হাস্যকর ব্যাপার ছাড়া আর কিছুই না। কিন্তু অনেকেই যুক্তি না দিয়ে উলটা আমার বিভিন্ন নাম দিতে মাথা ঘামাতে শুরু করে। আমি এদেরকে এই ব্যাপারে কোন দোষ দেয় না। কারন আমি জানি যে একটি ধর্মীয় শিক্ষা ব্যবস্থার কারনেই তাদের এই মানুষিকতা তৈরি হয়েছে এবং এরা আসলে একেবারেই নিষ্পাপ যাদের কোন দোষ নেই।
সুত্রঃ বিভিন্ন হাদিস গ্রন্থ, মানব মনের আজাদি, উইকিপিডিয়া, পবিত্র কোরআন শরীফ ইত্যাদি। ছবিঃ স্ট্রিম.অর্গ।
২৪/০৮/২০১৭

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন