হিন্দু ধর্ম সমালোচনা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
হিন্দু ধর্ম সমালোচনা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শনিবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০১৭

মডারেট হিন্দুদের ভাষ্য, স্বামী বিবেকানন্দের হিন্দু ধর্ম সংস্কার।


বিবেকানন্দ কি হিন্ধু ধর্মের বিধবা বিবাহ, সতীদাহ, বাল্যবিবাহ, পুরুষের বহুবিবাহ সহ এরকম আরো অনেক কুৎসিত প্রথাকে সমর্থন করেছেন না তার বিরোধিতা করেছেন তাই এখনও অনেক হিন্দু ধর্মের অনুসারীরা জানে না। অনেক হিন্দু ধর্মাবলম্বী মনে করে থাকেন বিবেকানন্দ একজন প্রথা বিরোধী মানুষ ছিলেন আসলে কিন্তু তাদের ধারণা ভুল। বিবেকানন্দকে মিডিয়া সাধারণ মানুষের সামনে সেভাবেই উপস্থাপন করেছিলেন তাই হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের এই ধারণা। প্রায় ৫০০০ বছর ধরে শত শত অমানবিক আর বর্বর প্রথা সাথে নিয়ে এই হিন্দু ধর্ম এই ধর্মে বিশ্বাসী মানুষকে নানা ভাবে জাতাকলের মধ্যে ফেলে পিষে আসছিলো। এমন সময় যদি কেউ সংস্কার এর নামে কিছু পরিবর্তন করে দেখায় তাহলে অন্ধের মতো বিশ্বাস করা ধর্ম বিশ্বাসী মানুষের এটা ভেবে ভুল না করার কোন কারণ নেই যে সেই ব্যাক্তি একজন প্রথাবিরোধী বা সমাজ সংস্কারক। আর এই স্বামী বিবেকানন্দের বেলায়ও ঘটেছে তাই। আসলে তিনি সমাজ সংস্কারক ছিলেন না, তিনি ছিলেন প্রথার অচলায়তনে বন্দী একজন মানুষ আজ আমরা সেটা নিয়ে একটু আলোচনা করবো।

হিন্দু ধর্মের একটি বর্বর ও অমানবিক প্রথা হচ্ছে একজন নারীর স্বামী মারা গেলে তাকে বিধবা আখ্যা দিয়ে এমন কিছু অমানবিক নিয়ম-কাননের মধ্যে সেই নারীকে বেধে রাখা হয় ও সমাজচ্যুত করা হয় যা হিন্দু সমাজের নারীরা খুব ভালো করেই জানে। অল্প কিছুদিন আগেও এদেরকে সেই মৃত স্বামীর চিতায় জোর করে তুলে আগুনে পুড়িয়া মেরে স্বতী বানাবার নিয়মও প্রচলিত ছিলো। এই প্রথার পরিবর্তনে নারীদের এগিয়ে আসতে অনেক দেরি হবার একটা মুল কারণ হচ্ছে হিন্দু সহ অন্যান্য আরো কয়েকটি ধর্মে নারীদের শিক্ষা বিষয়ক অনেক বাধা প্রচলিত ছিলো ধর্মীয় কিছু বাধা ধরা নিয়মের কাছে। এরকম সময় স্বামী বিবেকান্দ নামের একজন সচেতন ব্যাক্তি সমাজ সংস্কার এর নামে সেই সব বিধবাদের পুনরায় বিয়ে করার বা বিয়ে দেবার জন্য বিভিন্ন যুক্তি দিয়ে প্রচার করা শুরু করেন এবং হয়তো কিছু কিছু ক্ষেত্রে তখন সফলও হয়েছিলেন। কিন্তু যেহেতু এই জাতীয় অনেক বিষয় হিন্দু ধর্মের প্রধান প্রধান কিছু ধর্মীয় গ্রন্থে অনেক আগে থেকেই আদেশ-উপদেশ দেওয়া ছিলো তাই হিন্দু সমাজ থেকে এই বিষয় গুলি (কুসংস্কার গোড়ামী) সম্পুর্ণরুপে বিলুপ্ত করা সম্ভব হয়নি। যেমনটা সম্ভব হয়নি হিন্দু ধর্মের কয়েকডজন জাতপাতের বৈষম্য এই ধর্মটি থেকে দূর করা যা আজ অবধি বিভিন্ন হিন্দু সমাজে বিদ্যমান।

এই বিধবা নারীদের পূণঃ বিবাহের চল চালু করে তখন বিবেকানন্দ সাধারণ হিন্দু ধর্মের মানুষের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন একজন সমাজ সংস্কারক হিসেবে। বিভিন্ন মিডিয়াও তাকে নিয়ে অনেক প্রচার প্রচারণা চালায়। কিন্তু আসলেই কি বিবেকানন্দ একজন সমাজ সংস্কার ছিলেন ? তার বিভিন্ন ভাষ্য মতে আমরা তার কিছুই দেখতে পায় না যেমন ধরুন, তিনি আসলে বিধবা বিবাহের বিরোধিতা করেছিলেন, শুধু তাই নয় সেই সাথে তিনি সতীদাহ, বাল্যবিবাহ, পুরুষের বহুবিবাহ সহ আরো অনেক প্রথাকে একাধারে তিনি সমর্থন করে গিয়েছেন এই অমানবিক আর বর্বর হিন্দু ধর্মের সাফাই গেয়ে। তার ইসলামী জিহাদী সন্ত্রাসীদের মতো অনেক ডায়ালগ এর মধ্যে একটি ডায়ালগ হচ্ছে “এ দেশে সেই বুড়ো শিব ডমরু বাজাবেন, মা কালী পাঁঠা খাবেন আর কৃষ্ণ বাঁশি বাজাবেন চিরকাল। যদি না পছন্দ হয় সরে পড় না কেন ?” এই জাতীয় ভাষ্যর মধ্যে সেই মোল্লাদের প্রথমে মুখে বলো, তারপর হাতে বলো টাইপের একটি হুমকি দেওয়া হচ্ছে ভারতবর্ষের হিন্দু ধর্ম বাদে অন্য ধর্মের অনুসারীদের যাদের মধ্যে পড়ছে যারা আসলে কোন ধর্মই বিশ্বাস করেনা তারাও। আরো দেখুন, মডারেট হিন্দুরা যতই বলে আমরা আমাদের ধর্মের অনেক সংস্কার করেছি আর এখনও করছি তাদের এই কথার উলটা বলেছেন এই স্বামী বিবেকানন্দ। তিনি বলেছেন “যতোই বায়োবৃদ্ধি হইতেছে, ততই এই প্রাচীন প্রথাগুলো আমার ভালো বলিয়া মনে হইতেছে” এই কথাই কি তার স্বতীদাহ প্রথা, বিধবা বিবাহের বিরোধিতা, কৃষ্ণের ন্যায় পুরুষের বহু বিবাহ প্রথা, রুক্মীনির মতো বাল্য বিবাহ প্রথা, সব একসাথে সমর্থন করা হয় না ?

শুধু তাই নয় হিন্দু ধর্মের সব থেকে মূল যে সমস্যা সেটা হচ্ছে বিভিন্ন জাতপাতের সমস্যা যা মানুষে মানুষে ভেদাভেদ তৈরি করে আসছে আজ থেকে হাজার হাজার বছর আগে থেকেই। সেই প্রথাকে বর্তমান সময়ের মডারেট হিন্দুরা যতই বলুক আমরা আর এখন এই নিয়ম মানি না বা আমাদের কোন ধর্মীয় কিতাবে এই জাতীয় কোন আদেশ উপদেশ নেই। তার পরেও এই হিন্দু ধর্মের সাধারণ মানুষেরা খুব ভালো বলতে পারবেন তাদের সমাজের মধ্যে এখনও কি চলে। যদিও আমাদের মতো সাধারণ পাঠকদের এই বিষয়ে কোন প্র্যকটিক্যাল ধারনা নেই তার পরেও এই ধর্মটি থেকে বেরিয়ে আসা অনেক সচেতন মুক্তভাবে চিন্তা করতে পারা জ্ঞানী মানুষের কাছে শুনেছি তাদের ধর্মের মধ্যে এই জাতপাত নিয়ে এখনও কি ভাবে সাধারণ মানুষকে ছোট করা হয়ে থাকে সেসব কথা না হয় এখানে নাই তুলছি। এখন দেখুন এই স্বামী বিবেকানন্দ কিভাবে এই জাতপাত বজায় রাখার চেষ্টা করেছেন মানুষে মানুষে এই বিভেদ সৃষ্টি করে রাখার চেষ্টা করেছেন। তিনি বলেছেন “তুই বামুন, অপর জাতের অন্ন নাই খেলি” এই কথার মাধ্যমে সে এই অমানবিক হিন্দু ধর্মের নিম্নবর্ণ আর উচ্চবর্ণ বা ব্রাহ্মন আর তার নিচের অন্যান্য সকল জাতের মধ্যে পার্থক্য তৈরি করে রাখতে বলেছেন। সে জাতিভেদ সমর্থন করে আরো বলেছেন “জাতি ভেদ আছে বলেই ৩০ কোটি মানুষ এখনও খাবার জন্য এক টুকরো রুটি পাচ্ছে” এখন আমার সেই সব ফেসবুকার্সদের কাছে খুব জানতে ইচ্ছে করছে তারা যে মোল্লাদের মতো গলার জোর বাড়িয়ে হাতের মুষ্টি শক্ত করে আমার হিন্দু ধর্মের সমালোচনা দেখে না্না ভাবে প্রমাণ করতে চলে আসে আমার ধর্ম ভালো আমার ধর্ম ভালো তাদের মতামত।

আসলে একটি কথা মনে রাখতে হবে শিক্ষিত আর অশিক্ষিত সকল অন্ধবিশ্বাসী ধর্মান্ধদের। আসলে ধর্মান্ধ নামটি খারাপ শোনালেও এর ব্যাতিক্রম কিছু আপাতত হাতের কাছে পেলাম না, তবে পশ্চিমা দেশ গুলা সহ বহিঃবিশ্বের সকল দেশে এদেরকে সুন্দর একটি নামে ডাকা হয়, আর তা হচ্ছে “ফ্যানাটিক”। যেহেতু এই ফ্যানাটিকদের মধ্যে শিক্ষিত আর অশিক্ষিতদের কোন পার্থক্য নেই, তাই তাদের উদ্দেশ্যেই বলা, ধরুন হিন্দু ধর্ম একটি কালকেউটা সাপ যেটা বর্তমান যুগে তার খোলশ পালটিয়ে এখন গোখরা সাপে পরিনত হয়েছে কিন্তু এই দুইটা সাপই বিষধর এবং যা কামড় দিলে মানুষের মৃত্য পর্যন্ত হতে পারে। শুধু তাই নয়, যদি এই সাপ যাকে কামড় দিচ্ছে সে একাই অসুস্থ হয়ে মারা যেত তাহলে এই ধর্মের বর্বরতা আর অমানবিকতা তুলে ধরে সাধারণ মানুষকে সচেতন করার প্রয়োজন খুব একটা ছিলোনা। কিন্তু এই সাপে কামড় দিলে সে তো নিজে অসুস্থ হয়ে ধীরে ধীরে মারা পড়ছেই সাথে যখন বেশি অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে তখন অন্যান্য ধর্মের বা সাধারণ মানুষকেও কামড় দিচ্ছে যাতে করে সেই মানুষটিও আবার মারা যাচ্ছে। যেমন কিছুদিন আগে পশ্চিমবঙ্গের মালদাতে ঘটে যাওয়া লাভ জিহাদের নামে একজন মানুষকে আরেকজন মানুষের হত্যা করার নৃশংস ঘটনা তারই একটি কারণ। এরা যে ধর্মের অনুসারী হবার আগে একেকজন একেকটা মানুষ তা তারা এই সাপের কামড়ের বিষের কারনেই ভুলে যাচ্ছে।

---------- মৃত কালপুরুষ
               ১৬/১২/২০১৭    


শুক্রবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০১৭

মূর্তি পূজা কি হিন্দু ধর্মের বেদ বা পুরাণ স্বীকৃত ?


দেব-দেবীদের মুর্তি পূজা করার নিয়ম যদি হিন্ধু ধর্মের বেদ আর পুরাণ স্বীকৃতই হবে তাহলে তাদের এতো শতশত জাতপাতের ভেতরে প্রতিটি জাতের মধ্যেই একই নিয়ম চালু থাকার কথা ছিলো কিন্তু তা আমরা দেখিনা। কারণ হিন্দু ধর্মের ভেতরে বর্ণহিন্দু বলে একটি কথা প্রচলিত আছে অনেক আগে থেকেই যারা তাদের বিত্ত আর ঐশর্য প্রদর্শনের জন্য এই দুর্গা পূজা টাইপের হিন্দু ধর্মের প্রধান উৎসবের সৃষ্টি করেছিলো একটা সময়। এখানে উল্লেখ করতে হয় এই বর্ণহিন্দু ছাড়া তখনকার সময়ে তথাকথিত নিম্নবর্ণের হিন্দুদের মধ্যে যারা একটু বিত্তশালী ছিলো তারাও একটা সময়ে এই দুর্গা পূজা টাইপের উৎসব করতো যা নিজেদের সম্মান বাড়ানোর চেষ্টা ছাড়া আর কিছুই ছিলো না। তারা (নিন্মবর্ণের হিন্দুরা) এই উচ্চবর্ণের হিন্দুদের অনুকরনের চেষ্টা করতো মাত্র। আর তাদের এই চেষ্টা সেই বর্ণ হিন্দুরা বা বিশেষ করে ব্রাহ্মনেরা একদম পছন্দ করতো না। শুধু তাই নই তারা এটাও প্রচার করে বেড়াতো যে নিম্নবর্ণের বা ছোট জাতের বাড়িতে প্রতিষ্ঠিত দেব-দেবী বা ভগবানের মূর্তি (প্রতিমা) প্রণামও করা যাবে না। তারমানে এটাই প্রমাণিত হয় তাদের বিভিন্ন জাতের মধ্যে দেবতাও আলাদা আলাদা। আর তাই যদি না হবে তাহলে একই ভগবান তারা কেন একযায়গায় পূজা করে আরেকযায়গায় প্রণাম করতেও নিষেধ করে।

হিন্দু ধর্মের বেদ বা রামায়ন টাইপের যত পবিত্র ধর্মীয় গ্রন্থ আছে তাদের কোনটার মধ্যেই এই পূজা বা বিশেষ করে দুর্গাপূজার অস্তিত্ব বা আদেশ-উপদেশ আমরা পায়না। এই দুর্গা পূজার নিয়ম কিছু হিন্দু ধনাঢ্য ব্যাক্তির সম্পদ ও প্রতিপত্তি প্রদর্শনের ফলস্বরুপ হিন্দু ধর্মাবলম্বী মানুষের মাঝে চালু হয়। এই দুর্গাপূজা যে তাদের বেদসম্মত নয় তার অনেক প্রমাণ আছে যেটা ভালো বলতে পারে কোন বেদ আর পুরাণ জানা বোঝা ভালো হিন্দু ঠাকুর বা পুরোহিত। আর্য সভ্যতা ও বৈদিক সভ্যতার কিছু বৈদিক পূজার ছাপ দেওয়ার জন্য হিন্দুরা তাদের বেদের দেবী সূক্তটির ব্যবহার নানা যায়গায় করে থাকে। তবে এখানে একটি বিষয় উল্লেখ করতে হবে, আর তা হচ্ছে, এই বেদে যে “হৈমবতী উমার” কথা লেখা আছে যা কখনই হিন্দুদের দেবী দুর্গা নয় বা “হৈমবতী উমার” সাথে দেবী দুর্গার কোন সম্পর্কই নেই তাহলে দুর্গাকে কেন তারা পূজা করে আর দেবী মানে। আর একটি কথা হচ্ছে “বাল্মীকির রামায়ন” বলে পরিচিত হিন্দুদের পবিত্র ধর্মীয় গ্রন্থ যে সময়ে রচনা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হয় সেই সময়ে তাদের “মার্কণ্ডেয় পুরাণের” জন্ম হয়নি আর তার মানে বর্তমানে হিন্দুদের বহুল পরিচিত দেবী কথিত “দুর্গার” আগমন তখনও ঘটেনি। মার্কেণ্ডেয় পুরাণ যুগের ভিত্তিতে পরবর্তিতে “শ্রীশ্রীচন্ডী” লিখিত হয়েছে। পৌরাণিক শাক্তাচারের শক্তির আদিমতম অবস্থাকে সংস্কৃতিতে বলা হয় “আদ্যাশক্তি” আর এই আদ্যশক্তির চণ্ডরুপই চণ্ড শক্তি বা “চণ্ডী” নামে পরিচিত। ধারনা করা হয় ৭০০ খ্রিস্টাব্দের দিকে মহাভারতে “মার্কণ্ডেয় পুরাণ” নামে পরিচিত যার সংক্ষিপ্ত নাম “চণ্ডী” প্রচলিত ছিলো তাতে এই দুর্গার নাম প্রথম খুজে পাওয়া যায় এর আগে দুর্গা বলে হিন্দু ধর্মে কোন দেবী ছিলোনা। তবে এই সময়ের সেই চণ্ডীতে দেবী “দুর্গা” আর “সুরথ” রাজার গম্প থাকলেও তাতে হিন্দুদের বহুল পরিচিত মুখ “রামের” কোন দেখা পাওয়া যায়না। সেই সাথে রাম যে দুর্গার পূজা করেছিলো বলে হিন্দু ধর্মের গল্প প্রচলিত আছে সেই গল্পও এই চণ্ডীতে ছিলো না। এসবই আসলে পরবর্তীতে যোগ করা হয়েছে নিজেদের মনগড়া ইচ্ছা অনুযায়ী।

আরো কিছু প্রমাণের ভেতরে হাজির করা যায় মোঘল যুগের কবি “তুলসী দাসের” কিছু লেখা থেকে। তুলসী দাসের “রামচিতমানস্থ” যেখানে এই রাম কর্তৃক দুর্গাকে পূজার কোন কথা উল্লেখ নেই। তাহলে এবার দেখুন এই দুর্গা পূজার প্রচলন কিভাবে চালু হলো হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ভেতরে। পাঠান যুগের বাংলা আর বরেন্দ্রভুমির ইতিহাস পড়লে আমরা তখনকার একজন রাজার নাম পাই যার নাম ছিলো “কংস নারায়ণ রায়”। এই কংস নারায়ণ রায় বর্তমান বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের রাজশাহীর বরেন্দ্রভুমির তাহেরপুর নামক অঞ্চলের রাজা ছিলেন বলে জানা যায়। এই তাহেরপুরের নামকরণ করা হয়েছিলো তৎকালীন গৌড় রাজ্যের শাসকদের একজন জায়গীরদার “তাহের খাঁ” এর নামানুসারে যার পুর্বে এই অঞ্চলের নাম ছিলো “সাপরুল”। এই তাহের খাঁ কে কংস নারায়ণ যুদ্ধে পরাজিত করে এবং তাহেরপুর সহ আশপাশে তার যত জমিজমা ও সম্পদ ছিলো তা দখল করে নেয়। এরপর সেসময় এই অঞ্চলে এই রাজা কংস নারায়ন ব্যাপক লুটপাট চালায় ও ধীরে ধীরে অকল্পনীয় ধন সম্পদের মালিক বনে যায়। এরকম সময় কংস নারায়ণ সীদ্ধান্ত নেয় তার নিজের শক্তি ও মহিমা সর্বজনে প্রকাশ করে দেখাবে যাকে বলা হয়ে থাকে “অশ্বমেধ যজ্ঞ করার সংকল্প”। কংস নারায়ণের সময় তার আন্ডারে বেশ কিছু ব্রাহ্মন পণ্ডিত বা ঠাকুর ছিলো যারা এই রাজাকে বিভিন্ন ধর্মীয় যুক্তি দিয়ে থাকতো।

একসময় কংস নারায়ণ তার কয়েকজন ঠাকুরকে ডেকে তাদের বললো “আমি রাজসুয় কিংবা অশ্বমেধ যজ্ঞ করতে চাই” এর জন্য যা কিছু করার দরকার তা করা হোক। এই অঞ্চলের মানুষ জানুক আমার কত ধন সম্পদ আছে এবং আমি আমার দুই হাত দিয়ে ছড়িয়ে দান করতে চাই। ঠিক তখন তার পন্ডিতেরা তাকে বলেছিলো এই কলি যুগে আর রাজসুয় কিংবা অশ্বমেধ যজ্ঞ হয় না বা পালন করা যাবে না। তবে আরেকটি উপায় আছে আপনার অর্থ সম্পদ আর ঐশ্বর্য মানুষের মাঝে তুলে ধরার। তখন এই ঠাকুর পন্ডিতের দল কংস নারায়ণকে দেখায় সেই “মার্কণ্ডেয় পুরাণ” থেকে বিবর্তিত “শ্রীশ্রীচণ্ডী” যাতে লেখা ছিলো দেবী দুর্গার কথা। ঠাকুর আর পন্ডিতেরা বলে এই পুরাণে যে দুর্গা পূজার কথা বলা আছে বা দুর্গাৎসবের কথা উল্লেখ আছে তাতেও অনেক খরচ করা যায় জাঁকজমক করে মানুষকে দেখানো যায় নিজের ঐশ্বর্য ও ক্ষমতা। তাই আপনাকে আমরা বলবো এই মার্কণ্ডেয় পুরাণ মতে এই দুর্গা পূজা করুন। তখন রাজা কংস নারায়ণ রায় সীদ্ধান্ত নেয় দুর্গা পূজা করবে আর তাই তৎকালীন সাতলক্ষ স্বর্ণমুদ্রা (বর্তমানে সাতশো কোটি টাকার উপরে) ব্যয় করে প্রথম দুর্গাপূজা করে বলে উল্লেখ পাওয়া যায়। যেহেতু এটা ছিলো ধন সম্পদ আর ঐশ্বর্য প্রদর্শনের একটি উৎসব তাই আরো অনেকেই এটা পালন করার সীদ্ধান্ত নেয় তখন। এদের মধ্যে একটাকিয়ার (ধারণা করা হয় একটাকিয়া বর্তমান বাংলাদেশের রংপুর জেলার অঞ্চলটি ছিলো) রাজা জগৎবল্লভ সাড়ে আটলক্ষ স্বর্ণমুদ্রা ব্যয় করে আরো জাঁক-জমকপুর্ণ করে এই দুর্গাপূজা করে।

রাজা কংস নারায়ণ আর রাজা জগৎবল্লভ এর এই পূজা করা দেখে সেসময়ের অন্যান্য জমিদারেরা চিন্তা করলো আমরাও বা এদের থেকে কম কিসে, আমাদেরও তো অনেক ধন সম্পদ আছে আর আমরাও তা দেখাতে পারি। যেই চিন্তা সেই কাজ তারাও প্রত্যেকে যে যার সামর্থ অনুযায়ী এই দুর্গাপূজা করা শুরু করে দিলো। আর এই থেকেই শুরু হয়ে গেল প্রতি হিন্দু জমিদার বাড়িতে দুর্গা উৎসব বা দুর্গা পূজা যার কোন বেদ বা পুরাণ স্বীকৃতি হিন্দু ধর্মে নেই। আর এটা কোন ধর্মীয় আদেশ থেকেও আসেনি। সেই সময়ে বর্তমান ভারতের (গুপ্তবৃন্দাবন) হুগলী বলাগড় থানার গুপ্তিপাড়া এলাকায় প্রথম বারোয়ারী পূজার চল শুরু হয়েছিলো। পরবর্তীতে আরো কিছু কারনে তা নাম নিয়েছিলো সার্বজনীন পূজা যা আজকের মডারেট হিন্দুরা পালন করে থাকে কিন্তু তাদের ভেতরে ৯০% এই বেদ বা গীতা সম্পর্কে একেবারেই অজ্ঞ যার কারনে তাদের মধ্যে নানান মতোভেদ পরিলক্ষিত হয়ে থাকে। লেখার দীর্ঘতার কারণে বাঙ্গালী হিন্দুদের মাঝে প্রথম কবে এই জাতীয় পূজার সুত্রপাত হলো, বারোয়ারী পূজা কিভাবে সার্বজনীন পূজা হলো আর এই ধর্মটিকে কেন মানবিক ধর্ম বলা চলেনা সেটা নিয়ে আগামীতে লিখবো।

---------- মৃত কালপুরুষ

                ১৪/১২/২০১৭   

বুধবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০১৭

হিন্দু ধর্মই কি সমাজের পতিতা বৃত্তির জনক ?


চুড়ান্ত অশ্লীলতা আর জাতপাতের ভিন্নতা সাথে নিয়ে হাজার হাজার বছর ধরে চলমান একটি ধর্মের নাম এই সনাতন ধর্ম যাকে বর্তমানে আমরা হিন্দু ধর্ম বলেই জানি। আসলে হিন্দু ধর্ম বলেও কিছুই নেই। তারপরও অনেক না জানা হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা নিজেদের হিন্দু বলেই পরিচিতি দিয়ে থাকে। হিন্দু শব্দটির উৎপত্তির কথা শুনলে আমরা দেখতে পায় হিন্দু শব্দটি হয়তো এই ধর্মের বহু জাতপাতের ভেতরে কিছু মানুষকে ছোট করার জন্য বা (গালি) দেবার জন্য অতীতে ব্যবহার করা হত। আজ সেই (গালি) হিন্দু শব্দটি তাদের ধর্মের নাম হয়ে গিয়েছে। বহু পুর্বে থেকেই হিন্দু ধর্মটি অনেক ভয়ংকর সব রীতি-নীতি আর সংস্ককৃতি ও ঐতিহ্য সাথে নিয়ে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মাধ্যমেই টিকে আছে এই ধর্মটি। যদিও যুগে যুগে তার অনেক সংস্কার হয়েছে এবং মডারেট হিন্দুরা এই ধর্মটিকে মানবিক ও বিজ্ঞানসম্মত বলে প্রচার করছে তারপরেও অনেক অমানবিক বিষয় ও নোংরামী তারা লুকাতে ব্যার্থ হচ্ছে। এই ধর্মটিতে ব্রাহ্মনবাদ ব্যাপারটি সব থেকে খারাপ একটি দিক। এরাই বেশি জাতপাত করে থাকে তাদের ধর্মের মানুষের ভেতরে। এমনকি দেখা যায় উচু জাতের হিন্দুরা নিচু জাতের হিন্দুদের দেব-দেবীর মুর্তি পর্যন্ত প্রনাম (সন্মান) দেয়না। এতে করেই প্রামণিত হয় তাদের দেব-দেবীর মুর্তি পূজা এই ধর্মেরই চালাক চতুর কিছু মানুষের তৈরি করা একটি বিষয়।

মডারেট হিন্দুদের ভাষ্য মতে এই ধর্মটি সংস্কার হচ্ছে এবং আমরাও ইতিহাসে পাচ্ছি কালের বিবর্তনে এই ধর্মের ধর্মীয় বর্বরতা তারা কিছুটা কাটিয়ে উঠতে পারলেও গোড়ামী এবং অশ্লীলতা হিন্দুদের মাঝে এখনও যথেষ্ট পরিমানেই বিদ্যমান। অন্যান্য অধিক চর্চিত ধর্ম গুলোর মতো এই ধর্মটিও নারীদের করেছে নানাভাবে অপমান অপদস্থ। পুর্বে সতীদাহ প্রথার মতো বাতিল হয়ে যাওয়া কিছু জঘন্য ও বর্বর প্রথার সাথে তারা বর্তমানেও নারীদের সাথে জঘন্য আচরনের নানা দিক উন্মুক্ত করে রেখেছে। যেমন ধরুন হিন্দুদের দুর্গাপূজা বেশ্যাবৃত্তিকে সমর্থন করে। সমাজের বিভিন্ন জাত ও ধর্মের মানুষের দ্বারা নির্যাতিত আর নীপিড়িত নারীরাই বর্তমানে এশিয়া মহাদেশের তৃতীয় শ্রেনীর বিভিন্ন দেশে এই বেশ্যাবৃত্তির সাথে জড়িত হয়ে পড়ে। বহিঃবিশ্বের উন্নত দেশগুলির কথা আলাদা যেখানে নারীকে আলাদা চোখে দেখা হয়না। যুক্তিবাদী সমাজ যেখানে এই নারীদের এই সব নির্যাতন আর নীপিড়ন থেকে মুক্তির জন্য মানুষকে সচেতন করে চলেছে ঠিক তেমনি এই হিন্দু ধর্মের কিছু নিয়ম আবার এটাকে জাগ্রত করে রাখছে। যেমন ধরুন হিন্দুদের বর্তমানে প্রধান ধর্মীয় উৎসব বলে পরিচিত দুর্গা পুজা সেই নির্যাতিত নারীদের (পতিতা) ঘরের দরজার সামনের মাটি ছাড়া এই পূজা যথাযথ হবে না বলে মনে করে থাকেন। অর্থাৎ বেশ্যাবৃত্তি না থাকলে এদের পূজা হবে না তাই তো বোঝা যায়।

দুর্গা পুজা নামে পরিচিত হিন্দুদের এই মহা উৎসবটি অতীতে বসন্তকালেই পালিত হতো বলে উল্লেখ পাওয়া যায়। বৃটিশ আমলের পুর্বে কোথাও এই রকম জাক-জমকপুর্ণভাবে এই দুর্গা পূজা হতো বলে উল্লেখ পাওয়া যায় না। ব্রিটিশদের খুশি করার জন্যই এই পূজার সময় পরিবর্তন করা হয়েছে বলে অনেকেই মনে করে থাকেন। তবে এর পেছনে আরো কিছু কারণ আছে। বৃটিশরা নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে সরানোর জন্য কিছু হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সাথে একটি ষড়যন্ত্র করে যখন সফল হয় তখন হিন্দুরা বৃটিশদের খুশি করার জন্য ও বিজয় উৎযাপনের জন্য এই দুর্গা পূজাকে শরৎকালে এগিয়ে নিয়ে আসেন। এখানেও নারীকে ছোট করা হয়েছে এবং ধারনা করা হচ্ছে এই সময়েই পতিতালয়ের মাটি ছাড়া এই পুজা হবে না নিয়ম চালু করা হয়েছে। যেমন তৎকালীন বৃটিশরা ছিলো চরম নারীলোভী একটি জাতি তাই দুর্গা পূজার  মতো বড় উৎসবে পতিতা গমন ছাড়া কিভাবে এই উৎসব সফল হবে। তাই পতিতা গমনের কথা মাথায় রেখেই তারা এই নিয়ম চালু করেছিলো। কবি কালীদাসের বিভিন্ন কবিতায় এই হিন্দু ধর্মের অনেক বিষয় উঠে এসেছে যার মধ্যে উন্নতম হচ্ছে হিন্দু ধর্মের সবচেয়ে বড় ঋষি “বিশ্বামিত্র” থেকে শুরু করে রাজা “বিক্রমাদিত্য” পর্যন্ত পতিতাগমন করেছিলো বলে উল্লেখ পাওয়া যায় এই কালীদাসের কবিতায়। এই সমস্ত বিষয় পর্যালোচনায় এটা মনে হবার কোন কারণ না থাকার কথা নয়, নারীকে এই পেশায় অবদ্ধ করে রাখার জনক-জননীদের মধ্যে হিন্দু ধর্মই প্রধান।

এই ধর্মটি হিন্দু সমাজের মধ্যে নারীকে ছোট করার আর সমাজচ্যুত করার বা সমাজ থেকে ছুড়ে ফেলে দেবার নানান পথ তৈরি করে রেখেছে যা এখানে বলে শেষ করা যাবে না। বর্তমানে আমরা হিন্দু লেখক সাহিত্যিকদের বিভিন্ন লেখাতে এরকম যথেষ্ট প্রমাণ পেয়ে থাকি। বিশেষ করে বিভিন্ন রম্যলেখকদের লেখার মধ্যে পাই। উদহারণ স্বরুপ একটি ভয়ানক নিয়মের কথা না জানালেই নই যেটা ছিলো এবং এখনও কিছু কিছু অঞ্চলের হিন্দু সমাজে যার প্রচলন আছে। বাংলা ভাষায় আমরা একটি প্রবাদ শুনে থাকি বিশেষ করে হিন্দু ধর্মাবলম্বী সমাজে “মেয়েদের জীবনে লগন একবারই আসে” টাইপের প্রবাদ। “লগন” শব্দটি আরো অনেক ক্ষেত্রেই ব্যাবহার হয়ে থাকে, তবে হিন্দু ধর্মের পরিভাষা অনুযায়ী এটা নারীদের বিবাহের নির্দিষ্ট সময় বা লগ্ন হিসেবেই বেশি ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এই লগ্ন বা সময়টাকে বিভিন্ন হিন্দু ঠাকুর (ব্রাহ্মন ঠাকুর) বাড়িতে ডেকে নিয়ে এসে নানান ভাবে (ভুল-ভাল) ভূগোল বুঝিয়ে গননা করে একটি নির্দিষ্ট সময় বা লগ্ন বের করা হয় একটি নারীর বিবাহের সঠিক সময় হিসেবে। আর এই সময়টি বা লগ্নটি যদি একবার পার হয়ে যায় কোন নারীর জীবনে বা এই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কোন কারণে যদি বর সেখানে না পৌছতে পারে তাহলে সেই নারীর জীবনে আর এই সময় বা লগ্ন আসবে না। অর্থাৎ সেই নারীকে তার বাকি জীবন অবিবাহিত ভাবেই পার করতে হবে এমন নিয়ম আছে এই ধর্মে যা এই ধর্মের কেউ অশ্বীকার করতে পারবে না। আর এরকম যদি কোন কারণে ঘটেই থাকে তাহলে সেই নারী তার বাকী জীবন কিভাবে পার করবে সেটা কিন্তু ঠাকুর আর পুরোহিতরা বলে দেয়না সেই পথটা নারীকে একাই খুজে নিতে হয়।

---------- মৃত কালপুরুষ
               ১১/১২/২০১৭    

রবিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৭

হিন্দু ধর্মের নিজেদের ভেতরেই কোন মিল খুজে পাওয়া যায় না।


যাদের নিজের ধর্ম আর নিজেদের ধর্ম গ্রুন্থেরই একটির সাথে আরেকটির কোন মিল নেই তাদের কিভাবে আপনি একটি রেফারেন্স সত্য বা মিথ্যা প্রমাণ করে দেখাবেন। এই ধর্মটির আসলে শতশত শাখা প্রশাখা থাকার কারনে এক গ্রুপের সাথে আরেক গ্রুপের কোন মিল খুজে পাওয়া যায় না। তাই যদি কেউ হিন্দু ধর্মের (ব্লাক সাইড) বা খারপ দিক গুলো তুলে ধরে কোন রেফারেন্স বা সুত্র দিয়ে থাকে তাহলে মডারেট হিন্দুরা সেটা নিয়ে প্রশ্ন তোলে এই সুত্রটি ভুল আছে বা এটা আমাদের বেদে খুজে পাওয়া যাচ্ছে না। এর কারণ হচ্ছে তাদের বেদ আর পুরাণের ভার্সনের অভাব নেই। অনেক ভার্সনের মধ্যে তারা কিছু কিছু নির্ভরযোগ্য মানুষের লেখা বা অনুবাদ পড়ে এধরনের কথা বলে। আসলে এদেরও তেমন কোন দোষ নেই কারণ হিন্দু ধর্মের এই জাতীয় "ঋগ্বেদ সংহিতা" "যযুর্বেদ সংহিতা" "অথর্ববেদ সংহিতার" মতো গ্রন্থগুলি আসলে তাদের নিজেদের মধ্যেই সহজলভ্য নয়। এর কারণে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ৮০% তাদের এই মূল গ্রন্থগুলো পড়াতো দূরে থাক তারা হাতে নিয়েও কোন দিন দেখেনি। এই হিসাবটিতে আমার ভুল থাকতে পারে সংশোধন করে দেবার অনুরোধ রইলো। এই হিন্দু ধর্মের মানুষের একেক গ্রুপের মধ্যে একেক রকম মত বা একেক গ্রন্থে যে একেক রকম সুত্র দেওয়া আছে তার একটি নমুনা দেখুন এখানে।

বিভিন্ন একেশ্বরবাদী ধর্মের মতো হিন্দু ধর্মেও কিছু কিছু ক্ষেত্রে একজন ইশ্বর বা স্রষ্টার কথা বলা আছে তা অনেক হিন্দু বা সনাতন ধর্মাবলম্বীরা জানেই না। তারা মনে করে থাকে তাদের শত শত আর হাজার হাজার দেব-দেবতায় হচ্ছে সৃষ্টিকর্তা। যে কারোনে ১০০ জন হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের যদি জিজ্ঞাসা করা যায় আপনি কত জন দেবতা বা ঈশ্বরে বিশ্বাস করেন ? তাহলে নানা উত্তর আসে তাদের কাছে থেকে। সে যাই হোক প্রতিটি ধর্মই আসলে মানুষে তৈরি ঠিক যেমন প্রতিটি ঈশ্বর বা সৃষ্টিকর্তাও মানুষের তৈরি। এই মতে বর্তমান যুগের মানুষের আর কোন সন্ধেহ থাকার কথা না। যারা এখনও অন্যান্য (পৃথিবীর সকল) ধর্মের মতো হিন্দু ধর্মকে সত্য বা মানবিক ধর্ম বলে দাবী করে আসছেন তাদের আরো ভালো করে আপনাদের এই ধর্মের সত্যতা যাচাই করার অনুরোধ করবো আগে। কারণ আমরা হিন্দু ধর্মের যে সকল গ্রন্থ গুলো সহজে হাতে পেয়ে পড়ে থাকি তা পড়ার পড়ে এটুকুই জানতে পা্রি অন্যান্য সকল বর্বর আর আমানবিক ধর্মের মতো এই ধর্মটিও কোন অংশে বর্বরতার আর অমানবিকতার থেকে পিছিয়ে নেই বরং প্রথম সারিতেই আছে। আর যদি এই ধর্মটি মানবিক আর বর্বর না হয়ে থাকবে থাহলে কেন তাদের মূল ধর্মীয় গ্রুন্থ গুলো মানুষের মধ্যে সহজলভ্য করে রাখে নাই বা এখনও করছে না। সমস্যা কি ?

এবার আসুন আমরা হিন্দু ধর্মের ঈশ্বর ধারণা সম্পর্কে জানি। যদি কোনো সাধারন হিন্দুকে প্রশ্ন করেন আপনি কতজন ঈশ্বরে বিশ্বাস করেন কেউ হইতো বলবে ১০ জনকেউ ৫০ জন, কেউ ১০০ বা ২০০ জন,  কেউ ১০০০ জন আবার কেউ হয়তো বলবেন ৩৩ কোটি জন। কিন্তু আমরা যদি কোনো জ্ঞানী হিন্দু পন্ডিত যিনি হিন্দু ধর্মের পবিত্র ধর্ম গ্রন্থ গুলো  যেমন, বেদপূরান, ইত্যাদি পড়েছেন তার কাছে যাই তাহলে তিনি বলবেন হিন্দুদের কেবল মাত্র একজন ঈশ্বরের ইবাদাত করা উচিত। এ সম্পর্কে বেদ বা হিন্দু ধর্মের বহু কিতাব থেকে বহু উদ্ধৃতি উপস্থাপন করা যায়। যেমনচারটি বেদেই এই শ্লোক (মন্ত্রটি) আছে। একে বেদের ব্রহ্মসুত্রও বলা হয়ে থাকে-একম ব্রহ্মা দ্বৈত্য নাস্তি নহিনা নাস্তি কিঞ্চান" অর্থাৎ ঈশ্বর একজন তার মতো কেউ নেইকেউ নেই সামান্য নেই। আরও আছে  ”তিনি একজন তারই উপাসনা করো (ঋকবেদ ২/৪৫/১৬)। আরো দেখুন  "এক্‌ম এবম অদ্বৈতম ” অর্থাৎ তিনি একজন তার মত আর দ্বিতীয় কেউ নেই (ঋকবেদ ১/২/৩)। ”একজনই বিশ্বের প্রভূ (ঋকবেদ ১০/১২১/৩)।

এছাড়াও অনেক জোর দিয়ে বলা হয়েছে ন্ দ্বিতীয় ন্‌ তৃতীয় চতূর্থ না পুচ্যতে। ন্‌ পঞ্চম ন্‌ ষস্ট সপ্তম না পুচ্যতে।। ন্‌ অস্টম ন্‌ নবম দশমো না পুচ্যতে। য এতং দেব মেক বৃত্যং বেদ।।” (অথর্ব বেদ সুক্ত ১৪/৪/২) অর্থাৎ পরমাত্মা এক। তিনি ছাড়া কেহই দ্বিতীয়তৃতীয় বা চতুর্থপঞ্চম,ষস্ট,সপ্তম,অস্টম,নবম বা দশম বলিয়া অবিহিত আর কেহই নাই। যিনি তাহাকে এক বলিয়া জানেন তিনিই তাহাকে প্রাপ্ত হোন। উপরের এ সকল স্লোক থেকে এটা পরিষ্কার হয়ে যায় যেহিন্দু ধর্মেও একেশ্বরবাদ স্বীকৃত। তাই অন্যান্য একেশ্বরবাদী ধর্মের মতো হিন্দু ধর্মের মধ্যে প্রথম সাদৃশ্য হল একেশ্বরবাদ ব্যাতীত দ্বিতীয় কোন ঈশ্বর নেই। তাহলে প্রশ্ন থাকলো হিন্দুদের এতো শত শত, হাজার হাজার, লক্ষ লক্ষ, কোটি কোটি দেব দেবোতা আর ঈশ্বর যাদের সকলের নাম মনে হয় একজন হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের পক্ষে একজীবনে জানায় সম্ভব না তারা কোথায় গেলো। তাহলে কি হিন্দু ধর্মের নিজেদের ভেতরেই কোন মিল থাকলো ? যারা রেফারেন্স দেওয়া সুত্রের মিল নেই বলে দাবী করেন বা মিথ্যা তথ্য দেওয়া হয়েছে বলে অন্যান্য ধর্মের অনুসারীদের মতো প্যাচাতে থাকেন তাদের এই বিষয়টি পরিষ্কার করে দেবার অনুরোধ রইলো।

---------- মৃত কালপুরুষ
                ১০/১২/২০১৭


শনিবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৭

হিন্দু নামধারী সনাতনের লেবেল চেঞ্জ ধর্মকে বর্বর বলা যাবে না কেন ?


গত দুইদিন ধরে সোস্যাল মিডিয়াতে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মালদার কোথাও ঘটে যাওয়া একটি ধর্মীয় হত্যাকান্ডের ভিডিও ঘুরে বেড়াচ্ছে যা বেশ কয়েকবার আমার চোখে পড়েছে। ধর্মের আফিমীয় মাদক ও এই জাতীয় ধর্মাবলম্বী বোকা মানুষ গুলিকে কতটুকু নির্বোধ-মানবিকতাশুণ্য বানিয়ে দেয় তার একটি চরম উদাহরণ হতে পারে এই বর্বর হিন্দু ধর্ম। হিন্দু ধর্মের বেদ, গীতা, মনুসংহিতা, উপনিষদ, রামায়ন, মহাভারত, পুরানপাচালি ইত্যাদির মধ্যে এতো জাতপাতের বৈষম্য, বর্ণভেদ, গোত্রবিভেদ, ধর্মভেদ, ধর্মান্ধতা, গোড়ামি, কুসংস্কারাচ্ছন্ন মানসিকতা, নারীর প্রতি কুসংস্কার, বিরুপ ধারণা, ভয়, ঘৃণা, আর সবশেষে বর্বর ও জংলী কিছু ধর্মীয় আইন কানুন আছে যা আর অন্য কোন ধর্মে পরিলক্ষিত হয়না। হিন্দু ধর্ম একটি বর্বর ও অমানবিক ধর্ম বলাতে যারা ধুতি পরে মাথার টিকলি নাচাতে নাচাতে চলে আসেন হিন্দু ধর্ম রক্ষা করতে তাদের বলবো আগে প্রমান করুন আমি কোথায় ভুল কিছু বলেছি যা এই হিন্দু ধর্মে নেই। হিন্দু ধর্ম যে বর্বর আর অমানবিক ধর্ম না সেটার পক্ষে দুই একটা কারণ দেখান এখানে। আমি এখানে হিন্দু ধর্মের মানুষ হত্যা আর বর্বরতার কিছু নমুনা দিলাম মিলিয়ে দেখুন।

শিশুকাল থেকেই একটি হিন্দু ধর্মালম্বী বাচ্চাকে হাতে তীর ধনুক দিয়ে রাবণ মারার মাধ্যমে এই মানুষ হত্যা করা আর মানুষকে ঘৃণা করার হাতে খড়ি দেওয়া হয়ে থাকে এই ধর্মটিতে। যেসব মডারেট হিন্দুরা বলে থাকে এই ধর্মে আসলে এমন কিছুই বলা নেই যেখানে মানুষ হত্যার কথা আছে তাদের স্বদয় অবগতীর জন্য জানাচ্ছি (অথর্ববেদ ১২,০৫,৫৪) এ বলা আছে “Vedic followers should destroy infidels” অর্থঃ “বৈদিক অনুসারীদের (কাফের বা বেধর্মীদের) ধ্বংস করা উচিত” মজার বিষয় হলো এই বৈদিক সভ্যতা থেকেই আজকের সনাতন ধর্মের সৃষ্টি তবে এখানে কথা আছে। কথা হচ্ছে সনাতন ধর্মের অনেক কিছুই পরিবর্তন করে আজকের মডারেট হিন্দু ধর্ম বানানো হয়েছে যাতে এই বৈদিক দর্শনের কোন মিল নেই তাই অতীতে যারা এই বৈদিক ধর্মের অনুসারী ছিলো তাদেরকে এই হিন্দুদের দ্বারাই হত্যা করার উদ্দেশ্যে “অথর্ববেদে” এসমস্ত শ্লোক যোক করা হয়েছিলো যা এখনও আছে।

এছাড়াও হিন্দু ধর্মের (ঋগ্বেদ  ০১,১৬,০৪) এ বলা হচ্ছে “যারা তোমাকে পূজায় উপহার দেয় না, তাদের প্রত্যেককে হত্যা করো” এর মানে হচ্ছে সনাতন ধর্ম থেকে আলাদা একটি গোত্র অনেক পুর্বে ভারতবর্ষে তাদের বিভিন্ন দেব দেবতাদের মূর্তি বানিয়ে পূজা করার চল শুরু করেছিলো। বর্তমানে আমরা হিন্দু ধর্মাওবলম্বিদের যে দেব-দেবতা আর ভগবানের মূর্তি পূজা করতে দেখি তা কিন্তু এই ধর্মের সকল জাতি পালন করে না। উল্লেখ করতে হয়, হাজার হাজার বছর আগে থেকেই এই সনাতনের খোলস পাল্টিয়ে হিন্দু নাম ধারণ করা ধর্মটি বিভিন্ন দেব দেবতা আর কল্পিত ভগবানের মূর্তি বানিয়ে সেসব পূজা করে আসতো তবে কিছু কিছু গোত্র তা করতো না যেমন প্রাচীন ভারতে “কিটক্যাট” নামের একটি জাতি ছিলো যারা মূলত এসব ধর্মীয় নিয়ম কানুন মানতো না। তাদেরকেই হত্যা করার জন্য ঋগ্বেদ এ এই কথা বলা হয়েছিলো যা এখনও হিন্দু ধর্মের মধ্যেই আছে। বর্তমানে যে দুর্গা পূজা, কালী পূজা, স্বরসতী পূজা মডারেট হিন্দুরা পালন করে আসে তার জন্ম খুব বেশি হলেও ১৫০ বছর হতে পারে তার আগে এভাবে পালন হতো না। মডারেট হিন্দুরা যখন বলে তাদের ধর্ম অনেক সংস্কার হয়েছে তখন এই ধর্মের আরেকদল এইসব শ্লোক ব্যবহার করে অন্য ধর্মের মানুষ হত্যা করে চলেছে এবং হত্যা করার উষ্কানী দিয়ে চলেছে।

আরো কিছু নমূনা দেখুন এই সনাতনের লেবেল পাল্টানো হিন্দু ধর্মের সরাসরি মানুষ হত্যা করার উস্কানী মূলক ডায়ালগ। (ঋগ্বেদ  /৮৪/৮) রাজ্য প্রধান এর প্রতি বেদের নির্দেশ হচ্ছে, যে লোক ঈশ্বরের আরাধনা করে না এবং যার মনে ঈশ্বরের প্রতি অনুরাগ নেই, তাকে পা দিয়ে পাড়িয়ে হত্যা করতে হবে” যার অনুবাদ করেছেন আচার্য্য বিদ্যা মার্তন্ড, আর্য সমাজ। স্বামী দয়ানন্দের ভাষ্য হতে অনুবাদিত এর মানে যে সমস্ত সাধারণ মানুষ যারা “ঋদ্বেদে” বিশ্বাস করে না বা বেদ মানে না, হোক সে হিন্দু বা অন্য যে কোন ধর্মের বা অধার্মিক তাকেই বলা হচ্ছে পা দিয়ে মাড়িয়ে হত্যা করতে হবে। তাহলে কি এই ধর্মটিকে আমাদের বর্বর বলা ভুল হচ্ছে। গতকাল সেই বর্বরচিত হত্যাকান্ডের ভিডিও ফুটেজ দেখে যখন আমি মন্তব্য করি এই ধর্মটি একটি “বর্বর ধর্ম” তখন এক শিবসেনা আমাকে আইনের আওতায় আনবে বলে হুমকি দিয়েছে। আসলে এই হিন্দু নামধারী সনাতন ধর্মকে বর্বর প্রমানীত করার জন্য খুব বেশি উদাহরণ মনে হয় আমার দেওয়া লাগবে না। তার পরেও যদি কোন হিন্দু পন্ডিত বা ব্রাহ্মন ঠাকুর এই লেখা পড়ে থাকেন তাহলে হিন্দু ধর্ম যে বর্বর ও অমানবিক ধর্ম না তা একবার প্রমাণ করার চেষ্টা করতে পারেন।

এখানে ছোট করে আরেকটি ধর্ম (ইসলাম) এর সাথে একটু তুলনা করে দেখাচ্ছি। যাকে সমস্ত পৃথিবীর মানুষ রক্তের ধর্ম বলে জানে তার থেকেও এই হিন্দু ধর্ম কত খারাপ একটি ধর্ম হতে পারে। যেমন দেখুন (যজুর্বেদ ১৭/৩৯) সেনাপ্রধান হিংস্র নির্দয়ভাবে শত্রুদের পরিবারের সদস্যদের সাথেও যুদ্ধ করবে। মানে পরিবারের সদস্য বলতে নারী, শিশু, বৃদ্ধ সকলকে হত্যা করার আদেশ দিচ্ছে এই “যযুর্বেদ”। আরো দেখুন (যজুর্বেদ ১৭/৩৮) শত্রুদের পরিবারকে হত্যা কর, তাদের জমি ধ্বংস কর” এবার বোকা মানুষগুলোকে আদেশ দেওয়া হচ্ছে হত্যার পাশাপাশি তাদের সম্পদও ধ্বংস করতে হবে। এছাড়াও (যজুর্বেদ ১৩/১৩) তে বলা হচ্ছে “শত্রুদের হত্যা কর তাদের জায়গা জমি রান্নাঘর ধ্বংস কর” অনুবাদঃ দেবী চাঁদ, আর্য সমাজ। স্বামী দয়ানন্দের ভাষ্য হতে অনুবাদিত। এবার আসুন ইসলাম ধর্মের প্রধান নবী যাকে মুসলমানরা অনুসরণ করে থাকে তার ভাষ্য এমন যে, বেশ কিছু হাদীসে উল্লেখ আছে তিনি [মুহাম্মদ (সাঃ)] মক্কা বিজয়ের সময় তার অনুসারীদের বলেছিলেন, তোমরা বিনা কারনে এমনকি গাছের একটা ডালও নষ্ট করো না। সেখানে বেদ হিন্দুদের কি অনুমতি দিচ্ছে ? একটু নিরাপেক্ষ দৃষ্টিতে বিচার করে দেখুন।

সম্পুর্ণ হিন্দু ধর্মের এরকম শ্লোকের সংখ্যা আছে অসংখ্য যা বলে শেষ করা যাবে না। কারণ এই ধর্মটির অনেক অনেক শাখা প্রশাখা আছে। তবে ঘুরে ফিরে সেই কালকেউটা সাপ এখন খোলস পাল্টিয়ে হয়েছে গোখরা সাপ যাতে কোন প্রকার সন্ধেহ করা চলে না। আসলে সোস্যাল মিডিয়া আর অনলাইন মাধ্যমগুলিতে মুক্তমনা নামধারী কিছু হিন্দু মৌলবাদীকে দেখা যায় যারা আসলে ইসলাম ধর্ম বা অন্য কোন ধর্ম নিয়ে আমরা যখন কোন সমালোচনা মূলক লেখা লিখে থাকি তখন তারা হাতে তালি দেয় আর অনেক সুন্দর সুন্দর কথা বলে। তবে সেটা সেই পর্যন্তই সীমাবদ্ধ থাকে যতক্ষন না আপনি এই বর্বর হিন্দু ধর্মের মুখোশ না খুলে দিচ্ছেন। যখন আপনি হিন্দু ধর্ম নিয়ে সমালোচনা করছেন তখনই তারা তাদের অনূভূতি প্রকাশ করছে ঠিক জঙ্গী আর জিহাদিদের মতো। আসলে তাদেরকেও কোন অংশে কম ভাবার কিছুই নেই কারণ মনে রাখতে হবে পৃথিবীতে সকল ধর্মই চাই তার নিজের ধর্মটিকে ভালো প্রমান করতে আর অন্য বাকি সব ধর্মকে খারাপ প্রমান করতে যার প্রমাণ হচ্ছে এসব। আমি হিন্দু ধর্মের হাস্যকর সব দেব-দেবী আর ভগবানদের মোটামুটি সংক্ষিপ্ত কিছু পরিচয় আপনাদের দিবো পরের লেখাতে।

---------- মৃত কালপুরুষ
               ০৯/১২/২০১৭  

রবিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০১৭

সতীদাহ প্রথা কেন হিন্দু ধর্মের প্রথা হবে না ?


সতীদাহ প্রথা একটি জঘন্য, অমানবিক ও বর্বর প্রথা হিসেবে অনেক আগেই স্বীকৃতি পেয়েছে এবং এটা শুধু মাত্র হিন্দু ধর্মের একটি প্রথা বলেই পরিচিত যা হিন্দু ধর্মা্বলম্বীদের কেউ অস্বীকার করতে পারবে না। তারপরেও আমি জানতাম বর্তমান সময়ের মডারেট হিন্দুদের দেখা যাবে এর অস্বীকার ও প্রতিবাদ করতে সবার আগে চলে আসছেন, যার কারন তাদের এই বিষয়ে সীমিত ধারনা, যার বেশিরভাগ তাদের পরিবার আর মন্দিরের পুরোহিত ও পন্ডিতদের কাছ থেকে পাওয়া। আমি আগেই বলে রাখছি, অন্যন্যা ধর্ম থেকে থেকে হিন্দু ধর্ম যুগে যুগে অনেক সংস্কার হয়েছে এবং হচ্ছে আগামীতে হয়তো এখন যেটুকু যেভাবে টিকে আছে তাও আর থাকবে না। কিন্তু কেউ যদি অস্বীকার করতে চাই তাহলে ভুল করবে যে এটা কোন একসময়ের সেই বর্বর আর অমানবিক ধর্ম ছিলো না। এমন কোন ধর্ম পৃথিবীতে নাই যা মানব সভ্যতার জন্য হুমকি স্বরুপ ছিলোনা। হিন্দু ধর্ম ছিলো তাদের মধ্যে অন্যতম। আজকের এই লেখাটি তাদের জন্য যারা অন্যান্য ধর্মের সমালোচনাতে হাতে তালি দেয় আর সতীদাহ প্রথার মতো একটি জঘন্য ও বর্বর প্রথাকে তাদের ভগবানের আদেশ বলতে অস্বীকার করে এবং বলে বেদ বা হিন্দু শাস্ত্রের সাথে এর কোন মিল নেই তাদের জন্য।


আমি কিছু সুত্র দিচ্ছি যেখানে ঋগবেদ, যজুর্বেদ, পুরান, ও অথর্ববেদের মাধ্যমে ভগবান হিন্দুদেরকে সতীদাহের কথা বলেছেন মিলিয়ে দেখবেন। এখানে দেখুন ঋগবেদ বলছে, “Let these women, whose hasbands are worthy and are living, enter the house with ghee (applied) as collyrium (to their eyes). Let these wives first step into the pyre, tearless without any affliction and well aborned.” এটা লেখা আছে "ঋগবেদের ১৮ নং সূক্তের ৭ নং শ্লোক (১০/১৮/০৭)” আরো দেখুন “আমরা মৃতের বধু হবার জন্য জীবিত নারীকে নীত হতে দেখেছি। (অথর্ববেদ (১৮/৩/১,৩)” আরো দেখুন  “পরাশয় সংহিতায় পাই, “মানুষের শরীরে সাড়ে তিন কোটি লোম থাকে, যে নারী মৃত্যুতেও তার স্বামীকে অনুগমন করে, সে স্বামীর সঙ্গে ৩৩ বছরই স্বর্গবাস করে” (৪;২৮)” আরো দেখুন “দক্ষ সংহিতার ৪;১৮ নং শ্লোকে বলা হয়েছে, “A sati who dies on the funeral pyre of her husband enjoys an eternal bliss in haven.” ( যে সতী নারী স্বামীর মৃত্যুর পর অগ্নিতে প্রবেশ করে সে স্বর্গে পূজা পায়)। এই দক্ষ সংহিতার পরবর্তি শ্লোকে (৫;১০৬) বলা হয়েছে, “যে নারী স্বামীর চিতায় আত্মোৎসর্গ করে সে তার পিতৃকুল, স্বামীকুল উভয়কেই পবিত্র করে”। যেমন করে সাপুড়ে সাপকে তার গর্ত থেকে টেনে বের করে, তেমন করে সতী নারী তার স্বামীকে নরক থেকে বের করে আর সুখে থাকে। ব্রহ্ম পুরান বলে, “যদি স্বামীর প্রবাসে মৃত্যু হয়ে থাকে তবে স্ত্রীর কর্তব্য স্বামীর পাদুকা বুকে ধরে অগ্নিপ্রবেশ করা” এছাড়াও হিন্দু ধর্মের আরো অনেক যায়গাতে এই “সতীদাহ” প্রথার কথা বলা আছে যা কখনই তারা অস্বীকার করতে পারবে না।


এবার আসুন যে প্রচলিত কিছু ইতিহাস আর তৈমুর লং ও তার ছেলে শাহ রুখ মির্জাকে আকড়ে ধরে মডারেট হিন্দুরা লাফালাফি করে আর বলে এই প্রথা চালু হয়েছিলো হিন্দু ধর্মে অন্য কিছু কারনে। আমি তাদের সেই গল্পও বলবো কিন্তু তার আগে আরেকটু জানুন সেই সময়ের মানে তৈমুর লং এর কাহীনি তো এখনও টাটকা বলা যায় যা মাত্র ১৪০০ শতাব্দীর ঘটনা ছিলো, তারও হাজার বছর আগেও মানে ৪০০ খৃষ্টাব্দতে কিন্তু এই সতীদাহ প্রথা হিন্দুরা পালন করেছে তার প্রমান আছে। আবার তাও যদি কেউ মানতে নারাজ হন তাহলে আরো হাজার খানেক বছর আগের কিছু ইতিহাসও কিন্তু আমাদের হাতে আছে যা প্রমান করে হিন্দুদের ভগবানের আদেশেই এই সতীদাহ প্রথা প্রচলিত হয়েছে। প্রাচীন ভারতীয় রীতিতে এটি প্রচলিত ছিলো বলে অনেক অনেক প্রমাণ পাওয়া যায়। গুপ্ত সম্রাজ্যের (খৃষ্টাব্দ ৪০০) আগে থেকেই ভারতবর্ষে সতীদাহ প্রথার প্রচলন ছিল। প্রচীন সতীদাহ প্রথার উদাহারণ পাওয়া যায় অন্তর্লিখিত স্মারক পাথরগুলিতে। সব চেয়ে প্রাচীন স্মারক পাথর পাওয়া যায় মধ্য প্রদেশে,  কিন্তু সব থেকে বড় আকারের সংগ্রহ পাওয়া যায় রাজস্থানে। এই স্মারক পাথরগুলিকে সতী স্মারক পাথর বলা হতো যেগুলো পূজা করার বস্তু ছিল [Shakuntala Rao Shastri, Women in the Sacred Laws – The later law books (1960)]। ডাইয়োডরাস সিকুলাস (Diodorus Siculus) নামক গ্রীক ঐতিহাসিকের খ্রিষ্টপূর্ব প্রথম শতকের পাঞ্জাব বিষয়ক লেখায়ও সতীদাহ প্রথার বিবরণ পাওয়া যায় [Doniger, Wendy (2009). The Hindus: An Alternative History. Penguin Books. p. 611]। তাছাড়া, আলেক্সান্ডারের সাথে ভারতে বেড়াতে আসা ক্যাসান্ড্রিয়ার ইতিহাসবিদ এরিস্টোবুলুসও সতীদাহ প্রথার বর্ণনা লিপিবদ্ধ করেন। খৃষ্ট পূর্বাব্দ ৩১৬ সালের দিকে একজন ভারতীয় সেনার মৃত্যুতে তার দুই স্ত্রীই স্বপ্রণোদিত হয়ে সহমরণে যায় [Strabo 15.1.30, 62; Diodorus Siculus 19.33; “Sati Was Started For Preserving Caste” Dr. K. Jamanadas]। এসবই আমাদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে এই বর্বর আর অমানবিক প্রথা হিন্দু ধর্মের একক মালিকানা প্রথা ছিলো যা পরবর্তিতে তাদের পিটিয়ে মানুষ করে শেষমেষ আইন করে ব্রিটিষরা বন্ধ করেছিলো।


এই সতীদাহ নিয়ে হিন্দুদের মহাভারতেও লেখা আছে, যেমন মহাভারতের মৌসল পর্বে আমরা দেখতে পায়, মহাত্মা বসুদেবের মৃত্যুর পর তার চার স্ত্রী দেবকী, রোহীনী, ভদ্রা এবং মদিরা তার চিতায় সহমৃতা হয়েছিলেন। আর যেহেতু ঋগবেদের পরবর্তি চারটি সংস্করন তৈরি হবার পুর্বেও আমরা এর প্রচলন দেখতে পায় তাই এই বিষয়ে আর কোন সন্দেহ থাকতে পারে না আর কোন হিন্দু ধর্মাবলম্বী যদি অস্বীকার করে যে এটি আসলে হিন্দু ধর্মের কোন প্রথা না তাহলে আমাকে বলতেই হচ্ছে সে হিন্দু ধর্ম সম্পর্কে মনে হয় আসলেই কম জানে। এই বিষয়টিকে হিন্দু ধর্মের বাইরে দেবার জন্য যুগে যুগে ধর্মব্যবসায়ীরা অনেক চেষ্টা করেছেন এবং ব্যর্থ হয়েছেন। এটা ছিলো তাদের এমন একটি চেষ্টা যেখানে তারা প্রমান করতে চাইছিলেন যে হিন্দু ধর্ম জঘন্য, বর্বর বা অমানবিক ধর্ম না। এই নিয়ে তারা অনেকেই ইতিহাস বিকৃত করেছেন যুগে যুগে। সেই সাথে বানিয়েছেন নানান গল্প কিছুটা “সহমরনের” মতো। তাই আসুন একটি প্রকৃত ইতিহাস জানি যেটাকে জড়িয়ে হিন্দুরা তাদের ধর্মকে একটু বাচাবার চেষ্টা করে থাকেন বা যে সমস্ত কারনে মডারেট হিন্দুদের মথ্যে তালগোল পাকিয়ে যায়।


মুঘলদের সময় যেমন দেখা যায় এই বর্বর প্রথা বন্ধ করার জন্য তারা বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছিলেন ঠিক তেমনই দেখা যায় খিলজী বংশের দ্বিতীয় সুলতান আলাউদ্দীন খিলজী অত্যাচারে এরকম কিছু ঘটার নমুনা। আর এসবই বর্তমান মডারেট হিন্দুদের মাথা গুলিয়ে দেবার জন্য যথেষ্ট। ১৩০৩ সালে দিল্লীর মসনদ দখল করেন তূর্কি বংশোদ্ভূত খিলজী বংশের দ্বিতীয় সুলতান আলাউদ্দিন খিলজী। ১২৯০ সালে তিনি আপন চাচা এবং শ্বশুর সুলতান জালালুদ্দিন খিলজীকে হত্যা করে এবং রাজন্যদের ঘুষ প্রদান করে হাত করে সিংহাসনে আসীন হন। দক্ষিনের গুজরাট এবং মধ্যপ্রদেশ রাজ্যের সীমানায় রাজস্থানের মেওয়ার রাজ্যের রাজা তখন রাজপূত বংশের রাওয়াল রতন সিং। আর তাঁর রাণী পদ্মাবতী ছিলেন অতুলনীয় সৌন্দর্যের অধিকারিণী রূপে, গুণে অনন্যা এক রাজবধু। তাঁর রূপ গুণের কাহিনী এতটাই বিস্তৃত হয় যে, তা দিল্লীর সুলতান আলাউদ্দিন খিলজীর কানেও পৌঁছে যায়। ব্যক্তি জীবনে অত্যন্ত লম্পট, মদ্যপ আর ব্যভিচারী ছিলেন এই সুলতান। নিজের সহস্র উপপত্নী থাকা স্বত্বেও মন ভরতোনা তার। যেখানে কোন সুন্দরী রমণীর সন্ধান পেতেন, ছলে বলে কলে কৌশলে তাকে অধিকার না করা পর্যন্ত শান্তি পেতেননা তিনি।


এই রানী পদ্মাবতীর আত্মহত্যাকে হিন্দুরা সতীদাহ বলে প্রচার করতে থাকে। সেটা জানতে হলে একটু গভীরে গিয়ে ইতিহাসটা জানতে হবে। এই রাণীর রূপের বর্ণনা শুনে লম্পট খিলজী নিজেকে আর স্থির রাখতে পারেননি। বিশাল সৈন্যবাহিনী নিয়ে যাত্রা শুরু করলেন মেওয়ারের রাজধানী চিতোর অভিমুখে। ৭ম শতকে চিতোরগড়ের কেল্লা এক দূর্ভেদ্য দূর্গ,  সেটা বাইরে থেকে আক্রমন করে ধ্বংস করা যে সহজ নয় বুঝতে পেরে সুলতান আশ্রয় নিলেন এক কৌশলের। দূত মারফত রতন সিং এর কাছে খবর পাঠালেন। তার দূর্গ দখল কিংবা রাজ্যহরনের কোন মতলব নেই তিনি কেবল রানী পদ্মিনী্কে বোনের মত দেখেন, তাকে এক পলক দেখেই চলে যাবেন। অকারণে নিজের সন্তানতূল্য প্রজাদের রক্তক্ষয় এড়াতে অনিচ্ছা সত্ত্বেও রাজী হন রতন সিং। তবে রানী শর্ত দিলেন যে রাণী সরাসরি সুলতানকে দেখা দেবেন না, সুলতান আয়নায় তার প্রতিচ্ছবি দেখবেন।


কিন্তু সেই আয়নার প্রতিচ্ছবি দেখেই আরো উন্মত্ত হয়ে পড়ে লম্পট আলাউদ্দিন খিলজী। শুধু তাই না এর পর সে বিভিন্ন নোংরা কৌশলের আস্রয় নিয়েছিলো কেল্লার বাইরে। ক্রুদ্ধ আলাউদ্দিন এরপর সর্বাত্মক শক্তি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে কেল্লার ওপর। কিন্তু দূর্ভেদ্য কেল্লাটির কিছুই করতে না পেরে কৌশল নেন চারপাশ থেকে অবরোধ করে রাখার। সুলতানের কৌশল কাজ দেয় ভালোমতোই। কিছুদিনের মধ্যেই খাদ্যের অভাবে হাহাকার ওঠে চিতোরে। এই অবস্থায় মহিলারা শত্রুর হাতে বেইজ্জত হবার চাইতে আত্মহনন করা শ্রেয় মনে করে বেছে নেন জওহরের বা সতীদাহের পথ ।দূর্গের ভেতর তৈরী এক বিশাল অগ্নিকুণ্ডে রাজপরিবারের সব মহিলারা রানী পদ্মিনীর নের্তৃত্বে তাদের বিয়ের পোষাক গয়না পরে সেই অগ্নিকুন্ডে ঝাঁপিয়ে আত্মহুতি দিলেন। সতীহয়েই নিলেন চিরবিদায় স্বেচ্ছায়।


আর স্বজনহারা রাজপূত সৈনিকরা বেছে নিলেন সাকাবা সংশপ্তকপ্রথা (যুদ্ধ করতে করতে জীবন দেয়া), রণসাজে সজ্জিত হয়ে তারা দূর্গ থেকে বের হয়ে ঝাঁপিয়ে পড়লেন আকারে তাঁদের প্রায় ১০ গুণ বিশাল সুলতানের বাহিনীর উপরে হর হর মহাদেবশংখনিনাদে। বীরের মতো জীবন দিলেন রণক্ষেত্রে। সুলতান বাহিনী কেল্লার ভেতর প্রবেশের পর তখনো জ্বলন্ত অগ্নিকুন্ডে মহিলাদের পোড়া হাড়গোড় দেখতে পায়। ক্রোধে উন্মত্ত হয়ে কেল্লায় আশ্রয় নেওয়া ৩০ হাজার রাজপূতকে হত্যা করেন সুলতান। এটা ছিলো রানী পদ্মিনীর সেই আত্মহত্যার ইতিহাস। এই জাতীয় আরো কিছু ইতিহাস আছে যেগুলাকে ঢাল হিসেবে ব্যাবহার করে হিন্দু পন্ডিত ও পুরোহিতেরা এই বর্বর প্রথাকে একটু শালীন করার চেষ্টা করেন। কিন্তু ইতিহাস তারা মুছে ফেলতে পারেন না, যা বারবার প্রমান করে হিন্দু ধর্ম অতীতে ছিলো বর্বর ও অমানবিক একটি ধর্ম।

----------- মৃত কালপুরুষ
                ২৯/১০/২০১৭



শনিবার, ২৮ অক্টোবর, ২০১৭

মানবিক হিন্দু ধর্মে ভগবানের আদেশ পালন।


জিহাদী মুসলমান ও ইসলাম ধর্মের আলোচনা সমালোচনার শেষ নেই মনে হচ্ছে। সোস্যাল মিডিয়া, ব্লগ আর বিভিন্ন ওয়য়েবসাইট এর বিতর্ক ও সমালোচনা গুলা দেখলেই যে কেউ বুঝতে পারবে তার আসল চেহারা। আমরা খুব ভালো করেই জানি পৃথিবীতে যুগে যুগে যত রক্তের বন্যা বয়ে গিয়েছে আর যত মানুষ হত্যা করা হয়েছে এই ধর্মের নামে তা আর অন্য কোন কারনে দেখা যায়নি আমার ধর্ম ভালো তোমার ধর্ম খারাপ এমন মনোভাব থেকেই যার সুত্রপাত। ধর্মকে অনেকেই ব্যাবহার করে নিজে্দের ফাইদা লুটে নিতে ব্যাস্তযখন কোথাও ইসলাম ধর্মাবলম্বী জিহাদী বা জঙ্গীরা মানুষ হত্যা করে তাদের রক্ত নিয়ে রাজনীতি করে চলে যাচ্ছে, তার ঠিক পরেই আরেক দল চলে আসছে তাদের ধর্মের গুনগান করতে। সেটা হচ্ছে হিন্দু ধর্ম ও তার অনুসারিরা। অনেকের দাবী হিন্দু ধর্ম বলতে কিছুই নেই সবই আসলে সনাতন ধর্ম। হিন্দু ধর্মের যত খারপ ও ব্লাক সাইড আছে তা যদি খুব ক্রিটিক্যলি একজন হিন্দু ধর্মাবলম্বী যাচাই বাছাই করে আর তা নিরাপেক্ষ ভাবে পর্যালোচনা করে এবং ফলাফল সে সঠিক ভাবে বুঝে তাহলে সেই মুহুর্তে সে হিন্দু তথা এই সনাতন ধর্ম ত্যাগ করবে আমার ধারনা। আসলে বর্তমান সময়ের মডারেট হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা দাবী করে অন্য কিছু। তারা বলে (রাম রাম) আমাদের ধর্মে আসলে কোন হিংস্রতা নেই, আপনি কোথাও মানুষ হত্যা করার কথা আমাদের ধর্মে খুজে পাবেন নাএমনকি দেখা যায় তারা কোথাও কোথাও দাবী করে আমাদের ধর্ম একমাত্র সত্য ও মানবিক। তাহলে তাদের এই সত্য মানবতার ধর্ম নিয়ে আমাদের আলোচনা করতেই হয়। আর সেই চিন্তা থেকেই “আকাশ মালিকের” অনুপ্রেরনা থেকে লেখা।


এখন কোন মডারেট হিন্দু ধর্মানুসারিকে ডেকে যদি বলেন আপনার ধর্মটা আসলে কি এবং কেন ? তাহলে দেখবেন ১০ জনের মধ্যে ৮ জন গুলিয়ে ফেলবে তা বলতে গিয়ে। কারন এদের অধিকাংশ হিন্দু ধর্ম সম্পর্কিত ধারনা এসেছে প্রথমেই নিজের পরিবার, মন্দিরের পন্ডিত-পুরোহিত-ব্রাহ্মন, গীতা, ঋগবেদ, রাবনের লংঙ্কা, রামায়ন, মহাভারত, কিছু হিন্দু সাস্ত্রের বই, আর কিছু টিভি চ্যানেলের মিথ্যাচার থেকে। কিছু দিন আগে মহেঞ্জোদারো সভ্যতা নিয়ে একটি মুভিও খুব চলেছে ইন্ডিয়া ও বাংলাদেশে। মুভিটির নামই ছিলো মহেঞ্জোদারো। এখানে সম্পুর্ন রুপে মহেঞ্জোদারো সভ্যতাকে বিকৃত করা হয়েছে এই মডারেট হিন্দুদের ব্রেন ওয়াশ করার জন্য। এই মহেঞ্জোদারো সভ্যতার কথা কেন বলছি ? কারন এই সভ্যতা থেকেই তৈরি হয়েছে এই হিন্দু ধর্ম। মহেঞ্জোদারো সভ্যতা আসলে প্রায় ৫ হাজার বছর পুরাতন একটি সভ্যতা যার প্রথম উদ্ভব হয় বর্তমান পাকিস্তান এর দক্ষিনাঞ্চলের কিছু এলাকা নিয়ে। এখানেই প্রথম আর্যদের সভ্যতা গড়ে উঠে। আর তখনকার যে সিন্ধু নদীর কথা আমরা জানতে পারি সেটাই ছিলো আর্যদের পবিত্র নদী। হিন্দু ধর্মের পবিত্র নদী গঙ্গার কোন নাম গন্ধ ছিলো না হিন্দু ধর্মের শুরুতে। প্রায় ৫ হাজার বছরের ব্যাবধানে সেই আর্য সভ্যতা চলে গিয়েছে বর্তমান পাকিস্তানের মধ্যে আর তাই হিন্দুরা কালে কালে গঙ্গাকে বানিয়েছে তাদের পবিত্র নদী সেই সাথে হারিয়েছে সিন্ধু নদীর নাম।


হিন্দু ধর্ম আসলে ছিলো এই আর্যদের ধর্ম। এটাকে আমরা আর্যদের বৈদিক ধর্ম বলতে পারি যার প্রধান ও আদি ধর্ম গ্রন্থের নাম “ঋগবেদ”। পরবর্তিতে আরো কিছু তার সাথে যোগ হয়েছে যেমন, ঋগবেদ, সমবেদ, যজুর্বেদ, অথর্ববেদ ইত্যাদি। প্রথমে যখন ঋগবেদ ছিলো হিন্দুদের প্রধান ধর্মগ্রন্থ তখন তাদের মধ্যেও মুসলমানেদের মতো একেশ্বরবাদী একটা ধারনা ছিলো। তাই অনেকের ধারনা হিন্দু ধর্মের শুরুতে বা বেদের সূচনাকালে এটিও একটি একেশ্বরবাদী ধর্ম ছিলো। এরপর যুগে যুগে ব্রহ্মের অবতারগনেদের আগমন ঘটানো হয়েছে যার ফলে ঋগবেদের অনুশীলন করতে গিয়ে এর সাথে স্থান কাল সংযোজন ও বর্ধন করে পরবর্তিতে আরো ৪টি সংস্করন তৈরি করা হয়েছে। বর্তমানে এগুলোই হিন্দু ধর্মের প্রধান অনুসরনীয় কিতাব। এ গুলোতে বিশ্বাস করাকেই হিন্দু ধর্ম বলে যাকে পুর্বে আর্য ধর্ম বলা হত। হিন্ধু ধর্মের এই প্রধান গ্রন্থ গুলির ভেতরে যা আছে তা মানা না মানা সম্পুর্ন ব্যাক্তি স্বাধীন ব্যাপার বলে দাবী করে বর্তমান যুগের আধুনিক ও স্মার্ট হিন্দুরা। তাদের দাবী আপনি মানতেও পারেন আবার নাও মানতে পারেন তবে শুধু বিশ্বাস রাখলেই আপনি হিন্দু হতে পারেন এমন কিছু। আসলে আমি বলবো এসব হচ্ছে ভাওতাবাজি যা বোকা হিন্দুদের ব্রেন ও্য়াশ করতে ব্যবহার করা হয়। যারা বলে শুধু বিশ্বাস করলেই হবে মানতে হবে না বা বেদে বিশ্বাস না রেখেও হিন্দু থাকা যায় বা বেদ কি ঈশ্বরের দেওয়া অবশ্য পালনীয় বানী যে তাকে মানতেই হবে তাদের আমি বলবো তারা হিন্দু ধর্মের দলভারী রাখার জন্য বা দলবড় রাখার জন্য এমনটি প্রচার করছে যাদের আমরা সহজ ভাষায় বলে থাকি ধর্ম ব্যাবসায়ী।


এখন দেখুন এই আধুনিক যুগের হিন্দুদের কথা শুনে আপনার কেন ভালো লাগবে। তাদের দাবী চীনের কুনফুসিয়াস ধর্ম বা দর্শন এর মতো হচ্ছে এই হিন্দু ধর্ম। এটা মানা মানির কোন ধর্ম নয়, কারন এর শাস্ত্রীয় কোন বিধি বিধান নেই, কিছু মানা বাধ্যতা মূলক নয়, মানা না মানা ঐচ্ছিক ব্যাপার, এটি একটি লোকায়ত দর্শন, একটি জাতি বা একটি দেশের লোকাচার, যাপিত জীবন ও সংস্কৃতির ইতিহাস মাত্র। এসব কথা শুনতে বেশ ভালো লাগলেও আসল গন্ডগোল দেখুন কোথায় এখানে বেদ থেকে কয়েকটি উদাহরন দেখুন “হে ঈশ্বর, যারা দোষারোপ করে বেদ ও ঈশ্বরের/তাদের উপর তোমার অভিশাপ বর্ষন করো। (ঋগবেদ ২,২৩,৫)” আরো দেখুন “যে লোক ঈশ্বরের আরাধনা করেনা, এবং যার মনে ঈশ্বরের প্রতি অনুরাগ নেই, তাকে পা দিয়ে মাড়িয়ে হত্যা করতে হবে। (ঋগবেদ ১,৪৮,৮)” অনেক পুর্বে হিন্দু ধর্মের শুরুর দিকে একদল মানুষ ভারতের বিহার এলাকায় বসবাস করতো, যাদের মূলত উপজাতি বলা হয়ে থাকে এবং “কিটক্যাট” (Kitkatas) নামে ডাকা হতো যারা বেদে বিশ্বাস করতো না, তাদের নিয়ে বেদের মাধ্যমে ভগবানের আদেশ দেখুন “গবাদি পশুগুলো কি করছে এই কিটক্যাটদের (Kitkats) এলাকায়, যাদের বৈদিক রীতিতে বিশ্বাস নেয়, যারা সোমার সাথে দুধ মিলিয়ে উৎসর্গ করে না এবং গরুর ঘি প্রদান করে যজ্ঞও করেনা ? ছিনিয়ে আনো তাদের ধন সম্পদ আমাদের কাছে। (ঋগবেদ ৩,৫৩,১৪)” আরো দেখুন “যে ব্যাক্তি ব্রাহ্মনের ক্ষতি করে, ব্রাহ্মনের গরু নিজের কাছে লাগায় তাকে ধ্বংস করে দাও। (অথর্ববেদ ১২,৫,৫২)” আরো দেখুন “তাদেরকে হত্যা কর যারা বেদ ও উপাসনার বিপরীত। (অথর্ববেদ ২০,৯৩,১)” এবং “তাদের যুদ্ধের মাধ্যমে বশ্যতা মানাতে হবে। (যজুর্বেবেদ ৭/৪৪)”।


আপাতত এগুলই যথেষ্ট মডারেট হিন্দুদের জন্য, যারা দাবি করে আমাদের ধর্মে খুনা-খুনি, হত্যা, লুটপাট আর যুদ্ধ নেই। শুধু তাই না এই হিন্দুরা আজ থেকে বহু বছর আগে এমন কিছু বর্বর অমানবিক আচার ও প্রথা পালন করে আসতো যা মানব সভ্যতার জন্য হুমকি স্বরুপ ছিলো। যুগে যুগে বিজ্ঞানের আধুনিকায়ন এর ফলে এর অনেক কিছুই আজ আর হিন্দুদের পালন করতে দেখা যায় না। খুব বেশিদিন আগের কথা নয় মাত্র ২০০ বছর আগের কিছু ইতিহাস পড়লেই আপনি খুব পরিষ্কার ভাবে জানতে পারবেন হিন্দু ধর্মের কিছু অমানবিক আর বর্বর রীতিনীতি ও ধর্মীও আচার অনুষ্ঠানের কথা যা তারা ঈশ্বর বা ভগবান প্রদত্ত নিয়ম হিসাবে পালন করতো। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে “সতীদাহ” প্রথা। এটি হচ্ছে ইতিহাসের একটি বড় নজিরবিহীন মারাত্মক পাশবিক জঘন্য বর্বর রীতি ছিলো এই হিন্দু ধর্মে যা ভগবানের আদেশ বলে তারা পালন করেছে যুগ যুগ ধরে। বর্তমানে আধুনিক হিন্দুদের এই কথা বললে তারা দাবী করে এটা আসলে হত্যা না এটা ছিলো “সহমরন”। আসলে হিন্দুরা নারীকে দোষ দেয়ার লক্ষ্যে এর নাম দিয়েছেন “সহমরন”। এই হিন্দু ব্রাহ্মনদের জ্ঞানের বাহার দেখুন তারা আবার বলে এটা নাকি “ইচ্ছেমরন”। আসলে এদের এই প্রথাকে আমরা এক প্রকার গনহত্যার আওতায় ফেলতে পারি কারন একটু ইতিহাস ঘাটলে দেখতে পারবেন কি পরিমান নারীকে আজ থেকে ২০০ বছর আগে এই হিন্দুরা সতী বানাতে গিয়ে জীবন্ত আগুনে পুড়িয়ে মেরেছে যা ভাবলে আপনার গায়ে কাটা দেবে।


“সতীদাহ” হচ্ছে হিন্দু ধর্মের একটি ভগবান প্রদত্ত নিয়ম কিছুদিন আগে ব্রিটিষ শাসনামলে সরকার এটি একটি অমানবিক হত্যা ও বর্বর অসভ্য নিয়ম বলে আইন করে বন্ধ করেছিলেন। এটা এরকম ছিলো যদি কোনো ব্রাহ্মনবাদীদের কোন হিন্দু স্বামী বা বিবাহিত পুরুষ মারা যায় তাহলে তাদের বিধবা স্ত্রীকে আগুনে পুড়িয়ে মেরে ফেলে “সতী” বানাতে হবে। এই বীভৎস ধর্মীয় রীতিনীতির প্রতি ইঙ্গিত করে Pascal বলেছেন Men never do evil so completely and cheerfully as when they do it from religious conviction. আসলেই কি হিন্দু নারীরা তার স্বামীর মৃত্যুর পরে স্বেচ্ছায় স্বামীর চিতায় উঠে সহমরনে যেতেন ? আমার তো মনে হয় না আর সেটাই হবার কথা। তাহলে নিশ্চয় এটা ছিলো এক একটি হত্যা ও বর্বর ধর্মীয় প্রথা যা বন্ধ করতে ইংরেজ শাসনামলে আইন করে ভগবানের এই আদেশ রুখতে অনেক কাঠ খড় পোড়াতে হয়েছে। “ধর্মশাস্ত্রের ইতিহাস” (আট খন্ড) গ্রন্থের “সতী” বিষয়ক কয়েকটি অধ্যায়ের বেশ কিছু পরিসংখান থেকে আমরা জানতে পারি কিছু গনহত্যা টাইপের এই হিন্দুদের দ্বারা মানবতা বিপর্যয়ের কথা। এই বই এর পরিসংখ্যানে দেখা যায় আজ থেকে মাত্র ২০০ বছর আগে ১৮১৫ সাল থেকে ১৮১৮ সাল পর্যন্ত মাত্র তিন বছরে শুধুমাত্র (তৎকালীন বারাণসী পর্যন্ত বিস্তৃত) বাংলাতেই ভগবানের আদেশ পালন করতে হিন্দু ব্রাহ্মনরা নারীর সতীত্ব রক্ষার গান গেয়ে ২৩৬৬ জন নারীকে আগুনে পুড়িয়ে কাবাব করে সতী বানিয়েছে। এদের মধ্যে কলকাতাতেই সতীদাহের সংখ্যা ছিলো ১৮৪৫ নারী। আর ১৮১৫ সাল থেকে ১৮২৮ সাল পর্যন্ত শুধু বাংলাতেই ভগবানের আদেশে ৮১৩৫ জন নারীকে জীবন্ত আগুনে পুড়িয়ে সতী বানিয়েছিলেন ঠাকুর ও পুরোহিতগন। এটা কে কি বলবেন আপনি ? এটা কি জঘন্য-বর্বর ধর্মীয় রীতি নয় ? এটা কি গনহত্যা থেকে কোন অংশে কম ?


বিভিন্ন ইতিহাস থেকে আমরা যেটা জানতে পারি এবং ঐতিহাসিকগনের মত নিয়ে যেটা প্রমানিত হয়েছে সেটা হচ্ছে কোন হিন্দু নারীর স্বামী মারা গেলে তাকে বিভিন্ন উপায়ে সেই স্বামীর চিতায় আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করার নামই ছিলো “সতীদাহ”। এখন কোন নারীতো আর সেচ্ছায় আগুনে পুড়ে মরতে চাইতো না, তাই ঠাকুর ও পুরোহিতরা স্বামী মারা যাওয়া সেই নারীকে বিভিন্ন উত্তেজক পানীয় পান করাতেন কিংবা খুব শক্তিশালী নেশা জাতীয় দ্রব্য শুকিয়ে অজ্ঞান করে বা অর্ধচেতন অবস্থায় স্বামীর চিতায় তুলে দিতেন। এবিষয়ে ভারতের উন্নতম মানবতাবাদী লেখক ডাঃ সুকুমারী ভট্টাচার্য তার “প্রাচীন ভারতে নারী ও সমাজ” গ্রন্থে উল্লেখ করেন “সদ্য বিধবা নারী নববধুর সাজে, তার শ্রেষ্ঠ পোষাক পরে, সিদুর, কাজল, ফুলমালা, চন্দন, আলতায় সুসজ্জিত হয়ে ধীরে ধীরে সে চিতায় উঠে, তার স্বামীর পা দুটো বুকে আকড়ে ধরে বা মৃতদেহকে বাহুতে আলিঙ্গন করে, এইভাবে যতক্ষন না আগুন জ্বলে সে বিভ্রান্তির সাথে অপেক্ষা করে। যদি শেষ মুহুর্তে বিচলিত হয় এবং নীতিগত, দৃশ্যগতভাবে ছন্দপতন ঘটে তাই শুভাকাঙ্খীরা তাকে উত্তেজক পানীয় পান করান। এমনকি পরে যখন আগুনের লেলিহান শিখা অসহনীয় হয়ে ওঠে, পানীয়র নেশা কেটে যায়, তখন যদি সেই বিধবা বিচলিত হয়ে পড়ে, সতী’র মহিমা ক্ষুন্ন হবার ভয় দেখা দেয়, তখন সেই শুভাকাঙ্ক্ষীরাই তাকে বাশের লাঠি দিয়ে চেপে ধরে, যদি সে চিতা থেকে নেমে আসতে চায়, প্রতিবেশী, পুরোহিত, সমাজকর্তা সকলেই অনুষ্ঠানের সাফল্যের জন্য অতিমাত্রায় সাহায্য করতে চায়। তারা গান করে ঢাক বাজায় এতো উচ্চ স্বরে জয়ধ্বনি দেয় যে, সতী যা কিছু বলতে চায় তা সবই উচ্চনাদে ঢেকে যায়। (প্রাচীন ভারতে নারী ও সমাজ, পৃষ্ঠা ১৪৭)। পরবর্তিতে আরো জানানোর চেষ্টা করবো।

---------- মৃত কালপুরুষ
              ২৭/১০/২০১৭