ব্যাক্তিগতভাবে আমি সকল নারীবাদী নারীদের শ্রদ্ধা করি। আমি প্রকাশ্যেই বলি আমি তসলিমা নাসরিন এর আদর্শ ফলো করি। আর তসলিমা নাসরিন এর আদর্শ যেসব নারী ফলো করে তাদেরকেও আমি সম্মান করি। কারন তারাই পারবে আমাদের সাথে কন্ঠ মিলিয়ে ধর্মান্ধ এই পচা সমাজের পরিবর্তনে এক বড় ভূমিকা রাখতে এবং রাখছেও তারা। তাই পুরুষ হবার পরেও তাদের পুরুষবিদ্বেষি কথাবার্তা আমার কাছে ভালো লাগে যা আমি কখনই তা গায়ে নেইনা। কারন আমি জানি তারা যে কাজটি করছে তা অনেক কঠিন একটি পথে হাটার মতো কাজ করছে। আমি মনে করি নারীবাদ একটি জটিল বিষয়। এটা গভীরভাবে বুঝতে হলে নিজেকে সমাজের ঐ স্তরে নিয়ে যেতে হয়। না হলে চিন্তার সীমাবদ্ধতা ধরা পড়তে পারে। এখন আমি যদি নিজেকে মুক্তমনা দাবী করে নারীবাদীদের কথা নিজের গায়ে নিয়ে নেই তাহলে আমি মুক্তমনাদের কাতারে থাকলাম কিভাবে ? আজকের এই লেখাটি এলিজা আকবর কে নিয়ে সমালোচনা করছেন তাদের উদ্দেশ্য, পাশাপাশি আবার এলিজা আকবর ও সমমনাদের উদ্দেশ্যেও সমান মনে করতে পারেন।
বর্তমানে দেখছি আবার নতুন করে এভ্রিল প্রসঙ্গ দারুন ভাবে ভাইরাল হয়েছে। কেউ তার পক্ষে আছে তো কেউ বিপক্ষে। আমি সবসময় লিঙ্গ নিরাপেক্ষ থেকে এসব বিষয় দেখার চেষ্টা করি। এভ্রিল প্রসঙ্গে আসিফ মহিউদ্দীন এর একটি লেখা আমার কাছে সব থেকে ভালো লেগেছে যা না বলে পারিনা। কিন্তু বর্তমানের অনেক নারীবাদী নারীকে দেখে আমার মনে হয় তারা লেখার জন্য বা আলোচনার জন্য হয়তো কোন টপিক্স খুজে পায় না। কারন তাদের একমুখী চিন্তা ভাবনা আর একই বিষয়ে বারবার আলোচনা কিন্তু তার প্রমান দিচ্ছে। আমি জানি এবং ভয় পায়, না জানি অযাচিত কোন কথা বলে আবার কারো আক্রোশে না পড়ি। নারীবাদীরা নিঃসন্ধেহে যথেষ্ট ভালো কাজ করছে এবং তারা যেভাবে সমাজের প্রথা বিরোধী কাজে অংশ গ্রহন করছে তা আর কাউকে দেখিনা। কিন্তু আমার মনে হয় দ্বিমত বা সমালোচনা থাকা প্রয়োজন। তাই যদি না হয় তবে তারা যে সঠিক পথে আছে বা কোন ভুল হচ্ছে না সেটা কিভাবে বোঝা যাবে। সেটা কিন্তু আপনার লেখার নেগেটিভ কমেন্টস গুলা দেখে বোঝা সম্ভব না। আপনার দৃষ্টিভঙ্গি আমাদের এই পচা সমাজে কতটুকু আলোচিত হচ্ছে বা তা কতটুকু ফলপ্রসূ।
প্রথমেই আমার সমমনা পুরুষদের বলবো নারীবাদীদের পরুষবিদ্বেষী কোন কথা আপনার অনুভুতিতে আঘাত লাগার কথা বলে নিজের দিকে টেনে না নেওয়ার অনুরোধ রইলো। কারন আপনার যদি এসব অনুভুতি থাকে তাহলে ধর্মান্ধদের যে চাপাতি অনুভুতি আমরা দেখি তার সাথে কোন পার্থক্য থাকলো না কিন্তু। আমি মনে করি আমাদের আগে দেখা উচিত তারা কিভাবে আমাদের ঘুনে ধরা সমাজে আঘাত করছে। আর সেই আঘাতটাই জরুরী। সকলেরই উচিত হবে নারীবাদীদের গভীরের তত্বটা উপলব্ধি করার চেষ্টা করা, হোক সেটা পুরুষবিদ্বেষী।
এবার এলিজা আকবর প্রসঙ্গ নিয়ে দু চারটা কথা বলি। নারীতে তার লেখা দেখলাম। আমরা জানি আমাদের সমাজে ধর্ষন একটি বড় সমস্যা আর অবশ্যয় নারীবাদীদের এব্যাপারে আরো সোচ্চার হতে হবে আরো আরো প্রচার করতে হবে এটা বন্ধ করার জন্য। এখন কথা হচ্ছে আরো অনেকেই করেছে এরকম জেনারেলাইজ কিন্তু বারবার এই জেনারেলাইজ করে গড়ে সব পুরুষদের এক দলে ফেলে দেওয়া মনে হয় এক প্রকারের উৎসাহ দেওয়া হয়ে যায় এই সব ধর্ষকদের। অবশ্য এটা আমার ব্যাক্তিগত মতামত। এলিজা আকবর এর লেখা আমি বলবো সহজ ও সাবলিল ভাষা ব্যবহার করে খুব সুন্দর যুক্তি দিয়ে শেষ করা হয়েছে। আমি তার লেখার বিষয়বস্তুর সাথে একমত হতে পারলেও বহুল আলোচিত একটি কথা “সব পরুষই মস্তিষ্কে ধর্ষক” এই কথাটির সাথে তার লেখার মিল খজে পাই নাই।
আমি জানিনা সে এই কথাতে কি বোঝাতে চাইছে কারন সে ভেতরে বলেছে আবার “সব দেশেই, সব পুরুষ'ই সম্ভাব্য ধর্ষণকারী। পৃথিবীতে পৌরাণিক কাল আর নেই, তাই দেবতারা আর ধর্ষণ করে না। তবে আজকাল আমি, তুমি, সে এবং আমরাই প্রকৃত ধর্ষণকারী” এই কথার সাথে কিন্তু সম্ভাব্য কথাটা যোগ করা আছে। তাহলে কিন্তু শিরনামের সাথে প্রথমেই একটি অমিল দেখা যাচ্ছে। যেই কারনে আমি এটা নিয়ে সমালোচনা করছি এর বেশি কিছু না। এই বিষয়টিকে নেগেটিভ ভাবে নিবেন না। আমি জানি এলিজা এখানে নিজেকে ভিক্টিমাইজেশন করছে না। এরকম বিতর্কিত বিষয়টি বা কথাটি তার শিরনামে দিয়ে সে আমাদের দৃষ্টি আকর্ষন করার চেষ্টাও করছে না আবার তার উদ্দেশ্য আলোচনায় থাকা এমন ভাবারও কোন কারন নেই। কারন আমাদের দেশে ধর্ষন কিন্তু বন্ধ হইনি। কিন্তু একটু ভেবে দেখবেন কি, আমাদের দেশের সাধারন জনগন কিন্তু ভেবে বসে থাকবে যে ধর্ষন করা কিন্তু পুরুষের সহজাত বৈশিষ্ঠ তখন আপনার এই লেখার উদ্দেশ্য কোন পর্যায়ে থাকবে।
আমার মনে হয় নারীবাদীরা এগিয়ে যাক আমরা সব সময় তাদের সাথে আছি। তারা বারবার এই সমাজে আঘাত করুক, জাতে আর কিছু না হলেও সেই শ্রেনীর তাদের সেই স্থান জ্বলে পুড়ে যায়। নারীকে শুধুই ধর্ম ছোট করেনি, রাষ্ট্র, সমাজ সমান ভাবেই এর জন্য দায়ী। আমরা সব সময় তাদের পাশে আছি। তবে কথা হচ্ছে তাদেরকেও খেয়াল রাখতে হবে তাদের সমমনাদের সাপোর্ট হারিয়ে কিন্তু এই পরিবর্তন আনা সম্ভব না। তাই খেয়াল রাখতে হবে ধর্মান্ধদের মত কোন বেফাশ কথা যেনো তারা না বলে ফেলে।
১৫/১০/২০১৭