বুধবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

গণতন্ত্রর কাছে আবার হারলো ভারত, তবে এই লজ্জা বাংলাদেশেরও।


খবর :- গত ২৯ জুলাই মুক্তমনা লেখিকা তসলিমা নাসরিন ঔরঙ্গাবাদ গিয়েছিলেন অজন্তা ও ইলোরা দেখার জন্য। কিন্তু এআইএম আইএম-এর দলবলের বিরোধিতায় এয়ারপোর্ট থেকেই ফেরত আসতে বাধ্য হয়েছেন লেখিকা।
প্রতিক্রিয়া :- ফেসবুক বা ব্লগ ও অনলাইন মাধ্যম গুলাতে আমার লেখার বয়স বেশি না। আবার খুব জ্ঞানি মানুষ তাও না, খুব শিক্ষিতও না। তবে আমি মুক্তমনা মানুষের লেখা পড়তে ভালোবাসি। তাদের চিন্তা ভাবনা ও কথা বলার ধরন আমার ভালো। লাগে অনেকের লেখা পড়তে পড়তে দীর্ঘদিন ধরে তার আদর্শ সম্পর্কে যখন ধারনা হয়ে যায়, তখন তাদের আদর্শকেও ভালো লাগে। অনেক অনেক ব্লগার আর মুক্তমনা লেখক লখিকার মধ্যে একজন হচ্ছে তসলিমা নাসরিন, যার আদর্শ যার লেখা, যার চিন্তা ভাবনা, যার যুক্তি, সবই আমি বহু বছর আগে থেকে অনুশীলন করি। সম্ভবত ২০০৭ সালে এই লেখিকার প্রথম বই পড়েছি, আর তখনই বুঝতে পেরেছে তিনি কলম দ্বারা সমাজ সচেতন করা লেখিকা। সত্যি কথা বলতে গেলে আমরা কথায় কথায় বলি, কলম শাণিত তরবারির থেকেও ভয়ংকর, আমার তখন এই কথাটি মনে হয়েছিলো। তার লেখাতে কেমন ধার ছিলো তা বাংলাদেশের শিক্ষিত সমাজ খুব ভালো জানেন, আমার আর বলার প্রয়োজন আছে বলে মনে করি না। একসময় এক শ্রেণীর মানুষের রোষানল এ পড়ে বিভিন্ন হুমকির মুখে এই লেখিকা তার নিজ দেশ বাংলাদেশ ছেড়ে পরবাসে যান। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ ঘুরে তিনি ভারতে গিয়ে আশ্রয় নেন। তার লেখা কখনওই থেমে ছিলো না, নারীবাদ, নারীমর্যাদা, মুক্তআলোচনা, রাজনৈতিক ব্যবস্থা, রাষ্ট্র ব্যবস্থা, ধর্মব্যবস্থা, কুসংস্কার, এরকম আরো অনেক বিষয়েই তিনি লিখে গিয়েছেন। চেষ্টা করেছেন প্রকৃত জ্ঞানের আলো দিয়ে পথ দেখানোর। যে কারনে তিনি এক শ্রেনীর মানুষের কাছে খুবই খারাপ একজন মানুষ, এতই খারাপ যে তাকে কিছু কিছু শহরে অবস্থানই করতে দেওয়া যায় না। যেমন আরো একবার প্রমানিত হলো ভারতের ঔরঙ্গাবাদ এয়ারপোর্টে। আসলে এর পেছনে কি থাকতে পারে তা আমার বুঝে আসে না। তবে এটুকু জানাতে পারছি এ আইএম আইএম একটি সংগঠন যার একজন নেতা ইমতিয়াজ জলিল এর নেত্রিত্বে একই দলের কিছু সদস্যদের সাথে তিনি এই প্রতিরোধ করেন। তাদের দাবী সেদিন বিকেলে ঔরঙ্গাবাদের চিকালথানা বিমানবন্দরে নামেন তসলিমা নাসরিন। তখনই বাইরে বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন এআইএমআইএম সদস্যরা। তসলিমা গো ব্যাক স্লোগান উঠেছিল। ডেপুটি পুলিশ কমিশনার রাহুল শ্রীরামের কথায়,”আইনশৃঙ্খলার অবনতি হওয়ার আশঙ্কায় তাঁকে মুম্বইয়ে ফেরত পাঠানো হয়েছে। লেখিকাকে বলার পর তিনি ফিরে ‌যেতে সম্মত হয়েছেন।”তসলিমা নসরিনের হোটেলের বাইরেও বিক্ষোভ দেখানো হয়েছে। ঔরঙ্গাবাদে অজন্তা ও ইলোরা দেখতে গিয়েছিলেন তসলিমা নাসরিন। মিমের বিধায়ক জলিলের দাবি, তার লেখা মুসলিমদের ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করে। ওনাকে এই শহরে ঢুকতে দেব না।
ছিঃ ধীক্কার জানাই এমন মানুষিকতাকে। এর বেশি বলার ভাষা আমার নেই, থাকলেও বলতে পারবো না, লিখতে পারবো না, কারন আমার দেশে আইন আছে, নিয়ম আছে ধারা আছে, যে ধারার নাম ৫৭ ধারা এই ধারার বাইরে কিছু লিখলে আমাকে আইনের চোখে দোষী হতে হবে। তবে আমার কলকাতার বন্ধু একজন মুক্তমনা লেখক যে প্রিতিক্রিয়া জানিয়েছেন এই ঘটনার তার মন্তব্য টুকু তুলে দিচ্ছি --------------
ঔরঙ্গাবাদে লেখিকা তসলিমা নাসরিনের সাথে অসভ্যতামি করল যারা, তারা ভীষণই অসভ্য। লেখিকার লেখার স্বাধীনতাকে তো দমানোর চেষ্টা করছেই, মানুষের স্বাধীনতাও কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। ওরা সম্মোহিত, ওরা গোঁড়া। কোনো লাভ নেই। তসলিমা নাসরিন দমে যাবে না। তসলিমা নাসরিন আবারও লিখবে। আমরা দমে যাব না। আমরা প্রতিবাদ করবই। আমরা লেখিকা তসলিমা নাসরিনের সাথে আছি, সবসময় থাকব। কোনো অশুভ শক্তি, কোনো ভয় আমাদের দমাতে পারবে না। কথা দিলাম। আমার ক্ষমতা সীমিত, তবু আমার লেখার কলম দিয়েই কলকাতার বুকে প্রতিরোধ গড়ে তুলবো, শুধুমাত্র লেখিকার স্বাধীনতার জন্য। দৃষ্টান্ত গড়ে তুলবো গোটা দেশের সামনে।
এই ছিলো তার প্রতিক্রিয়া, এখন আমার জানতে ইচ্ছে করে আই এম আইএম আই দলের নেতা ইমতিয়াজ জলিল কি মানববাদী লেখিকা তসলিমা নাসরিনের কাছে ক্ষমা চাইবে অসভ্যতামির জন্য? প্রশাসন কি কোনো উপযুক্ত ব্যবস্থা নেবে ইমতিয়াজ জলিলের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য? হ্যাঁ, মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে। লেখিকা তসলিমা নাসরিন শুধু একজন টুরিস্ট হিসেবে ঔরঙ্গাবাদ বেড়াতে গেছিলেন, এবং সেখানে গিয়ে ওই নেতার সংগঠিত বিক্ষোভে ফিরে আসতে বাধ্য হন। এখানে লেখিকার মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে। অস্থায়ী বাসিন্দা হিসেবেই যদি লেখিকাকে আমরা ধরে নিই, তবে কোন অধিকারে একজন মানুষ একজন টুরিস্টের সাথে এমন অভদ্রতামি করতে পারে? ঔরঙ্গাবাদ পুলিশ সহ গোটা দেশের মানুষের সামনে একটাই প্রশ্নচিহ্ন, ভারত দেশে গনতান্ত্রিক অধিকারের মানে কি? গনতন্ত্র মানে কি গুণ্ডামি? মত প্রকাশের স্বাধীনতা কি গনতন্ত্র নয়? লেখিকা তসলিমা নাসরিন অপমানিত, অপমানিত ভারতের গনতন্ত্র, অপমানিত ভারতের প্রশাসন, অপমানিত ভারতের সংবিধান। এর প্রতিকার কি?
আরো অনেক অনেক প্রশ্ন আছে আমার আরো কথা আছে যার কিছুই আজ ৫৭ ধারার কারনে বাংলাদেশের সাইবার জগতে লিখতে পারছি না। লিখতে না পারার জন্য কষ্টও হচ্ছে। যারা এই কাজ করলো তাদের মানুষিকতা কেমন, এরা কি সমাজের জ্ঞানী গুনী মানুষ, এরা কি মানবতাবাদী, এরা কি মানুষের কল্যাণে কাজ করে,। আমি জানি এদের শুধু মুখেই খৈ ফোটে কাজের কাজ কিছু নই। ধর্ম কি? সত্যি কথা বলতে গেলে হিন্দু,মুসলিম,বৌদ্ধ,খ্রিষ্টান খুব কম মানুষই বোঝে। কোন ধর্মে লিখা নেই কেউ নাস্তিক হলে গালিগালাজ করো ,দেশ থেকে তাড়াও।তারা বলে নাস্তিকেরা এই কালে ওই কালে কোন কালেই শান্তি পাবে না। আজগুবি না জেনে না বুঝে কারো কথায় কিছু করা বা বলা অজ্ঞানতার পরিচয় দেওয়া। আমার মনে হয় না যারা লেখিকার বিরুদ্ধে সেখানে স্লোগান দিয়েছিলো তাদের ৯০% তসলিমা নাসরিন সম্পর্কে অজ্ঞ। যদি তার আসল পরিচয় জানতই তবে কারো কথায় এভাবে তাকে অপমান করতো না। কারন এদের দৈহিক ও পাশবিক ক্ষমতা প্রদর্শনের উদ্যোগ ছাড়া আর কিছু করার মুরোদ নেই। বিতর্ক, যুক্তিবাদী আলোচনা এসবের মধ্যে এরা নেই।
আরো অনেক কিছু বলার আছে বলবো না। ফেসবুক ও বিভিন্ন ব্লগ এ দেখেছি অনেক ভালো ভালো প্রতিভাবান সব মুক্তমনা লেখক শুধু কবিতা আর গল্প লিখে চর্চা ধরে রেখেছেন। লেখার কথা জিজ্ঞাসা করলে জানাই মুখে টেপ লাগিয়ে রেখছি।

-----------মৃত কালপুরুষ
             ০২/০৮/২০১৭

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন