খ্রিস্টান ধর্ম লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
খ্রিস্টান ধর্ম লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শনিবার, ২৩ ডিসেম্বর, ২০১৭

যীশু খ্রিস্ট এর জীবনি ও ধর্মীয় মতবাদ কতটুকু সত্য ?


চারিদিকেই ক্রিসমাস এর আমেজ। এশিয়া মহাদেশের দেশগুলিতে যদিও পশ্চিমা ও ইউরোপীয়দের মতো জাঁকজমক পূর্নভাবে ক্রিসমাসের আয়োজন করা হয়না তারপরও কেউই এই উৎসবের বাইরে থাকেনা। বছরের পর বছর ধরে যীশুর জন্মদিন ২৫ ডিসেম্বর, যা ক্রিসমাস হিসেবে উদযাপন করা হয়। দেশ ভেদে ও চার্চ ভেদে খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীরা জানুয়ারী মাসের বিভিন্ন সময়েও এই জন্মদিন পালন করে থাকে। যদিও যীশুর জন্মদিন সম্পর্কে বিশেষ তথ্য জানা যায় না তবে খ্রিস্টান পণ্ডিতদের দাবি তিনি বসন্ত বা শীতের প্রারম্ভে জন্মগ্রহণ করেন। আর সেই মতে ডিসেম্বর থেকে শুরু করে জানুয়ারীর বিভিন্ন সময়ে সেটা পালিত হয়ে থাকে। যদিও এই যীশু চরিত্রটি নিয়ে ইসলাম ধর্ম ও খ্রিস্টান ধর্ম নানা হাস্যকর ও অযৌক্তিক কেচ্ছা কাহীনি প্রচলিত আছে তারপরেও যীশুর জীবনি নিয়ে দর্শন শাস্ত্রে ও ইতিহাসে বেশ কিছু মতবাদ প্রচলিত আছে।

খ্রিস্টান ধর্মের যীশু খ্রিস্ট বা ইসলাম ধর্মের ঈসা নবী সম্পর্কে অনেক মতবাদের মধ্যে একটি মতবাদ হচ্ছে সে একটা সময় এশিয়া মহাদেশে এসেছিলেন। শুধু তাই নয় সে ভারতবর্ষে এসেছিলো এবং একবার নয় সে ভারতবর্ষে দুইবার এসেছিলো বলে ধারনা করা হয়। এমনকি কিছু খ্রিস্টান পন্ডিতের দাবী যীশুর সমাধি ভারতের কাশ্মীরে অবস্থিত। আনুমানিক ১০০ থেকে ২০০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে ফরাসি সাধু “আইরেনিয়াস” দাবী করেছিলেন ৩৩ বছর বয়সে যীশুকে ক্রুশবিদ্ধ করা হলেও সে তখন মারা যায়নি বরং জীবিত ছিলো এবং ৫০ বছরেরও বেশি সময় জীবিত ছিলো। ভালো যে সাধু “আইরেনিয়াস” এই কথা ইসলাম ধর্মের কোরান রচনা হবার ৩০০ বছর আগে বলেছিলেন তা না হলে তার এই কথা কোরানের সাথে সম্পুর্ণ সাংঘর্ষিক হবার কারনে হয়তো ইসলাম ধর্ম অনুসারীরা তাকে হত্যা করতো। কারণ ইসলাম ধর্ম মতে যীশুকে হত্যার আগ মুহুর্তে আল্লাহ জীবিত অবস্থায় তাকে বেহেশতে নিয়ে যান। যা ইসলাম ধর্মের ঐশরিক কিতাব আল-কোরানের সূরা নিসার ১৫৭ ও ১৫৮ নাম্বার আয়াতে পরিষ্কার বলা আছে। এখন এই ফরাসি সাধু যদি এই কথা বলে তাহলে কোরানের বানী মিথ্যা ও ভুল প্রমানীত হয়। এই বিষয়ে ১৯৮১ সালে একজন জার্মান লেখক যার নাম “হলগার ক্রেস্টেন” একটি বই লিখেছিলো “যীসুস লিভড ইন ইন্ডিয়া” নামের বই যেখানে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

এই কথার সত্যতা যাচাই করে অনেক ইতিহাসবিদ ও দার্শনিক একসময় তাদের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন এবং হলগার ক্রিস্টেনের লেখা বইয়ের সাধুবাদ জানিয়েছিলেন। এই সময়ে সমস্ত ইউরোপে এই লেখা কিছুটা সাড়া ফেলেছিলো। এছাড়াও খ্রিস্টান ধর্মের ঐশরিক কিতাব বাইবেল পর্যালোচনা করে পাওয়া যায় যীশুর ১৩ থেকে ৩০ বছর বয়সের কোন কথায় বাইবেলে নেই তাহলে এই ১৭ বছর সে কি করেছিলো এমন প্রশ্নের উত্তরে লেখক “নটোভিচ” ১৯ শতকের শেষ দিকে একটি বই লিখেছিলেন যার নাম “দ্যা আননোন লাইফ অব যীসুস ক্রিস্ট”। লেখক নটোভিচ ছিলেন একজন তথ্যনুসন্ধানী রাশিয়ার সাংবাদিক। তিনি তার এই বইতে যীশুর জীবনের এই ১৭ বছরকে “মিসিং লাইফ অব যীসুস” বলে আখ্যায়িত করেন যেখানে তিনি বিভিন্ন যুক্তি দিয়ে প্রমাণ করেছিলেন এই হারানো ১৭ বছরের মধ্যে যীশু রোমান সাম্রাজ্যের বাইরে দুইবার ভারতবর্ষে এসেছিলেন যার একবার তার ক্রুশবিদ্ধ হবার আগে এবং একবার ক্রুশবিদ্ধ হবার পরে। এটা একটি দীর্ঘ আলোচনা হবার কারণে এখানে আর সে বিষয়ে কিছুই লিখবো না তবে পরবর্তিতে জানানোর চেষ্টা করবো।

ঐতিহাসিকভাবে আমরা যীশুর অস্তিত্বের সন্ধান করলে তার সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি প্রচলিত যে মতবাদ গুলা দেখে থাকি তা হচ্ছে এই যীশুর জীবন শুরু হয়েছিলো বর্তমানে যা উওর ও মধ্য ফিলিস্তিন নামে পরিচিত যায়গাটিতে। উত্তর ও মধ্য ফিলিস্তিন এবং পূর্বে মৃত সাগর (ডেড সী) এবং জর্দান নদী এবং পশ্চিমে পূর্ব ভূমধ্যসাগরের মাঝখানের একটি অঞ্চলেই এই যীশুর জীবন শুরু হয়েছিলো। বিভিন্ন ধর্মীয় ঐশরিক কিতাব মতেও সেই একই কথা পাওয়া যায়। খ্রিস্টের শুরুতে প্রথম শতাব্দীর সময়ে বা প্রথম শতাব্দীর শুরু থেকে এই অঞ্চলটি রোমানদের নিয়ন্ত্রনাধীন একটি অঞ্চল ছিলো। যদিও রোমান সাম্রাজ্যের শাসনাধীন অঞ্চলসমূহ ভূমধ্যসাগরের চারিদিকে ইউরোপ, আফ্রিকা এবং এশিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল তারও আগে থেকেই তাই এই অঞ্চলটিকে রোমানরা প্রাথমিকভাবে একটি উপজাতীয় রাজ্য বা অঞ্চল হিসেবেই বিবেচনা করতো যে কারনেই যীশুর জন্য তার প্রচার করা কথা মানুষকে বিশ্বাস করাতে সুবিধা হয়েছিলো যদিও পরবর্তিতে তাকে এই কারনেই ক্রুশবিদ্ধ করা হয়েছিলো। একটা সময় রোমান সভ্যতায় বিভিন্ন অভ্যন্তরীন সমস্যা দেখা দেয় যার কারনে বিভিন্ন অভিযানের সুত্রপাত করা হয়। এসময় রোমান সভ্যতার অনেক অঞ্চলের মানুষই অভ্যন্তরীন বিদ্রোহের সাথে জড়িয়ে পড়েন এবং সেই সাথে পার্শিয়ানদের আক্রমনও ঘটে। আনুমানিক খ্রিস্টপূর্বাব্দ ৩৭ সালের দিকে এই অঞ্চলটিতে অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয় যখন রোমান সাম্রাজ্যের রাজা ছিলেন “হেরোদ দ্যা গ্রেট”। তার সময় থেকে “জুলিয়াস সিজারের” সময় পর্যন্ত সময়ে এই অঞ্চলটি ধীরে ধীরে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা লাভ করে ও সমৃদ্ধি লাভ করে।

রাজা “হেরোদ” ছিলেন ইহুদী ধর্মের অনুসারী তবে অনেকের দাবী তিনি সাম্রাজ্যের স্বার্থে এই ধর্মের বানী মানুষের মাঝে প্রচার করতেন। যীশুকে খ্রিস্টান ধর্মের অনুসারীরা “যীশু খ্রিস্ট” নামেই জানেন তবে সব থেকে মজার ব্যাপার হচ্ছে “খ্রিস্ট” কিন্তু যীশুর আসল নাম না। তখনকার সময়ে সন্তানের নামের সাথে তার জন্মদাতা পিতা বা পালক পিতার নাম যোগ করে দেওয়ার নিয়ম চালু ছিলো। যেহেতু যীশুর কোন বায়োলজিক্যাল পিতা ছিলো না বা পৃথিবীর কোন মানুষ তার পিতা না তাই দেবতাদের নামের একটি অংশ যোগ করে তার নামের সাথে “খ্রিস্ট” শব্দটি যোগ করা হয়েছে। এই বিষয়ে খ্রিস্টান ধর্মের ঐশরিক কিতাব বাইবেলের (লূক-Luck ৪,২২)  এ বলা আছে “সকলেই তাঁর খুব প্রশংসা করল, তাঁর মুখে অপূর্ব সব কথা শুনে তারা আশ্চর্য হয়ে গেল। তারা বলল, ‘এ কি য়োষেফের ছেলে নয়?” এছাড়াও এই বিষয়ে আরো উল্লেখ আছে বাইবেলের (যোহন-John ১,৪৫ ৬,৪২) তারপরে (বিধান-Act ১০,৩৮) সহ আরও অনেক যায়গাতে। যীশু খিস্ট নামের খ্রিস্ট শব্দটি এসেছে গ্রিক শব্দ “ক্রিশোসের” থেকে যা গ্রিকরা তাদের যেকোন শিরোনামে ব্যবহার করে থাকে। এই খ্রিস্ট শব্দের বাংলা অর্থের কিছুটা মিল হচ্ছে “অভিষিক্ত এক” বা “নির্বাচন করা হয়েছে” এমন কিছু যা ইসলাম ধর্মেও প্রচলিত আছে এই যীশুর নামে যেমন “ঈশা মসীহ”। এই মশীহ মানে হচ্ছে ইসলামে আল্লাহ তাকে নির্বাচন করেছেন যা এই খ্রিস্ট শব্দেরই রুপান্তর বলা চলে।

---------- মৃত কালপুরুষ
              ২৩/১২/২০১৭  


শুক্রবার, ২২ ডিসেম্বর, ২০১৭

ইসলাম ধর্মের ঈসা নবী বা খ্রিস্টান ধর্মের যীশুর কিছু ক্ষমতা।


ঐতিহাসিকভাবে খ্রিস্টান ও ইসলাম ধর্মের ঐশরিক কিতাব বলে পরিচিত গ্রন্থ গুলির বাইরে যীশু বা ঈসা নামের একজন ব্যাক্তির সন্ধান পাওয়া যায়। খ্রিস্টীয় ঐতিহ্যের বাইরে যীশুর অস্তিত্বের সবচেয়ে প্রাচীন রেফারেন্স হচ্ছে ইহুদিদের পুরাতাত্ত্বিক ঐতিহ্য গুলি। “জোসেফাস” নামের একজন জিউস স্কোলারের লেখাতে উল্লেখ পাওয়া যায় এই যীশু চরিত্রটির যা (খ্রিস্টপূর্ব 37 খ্রিস্টাব্দের) বলে ধারনা করা হয়। সেই হিসাবে খ্রিস্টান ধর্মের বাইবেল আর ইসলাম ধর্মের কোরান মতে এই যীশুর জন্ম খৃস্টপুর্বাব্দ ৫-৭ এর সাথে মিল পাওয়া যায়। ইসলাম ধর্মে এই ব্যাক্তির নামে যা রচিত আছে সেটা থেকেও খ্রিস্টান ধর্মের অনুসারিদের মধ্যে আরো বেশি অলৌকিক ও রুপকথার ন্যায় গল্প পাওয়া যায়। যেমন, এই ব্যাক্তি মৃত মানুষ জীবিত করতে পারতো, অন্ধকে দৃষ্টি শক্তি দিতে পারতো, বধির এর শোনার ক্ষমতা দিতে পারতো এবং পঙ্গু ব্যাক্তি যে হাটাচলা করতে পারে না তাকে হাটাচলার ক্ষমতা দিতে পারতো বলে বিশ্বাস করে থাকে। যেহেতু সেই সময় এই যীশু খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে একজন ঈশ্বরের পুত্র হিসেবে বিবেচিত হতো এবং যীশুর অনেক সম্মান ছিলো তাই ইসলাম ধর্মের আবির্ভাবের পরে তাকে ইসলাম ধর্মের সাথে জুড়ে দেওয়া হয়েছে বলে অনেকেই মনে করেন।

ইসলাম ধর্মে ঈশ্বরপুত্র যীশুকে ভালো সম্মান দেওয়া হয়েছে তবে খ্রিস্টান ধর্মে তাকে ঈশ্বরের পুত্র মানা হলেও ইসলাম ধর্মে তা মানা হয় না। তবে একজন নবী হিসেবে ইসলাম ধর্ম অনুসারিরা তাকে স্বীকৃতি দিয়ে থাকেন। ইসলাম ধর্মের পবিত্র গ্রন্থ আল-কোরান মতে ঈসা নবী বা যীশু এখনও জীবিত আছে স্বর্গে বা বেহেশত নামক স্থানে। সে একটা সময় আবার এই পৃথিবীতে আসবে এবং সমস্ত পৃথিবী সে রাজত্ব করবে। ইসলাম ধর্মে ঈসাকে যীশু নামে ডাকা হয়না তার নাম “ঈসা মশীহ” বা “ঈসা ইবনে মারিয়াম” যিনি খ্রিস্টান ধর্মের পবিত্র গ্রন্থ বাইবেলে যীশু নামেই পরিচিত। ঈসা ইবনে মারিয়াম এর অর্থ “মারিয়ামের পুত্র ঈসা”। ইসলাম ধর্ম অনুযায়ী তিনিও ইসলাম ধর্মের প্রতিষ্ঠাতা নবী মুহাম্মদ এর মতো একজন আল্লাহর দূত বা পয়গম্বর। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে তিনি নবী মুহাম্মদ এর জন্মের প্রায় ৫০০ বছর আগে জন্ম নিয়েছিলো এবং ইসলাম ধর্ম প্রচার না করে সে খ্রিস্টান ধর্ম প্রচার করেছিলো এবং বর্তমানে এই একই চরিত্র দুই নামে দুইটি ধর্মের প্রবর্তক হিসেবে পরিচিত থাকায় অনেকের মাঝেই বিভ্রান্তির কারণ হয়ে যায় আসলে কে এই যীশু আর কে এই ঈসা। আবার এই চরিত্রটি নিয়ে দুইটি ধর্মে দুইটি গল্প প্রচলিত আছে যেমন খ্রিস্টান ধর্মের অনুসারিরা বিশ্বাস করেন এই যীশু বা ঈসাকে ক্রুশে বিদ্ধ করে হত্যা করা হয়েছিলো আর ইসলাম ধর্মের অনুসারিরা বিশ্বাস করেন যাকে ক্রুশে বিদ্ধ করা হয়েছিলো সে ঈসা বা যীশু কেউই ছিলো না।

ইসলাম ধর্ম মতে বলা হয় যে, ক্রুশবিদ্ধ করার জন্য যখন বাহক যীশু বা ঈসা নবীকে নিতে তার ঘরে প্রবেশ করে তখনই আল্লাহ তাকে উপরে তুলে নেন এবং বাহকের চেহারাকে ঈসা-এর চেহারার অনুরুপ করে দেন। ফলে ঈসা মনে করে ঐ বাহককে ক্রুশবিদ্ধ করা হয়| এবং ইসলাম ধর্ম মতে ঈসা নবী বর্তমানে জীবিত অবস্থায় জান্নাতে অবস্থান করছেন| ইসলামিক ধারনা অনুযায়ী কেয়ামতের পূর্বে মসীহ দাজ্জালের আবির্ভাবের পর ঈসা নবী মুহাম্মদ (সঃ) এর একজন উম্মত বা অনুসারী হিসেবে পুনরায় পৃথিবীতে অবতরণ করবেন এবং দাজ্জালকে হত্যা করবেন| এরপর সমস্ত পৃথিবীর শাসনভার গ্রহণ করবেন এবং পৃথিবীতে শান্তি ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা করবেন| সবশেষে তিনি একজন রাজা হিসেবে মৃত্যূবরণ করবেন এবং মুহাম্মদ-এর কবরের পাশে তাকে সমাহিত করা হবে। যে কারণে মদীনায় নবী মুহাম্মদ (সঃ) এর কবরের পাশে তাকে কবর দেয়ার জায়গা প্রস্তুত করে রাখা হয়েছিল যা এখনও বহাল আছে| ইসলামে যীশুকে মশিহ বলেও মনে করা হয়। মশিহ অর্থ আল্লাহ তাকে নির্বাচন করেছে যে শেষ কালে তিনি দুনিয়ায় মানে পৃথিবীতে ফিরে আসবেন এবং পৃথিবীতে তিনি সর্ব শান্তি আনবেন ও সব ধর্ম একান্ত করে ইসলামের মধ্যে আনবে।


এই সম্পর্কে ইসলাম ধর্মের আল-কোরানে বলা আছে (সূরা নিসার ১৫৭ ও ১৫৮ নাম্বার আয়াতে) যেমন, وَقَوْلِهِمْ إِنَّا قَتَلْنَا الْمَسِيحَ عِيسَى ابْنَ مَرْيَمَ رَسُولَ اللّهِ وَمَا قَتَلُوهُ وَمَا صَلَبُوهُ وَلَـكِن شُبِّهَ لَهُمْ وَإِنَّ الَّذِينَ اخْتَلَفُواْ فِيهِ لَفِي شَكٍّ مِّنْهُ مَا لَهُم بِهِ مِنْ عِلْمٍ إِلاَّ اتِّبَاعَ الظَّنِّ وَمَا قَتَلُوهُ يَقِينًا” যার অর্থঃ “আর তাদের একথা বলার কারণে যে, আমরা মরিয়ম পুত্র ঈসা মসীহকে হত্যা করেছি যিনি ছিলেন আল্লাহর রসূল অথচ তারা না তাঁকে হত্যা করেছে, আর না শুলীতে চড়িয়েছে, বরং তারা এরূপ ধাঁধায় পতিত হয়েছিল বস্তুতঃ তারা ব্যাপারে নানা রকম কথা বলে, তারা এক্ষেত্রে সন্দেহের মাঝে পড়ে আছে, শুধুমাত্র অনুমান করা ছাড়া তারা বিষয়ে কোন খবরই রাখে না আর নিশ্চয়ই তাঁকে তারা হত্যা করেনি” (সূরা নিসা, আয়াত-১৫৭) এর পর “بَل رَّفَعَهُ اللّهُ إِلَيْهِ وَكَانَ اللّهُ عَزِيزًا حَكِيمًا” অর্থঃ “বরং তাঁকে উঠিয়ে নিয়েছেন আল্লাহ তাআলা নিজের কাছে আর আল্লাহ হচ্ছেন মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়” (সূরা নিসা, আয়াত-১৫৮)


এবার দেখুন খ্রিস্টান ধর্ম মতে এই একই ব্যাক্তি বা চরিত্রটির সম্মন্ধে আমরা কি জানতে পারি। খ্রিস্টান ধর্মের বেশ কিছু শাখার মধ্যে তাদের অধিকাংশ শাখার খ্রিস্টান ধর্ম অনুসারীরা মনে করে এবং বিশ্বাস করে এই যীশু বা ঈসা হচ্ছে ঈশ্বরের পুত্র এবং সেও সয়ং একজন ঈশ্বর। এই খ্রিস্টান ধর্ম অনুসারিরা ইসলাম ধর্ম সৃষ্টি হবার আগে থেকেই বিশ্বাস করতো এই যীশু বা ঈসা মশীহের পুনরুথানকে। তারা এটাও বিশ্বাস করে এই যীশু যখন আবার এই পৃথিবীতে আসবেন তখন মানব জাতির জন্য হবে অত্যান্ত গুরুত্বপুর্ণ একটি বিষয়। তারা আরো বিশ্বাস করেন এই যীশুর বলিদানের ভেতরে অনন্ত জীবনের প্রতিশ্রুতি রয়েছে। খৃস্টান ধর্ম মতে এই যীশু বা ঈসার গর্ভধারিনী মা যিনি ছিলেন মরিয়ম তিনি কোন প্রকারের যৌন ক্রিয়া ছাড়াই যীশু বা ঈসার জন্ম দিয়েছিলেন। এই ধর্মের অনুসারিদের মতে মরিয়মের গর্ভাবস্থার জন্য পবিত্র আত্মা (খ্রিস্টীয় পবিত্র ত্রিত্বের তিনজনের একজন) দায়ী ছিলেন যে কারনেই তাকে ঈশ্বরের পুত্র মনে করা হয় এবং তাকেও তারা ঈশ্বরের কাছাকাছি মনে করে থাকেন। ঈসা বা যীশুর মাতা মরিয়ম বা মেরীর কুমারী অবস্থা খ্রিস্টান ধর্মের অনুসারিরা বিভিন্ন ধর্মীয় ঐতিহ্য ও অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পালন করে থাকে।


খ্রিস্টান ধর্মের পবিত্র গ্রন্থ বাইবেল এর ওল্ড টেস্টামেন্ট বা পুরাতন সংস্করন অনুযায়ী আমরা এই ঈসা বা যীশুর অনেক ঐশরিক ক্ষমতা দেখতে পায় যা একেবারেই অলৌকিক বা ঐশরিক যার কোন ভালো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়না এটা তখনকার সময়ে কিভাবে সম্ভব হয়েছিলো। তবে খ্রিস্টান ধর্ম অনুসারিরা এই সব অলৌকিক ঘটনাগুলিকে অন্যান্য ধর্মের অনুসারিদের মতোই গভীর ভাবে বিশ্বাস করে থাকে। যেমন বাইবেলের “লূক” (Luck) এর (৭,১৮-২৩) এ যীশু সম্পর্কে বলা আছে অর্থঃ “(১৮) বাপ্তিস্মদাতা য়োহনের অনুগামীরা এই সব ঘটনার কথা য়োহনকে জানাল তখন য়োহন তাঁর দুজন অনুগামীকে ডেকে।(১৯) প্রভুর কাছে জিজ্ঞেস করে পাঠালেন য়ে, ‘য়াঁর আগমণের কথা আছে আপনিই কি সেই, না আমরা অন্য কারোর জন্য অপেক্ষা করব?’ (২০) সেই লোকেরা যীশুর কাছে এসে বলল, ‘বাপ্তিস্মদাতা য়োহন আপনার কাছে আমাদের জিজ্ঞেস করতে পাঠিয়েছেনয়াঁর আসবার কথা আপনিই কি সেই ব্যক্তি, না আমরা অন্য কারো অপেক্ষায় থাকব?” (২১) সেই সময় যীশু অনেক লোককে বিভিন্ন রোগ ব্যাধি থেকে সুস্থ করছিলেন, অশুচি আত্মায় পাওযা লোকদের ভাল করছিলেন, আর অনেক অন্ধ লোককে দৃষ্টি শক্তি দান করছিলেন (২২) তখন তিনি তাদের প্রশ্নের জবাবে বললেন, ‘তোমরা যা দেখলে শুনলে তা গিয়ে য়োহনকে বল অন্ধেরা দেখতে পাচ্ছে, খোঁড়ারা হাঁটছে, কুষ্ঠ রোগীরা সুস্থ হচ্ছে, বধিরেরা শুনছে, মরা মানুষ বেঁচে উঠছে;আর দরিদ্ররা সুসমাচার শুনতে পাচ্ছে (২৩) ধন্য সেই লোক, য়ে আমাকে গ্রহণ করার জন্য মনে কোন দ্বিধা বোধ করে না। এর মানে এরকম দাঁড়ায় যীশু অনেক ক্ষমতার অধিকারী একজন মানুষ ছিলো যে অন্ধ, বোবা, বধির, এবং পঙ্গু মানুষদের সুস্থ করে দিতে পারতো।


এই যীশু বা ঈসার আরো কিছু অলৌকিক বা অবিশ্বাস ঘটনার উল্লেখ পাওয়া যায় এই খ্রিস্টান ধর্মে। তার মধ্যে আবারও বাইবেলের ওল্ড টেস্টামেন্টের “ঈসা” (Isha) (২৯,১৮-১৯) এ এই যীশু বা ইসা নবী সম্পর্কে বলা আছে অর্থঃ (১৮) বধির শুনতে পাবে, বই থেকে পড়ে শোনানো কথাগুলি, অন্ধ কুযাশা অন্ধকারের মধ্যেও দেখতে পাবে (১৯) প্রভু গরীব মানুষদের সুখী করবেন ইস্রায়েলে গরীব লোকরা ইস্রায়েলের সেই পবিত্র এক জনের নামে আনন্দ করবে” এবং “ঈসা” (Isha) (৩৫,৫-৬) এ বলা আছে “(৫) তখন অন্ধ মানুষরা চোখে দেখতে পারবে তাদের চোখ খুলে যাবে তখন বধিররা শুনতে পাবে তাদের কান খুলে যাবে (৬) পঙ্গু মানুষরা হরিণের মতো নেচে উঠবে এবং যারা এখন কথা বলতে পারে না তারা গেযে উঠবে সুখের সঙ্গীত বসন্তের জল যখন মরুভূমিতে প্রবাহিত হবে তখনই এসব ঘটবে বসন্ত নেমে আসবে শুষ্ক জমিতে” আরো দেখুন বাইবেলের “ঈসা” (Isha) (৬১,১) এখানেও বলা আছে, যীশু বলছেন “(১) প্রভুর দাস বলেন, “প্রভু, আমার সদাপ্রভু, তাঁর আত্মা আমার মধ্যে দিয়েছেনগরীবদের সঙ্গে কথা বলবার জন্য, তাদের ভগ্নহৃদয়ের ক্ষতে বন্ধনী জড়াবার জন্য এবং দুঃখীকে আরাম দেবার জন্য প্রভু আমাকে মনোনীত করেছেন ঈশ্বর আমাকে পাঠিয়েছেন নির্য়াতিতদের বন্দীদের জানাতে যে, তারা মুক্ত হচ্ছে” এই কথার মাধ্যমে যীশু তৎকালীন সাধারণ মানুষদের বোঝাবার চেষ্টা করেছিলেন সে ঈশ্বরের প্রেরিত একজন দূত। শুধু এসবই নই আরো অনেক কিছুই বলা আছে খ্রিস্টান ধর্মের পবিত্র গ্রন্থ বাইবেলে যীশু বা ইসলাম ধর্মের নবী ঈসা সম্পর্কে যার সবই আজ পর্যন্ত এই ধর্মের অনুসারিরা খুব ভক্তির সাথে বিশ্বাস করে থাকে।

---------- মৃত কালপুরুষ
               ২২/১২/২০১৭