আবার প্যারা সাজিদ প্রসঙ্গে ফিরে আসলাম, আশা করছি এই লেখাটা দিয়েই শেষ হবে এই টপিক্স। আগের লেখাটি যারা পড়েছেন তাদের নিশ্চয় আর নতুন করে কিছুই বলার নেই। তাই আমি সরাসরি চলে যেতে যাচ্ছি আরিফ আজাদের প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদের ২য় চ্যাপ্টারে । যেটার বিষয়বস্তু ছিলো “শূন্যস্থান থেকে স্রষ্টার দুরত্ব” এখানে লেখক আরিফ আজাদ তার বন্ধু সাজিদের সাথে বিপ্লব দা নামের এক বড় ভাইয়ের সাথে একটি আলাপ চারিতা তুলে নিয়ে এসেছে এবং কোয়ান্টাম ফ্ল্যাকচুয়েশানের যে সুত্র আছে তা ভুল প্রমান করতে চেয়েছে।তার এই যায়গার ব্যর্থ প্রমান করার চেষ্টা ছিলো কোয়ান্টাম ফ্ল্যাকচুয়েশনের মাধ্যমে সৌরজগত এ যে বিস্ফোরণ ঘটেছিলো যাকে আমরা আধুনিক বিজ্ঞানের যুগে বিগ ব্যাঙ বলে জানি সেটাতে সে কারো হাত আছে বলে প্রমান করতে চেয়েছে।আমার খুব বলতে ইচ্ছা করছে, “আরে ভাই আরিফ আজাদ, এটা কি কোন মার্বেল খেলা নাকি যে কেউ হাতে করে মার্বেল নিয়ে খেলা করছিলো তার মধ্যে থেকে একটি নিচে পড়ে গিয়ে ভেঙ্গে গেলো আর তা থেকে তৈরি হয়ে গেলো আজকের এই সৌরজগত যার ৯৯.৯৯% আজ পর্যন্ত পৃথিবীর মানুষের অজানা”। আমি মনে করি লেখক আরিফ আজাদ এখানে তার নিজের বিশ্বাস প্রমানিত করার একটা ভালো চেষ্টা করেছে কিন্তু এই বিষয়ে তার লেখার আগে উচিত ছিলো কোয়ান্টাম ফ্ল্যাকচুয়েশান নিয়ে একটি ও বিগ ব্যাঙ্ নিয়ে পার্ট পার্ট করে যে কয়টি না লিখলেই না সেই কয়টি বই লেখার পরে এই আলোচনা করা। কারন ভুলভাল যুক্তি দিয়ে আর কোয়ান্টাম ফ্ল্যাকচুয়েশনের ভুল সুত্র উপস্থাপন করে নিজে নিজে বানিয়ে বানিয়ে প্রশ্ন করে এর উত্তর দিয়ে লেখক কাউকে ভূগোল বুঝাতে পারে না যদি তা সঠিক না হয়।
চ্যাপ্টার ৩ এখানে “স্রষ্টা খারাপ কাজের দায় কেন নেন না ?” এই বলে আরিফ আজাদ নিজেই একটি প্রশ্ন করে নিজেই তার বন্ধু সাজিদকে দিয়ে সাজিদের ইউনিভার্সিটির একজন শিক্ষকের সাথে নানান তর্ক বিতর্ক করে সাজিদকে জয়ী করেছেন। কিভাবে, সে একটি গল্প বানিয়েছেন বারমুডা ট্রাই-এঙ্গেলে ডুবে যাওয়া একটি জাহাজের। এখানে নানান ছলে বলে কৌশলে তিনি বোঝাবার চেষ্টা করেছেন যে একটি লোক সবাইকে বচালো কিন্তু একজন যে তার শত্র ছিলো তাকে সে বাচালো না বরং আসার সময় তার পেটে একটা লাথি মেরে আসলো এতে কি করে পানিতে উদ্ধার কাজ চালানোর জন্য যে টেকনোলজি ব্যাবহার করা হয়েছিলো তার উদ্ভাবকের দোষ থাকতে পারে। আচ্ছা, এখন কথা হচ্ছে এই বইয়ের প্রশংসা করতে গিয়ে অনেকেই বলেছে যে এই আরিফ আজাদ নাকি পবিত্র কোরান এর রেফারেন্স দিয়ে সকল যুক্তি দিয়েছেন যার দ্বারা বিজ্ঞান মিথ্যা প্রমানিত হয়েছে। তাহলে এই চ্যাপ্টারে প্রশ্ন ছিলো “স্রষ্টা খারাপ কাজের দায় কেন নেন না ?” আর কোরান বলছে যে, “মানুষ যা কিছু করেছে, করছে ও করবে, সব আল্লাহ নির্ধারন করে দিয়েছে ও স্বাধীন ইচ্ছা বলে কিছু নেই” আমাকে কেউ ভেঙ্গে বলুন এর মানে কি ? আরিফ আজাদ এই চ্যাপ্টারে যে পাতা পাতা লেখা দিয়ে বই বড় বানিয়েছেন তার মানে কি।
আসুন চ্যাপ্টার ৪ এ, এখানেও আরিফ আজাদ নিজেই একটি প্রশ্ন করেছেন তা হলো “তাকদির বনাম স্বাধীন ইচ্ছা-স্রষ্টা কি এখানে বিতর্কিত ?” এখানেও সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষককে আরিফ আজাদ তার বন্ধু সাজিদকে দিয়ে নানান প্যাচওায়ালা কথা বার্তা দিয়ে হারিয়ে দিলেন সাথে শেষের দিকে এটাও বললেন যে এই সাজিদকে বাংলাদেশের হুমায়ন আহমেদের হিমু চরিত্রটির মতো করে সবাই সাজিদ হতে চাইবেন।তো পাঠক এখন আবার আমরা ফিরে যাচ্ছি সেই কোরান এর ব্যখ্যা নিয়ে তার করা যুক্তিটিতে। লেখক আরিফ আজাদ এর প্রশ্ন ছিলো “তাকদির বনাম স্বাধীন ইচ্ছা-স্রষ্টা কি এখানে বিতর্কিত ?” সেই কথার ভুল ব্যাখ্যা দিয়েছে সে কোরানের সূরা বাকারা দিয়ে । এখন আসুন জেনে নেই সূরা বাকারা কি বলছে এই বিষয়ে, আমরা জানি “শয়তান মানুষকে কুপথে নেয়, কুমন্ত্রনা দেয়, বেখেয়াল করে, ইমান নষ্ট করে, খারাপ মন্ত্রনা দেয়। সত্যকে অস্বীকার করে। এখন প্রশ্ন হল - সুরা বাকারা যার বাংলা ( বকনা বাছুর বা মতান্তরে গাভী)
সূরা আল বাকারা (البقرة), আয়াত: ৩৪
وَإِذْ قُلْنَا لِلْمَلَٰٓئِكَةِ ٱسْجُدُوا۟ لِءَادَمَ فَسَجَدُوٓا۟ إِلَّآ إِبْلِيسَ أَبَىٰ وَٱسْتَكْبَرَ وَكَانَ مِنَ ٱلْكَٰفِرِينَ
উচ্চারণঃ ওয়া ইযকুলনা- লিলমালাইকাতিছজু দূলিআ-দামা ফাছাজাদূ ইল্লা ইবলীছা আবা-ওয়াছতাকবারা ওয়া কা-না মিনাল কা-ফিরীন।
অর্থঃ এবং যখন আমি হযরত আদম (আঃ)-কে সেজদা করার জন্য ফেরেশতাগণকে নির্দেশ দিলাম, তখনই ইবলীস ব্যতীত সবাই সিজদা করলো। সে (নির্দেশ) পালন করতে অস্বীকার করল এবং অহংকার প্রদর্শন করল। ফলে সে কাফেরদের অন্তর্ভূক্ত হয়ে গেল।
সূরা আল বাকারা (البقرة), আয়াত: ৩৪
وَإِذْ قُلْنَا لِلْمَلَٰٓئِكَةِ ٱسْجُدُوا۟ لِءَادَمَ فَسَجَدُوٓا۟ إِلَّآ إِبْلِيسَ أَبَىٰ وَٱسْتَكْبَرَ وَكَانَ مِنَ ٱلْكَٰفِرِينَ
উচ্চারণঃ ওয়া ইযকুলনা- লিলমালাইকাতিছজু দূলিআ-দামা ফাছাজাদূ ইল্লা ইবলীছা আবা-ওয়াছতাকবারা ওয়া কা-না মিনাল কা-ফিরীন।
অর্থঃ এবং যখন আমি হযরত আদম (আঃ)-কে সেজদা করার জন্য ফেরেশতাগণকে নির্দেশ দিলাম, তখনই ইবলীস ব্যতীত সবাই সিজদা করলো। সে (নির্দেশ) পালন করতে অস্বীকার করল এবং অহংকার প্রদর্শন করল। ফলে সে কাফেরদের অন্তর্ভূক্ত হয়ে গেল।
প্রশ্ন হল, এই যে শয়তান অস্বিকৃতি জানাল সেজদা দিতে।তাকে কে প্ররোচনা দিল ? আল্লার আদেশ অমান্য করতে তাকে কে বলেছে সেটা খুজে দেখলেই মনে হয় পাওয়া যাবে লেখক আরিফ আজাদের দ্বারা তৈরি করা করা গাল গল্পের সকল উত্তর।
এবার ৫ম চ্যাপ্টার, যেখানে আরিফ আজাদ এর বন্ধু সাজিদের কাছে মধ্য বয়স্ক এক ভদ্রলোক যার নাম সজীব, সে একটি প্রশ্ন নিয়ে আসে, প্রশ্নটি ছিলো “আল্লাহ কি এমন কিছু বানাতে পারবে, যেটা আল্লাহ তুলতে পারবে না ?” লেখক আরিফ আজাদ এখানেও ভংচং মার্কা কথা দিয়ে নিজে কু-যুক্তির পাশাপাশি সেই আবার বলছেন এগুলো কু-যুক্তি। এখানে আমার কথা হচ্ছে তিনি কেন কোন যুক্তিযুক্ত প্রশ্ন উপস্থাপন করে তার উত্তর যুক্তি দিয়ে দিলেন না। এই অধ্যায়ের শেষে আবার ডায়ালগ আছে সাজিদ নাকি একটি কাল্পনিক চরিত্র যে, দর্শন বিজ্ঞান আর বাস্তবতার আলোকে বিভিন্ন ভুল ব্যাখ্যার উত্তর দিয়ে থাকেন। কিন্তু পঞ্চম অধ্যায়ে তার প্রমান পাওয়া যায় না।
এবার আসুন ৬ষ্ঠ অধ্যায় যেখানে প্রশ্ন ছিলো, “কোরানের একটি সাম্রদায়িক আয়াত, এবং …?” এখানে লেখক শাহাবাগের মোড়ে তার কয়েকজন বন্ধুর সাথে আড্ডা দিতে গিয়ে গল্পের মাধ্যমে প্রমান করতে চেয়েছেন যে ইসলাম সাম্রদায়িকতাকে প্রস্রয় দেয় না । মানে ইসলামের সাথে অন্যান্য সকল ধর্মের মানুষের বেজায় মিল। এটা প্রমানের ব্যার্থ চেষ্টা ছিলো তার এই গল্পটি। আপনাদের একবার বর্তমান বাংলাদেশ ও মায়ানমার এর রোহিঙ্গা ইস্যুর দিকে ফোকাস করবো আশা করি এর উত্তর পেয়ে যাবেন।
৭ম অধ্যায়ে বলা আছে, “ মুশরিকদের যেখানেই পাও হত্যা কর “ এখানে আরিফ আজাদ নীলাঞ্জন দা নামের একজন দারুন দেশ প্রেমিক এর কথা বলেছেন যিনি একাধারে সাংবাদিক, চিত্র শিল্পী, মুক্তি যোদ্ধা গবেষক আরো অনেক কিছু । তার কাছে লেখক আরিফ আজাদ নানান ভাবে বলার চেষ্টা করেন ১৯৭১ এর স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় বঙ্গবন্ধু যদি হত্যার ডাক দিয়ে অস্ত্র হাতে নিয়ে যুদ্ধ করতে বলে কোন অন্যায় না করে থাকেন তাহলে মুসলিম জাতি অমুসলিমদের হত্যা করতে গেলে দোষের কি আছে। এবার আমি আরিফ আজাদকে পেছনে তাকাতে বলছি, আগে দেখে আসুন সভ্য মানুষের শুরুর সময়টা যা আজ থেকে ৩০ হাজার বছরের বেশি পুরাতন হবে না। সেখানে রাষ্ট্র, জাতীগত দলাদলি, হত্যা করা এগুলো কারা শিখিয়েছে মানুষকে । আর এর চেয়ে বড় কথা হলো বঙ্গবন্ধু তার ৭ই মার্চের ভাষনে কোথাও বলে নাই যে মানুষ হত্যা করো। সেটা সশস্ত্র যুদ্ধের আহব্বান হতে পারে কিন্তু তিনি প্রতিরোধ গড়ে তোলার কথা বলেছেন।লেখা সংক্ষিপ্ত করার কারনে ৭ই মার্চের ভাষন এখানে আনছি না তবে ভালো ভাবে সেটা আরেকবার দেখার অনুরোধ রইলো। সাথে সূরা তওবা মিলিয়ে দেখবেন পাঠক আপনারাও। যেখানে বলা হয়েছে, অনুবাদ- অতঃপর নিষিদ্ধ মাস অতিবাহিত হলে মুশরিকদের হত্যা কর যেখানে তাদের পাও, তাদের বন্দী কর এবং অবরোধ কর। আর প্রত্যেক ঘাটিতে তাদের সন্ধানে ওত পেতে বসে থাকো। আশা করি লেখক আরিফ আজাদের ভুল গুলি পেয়ে যাবেন।
৮ম গল্পে বলা হয়েছে যে, “স্রষ্টাকে কে সৃষ্টি করলো ?” এটাই হচ্ছে সেই আরিফ আজাদ স্বপনে দেখেছেন হুমায়ন আজাদ স্যারের সাথে খুলনা রেল ষ্টেশনে একটি বেঞ্চে বসে আলাপ করছেন যার বিষয় হচ্ছে ল অব ক্যাজুয়ালিটি। এখনেও নানান ভুলভাল ব্যাখ্যার মাধ্যমে বোঝতে চেয়েছেন টাইম, স্পেস, মেটার, কস, এসব বলে কিছু নাই আমি যা বিশ্বাস করি তাই সঠিক তাই সবাইকে মেনে নেও্য়া উচিত। তাই আমি এই যায়গায় বেশি কথা বলবো না শুধু লেখকের কাছে জানতে চাইবো টাইম এন্ড গতির বা স্পেস এর সাথে বয়সের কি সম্পর্ক?
এবার আসুন ৯ম গল্পে, এখানে বলা হয়েছে “তাদের অন্তরে আল্লাহ মোহর মেরে দেন।সত্যিই কি তাই ?” এখানে সে নিজের ইচ্ছাই খাওয়া আর না খেয়ে মরে যাওয়া টাইপের এক হাস্যকর উধারন দিয়েছেন। সেই ২য় অধ্যায়ের বিপ্লব দা নামের বড় ভায়ের সাথে আরেকটি আলাপ চারিতায় যেটা হয়েছে পাবলিক লাইব্রেরির ক্যান্টিনে। এখন আমি সবাইকে আরেকবার কোরানের বানী দিয়ে উত্তর খোজার চেষ্টা করতে বলবো যে ভুল ব্যাখ্যা এখানে আরিফ আজাদ করেছেন। “ অনুবাদ-নিশ্চয় যারা অস্বীকার করে, তাদের আপনি সাবধান করুন আর না-ই করুন, তারা স্বীকার করবেনা।আল্লাহ তাদের হৃদয়ে এবং তাদের কর্ণ কুহরে মোহর মেরে দিয়েছেন; তাদের দৃষ্টির ওপর আবরণ টেনে দিয়েছেন।তাদের জন্য আছে ভয়াবহ শাস্তি।” এর পরে আপনি কি বলতে চাচ্ছেন সেটা আগে ক্লিয়ার করুন। লেখক আরিফ আজাদ এখানে কোরান ও হাদিসের অর্থের বিপরীতকে কুরান ও হাদিসের কথা নামে চালানোর চেষ্টা করছে। অধ্যায়টিতে অসুস্থ রোগির না খেয়ে আরো অসুস্থ হওয়া অর্থাৎ নেতিবাচক একটি যুক্তিকে আল্লাহর বলা বানী নামে চালাচ্ছে যেখানে আয়াতে লেখা উল্টাটি অর্থাৎ আল্লাহ নিজে মোহর মেরে দেয় এবং কোনো অবিশ্বাস সৃষ্ট অটো সিসটেম মোহর না। লাইনগুলো ভালোমত খেয়াল করুন ও কুরানের সাথে মিলিয়ে দেখুন।
এবার ১০ম অধ্যায়, যেখানে বলা হয়েছে “ কোরান কি বলে - সূর্য পানির নিচে ডুবে যায় ?” ভুলভাল ব্যাখ্যা যাকে অখাদ্য ছাড়া কিছুই বলা চলে না। ১১ নং অধ্যায় “ মুসলমানদের কোরবানি ঈদ এবং একজন আরজ আলী মাতব্বরের অযাচিত মাতবরি” এখানে আমি কিছুই বলতে চাই না কারন পাঠক আপনারা আরজ আলী মাতুব্বরকেও চিনেন আবার আরিফ আজাদের সাথেও আপনাদের পরিচয় করিয়ে দিচ্ছি আশা করি এখানেও নিজে নিজে বুঝতে পারবেন সে কি দিয়ে কি বলে আরজ আলী মাতব্বর এর লেখা যৌক্তিক সব বই গুলিকে তার মাতবরি বলতে চাচ্ছে। ১২ তম অধ্যায়, “কোরান কি মোহাম্মদ সাঃ এর বানিয়ে লেখা গ্রন্থ ?” এটি নিয়ে আসলে পাব্লিক প্লেসে কথা বলা একটা সেন্সেটিভ মেটার বলে মনে করছি । তবে এটুকু বলতে চাই এখানে লেখক আরিফ আজাদ যে যুক্তি দিয়েছেন তাতে সে ভুলে গিয়েছেন ইসা নবী এবং মূসা নবীর মাঝে কিছু গ্যাপ ছিলো । আর এখানে আরো প্রামানিত হয়েছে লেখক আরিফ আজাদের দর্শন জ্ঞান সম্পর্কে অপরিষ্কার ধারনা। অধ্যায় ১৩ তে বলা হচ্ছে “কোরান, আকাশ, ছাদ এবং অভিজিত রায়ের মিথ্যাচার” এখানে আমি বলতে চাচ্ছি লেখক সরাসরি বলছে যে ব্লগার ও মুক্তমনা লেখক অভিজিত রায় মিথ্যাচার করছে, বাকিটা আপনার অভিজিত রায়ের লেখা পড়ে মিলিয়ে নিন। আর যদি অভিজিত রায় মিথ্যা বলে থাকে তবে এগুল কি জিনিস একটু বুঝিয়ে বলুন “মানুষের বানরে রূপান্তর (Quran 2:65), পৌরানিক werewolves (ইয়াজুজ মাজুজ) দের পৃথিবীতে অবস্থান (Quran 21:96), আকাশ থেকে খাদ্যের আবির্ভাব (Quran 5:114-115), লাঠি নিক্ষেপের পর সাপ হয়ে যাওয়া (Quran 7:107), সোলেমানের জ্বিন আর পাখির সৈন্য থাকা (Quran 27:16-17, 20-22, 23), নবী ইউনুসের মাছের পেটে যাওয়া এবং প্রার্থনা করা (Quran 37:142) যেহেতু লেখক যুক্তি দিয়ে বোঝাতে চাচ্ছেন তাই আমিও কিছু যৌক্তিক প্রশ্ন তুলে ধরলাম।
আবার লেখা দীর্ঘ হয়ে যাওয়াতে আর সামনে দুই চারটা অধ্যায় এখানে তুলছি না। তবে এটা নিশ্চিত থাকুন যে বাকি অধ্যায়ের গল্প গুলিও একেবারে অযৌক্তিক কিছু ভুলভাল তথ্য দিয়ে সেই হাজার হাজার বছর পুরাতন গল্পকেই বাস্তবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করেছেন এই প্যারাডক্সিক্যাল সাজিদ বই এর লেখক আরিফ আজাদ। আমি সব কথার শেষে একটি কথায় বলতে চাই সেটা হচ্ছে পৃথিবীর ৫ হাজারের বেশি ধর্ম, যার সব কইটি এটাই প্রমান করার চেষ্টা করেছে যে তাদের কথাই সত্য এবং তার বাইরে যা আছে সবই মিথ্যা। কিন্তু এতো হাজার হাজার ধর্মের মধ্যে কেউ আজ পর্যন্ত তা প্রমান করতে পারেনি। এই লেখক আরিফ আজাদ এই বই এর মাধ্যমে একটি ধর্মকে এক হিসেবে ছোট করেছে। কারন প্রতিটি ধর্মই হচ্ছে বিশ্বাস এর ব্যাপার, এখানে যে বিশ্বাস করবে সে এমনিতেই করবে । যতই কুসংস্কার থাকুক একটি ধর্মে, তাতে একজন ধর্মান্ধ মানুষকে তার লক্ষ চুত্য করা যাবে না যতক্ষন পর্যন্ত তার অন্তরের বিশ্বাস থাকবে। কিন্তু লেখক আরিফ আজাদের মতো কিছু লোক এই জাতীয় ভন্ডামী করা কিছু বই লিখে কিছু ধর্মকে বিতর্কিতই করছে না তাকে অপমানও করছে । একটু গভীরে গিয়ে ভেবে দেখবেন আমি কি বলতে চাইছি।
----------- মৃত কালপুরুষ
১৮/০৯/২০১৭
১৮/০৯/২০১৭





আপনার যুক্তি থেকে আরিফ আজাদের যুক্তি বেশি গ্রহণযোগ্য। ভুলভাল কথা বলা বন্ধ করেন।সুরা তাওবার আয়াত নং কেন দেন নাই।
উত্তরমুছুনআপনারা brainwashed person কোনো ভালো যুক্তি আপনারা গ্রহন করতে ফারেন না
মুছুন