প্রযুক্তি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
প্রযুক্তি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শুক্রবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮

মানব ক্লোন অবৈধ ঘোষণা করার পেছনে কি ধর্ম বিশ্বাস না নৈতিকতা ?



বিজ্ঞান যখনই নতুন কিছু আবিষ্কার করে তখনই ধর্মান্ধরা দাবী করে এটা আমাদের ঐশ্বরিক কিতাবে অনেক আগেই লেখা ছিলো এবং সেখান থেকে রিসার্চ করে বিজ্ঞানীরা এখন এটা আবিষ্কার করেছে তারমানে এই আবিষ্কারের সব ক্রেডিট সেই ধর্মীও ঈশ্বরের, মানুষের না। এরকম ধারণা এখনও যে কত কোটি কোটি মানুষ তাদের মাথায় করে বয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছে তা কিন্তু আপনি, আমি চিন্তাও করতে পারবো না যদি বাস্তবে এরকম দুই একজনকে না দেখেন। কয়েকদিন আগে আমি আসিফ ভায়ের একটা লাইভ দেখছিলাম যেখানে এক ভদ্রলোক সৌদি আরব থেকে তার সাথে লাইভে কানেক্ট হয় এবং আলোচনা করতে থাকে। লাইভে ভিউয়ার্স মনে হয় ৬ থেকে ৭শ মতো ছিল এরকম সময়ে সেই ভদ্রলোক তার ইসলামিক কিছু জ্ঞানের ব্যাখ্যা দিলেন তিনি জীবনে অনেক ইসলামিক বই পড়েছেন বলে দাবী করলেন এবং কিছু বই তিনি উপস্থিত সবাইকে ক্যামেরা ঘুরিয়ে দেখালেন। এরকম একজন জানাবোঝা মানুষের মস্তিষ্কের অবস্থা দেখলাম শেষের দিকে তার কিছু ধর্মীয় বিশ্বাসের কথা শুনে। সে দাবী করলো “মাছির এক পাখায় জীবানু আর এক পাখায় প্রতিষেধক আছে” এটা নাকি কোন বিজ্ঞানী আবিষ্কার করেছে এবং একই কথা ইসলাম ধর্মের কোন এক হাদীসেও নাকি বলা আছে।

এরকম সময় আসিফ ভাই যখন তাকে প্রশ্ন করলো আপনি কি আমাকে সেই জার্নাল না রিসার্চ পেপারের নাম বলতে পারবেন যেখানে এই বিজ্ঞানী এটা প্রমান করেছে। তখন তাকে জিজ্ঞাসা করা হলো আপনি কি জানেন জার্নাল কাকে বলে সে বলেছিলো “না”। এরকম আরো অনেকেই আছে যারা মনে প্রাণে বিশ্বাস করে বিভিন্ন ধর্মের ঐশ্বরিক কিতাব আর মুখে মুখে প্রচলিত অনেক কথা বিজ্ঞানের সাথে সম্পৃক্ত। আজ ক্লোন নিয়ে কিছু কথা বলবো, তবে জানিনা এই ক্লোন নিয়ে কোন ধর্মীয় গ্রন্থে কিছু বলা আছে নাকি। আমি শুনেছি পৃথিবীতে এমন অনেক ধর্মীয় ঐশ্বরিক কিতাব আছে যাতে এই পৃথিবীর সমস্ত সৃষ্টি ও সমস্ত আবিষ্কারের কথা লেখা আছে। ক্লোনিং এর মধ্যে বর্তমানে নির্দিষ্ট কিছু কারণে মানব ক্লোনিং করা নিষেধ করা আছে যা এখন অবৈধ। এখানে আগেই একটি কথা উল্লেখ করা দরকার সেটা হচ্ছে ক্লোন অর্থ হচ্ছে অনুরুপ বা প্রতিলিপি বা আমরা কপি বলতে পারি আর ক্লোনিং হচ্ছে যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই ক্লোন করা হয় তাকে ক্লোনিং বলা হয়। ক্লোনিং হলো অতি অত্যাধুনিক একটি প্রযুক্তি যার মাধ্যমে একটা প্রাণীর ক্রোমোজোম বা ডিএনএ (কোষের নিউক্লিয়াসে অবস্থিত এক বিশেষ ধরনের জৈব অ্যাসিড যা একটি জীবের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত সবকিছু নিয়ন্ত্রন করে জন্ম, মৃত্যু, চেহারা, আকার-আকৃতি, আচার ব্যবহার, বেড়ে উঠা ইত্যাদি) ব্যবহার করে হুবহু সেই প্রাণীর অনুরূপ আরেকটি প্রাণী করা হয়,  যা জেনেটিক এবং ফিনোটাইপিক উভয় দিক থেকেই অনুরূপ হবে।  সোজা কথায় ক্লোনিং হল কোন জিনগত ভাবে কোন কিছুর হুবহু প্রতিলিপি তৈরি করা।

পৃথিবীতে এই ক্লোনিং করার পক্ষে সর্বোপ্রথম বাধা আসে ধর্মীয় বিশ্বাসের মানুষের কাছ থেকে। তারা দাবী করে এটা আমাদের সৃষ্টিকর্তার সৃষ্টি বহিঃভুত একটি কাজ। এই থেকে ধারনা করা যায়, মনে হচ্ছে এমন কোন আবিষ্কারের কথা মনে হয় কোন ধর্মের ঈশ্বর তাদেরকে বলেনি তাই তারা এই ক্লোনিং এর বিরোধীতা করেছিলো। শুধু তাই নয় ২০১৪ সালে যখন রাশিয়ার নিউরো সাইন্টিস্ট “দিমিত্রি” তার “আভাতার ২০৪৫” প্রজেক্টের কথা বলে তখন তারাও এটার বিরোধিতা করেছিলো। বিরোধীতা করার কারণ ছিলো “দিমিত্রি” বলেছিলো আমার প্রজেক্ট সাকসেস হলে আমি ২০৪৫ সালের মধ্যে মানুষের অমরত্ব দিতে সক্ষম হবো। আর তাই যদি করে ফেলে তাহলে ধর্ম বিশ্বাসীদের ধারনা ঈশ্বর প্রদত্ত বানী “প্রতিটি প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহন করতে হবে” কথাটা ভুল প্রামণিত হয় আর তখনই সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব নিয়ে মানুষের মাঝে প্রশ্ন জাগবে তাই তারা এটার বিরোধীতা করে। কিন্তু এই প্রজেক্ট খুব সুন্দর ভাবেই এগিয়ে যাচ্ছে এখন। আর এই কথাটা মনে হয় ওয়াটার বিয়ার (Water bears) বা ট্রেডিগ্রেডস (tardigrades) এর জন্য প্রযোজ্য নয়। কারণ বিজ্ঞানীদের গবেষনায় দেখা গিয়েছে মাইক্রোস্কোপ দিয়ে দেখা এই প্রানীর মৃত্যু নেই বললেই চলে। এরা পৃথিবীর যে কোন পরিস্থিতিতেই বেচেঁ থাকতে সক্ষম হোক সেটা পারমানবিক বোমায় ধ্বংস হওয়া কোন পরিস্থিতি।

ক্লোনিং এর প্রথম বাধার পরেই মানুষ এই ক্লোনিং এর বেশ কিছু পদ্ধতির আবিষ্কার করে যাতে করে নির্দিষ্ট কিছু জটিলতা যাতে না থাকে একটা নতুন প্রান সৃষ্টির ক্ষেত্রে সেদিকে খেয়াল রাখা হয়। এখন পর্যন্ত বিজ্ঞানীরা যেসমস্ত ক্লোনিং পদ্ধতি নিয়ে গবেষনা করছেন সেগুলা হচ্ছে সোমাটিক সেল নিউক্লিয়ার ট্রান্সফার পদ্ধতি, রস্লিন পদ্ধতি, হনলুলু পদ্ধতি, মলিকিউলার ক্লোনিং, রিপ্রোডাক্টিভ ক্লোনিং, থেরাপিউটিক ক্লোনিং এবং আরো অনেক পদ্ধতি। আমরা হয়তো সবাই একটি ক্লোন মেষ শাবক (ভেড়ার) কথা কমবেশি জানি যার নাম ছিলো “ডলি” এই ডলি ছিলো রিপ্রোডাক্টিভ ক্লোনিং করা একটি ক্লোন মেষ শাবক। ডলিকে বলা হয় প্রথম ক্লোন কিন্তু এটা মোটেই ঠিক নয়, এর আগেও ক্লোন করা হয়েছে বরং সঠিকভাবে বললে ডলি ছিল পূর্ণবয়স্ক দেহকোষ থেকে তৈরি করা প্রথম ক্লোন। আসলে ক্লোনিং বা ক্লোন নিয়ে এখনও কিছু জটিলতা রয়ে গিয়েছে যার কারনে ক্লোনিং পদ্ধতির মাধ্যমে মানব ক্লোন এর অনুমতি এখনও বিজ্ঞানীদের মেলেনি। এর মধ্যে প্রধান জটিলতা হিসাবে বলা যায় জেনেটিক কিছু অমিল থেকে যায় ক্লোনিং এর ক্ষেত্রে কারণ তৈরি করা প্রাণটি যে গর্ভে বেড়ে উঠছে সেই গর্ভের পরিবেশের উপরেও এই জেনেটিক বিষয় গুলা নির্ভর করে। সেক্ষেত্রে প্রাকৃতিক ভাবে জন্ম নেওয়া (জমজ) ক্লোন এর ক্ষেত্রে এই সমস্যা থাকেনা।

এই সমস্ত নানা কারনে সর্বশেষ ২০১৫ সালে পৃথিবীর প্রায় ৭০ টি দেশ মানব ক্লোনিং কে অবৈধ ঘোষণা করেছেন। তাহলে কি মানব ক্লোন এখন পর্যন্ত পৃথিবীতে হয়নি ? এখন পর্যন্ত বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান দাবী করেছে তারা সফল ভাবেই মানব ক্লোনিং করেছে। তবে সবচেয়ে গ্রহনযোগ্য যেটা সেটা হচ্ছে ২০০২ সালের ২৭ ডিসেম্বরে ক্লোনাইড নামের একটি প্রতিষ্ঠান দাবী করে তারা প্রথম মানব ক্লোনিং করেছে এবং সেই ক্লোন মানব কন্যার নাম “ইভ”। শুধু তাই নয় এই একই প্রতিষ্ঠান আবার ২০০৩ সালের ২৩ জানুয়ারী দাবী করেন তারা আবারও আরেকটি মানব ক্লোন সফল ভাবেই করেছে। প্রথম ক্লো্নটি করে তারা ৩১ বছর বয়সী একজন নারীর কোষ থেকে এবং পরের ক্লোনটি করে তারা ২ বছর বয়সী এক শিশুর কোষ থেকে যে ২০০১ সালে জাপানে একটি রোড এক্সিডেন্ট এ মারা যায়। এছাড়াও এর আগে আরো অনেকেই দাবী করে তারাও মানব ক্লোন করেছে। সর্বোপ্রথম এমন দাবী করা হয় ১৯৯৮ সালে যা ৫ দিনের মাথায় নষ্ট করে ফেলা হয়। সর্বোশেষ ২০০৮ সালে ক্যালিফোর্নিয়ায় অবস্থিত স্টিমাজেন কর্পোরেশনের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা স্যামুয়েল উড এবং অ্যান্ড্রিউ ফ্রেঞ্চ ঘোষণা দেন তারা থেরাপিউটিক ক্লোনিং এর লক্ষ্যে ৫ টি মানব ভ্রূণ তৈরি করেছে কিন্তু পরবর্তীতে তারা নৈতিকতার দিক বিবেচনা করে ভ্রুন ৫ টি নষ্ট করে ফেলে।

তথ্যসুত্রঃ https://en.wikipedia.org/wiki/Human_cloning

---------- মৃত কালপুরুষ
               ০২/০২/২০১৮



শনিবার, ৬ জানুয়ারি, ২০১৮

অনলাইন বুক সপ ও বইমেলা।


বইমেলা আসছে তাই চলছে লেখক ও পাঠকদের প্রস্তুতি। শেষ সময় পর্যন্ত সকলের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকে, এই দেশের মানুষকে লেখকেরা একটু আলোকিত করতে। পূর্বে যারা আলোর মশাল জালিয়ে হারিয়ে গিয়েছিলো একশ্রেনীর মানুষের রোষানলে পড়ে, তাদের সেই আলোর মশালকে আরেকটু উচু করে ধরতে যাতে করে সেই আলো আরেকিটু দূরে ছড়িয়ে পড়ে। যারা এখনও অন্ধকারের মধ্যে হাতড়িয়ে বেড়াচ্ছে এবং আশৈশব লালিত প্রথার দেওয়ালে ধাক্কা খেয়ে নিজেদের ক্ষতবিক্ষত করছে তাদেরকে মুক্তি দেবার জন্য সেই আলোকিত মানুষগুলি তাদের সেরা লেখা গুলি নিয়ে বই মেলায় অংশগ্রহন করে। আমি শ্রদ্ধায় নত হয় বারবার সেই মানুষদের কাছে যারা নিজেদেরকে বিলিয়ে দিয়েছিলো এই দেশের সাধারণ মানুষদের একটু আলোর পথ দেখাতে। যারা সেই অন্ধকার বিশ্বাসের কক্ষে আটক থেকে দেওয়ালে দেওয়ালে ধাক্কা খেয়ে আহত হচ্ছে তাদেরকে প্রশ্নের পাথরে বিক্ষত হবার আহব্বান জানাতেই এই বইমেলা।

বাংলাদেশের অনলাইন সপ রকমারি ডট কমের কথা সবাই নিশ্চয় জানেন। রকমারি ডট কম এই দেশের মানুষের হাতে হাতে বই পৌছিয়ে দিয়ে এক অসধারণ ভূমিকা রাখছে তাতে কোন সন্ধেহ নেই। কারণ অনেকেই অনেক বই খুজে খুজে আশা ছেড়ে দিয়ে একটু অনলাইনে ঢু মেরে দেখি বইটা পাওয়া যায় কিনা এমন মনোভাব নিয়ে যখন এই সাইটটিতে গিয়ে বইটা পেয়ে যায়, তখন সেই মানুষটির মনোভাব কেমন থাকে বা হতে পারে তা আর কারো আজানা থাকার কথা না। কিন্তু আমি আজ অনলাইন বুক সপ রকমারি ডট কমের গুন গান করতে লেখিনি। কারন আমি ভুলিনি সেই সময়ের কথা যখন হুমকি পেয়ে রকমরির স্বত্বাধীকারী ‘মাহমুদুল হাসান সোহাগ’ ভাই তার এক স্টাটাসে জানিয়েছিলো সত্য এবং আলোর পথ প্রদর্শনকারী সকল বই যখন সেই সাইটে বিক্রয় করা নিষিদ্ধ করেছিলো সেই কথা। আপনাদেরও নিশ্চয় মনে আছে। তারপরও আমি চাই আরো একটিবার রকমারী ভেবে দেখুক, তখন নিজেদের মেরুদন্ড হীনতার পরিচয় তারা দিয়েছিলো না মানুষের কল্যানের জন্য তারা কাজ করেছিলো।

আমি জানি এবং আগেও বলেছি রকমারি ডট কমের এই জগতে অর্থাৎ মানুষের হাতে জ্ঞানের মশাল পৌছিয়ে দেবারা অবদান কম নয়। সেই জ্ঞনের মশাল দিয়ে আরো মানুষকে হয়তো আলোকিত করে চলেছে আমাদের দেশের অগনিত মুক্তচিন্তক ও যুক্তিবাদী সমাজ। সেই শ্রদ্ধা মাথায় রেখেই ২০১৪ সালের রকমারি ডট কমের মেরুদন্ডহীনতার কথা একটু মনে করাতে চাই। তখন সেই “ফারাবী”র তালিকা করা বই আর “ফারাবীর” হুমকি পেয়ে আপনারা যেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, বিজ্ঞান মনষ্ক, যুক্তিবাদী ও প্রগতিশীল সকল বই বিক্রয় বন্ধ করে দিয়েছিলেন আপনারা, সেটা আপনাদের মেরুদন্ডহীনতার বহিঃপ্রকাশ ছাড়া আর কিছুই ছিলোনা। আর এমন ভাবার কোন কারণ নেই যে আমার মতো সাধারণ পাঠকরা সেই কথা এতো সহজেই ভুলে যাবে। আমার আশা এবং আস্থা আছে তারা সেই কথা এখনও ভোলেনি আর যেভাবে আমাদের মাঝে মুক্তচিন্তার চর্চা বৃদ্ধি পাচ্ছে তাতে করে আগামীতেও যে সেই কথা ভুলে যাবে তার নিশ্চয়তাও কম।

বর্তমানে দেখি রকমারি বিভিন্ন ধর্মের বৈজ্ঞানীক আর সেই মরিস বুকাইলির “বিজ্ঞানময় কোরান” বা “দ্যা বাইবেল দ্যা কোরান এন্ড সায়েন্স” এর বাংলা ভার্সনের লেখক ‘আজাদ’ আর কথিত ইসলাম ধর্মের অনুসারী ‘ভট্টাচার্য’ লেখক টাইপের লেখকদের বই এই সাইটে বিভিন্ন পাতায় ঝুলে থাকে। আমার উদ্দেশ্য আসলে এসব বলা না, আপনারা অপাঠ্য বই বিক্রয় ও মানুষের হাতে পৌছানো বন্ধ করুন। সব কোয়ালিটির বই আসলে থাকা দরকার আছে যা না হলে সাধারণ পাঠকরা মান যাচাই করতে পারবেনা। তবে যেই ভুল রকমারী ২০১৪ সালে করেছিলো একটু তাকিয়ে দেখবেন যাতে করে তা শুধরাবার সুযোগ আপনাদের তৈরি হতে পারে। বাংলাদেশে লেখকদের পাশাপাশি অনেক প্রকাশককেও এক শ্রেনীর বিকৃত মস্তিষ্কের মানুষেরা একসময় হত্যা করেছে এবং এখনও করছে। তাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেও আপনার আপনাদের সাইটের মাধ্যমে যুক্তিবাদী, বিজ্ঞানমনষ্ক ও প্রগতিশীল বই দেশের অন্ধকারে থাকা মানুষের হাতে আলোর মশাল রুপে পৌছিয়ে দিতে পারেন আসছে বইমেলা উপলক্ষে আমাদের মতো সাধারণ পাঠকদের এটাই দাবী।

---------- মৃত কালপুরুষ

              ০৬/০১/২০১৮   

বুধবার, ২০ ডিসেম্বর, ২০১৭

VPN ব্যবহার করে ব্লক করা ওয়য়েবসাইট কিভাবে ব্যবহার করবেন।



বাংলাদেশ থেকে নানা কারণে বিভিন্ন সময়ে অনেকেই অনেক গুরুত্বপুর্ণ ওয়েবসাইট ও অনেক নিউজ পোর্টাল ব্রাউজ করতে পারেন না বা সেটা ভিসিট করতে পারেন না। অনেক সময় দেখা যায় খুব জনপ্রিয় কিছু সোস্যাল মিডিয়া নির্দিষ্ট কিছু দেশের সরকার কর্তৃক বন্ধ করে রাখা হয় যার কারণে অনেকেই তা স্বাভাবিক বা প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী ব্যবহার করতে পারেনা। ২০১৫ সালে এরকম একটি ঘটনা বাংলাদেশেও ঘটেছিলো আমার মনে আছে। কয়েকদিনের জন্য বাংলাদেশ সরকার জনপ্রিয় সোস্যাল মিডিয়া ফেসবুক ব্যবহার করা বন্ধ করে রেখেছিলো। তার কিছুদিন আগে ইউটিউব বন্ধ করে রাখা হয়েছিলো। বর্তমানেও এরকম অনেক নিউজ পোর্টাল ও কিছু ওয়েবসাইট মাঝে মধ্যেই আমরা বন্ধ পেয়ে থাকি। যাদের মধ্যে অন্যতম এবং বর্তমানে বাংলাভাষী জ্ঞান-পিপাশু সাধারণ পাঠকদের কাছে সব থেকে জনপ্রিয় ওয়েবসাইট “ইস্টিশন” আছে সবার প্রথমে। এছাড়াও জনপ্রিয়তার তালিকায় থাকা বাংলা ব্লগ সাইট “সামহয়্যার ইন ব্লগ” (সামু), সচলায়তন, আমার ব্লগ, এর মতো কয়েকটি সাইটে মাঝে মধ্যে ব্রাউজ ভিত্তিক সমস্যা দেখা গেলেও তা ক্ষনস্থায়ী। তবে ইস্টিশন ব্লগ সাইট ব্যবহার করতে গিয়ে আমি নিজেও এই সমস্যায় পড়ে থাকি যা আমার ধারণা অনেকেই একই সমস্যায় পড়েন। প্রায় এই ব্লগ সাইটটির ফেসবুক পেজে দেখা যায় পাঠকদের মতামত তারা এই সাইট ব্রাউজ করতে পারছেন না।

একটি ওয়য়েবসাইট কি কি কারনে সাধারণ ভিউয়ার্সরা ব্যবহার করতে পারেনা বা ভিসিট করতে পারেনা তার অনেক ব্যাখ্যা আছে। তবে এর একটি অন্যতম কারণ হচ্ছে নির্দিষ্ট কিছু দেশের সরকার কর্তৃক সেই সাইটের পাবলিসিটি বন্ধ করে রাখা। যেহেতু বাংলাদেশ থেকে (বিটিআরসি) এই বিষয় সমূহ নিয়ন্ত্রিন করে থাকে তাই হতে পারে (বিটিআরসি) থেকেই এটা বন্ধ করে রাখার কারণে আমরা অনেক সময় এই জাতীয় সাইট গুলি আর ১০টা ওয়েবসাইটের মতো স্বাভাবিক ভাবে ব্রাউজ করতে পারিনা। তাহলে কি আমরা সরকার কর্তৃক বন্ধ করে রাখা সাইট গুলো স্বাভাবিক ভাবে ভিসিট করতে পারবো না ? অবশ্যয় আমরা এগুলা ভিসিট করতে পারবো, তবে স্বাভাবিক নিয়মে নয়। এর জন্য আমাদেরকে কিছু পদ্ধতি অবলম্বন করতে হবে। আমি সেই পদ্ধতি কি এবং কিভাবে সেটা ব্যবহার করা যায় সেই উদ্দেশ্যেই এই লেখাটি লিখছি। এই সমস্যার সম্মুক্ষিন হলে আমাদেরকে VPN  (ভিপিএন) ব্যবহার করতে হবে। আমার মনে হয় যারা মোটামুটি একটু পুরাতন ও মধ্যম মানের ইন্টারনেট ইউসার তারা এই বিষয়টি সম্পর্কে সবাই অবগত। তবে যারা এখনও জানেন না এই VPN (ভিপিএন) কি এবং এটা কিভাবে ব্যবহার করতে হয় আর এটা ব্যবহার করে আমরা কিভাবে এই বন্ধ করে রাখা “ইস্টিশন ব্লগের মতো সাইট গুলো ভিসিট করতে পারবো তাদের জন্য কিছু তথ্য রইলো।

প্রথমত VPN শব্দটার সাথে আমরা সবাই কম-বেশি পরিচিত। তবে অনেকেই শুধু নামের সাথেই পরিচিত, কিন্তু এটা যে কি জিনিস তা অধিকাংশ মানুষই জানে না তাই এসমস্ত বিষয় সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা করবো। VPN এর পূর্ণ রূপ হল- Virtual Private Network. (ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক) এটাকে আমরা একটি সুড়ঙ্গের সাথে তুলনা করবো। সোজা বাংলায় এর সংজ্ঞা দাড়ায়, VPN হল একটা কাল্পনিক ‘Tunnel’ যার মাধ্যমে নিরাপদে তথ্য আদান প্রদান করা যায়। এই ‘Tunnel’ বা সুড়ঙ্গের বাস্তবে কোন অস্তিত্ব নেই, কারণ এটা ভার্চুয়াল জগতে কেউ খুজে বের করতে পারবে না। এটি দিয়ে মূলত কাল্পনিক একটা প্রাইভেট নেটওয়ার্ক বোঝানো হচ্ছে যেটি দিয়ে ইন্টারনেটে নিরাপদে তথ্য আদান প্রদান করা যায়। আমরা এখন নিরাপদ’ keyword টির উপর ফোকাস করবো। ইন্টারনেট মূলত উন্মুক্ত তথ্য আদান প্রদানের জায়গা। যেহেতু এটি পাবলিক নেটওয়ার্ক অর্থাৎ, পৃথিবীর সবাই সংযুক্ত তাই এখানে সরাসরি তথ্য আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে তথ্যের গোপনীয়তা ফাঁস হয়ে যাবার একটা ঝুঁকি আছে। এই ঝুঁকি এড়ানোর জন্য ইন্টারনেট ব্যবহার করে নিজের ব্যক্তিগত বা প্রাইভেট নেটওয়ার্কে সংযুক্ত হওয়ার নিরাপদ পদ্ধতিই হল VPNএই পদ্ধতিতে ব্যবহারকারী এবং প্রাইভেট নেটওয়ার্ককে সংযুক্ত করার জন্য ইন্টারনেটে একটি কাল্পনিক সুড়ঙ্গ তৈরী হয়। যেমন ধরুন আমি বর্তমানে বাংলাদেশের ঢাকাতে অবস্থান করছি কিন্তু একটি VPN (ভিপিএন) সার্ভিস ইউস করে আমি বাংলাদেশ থেকে সরাসরি ইউরোপের “ফ্রান্স” এর একটি ইন্টারনেট সার্ভিস প্রভাইডার এর আইপি এড্রেস ব্যবহার করে ইন্টারনেট ব্যবহার করছি বা বিভিন্ন ওয়েবসাইট ব্রাউজ করছি। তার মানে আমি বাংলাদেশে আছি কিন্তু ভিপিএন ব্যবহার করার কারণে ফ্রন্সের একটি আইপি এড্রেসের সাথে আমার কানেকশন এর একটি সুড়ংঙ্গ তৈরি করা হয়েছে তাই এখন আমি যা করছি তা ফ্রান্স থেকেই করছি।

তার মানে বাংলাদেশ থেকে যদি (বিটিআরসি) কোন সাইট ভিসিট করা বন্ধ করে রাখে বাংলাদশি ইন্টারনেট ইউসারদের জন্য তারা এই সুড়ঙ্গ ব্যবহার করে বিশ্বের যে কোন দেশের যে কোন আইপি এড্রেস ব্যবহার করে সেই সাইট বাংলাদেশে বসেই ভিসিট করতে পারবে। এহাড়াও VPN ব্যবহার করার আরো কিছু সুবিধা আছে তা হচ্ছে -
১। VPN ব্যবহার করার অর্থ হল আপনি ডাটা নিরাপদে আদান প্রদান করতে পারছেন।
২। VPN ব্যবহার করলে আপনার অবস্থান কেউ ট্র্যাক করতে পারবে না।
৩। IP address (Internet Protocol address) হাইড করে রাখে। অর্থাৎ, হ্যাকারদের কবলে পড়ার সম্ভাবনা নাই।
৪। আপনার ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারী আইপিএস থেকে নেটের ফুল স্পিড পাবেন।
৫। VPN দিয়ে আপনি আইএসপি তে ব্লক করা সাইট ভিজিট করতে পারবেন। যেমন ধরেন, যদি ইউটিউব বা ফেসবুক আমাদের দেশে বন্ধ করে দেয়া হয়, তাহলেও আপনি VPN ব্যবহার করে এগুলাতে ঢুকতে পারবেন।
৬। এটি নিরাপদ যোগাযোগ এবং ডাটা encrypt করার একটি পদ্ধতি হিসেবে কাজে লাগে। মানে VPN আপনার মেশিনকে একটি ভার্চুয়াল নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংযুক্ত করতে পারে এবং আপনার পাঠানো সব data দ্রুততার সঙ্গে encrypt করে ফেলে অর্থাৎ public domain থেকে লুকিয়ে রাখে এবং এটা আপনার browsing history-র কোনো ট্র্যাক রাখে না। কাজেই আপনি অনলাইনে পুরোপুরি নিরাপদ।

VPN ব্যবহার করার সুবিধা আছে পাশাপাশি ব্যবহার করতে গেলে কিছু অসুবিধাও আছে, আর তা হচ্ছে বর্তমানে মোবাইল আর পিসির জন্য অনেক VPN সার্ভিস প্রভাইডার আছে যারা এটা বিনামূল্যে ব্যবহার করতে দেয়। তবে যারা এখনও এই সার্ভিসটি বিনামূল্যে ব্যবহার করতে দেয় তাদের মধ্যে ৭০% আছে যাদের সার্ভিস ব্যবহার করলে আপনার ইন্টারনেটের স্পীড একটু কমে যাবে বা প্রথমবার কানেক্ট হতে বেশ কিছু সময় নেবে। তবে এন্ড্রয়েড মোবাইল ফোন এর জন্য খুব সহজ পদ্ধতির কিছু VPN এপ আছে গুগল প্লে স্টোরে যা ব্যবহার করলে স্পীড খুব একটা কমে না এবং এগুলো একদম ফ্রী। এই এপস গুলো শুধু গুগল প্লে স্টোর থেকে ইন্সটল করে নিলেই হবে আর কিছুই করা লাগবে না। ইন্সটল করার পরে সেই এপস গুলা ওপেন করলেই একটি কানেক্ট অপশন পাবেন সেটাতে টাস করে কানেক্ট করে দিলেই আপনার কানেকশন একটি VPN সার্ভিসের মাধ্যমে কানেক্ট হয়ে যাবে এর পরে আপনি খুব সহজেই ব্লক করে রাখা সাইট গুলো ভিসিট করতে পারবেন আপনার ব্রাউসার দিয়ে বা যে কোন এপস দিয়ে। এতে আপনার আইপি এড্রেস প্রকাশ পাবেনা আপনি কোথা থেকে ব্রাউজ করছেন। যেহেতু যারা এন্ড্রয়েড ফোন ব্যবহার করেন তাদের জন্য আমি এখানে কোন লিঙ্ক দিচ্ছি না। কারণ সবাই গুগল প্লে স্টোর এর সাথে অবশ্যয় পরিচিত আছেন। আপনাদের শুধু গুগল প্লে স্টোরে গিয়ে নাম সার্চ করলেই হবে তাই আমি এখানে কিছু ভালো VPN এপস এর নাম দিয়ে দিচ্ছি, যেমন প্রথম সারিতে থাকা এপস এর মধ্যে আছে Turbo VPN, Hola Free VPN, VPN Proxy Master-Free, Super VPN Free, VPN Master Free, Super VPN Free VPN Client, Flash VPN Free VPN Proxy, Yoga VPN Free Unlimited, Secure VPN Free, Tunnel Bear VPN আপাতত এই ১০টি সহজ VPN এপস এর যেকোন একটি ব্যবহার করে আপনি আপনার এন্ড্রয়েড মোবাইল থেকে VPN সার্ভিস খুব সহজেই ইউস করে ব্লক করে রাখা “ইস্টিশন” এর মতো সকল সাইট ভিসিট করতে পারেন।

এবার আসি যারা পিসি (ডেস্কটপ ও ল্যাপটপ) ব্যবহার করে ইন্টারনেট ইউস করেন কিন্তু এই জাতীয় ব্লক করা সাইট ব্যবহার করতে পারছেন না বা ভিসিট করতে পারছেন না। পিসির জন্য উইন্ডোস ৭ থেকে শুরু করে বর্তমানে উইন্ডোজ ১০ অপারেটিং সিস্টেমে সাপোর্ট করে এরকম বেশ কিছু সফটও্য়ার আছে কিন্তু সমস্যা হচ্ছে তার প্রায় সবই পেইড সফটয়ার যা ফ্রী বা বিনামুল্যে ব্যবহার করা যায় না। তবে কিছু ফ্রি সফটওয়ার আছে যা ব্যবহার করে VPN নেটওয়ার্কের সাথে কানেক্ট হওয়া যায়। এই লিঙ্কে গেলে https://en.softonic.com/downloads/free-vpn:windows/windows-7 আপনি ১০টি এরকম সফটওয়ার পাবেন। আর এখানে Hide Me নামের একটি সফটওয়ার পাবেন সেটাও ডাউনলোড করে ইন্সটল করতে পারেন লিংক https://hide.me/en/software/windows এছাড়াও আপনি যদি আপনার পিসি দিয়ে Mozilla Firefox ব্রাউসার ব্যবহার করে থাকেন তাহলে এই লিংক https://addons.mozilla.org/en-US/firefox/addon/hoxx-vpn-proxy/ থেকে আপনার ব্রাউসারের জন্য এই এক্সটেনশন বা এডঅন টি ডাউনলোড করে ইন্সটল করে নিতে পারেন। আর যদি আপনি ক্রোম ব্রাউসার ব্যবহার করে থাকেন তাহলে এই লিংক থেকে https://zenmate.com/products/vpn-extension-for-chrome/ আপনার ক্রোম ব্রাউসারের জন্য এড অন বা এক্সটেনশন ডাউনলোড করে VPN এর সাথে কানেক্ট হতে পারেন। আর আপনি যদি অপেরা ব্রাউসার ব্যবহার করে থাকেন তাহলে আপনাকে এসব কিছুই করা লাগবে না। কারণ অপেরা ব্রাউসার এর সাথেই একটি এক্সটেনশন থাকে যা শুধু অন করে নিলেই হবে আমি আপনাদের সেই সিস্টেমটাও বলে দিচ্ছি।


প্রথমে আপনার অপেরা ব্রাউসার ওপেন করলে একদম উপরে বাম পাশের ঠিক কর্নারে যে অপেরার লোগো দেখতে পারবেন সেটাতে ক্লিক করলে অপেরা ব্রাউসার এর সেটিংস অপশন এর পেজ ওপেন হবে। তখন আপনি সেই পেজের ড্রপ ডাউন মেনু থেকে Privacy & Security মেন্যুতে ক্লিক করলে যে পেজটি ওপেন হবে শেখানে দেখতে পারবেন VPN বলে একটি অপশন আছে। সেই VPN লেখা অপশনটিতে আপনাকে Enable VPN লেখা  যায়গাতে বাম পাশের ছোট্ট বক্সে টিক চিহ্ন দিয়ে দিতে হবে তাহলেই আপনার অপেরা ব্রাউসারের VPN অন হয়ে যাবে এবং আপনি সেই ব্রাউসার দিয়ে সব ব্লক সাইড ব্রাউস করতে পারবেন অনায়াশে। এছাড়াও আরো কিছু সহজ মাধ্যমে আপনি VPN সার্ভিস আপনার যেকোন ব্রাউসার দিয়ে ব্যবহার করতে পারেন যেমন Kproxy নামের এই VPN সার্ভিসটি ব্যবহার করতে আপনাকে কোন সফটওয়ার ডাউনলোডও করা লাগবে না বা ইন্সটলও করা লাগবে না। আপনাকে যেটা করতে হবে শুধু এই লিংকে গিয়ে https://kproxy.com/ যে পেজটি আসবে সেটাতে যে এড্রেসবার আছে শেখানে আপনি যেই সাইটটি ব্রাউজ করতে চাচ্ছেন বা ভিসিট করতে চাচ্ছেন সেটার এড্রেস লিখে ডান পাশের সার্ফ (Surf ) বাটনে ক্লিক করলেই আপনি VPN এর মাধ্যমে সেই নির্দিষ্ট সাইট ভিসিট করে দেখতে পারবেন। 

যেমন আপনি যদি “ইস্টিশন” ব্লগের ওয়েবসাইট এই Kproxoy দিয়ে ব্রাউজ করতে চান তাহলে আপনাকে সেই এড্রেসবারে লিখতে হবে www.istishon.com এবং Surf বাটনে ক্লিক করতে হবে তাহলে আপনি আপনার দেশ থেকে যদি “ইস্টিশন” ব্লগ বন্ধ করা থাকে বা ব্লক করে রাখা থাকে তারপরও আপনি এই সাইট ব্যবহার করতে পারবেন। অন্যান্য সাইটের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম। আর যদি কোন জিজ্ঞাসা থাকে তাহলে তো আমি আছিই কমেন্টস করে জানাতে পারেন আপনার সমস্যা। আমি না হলেও যারা এই বিষয়ে আমার থেকে বেশি এক্সপার্ট আছে তারা নিশ্চয় আপনার উওর দিবে।

---------- মৃত কালপুরুষ

                ২০/১২/২০১৭

শনিবার, ১১ নভেম্বর, ২০১৭

প্রকৃত ভার্চুয়াল জগৎ “অকুলাস গো” (Oculus Go)


নতুন প্রজন্মের ভি আর বা ভার্চুয়াল রিয়েলিটির অনাগত প্রযুক্তি ফেসবুকের “অকুলাস গো” সম্পর্কে কিছু ভুলধারনার কারনে আমার এই রিভিউটি লেখা। আসছে আগামী বছর ২০১৮ এর শুরুতেই আমরা এক প্রকৃত ভার্চুয়াল জগৎ এ প্রবেশ করতে যাচ্ছি বলে জানিয়েছেন ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা “মার্ক জুকারবার্গ” ও “হুগো বাররা” ভাইস প্রেসিডেন্ট, ভার্চুয়াল রিয়েলিটি। তারা বলেছে আজকে আমরা প্রযুক্তির গুরুত্বপুর্ণ সকল বিষয় উপোভোগ করে চলেছি। ভার্চুয়াল রিয়েলিটি বা ভি,আর এর সাথে আমরা সবাই পরিচিত আছি তাই এটা নিয়ে কিছু বলার প্রয়োজন নাই আশা করি। ভি,আর বা ভার্চুয়াল রিয়েলিটির জগতে আরেকটি নতুন মাত্রা যোগ হতে চলেছে যা আমাদের দেবে আরো স্বাধীনতা ও আরো বেশি এক্সেস করার সুবিধা। এটি ডিজাইন করা হয়েছে সেভাবেই যা পুর্বের সকল ভি,আর এর অভিজ্ঞতা থেকে অন্য কিছু দিবে আমাদের। পুর্বের ভি,আর হেডসেট গুলার মতো এতে মোবাইল ফোন বা ক্যাবল কানেক্ট করার প্রয়োজন পড়বে না। তারা আরো জানান অকুলাস গো হবে খুব সহজে ত্রিডি জগতে প্রবেশ করার সব চেয়ে সহজ উপায়। যার মুল্য ধরা হয়েছে ১৯৯ ডলার। এটি থেকে মানুষ ভার্চুয়াল জগতের মাধ্যমে সকল স্বাদ নিতে পারবেন, যেমন ত্রিডি মুভি দেখা, কোন লাইভ কনসার্ট দেখা, ভি,আর গেম খেলা ও বন্ধুদের সাথে লাইভে ভার্চুয়াল এর মাধ্যমে আড্ডা দেওয়া।


আসুন একটু দেখে নেই এই “অকুলাস গো” তে আসলেই কি থাকছে। প্রথমেই বলতে হয় এই ডিভাইসে থাকছে হাই রেজুলেশন ফার্স্ট সুইচ ওএলসিডি (OLED) স্ক্রিন সাথে আরো একটি স্ক্রিন টেকনোলজি এড করা হয়েছে যা চাক্ষুস স্পষ্টতা আরো বৃদ্ধি করবে যার রেজুলেশন অত্যান্ত হাই (২৫৬০ X ১৪৪০) যা প্রকৃত বাস্তব অনুভূতি দিবে ব্যাবহারকারীকে। আর বিশেষ করে নেক্সট জেনারেশনের উন্নত লেন্স ও গ্লাস এই থ্রিডি জগতের বাস্তবতা আরো ফুটিয়ে তুলবে। অকুলাস গো এর ফেব্রিক ব্যান্ড এর সাথেই আছে সাউন্ড সিস্টেম যা তে করে আলাদা হেডফোন ব্যাবহার করার প্রয়োজন নেই। সাথে বিল্ট ইন মাউথ স্পিকারও আছে। এর মাধ্যমে খুব সহজেই বন্ধুদের মাধ্যমে কথা বলা ও শোনা যাবে তবে কেউ চাইলে আলাদা হেডফোন ব্যাবহার করতে পারেন তার জন্য এই ডিভাইসে থাকছে একটি ৩.৫ মিমি হেডফোন জ্যাক। এই অকুলাস গো ভি,আর হেডসেটটি খুবই হাল্কা ও সহজে ব্যাবহার উপযোগী একটি ডিভাইস যার বেল্ট গুলি তৈরি করা হয়েছে খুবই নরম একজাতীয় ফেব্রিক যার সাথে থাকছে ইলাস্টিক।


ফেসবুকের মালিকানাধীন ওকুলাস গো ভিআর এর ভাইস প্রেসিডেন্ট হুগো বাররা আরো ঘোষণা করেছে, এটি একটি নতুন স্বতন্ত্র ভিআর হেডসেট যা পিসি বা স্মার্টফোনে সংযোগের প্রয়োজন থেকে ব্যবহারকারীদের মুক্ত করবে। তাই এতে থাকছে আরো উন্নত প্রযুক্তি। অকুলাস গো এর ভি আর হ্যাডসেটটিতে যে স্ক্রীন থাকবে  তাতে “ফিল ফ্যাক্টর” নামের একটি নতুন প্রযুক্তি যোগ করা হয়েছে যার কারনে ব্যাবহারকারী পিক্সেলের মাঝে যে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ফাকা অনুভব করতেন তার প্রভাব কমে যাবে। ব্যাবহারকারীর শরীরের অবস্থান ও তার দুই হাতের অবস্থান সনাক্ত করার জন্য থাকছে এই ডিভাইসটির সামনে সেন্সর ও ক্যামেরা যা অবস্থা্নগত ট্র্যাকিংযের সাহায্যে করবে। অকুলাস গো স্মার্টফোন চালিত গুগল ডে-ড্রীম এবং স্যামসাং গিয়ার ভিআর ও কর্ডবোর্ডের মতো ভিআর হ্যাডসেট বা ডিভাইস গুলি থেকে অনেক উন্নত হবে যাকে কিছুটা এইচটিসি ভাইভ এর উচ্চমাত্রার পিসি চালিত হ্যাডসেটের সাথে তুলনা করা যায়। এছাড়াও গিয়ার ভিআরের সকল এপস এতে সাপোর্ট করবে পাশাপাশি ফেসবুকের নতুন নতুন অকুলাস গো রেগুলার এপস থাকবে।


গত অক্টোবর মাসে এই সেমিনারে মার্ক জুকারবার্গ জানিয়েছিলেন ২০১৮ সালের প্রথম দিকে এটি সবাই কিনতে পারবে তবে চলতি মাসেই শুধুমাত্র ডেভেলপাররা এটি কিনে ব্যাবহার করতে পারছে। তিনি আরো বলে আমি আশা করছি প্রথম ধাপেই আমরা ১ বিলিয়ন মানুষকে এই থ্রিডি জগতে আনতে সক্ষম হবো অকুলাস গো এর মাধ্যমে। জুকারবার্গ এই ডিভাইসটিকে বলেছে এটি একটি “সর্বাধিক এক্সসেযোগ্য ভিআর হ্যাডসেট” ( “most accessible VR headset ever.”) হবে।


শুধু অকুলাস গো না সাথে এর আরেকটি ভার্সনের কথায় জানিয়েছেন মার্ক জুকারবার্গ। যার নাম হচ্ছে “অকুলাস গো সান্তা ক্রুজ” যেটি আরো উন্নত কিছু প্রযুক্তি নিয়ে সামনে আসছে। কিন্তু কবে নাগাত সেটি সাধারন ব্যাবহারকারীরা হাতে পাবে সে ব্যাপারে কিছুই বলনি। তবে আগামী বছরের শুরুতে যখন অকুলাস গো সবাই কিনতে পারবে তখন ডেভেলপাররা এই অকুলাস গো সান্তা ক্রুজ ডিভাইসটি কিনে ব্যাবহার করতে পারবে বলে জানানো হয়। সান্তা ক্রুজে থাকছে রঙ ও অল্প কিছু ভিন্নতা ও হাতের জন্য অত্যাধুনিক কন্ট্রোলার সুবিধা।

---------- মৃত কালপুরুষ
               ১১/১১/২০১৭


বৃহস্পতিবার, ৯ নভেম্বর, ২০১৭

বাংলাদেশের হারানো ঐতিহ্য “নৌকা বাইচ”



প্রাপ্ত ইতিহাস অনুযায়ী ধারনা করা হয় মিশরীয়রা পৃথিবীতে সবার আগে নৌকার ব্যাবহার ও আবিষ্কার করলেও খ্রিস্টপুর্বাব্দ ২০০০ এর দিকে প্রাচীন মেসোপটেমীয় সভ্যতাতে নৌকা বাইচের মতো একটি প্রতিযোগীতার উল্লেখ পাওয়া যায়। প্রাচীন মেসোপটেমীয় সভ্যতার মানুষেরা তাদের ইউফ্রেটিস ও টাইগ্রীস নদীতে একধরনের নৌকা বাইচের আয়োজন করতো। পরবর্তীতে অবশ্য মিশরীয় সভ্যতাতে তাদের নীল নদে এই নৌকা বাইচের চল শুরু হয়েছিলো। তাই নৌকা বাইচ এর আদি ঐতিহ্য জড়িয়ে আছে মেসোপটেমীয় ও মিশরীয় সভ্যতার সাথে। প্রাচীন এই প্রতিযোগীতাকে এখনো টিকিয়ে রাখতে অক্সফোর্ড ও ক্যামব্রীজ বিশ্ববিদ্যালয় আজো আয়োজন করে এই প্রতিযোগিতার। এবং এটি একটি জনপ্রিয় প্রতিযোগীতা হিসেবেই স্বীকৃত। নৌকা বাইচ ১৯০০ সাল থেকে অলিম্পিক প্রতিযোগাতায় বিশ্বব্যাপী একটি জনপ্রিয় প্রতিযোগীতা। অলিম্পিকে ১৯০০ সাল থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত মোট ১৩৫ টি ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয়েছে যার মধ্যে ২৬ বার যুক্ত্ররাষ্ট্র, ২৫ বার জার্মানী ও ১৪ বার যুক্ত্ররাজ্য বিজয়ী হয়।


প্রাচীন ভারতবর্ষে নৌকা বাইচ এর প্রচলন হয় ব্রিটিশদের মাধ্যমে। “বাইচ” শব্দটি একটি ফরাসি শব্দ, যার বাংলা অর্থ হচ্ছে প্রতিযোগিতা। নৌকা বাইচ ভারতবর্ষে চালু হবার পর ধীরে ধীরে তা এই জনপদের মানুষের মধ্যে একটি জনপ্রিয় প্রতিযোগিতা হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে এই অঞ্চলের নদী প্রধান দেশ গুলিতে এই প্রতিযোগিতাকে সেখানকার মানুষেরা আপন করে নিতে থাকে। নদীমাতৃক বাংলাদেশে নৌকাবাইচ লোকায়ত বাংলার লোকসংস্কৃতির একটি অংশ। তবে কবে এদেশে গণবিনোদন হিসেবে নৌকাবাইচের প্রচলন হযেছির তার সঠিক ইতিহাস পাওয়া যায় না। "বাইচ" শব্দটির বুৎপত্তি বিবেচনা করে অনুমিত হয়েছে যে মধ্যযুগের মুসলমান নবাবসুবেদারভূস্বামীরা, যাদের নৌবাহিনী দ্বারা এই প্রতিযোগিতামূলক বিনোদনের সূত্রপাত করেছিলেন। তবে এ বিষয়ে দুটি জনশ্রুতি আছে। একটি জনশ্রুতি জগন্নাথ দেবের স্নানযাত্রাকে কেন্দ্র করে। জগন্নাথ দেবের স্নান যাত্রার সময় স্নানার্থীদের নিয়ে বহু নৌকার ছড়াছড়ি ও দৌড়াদৌড়ি পড়ে যায়। এতেই মাঝি-মাল্লা-যাত্রীরা প্রতিযোগিতার আনন্দ পায়। এ থেকে কালক্রমে নৌকাবাইচের শুরু। দ্বিতীয় জনশ্রুতি পীরগাজীকে কেন্দ্র করে। আঠার শতকের শুরুর দিকে কোন এক গাজী পীর মেঘনা নদীর এক পাড়ে দাঁড়িয়ে অন্য পাড়ে থাকা তার ভক্তদের কাছে আসার আহ্বান করেন। কিন্তু ঘাটে কোন নৌকা ছিল না। ভক্তরা তার কাছে আসতে একটি ডিঙ্গি নৌকা খুঁজে বের করেন। যখনই নৌকাটি মাঝ নদীতে এলো তখনই নদীতে তোলপাড় আরম্ভ হল। নদী ফুলে ফেঁপে উঠলো। তখন চারপাশের যত নৌকা ছিল তারা খবর পেয়ে ছুটে আসেন। তখন সারি সারি নৌকা একে অন্যের সাথে পাল্লা দিয়ে ছুটে চলে। এ থেকেই নৌকা বাইচের গোড়াপত্তন হয়।


নদীমাতৃক এই বাংলাদেশে মুসলিম যুগের নবাব-বাদশাহদের আমলে নৌকা বাইচ বেশ জনপ্রিয় ছিল। অনেকে মনে করেন, নবাব বাদশাহদের নৌ বাহিনী থেকেই নৌকা বাইচের গোড়াপত্তন হয়। পূর্ববঙ্গের ভাটি অঞ্চলের রাজ্য জয় ও রাজ্য রক্ষার অন্যতম কৌশল ছিল নৌ শক্তি। বাংলার বার ভূঁইয়ারা নৌ বলেই মোগলদের সাথে যুদ্ধ করেছিলেন। মগ ও হার্মাদ জলদস্যুদের দমনে নৌ শক্তি কার্যকর ভূমিকা রাখে। এসব রণবহর বা নৌবহরে দীর্ঘাকৃতির ছিপ জাতীয় নৌকা থাকত।


বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় নৌকার বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য দেখতে পাওয়া যায়। ঢাকা, গফরগাঁও, ময়মনসিংহ ইত্যাদি এলাকায় বাইচের জন্য ব্যবহৃত হয় সাধারণত কোশা ধরনের নৌকা। এর গঠন সরু এবং এটি লম্বায় ১৫০ ফুট থেকে ২০০ ফুট হয়। এর সামনের ও পিছনের অংশ একেবারে সোজা। এটি দেশিয় শাল, শীল কড়ই, চাম্বুল ইত্যাদি গাছের কাঠ দ্বারা তৈরি করা হয়। টাঙ্গাইল ও পাবনা জেলায় নৌকা বাইচে সরু ও লম্বা দ্রুতগতিসম্পন্ন ছিপ জাতীয় নৌকা ব্যবহৃত হয়। এর গঠনও সাধারণত সরু এবং এটি লম্বায় ১৫০ ফুট থেকে ২০০ ফুট, তবে এর পিছনের দিকটা নদীর পানি থেকে প্রায় ৫ ফুট উঁচু ও সামনের দিকটা পানির সাথে মিলানো থাকে। এর সামনের ও পিছনের মাথায় চুমকির দ্বারা বিভিন্ন রকমের কারুকার্য করা হয়। এটিও শাল, গর্জন, শীল কড়ই, চাম্বুল ইত্যাদি কাঠ দ্বারা তৈরি করা হয়। কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, আজমিরিগঞ্জ ও সিলেট অঞ্চলে বাইচের জন্য সারেঙ্গি নৌকা ব্যবহার করা হয়। এটি সাধারণত ১৫০ ফুট থেকে ২০০ ফুট লম্বা হয় এবং এর প্রস্থ একটু বেশি (৫ থেকে ৬ ফুট) হয়ে থাকে। এগুলির সামনের ও পিছনের দিকটা হাঁসের মুখের মতো চ্যাপ্টা এবং পানি থেকে ২-৩ ফুট উঁচু থাকে। চট্টগ্রাম, নোয়াখালী জেলার নিম্নাঞ্চল ও সন্দ্বীপে বাইচের জন্য সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় সাম্পান। এটির গঠন জাহাজের মতো। ঢাকা ও ফরিদপুরে ব্যবহৃত হয় গয়না নৌকা। এগুলির দৈর্ঘ্য প্রায় ১০০ থেকে ১২৫ ফুট এবং মাঝখানটা ৮-৯ ফুট প্রশস্ত। গয়না নৌকার সামনের দিক পানি থেকে ৩ ফুট উঁচু এবং পিছনের দিক ৪-৫ ফুট উঁচু।


এই লিঙ্ক এর ভিডিওটি ২০১৪ সালে গোপালগঞ্জ, বাংলাদেশের একটি ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচের ফুটেজ যা প্রবাসী এক বড় ভাই “জয়ন্ত” ড্রোন দিয়ে ভিডিও করেছিলেন। এই নদীটি গোপালগঞ্জের কালীগঙ্গা নদীর একটি শাখা যা পুর্বে আরো অনেক বড় ছিলো। বর্তমানে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী এই ধরনের ছোট বড় অনেক আয়োজনে আমরা সরাসরি অংশগ্রহন করতে পারিনা তাই আমাদের অনেকের পক্ষে এমন দৃশ্য দেখা সম্ভব হয়না। সেই সাথে বর্তমান প্রজন্ম এই নৌকা বাইচ প্রতিযোগীতার সাথে খুব একটা পরিচিত না তাই এই ভিডিওটি শেয়ার করা।  

---------- মৃত কালপুরুষ
               ০৯/১১/২০১৭  


সোমবার, ১৬ অক্টোবর, ২০১৭

বাংলাদেশ সরকার ও ইহুদী নাসারাদের ষড়যন্ত্রকারী পেপ্যাল (Paypal)

ভেবেছিলাম চলতি মাসের ১৯ তারিখের আগে এই পেপ্যাল ইস্যু নিয়ে কোন কথা বলবো না। আগে দেখতে চাইছিলাম বাংলাদেশ সরকারের স্টেট মিনিস্টার অব আইসিটি জুনায়েদ আহমেদ পলক স্যার এই বিষয়টি সবাইকে ক্লিয়ার করে কিনা। আসলে আমাদের মন্ত্রী জুনেয়েদ আহমেদ পলক স্যার দেশের তরুন প্রজন্ম ও ফ্রিল্যন্সারদের জন্য একজন গর্বিত ব্যাক্তিত্ব যার ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মানে অনেক অবদান আছে যেটা আমাদের স্বীকার করতে হবে। ২০১৩ সালে একবার তিনি আমাদের আশা দিয়েছিলেন বাংলাদেশে এই পেপ্যাল সুবিধা চালু করার জন্য যে যে পদক্ষেপ গ্রহন করতে হবে তা তিনি করবেন। ইউএসএ তে তিনি সেবছরই পেপ্যাল ইউএস কর্পোরেশন এর সাথে আলোচনা শেষে আমাদের জানিয়েছিলেন পেপ্যাল নাকি এখনও বাংলাদেশে চালু করার মতো সময় হয়নি তারা আমাদেরকে পরিক্ষামূলক কিছু সার্ভিস ব্যবহারের সুযোগ দিতে চায় যেমন ঝুম এর সার্ভিস। এপর্যন্ত আমরা জানার পরে এই ইস্যুটি এখানেই দীর্ঘ সময়ের জন্য আটকে থাকে। বর্তমানে আজ আবার প্রায় ৪ বছর পরে এসে তিনি আমাদের আশার কথা শুনেয়েছেন চলতি মাসের ১৯ তারিখে বাংলাদেশে পেপ্যাল তার কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে। ৫ দিন আগে যশোর জেলার সফটওয়ার পার্ক পরিদর্শনে গিয়েও তিনি আবারও সেই একই কথা বলেন। গতকাল প্রথম আলোর প্রকাশিত একটি সংবাদে আমরা আবার দেখতে পেলাম এমন কিছু আভাষ যে পেপ্যাল এখনও আমাদের থেকে অনেক দূরে। তখনই একটু বুঝতে পেরেছিলাম এবারও বাঙ্গালীকে ভূগোল বুঝ দেওয়া হচ্ছে মনে হয়। অনেকেই দেখলাম খুশিতে আত্তহারা হচ্ছে এই কথা শুনে যে বাংলাদেশে অবশেষে সেই ইহুদী নাসারাদের পেপ্যাল সেবা চালু হতে যাচ্ছে।
একটু আগে সকাল ৯ টার দিকে মন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক স্যার তার একটি স্টাটাস এ সেটা ক্লিয়ার করলেন অন্তত সেই জন্য তাকে ধন্যবাদ দেওয়া যায়। দেখুন আমাদের আর ১৯ তারিখ পর্যন্ত অপেক্ষা করা লাগছে না এই ইস্যু নিয়ে। এখন আমরা সবাই ক্লিয়ার হতে পারলাম পেপ্যাল এর নামে আসলে বাংলাদেশে কি সেবা চালু করা হচ্ছে। এটা আসলে Xoom  জুম নামের আরেকটি মানি ট্রান্সফার সার্ভিস যা পেপ্যাল ইউএস কর্পোরেশন এর সাথে যৌথভাবে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে তাদের সেবা দিয়ে আসছেন। এটা এমন একটা ব্যাপার, আসছে শীতের ছুটিতে কেউ মেক্সিকো সী বিচ ভ্রমনে যাচ্ছে আর কেউ যাচ্ছে কক্সবাজার সী বিচে। কিছুক্ষন আগে জুনায়েদ আহমেদ পলক স্যার তার  Is this PayPal or is this Xoom ? নামক শিরোনামের এক স্টাটাস এ নানা ভাবে বুঝাতে চেয়েছেন যে জুম কোন অংশেই পেপ্যাল থেকে কমা কিছু নয়। আমি অত্যান্ত দুঃখের সাথে জানাচ্ছি যে আমাদের দেশের মন্ত্রী মিনিস্টার আর যারা প্রচুর লাফালাফি করছে পেপ্যাল এর সেবা চালু হবার কথা শুনে সেসব ফ্রিল্যান্সাররা কি আসলেই পেপ্যাল আর জুম এর মধ্যেকার পার্থক্য বুঝে কিনা। আসুন একটু জানার চেষ্টা করি পেপ্যাল কি আর ঝুম কি।

পেপ্যাল একটি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান যারা অর্থের স্থানান্তর বা হাতবদল ইন্টারনেটের মাধ্যমে করা সহায়তা দিয়ে থাকে। অননলাইন স্থানান্তরের এই পদ্ধতি গতানুগতিক অর্থের লেনদেনের পদ্ধতি যেমন চেক বা মানি অর্ডারের বিকল্প হিসেবে ব্যাবহৃত হয়ে থাকে। একটি পেপ্যালের একাউন্ট খোলার জন্য কোন ব্যাঙ্ক একাউন্টের ইলেকট্রনিক ডেবিট কার্ড অথবা ক্রেডিট কার্ডের প্রয়োজন পড়ে। পেপ্যালের মাধ্যমে লেনদেনের ক্ষেত্রে গৃহীতা পেপ্যাল কর্তৃপক্ষের নিকট চেকের জন্য আবেদন করতে পারে, অথবা নিজের পেপ্যাল একাউন্টের মাধ্যমে খরচ করতে পারে অথবা তার পেপ্যাল একাউন্টের সাথে সংযুক্ত ব্যাঙ্ক একাউন্টে জমা করতে পারে। পেপ্যাল অনলাইন বিক্রেতাদের জন্য অর্থ লেনদেনকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করে, এছাড়াও অনলাইন , নিলামের ওয়বসাইট, ও অন্যান্য বানিজ্যিক ওয়েবসাইট পেপ্যালের সেবা গ্রহণ করে যার জন্য পেপ্যাল ফী বা খরচ নিয়ে থাকে। এছাড়াও অর্থ গৃহণের জন্যেও ফী নিয়ে থাকে যা মোট গৃহীত অর্থের সমানুপাতিক হয়ে থাকে। এই ফী বা খরচ নির্ভর করে কোন দেশের মূদ্রা ব্যাবহার হচ্ছে, কিভাবে অর্থের লেনদেন হচ্ছে প্রেরক ও প্রাপকের দেশ, পাঠানো অর্থের পরিমাণ ও প্রাপকের একাউন্টের ধরণের ওপরে। এছাড়াও, ইবে ওয়েবসাইট থেকে পেপ্যালের মাধ্যমে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে কেনাকাটা করলে পেপ্যাল আলাদা অর্থ গ্রহণ করতে পারে যদি ক্রেতা ও বিক্রেতা ভিন্ন মূদ্রা ব্যাবহার করে।

বর্তমানে, পেপ্যাল ১৯০টি দেশে বাজারে পরিচালনা করে, এবং এইটি ২৩.২ কোটির বেশি অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করে, তাদের মাঝে সক্রিয়ের সংখ্যা ৮.৭ কোটির চেয়ে বেশি। পেপ্যাল ২৪ টি মূদ্রায় গ্রাহকদের অর্থ পাঠাতে, গ্রহণ করতে ও অর্থ সংরক্ষণ করার সুযোগ দিয়ে থাকে। এই মূদ্রাগুলো হল অস্ট্রেলিয়ান ডলার, ব্রাজিলের রিয়েল, কানাডার ডলার , চীনের ইউয়ান (শুধুমাত্র কিছু চীনা একাউন্টে ব্যাবহারযোগ্য), ইউরো, পাউন্ড স্টার্লিং, জাপানী ইয়েন, চেক ক্রোনা, ডেনিশ ক্রোন, হং কং ডলার , হাঙ্গেরীর ফ্রইন্ট, ইজরাইলের নতুন শেকেল, মালেশিয়ার রিঙ্গিত, মেক্সিকোর পেসো, নিউ জিল্যান্ডের ডলার , নরওয়ের ক্রোন, ফিলিপাইনের পেসো, পোল্যান্ডের যোলটি, সিঙ্গাপুরের ডলার, সুইডেনের ক্রোনা, সুইস ফ্র্যাঙ্ক, নতুন তাইওয়ানের ডলার, থাইল্যন্ড এর বাথ এবং U.Sআমেরিকান ডলার পেপ্যাল স্থানীয়ভাবে ২১ টি দেশে কাজ করে। এটা হচ্ছে পেপ্যাল ইউএস কর্পরেশন এর প্রাথমিক পরিচয়। এবার দেখুন জুম কি।

Xoom is a service of PayPal, Inc., a licensed provider of money transfer services. All money transmission is provided by PayPal, Inc. pursuant to PayPal, Inc.'s licenses. PayPal, Inc.   এই ঝুম ওপরের পেপ্যাল এর মতোই কিছুটা ব্যাতিক্রম আরেকটি মানি ট্রান্সফার সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান। ঝুম একটি ‘অনলাইন’ রেমিট্যান্স কোম্পানি। ঝুম এর মাধ্যামে টাকা পাঠানোর ‘উৎস’ হিসেবে ব্যাংক হিসাব, ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ডের নম্বর দিতে হবে। গন্তব্য হিসেবে বাংলাদেশের যেকোনো ব্যাংকের হিসাবের নম্বর উল্লেখ করা যাবে। xoom.com ওয়েবসাইটটি ভিজিট করে আমরা দেখতে পায় যে, টাকা পাঠানোর ‘উৎস’ হিসেবে যেসব ব্যাংকের হিসাব নম্বর দেওয়া যাবে, তাতে পৃথিবীর বহু দেশের বহু ব্যাংক রয়েছে। আর ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ডের যে নম্বর ব্যবহার করা যাবে, তা যেকোনো ব্যাংক কর্তৃক ইস্যু করা ভিসা ও মাস্টার কার্ড হতে হবে। কিন্তু টাকা পাঠানোর উৎস হিসেবে ‘পেপ্যাল অ্যাকাউন্ট’ নির্বাচন করার কোনো সুযোগ নেই। লক্ষণীয় যে অন্যান্য রেমিট্যান্স কোম্পানির মতো ঝুমের কোনো সরাসরি এজেন্টও নেই, যেখানে গিয়ে ক্যাশ প্রদান করা যাবে।

এবার আমার পরিষ্কার কথা শুনুন। পেপ্যাল সরাসরি এমন কোনো সার্ভিস নিয়ে আপাতত বাংলাদেশে আসছে না, আসছে অন্যভাবে। পেপ্যাল অনেক আগেই ঝুম (xoom.com) নামের আমেরিকাভিত্তিক এই অনলাইন রেমিট্যান্স কোম্পানিকে কিনে নিয়েছে, যার মাধ্যমে তারা বাংলাদেশে শুধু রেমিট্যান্সের টাকা পাঠানোর সার্ভিস প্রদান করবে। কিন্তু আমাদের একটু ভালোভাবে বুঝতে হবে এখানে যেসব বাংলাদেশি ফ্রিল্যান্সররা তাদের আয় করা টাকা লেনদেন করবেন এটার মালিক কিন্তু তারা নিজেই কারন এই টাকা তার ইনকাম করা টাকা এটা রেমিট্যান্স না। তবে যেহেতু পেপ্যাল (PayPal) ‘ঝুম’ নামের এই অনলাইনভিত্তিক রেমিট্যান্স কোম্পানিকে কিনে নিয়েছে, তাই আশা করা যায় যে অচিরেই কোম্পানিটি ঝুম সিস্টেমে টাকা পাঠানোর উৎস হিসেবে ‘পেপ্যাল হিসাবকে’ অন্তর্ভুক্ত করবে। তখন আমাদের দেশের অগণিত ফ্রিল্যান্সার সরাসরি তাঁদের পেপ্যাল অ্যাকাউন্টে যে ডলার জমা হবে, তা ঝুমের মাধ্যমে বাংলাদেশে আনতে পারবেন।

আজকের এই পেপ্যাল বিষয়ক শেষ কথা দেখে আমার আবার মনে হলো যে বাংলাদেশে বহুক প্রচলিত নেটেলার সার্ভিস এই ঝুম থেকে অনেক ভালো কাজ করছে। তবে যেটা বলতে চাই সেটা হচ্ছে পেপ্যাল এর বদলে ঝুম এর পেছনে না ছুটে পেপ্যাল বাংলাদেশকে যে সমস্ত শর্ত দিয়েছিল সেগুলো পূরণ করে কিভাবে পেপ্যালকে দেশে আনা যায় সেই চিন্তা করা। আমার মনে হয় বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সাররা আবারও আরেকবার ধোকা খেলো কারন তাদের সাথে আবারও একটা বাটপারি করা হলো। কারন হিসেবে বলবো যেই সরকার কথায় কথায় মুক্তিযুদ্ধের রেফারেন্স দেয় অথচ অসংখ্য তরুণদের দাবী এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রমানের বড় সুযোগ এই পেপাল চালু করার কথা বলে ভুয়া পেপাল ঝুম বা পেপ্যাল এর বাচ্চা বা জটিল একটি পদ্ধতি তারা উদ্ভোধন করতে যাচ্ছে ঢাক ঢোল পিটিয়ে যেটা সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশে গড়ার পথে একটি ব্যর্থ প্রচেষ্টা মনে করি। যেখানে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম ফ্রিল্যান্সিং এর বাজার হল বাংলাদেশ আর সেখানে পেপালের মত জনপ্রিয় একটি অর্থ প্রেরণ স্থানান্তর সেবা চালু না করতে পারা সরকারের বড় অযোগ্যতা  ও ব্যর্থতা প্রমানে যথেষ্ট বলে মনে করি যার তীব্র নিন্দা জানাই।
----------- মৃত কালপুরুষ
  ১৭/১০/২০১৭