২৬ মার্চ ১৯৭১ থেকে সক্রিয় হওয়া বাংলাদেশে সেনাবাহিনীর বিভিন্ন কৃতিত্বে মৎস্যভুক বাঙ্গালি জাতি সবসময় শ্রদ্ধা জানিয়ে আসছে। বাংলাদেশ সামরিক বাহিনীর এই শাখাটিকে আমিও আমার অন্তর থেকে শ্রদ্ধা করি। স্থল সীমাস্থ নিরাপত্তায় আমার একমাত্র ভরসা হচ্ছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। যে কারনে মনে করছি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সংক্ষিপ্ত পরিচয় দেওয়া দরকার।
ভারতীয় উপমহাদেশের অন্যান্য সেনাবাহিনীর মতো ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর আদলে গঠিত হয়েছে এই বাহিনী সাতটি ডিভিশন নিয়ে। অবশ্য এই বাহিনী বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর কৌশলগত পরিকল্পনা কার্যপ্রণালী, প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি এবং নন-কমিশন্ড অফিসার প্রশিক্ষণ পদ্ধতি গ্রহণ করেছে৷ এটি গোলন্দাজ, সাঁজোয়া ও পদাতিক ইউনিট দ্বারা সজ্জিত একটি বাহিনী।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বাংলাদেশ সামরিক বাহিনীর একটি শাখা। এই বাহিনী বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের পরে ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দের ২৬শে ডিসেম্বর পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর বাঙালি সেনা ও মুক্তিবাহিনীর সদস্যদের নিয়ে গঠিত হয়। বর্তমানে এই বাহিনীর সামর্থ্য প্রায় ৩০০,০০০ সেনা সদস্য।
অধিকন্তু এই বাহিনী, শান্তি-রক্ষী বাহিনী হিসাবে তার সামর্থ্য উন্নত করতে উৎসাহী এবং সেই লক্ষে মার্কিন বাহিনীর সাথে একযোগে কাজ করছে ৷ ২০১৫ সালের জানুয়ারি মাসে এই বাহিনীতে মহিলা সৈনিকদের প্রথম ব্যাচ পাসিং আউট প্যারেড (প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ) করে ৷ আধুনিক যুগের সাথে তাল মিলিয়ে নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য যেমন প্রয়োজন অত্যাধুনিক যুদ্ধযান ও অস্ত্র শস্ত্র ঠিক তেমনি প্রয়োজন একজন সঠিক প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত সৈনিকেরও। সেটা বাংলাদেশ সেনাবাহিনী খুব ভালো করেই জানে।
অধিকন্তু এই বাহিনী, শান্তি-রক্ষী বাহিনী হিসাবে তার সামর্থ্য উন্নত করতে উৎসাহী এবং সেই লক্ষে মার্কিন বাহিনীর সাথে একযোগে কাজ করছে ৷ ২০১৫ সালের জানুয়ারি মাসে এই বাহিনীতে মহিলা সৈনিকদের প্রথম ব্যাচ পাসিং আউট প্যারেড (প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ) করে ৷ আধুনিক যুগের সাথে তাল মিলিয়ে নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য যেমন প্রয়োজন অত্যাধুনিক যুদ্ধযান ও অস্ত্র শস্ত্র ঠিক তেমনি প্রয়োজন একজন সঠিক প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত সৈনিকেরও। সেটা বাংলাদেশ সেনাবাহিনী খুব ভালো করেই জানে।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদর দপ্তর ঢাকা সেনানিবাস সহ বাংলাদেশে সর্বমোট ২৫টি সেনানিবাস এর তালিকা পাওয়া যায়। এর বাইরে নির্মাণাধীন অবস্থায় আছে পটুয়াখালী জেলার পায়রা বন্দরের পশ্চিমে গড়ে উঠা নতুন সেনানিবাস। সেনা সদর দপ্তর এর মাধ্যমে ইনফোরমেশন টেকনোলজি ডাইরেক্টরেট, জেনারেল স্টাফ ব্রাঞ্চ, আর্মি হেডকোয়ার্টার, ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট কর্তৃক একটি ওয়েবসাইট পরিচালিত হয়ে আসছে। যেখানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সম্পর্কে অনেক তথ্য উপাত্ত দেওয়া আছে। সাধারন মানুষের জন্য সাইটে যোগাযোগ করার একটি অপশন বাদেও শুধুমাত্র সেনা অফিসারদের জন্য সাইটে রেজিস্ট্রি করার অপশন আছে ওয়েব মেইল এর জন্য। সাধারণ জনগনের যোগাযোগের জন্য যে অপশনটি দেওয়া আছে সেখানে আগে ব্যক্তির ই মেইল, মোবাইল নাম্বার, নাম ইত্যাদি দিয়ে একটি ভেরিফিকেশন কোড চেয়ে আবেদন করতে হয়। কোডটি হাতে পেলে যে কেউ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদরদপ্তর এর সাথে যোগাযোগ করতে পারে।
আমি গতকাল বেশ কয়েকবার আবেদন করেও যে কোডটি ই মেইল করে দেওয়ার কথা বলা হচ্ছিল সেটা আমাকে দেওয়া হয়নি। এটা আমার অভিযোগ না। হয়তো ওয়েবসাইট মেইন্টেনেন্স এর ত্রুটি হতে পারে। পরবর্তীতে আমি বাধ্য হয়ে সেনাবাহিনীর অভ্যান্তরীন তথ্যকেন্দ্রের একটি ই মেইল এড্রেসে কিছু তথ্য দিয়ে একটি ই মেইল করি। যে কারনেই বাধ্য হয়ে এই খোলা চিঠি লেখার প্রয়োজন মনে করেছি। আমি মনে করি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি রক্ষাকরা যেমন প্রতিটি সেনা সদস্যের দায়িত্ব। ঠিক তেমনই বাংলাদেশের প্রতিটি সচেতন নাগরিকেরও দায়িত্ব।
সম্প্রতি মায়ানমার এর অভ্যন্তরীণ একটি বড় সমস্যা নিয়ে আমরা সবাই কমবেশি বিচলিত। কারন এই ইস্যু টি খুবই সেনসিটিভ একটি ইস্যু। যেটা নিয়ে বাংলাদেশের অধিকাংশ মাছ খেকো বাঙ্গালীর মধ্যেই আছে বিভিন্ন ধরনের ভুল ধারনার গোলযোগ। আর ঠিক এই সুযোগটি কাজে লাগাচ্ছে এক শ্রেনীর সক্রিয় কিছু বাংলাদেশি আগডুম বাগডুম ঘোড়াডুম টাইপের সংবাদ মাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ার কিছু সক্রিয় গ্রুপ ও পেজ। আমি বাংলাদেশের আশ্রয় শিবিরে আশ্রয় নেওয়া এবং বাংলাদেশ মায়ানমার এর বর্ডারে দাঁড়িয়ে থাকা সেই ১১ লক্ষ রোহিঙ্গা জাতির জন্য সমবেদনা জানিয়ে কথা গুলি বলছি।
এদের প্রকৃত উদ্দেশ্য হচ্ছে মায়ানমার এর অভ্যন্তরীণ সমস্যাকে কেন্দ্র করে আমাদের দেশের মধ্যে জাতিগত বা সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাধাবার চেষ্টা করা। আর আমি জানি দেশের সচেতন নাগরিকেরা তা খুব ভালো করেই জানেন। কিন্তু এই বিষয়গুলি খতিয়ে দেখার জন্য আমি সরকারকে বিশেষ ভাবে অনুরোধ করছি। উল্টাপাল্টা ছবি, ভিডিও ও রেফারেন্স বিহীন যে সংবাদ প্রচার করে মানুষকে অনেক আগে থেকেই একটি মহল এই অনলাইন ও সোশ্যাল মিডিয়া বিশেষ করে ফেসবুকের মাধ্যমে বিভিন্নভাবে বিভ্রান্ত করে আসছে তাদের বিরুদ্ধে সরকারের এখনই ব্যবস্থা নেওয়া উচিৎ বলে মনে করি। গতকাল বাংলাদেশ সেনাবাহিনী নামের একটি ফেক ফেসবুক পেজ থেকে সেনাবাহিনীর ইউনিফরম পরা সেনাসদস্যদের ছবি ব্যবহার করে এই রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে উস্কানি মুলুক একটি পোস্ট এর কথা আমাকে জানাই একজন। আমি সেই বাংলাদেশ সেনাবাহিনী লেখা পেজটিতে দেখি প্রায় ২ লক্ষ ৩১ হাজার ফলোয়ার বা সদস্য আছে। এদের অনেকেই বুঝে বা না বুঝেই সেই পেজে লাইক দিয়েছে। আর এই পেজের এডমিন যিনি সে এই জাতীয় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যদের ইউনিফর্ম পরিহিত অসংখ্য ছবি আপলোড করে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টির উস্কানি দিয়ে যাচ্ছে।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি রক্ষা করার দায়িত্ব আমাদের সকলের। যারা বিশ্বের দরবারে এই সামরিক বাহিনীর অন্য চিত্র তুলে ধরছে তাদের এখনই রুখতে হবে। সেই মনোভাব থেকেই আমার এই লেখা। জানিনা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই লেখা দেখতে পারবে কিনা। যদি দেখে থাকেন বা কেউ সেই পর্যন্ত পৌছিয়ে দেবার সহযোগিতা করে থাকেন তবে কৃতজ্ঞ থাকবো। আমার কাছে এই বিষয়ে যথাযথ প্রমান আছে। যে কেউ এই নামের ফেসবুক পেজে গিয়ে তা দেখতে পারেন। আর এই জাতীয় উস্কানি মুলক পোস্টের কারনে মাছ খেকো বাঙ্গালি জাতির পরিচয় নিম্নরুপ সেটাও দেখে নিন।
এই স্টাটাস টি Sudarshu Chakma নামের একটি ছেলে গতকাল রাত ১০ টায় তার ওয়ালে পোস্ট করে। আমার পরিচিত একজনের মাধ্যমে লেখাটি দেখি। এখানে তার হুবহু তুলে দিলাম।
"একটু আগে শুনলাম ঢাকা শহরের মিরপুর -১০ নাম্বারে আমার এক বন্ধুকে মেরেছে কিছু উগ্র বাঙালি ছেলে শুধুমাত্র সে একজন বৌদ্ধ ( মারমা) বলে। । সে যখন তার বন্ধুদের সাথে দেখা করার জন্য রাস্তা দিয়ে হাটছিল তখন নাকি রাস্তার পাশে থাকা কিছু বাঙালি ছেলে তার চেহারা দেখে তাকে থামিয়ে জিজ্ঞেস করে সে বৌদ্ধ কিনা? সে উত্তর দেওয়ার সাথে সাথে তারা ঘুষি দিতে থাকে। সে কোন মতে সেখান থেকে পালিয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর তার বন্ধুদের নিয়ে সেখানে আসলে আর তাদের দেখতে পাইনি। এই হলো অবস্থা!! কয়েকদিন আগে চট্টগ্রাম শহরেও এ রকম ঘটনা ঘটেছে। রামু, তাইন্ডং, বগাছড়ি কিংবা লুংগদু যখন সেটেলার বাঙালিদের সাম্প্রদায়িকতার অনলে পুড়ছিল, এ ঘটনার রেশ ধরে কি কোন আরাকানি দ্বারা কোন রোহিঙ্গা মারধরের শিখার হয়েছিল? অবশ্যই নয়। কিন্তু আরাকানিদের দ্বারা যখন রোহিঙ্গাদের উপর আঘাত আসে, ঠিকি এর রেশ এদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর বয়ে যায়। এই থেকে এটাই বোঝো যায়, এদেশে ধর্মীয় মৌলবাদের মাত্রা কতটা তীব্র , কতটা উন্মাদ ।"
এছাড়াও বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বিচ্ছিন্ন ভাবে শোনা যাচ্ছে বৌদ্ধ ভিক্ষুদেরকে অপমানের কথা। এই জাতীয় ঘটনা ঘটানোর জন্য একমাত্র দায়ী এই জাতীয় উস্কানি মুলক কথাবার্তা ও ছবি। আমার কাছে কয়েকটি প্রমান আছে। অন্য একটি দেশের অভ্যন্তরীণ কোন সমস্যার কারনে যদি আমার দেশের মধ্যে কোন মানুষ ভিকটিম হয়, আমি তার তীব্র নিন্দা জানাবো এটাই স্বাভাবিক। পাশাপাশি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় মহল কে অনুরোধ করবো এ জাতিয় বিষয়গুলি খতিয়ে দেখার। এবং তার যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করার।
---------- মৃত কালপুরুষ
১২/০৯/২০১৭
১২/০৯/২০১৭

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন