মুক্তচিন্তা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
মুক্তচিন্তা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

মঙ্গলবার, ৬ নভেম্বর, ২০১৮

মডারেট ধার্মিক হলেও সে কি পারবে তার আদর্শ গোপন রাখতে ?


প্রমাণ এই যে দেখুন, সম্প্রতি কওমী মাদ্রাসা বিষয়ক ইস্যু নিয়ে জনৈক সেই বিজ্ঞানমনষ্ক লেখক আরিফ আজাদের ভাষ্য। একটা বিচার করবেন সকলেই নিরাপেক্ষভাবে, এটাই কি মডারেট মুসলিমদের আধুনিক জিহাদের ডাক ? কারণ এরা বলছে সময় এখনও ফুরিয়ে যায়নি, সামনে সুসময় আসবেই এবং তারাও নাকি সেই প্রতীক্ষায় আছে। আর তাছাড়াও সে তার সম্পুর্ণ বক্তব্যে এটাই প্রকাশ করেছেন যে হেফাযতে ইসলাম প্রধানমন্ত্রীকে যে সংবর্ধনা দিয়েছে তাতে তারা মোটেও খুশি নয়। 
তাদের যুদ্ধই নাকি আওয়ামীলীগের সাথে। এইযে সোস্যাল মিডিয়াতে তার একটি বিশাল ফলোয়ার গোষ্ঠী, যাদেরকে সে প্রায়ই এই জাতীয় উস্কানি দিয়ে তাদের ব্রেন ওয়াশ করে এবং দেশের সরকারের বিরুদ্ধে দাড় করিয়ে দেয় বাংলাদেশ সরকার কি তাদের চোখে দেখে না ? 
নাকি এইযে এতো সাইবার এক্ট, স্পেশাল টিম তার সবই শুধুই মুক্তচিন্তক ও ব্লগারদের স্বাধীন মতামত প্রকাশে বাধা দেবার জন্যই তৈরি করা হয়েছে ?
আমরা ইতিহাস থেকে জানতে পারি পাকিস্তান গঠিত হবার মাত্র ২৪ বছরের মাথায় ধর্মীও মৌলবাদ আর ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করার ফলে ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের সাথে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ডাকে বাঙালী জাতি সাড়া দিয়ে দীর্ঘ ৯ মাস মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে প্রায় ৩০ লক্ষ বাঙালীর প্রাণ আর ২ লক্ষ নারীর সম্ভ্রমের বিনিময়ে ভৌগলিক ভাবে স্বাধীনতা অর্জন করেছিলো বাঙ্গালী জাতি।
এই ১৯৭১ এ যারা স্বাধীনতা আন্দোলনের বিপরীতে থেকে পাকিস্তানি সেনাদের সাথে কাধে কাধ মিলিয়ে বাঙালী জাতিকে হত্যা, ধর্ষণ, লুট করতে সহযোগিতা করেছিলো তাদের ৯০% এর বেশি ছিলো মাদ্রাসার ছাত্র এবং শিক্ষক। এই কথা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু বেশ কয়েকবার অত্যান্ত দুঃখের সাথে উপস্থাপন করেছিলো যখন সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশে তাদের যুদ্ধাপরাধী হিসাবে বিচার করা হচ্ছিলো। 
তারপরেও বঙ্গবন্ধু তাদের দূরে সরিয়ে না দিয়ে তৈরি করে দিয়েছিলেন “ইসলামী ফাইন্ডেশন” এবং মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যাবস্থাকে স্বীকৃতি দিয়েছিলেন।
বর্তমানে বাংলাদেশে টিকে থাকা আজকের দিনের সকল মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থার সুত্রপাত ঠিক এভাবেই। আজ স্বাধীনতার ৪৭ বছর পরে যখন দেখা গেলো এই মাদ্রাসার একটি বিরাট জনগোষ্ঠী বাংলাদেশের জন্য বোঝা হয়ে চলেছে, কারণ তাদের শিক্ষা ব্যবস্থা একেবারেই মানসম্মত নয়, আধুনিক বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলার মতো কোন যোগ্যতায় এই মাদ্রসা শিক্ষার্থীদের নেই, যেকারণেই বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তাদেরকে একটা মানসম্মত পর্যায়ে নিয়ে আসার জন্য কওমী মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদীস শিক্ষাব্যাবস্থাকে বাংলাদেশের সাধারণ শিক্ষা ব্যবস্থার মাস্টার্স এর সমমান ঘোষণা করলেন।
এর মাধ্যমে মাদ্রাসা শিক্ষার্থিদের অন্ধকারে না ঠেলে দিয়ে সাথে নিয়েই একটি আধুনিক বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখলেন। 
শেখানে এই "আরিফ আজাদ"-এর মতো হাতে গোনা কিছু কৌশলে উগ্রবাদী এবং সেই মাদ্রাসার তরুনদের মধ্যে উস্কানী দাতা মডারেট ধার্মিকরা একেবারেই খুশি হতে পারলেন না। 
দেখুন বর্তমানে প্রকাশ্যে তারা তাদের এই মনোভাব কিভাবে প্রকাশ করছে। এখন শুধু একটি প্রশ্ন সবার আগে চলে আসছে, আসলে তারা চায় কি ?
মৃত কালপুরুষ
০৫/১১/২০১৮
ঢাকা

অভিজিৎ রায়’দের কোনদিন হত্যা করা সম্ভব নয়, তারা এভাবেই বেচেঁ থাকবে।



বর্তমানে বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে সোস্যাল মিডিয়ার তূমুল আলোচনা সমালোচনার মধ্যে একটি মন ভালো করে দেবার মতো তথ্য আজ আবারও নতুন করে বাংলাভাষীদের উদ্দেশ্যে বাংলাতে প্রকাশ করলেন নতুন প্রজন্ম এবং মুক্তচিন্তকদের বহুল পঠিত বই “বিবর্তনের পথ ধরে” বইয়ের লেখিকা এবং বাংলাদেশে জ্ঞান বিজ্ঞানের প্রচার এবং প্রসারে অগ্রনী ভূমিকা রাখা অভিজিৎ রায়ের প্রতিষ্ঠিত “মুক্তমনা”র বর্তমান প্রধান Bonya Ahmed আপু। তিনি বাংলাদেশের এলজিবিটিকিউ আন্দোলনের সাথে যারা আজ জড়িত এবং এই আন্দোলনের জন্য অতীতে বাংলাদেশের একশ্রেনীর মানুষের হাতে নিজেদের জীবন দিতে হয়েছিলো যাদের তাদের জন্য একটি বৃহৎ প্রাপ্তির খবর দিলেন আমাদের।
বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে এলজিবিটিকিউ বা (LGBTQ - Lesbian, Gay, Bi-sexual, Transgender, Queer) সম্পর্কে চিরকাল ধরে প্রচলিত থাকা নানা কুসংস্কার এবং তাদের প্রতি ঘৃণার বিপক্ষে কথা বলার বা এই সম্পর্কে সাধারণ মানুষদের সঠিক তথ্য দেবার মতো কেউ ছিলোনা একটা সময়। যে কারণেই প্রকৃতিগতভাবেই যারা মানসিক এবং শারিরিক ভাবে Lesbian, Gay, Bi-sexual, Transgender, Queer এর অধিকারী ছিলেন তাদের কথা চাপা পড়েই থাকতো বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের কাছে। তাদের প্রতি একপ্রকারের ক্ষোভ, ঘৃণা এবং সর্বপরী কিছু ধর্মীও ও কিছু সামাজিক নেতিবাচক ধ্যান ধারনার কারনে নিজেদের অধিকার আদায়ে ব্যার্থ হওয়া এবং নিজেদের অধিকারের কথা বলার কোন উপাই খুজে পেতো না তারা। এরই মধ্যে এই বিষয়ে তাদের কথা বলা এবং তাদের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে ধীরে ধীরে এগিয়ে আসতে দেখেছিলাম প্রথম ২০০১ সালের মে মাসে প্রকৌশলী, লেখক এবং ব্লগার অভিজিৎ রায় এর প্রতিষ্ঠিত “মুক্তমনা” নামক মুক্তবুদ্ধির চর্চাকারী ওয়েবসাই্টটিকে।
মুক্তমনার ওয়েবসাইটে প্রথম তাদের পক্ষে কমবেশি অনেকেই কথা বলা শুরু করেছিলো। এখান থেকেই তাদের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে অনুপ্রাণিত হয়ে অনেক পরে প্রকাশিত হওয়া একটি ম্যাগাজিন এর নাম সবাই জানতে পারলো প্রথম ২০১৪ সালের জানুয়ারী মাসে। অনেকেই হয়তো ধরতে পেরেছেন আমি সেই “রুপবান” ম্যাগাজিনের কথাই বলছি। আমার জানা মতে এখন পর্যন্ত বর্তমানে বাংলাদেশে এই “রুপবান” ম্যাগাজিনই প্রথম এবং একমাত্র ম্যাগাজিন যা Lesbian, Gay, Bi-sexual, Transgender, Queer এর পক্ষে কথা বলে। এই বিষয়টিকে বাংলাদেশের গোড়া ধার্মীক এবং বিজ্ঞান সম্পর্কে যাদের জ্ঞান সীমিত তাদের পক্ষে মেনে নেওয়াটা যে একেবারেই কঠিন কাজ ছিলো সেটা সকলেরই জানা ছিলো। সমস্যাটা ঠিক তখন শুরু হয়নি হয়েছিলো তার আরো পরে যখন এই রুপবান ম্যাগাজিনের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক এবং সহ-সম্পাদক দুইজন এলজিবিটি হিউম্যান রাইটস এক্টিভিস্ট কে বাংলাদেশের মৌলবাদীদের টার্গেটে ফেলা হলো।
বাংলাদেশি একজন কমিউনিটি লিডার এবং এলজিবিটি হিউম্যান রাইটস এক্টিভিস্ট জুলহাজ মান্নান এই রুপবান পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা এবং সম্পাদক ছিলেন জিনি প্রথম ২০১৪ সালের জানুয়ারীতে রুপবান নামক ম্যাগাজিন প্রকাশ করেন। এরপরে ২০১৫ সালে জুলহাস মান্নান এর সাথে তার বন্ধু মাহাবুব রাব্বী তনয় এই রুপবান পত্রিকার প্রথম সাধারণ সম্পাদক হিসাবে যোগ দেন এবং এই এলজিবিটি আন্দোলনের পক্ষে কাজ করা শুরু করেন। কিন্তু তারা দুইজনেই খুব শীঘ্রই বাংলাদেশের মৌলবাদীদের টার্গেটে পরিনত হয় রুপবান নামক ম্যাগাজিন প্রকাশের ফলে। মাত্র ২ বছরের ব্যাবধানে ২০১৬ সালের এপ্রিল মাসে এই দুইজনকে একই সাথে তাদের বাসায় ঢুকে নির্মমভাবে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে এবং গুলি করে হত্যা করে কিছু ধর্মীও উগ্রবাদী অমানুষেরা। তারপরেও থেমে থাকেনি মানুষের অধিকারের পক্ষে রুপবানের কথা বলা এবং এগিয়ে চলা।
সম্প্রতি হঠাৎ বন্যা আপুর এই পোস্ট দেখে সত্যিই খুব ভালো লাগছে যে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্যে সাহসিকতার সাথে কাজ করা এবং নিজেদের জীবন দিয়ে যারা তার প্রতিদান দিয়েছেন সেই দুইজন মানুষ এবং তাদের প্রতিষ্ঠিত ম্যাগাজিন রুপবানকে মুল্যায়ন করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিকোর একটি প্রতিষ্ঠান ফ্রিডম ফ্রম রিলিজিয়ন ফাউন্ডেশন (FFRF) এবং মুক্তমনা এটা শুনে। সেই সাথে আরো ভালো লাগছে এটা দেখে যে (FFRF) এবং মুক্তমনা এই বিষয়ক যে বাৎসরিক পদক বা এওয়ার্ড দেবার সীদ্ধান্ত নিয়েছেন যার নামকরণ করা হয়েছে “অভিজিৎ সাহসিকতা পুরস্কার” বা (Avijit Courage Award) নামে সেটা দেখে। বাংলাদেশের মুক্তবুদ্ধির চর্চাকারীদের আলোর যাত্রী “অভিজিৎ রায়” এভাবেই আমাদের মাঝে থাকবে। যারা একদিন “অভিজিৎ রায়কে” প্রকাশ্যে হত্যা করেছিলো তারা আবারও দেখুক তারা ব্যার্থ, তারা অভিজিৎ রায়কে কখনই হত্যা করতে পারবেনা, অভিজিৎ রায়েরা এভাবেই বেচেঁ থাকবে সকলের মাঝে চিরোকাল। কৃতজ্ঞতা জানাই (FFRF) এবং মুক্তমনা কে। এবং অনেক অনেক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা রইলো রূপবান এর প্রতি।
বন্যা আপুর টাইমলাইনে প্রকাশিত এই বিষয়ক বাংলা লেখাটি এই লিংকে দেখতে পারেন। https://www.facebook.com/bonya.ahmed/posts/2058823654139417
-মৃত কালপুরুষ
০৬/১১/২০১৮

বৃহস্পতিবার, ৪ অক্টোবর, ২০১৮

একটি প্রশ্ন।




মূল বিষয়টি সত্যিই খুব দারুন ছিলো, এভাবে অনেকেই সব কিছু দেখে না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা যদি এভাবেই চিন্তা করতে পারে তাহলে আগামীর বাংলাদেশ হবে অনেক উন্নত যা প্রকাশ করে বোঝানো যাবে না। গতকাল আমিও এই ছবি গুলোর থেকেই একটা ছবি দেখেছিলাম কারো পোস্ট করা ফেসবুক স্টাটাসে, যেখানে ছবির ছেলেটির চেহারা ঢেকে দেওয়া হয়েছিলো। এই কারনে অনেকেই মন্তব্য করেছেন হয়তো নেতিবাচক মনোভাব নিয়ে। আমার মনে হয়েছে সেটা করা ঠিক আছে। কারণ, প্রতীকি ছবি হোক আর কোন সন্তান গ্রাজুয়েট হবার পরে তার রিক্সাচালক বাবাকে তার গাউন পরিয়ে যদি ছবি তুলে সোস্যাল মিডিয়াতে দিয়েই থাকেন তাহলে তার চেহারা ঢেকে সেই ছবি শেয়ার করা ঠিক হয়নি। এতে করে একটা হীনমানসিকতার প্রকাশ দেখা যায়।

এখন কথা হচ্ছে, যারা না বুঝেই এটা নিয়ে নেতিবাচক স্টাটাস দিয়েছিলেন বা মন্তব্য করেছিলেন তারা মূল ঘটনা না জেনে না বুঝে করেছেন ঠিক আছে তারা সবাই বোকামী করেছেন। অতিরিক্ত আবেগ দেখাতে গিয়ে তারা বোকা হয়েছেন। আর যদি এই ছবির ব্যাক্তিটির কাছ থেকে বা ফটোগ্রাফারের কাছ থেকে আসল ছবি নিয়ে কেউ ছেলেটির মুখ ঢেকে সেই ছবি আবার নতুন করে পাবলিশড করে থাকেন তাহলে যারা ছেলেটির চেহারা ঢাকার কাজটি করেছেন সেটা চরম অন্যায় করেছেন। এই কারণেই অন্যায় হয়েছে, ছবিটিতে সকল বাবাদেরকে ছোট করে দেখানো হচ্ছে তাই। আর সর্বোপরি সেই ছবির আসল ব্যাক্তিটির (যদি হয়ে থাকে) নিচের পোস্টটি থেকে জানা যাচ্ছে সে নিজেই নাকি তার মুখটি ঢেকে সোস্যাল মিডিয়াতে তা শেয়ার করেছিলো।

এটা তার করা নিচের পোস্টে তার স্বীকারোক্তি এবং এই মুখ ঢাকার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে সকলের কাছে ক্ষমা চেয়ে যদি তিনি এই স্টাটাসটি দিয়েই থাকেন তাহলে তার নতুন করে আবার এই কথাটি বলা কতটা যৌক্তিক ছিলো ? "দুঃখিত আমি যে মুখ ঘোলা করার জন্য তবুও বলি, এসব মানুষের মাথা খালি বলেই আমাদের মাথায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হুড! যাঁরা ভুল বুঝেছেন আমি তাঁদের কাছে ক্ষমা চাচ্ছি ফটোগ্রাফারের হয়ে" নতুন করে এখানে যেই মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ আবার দেখছি সেটা কি (তার কথা মতে) “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হুড” মাথায় থাকা কোন ব্যাক্তির মনোভাব হতে পারে ? পাঠকদের কাছে আমার একটি প্রশ্ন আসলে ভুলটি কার ছিলো ?


Liton Mustafiz

স্যালুট...
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫১তম সমাবর্তনে এ ছবির একটি বিশেষ অংশ গতকাল সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ ছবির ঐ অংশটি সম্ভবত বিভিন্ন গ্রুপ হয়ে ব্যক্তি থেকে আরম্ভ করে জাতীয় পর্যায়ের গণমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। ফটোগ্রাফার শাহরিয়ার সোহাগ গতকাল অপরাজেয় বাংলার সামনে থেকে এ ছবিটি তোলেন। রিকশায় যিনি বসে আছেন তিনি আমাদের গর্বিত একটি অংশ। মনেই হয়নি সে মুহূর্তে তিনি অন্য একটি অংশ। পৃথিবীর আর সব বাবার মতো এ বাবার চোখেও আমি স্বপ্ন খুঁজে পাই। মোটেও মনে হয় নি তার গায়ের ঘাম লাগলে দুর্গন্ধী হয়ে উঠবে আমার গাউন। এমন ঘামের চর্মশরীরে বেড়ে ওঠা আমার। আমি বিশ্বাস করি পৃথিবীর চাকা এ 'পিতা'দের ঘামে ও দমে ঘোরে।


আমরা যখন খুব আনন্দ করছিলাম তখন তিনি আনমনা নজরে আমাদের দিকে তাকিয়ে থাকেন। বিষয়টি আমি বুঝে 'পিতা'কে ডাক দেয়। তিনি সাড়া দেন। আমি আমার গাউন, হুড খুলে 'পিতা'কে পরিয়ে দেই। তারপর ছবি তোলা হয়। একজন গর্বিত গ্রাজুয়েট মনে হচ্ছিলো তখন আমার। এঁদের রক্ত ঘামানো অর্থেই আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে পেরেছি। এ 'পিতা'র পোশাক দেখে স্যালুট না করে পারি নি। এ ছবি তুলে রাতেই ফেইসবুকে পোস্ট করেন ফটোগ্রাফার। ছবিটি ভাইরাল হলে দেখা যায় অনেকেই আমাকে ভুল বুঝছেন। বিভিন্ন গণমাধ্যমে ছবিটি নিউজ হয়ে গেছে। দুঃখিত আমি যে মুখ ঘোলা করার জন্য তবুও বলি, এসব মানুষের মাথা খালি বলেই আমাদের মাথায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হুড! যাঁরা ভুল বুঝেছেন আমি তাঁদের কাছে ক্ষমা চাচ্ছি ফটোগ্রাফারের হয়ে। এসব মানুষেরা আমাদের সত্যিকার বাবা-ই। কারণ আমি নিজেও কৃষকের লাঙলের ফালা বেয়ে উঠে এসেছি...

 -মৃত কালপুরুষ
  ০৪/১০/২০১৮

সোমবার, ৮ জানুয়ারি, ২০১৮

সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব ভিত্তিহীন, তবে কেন আজ্ঞেয়বাদ আর সংশয়বাদ ?

     
বর্তমানে একশ্রেনীর মানুষের সংখ্যা নিতান্তই কম নয় যারা নিজেদের আজ্ঞেয়বাদী ও সংশয়বাদী বলে পরিচয় দিয়ে থাকে। এর কারণ হচ্ছে এই মানুষগুলির দাবী ঈশ্বর বলে কোন স্বত্বা আছে না নেই তার প্রমান আসলে কোন পক্ষই দিতে পারেনা তাই আমি যদি মাঝামাঝি পর্যায়ে থাকি তাহলেতো দোষের কিছু নেই। আসলেই তাই, এখানে দোষ বা গুনের কিছুই নেই আসলে এটা সম্পূর্ণ ব্যাক্তির স্বাধীন ইচ্ছার উপরে বর্তায়। প্রতিটি মানুষের স্বাধীন ইচ্ছা ও মত প্রকাশ করার যেমন অধিকার আছে তেমনি প্রতিটি মানুষের বিশ্বাস অবিশ্বাস করারও স্বাধীনতা আছে। তবে বিশ্বাসী মানুষেরা সব ক্ষেত্রেই দেখা যায়, তারা অন্যান্য মানুষের স্বাধীন ইচ্ছা শক্তির মুল্যায়ন করেনা। তারা চাই তাদের ধর্মীয় নিয়ম কানুনের মধ্যে নিজেদের বেধে রাখার পাশাপাশি পরিবার, সমাজ, জাতি ও সর্বোপরি রাষ্ট্রকেও সেই প্রচলিত নিয়মের মধ্যে বেধে রাখতে যা তাদের নিজেদের জন্য তো একটি বড় ধরনের হুমকি বোটেই পাশাপাশি অন্যান্য মানব সভ্যতার জন্যও হুমকি স্বরুপ যেটা তারা বুঝতে পারেনা।

আমি এর আগেও এধরনের একটি উদাহরণ দিয়েছিলাম যেমন ধরুন, কোন একটি প্রতিষ্ঠানের খাদ্য বা পন্য ব্যবহার করে যখন একজন মানুষ অসুস্থ হচ্ছে তাতে সমাজের আর দশ জনের কোন সমস্যা থাকার কথা নয়, যদি না সেই ব্যাক্তি বুঝে বা না বুঝে সেই প্রতিষ্ঠানের পন্য ব্যবহার করে থাকে। কিন্তু যখন দেখা যায় সেই প্রতিষ্ঠানের পন্য ব্যবহার করে শুধু সেই একজন ব্যাক্তিই অসুস্থ হচ্ছে না পাশাপাশি তার পরিবার, সমাজ বা রাষ্টের অন্যান্য সুস্থ মানুষদের কামড় দিয়ে তাদেরকেও অসুস্থ বানাচ্ছে তখনতো সেই প্রতিষ্ঠনের ও সেই প্রতিষ্ঠানের পন্যের মান যাচাই বাছাই করা একজন সচেতন নাগরিকের অবশ্যয় কর্তব্য হয়ে পড়ে। যেহেতু বিভিন্ন ধর্মীও বিশ্বাস ও কুসংস্কার আর গোড়ামীকে বর্তমান যুগের সচেতন ও যুক্তিবাদী সমাজ এক প্রকারের ভাইরাসের মতই মনে করে থাকে। যেমন অতীতে সাপে কামড়ালে ঝাড় ফুক আর ঈশ্বরের কাছে প্রর্থনা করে ভুক্তভোগী ব্যাক্তির আরগ্য চাওয়া হতো যা এখন আর কেউ করেনা বরং তারা আধুনিক চিকিৎসার উপরে আস্থা রাখে। 

আজকের দিনে বিশ্বের অন্যান্য দেশের অবস্থা আমাদের বাংলাদেশের থেকে যে কত উন্নত আর কত আধুনিক তা কারো অজানা থাকার কথা নয়। আজ দেশের মানুষের হাতে হাতে ইন্টারনেট ও তথ্য প্রযুক্তির ছোয়া আছে। কিন্তু কষ্ট লাগে তখন যখন একশ্রেনীর মানুষকে দেখি এতো এতো টেকনোলজি হাতে পেয়েও তারা হাজার হাজার বছর আগের কিছু অন্ধ বিশ্বাস সাথে নিয়ে একটি একটি দিন অতিবাহিত করছে। যেখানে চীনের রাস্তার একটি রিকশা চালকও (আমি এখানে কোন পেশাকে ছোট করছি না মান যাচাইয়ের জন্য বলছি) পাওয়া যাবেনা যারা বিবর্তনবাদে বিশ্বাস করেনা শেখানে আমাদের দেশের বহুল প্রচলিত ধর্ম বিশ্বাসীদের দিকে একটু নজর দিয়ে দেখুন তারা কি বলে। এখানে আসলে কাদের দোষ তা খুজতে গেলেও আবার নানা তথ্য বেরিয়ে আসবে। বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় বিবর্তনবাদ নিয়ে কোন শিক্ষা দেওয়া হয় কিনা তা আমাদের দেশের শিক্ষার্থীরা ভালো বলতে পারবে। এই বিষয়ে গতকাল একজন ক্যামিস্ট্রির এক ছাত্রীর কাছে জানতে চাইলে সে আমাকে বলে আমাদের বইতে বিবর্তনবাদ নিয়ে মাত্র একটি অধ্যায় আছে কিন্তু শিক্ষকরা বলে এই অধ্যায়টি বেশি পড়ার দরকার নেই তাতে ঈমান নষ্ট হবে তাই আমরা সেই অধ্যায়টি আর বেশি পড়িনা।

আসলে এভাবেই আমাদের দেশের মানুষদের ও নতুন প্রজন্মের কাছ থেকে বিবর্তনবাদকে দূরে সরিয়ে রাখা হচ্ছে এবং একটি শ্রেনী অনেক ধীর গতিতে হলেও এই বিবর্তনবাদ নিয়ে সকল প্রকারের শিক্ষা বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে তুলে দিচ্ছে। আমাদের দেশে যেখানে বিবর্তনবাদ নিয়ে এখনও লুকোচুরি খেলা হচ্ছে শেখানে বিশ্বের অন্যান্য উন্নত দেশের দিকে তাকালে দেখা যাবে তারা অজ্ঞেয়বাদী বা সংশয়বাদীদের যে মনোভাব, যেমন ঈশ্বর বলে কেউ বা কিছু আছে কি নেই অর্থাৎ ঈশ্বর, ভগবান, গড, আল্লাহ, যোহোবা, এটলাস, অসিরিস, আমেনহোটেপ, আনুবিস, আইসিস বলে যেসব কাল্পনিক চরিত্রের কথা পৃথিবীর ৫০০০ এর অধিক ধর্ম বিশ্বাসীরা বলে থাকে, তাদের কোন অস্তিত্ব আছে না নেই তা এখনও কোন পক্ষই প্রমাণ করতে পারেনি তাই আমি নিজেকে আজ্ঞেয়বাদী বা সংসময়বাদী বলে থাকি। তাদের এই ধারনাকেও আধুনিক বিজ্ঞান পাল্টে দিচ্ছে। যদিও কয়েকবছর আগেই বিজ্ঞানী ‘স্টিফেন হকিংস’ তার বহুল আলোচিত বই ‘গ্রান্ড ডিজাইনে’ আগেই জানিয়েছে যে মহাবিশ্ব একটি প্রাকৃতিক নিয়মেই তৈরি হয়েছে যা তৈরি করতে কোন কাল্পনিক ঈশ্বরের প্রয়োজন নেই এবং তিনি তার এই বই এর মাধ্যেমে বিভিন্ন যুক্তিযুক্ত উপস্থাপনার মাধ্যমেও তা দেখিয়ে দিয়েছেন।

এসব বাদেও যখন কোন ধর্মের ঈশ্বর আসলে সত্য বা কোন ধর্মের ঈশ্বর আসলে মানুষের কথা শোনে এমন পরীক্ষা করে দেখা হয় তখনও এরকম কোন ঈশ্বরের সন্ধান আজ অবধি মানুষ খুজে পাইনি যারা সত্য অথবা যারা মানুষের কথা শোনে। যেমন ধরুন যদি এরকম একটি পরীক্ষার আয়োজন করা হয় যেখানে খৃস্টান, মুসলিম, হিন্দু ও ইহুদী ধর্মের চারজন অসুস্থ রোগীর জন্য তাদের সুস্থতা কামনা করে চারটি ধর্মের ঈশ্বরের কাছে প্রার্থানা করা হলো। এদের মধ্যে যদি কোন নির্দিষ্ট ধর্মের কোন রোগী মানুষের প্রার্থনা শুনে আরগ্য লাভ করতে শুরু করে তাহলে বোঝা যেতো সেই ধর্মটি সত্য বা সেই ধর্মের ঈশ্বর আছে এবং সে মানুষের কথা শোনে। তবে দুঃখের বিষয় এমন কোন ঘটনা আসলে আজও ঘটেনি তাই এখানেও আজ্ঞেয়বাদী আর সংশয়বাদীদের মনোভাব ভুল প্রমানিত হচ্ছে।

এছাড়াও আরো অনেকভাবেই আধুনিক বিজ্ঞান প্রমাণ করেছে ঈশ্বরসহ তথাকথিত যত অতিপ্রাকৃতিক ও কাল্পনিক গল্প বিভিন্ন ধর্মীয় ঐশরিক কিতাব ও ধর্ম বিশ্বাসী মানুষের মধ্যে প্রচলিত আছে তার আসলে কোন ভিত্তি নেই যা বিজ্ঞান যেকোন সময় ভুল প্রমাণ করতে পারে। যেমন বিবর্তনবাদ যখন প্রামাণিত হয়েছিলো তখন বিভিন্ন ধর্মীয় গ্রন্থের এই পৃথিবীতে মানব আগমনের ইতিহাস পাল্টিয়ে গিয়েছিলো যা ছিলো সকল ধর্মের বানী বিজ্ঞান দ্বারা মিথ্যা প্রমাণ করার প্রথম ধাপ। যেমন এখানে একটি উদাহরণ দিতে গেলে, ধরুন খ্রিস্টান ধর্মের ‘বাইবেলে’র ওল্ড স্টেটমেন্ট এর প্রথম অধ্যায় ‘জেনেসিস’ যেখানে আমাদের সৃষ্টির কথা বলা আছে শেখানে পৃথিবীর প্রথম মানব ও মানবীর আগমন ৪০০৪ খ্রিস্টপুর্বাব্দতে এবং যাদের নাম ছিলো ‘এডাম’ ও ‘ইভ’ তাদের আগমন ভুল প্রমাণিত হয়েছে। অপরপক্ষে বিবর্তনবাদ আমাদের বলছে ‘বিগ ব্যাং’ সংগঠিত হবার পরে পৃথিবী তৈরি হয়েছে এবং আজ থেকে প্রায় সাড়ে চারশো কোটি বছর পূর্বে এককোষী প্রানের থেকেই আমরা আজকের আধুনিক মানুষে এসে দাড়িয়েছি। তাহলে এখনও কেন আজ্ঞেয়বাদ আর সংশয়বাদ ?  

---------- মৃত কালপুরুষ

              ০৮/০১/২০১৮    

রবিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৭

হিন্দু ধর্মের নিজেদের ভেতরেই কোন মিল খুজে পাওয়া যায় না।


যাদের নিজের ধর্ম আর নিজেদের ধর্ম গ্রুন্থেরই একটির সাথে আরেকটির কোন মিল নেই তাদের কিভাবে আপনি একটি রেফারেন্স সত্য বা মিথ্যা প্রমাণ করে দেখাবেন। এই ধর্মটির আসলে শতশত শাখা প্রশাখা থাকার কারনে এক গ্রুপের সাথে আরেক গ্রুপের কোন মিল খুজে পাওয়া যায় না। তাই যদি কেউ হিন্দু ধর্মের (ব্লাক সাইড) বা খারপ দিক গুলো তুলে ধরে কোন রেফারেন্স বা সুত্র দিয়ে থাকে তাহলে মডারেট হিন্দুরা সেটা নিয়ে প্রশ্ন তোলে এই সুত্রটি ভুল আছে বা এটা আমাদের বেদে খুজে পাওয়া যাচ্ছে না। এর কারণ হচ্ছে তাদের বেদ আর পুরাণের ভার্সনের অভাব নেই। অনেক ভার্সনের মধ্যে তারা কিছু কিছু নির্ভরযোগ্য মানুষের লেখা বা অনুবাদ পড়ে এধরনের কথা বলে। আসলে এদেরও তেমন কোন দোষ নেই কারণ হিন্দু ধর্মের এই জাতীয় "ঋগ্বেদ সংহিতা" "যযুর্বেদ সংহিতা" "অথর্ববেদ সংহিতার" মতো গ্রন্থগুলি আসলে তাদের নিজেদের মধ্যেই সহজলভ্য নয়। এর কারণে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ৮০% তাদের এই মূল গ্রন্থগুলো পড়াতো দূরে থাক তারা হাতে নিয়েও কোন দিন দেখেনি। এই হিসাবটিতে আমার ভুল থাকতে পারে সংশোধন করে দেবার অনুরোধ রইলো। এই হিন্দু ধর্মের মানুষের একেক গ্রুপের মধ্যে একেক রকম মত বা একেক গ্রন্থে যে একেক রকম সুত্র দেওয়া আছে তার একটি নমুনা দেখুন এখানে।

বিভিন্ন একেশ্বরবাদী ধর্মের মতো হিন্দু ধর্মেও কিছু কিছু ক্ষেত্রে একজন ইশ্বর বা স্রষ্টার কথা বলা আছে তা অনেক হিন্দু বা সনাতন ধর্মাবলম্বীরা জানেই না। তারা মনে করে থাকে তাদের শত শত আর হাজার হাজার দেব-দেবতায় হচ্ছে সৃষ্টিকর্তা। যে কারোনে ১০০ জন হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের যদি জিজ্ঞাসা করা যায় আপনি কত জন দেবতা বা ঈশ্বরে বিশ্বাস করেন ? তাহলে নানা উত্তর আসে তাদের কাছে থেকে। সে যাই হোক প্রতিটি ধর্মই আসলে মানুষে তৈরি ঠিক যেমন প্রতিটি ঈশ্বর বা সৃষ্টিকর্তাও মানুষের তৈরি। এই মতে বর্তমান যুগের মানুষের আর কোন সন্ধেহ থাকার কথা না। যারা এখনও অন্যান্য (পৃথিবীর সকল) ধর্মের মতো হিন্দু ধর্মকে সত্য বা মানবিক ধর্ম বলে দাবী করে আসছেন তাদের আরো ভালো করে আপনাদের এই ধর্মের সত্যতা যাচাই করার অনুরোধ করবো আগে। কারণ আমরা হিন্দু ধর্মের যে সকল গ্রন্থ গুলো সহজে হাতে পেয়ে পড়ে থাকি তা পড়ার পড়ে এটুকুই জানতে পা্রি অন্যান্য সকল বর্বর আর আমানবিক ধর্মের মতো এই ধর্মটিও কোন অংশে বর্বরতার আর অমানবিকতার থেকে পিছিয়ে নেই বরং প্রথম সারিতেই আছে। আর যদি এই ধর্মটি মানবিক আর বর্বর না হয়ে থাকবে থাহলে কেন তাদের মূল ধর্মীয় গ্রুন্থ গুলো মানুষের মধ্যে সহজলভ্য করে রাখে নাই বা এখনও করছে না। সমস্যা কি ?

এবার আসুন আমরা হিন্দু ধর্মের ঈশ্বর ধারণা সম্পর্কে জানি। যদি কোনো সাধারন হিন্দুকে প্রশ্ন করেন আপনি কতজন ঈশ্বরে বিশ্বাস করেন কেউ হইতো বলবে ১০ জনকেউ ৫০ জন, কেউ ১০০ বা ২০০ জন,  কেউ ১০০০ জন আবার কেউ হয়তো বলবেন ৩৩ কোটি জন। কিন্তু আমরা যদি কোনো জ্ঞানী হিন্দু পন্ডিত যিনি হিন্দু ধর্মের পবিত্র ধর্ম গ্রন্থ গুলো  যেমন, বেদপূরান, ইত্যাদি পড়েছেন তার কাছে যাই তাহলে তিনি বলবেন হিন্দুদের কেবল মাত্র একজন ঈশ্বরের ইবাদাত করা উচিত। এ সম্পর্কে বেদ বা হিন্দু ধর্মের বহু কিতাব থেকে বহু উদ্ধৃতি উপস্থাপন করা যায়। যেমনচারটি বেদেই এই শ্লোক (মন্ত্রটি) আছে। একে বেদের ব্রহ্মসুত্রও বলা হয়ে থাকে-একম ব্রহ্মা দ্বৈত্য নাস্তি নহিনা নাস্তি কিঞ্চান" অর্থাৎ ঈশ্বর একজন তার মতো কেউ নেইকেউ নেই সামান্য নেই। আরও আছে  ”তিনি একজন তারই উপাসনা করো (ঋকবেদ ২/৪৫/১৬)। আরো দেখুন  "এক্‌ম এবম অদ্বৈতম ” অর্থাৎ তিনি একজন তার মত আর দ্বিতীয় কেউ নেই (ঋকবেদ ১/২/৩)। ”একজনই বিশ্বের প্রভূ (ঋকবেদ ১০/১২১/৩)।

এছাড়াও অনেক জোর দিয়ে বলা হয়েছে ন্ দ্বিতীয় ন্‌ তৃতীয় চতূর্থ না পুচ্যতে। ন্‌ পঞ্চম ন্‌ ষস্ট সপ্তম না পুচ্যতে।। ন্‌ অস্টম ন্‌ নবম দশমো না পুচ্যতে। য এতং দেব মেক বৃত্যং বেদ।।” (অথর্ব বেদ সুক্ত ১৪/৪/২) অর্থাৎ পরমাত্মা এক। তিনি ছাড়া কেহই দ্বিতীয়তৃতীয় বা চতুর্থপঞ্চম,ষস্ট,সপ্তম,অস্টম,নবম বা দশম বলিয়া অবিহিত আর কেহই নাই। যিনি তাহাকে এক বলিয়া জানেন তিনিই তাহাকে প্রাপ্ত হোন। উপরের এ সকল স্লোক থেকে এটা পরিষ্কার হয়ে যায় যেহিন্দু ধর্মেও একেশ্বরবাদ স্বীকৃত। তাই অন্যান্য একেশ্বরবাদী ধর্মের মতো হিন্দু ধর্মের মধ্যে প্রথম সাদৃশ্য হল একেশ্বরবাদ ব্যাতীত দ্বিতীয় কোন ঈশ্বর নেই। তাহলে প্রশ্ন থাকলো হিন্দুদের এতো শত শত, হাজার হাজার, লক্ষ লক্ষ, কোটি কোটি দেব দেবোতা আর ঈশ্বর যাদের সকলের নাম মনে হয় একজন হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের পক্ষে একজীবনে জানায় সম্ভব না তারা কোথায় গেলো। তাহলে কি হিন্দু ধর্মের নিজেদের ভেতরেই কোন মিল থাকলো ? যারা রেফারেন্স দেওয়া সুত্রের মিল নেই বলে দাবী করেন বা মিথ্যা তথ্য দেওয়া হয়েছে বলে অন্যান্য ধর্মের অনুসারীদের মতো প্যাচাতে থাকেন তাদের এই বিষয়টি পরিষ্কার করে দেবার অনুরোধ রইলো।

---------- মৃত কালপুরুষ
                ১০/১২/২০১৭


শনিবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৭

হিন্দু নামধারী সনাতনের লেবেল চেঞ্জ ধর্মকে বর্বর বলা যাবে না কেন ?


গত দুইদিন ধরে সোস্যাল মিডিয়াতে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মালদার কোথাও ঘটে যাওয়া একটি ধর্মীয় হত্যাকান্ডের ভিডিও ঘুরে বেড়াচ্ছে যা বেশ কয়েকবার আমার চোখে পড়েছে। ধর্মের আফিমীয় মাদক ও এই জাতীয় ধর্মাবলম্বী বোকা মানুষ গুলিকে কতটুকু নির্বোধ-মানবিকতাশুণ্য বানিয়ে দেয় তার একটি চরম উদাহরণ হতে পারে এই বর্বর হিন্দু ধর্ম। হিন্দু ধর্মের বেদ, গীতা, মনুসংহিতা, উপনিষদ, রামায়ন, মহাভারত, পুরানপাচালি ইত্যাদির মধ্যে এতো জাতপাতের বৈষম্য, বর্ণভেদ, গোত্রবিভেদ, ধর্মভেদ, ধর্মান্ধতা, গোড়ামি, কুসংস্কারাচ্ছন্ন মানসিকতা, নারীর প্রতি কুসংস্কার, বিরুপ ধারণা, ভয়, ঘৃণা, আর সবশেষে বর্বর ও জংলী কিছু ধর্মীয় আইন কানুন আছে যা আর অন্য কোন ধর্মে পরিলক্ষিত হয়না। হিন্দু ধর্ম একটি বর্বর ও অমানবিক ধর্ম বলাতে যারা ধুতি পরে মাথার টিকলি নাচাতে নাচাতে চলে আসেন হিন্দু ধর্ম রক্ষা করতে তাদের বলবো আগে প্রমান করুন আমি কোথায় ভুল কিছু বলেছি যা এই হিন্দু ধর্মে নেই। হিন্দু ধর্ম যে বর্বর আর অমানবিক ধর্ম না সেটার পক্ষে দুই একটা কারণ দেখান এখানে। আমি এখানে হিন্দু ধর্মের মানুষ হত্যা আর বর্বরতার কিছু নমুনা দিলাম মিলিয়ে দেখুন।

শিশুকাল থেকেই একটি হিন্দু ধর্মালম্বী বাচ্চাকে হাতে তীর ধনুক দিয়ে রাবণ মারার মাধ্যমে এই মানুষ হত্যা করা আর মানুষকে ঘৃণা করার হাতে খড়ি দেওয়া হয়ে থাকে এই ধর্মটিতে। যেসব মডারেট হিন্দুরা বলে থাকে এই ধর্মে আসলে এমন কিছুই বলা নেই যেখানে মানুষ হত্যার কথা আছে তাদের স্বদয় অবগতীর জন্য জানাচ্ছি (অথর্ববেদ ১২,০৫,৫৪) এ বলা আছে “Vedic followers should destroy infidels” অর্থঃ “বৈদিক অনুসারীদের (কাফের বা বেধর্মীদের) ধ্বংস করা উচিত” মজার বিষয় হলো এই বৈদিক সভ্যতা থেকেই আজকের সনাতন ধর্মের সৃষ্টি তবে এখানে কথা আছে। কথা হচ্ছে সনাতন ধর্মের অনেক কিছুই পরিবর্তন করে আজকের মডারেট হিন্দু ধর্ম বানানো হয়েছে যাতে এই বৈদিক দর্শনের কোন মিল নেই তাই অতীতে যারা এই বৈদিক ধর্মের অনুসারী ছিলো তাদেরকে এই হিন্দুদের দ্বারাই হত্যা করার উদ্দেশ্যে “অথর্ববেদে” এসমস্ত শ্লোক যোক করা হয়েছিলো যা এখনও আছে।

এছাড়াও হিন্দু ধর্মের (ঋগ্বেদ  ০১,১৬,০৪) এ বলা হচ্ছে “যারা তোমাকে পূজায় উপহার দেয় না, তাদের প্রত্যেককে হত্যা করো” এর মানে হচ্ছে সনাতন ধর্ম থেকে আলাদা একটি গোত্র অনেক পুর্বে ভারতবর্ষে তাদের বিভিন্ন দেব দেবতাদের মূর্তি বানিয়ে পূজা করার চল শুরু করেছিলো। বর্তমানে আমরা হিন্দু ধর্মাওবলম্বিদের যে দেব-দেবতা আর ভগবানের মূর্তি পূজা করতে দেখি তা কিন্তু এই ধর্মের সকল জাতি পালন করে না। উল্লেখ করতে হয়, হাজার হাজার বছর আগে থেকেই এই সনাতনের খোলস পাল্টিয়ে হিন্দু নাম ধারণ করা ধর্মটি বিভিন্ন দেব দেবতা আর কল্পিত ভগবানের মূর্তি বানিয়ে সেসব পূজা করে আসতো তবে কিছু কিছু গোত্র তা করতো না যেমন প্রাচীন ভারতে “কিটক্যাট” নামের একটি জাতি ছিলো যারা মূলত এসব ধর্মীয় নিয়ম কানুন মানতো না। তাদেরকেই হত্যা করার জন্য ঋগ্বেদ এ এই কথা বলা হয়েছিলো যা এখনও হিন্দু ধর্মের মধ্যেই আছে। বর্তমানে যে দুর্গা পূজা, কালী পূজা, স্বরসতী পূজা মডারেট হিন্দুরা পালন করে আসে তার জন্ম খুব বেশি হলেও ১৫০ বছর হতে পারে তার আগে এভাবে পালন হতো না। মডারেট হিন্দুরা যখন বলে তাদের ধর্ম অনেক সংস্কার হয়েছে তখন এই ধর্মের আরেকদল এইসব শ্লোক ব্যবহার করে অন্য ধর্মের মানুষ হত্যা করে চলেছে এবং হত্যা করার উষ্কানী দিয়ে চলেছে।

আরো কিছু নমূনা দেখুন এই সনাতনের লেবেল পাল্টানো হিন্দু ধর্মের সরাসরি মানুষ হত্যা করার উস্কানী মূলক ডায়ালগ। (ঋগ্বেদ  /৮৪/৮) রাজ্য প্রধান এর প্রতি বেদের নির্দেশ হচ্ছে, যে লোক ঈশ্বরের আরাধনা করে না এবং যার মনে ঈশ্বরের প্রতি অনুরাগ নেই, তাকে পা দিয়ে পাড়িয়ে হত্যা করতে হবে” যার অনুবাদ করেছেন আচার্য্য বিদ্যা মার্তন্ড, আর্য সমাজ। স্বামী দয়ানন্দের ভাষ্য হতে অনুবাদিত এর মানে যে সমস্ত সাধারণ মানুষ যারা “ঋদ্বেদে” বিশ্বাস করে না বা বেদ মানে না, হোক সে হিন্দু বা অন্য যে কোন ধর্মের বা অধার্মিক তাকেই বলা হচ্ছে পা দিয়ে মাড়িয়ে হত্যা করতে হবে। তাহলে কি এই ধর্মটিকে আমাদের বর্বর বলা ভুল হচ্ছে। গতকাল সেই বর্বরচিত হত্যাকান্ডের ভিডিও ফুটেজ দেখে যখন আমি মন্তব্য করি এই ধর্মটি একটি “বর্বর ধর্ম” তখন এক শিবসেনা আমাকে আইনের আওতায় আনবে বলে হুমকি দিয়েছে। আসলে এই হিন্দু নামধারী সনাতন ধর্মকে বর্বর প্রমানীত করার জন্য খুব বেশি উদাহরণ মনে হয় আমার দেওয়া লাগবে না। তার পরেও যদি কোন হিন্দু পন্ডিত বা ব্রাহ্মন ঠাকুর এই লেখা পড়ে থাকেন তাহলে হিন্দু ধর্ম যে বর্বর ও অমানবিক ধর্ম না তা একবার প্রমাণ করার চেষ্টা করতে পারেন।

এখানে ছোট করে আরেকটি ধর্ম (ইসলাম) এর সাথে একটু তুলনা করে দেখাচ্ছি। যাকে সমস্ত পৃথিবীর মানুষ রক্তের ধর্ম বলে জানে তার থেকেও এই হিন্দু ধর্ম কত খারাপ একটি ধর্ম হতে পারে। যেমন দেখুন (যজুর্বেদ ১৭/৩৯) সেনাপ্রধান হিংস্র নির্দয়ভাবে শত্রুদের পরিবারের সদস্যদের সাথেও যুদ্ধ করবে। মানে পরিবারের সদস্য বলতে নারী, শিশু, বৃদ্ধ সকলকে হত্যা করার আদেশ দিচ্ছে এই “যযুর্বেদ”। আরো দেখুন (যজুর্বেদ ১৭/৩৮) শত্রুদের পরিবারকে হত্যা কর, তাদের জমি ধ্বংস কর” এবার বোকা মানুষগুলোকে আদেশ দেওয়া হচ্ছে হত্যার পাশাপাশি তাদের সম্পদও ধ্বংস করতে হবে। এছাড়াও (যজুর্বেদ ১৩/১৩) তে বলা হচ্ছে “শত্রুদের হত্যা কর তাদের জায়গা জমি রান্নাঘর ধ্বংস কর” অনুবাদঃ দেবী চাঁদ, আর্য সমাজ। স্বামী দয়ানন্দের ভাষ্য হতে অনুবাদিত। এবার আসুন ইসলাম ধর্মের প্রধান নবী যাকে মুসলমানরা অনুসরণ করে থাকে তার ভাষ্য এমন যে, বেশ কিছু হাদীসে উল্লেখ আছে তিনি [মুহাম্মদ (সাঃ)] মক্কা বিজয়ের সময় তার অনুসারীদের বলেছিলেন, তোমরা বিনা কারনে এমনকি গাছের একটা ডালও নষ্ট করো না। সেখানে বেদ হিন্দুদের কি অনুমতি দিচ্ছে ? একটু নিরাপেক্ষ দৃষ্টিতে বিচার করে দেখুন।

সম্পুর্ণ হিন্দু ধর্মের এরকম শ্লোকের সংখ্যা আছে অসংখ্য যা বলে শেষ করা যাবে না। কারণ এই ধর্মটির অনেক অনেক শাখা প্রশাখা আছে। তবে ঘুরে ফিরে সেই কালকেউটা সাপ এখন খোলস পাল্টিয়ে হয়েছে গোখরা সাপ যাতে কোন প্রকার সন্ধেহ করা চলে না। আসলে সোস্যাল মিডিয়া আর অনলাইন মাধ্যমগুলিতে মুক্তমনা নামধারী কিছু হিন্দু মৌলবাদীকে দেখা যায় যারা আসলে ইসলাম ধর্ম বা অন্য কোন ধর্ম নিয়ে আমরা যখন কোন সমালোচনা মূলক লেখা লিখে থাকি তখন তারা হাতে তালি দেয় আর অনেক সুন্দর সুন্দর কথা বলে। তবে সেটা সেই পর্যন্তই সীমাবদ্ধ থাকে যতক্ষন না আপনি এই বর্বর হিন্দু ধর্মের মুখোশ না খুলে দিচ্ছেন। যখন আপনি হিন্দু ধর্ম নিয়ে সমালোচনা করছেন তখনই তারা তাদের অনূভূতি প্রকাশ করছে ঠিক জঙ্গী আর জিহাদিদের মতো। আসলে তাদেরকেও কোন অংশে কম ভাবার কিছুই নেই কারণ মনে রাখতে হবে পৃথিবীতে সকল ধর্মই চাই তার নিজের ধর্মটিকে ভালো প্রমান করতে আর অন্য বাকি সব ধর্মকে খারাপ প্রমান করতে যার প্রমাণ হচ্ছে এসব। আমি হিন্দু ধর্মের হাস্যকর সব দেব-দেবী আর ভগবানদের মোটামুটি সংক্ষিপ্ত কিছু পরিচয় আপনাদের দিবো পরের লেখাতে।

---------- মৃত কালপুরুষ
               ০৯/১২/২০১৭  

সোমবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৭

ফেসবুকের কভার ফটো পরিবর্তন করে বলির পাঠা কেন হবেন ?


আমরা সবাই কমবেশি জানি বাংলাদেশ, ভারত সহ সারা বিশ্বের বাংলাভাষী মুক্তমনাদের প্রানের টানে একটি আয়োজন করা হয়েছে। আজ থেকে আমরা সকল মুক্তচিন্তায় বিশ্বাসী মুক্তমনারা তাদের ফেসবুক প্রফাইল পিকচার ও কভার ফটো একই রেখে ৯ দিনের জন্য বাংলাদেশে বিভিন্ন সময়ে যারা জ্ঞান-বিজ্ঞান ও মুক্তবুদ্ধির চর্চার প্রচার ও প্রসারের কথা বলে একশ্রেনীর মানুষের হাতে নিজেদের প্রান দিয়েছেন, বাংলাদেশের বিজয়ের এই মাসে তাদেরকে স্মরন করে এই ছবি পরিবর্তনের মাধ্যমে এই আয়োজনে সবাই অংশগ্রহন করছে। এখানে বাংলাভাষী সকল মুক্তমনাদের অংশগ্রহন থাকলেও গুটি কয়েক মুক্তমনার দ্বিমত দেখা যাচ্ছে। আর এই দ্বিমতের কারনেই অনেকেই সেই গুটিকয়েক মুক্তমনাকে একটি আলাদা দলের বা সংগঠনের বলে একেবারেই মুক্তচিন্তা বা মুক্তবুদ্ধির চর্চা থেকে আলাদা করে দিচ্ছে বলে আমার কাছে মনে হয়েছে এটা সম্পর্কে কিছু বলা দরকার।

আমি এখানে বাংলাভাষী সকল মুক্তমনা ও মুক্তচিন্তায় বিশ্বাসীদের প্রতি আমার অন্তরের অন্তরস্থল থেকে অনেক অনেক শ্রদ্ধা রেখে এটুকুই বলতে চাই, আসলে এমনিতেই আমাদের নামে অনেক দুর্নাম আছে। একটি কুসংস্কারাচ্ছন্ন দেশের সমাজে মুক্তমনাদের কোন চোখে দেখা হয় তা নিশ্চয় সবাই অবগত। এরপরেও যদি আমাদের ভেতর থেকে আমরা নির্দিষ্ট কিছু মানুষকে তাদের দ্বিমত পোষন করার কারনে “মুক্তমনা” না বলে “বদ্ধমনা” বলে আলাদা করতে থাকি তাহলে সেটাকে কিভাবে মুক্তবুদ্ধির চর্চা বলা যায় ? হ্যাঁ, আমি মানছি, অনেকেই তাদের ইচ্ছা থাকা শর্তেও নির্দিষ্ট কোন সংগঠনের সাথে জড়িত থাকার কারনে বাংলাভাষী মুক্তমনাদের প্রানের এই মিলন মেলায় অংশগ্রহন করতে পারছে না বা ইচ্ছা থাকা শর্তেও তারা তাদের প্র-পিক আর কভার ফটো পরিবর্তন করছে না এটার কারণ এই জাতীয় সংগঠনের সকলেই একই চিন্তা চেতনায় বাধা হয়ে থাকেএখানেই কিন্তু মূল সমস্যা। অনেকেই মুক্তভাবে চিন্তা না করে তার সংগঠনের বাধাধরা নিয়মের ভেতরে থেকে বদ্ধ একটি চিন্তা করতে বাধ্য হচ্ছে। তাই আমরা যদি সে সমস্ত মুক্তমনাদের আলাদা করে ফে্লি তাহলে তাদের সাথে আমাদের অন্যায় করা হবে। এর কারণ তারা হয়তো মুক্তভাবে বা বদ্ধভাবে চিন্তা করার আসল সংজ্ঞাটাই এখনও জানে না।

আসলে আমাদের একটি বিষয় সব সময় খেয়াল রাখতে হবে, তা হচ্ছে মুক্তমনারা কিন্তু সবাইকে দ্বিমত পোষন করতেই বলে। যেমন দেখুন, যেই কভার ফটো পরিবর্তনের কথা নিয়ে এই আলোচনা সেই কভার ফটোতে কিন্তু “নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর” কবিতা “মিলিত মৃত্যু” এর প্রথম যে দুই লাইন এখানে উল্লেখ করা হয়েছে তার ভেতরেই আছে “বরং দ্বিমত হও, আস্থা রাখ দ্বিতীয় বিদ্যায়” এই লাইনটি। তারমানে আমরা সবাইকে দ্বিমত হতেই বলি। আমরা “সংশয়” বলে একটি শব্দের সাথেও সবাই পরিচিত আছি নিশ্চয়। এই সংশয় বিষয়টি হচ্ছে সকল জ্ঞানের উৎস বলা যায়। কারন দেখুন, যুগে যুগে মানুষ যদি সংশয় প্রকাশ না করে সেই একই মতবাদ আর একই চিন্তা মোতাবেক চলতো তাহলে কিন্তু আজকের এই সভ্যতার উন্নয়ন আমরা দেখতাম না। তাই আমাদের সব ক্ষেত্রেই দ্বিমত হতে হবে আর সব কিছুতেই সংশয় প্রকাশ করতে হবে যদি আমরা মুক্তচিন্তায় বিশ্বাসী হয়ে থাকি। তবে, এই সংশয় বা দ্বিমত পোষন করার আগে আমাদের জানতে হবে ভালো, মন্দ ও নৈতিকতা বা অনৈতিকতার পার্থক্য।

ভালো এবং খারাপ এর মধ্যে পার্থক্য বোঝার জন্য প্রয়োজন জ্ঞানের। আর সেই জ্ঞান অর্জনের খোলা পথকেই আমরা মুকচিন্তার চর্চা বলে থাকি। আমরা যদি মুক্তভাবে চিন্তা করতে নাই পারি তাহলে আমাদের জ্ঞানের পথে বাধা দেওয়া হচ্ছে। একজন মুক্তমনা তার পার্সে কার ছবি রাখবে আর কার ছবি রাখবে না এটা বলার অধিকার কারো থাকার কথা না এটাই হচ্ছে মুক্তচিন্তাকে উৎসাহ দেওয়া। খেয়াল রাখতে হবে কোথাও আমি মুক্তভাবে আমার মত প্রকাশে বাধাগ্রস্থ হচ্ছি কিনাআবার একদিকে স্রোত বইছে দেখে সেই দিকেই আমাকে বয়ে চলতে হবে এমনও কিন্তু না। এই জন্যই থাকতে হবে ভুল এবং সঠিক পদ্ধতি চিহ্নিত করার ক্ষমতা। আমি যদি সার্বিক পরিস্থিতি নিরাপেক্ষ দৃষ্টিতে বিচার করে দেখি একটি যায়গায় ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে সঠিক বিষয়টি এড়িয়ে যাবার কথা বলা হচ্ছে এবং সেটা করার জন্য বাধ্য করা হচ্ছে তাহলে আমাদের বুঝতে হবে সেখানে কোন উদ্দেশ্য আছে। আমার উদ্দেশ্য যদি মুক্তচিন্তার চর্চাকে প্রাসারিত করাই হবে তাহলে আমি এমন মতবাদের সাথে থাকবো যেখানে আমার চিন্তা থাকবে মুক্ত।

আমার মূল উদ্দ্যেশ্য এটা বলা যে, মুক্তমনাদের ভেতরে নির্দিষ্ট বা গুটি কয়েক মুক্তমনাকে আলাদা করে দলাদলি বা কাঁদা ছোড়াছুড়ি করা ঠিক হবে না। এটা না করে আমরা তাদের এটা বোঝাবার চেষ্টা করি যে আসলে মুক্তচিন্তা কাকে বলে সেটা একটু ভেবে দেখবেন। আপনি যে প্রথাবিরোধী আন্দোলনের সাথে আছেন সেই আন্দোলনের মূলে কি আছে মুক্তচিন্তা কিন্তু আবেগ দ্বারা পরিচালিত কোন বিষয় নয় যে আমি কারো কথা না রাখলে সে মন খারাপ করবে বা অখুশি হবে বলে কথা রাখতে হবে। মুক্তচিন্তা হচ্ছে বিবেক দিয়ে করার জিনিষ যেখানে আবেগের কোন স্থান নেই। তাই আবেগ নয় বিবেক দিয়ে চিন্তা করতে শিখুন। সবাইকে একত্রে নিয়ে ভাবতে শিখুন। কেউ ভুল ব্যাখ্যা দিলে তাকে সঠিকটা ধরিয়ে দিন। নিশ্চুপ থেকে বা মন রক্ষার্থে না কে হ্যাঁ বলার চেষ্টা পরিহার করুন। ২০১৫ সালের ২৬শে ফেব্রুয়ারী অভিজিৎ রায় হত্যা হবার পরে ব্লগার “ওয়াশিকুর রহমান বাবু” তার ফেসবুক কভারে লিখেছিলো “ওয়ার্ড কেন নট বি কিলড” আর সে কারনেই ৩৪ দিনের মাথায় তাকেও হত্যা করা হয়েছিলো। আজ সেই “ওয়াশিকুর রহমান বাবুর”র স্মরনে না হয় নিজের মন থেকেই একটু শ্রদ্ধা জানান আপনাকে কভার ফটো পরিবর্তন করতে বলছি না। আর যদি করেও থাকেন তাহলে আপনাকে বলির পাঠা বানানো হচ্ছে এটা ভাবার কোন কারন নেই। এটা ভেবে করুন যাতে আর কোন “ওয়াশিকুর রহমান বাবু” বলির পাঠা না হয় এটা ভেবে।

ছবিঃ ইস্টিশন।

---------- মৃত কালপুরুষ
              ৩০/১১/২০১৭    

   

ফেসবুকের কভার ও প্রফাইল পিকচার পরিবর্তন প্রসঙ্গে।


সম্প্রতি ফেসবুকে একটি প্রচারনা নিশ্চয় সকলের নজরে এসেছে। সেখানে বলা হচ্ছে আসুন আমরা আগামী ৩০ নভেম্বর রাত ১১ টা ৫০ মিনিট থেকে আগামী কয়েকদিনের জন্য (সর্বোচ্চ ৯ দিন) মানে ডিসেম্বর মাসের ৯ তারিখ পর্যন্ত আমাদের ফেসবুক প্রফাইলের কভার ও প্রফাইল পিকচার পরিবর্তন করে নির্দিষ্ট দুইটি ছবি দিয়ে আমাদের একাত্বতা প্রকাশ করবো সেই সাথে এটা করার মাধ্যমে আমরা তাদের স্মরন করবো যারা মুক্তবুদ্ধির চর্চা ও মুক্তচিন্তার প্রচার ও প্রসারের জন্য রক্ত দিয়েছেন এবং নিজের প্রান দিয়েছেন এক শ্রেনীর মানুষের হাতে। ছবি দুইটিতে খুব সামান্য কিছু বিষয়ের মাধ্যমে অনেক কিছু তুলে ধরা হয়েছে বলে আমার মনে হয়। এখন পর্যন্ত আমি কোন মুক্তমনা ও মুক্তবুদ্ধির চর্চায় বিশ্বাসী কাউকে দেখি নাই তারা এটার দ্বিমত করেছে বা এই কাজটি করা যাবে না এমন কথা বলে যুক্তি দিয়েছে। আমার কাছেও আসলে মনে হয়েছে এইরকম কোন বিষয় যেহেতু আমাদের বাংলাদেশ, ভারত সহ বিশ্বের সমস্ত বাংলাভাষী মুক্তমনাদের মধ্যে এর আগে কখনই করা হয়নি তাই এটার সাথে থেকে আমাদের এগিয়ে নিয়ে যাওয়া উচিত।
   
যে কভার ফটো আর প্রফাইল পিকচার এর কথা বলা হচ্ছে সেখানে আমি কোন উগ্রতা বা মেনে নেওয়া যাবে না বা কাউকে অনুভূতিতে আঘাত করা হচ্ছে এমন কিছুই আমার নজরে আসেনি। কভার ফটোতে শুধু লেখা আছে “নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী”র লেখা “মিলিত মৃত্যু”র প্রথম দুইটি লাইন “বরং দ্বিমত হও, আস্থা রাখ দ্বিতীয় বিদ্যায়। বরং বিক্ষত হও প্রশ্নের পাথরে” এই লাইন দুইটি পড়লে আমার মনে হয় এতো সহজ করে এতো সংক্ষেপে মানুষের চিন্তার বন্ধ দরজায় আঘাত করার কথা উপস্থাপন করা হয়েছে যা অন্য কোথাও আমি খুব কমই দেখেছি। আর তার নিচে লেখা আছে “বিজয়ের মাসে তোমাদের স্মরনে”। তার নিচেই দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশে বিভিন্ন সময়ে হত্যার শিকার হওয়া বাকস্বাধীনতায় বিশ্বাসী ও মুক্তচিন্তার চর্চায় যারা নিজেদের প্রান দিয়েছিলেন তাদের ছবি। যেমন প্রথম থেকে (১)হুমায়ুন আজাদ, (২)আহমেদ রাজীব হায়দার শোভন, (৩) অভিজিৎ রায়, (৪)ওয়াশিকুর রহমান বাবু, (৫)অনন্ত বিজয় দাস, (৬)নীলাদ্রি চট্টোপাধ্যায় (নিলয় নীল), (৭)ফয়সাল আরেফিন দীপন, (৮)মাহাবুব রাব্বী তনয়, ও (৯)জুলহাজ মান্নান। বাম পাশে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের আন্দোলনের ও বিজয়ের একটি প্রতিকৃতি যা লাল রঙের বৃত্তের মধ্যে দেখা যাচ্ছে। এবং ঠিক সেই লাল রঙের বৃত্তের উপরেই আছে বিশ্ব বিখ্যাত ভাস্কর “অগাস্ত রোদিন” এর বিখ্যাত একটি ভাষ্কর্য “দ্যা থিংকার্স” এর প্রতিকৃতি যা মুক্তমনা বা ফ্রিথিংকার্সরা তাদের প্রতিক হিসেবে ব্যাবহার করে থাকে। এবং বাম পাশে কর্নারে দেখা যাচ্ছে কয়েকফোটা তাজা রক্ত যার অনেক অর্থ দাড় করানো যায়।

আর প্রফাইল পিকচার এর কথা যেটা বলা হচ্ছে শেখানেও বোঝা যাচ্ছে সেই কয়েকফোটা তাজা রক্তকেই মূল বিষয় করা হয়েছে। তবে শুধুই রক্ত যে আছে শেখানে তা নয়। রক্তের নিচে দেখা যাচ্ছে কুয়াশাচ্ছন্ন একটি বাংলাদেশের মানচিত্র যার ঠিক উপরেই আছে একটি মুষ্টিবদ্ধ হাত। আর সেই হাতে ধরা আছে একটি কলম আর এই বিষয়টি অস্পষ্ট হয়ে আছে সাদা রঙের কুয়াশা টাইপের কিছু দিয়ে যা মূলত আমাদের এই হাত ও বাংলাদেশের মানচিত্রটি ঠিক মতো দেখতে দিচ্ছে না এমন কিছু বোঝানো হয়েছে। বোঝানো হচ্ছে এই কুয়াশার মতো কোন একটি শক্তি আমাদের দেশের জ্ঞান বুদ্ধি আর মুক্তভাবে চিন্তা করার পথকে বাধাগ্রস্থ করছে। যাই হোক, সব মিলিয়ে আমার কাছে এই ছোট্ট একটি ছবির মধ্যে অনেক কিছু তুলে ধরা হয়েছে বলে আমার মনে হয়েছে। আর সেই সাথে মনে হয়েছে এখানে এমন কিছুই নেই যা আমাদের সোস্যাল মিডিয়ার বা ফেসবুক প্রফাইলের কভার ফটো আর প্রফাইল পিকচার করে মাত্র ৯ টা দিন আমরা রাখতে পারবো না। আমার মতে এটা অবশ্যয় করা দরকার। বিশেষ করে আমি তাদের অনুরোধ করবো যারা সিনিয়র লেখক আছেন এবং বাংলাভাষী মুক্তমনাদের মধ্যে পরিচিত মুখআমি চাই তারাও এটা করে আমাদের সবাইকে একত্রে থাকার জন্য উৎসাহ দিবেন।

আমার কাছে মনে হয়েছে এতোদিন সবাই যার যার মতো করে নিজ নিজ অবস্থান থেকে লিখে, কেউ অডিও ভয়েস দিয়ে এবং অনেকেই ভিডিও ব্লগিং এর মাধ্যমে তাদের মনের কথা প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন মাধ্যমে। তবে এরকম কোন উদ্যোগ নিতে দেখিনি যাতে করে প্রকাশ পাবে এই মুক্তমনাদের মধ্যেও যে একতা আছে সেই বিষয়টি। বাংলাদেশ ভারত সহ বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশেই বাংলাভাষী মুক্তমনারা আছেন যারা সমাজের গোড়ামী আর কুসংস্কার এর বিপক্ষে নানা ভাবে কথা বলে থাকেন। তবে অনেকেই আছে যারা মুক্তচিন্তায় বিশ্বাস করেও নানা কারনে চুপচাপ থাকেন। তাদের জন্য এটা হবে সহমত প্রকাশ করার একটি বড় মাধ্যম। এমনও হতে পারে, এবার যদি এই ৯ দিনের জন্য সারা বিশ্বের বাংলাভাষী মুক্তমনারা এই বিষয়টিকে পালন করে সবার কাছে পৌছে দিতে পারে তাহলে আগামীতে প্রতি বছরই ডিসেম্বর মাসের প্রথম ৯ দিন এটা নিয়মিত ভাবে পালন করা হবে। তবে সেটা নির্ভর করছে সবাই কি পরিমান সাপোর্ট করে এই বিষয়টি তা দেখার উপরে। আর একটি বিষয় হচ্ছে এটি কিন্তু কোন ব্যানারে করা হচ্ছে না। কোন সংগঠন বা কোন অর্গানাইজেশন এর সাথে জড়িত না। আমার জানামতে এর নেই কোন স্পন্সর। অর্থাৎ এটা সম্পুর্ণ একটি প্রানের আয়োজন বলা চলে যা প্রকৃত স্বার্থহীন একটি কাজ হবে বলে মনে করি।

এবার আসুন যেই কভার ফটো নিয়ে আজকের আলোচনা সেই কভার ফটোতে যে বিষয়গুলা আছে তা একটু সংক্ষেপে জানার চেষ্টা করি। প্রথমেই ফ্রান্সের বিখ্যাত ভাষ্কর “অগাস্ত রোদিন” এর বিখ্যাত শিল্প “দ্যা থিংকার্স” নামের ভাষ্কর্যটি নিয়ে কিছু জানি। এটি একটি ব্রোঞ্জ ভাষ্কর্য যা একটি পাথরের উপরে অবস্থিত। এই ভাষ্কর্যটিতে দেখা যায় একটি পাথরের উপরে শক্ত দেহের একজন নগ্ন পুরুষ তার চিবুকটি ডান হাতের উপরে রেখে খুব গভীরভাবে চিন্তা করছেন। এই ভাষ্কর্যটি অধিকাংশ সময়েই দর্শনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিক হিসেবে ব্যাবহার করা হয়। এটার নাম “দ্যা থিংকার্স” হবার কারনে এটি মুক্তচিন্তায় বিশ্বাসীদের প্রতিক হিসেবেও সব যায়গায় ব্যাবহার করা হয়। মূল ভাষ্কর্যটি ফ্রান্সের প্যারিসে একটি জাদুঘরে বর্তমানে সংরক্ষিত আছে তবে এই ভাষ্কর্যের ২৮ টি কপি সমস্ত পৃথিবীতে আছে বর্তমানে। যার মধ্যে সব থেকে বড়টির উচ্চতা ১৮৬ সেন্টিমিটার বা ৭৩ ইঞ্চি। এবার আসুন এখানে যাদের ছবি দেওয়া আছে তাদের সম্পর্কে সংক্ষেপে জানার চেষ্টা করি।

এখানে দেখা যাচ্ছে ৯ জন মুক্তচিন্তায় বিশ্বাসী ও মুক্তমনা সমাজে পরিচিত মুখের প্রতিকৃতি বা ছবি। যেমন প্রথমে আছেন “হুমায়ুন আজাদ” জন্ম ২৮ এপ্রিল ১৯৪৭ - মৃত্যু ১১ আগস্ট ২০০৪ যিনি ছিলেন একজন বাংলাদেশি কবি, ঔপন্যাসিক, গল্পকার, সমালোচক, গবেষকভাষাবিজ্ঞানী, কিশোর সাহিত্যিক এবং রাজনীতিক ভাষ্যকার। তিনি বাংলাদেশের প্রধান প্রথাবিরোধী এবং বহুমাত্রিক লেখক যিনি ধর্মমৌলবাদ, প্রতিষ্ঠান ও সংস্কারবিরোধিতা, নিরাবরণ যৌনতানারীবাদ, রাজনৈতিক এবং নির্মম সমালোচনামূলক বক্তব্যের জন্য ১৯৮০'র দশক থেকে ব্যাপক পাঠকগোষ্ঠীর দৃষ্টি আর্কষণ করতে সক্ষম হয়েছিলেন এবং লেখার মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে তীব্র আক্রমণের কারণে ২০০৪ খ্রিষ্টাব্দে তিনি হত্যা প্রচেষ্টার শিকার হন। তার পরে আছেন ‘আহমেদ রাজীব হায়দার শোভন” ওরফে থাবা বাবা। আহমেদ রাজীব হায়দার এর  মৃত্যু হয় ১৫ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ সালে। যিনি  বাংলাদেশের একজন নাস্তিক ব্লগার ছিলেন। পেশায় স্থপতি হায়দারের ব্লগের লেখাগুলি ২০১৩ শাহবাগ আন্দোলনের অন্যতম কারণ হিসেবে মনে করা হয়ে থাকে। এই আন্দোলনের মাধ্যমে প্রতিবাদীরা বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে পাকিস্তানপন্থীদের দ্বারা সংগঠিত গণহত্যার বিচারের দাবী জানায়। ২০১৩ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারি অজ্ঞাত পরিচয়ধারী একদল দুর্বৃত্ত হায়দারকে হত্যা করেন। ২০১৩ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারি ঢাকার মিরপুর অঞ্চলে নিজস্ব বাসস্থান থেকে বের হওয়ার সময় আহমেদ রাজীব হায়দারকে আক্রমণ করে হত্যা করা হয়। তাঁর দেহ এতটাই ক্ষতবিক্ষত করে দেওয়া হয়, যে তাঁর পরিবার ও আত্মীয়রা তাঁর দেহ শনাক্ত করতে অক্ষম হন। পরের দিন তাঁর মরদেহ শাহবাগ স্কোয়ারে লক্ষাধিক মানুষের প্রতিবাদস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়।

এর পরের ছবিটা সকলের পরিচিত মুখ “অভিজিৎ রায়” এর। জন্ম ১২ সেপ্টেম্বর ১৯৭২ - মৃত্যু ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ তিনি ছিলেন একজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বাংলাদেশী-মার্কিন প্রকৌশলী, লেখক ও ব্লগার। তিনি বাংলাদেশের মুক্ত চিন্তার আন্দোলনের সাথে জড়িত ছিলেন। তিনি বাংলাদেশে সরকারের সেন্সরশিপ এবং ব্লগারদের কারাদণ্ডের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক প্রতিবাদের সমন্বয়কারক ছিলেন। তিনি পেশায় একজন প্রকৌশলী হলেও তার স্ব-প্রতিষ্ঠিত সাইট মুক্তমনায় লেখালেখির জন্য অধিক পরিচিত ছিলেন। ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে একুশে বইমেলা থেকে বের হওয়ার সময় অজ্ঞাত সন্ত্রাসীরা তাকে কুপিয়ে হত্যা ও তার স্ত্রী রাফিদা আহমেদ বন্যা কে আহত করে। ২০১৫ সালে অভিজিৎ একুশে বইমেলা চলাকালীন বাংলাদেশে আসেন  ২৬শে ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যাবেলায় তিনি ও তাঁর স্ত্রী রাফিদা আহমেদ বন্যা একটি রিকশায় করে একুশে বইমেলা থেকে বাড়ি ফেরার সময় সাড়ে আটটা নাগাদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের নিকটে অপরিচিত দুস্কৃতিকারীদের আক্রমনের শিকার হয়ে মৃত্যবরন করেন। এরপরে আছেন “ওয়াশিকুর রহমান বাবু” এই সেই বাবু যে অভিজিৎ রায়ের হত্যার পরে তার ফেসবুকের কভার ফটোতে লেখেন “আই এম অভিজিৎ” ও “ওয়ার্ডস কেন নট বি কিলড” ২৭ বছর বয়সী এই যুবক বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যমে লেখালেখি করতেন। তবে সব চেয়ে এক্টিভ ছিলেন ফেসবুকে। ২০১৫ সালের ৩০ মার্চ ঢাকার তেজগাঁওয়ে নিজের বাসা থেকে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে ধর্মীয় গোঁড়ামির বিরুদ্ধে লেখালেখি করার কারনে দুর্বৃত্তদের চাপাতির আঘাতে খুন হন ওয়াশিকুর

তারপরের ছবিটি “অনন্ত বিজয় দাস” এর লেখক অভিজিৎ রায় হত্যাকাণ্ডের আড়াই মাসের মাথায় এবং ব্লগার বাবু হত্যার ১ মাসের মাথায় সিলেটে অনন্ত বিজয় দাস নামে আরেক ব্লগারকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে, যিনি নিজেও মুক্তমনা ব্লগে লিখতেন এবং গণজাগরণ মঞ্চে যুক্ত ছিলেন। তার লেখা বেশ কিছু বই আছে বর্তমানে। তারপরে আছেন “নীলাদ্রি চট্টোপাধ্যায় (নিলয় নীল)” এর ছবি যাকে আগস্ট ২০১৫ তে খিলগাঁও এর পূর্ব গোড়ানের একটি ফ্ল্যাটে পরিবারের সবাইকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। নিলয় গণজাগরণ মঞ্চের সক্রিয় কর্মী ছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগ থেকে অনার্স শেষ করে একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন। তিনি নিলয় নীলনামে বিভিন্ন ব্লগে লেখালেখি করতেন। তার ফেসবুক প্রফাইলও ছিল ওই একই নামে তার পরের ছবিটি জাগৃতি প্রকাশনীর মালিক “ফয়সাল আরেফিন দীপন” এর। তাকেও ২০১৫ সালের অক্টোবরে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। রাজধানীর শাহবাগে আজিজ সুপার মার্কেটে তাঁর কার্যালয়ে ঢুকে দুর্বৃত্তরা তাঁকে কুপিয়ে ভেতরে ফেলে রেখে দরজা বন্ধ করে দিয়ে চলে যায়। সে মুক্তমনা লেখকদের বই প্রকাশ করতো।

এবং সর্বশেষে আছেন “মাহাবুব রাব্বী তনয় ও জুলহাস মান্নান”২০১৪ সালের জানুয়ারি মাসে একটি 'বিপ্লবী' কাজ করে ফেলেন বাংলাদেশের কিছু তরুন যাদের মধ্যে তারা দুইজন ছিলো অন্যতমতারা এই কুসংস্কারাছন্ন দেশটিতে প্রথমবারের মতো এমন একটি পত্রিকা প্রকাশ করে বসেন যেটির উদ্দেশ্য সমকামীদের পক্ষে কথা বলা। বাংলা ভাষার এই পত্রিকাটির নাম ছিলো “রূপবান” এর আগে বাংলাদেশের সমকামীরা কখনো এমনভাবে প্রকাশ্য হয়নি নিজেদের অধিকারের কথা তাদেরকে কখনো বলতেও শোনা যায়নি। এই রূপবানের সম্পাদকীয় বোর্ডের একজন সদস্য ছিলেন “জুলহাজ মান্নান” এবং তার বন্ধু “মাহাবুব রাব্বী তনয়”২০১৬ সালের এপ্রিল মাসে তারা কলাবাগানে দুর্বৃত্তদের চাপাতির আঘাতে নিহত

আপাতত এগুলিই ছিলো এই কভার ফটোর সাথে সম্পৃক্ত সকলের সংক্ষিপ্ত পরিচয়ের পালা। আমার মনে হয়েছে আমাদের দেশে বর্তমানে আগের থেকেও বেশি এবং হঠাৎ করে মুক্ত চিন্তার অনেক প্রসার ঘটেছে যা আমরা অনেকেই প্রত্যাক্ষ করছি। অনেকেই আজ আওয়াজ তুলছেন যারা এইভাবে মৃত্যুবরণ করেছে তাদের পক্ষে। অনেকেই মনে করছে বিখ্যাত লেখক, লেখিকা সহ আজ যারা এই দেশ ছেড়ে অন্য দেশে অবস্থান করছেন তাদের জন্য কথা বলার সময় এসেছে। আর তাই আর লুকিয়ে লুকিয়ে নয় সবাই চাইছে যে কোন ভাবেই জ্ঞান-বিজ্ঞান আর মুক্তচিন্তার প্রচার আর প্রসার করে নিজেদের মধ্যে এর চর্চার পরিধি বাড়াতে। আর তারই একটু ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা মনে হয়েছে এই উদ্দ্যোগকে আমার কাছে। আর যে কারনেই আমি অন্যান্য অনেক বিষয়ের মতো এটির পক্ষে কথা বলতে চাই এবং সাথে থাকতে চাই।

---------- মৃত কালপুরুষ
               ২৯/১১/২০১৭