বুধবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

রোহিঙ্গা সমস্যা কি জাতিগত না ধর্মগত ?



আজ থেকে প্রায় ২৫ বছর বা তারও আগের কথা। বাবার সরকারি চাকরির সুবাদে রাঙ্গামাটি ও চন্দ্রঘোনা কাপ্তাই অঞ্চলে বেশ কয়েকবছর কাটাবার সুযোগ হয়েছিলো। তখন নানীয়ারচর নামক একটি থানার এক সরকারি কোয়ার্টার এ থাকতাম আর সেখানকার স্থানীয় স্কুলে পড়তাম। সম্ভবত আমি আমার ক্লাশের একমাত্র বাঙ্গালি ছিলাম। যে কারনেই আমার কয়েকজন রোহিঙ্গা বা রাখাইন অঞ্চল থেকে বাংলাদেশে এসে বসবাস গড়ে তোলা বন্ধু তৈরি হয়েছিলো। অনেক বছর অতিবাহিত হবার কারনে সবার কথা মনে না থাকলেও কোয়ার্টারের পাশেই বসবাস করা আমার কাছের দুই বন্ধু উসা মং আর সুসা মং এর কথা মনে আছে। গতকাল রাতে আবারও রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে পার্বত্য অঞ্চল সহ মায়ানমার সীমান্ত উত্তেজনা আর টিভি নিউজ গুলার কারনে এদের কথা স্বরন হলো।
অনেকের মতো আমারও প্রশ্ন জাগে, এই যে দুইদিন পরপর শুধু দেখি রোহিঙ্গা নির্যাতন আর রোহিঙ্গা হত্যা। যারা কোন রকম পালিয়ে বাংলাদেশ বা অন্যান্য দেশে যায় তাদের আবার ফেরত পাঠাও সেই দেশে। আসলে এই রোহিঙ্গা সমস্যা কি জাতিগত না ধর্মগত। তাহলে তার আগে আমাদের দেশের কাঠমোল্লা গ্রুপের মনোভাব টা জানতে হবে। আমাদের দুর্নীতিগ্রস্ত প্রশাসন ও স্থানীয় মোল্লাদের রাজনৈতিক লিংক এর ফলে এরা সহজেই শরনার্থী এলাকা ছেড়ে বাইরে সাধারণ মানুষের মাঝে মিশে যায়। কদিন আগে ইনিডিপেন্ডেন্ট টিভির একটা প্রতিবেদনে এই বিষয়গুলো চমৎকারভাবে উঠে এসেছে। দুজনকে পাওয়া গেছে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে (সংখ্যাটা ভকুল হতে পারে তবে ঘটনা নয়), বিস্তর লোক জমিজমা কিনে একেবারে জেঁকে বসেছে। স্থানীয় অনেকেই বিবাহ পদ্ধতিতে রোহিঙ্গাদের বাঙালিকরণ পদ্ধতি অবলম্বন করছে।
ঠিক যেমন রাজশাহী অঞ্চলে একই পদ্ধতিতে ঘটেছিল জামাতিকরণ যার সবচেয়ে বড় শিকার খোদ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। বরাবরই রোহিঙ্গা ইস্যুতে জামাত ও ইসলামি দলগুলোর সরব, কারণটা সহজ এবং এখানেও পূর্বে আলোচিত তা হলো, এরা এখানকার জঙ্গী সংগঠনগুলোর একইসাথে সহজলভ্য গানম্যান এবং নির্বাচনের সময় ভোটব্যাংক। তাই রোহিঙ্গা ইস্যুতে চোখের নিমিশে মোল্লাদের পথে নামায় কোনও আশ্চর্য হওয়ার উপাদান নেই। অথচ এরা আর বিষয়গুলোতে নির্লিপ্ত। এমনকি ফিলিস্তিন বা আরব রাষ্ট্রগুলোতে চলা হত্যাকাণ্ডগুলোতেও। কারণ সহজেই অনুমেয়, রোহিঙ্গারা প্রত্যক্ষভাবে যতটা অংশ নিতে পারে, ততটা দূরবর্তী নির্যাতিত মুসলিমরা নিতে পারে না। ফলে সেখানে মুসলিম ভাতৃত্ব দেখিযে আর ফায়দা কি? তাই সৌদিআরব এর জঙ্গীপনা বাংলাদেশের মুসলিম জান্নাতপ্রিয় ভায়েরা চোখে দেখে না। এ কারণে ওইসব দূরবর্তী দেশে সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের বিরেুদ্ধেও প্রথমে প্রগতিশীল ও মুক্তমনা মানুষদেরই আমরা পথে দেখি। আর যার কারনে মুক্তিমনারা হয় নাস্তিক আর মানবতা বিরোধী।
কথাগুলো অনেকের কাছেই কঠিন মনে হতে পারে কিন্তু আমি ব্যক্তিগত ভাবে মনে করি এটাই অতীতে ঘটেছে এবং এখনো ঘটছে। যার প্রমান দুদিন আগের ঘটনা। কাল রাতে আবারও ইনডিপেন্ডেন্ট টিভিতে একটি টক শো দেখে মনে হলো এটা দেশের মানুষের জানা উচিত। আমরা তো যে যার মতো বাংলাদেশের বাসিন্দা হয়েই মনে করছি কাজ শেষ। আর সেই মতে যার যার অবস্থান থেকে বাচার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছি। অনেকেই হয়তো যানে না এই রোহিঙ্গা কারা এই রাখাইন রাজ্য কোথায় এদের (রোহিঙ্গা) দেশ কোনটি। আমি যদি সমস্যা সমাধানের কথা সরাসরি বলি তা অনেকের বোধগম্য নাও হতে পারে। তাই রোহিঙ্গাদের সংক্ষিপ্ত পরিচয় তুলে ধরছি।

রোহিঙ্গা আদিবাসী জনগোষ্ঠী পশ্চিম মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যের একটি উলেখযোগ্য নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী। এরা ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত। রোহিঙ্গাদের আলাদা ভাষা থাকলেও তা অলিখিত। মায়ানমারের আকিয়াব, রেথেডাং, বুথিডাং, মংডু, কিয়কতাও, মাম্ব্রা, পাত্তরকিল্লা, কাইউকপাইউ, পুন্যাগুন ও পাউকতাউ এলাকায় এদের নিরঙ্কুশ বাস। এছাড়া মিনবিয়া, মাইবন ও আন এলাকায় মিশ্রভাবে বসবাস করে থাকে। ২০১২ সালের শেষ হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ৮,০০,০০০ রোহিঙ্গা মায়ানমারে বসবাস করে। মায়ানমার ছাড়াও ৫ লক্ষের অধিক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এবং প্রায় ৫লাখ সৌদিআরবে বাস করে বলে ধারনা করা হয় যারা বিভিন্ন সময় বার্মা সরকারের নির্যাতনের কারণে দেশ ত্যাগ করতে বাধ্য হয়। জাতিসংঘের তথ্যমতে, রোহিঙ্গারা বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে নির্যাতিত ও রাষ্ট্রবিহীন জনগোষ্ঠী।
চলবে.............ছবিঃ এলিয়েন্স।

---------- মৃত কালপুরুষ
             ২৮/০৮/২০১৭

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন