শনিবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

(মুর্তি পূজা) হুবাল দেবতা ও ইসলাম ধর্ম।


সবাইকে শ্বারদীয় শুভেচ্ছা, যেহেতু চলছে এটাই। প্রতি বছর হিন্দু ধর্মাবলম্বিদের এই বড় উৎসবটি নিয়ে নানা কথা শোনা যায়। বিশেষ করে বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিম বঙ্গে বেশি শোনা যায় হিন্দুদের দেব দেবীদের মূর্তি ভাঙ্গার কথা। যারা ভাঙ্গে তারাও একটি ধর্মে বিশ্বাসী এবং তাদেরও দেবতা, ঈশ্বর বা আল্লাহ নামের একজন সৃষ্টিকর্তা আছেন। এর মধ্যে মুসলিমদের বেশি দেখা যায় বাংলাদেশে এই সনাতন ধর্মীয়দের মূর্তি বেশি ভাঙ্গে। এবার দেখলাম বিভিন্ন অঞ্চলে সরকার থেকে পাহারার ব্যবস্থা করে রাখা হয়েছিলো যাতে এরা মুর্তি না ভাঙ্গতে পারে। আমার কথা হচ্ছে ইসলাম ধর্মাবলম্বিরা কি জানে তাদের সাথে মূর্তির একটি বড় সম্পর্ক আছে। আমার মনে হয় জানে না। সকল ধর্ম বিশ্বাসী মানুষদের উচিৎ অন্যের ধর্ম বা অন্য ধর্মের উৎসবে বাধা দেওয়ার আগে তাদের নিজের ধর্মটি নিয়ে আগে ক্রিটিক্যালী সেটাকে এনালাইসিস করতে শেখা। নিজের ধর্ম সম্পর্কে জানাবোঝার যায়গা বাড়ানো। বাপ দাদার পৈত্রিক সম্পত্তি হিসেবে পাওয়া ধর্মটাকে রক্ষা করতে যাওয়ার আগে তার ইতিহাস জানা। আজ প্রাক ইসলামিক যুগের এক দেবতা “হুবাল” দেবতার কথা বলবো, যার প্রাক্তন মন্দির হচ্ছে মুসলিম ধর্মানুসারিদের পবিত্র শহর মক্কায় অবস্থিত কাবা ঘর।

হুবাল হচ্ছে একটি আরবী শব্দ এবং এটি প্রাক ইসলামিক যুগের একজন উপাস্য দেবতার নাম। একসময় মক্কা নগরীর কাবাঘরে হুবালের মূর্তি স্থাপিত ছিলো। এবং ইসলাম ধর্ম তৈরি হবার হাজার বছর আগে থেকেই এই হুবাল দেবতাকে পূজা করে আসা হতো। তার মূর্তিটি মনুষ্যাকৃতির ছিলো। হুবাল অনুসারীগণ তার সামনে রক্ষিত তীরের সাহায্যে দেবতার মতামত নিত। আর যারা এই হুবাল দেবতাকে তখন বিশ্বাস করতো তারাই পরবর্তিতে সব মুসলমান মানে ইসলাম ধর্মের অনুসারী হয়েছিলো। হুবাল সম্পর্কে খুব বেশি জানা যায় না। উত্তর আরবে বর্তমান সিরিয়া এবং ইরাক থেকে পাওয়া নবতাইয়া লিপিতে হুবালের কথা উল্লেখ আছে। হুবাল বিশেষ কোন ক্ষমতার যেমন বৃষ্টির দেবতা ছিলেন। হুবালের উপাসনা এবং রক্ষনাবেক্ষণের ভার ছিলো মক্কার কুরাইশ বংশের উপর্। ৬২৪ খিস্টাব্দে মুসলমানদের বদরের যুদ্ধে হুবাল দেবতার মূর্তিপূজারীগণ তৎকালীন ইসলাম ধর্মের নবী মুহাম্মদ (সাঃ) এর অনুসারী দের সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত হয়। তার প্রায় ৬ বছর পরে ৬৩০ খিস্টাব্দে মক্কা বিজয়ের পর মুহাম্মদ (সাঃ) এবং তার অনুসারীরা কাবাঘরের রক্ষিত হুবাল সহ সর্বোমোট ৩৬০টি মূর্তি সরিয়ে ফেলেন বলে অনেক উল্লেখ আছে।

কিন্তু পরবর্তিতে মুসলমানদের নবী মুহাম্মদ (সাঃ) এর উপরে ইসলাম ধর্ম অনুসারীদের প্রধান ঐশরিক কিতাব পবিত্র কোরান শরীফ নাজিল হবার যে কথা শোনা যায়, তার পরেও এই হুবাল দেবতার কিছু নিয়ম কানুন, আচার অনুষ্ঠান ইসলাম ধর্মের মধ্যে থেকে যাওয়ার নমুনা আছে অনেক। যেমন মুসলমানেরা চাঁদ দেখে তাদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব পালন করেন মুসলমানদের ধর্মীয় প্রতিক চাঁদ,তারা ইত্যাদি বাদেও আরো অনেক কিছু হুবাল দেবতা থেকে প্রাপ্ত। কাবা শরিফের চারদিকে ৭ পাক দেওয়া, শয়তান কে লক্ষ করে পাথর মারা ইত্যাদি সহ ইসলাম ধর্মানুসারীদের কাছে একটি নাম খুবই প্রিয় আর তা হচ্ছে “আব্দুল্লাহ”। প্রায়ই দেখা যায় মুসলিম পরিবারে কোন সন্তান জন্ম নিলে তার নাম রাখা হয় আব্দুল্লাহ নাম ব্যবহার করে। আর মুসলামানদের অনেকের দাবী এই নামের অর্থ হচ্ছে আল্লাহর দাস, কিন্তু কোন আল্লাহর দাস সেটা কিন্তু তারা বলতে পারে না। তারা মনে করে এটি একটি ইসলামিক নাম কারন এটি ছিলো নবী মুহাম্মদ (সাঃ) এর পিতার নাম “আব্দুল্লাহ”। একটু ভেবে দেখবেন নবী মোহাম্মদ (সাঃ) এর পিতা আব্দুল্লাহ কিন্তু নবীর জন্মের পুর্বেই মারা গিয়েছিলেন।

ইসলামের প্রচলন শুরু হয় ৬১০ খৃষ্টাব্দ থেকে (নবীর বয়স যখন ৪০ বছর)।  তখন নবী সহ যে সকল মানুষ জীবিত ছিল তারা জন্মের সময় কি মুসলমান ছিল না ছিলনা চিন্তা করুন। তারা ইসলাম ধর্মে দিক্ষিত হয়ে কি তাদের নাম পাল্টে ফেলেছিলো না সেই নামই ছিলো। তাদের জন্মের সময় তাদের যে নাম রাখা হয়েছিলো সেই নাম সমুহ কি আদৌ ইসলামী নাম হতে পারে ? বরং যদি দাবি করা হয় যে ঐ সকল নাম খাটি প্যাগানদের বা হুবালের অনুসারীদের নাম তাহলে তা অস্বিকার করার কোন পথ খোলা থাকবে না। বর্তমানে বিভিন্ন মুসলিম পরিবারে সন্তুানের নাম রাখাহয় বিখ্যাত সাহাবিদের নামে। সেইসব সাহাবাদের জন্মের সময় কি তাদের ইসলামী নাম ছিল ? অবশ্যই তাদের নাম রাখা হয়েছিলো প্যাগান ধর্ম, ঐতিয্য অনুসরনে।আব্দুল্লাহনামটি সবথেকে বেশি সহী ইসলামী নাম। আব্দুল্লাহ ছিলেন নবীজির পিতা যিনি নবীজির জন্মেরও আগে মারা যান। খেয়াল রাখতে হবে, আব্দুল্লাহ  পৌত্তলিক হিসেবেই মারা যান সে কিন্তু মুসলমান ছিলেন না। আব্দুল্লাহ নামের অর্থ আল্লাহর দাস। কিন্তু কোন আল্লাহর দাস ? তখনও ইসলামের জন্মও হয়নি এবং ইসলামের প্রচারকেরও জন্ম হয়নি। ইসলামের পুর্ববর্তি ইহুদি খৃষ্টান ধর্মেও আল্লাহ বলে কোন শব্দই নেই। এই আল্লাহ সেই প্যাগানদের মধ্যে প্রচলিত আল্লাহ নামের দেবতা যে লাত, মানাত ও উজ্জাত নামের তিন কন্যার পিতা এই হুবাল যার আরেক নাম হচ্ছে আল্লাহ।

এখন দেখুন ইসলাম ধর্ম তৈরি হবার পরে তাদের কোরানেও এই হুবাল দেবতার মুর্তি পূজার কথা উল্লেখ করা হয়েছে পজেটিভ ভাবেই। মানে তারা যে ছিলো তা ইসলাম ধর্মানুসারীরা কোন মতেই অস্বীকার করতে পারবেন না। তাদের কোরান বলছে-

সূরা আল আম্বিয়া (الأنبياء), আয়াত: ৯৮
إِنَّكُمْ وَمَا تَعْبُدُونَ مِن دُونِ ٱللَّهِ حَصَبُ جَهَنَّمَ أَنتُمْ لَهَا وَٰرِدُونَ
উচ্চারণঃ ইন্নাকুম ওয়ামা-তা‘বুদূ না মিন দূ নিল্লা-হি হাসাবুজাহান্নামা আনতুম লাহা-ওয়া-রিদূ ন।
অর্থঃ তোমরা এবং আল্লাহর
পরিবর্তে তোমরা যাদের পুজা কর, সেগুলো দোযখের ইন্ধন। তোমরাই তাতে প্রবেশ করবে।

সূরা আয্‌-যুখরুফ (الزّخرف), আয়াত: ৮৬
وَلَا يَمْلِكُ ٱلَّذِينَ يَدْعُونَ مِن دُونِهِ ٱلشَّفَٰعَةَ إِلَّا مَن شَهِدَ بِٱلْحَقِّ وَهُمْ يَعْلَمُونَ
উচ্চারণঃ
ওয়ালা-ইয়ামলিকুল্লাযীনা ইয়াদ‘ঊনা মিন দূনিহিশশাফা-‘আতা ইল্লা-মান শাহিদা বিলহাক্কি ওয়া হুম ইয়া‘লামূন।
অর্থঃ তিনি ব্যতীত তারা যাদের
পুজা করে, তারা সুপারিশের অধিকারী হবে না, তবে যারা সত্য স্বীকার করত ও বিশ্বাস করত।

সূরা আল আহ্‌ক্বাফ (الأحقاف), আয়াত: ৫
وَمَنْ أَضَلُّ مِمَّن يَدْعُوا۟ مِن دُونِ ٱللَّهِ مَن لَّا يَسْتَجِيبُ لَهُۥٓ إِلَىٰ يَوْمِ ٱلْقِيَٰمَةِ وَهُمْ عَن دُعَآئِهِمْ غَٰفِلُونَ
উচ্চারণঃ ওয়ামান আদাল্লুমিম্মাইঁ
ইয়াদ‘ঊ মিন দূনিল্লা-হি মাল্লা-ইয়াছতাজীবুলাহূইলা-ইয়াওমিল কিয়া-মাতি ওয়াহুম ‘আন দু‘আইহিম গা-ফিলূন।

অর্থঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর
পরিবর্তে এমন বস্তুর পূজা করে, যে কেয়ামত পর্যন্তও তার ডাকে সাড়া দেবে না, তার চেয়ে অধিক পথভ্রষ্ট আর কে? তারা তো তাদের পুজা সম্পর্কেও বেখবর।

শুধু মুসলমানদের কোরান শরিফ এ যে তার উল্লেখ আছে তা কিন্তু না। প্যাগান আরবের পুরাণ থেকে প্রাপ্ত তথ্যাদি থেকে হুবালের আসল পরিচয় বা কাজ বের করা একটু কঠিন। ১৯ শতকের শিক্ষাবিদ জুলিয়াস ওয়েলহাউসেন দাবী করেন হুবাল ছিলেন আল লাতের পুত্র এবং ওয়াদ এর ভাই। ২০ শতকের প্রথম দিকের শিক্ষাবিদ হুগো উইংক্লার হুবালকে চন্দ্রদেবতা হিসেবে দাবী করেন। অনেক শিক্ষাবিদ এই দাবীকে সমর্থন করেন। দক্ষিণ আরবীয়রা ট্রিনিটি তত্বে বিশ্বাস করতো। চন্দ্র-পিতা, সূর্য-মাতা এবং সন্ধ্যা তারা(শুক্র গ্রহ)-পুত্র হিসেবে বিশ্বাস করতো।
মিরসিয়া এলিয়েড এবং চার্লস যে. এডামস হুবালকে বৃষ্টির দেবতা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। প্রাক ইসলামী যুগে কুরাইশগণ এবং তাদের মিত্র কিনানা এবং তিহামা গোত্র হুবালকে আন্তঃগোত্রীয় যুদ্ধ দেবতা হিসেবে পূজা করতো।

আল আজরাকির বর্ণনানুসারে, হুবালের মূর্তিটি মেসোপটেমিয়ার হিট অঞ্চল থেকে মক্কা নগরীতে নিয়ে আসা হয়। বর্তমানে হিট অঞ্চলটি ইরাকে অবস্থিত। ফিলিপ কে হিট্টি হুবাল শব্দের সংগে আরামীয় শব্দের মিল খূঁজে পান যার অর্থ শক্তি। সেটার উপর ভিত্তি করে তিনি দাবী করেন হুবালের ছবিটি উত্তর আরব সম্ভবত মোয়াব অথবা মেসোপটেমিয়া থেকে মক্কা নগরীতে আনা হয়। হুবাল শব্দটি সম্ভবত হু এবং বাল সহযোগে গঠিত হয়েছে। হু শব্দের অর্থ শক্তি বা দেবতা এবং বাল অর্থ প্রভু বা খোদা। বাল ছিলেন মোয়াব ধর্মাবলম্বীদের খোদা। দক্ষিণ আরবের বাইরে শুধু মাত্র নাবাতিয় পুঁথিতে হুবালের কথা দেবতা দুশারা এবং মানাওয়াতু (মানাত নামে সমধিক পরিচিত) এর সাথে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে অনেক পুঁথিতে ব্যক্তি বিশেষের নাম হিসেবে হুবালের উল্লেখ আছে যেমন, হুবালের পুত্র।

আমি জানি এই কথাগুলি শুনতে ইসলাম ধর্মানুসারীদের একটু খারাপ লাগবে। কিন্তু জেনে রাখুন এটাই হচ্ছে প্রকৃত সত্য। এরকম আরো হাজার হাজার মিল আছে ইসলাম ধর্মে যা প্যাগান ধর্ম ও হুবাল দেবতার সাথে মিলে যাবে। আমি আমার পরবর্তি একটি লেখাতে এই হুবাল দেবতা কিভাবে সেই মেসোপটেমিয়া, রোমান আর পারস্য দেবতাদের থেকে আরব্য সাংস্কৃতিতে এসেছে এবং তা থেকে পরবর্তীতে ইসলাম ধর্মে প্রবেশ করেছিলো তা নিয়ে লিখবো। তাই ইসলাম ধর্মাবলম্বিদের কাছে অনুরোধ করবো সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানকে আপনাদের ধর্মীয় নিয়ম অনুযায়ী পাপ মনে করার আগে নিজেদের ধর্মেও যে মুর্তি পুজার ইতিহাস আছে সেটা আগে জানার চেষ্টা করুন।

---------- মৃত কালপুরুষ

              ৩০/০৯/২০১৭

বৃহস্পতিবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

“বানর থেকে আধুনিক মানুষে রুপান্তর” কথাটি ভুল।


কিছু সৃষ্টিবাদীকে দেখা যায় বিবর্তনবাদীদের সাথে যখন কোন যুক্তিতর্ক বা বিতর্ক করে আর পারে না, তখন ঠিক চলে যাওয়ার আগ মূহুর্তে একটি কথা বলে যায়। সেটা হচ্ছে “তাহলে আপনি মনে করেন যে, আপনি বানর থেকে মানুষ হয়েছেন বা আপনার পুর্বপুরুষেরা সব বানর ছিলো”। একটু যাচাই বাছাই করে দেখুন এদের জ্ঞানের সীমা কতটুকু হতে পারে। এদের মধ্যে অনেকেই আবার বলে যে “বানর থেকেই যদি মানুষ হবে তাহলে এখন আর বানরেরা মানুষ হয়ে যায় না কেন” এমন প্রশ্ন করতেও শোনা যায় কিছু শিক্ষিত যুব সমাজকে। এবার ভেবে দেখুন তাহলে এরা কোন অবস্থায় আছে এখনও। আমি কিন্তু কখনই এদেরকে দোষারপ করি না তাদের এই জাতীয় মনোভাবে। এর একমাত্র কারন হচ্ছে আমাদের দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় বিবর্তন নিয়ে কোণ শিক্ষা দেওয়া হয় না। যারা সুকৌশলে আমাদের দেশের মতো তৃতীয় শ্রেনীর দেশগুলোর শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে এই বিবর্তন শিক্ষা চুপিচুপি সরিয়ে ফেলেছে, নিঃসন্ধেহে তারা চাইছে না আমাদের দেশের নতুন প্রজন্ম এই বিবর্তন নিয়ে জানুক। তার থেকে তারা বেশি চাইছে কেউ একজন আমাদের মানে মানুষকে মাটি দিয়ে বানিয়েছে এবং আজ থেকে ৬ হাজার বছর আগে পৃথিবীতে ছেড়ে দিয়েছে এমন মনোভাব প্রতিষ্ঠা করতে।

আচ্ছা এখন বলি যারা কথায় কথায় বলে মানুষ বানর থেকে এসেছে তাদের জবাব। আমার প্রথম কথা হচ্ছে বানর বলতে আমরা কি বুঝি সেটা আগে দেখতে হবে। বানর বা (Monkey )  জঙ্গলে গাছের ডালে থাকা বা চিডিয়াখানার খাচাই বন্দী রডে ঝুলে থাকা প্রানীটি হচ্ছে বানর। যারা ভাবে এই বানর থেকেই আজকের আধুনিক মানুষের সৃষ্টি হয়েছে তারা আসলে একদম ভুল ভাবে। কারন বানর থেকে মানুষের সৃষ্টি হয়নি বরং বানর, গরিলা, শিম্পাঞ্জি ও আধুনিক মানুষ এরা একই গোত্রের পুর্বপুরুষ থেকে এসেছে। শুধু তাই নই বিবর্তনবাদী বিজ্ঞানীরা এই পর্যন্ত এই জাতীয় প্রা্নীদের প্রায় ২০০ প্রাজাতির সন্ধান এখন পর্যন্ত পেয়েছে। মানুষ এবং বানর বা বনমানুষ জাতীয় যত প্রানী আজ পৃথিবীর বুকে চরে বেড়াচ্ছে তারা আজ থেকে লক্ষ লক্ষ বছর আগে একই পুর্বপুরুষ থেকে উদ্ভুত হয়েছে এবং আলাদা আলাদা ধারা বা লিনিয়েজ তৈরি করেছে। সেক্ষেত্রে আজকের আধুনিক মানুষ ও বানর জাতীয় সকল প্রানীদের সাথে অনেকটা মিল থাকলেও আসলে আধুনিক মানুষ সরাসরি বানরের উত্তরসরি একদমই না। আধুনিক মানুষ আসলে এসেছে কয়েক লক্ষ বছর আগে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া এক ধরনের সাধারন পুর্বপুরুষ হিসেবে কথিত প্রাইমেট থেকে। এই প্রাইমেট পুর্বপুরুষেরা দেখতে বর্তমান বানর ঠিক নয় বন মানুষ বা গোরিলাদের মতো ছিলো। আর এই প্রাইমেটরাই হচ্ছে আজকের আধুনিক মানুষ, গোরিলা, বানর, শিম্পাঞ্জি, ওরাংওটাং জাতীয় যে ২০০ প্রাজাতি প্রানী পৃথিবীতে পাওয়া গিয়েছে তাদের সকলের পুর্বপুরুষ হচ্ছে এই প্রাইমেট। আশা করি সৃষ্টিবাদীদের আরেক গ্রুপ যারা বলে বেড়াই “বানর থেকেই যদি মানুষ হবে তাহলে এখন আর বানর থেকে মানুষ হয় না কেন” তাদের উওরও এখানেই আছে।

আরেকটু আলোচনা করা যাক। এখানে কিন্তু বানর জাতীয় বলতে প্রাইমেট বোঝানো হচ্ছে সরাসরি বানর (Monkey) বা বনমানুষ (Gorila) নয় ভালো করে বুঝতে হবে। আধুনিক মানুষ শিম্পাঞ্জি, গোরিলা, ওরাংওটাং বা বানর সবই একটি পুর্বপুরুষ থেকে এসেছিলো মানে যাকে আমরা (Common ancestor) বলতে পারি। আজ থেকে প্রায় ৩২ লক্ষ বছর আগে আমাদের এই পৃথিবিতে দুই পায়ে ভর দিয়ে হেটে বেড়াতো এক জাতীয় অস্ট্রালোপিথেকাস অ্যাফারেনসিস' গোত্রের প্রানী। যারা দেখতে ছিলো কিছুটা বর্তমান যুগের গোরিলা বা বনমানুষের মতো। এদেরকেই আমরা প্রাইমেট এর পরবর্তি প্রজন্ম বলতে পারি যাদের থেকে আজকের বর্তমান বা আধুনিক মানুষের আবির্ভাব ঘটেছে। গোরিলা, বানর বা সিম্পাঞ্জি তারও অনেক আগে এই গোত্র থেকে আলাদা হয়ে গিয়েছে। আহলে কিভাবে মানুষ বানর থেকে আসলো। বিজ্ঞানীরা আজ থেকে ৪০ বছর আগে ইথিওপিয়াতে এই অস্ট্রালোপিথে্কাস আফারেনসিস গোত্রের মানুষের পুর্বপুরুষদের এক মানবীর কঙ্গালের সন্ধান পেয়েছে যা আজ থেকে ৩২ লক্ষ বছর আগে জীবিত ছিলো এই পৃথিবীতে। বর্তমানে আমরা অনেকেই তাকে লুসি নামে চিনি।

তারও অনেক আগে, আজ থেকে প্রায় ১.৪ কোটি বছর আগে এদের সকলের পুর্বপুরুষ ছিলো সেই প্রাইমেট। তখন যেকোন কারনে একটি প্রজাতি আলাদা হয়ে যায় যাকে আমরা আজকের ওরাঙ্গওটাং বলে থাকি। এরপর কিছুদিন এই দুই প্রজাতি বসবাস করতে থাকে আলাদা আলাদা ভাবে। তাদের আলাদা আলাদা ভাবে বিবর্তন ঘটতে শুরু করে। তারপর আজ থেকে প্রায় ৯০ লক্ষ বছর আগে সেই মূল গোত্র থেকে আরেকটি গোত্র আলাদা হয়ে যায়। যাদের আমরা বর্তমান গোরিলা বলে থাকি তাদের একটা অংশ ছিলো সেটা। তাই বলে আজ থেকে ৯০ লক্ষ বছর আগে কিন্তু আজকের এই গোরিলাই ছিলো না । এরা এই ৯০ লক্ষ বছর ধরে বিবর্তিত হতে হতে আজকের এই গোরিলায় এসে ঠেকেছে। এর পর আজ থেকে প্রায় ৬০ লক্ষ বছর আগে আবার সেই মূল গোত্র থেকে একটি গোত্র আলাদা হয়ে এই দীর্ঘ সময় ধরে বিবর্তিত হতে হতে মানুষ এবং শিম্পাঞ্জি দুটি আলাদা গোত্র তৈরি হয়েছে। তারও ৩০ লক্ষ বছর পরের যে মানুষের পুর্বপুরূষ লুসির কঙ্গাল বিজ্ঞানীরা পেয়েছে সে ছিলো এই আজকের আধুনিক মানুষের পুর্বপুরুষদের একজন।

এখন ধর্ম বিশ্বাসীরা বলবে ধুর ভাই আপনি এসব কি বললেন। আমাদের ঐশরিক কিতাবে লেখা আছে আজ থেকে প্রায় ৬ হাজার বছর আগে এডাম বা আদম নামের এক মানুষকে সৃষ্টি কর্তা মাটি দিয়ে বানিয়ে তারপরে পৃথিবীতে ছেড়ে দিছিলো আর আমরা হচ্ছি তার বংশধর। তাদেরকে সেই বিষয়ে কিছুই বলবো না কারন, এতে করে আবার অনুভূতিতে আঘাত লাগতে পারে। তবে এটুকু বলবো আগে আপনাদের খুজে দেখা উচিত আপনাদের অনুভূতি এতো নরম কেন, যা সত্য কথাতেই আঘাত লাগে। আর যদি অনুভূতি এতো নরমই হবে তাহলে বলবো আবার নতুন করে প্রাথমিক স্কুলে দেরি না করে ভর্তি হয়ে যান। কারন সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে ফেসবুক প্লাটফর্মে বা অনলাইন ব্লগ সাইটে আসলে আর অনুভুতিতে আঘাত লাগবে না। তখন মানুষের মতো কথা বলতে পারবেন আদমের বংশধরের মতো মানুষ মারার প্রয়োজন পড়বে না।

আর একটা কথা সৃষ্টিবাদীরা জেনে রাখুন এটাও আপনাদের দরকার আছে বলে মনে করি। সেটা হচ্ছে চার্লস রবার্ট ডারউইন কিন্তু নিজেই এই কথা বলে অনেক বিপদে পড়েছিলেন যে, মানুষ আসলে এই জাতীয় একটি প্রাইমেট এর থেকে এসেছে। তাকে নিয়ে অনেকেই বানরের ব্যাঙ্গাত্মক কার্টুন বানিয়েছিলেন সে সময়। কিন্তু পরে যখন তারা এর সত্যতা জানতে পারলো তখন নিজেরাই লজ্জিত হয়েছিলেন। শুধু চার্লস ডারউইন এর সাথেই এমন হয়েছিলো তা নয়। একবার অক্সফর্ডের একটি সভাতে বিজ্ঞানী হাক্সলি এই কথা বলাতে একজন খ্রিষ্টান পাদ্রী তাকে কটাক্ষ করে বলেছিলেন তাহলে বলুন আপনার দাদা বা দাদীর মধ্যে কে বানর ছিলো। এই কথার জবাব দিয়েছিলেন হাক্সলি তার বুদ্ধিদীপ্ত তীর্যক উত্তরে।

---------- মৃত কালপুরুষ

            ২৮/০৯/২০১৭      

বুধবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

বিবর্তনবাদ সম্পর্কে সৃষ্টিবাদীদের একটি ভুল ধারনা।


বিবর্তন নিয়ে কোন লেখা দেখলেই সেখানে দেখি সৃষ্টিবাদীদের জটলা তৈরি হয়ে যায়। এটা অমূক সৃষ্টি করেছে সেটা তমুক সৃষ্টি করেছে এরকম কথার পাশাপাশি নতুন কিছু ভ্রান্ত ধারনা ছড়াতে যুগের শিক্ষিত সমাজ সেখানে ছুটে যায়। তাদের জ্ঞানী জ্ঞানী কথা দেখে আমি মাঝেমাঝে সেই সব লেখার মন্তব্য করার যায়গায় পা রাখতে ভয় পায়। আগেই আমি বলেছিলাম যে বাংলাদেশের মতো এশিয়ার আরো অনেক তৃতীয় শ্রেনীর দেশগুলির শিক্ষা ব্যবস্থা ও পাঠ্যবই গুলি থেকে একটি মহল কৌশলে এই বিবর্তনবাদ সম্পর্কে জানাবোঝার যায়গা কমিয়ে ফেলেছে। এখন স্কুল কলেজ গুলিতে ভূগোল শিক্ষা দেওয়ার নামে হাজার খানেক খনিজ পদার্থের নাম মুখস্ত করিয়ে মনের ভেতরে জাগ্রত হওয়া প্রশ্ন গুলিকে ভুলিয়ে দেওয়া হচ্ছে। একটা সময় বিজ্ঞান নিয়ে লেখাপড়া শেষ করেও একটি ছেলে বিবর্তনবাদ বিশ্বাস করতে পারছে না।কারন তার মানুষিকতা বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা এমন করেই তৈরি করে দিয়েছে। প্রায় এই জাতীয় শিক্ষিত সৃষ্টিবাদীদের দেখা যায় তারা বলছে বিজ্ঞান শুধুই একটি তত্ব। এটা সৃষ্টিবাদীদের করা সব চেয়ে বেশি প্রচারিত একটি সন্দেহ। আজ এই সন্দেহ নিয়ে কয়েকটি কথা বলবো।

আমরা জানি বিভিন্ন ধর্মীয় মানুষ বিভিন্ন ধরনের সৃষ্টি তত্ত্ব বিশ্বাস করে থাকে। কারো কারো মতে কেউ একজন সব সৃষ্টি করেছে আবার কারো কারো মতে বহুজন মিলে সৃষ্টি করেছে। কিন্তু বিজ্ঞান সবসময় যুক্তি এবং তত্ব দিয়ে প্রমান করতে চাই কিভাবে সব সৃষ্টি হয়েছে। এই জন্যই বিজ্ঞানের একটি গুরুত্বপুর্ন শাখা হচ্ছে বিবর্তনবাদ। তবে এপর্যন্ত যত বিজ্ঞানী তার তত্ব প্রকাশ করেছে কেউ বলেনি আমার তত্ব শেষ এর পরে আর কিছু নেয়। কারন মানুষের জ্ঞান যেখানে গিয়ে সীমাবদ্ধ হয়ে যাচ্ছে সেখান থেকে নতুন প্রজন্মকে বলা হচ্ছে আবার শুরু করো। এভাবেই অনেক তত্ব ভুল প্রমানিত হচ্ছে। কিন্তু ততক্ষন পর্যন্ত তাকে সঠিক বলা হচ্ছে যতক্ষন না কেউ সেটা ভুল প্রমান করতে পারছে। এখন সেই হিসাবে অনেক শিক্ষিত সৃষ্টিবাদী প্রায় ভুল করে বলে থাকে যে অমুক এর তত্ব ভুল প্রমানিত হয়েছে তমুকের তত্ব ভুল প্রমানিত হয়েছে। বিশেষ করে চার্লস রবার্ট ডারউইন এবং রিচার্ড ডকিন্স এর কথা প্রায় বলতে শোনা যায়। কারন তারাই মানুষের মাঝে প্রথম বিবর্তনবাদের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরেছিল। এখন আবার সৃষ্টিবাদীদের কথা বলি, তারা যে বারবার বলে চার্লস রবার্ট ডারউনের বিবর্তনবাদ ভুল প্রমানিত হয়েছে তার মানে এই না যে, বিজ্ঞানীরা সব আবার সেই সৃষ্টি তত্ব তে বিশ্বাস করতে শুরু করেছে।
এখন আসুন তত্ব এবং বাস্তবতা সম্পর্কে কিছু কথা বলা যাক। সকল সৃষ্টিবাদীদের একটাই মন্তব্য হয়ে থাকে সবসময় তা হচ্ছে বিবর্তন শুধুই একটি তত্ব যার কোন বাস্তবতা নেই। এখন তত্ব ও বাস্তবতার সংজ্ঞা দেখুন।

প্রচলিত অর্থে থিওরি বা তত্ত্ব বলতে আমরা যা বুঝি তা থেকে তত্ত্বের বৈজ্ঞানিক সংজ্ঞা সম্পূ্র্ণ আলাদা। আমেরিকার জাতীয় বিজ্ঞান পরিষদের মতে, “বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব হল প্রাকৃতিক কোনো একটি ঘটনা বা বাস্তবতার (phenomenonপ্রতিপাদিত ব্যাখ্যা তত্ত্ববাস্তবতা কিংবা প্রকৃতিকে যৌক্তিকভাবে বর্ণনাকরার একটি সমীকরণ ছাড়া কিছুই না।

বিজ্ঞানীরা বাস্তবে ঘটে নাএমন কোনো কিছু নিয়ে কখনও তত্ত্ব প্রদান করেন না কোন পর্যবেক্ষণ যখন বারংবার বিভিন্নভাবে প্রমাণিত হয় তখন তাকে আমরা বাস্তবতা বা সত্য (factবলে ধরে নেইআর তত্ত্ব  হচ্ছে সেই বাস্তবতাটি কিভাবে ঘটছে তার  যৌক্তিক ব্যাখ্যা।

নিউটনের গাছ থেকে আপেল পড়ার ব্যাপারটাই ধরি। গাছ থেকে যে আপেল মাটিতে পড়ছে তা বাস্তবতা। আর যে তত্ত্বের সাহায্যে এই বাস্তবতার ব্যাখ্যা দেয়া হয় তাকে আমরা বলি মাধ্যাকর্ষণ তত্ত্ব। বিবর্তনের ক্ষেত্রেও  একই কথাই প্রযোজ্য। এটি একটি বাস্তবতা যে জীবজগ স্থির নয়, তাদের বিবর্তন ঘটছে, এই বাস্তবতাটি বিগত দেড়শ বছর ধরে হাজারো পরীক্ষা-নিরীক্ষায় বহুরকমভাবে প্রমাণিত হয়েছে। আর যে তত্ত্বের মাধ্যমে এই বাস্তবতাটি ব্যাখ্যা করা হয় তাকে আমরা সাধারণভাবে বলি বিবর্তন তত্ত্ব।

এহাড়াও আরো অনেক তথ্য ও প্রমানের উপরে নির্ভর করে বিবর্তনবাদীরা তাদের তত্ব দিয়ে থাকে। যেমন লক্ষ লক্ষ বছর আগের পাওয়া কোন ফসিল থেকে ডিএনএ বা আরএনএ সংগ্রহ করে তার উপরে যুক্তি দাড় করানো হচ্ছে বিবর্তন তত্ব। তাহলে এবার একটু ভেবে দেখবেন কোন তত্ব টি বেশি শক্তিশালী হচ্ছে। কেউ খুব সহজেই মাটি দিয়ে একটা রেডিমেট মানুষ বানিয়ে রাস্তায় ছেড়ে দিলো এইটা, না মানুষের শুধু হাতের ব্যবহার করা শিখতেই লেগে গেলো কয়েক লক্ষ বছর এইটা। আমরা এই বিবর্তন নিয়ে খুব গভীরে গিয়ে কেন ভাবতে চাইনা জানেন, কারন আমাদের জীবন খুবই ক্ষনস্থায়ী। যেখানে বিবর্তন হচ্ছে লক্ষ লক্ষ বছরের ব্যবধানে সেখানে ৫০ থেকে ১০০ বছরের একটা ছোট্ট জীবন নিয়ে কেউ এতো দীর্ঘ চিন্তায় যেতে চাই না। তাই আমাদের কাছে বিবর্তনের চাইতে কেউ একজন আমাদের বানিয়ে ছেড়ে দিয়েছে এটাই বেশি গ্রহন যোগ্য হয়। তবে বিবর্তনবাদীদের তত্ব শুধুই একটি তত্ব এর কোন বাস্তবতা নেই, এটা যারা বলে তাদের আমি বলবো তারা তত্ব বা থিওরির সংজ্ঞাই জানে না।

বিবর্তনের তত্ব সবসময় পাহাড় সমান সাক্ষ্য প্রমান নিয়েই অগ্রসর হয়ে থাকে। কিন্তু অপরদিকে সৃষ্টিবাদীদের সাক্ষ্য প্রমানের থলিতে থাকে জিরো। শুধুই কল্পনা আর অন্ধের মতো বিশ্বাস করা ছাড়া কোন বাস্তবতা তাদের নেই যা একবারও এরা ভেবে দেখে না বিবর্তন নিয়ে কোন লেখার নিচে মন্তব্য করতে গেলে। আমি নিজেই এই বিষয়ে একেবারেই অজ্ঞ বলা চলে। অনেক মুক্তমনা ও বিবর্তনবাদীদের লেখার নিছে মন্তব্য করতে পারিনা কারন মনে হয় সেখানে কথা বলার মতো মাথা আমার নেয় তাই। 

প্রাকৃতিক নির্বাচন তত্ত্ব নিয়ে ডারউইন একদিকে যেমন নিঃসংশয় ছিলেন অপরদিকে ছিলেন দ্বিধাগ্রস্ত। কারণ লক্ষ- কোটি প্রজাতির মধ্যে কোনো নির্দিষ্ট একটি প্রজাতির এই তত্ত্বের বাইরে উদ্ভব হওয়া এই তত্ত্বটি বাতিল করে দিতে যথেষ্ট দীর্ঘ বিশ বছর বিভিন্ন প্রমাণ সংগ্রহের পর ডারউইন ১৮৫ সালে তত্ত্বটি প্রকাশ করেতারপর গত দেড়শ বছর ধরে বিভিন্নভাবে বিবর্তন তত্ত্বকে নানাভাবে পরীক্ষা করা হয়েছেএটি কখনোই ভুল প্রমাণিত হয়নি বরং যোগ হয়েছে তার নতুন সংযোজন। আর বিবর্তন তত্ব এর আরেকটি বড় বৈশিষ্ঠ হচ্ছে এই পর্যবেক্ষনের দ্বারা আগাম বা ভবিষৎ কিছু কিছু সম্ভবনা বলা সম্ভব যা সৃষ্টি তত্ব কখনই বলতে পারে না।

আরেকটি বিষয় আমাদের মাথায় রাখতে হবে যে, বিবর্তন কিন্তু থেমে থাকে না। রিচার্ড ডকিন্স, আইজ্যাক নিউটন, এলবার্ট আইনিস্টাইন অথবা চার্লস রবার্ট ডারউইন যেখানে তার তত্ব দিয়ে থেমে গিয়েছিলেন আজ কিন্তু বিবর্তন সেই একই যাওগায় দাঁড়িয়ে নেই। যদি পরবর্তিতে কেউ আবার নতুন তত্ব দিতে পারে তবে জেনে রাখবেন আরো সঠিক ব্যাখ্যা সহ প্রমান হাজির করা হয়েছে। এতে এটা ভেবে সৃষ্টিবাদীদের আনন্দ করার কোন দরকার নেই যে, বিবর্তনবাদ শুধুই একটি ভুল তত্ব যার কোন বাস্তবতা নেই।

---------- মৃত কালপুরুষ
              ২৭/০৯/২০১৭


মঙ্গলবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

“দিমিত্রি ইটস্কভ” মানুষকে অমরত্ব দিতে চলেছে।


রাশিয়ার একজন নিউরো সাইনটিস্ট যার নাম “দিমিত্রি ইটস্কভ” বদলে দিতে যাচ্ছে মানুষের মৃত্যুর ইতিহাস। আজ যখন বিশ্বের তৃতীয় শ্রেনীর দেশ গুলি ধর্ম আকড়ে ধরে উন্নত বিশ্বের সাথে তাল মেলাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে, সেখানে দিমিত্রি ইটস্কভ নিয়ে আসছে সেই সব ধার্মিকদের জন্য দাত ভাঙ্গা জবাব। আমি আগেই বলছি আমি নিজেও এই ব্যপারটি নিয়ে কনফিউজড বলা চলে। পৃথিবীর প্রচলিত সকল ধর্মই মানুষকে একটি ভয়ই দেখিয়ে আসছে সেই আদি যুগে ধর্ম নামক প্রথা বা নিয়ম কানুন চালু হবার পর থেকে। আর তা হচ্ছে মৃত্য পরবর্তি জীবনের ভয়। একেকটি ধর্মে একেকটি কেচ্ছা কাহিনী দিয়ে ভরপুর করা আছে এই মৃত্যু পরবর্তি জীবন যাপন সম্পর্কে। কিছু কিছু ধর্ম একেবারেই হাস্যকর কিছু তথ্য দিয়ে গিয়েছে এই জীবনটি সম্পর্কে। কিন্তু আসল কথা হচ্ছে কেউ সেই জীবন চোখে দেখেনি। এ জেনো না দেখেই আপনার সারা জীবনের আয় করা টাকা দিয়ে বসুন্ধরাতে ফ্লাট বা প্লট কেনার মতো ব্যপার। আপনাকে আপনার সারা জীবন ব্যয় করে আয় করা টাকা দিয়ে বসুন্ধরার একটা প্লট বা একটা ফ্লাট কিনতে বলা হচ্ছে কিন্তু এই প্লট বা ফ্লাট আপনাকে কেনার আগে দেখতে দেওয়া হচ্ছে না।

প্রচলিত ধর্ম গুলি বলছে মানুষ মারা গেলে শুরু হবে তার পরবর্তি জীবনের কার্যক্রম। পৃথিবীর বিভিন্ন কার্যক্রমের উপরে ভিত্তি করে তার বিচার আচার শেষে তাকে তার উপযুক্ত অবস্থান প্রেরন করা হবে। তবে সব ধর্মই একই কথা বলছে না। কেউ কেউ আবার পুনর্জন্মের কথাও বলে। কিন্তু এই নিউরো সাইনটিস্ট দিমিত্রি ইটস্কভ বলছে মারা যাওয়ার পরেই তার মস্তিষ্ক আবার সচল করা হবে। এবং সে আবারও পৃথিবীর সকল কার্যক্রম স্বাভাবিক ভাবেই করতে পারবে। তার মানে, এখানে দিমিত্রি ইটস্কভ প্রমান করতে চাচ্ছে “সকল প্রানীকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহন করতে হবে” কথাটি ভুল ছিলো। অবশ্য বিজ্ঞান কখনই বলে না যে কোন বিজ্ঞানী যদি একটি ধারনা দিয়ে থাকে তবে সেটাই সারা জীবন মানতে হবে। মানে পৃথিবীর শেষ না হওয়া পর্যন্ত, যেমনটি সকল ধর্ম বলে থাকে। বিজ্ঞান বলছে আমাকে তোমরা ততক্ষন বিশ্বাস করো যতক্ষন না আমার দেওয়া তত্ব কেউ ভুল প্রমান করতে পারছে। দেখুন এখানেও কিন্তু ধর্মের সাথে বিজ্ঞানের বড় একটি দ্বিমত দেখা যাচ্ছে, যাকে সংঘর্ষও বলা চলে।

বিজ্ঞান অতীতে এই জাতীয় যত রকম প্রজেক্ট হাতে নিয়েছিলো তা ধর্মান্ধ মৌলবাদীদের তীব্র সমালোচনার মধ্যে পড়েছিলো এবং একটি না একটি সময় উদ্দোক্তাকে সেই প্রজেক্ট বন্ধ করে দিতে হয়েছিলো। অতীত রেকর্ড কিন্তু তাই বলে। একবার ক্লোন করা মানুষের কথা মনে করে দেখুন। পৃথিবীতে প্রকাশ্যে ক্লোন করা এখন নিষেধ করা হয়েছে। বিজ্ঞানের সাথে ধর্মের দ্বন্দ থাকার কারন গুলা হচ্ছে ধর্ম গুলো অতীতে যা যা বলে এসেছে তা সবই বিজ্ঞান ভুল প্রমান করে দিচ্ছে। একসময় ধর্মান্ধরা বলতো গর্ভের সন্তান ছেলে হবে না মেয়ে হবে তা কেউ জানে না। কারন তাদের ধারনাই ছিলো না যে কোন একদিন বিজ্ঞানীরা আল্ট্রাসোনো আবিষ্কার করতে পারবে যা দিয়ে কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই জানা যাবে গর্ভের সন্তান ছেলে না মেয়ে। আর এখন দিমিত্রি ইটস্কভ নিয়ে আসছে মৃত্যু পরবর্তি জীবনের কেচ্ছা কাহিনী প্রকাশ করার খবর। আমি জানি এখানে সে নানা বাধার মুখে পড়বে। কিন্তু ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে সে বিশ্ববাসীকে তার প্রজেক্ট প্রপোজাল দিখিয়েছিলো। সে কিভাবে আর কত বছরের মধ্যেই তার এই প্রজেক্ট বাস্তবায়ন করবে সেটা সে তখনই সবাইকে জানিয়ে দিয়েছিলো।

বর্তমানে দিমিত্রি ইটস্কভের এই প্রজেক্ট এর ওয়েবসাইটে গেলে দেখা যায় জাতিসংঘ তার এই প্রজেক্টকে সাধুবাদ জানিয়েছে। ধর্মীয় গুরুদের মধ্যে দালাই লামা দিমিত্রি ইটস্কভকে অভিন্দন জানিয়েছে এই প্রজেক্ট সম্পর্কে। দিমিত্রি ইটস্কভ ২০১২ সালে জানিয়েছিলো কিভাবে তার প্রজেক্ট শুরু করতে চাচ্ছে। সে এটাও জানিয়েছিলো ২০৪৫ সালের মধ্যেই মানুষ অমরত্ব পেতে যাচ্ছে। এক নজরে দেখে নিন তার পরিকল্পনা। তার প্রথম ধাপ শুরু হবে আমেরিকার সান ফ্রান্সিকোতে একটি ব্যায়বহুল গবেষনাগার স্থাপনের মাধ্যমে। যার জন্য সে ফেসবুক ও ইউটিউব সহ সকল অনলাইন প্লাটফর্মে ব্যপক প্রচার প্রচারনা চালাবে বলে জানাই। কারন এই গবেষনাগার ও প্রজেক্ট হবে অত্যান্ত ব্যায়বহুল একটি প্রজেক্ট যার জন্য তার দরকার হবে পার্টনারশীপের। সে উদ্যোগ নিয়েছে প্রথমেই পৃথিবীর সকল ধনী বিলিয়নিয়ার এর কাছে সে চিঠি পাঠাবে অর্থ সাহায্য চেয়ে। আর যারা সেচ্ছায় এই প্রজেক্টের অংশীদার হতে চাইবে তাদেরকে প্রজেক্ট ওয়েবসাইটে যোগাযোগ করতে বলা হচ্ছে। এখানে কিছু ধর্মীয় মৌলবাদী গোষ্ঠী আগেই বলে বসবে যে, এই লোক টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ভালো একটা ধান্দা বের করেছে। কিছু ধর্মীয় মোড়ল দেশ অলরেডি এই কথা বলেও দিয়েছে যে দিমিত্র ইটস্কভ প্রজেক্টের নামে টাকা আত্বসাত করছে।

বর্তমানে দিমিত্রি ইটস্কভ সানফ্রান্সিকোতে গবেষনাগার প্রতিষ্ঠা করে ফেলেছে। এবং সে এই প্রজেক্টের প্রধান ফাউন্ডার। সেখানে তার গবেষনা কার্যক্রমের প্রথম ধাপ শুরু হয়েছে ২০১৫ সাল থেকে। ২০১৫ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে তার প্রথম ধাপ এর কাজ শেষ হবে বলে সে জানিয়েছে। এই ধাপে বলা হচ্ছে কোন একটি মানুষের চেহারা আর শরীরের সাথে মিল রেখে হুবহু একটি রোবটিক বডি তৈরি করা হবে। তার ২য় ধাপের কাজ শুরু হবে ২০২০ সালে এবং শেষ হবে ২০২৫ সালে গিয়ে। এই ধাপে সে, যখন একটি মানুষ মারা যাবে তখন তার ব্রেইনটিকে সেই রবোটিক বডিতে স্থাপন করবে। ৩য় ধাপ শুরু হবে ২০২৫ সালে এবং শেষ হবে ২০৩৫ সালে। এই ধাপে সেই স্থাপন করা ব্রেইন থেকে তার সত্বাকে বা বোধকে একটি কম্পিউটার চীপ এ ধারন করা হবে। আর শেষ ধাপটি হবে ২০৩৫ সাল থেকে ২০৪৫ সালের মধ্যে আর এই ধাপটিতে আগের ওই তিনটি ধাপের সংমিশ্রন করে সেই রোবোটিক বডিতে মানব সত্বাকে সচল করে দেওয়া হবে। এতে করে আবার সেই আগের মানুষটিই পৃথিবীতে ফিরে আসতে পারবে সাথে অমরত্ব নিয়ে।

আমি এই “২০৪৫ আভাতার প্রজেক্ট” কে অতি সংক্ষেপে এখানে তুলে ধরেছি। কেই যদি এই প্রজেক্ট সম্পর্কে আরো ভালো করে জানতে চান তাহলে উপরের ৭ মিনিটের ভিডিওটি ভালো করে আরেকবার দেখুন সেখানে এই সম্পর্কে অনেক তথ্য দেওয়া আছে সাথে প্রজেক্ট এর ওয়েব এড্রেস সহ। মুল গবেষনায় আরো অনেক তথ্য ও ব্যাখ্যা, বিশ্লেষণ করা আছে। এখন শুধু দেখার পালা রিলিজিয়াস মানুষ গুলি এই বিষয়টিকে কে কিভাবে নিচ্ছে। তাদের কাছ থেকেই প্রথম বাধা এসেছিলো দিমিত্রি ইটস্কভের কাছে। কিন্তু দালাই লামা তাকে সাধুবাদ জানিয়ে অনেকের পাকা ধানে মই দিয়ে দিয়েছেন। যদি দিমিত্রি সাকসেস হয়ে যায়, তবে ধর্ম ব্যবসায়ীদের মৃত্য পরবর্তি জীবনের ভয় আর কাজ করবে না। কারন অমরত্ব পাওয়া ব্যাক্তিটি কিন্তু সামনেই থাকবে।

---------- মৃত কালপুরুষ

               ২৭/০৯/২০১৭    

বাংলাদেশের বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র।


আমার লেখার উদ্দেশ্য কাউকে ব্যক্তিগত আক্রমন করা নয়। ইদানিং কিছু শিক্ষিত ছাগু দেখা যাচ্ছে যারা মনে করে তারা হোমোস্যাপিয়েন্স না। তারা এডাম বা আদম এর বংশধর। আসলে আমি মনে করি এদের দোষ দেওয়া ঠিক না। কারন আমাদের দেশের সমাজ ব্যবস্থা যে ধর্ম ব্যবস্থা দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে তাতে তাদের এ ধরনের মনোভাব একটা প্রত্যাশিত ব্যাপার ছাড়া কিছুই না বলে আমার কাছে মনে হয়। কারন দেখুন, এদের কেমন হাস্যকর মনোভাব তারা চার্লস রবার্ট ডারউইনের মতো জীব বিজ্ঞানীদের মনোভাব মানতে রাজি না। আমরা কি কেউ খুজে দেখেছি কি সেই কারন। আসুন আমরা আজকে এর একটি কারন নিয়ে আলোচনা করি। কিছু ধর্ম বিশ্বাসীদের ধারনা চার্লস রবার্ট ডারউইন এর বিখ্যাত বই “অরিজিন অব স্পিস” এ মিথ্যা কথা লেখা আছে। যে বই আজ প্রায় ১৭০ বছর ধরে পৃথিবীর সকল বিখ্যাত বিখ্যাত জীব বিজ্ঞানীদের কৌতুহলের কেন্দ্র হয়ে আছে তার সেই থিওরী নাকি মধ্যপ্রাচ্যের কোন একটি ধর্ম বিশ্বাসীরা ভুল প্রমান করেছে।

এমন মনভাব আমাদের এই ছোট্ট দেশের বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রদের মধ্যে কেনো তৈরি হয়েছে তা নিয়ে খুব একটা আলোচনা হয় না। লক্ষ্য করে দেখবেন আমাদের দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় একটি মহল সক্রিয় ভাবে এমন কিছু বিষয় ছাত্রদের পাঠ্যবই থেকে চুপিচুপি আলাদা করে দিয়েছে যা কেউ বুঝতেও পারে নাই। বিবর্তন নিয়ে আমাদের দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় ছাত্রদের কোন শিক্ষাই দেয় না। জীববিজ্ঞানের একত্রীকরণ তত্ত্ব, যা জীববৈচিত্রের ব্যাখ্যা প্রদান করে এমন বিষয় গুলি পাঠ্য বই গুলি থেকে একেবারেই নাই করে দেওয়া হয়েছে। তাই তো যেখানে সেখানে দেখা যায় শিক্ষিত যুব সমাজের পোলাপাইন আগ বাড়িয়ে বলতে আসে আমি হোমোস্যাপিয়েন্স না, আমি এডামের বংশধর। লজ্জা হয় এই জাতীয় বাঙ্গালী দেখে কিন্ত তাদের দোষ দিতে পারি না কারন আজ যদি এই ছেলেটিই বাংলাদেশ বাদে পশ্চিমা কোন দেশে বা ইউরোপের কোন দেশে জন্ম নিত তবে সে আদমের সন্তান না হয়ে হোমস্যাপিয়েন্স-ই হতো। কারন সেসমস্ত দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় ঢালাও ভাবে বিবর্তন নিয়ে শিক্ষা দেওয়া হয়। তারা কোন ধর্মীয় পুস্তকের চেয়ে এই বিবর্তনবাদকেই বেশি সম্মান করে থাকে।

চার্লস রবার্ট ডারউইন, জন্ম ১২ ফেব্রুয়ারি ১৮০৯ – মৃত্যু ১৯ এপ্রিল ১৮৮২ যিনি ছিলেন ঊনিশ শতকের একজন ইংরেজ জীববিজ্ঞানীতিনিই প্রথম প্রত্যক্ষ পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে বিবর্তনবাদের ধারণা দেন। তিনিই সর্বপ্রথম অনুধাবন করেন যে সকল প্রকার প্রজাতিই কিছু সাধারণ পূর্বপুরুষ হতে উদ্ভূত হয়েছে এবং তার এ পর্যবেক্ষণটি সাক্ষ্য-প্রমাণ দিয়ে প্রতিষ্ঠা করেন বিবর্তনের এই নানান শাখা-প্রশাখায় ভাগ হবার বিন্যাসকে তিনি প্রাকৃতিক নির্বাচন হিসাবে অভিহিত করেন। তার জীবদ্দশাতেই বিবর্তনবাদ একটি তত্ত্ব হিসাবে বিজ্ঞানী সমাজ ও অধিকাংশ সাধারণ মানুষের কাছে স্বীকৃতি লাভ করে, তবে ১৯৩০ থেকে ১৯৫০ এর মধ্যে বিকশিত আধুনিক বিবর্তনিক সংশ্লেষের মাধ্যমে বিবর্তন প্রক্রিয়ায় প্রাকৃতিক নির্বাচনের গুরুত্ব পূর্ণরূপে অনুধাবন করা সম্ভব হয়। পরিবর্তিত রূপে ডারউইনের বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার ছিল জীববিজ্ঞানের একত্রীকরণ তত্ত্ব, যা জীববৈচিত্রের ব্যাখ্যা প্রদান করে।

প্রথম দিকে ডারউইন এর এই তত্ব দেখে অনেকেই মর্মাহত হয়েছিলেন। বিশেষ করে তখনকার মৌলবাদী গোষ্ঠী। কারন ডারউইন যে সত্য তখন প্রকাশ করেছিলো তাতে কোথাও একজন মহান শক্তি বা কোন হায়ার পাওয়ার এর কথা উল্লেখ ছিলোনা। তিনিই প্রথম প্রকাশ করেন জীব জগত সৃষ্টি হতে কোন সৃষ্টিকর্তার প্রয়োজন নেই যা একা একাই কোটি কোটি বছর ধরে তৈরি হয়েছে। কিন্তু ইনি তার বিখ্যাত বই “অরিজিন অব স্পিস” এ মানুষে বা হোমোস্যাপিয়েন্স এর বিবর্তন উল্লেখ করেছিলো না। কারন মানুষ নিয়ে পৃথিবিতে অশংখ্য ধর্ম নানান মত দিয়ে গিয়েছিলো। তার মধ্যে একটি হচ্ছে, মানুষকে কেউ একজন মাটি দিয়ে বানিয়ে তাকে প্রথিবীতে এনে ছেড়ে দিয়েছে এমন মনোভাব। ডারউইন পরবর্তিতে অবশ্য হোমোস্যাপিয়েন্স নিয়ে আরেকটি বই লিখে তা পরিষ্কার করে গিয়েছেন।

যুগে যুগে তৈরি হওয়া ধর্ম মানুষের মাঝে শুধুই বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে। মানব সভ্যতার জন্য অতুলনীয় অবদান রাখা সব বিজ্ঞানীদের করেছে অপমানিত। এমন কি এই ধর্মীয় বিশ্বাসীরা সু-কৌশলে মানুষকে প্রকৃত জ্ঞানের থেকে দূরে সরিয়ে রেখেছে। কারন যদি আমার দেশের ছাত্রদের বিবর্তন আর ডারউইন এর তত্ব সম্পর্কে বেশি বেশি শিক্ষা দেওয়া হয়, তাহলে তাদের ক্ষেত্রে ধর্ম ও ধর্মের ভয় ভীতি ঠিক মতো কাজ করবে না। এতে যে সমস্ত মোড়ল ধর্মীয় দেশ গুলি আজ ধর্মের নামে ব্যবসা পেতে রেখেছে, তাদের ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাবে। তাই তারা আজ অনেক দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে বিবর্তনবাদ নিয়ে শিক্ষা ধীরে ধীরে তুলে দিচ্ছে। যতই বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করা হোক তারা হোমোস্যাপিয়েন্স হতে পারছে না, তারা আদমের বংশধরই থেকে যাচ্ছে। আমার এই লেখা পড়ে যদি নুন্যতম লজ্জাবোধ থাকে তাদের তাহলে একটু ভেবে দেখবেন আপনি কি জ্ঞান অর্জন করছেন।

---------- মৃত কালপুরুষ
              ২৬/০৯/২০১৭