সোমবার, ৬ নভেম্বর, ২০১৭

১ নম্বর হচ্ছে মোল্লারা ২ নম্বর হচ্ছে নাস্তিকরা।


এই ১ ও ২ দুজনেরই নাকি মুল উদ্দেশ্য হচ্ছে মুসলিমদের বিজ্ঞানচর্চা ও গবেষনা থেকে দূরে রাখা। কথাটা আসলে আমার না তাই আমি নিজেই দ্বন্দে পড়ে যাচ্ছি এখানে। কারন মোল্লা কারা নাস্তিক কারা আর মুসলমান কারা এটাই তো বুঝতে পারছি না এই কথায়। যাইহোক এই কথার উত্তর খুজতে এখানে কিছু ব্যাখা দিচ্ছি কেউ বুঝে থাকলে সঠিক ব্যাপারটি কি তা জানানোর অনুরোধ রইলো। ইসলাম ধর্ম যখন ইসলামী খেলাফত বিশ্বজুড়ে প্রচার করছিলো এবং বহু বছর ব্যাপী রাজত্ব করার সময় যখন মুসলিম শাসকেরা স্বেচ্ছাচারিতা, ব্যাক্তিগত বিশ্বাস ও নানা কারনে ইসলামের মুল লক্ষ্য থেকে আস্তে আস্তে দূরে সরে আসছিলো তখন আবদুল ওহাব সবাইকে সংগঠিত করেছিলো এই বলে যে, মুসলমানদের অবশ্যয় তাদের পুর্বপুরুষ ও ইসলামের নবী রাসুলদের দেখানো প্রকৃত ধর্মে ফিরে যেতে হবে। অতীতে নবী রাসুল ও সাহাবীরা যেভাবে পরিচালিত হয়েছেন যেভাবে দেশ চালিয়েছিলেন সেই ভাবে কোরান হাদিসের দলিল মতো চালাতে হবে। তার ধারনা ছিলো এই ভাবে না চলার কারনে তখন মুসলমানরা সারা বিশ্বে পরাজিত আর নির্যাতিত হচ্ছিলো। এই ওহাবি ডাককেই বর্তমানে “স্যালাফি” বলা হয় এখন। খেয়াল করবেন, এখন কিন্তু সেই মুসলমানেরাই আবার বলছে এটা একটা উগ্রপন্থা এর কারন কি ? সেটা খুজতে গেলে আমরা আগেই দেখতে পাই ওহাব কিন্তু শুধুই বলেছেন কোরান এবং হাদীস ফলো করে চলতে হবে এর বাইরে কোন কথা বলে নাই তাহলে আসলে উগ্রপন্থা কোথায় লুকিয়ে আছে। মুসলমানেরা যদি তাদের কোরান আর হাদিসের দলিল ফলো করে চলে তাহলে আবার আরেকদল মুসলমান কেন বলবে এই “স্যালাফি” বা ওহাবীরা হচ্ছে উগ্র যারা ইসলামকে ধ্বংশ করছে। এর কারন হচ্ছে ইসলামী নিয়ম অনুযায়ী ও কোরান আর হাদীসের ইসলামী দলিল মেনে চলতে গিয়ে তখন থেকে মুসলিমদের মধ্যে ব্যাপকভাবে জিহাদ চেতনা, খিলাফত, দারুল ইসলাম, দারুল হার্ব, জিজিয়া, গণিমত, বাইতুল মাল ইত্যাদি বিশ্বাস জেগে উঠতে শুরু করেছিলো।
বর্তমান সময়ে যদি সৌদি আরব এর বিপক্ষে কোন ইসলামিক কার্যক্রম যায় তাহলেই তারা তাকে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড বলে থাকে। কিন্তু প্রকৃত সত্য হচ্ছে আজকের এই সৌদি আরব, আইএস, তালেবান, বোকো হারাম, আল-কায়েদা, লস্কর, আনসারুল্লাহ যার সবই মুলত ইসলামের সেই পূর্ণজাগরন থেকেই এসেছে তা তারা কেউ অস্বীকার করতে পারবে না। এখন একটু বর্তমান বিশ্বের সার্বিক ধর্মীয় পরিস্থিতি যদি নিরাপেক্ষ একটি দৃষ্টিতে আপনি একবার রিভিউ করে দেখেন তাহলে দেখবেন যে, অন্যান্য আরো অনেক ধর্ম, বিশেষ করে খ্রিস্টান স্যালাফি যারা ইহুদী ধর্ম থেকে স্থানান্তরিত বা হিন্দু স্যালাফি যারা সনাতন ধর্ম থেকে পরিবর্তিত হয়েছে এবং পুর্বের কিছু বর্বরতা পরিহার করে কিছুটা নিরহ টাইপের ধর্ম হয়ে উঠেছিলো তাদের সাথে কিন্তু ইসলাম ধর্মকে মেলানো যাচ্ছে না। কেন যাচ্ছে না, কারন হচ্ছে এই ইসলাম ধর্ম বর্তমানে ধীরে ধীরে আরো ভয়ংকর হয়ে উঠছে যখনই তারা তাদের পুর্ব পুরুষ আর নবী রাসুলদের পথ অনুসরন করছে। যদি তারা নবী রাসুলদের প্রবর্তিত পথ অবলম্বন না করতো তাহলে মনে হয় এতটা ভয়ংকর হতো না। এই বিষয়ে আমার জানা বোঝার যায়গা কম থাকাই আমি এই ব্যাপারে কিছু বলবো না। তবে মানুষকে সচেতন করতে যদি কিছু লেখা হয় তাতে আমি দোষের কিছু দেখি না। এখানে “গায়ে মানে না আপনে মোড়ল” বা গায়ের মোড়ল হলেই যে এই কথা সে বলতে পারবে এমন কোন বিষয় জড়িত থাকার কথা না বা থকতে পারেনা, যেহেতু এটা একটা সচেতনতা মূলক ব্যাপার।
একটা বিষয় লক্ষ করলাম ইসলামের জিহাদি পথ অবলম্বন করে যারা বিভিন্ন অপকর্ম করছে ও মানুষ হত্যা করছে তাদের ব্যাপারে কিছু লিখলেই অনেক ধার্মীক ভায়েরা ধারনা করে থাকছেন যে সকল ধর্মবিশ্বাসী মানুষকেই মনে হয় বলা হচ্ছে জিহাদি বা জঙ্গি সন্ত্রাসী। এটা আসলে তাদের কোন ভুল নয় কারন তারা আসলে ব্যাপারটি বুঝতে পারছেন না মনে হচ্ছে। আমি তাদের উদ্দেশ্য ছোট্ট করে বলছি, আসলে সব ধর্ম বিশ্বাসী মানুষই জংগী বা জিহাদি সন্ত্রাসী এমন কথা কোনদিন কেউ বলে না আর আমিও কোথায় দেখি নাই কোন মুক্তমনা, নাস্তিক, যুক্তিবাদী, সংশয়বাদী, আজ্ঞেয়বাদী বা এরকম কেউ কোথাও বলেছে যে সকল ধার্মীকই আসলে সন্ত্রাসী বা জঙ্গী। আসলে তারা যেটা বলে সেটা সর্বসাধারন ও ধার্মিক মানুষদের রক্ষা করার উদ্দেশ্যেই বলে যা ধার্মীকেরা আসলেই বুঝতে পারে নাএখানে একটা উদাহরন আমি প্রবাসী লেখক আসিফ মহীউদ্দিন এর একটি লেখাতে পড়েছিলাম। ধরুন একটি ভয়ানক ভাইরাস কোন একটা কোম্পানীর ঔষধ বা খাবারের ভেতরে করে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে মানুষকে অসুস্থ করার জন্য। আসলে অনেক সময় সেই কোম্পানী নিজেও হয়তো কিছু কিছু সময় জানতে পারছেনা এমন কিছু তার কোম্পানীর প্রোডাক্ট থেকে হচ্ছে। আমরা বাজার থেকে যে সকল কোমল পানীয় কিনে খাচ্ছি সেটার একটা আন্তর্জাতিক মানের ব্রান্ড ও কোম্পানীর একটি কোমল পালীয় এর কথায় ধরুন। তাদের বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের ব্যাবসা হচ্ছে এই পানীয় সারা বিশ্বে সরবরাহ করে। এখন হঠাৎ দেখা গেলো এই নির্দিষ্ট কিছু কোম্পানীর পানীয় যারা খাচ্ছে বা একটি কোম্পানীর পানীয় যারা খাচ্ছে তারা অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে। এবং তারা অসুস্থ হতে হতে একটা পর্যায়ে গিয়ে কিছু সুস্থ মানুষকে কামড়াচ্ছে।
এই পর্যায়ে আক্রান্ত ব্যাক্তিদের চিকিৎসার পক্ষে কারা কারা থাকবেন বলে মনে হয়। অবশ্যয় সকলেই চাইবেন যে সমস্ত মানুষ অসুস্থ হচ্ছে তাদের সকলকেই চিকিৎসা করে সুস্থ করে তোলা উচিত। এমন সময় একদল মানুষ একটি গবেষনা করে দেখলো যে যারা এই অসুখে আক্রান্ত হচ্ছেন তারা আসলে সবাই নির্দিষ্ট একটি কোম্পানীর কোমল পানীয় খায় অর্থাৎ মূল সমস্যা সেই কোমল পানীয়র মধ্যে লুকিয়ে আছে। তাহলে কি আপনি চাইবেন না আসলে সেই কোম্পানীর পানীয়র মূল উপাদানে কি কি মেশানো আছে তা জানতে ? এমন একটি কোম্পানী যারা বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের ব্যাবসা করছে পৃথিবীর মানুষের কাছে, যেই কোম্পানীর উপরে পৃথিবীর এক তৃতীয়াংশ মানুষের আস্থা আছে, রয়েছে অনেক লোকবল ও প্রচার প্রচারনা। বিভিন্ন মডেলরা টিভি বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে বারবার আমাদের বলছে এই পানীয় ব্যাবহার করার কথা। সেখানে কেউ যদি এমন কথা বলতে চাই আসলে আপনাদের কোমল পানীয়র মূল উপাদানে কোন সমস্যা আছে কারন তা যারা খাচ্ছে তাদের অধিকাংশ আজ অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে আর শুধু অসুস্থই হচ্ছে না আরো সুস্থ মানুষদের ক্ষতি করছে তারা সুস্থ মানুষদের কামড় দিচ্ছে তাহলে কি এই কথাটা খুব গ্রহনযোগ্য হবে ?  
আশা করি তা সেই কোম্পানীর পরিচালনা পরিষদ ও কোম্পানীর শুভাকাঙ্খী, সেই কোম্পানীর পন্য ব্যাবহারকারী পৃথিবীর এক তৃতীয়াংশ মানুষ তারা আসলে কেউ চাইবেনা এমন কোন কথা প্রচার করা হোক বা তারা কেউ চাইবে না যে মানুষ এই কোম্পানীর পন্য খেয়ে আজ অসুস্থ হচ্ছে এই কথা মেনে নিতে। তাই যারা এই কথা বলছে তাদের গবেষনা ভুল আর মিথ্যা। যখন তাদের কথা আর ভুল প্রমান করা সম্ভব হচ্ছে না তখন হয়তো তাদের অন্য ভাবে থামিয়ে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে আইন কানুন ও নিয়মের দোহাই দিয়ে। এরপরেও যাদের থামানো সম্ভব হচ্ছে না তখন সেই কোম্পানীর পন্য খেয়ে অসুস্থ হওয়া কিছু মানুষ দিয়ে তাদের হত্যা করা হচ্ছে।
বর্তমানে কিছু মানুষ আছে যারা বলছে বিশ্বের তৃতীয় শ্রেনীর আর স্বল্প শিক্ষিত দেশ গুলোতো অনেক পুর্বে থেকেই বিভিন্ন ধর্মের চর্চা হয়ে আসছে। আর ধর্ম এমন একটি সেনসেটিভ ইস্যু যা মানুষ চোখ বন্ধ অরে গিলে নিচ্ছে। এই ইস্যুটি ব্যাবহার করে একদল মানুষ এতদিন তাদের রাজত্ব চালিয়ে এসেছে আমাদের মাঝে। কিন্তু বর্তমানে জ্ঞান আর বিজ্ঞানের অধিক চর্চার ফলে সেই সব ধর্মীয় সিস্টেমগুলো সবই ভুল প্রমানিত হয়েছে। তারা বলছে যেহেতু ধর্ম ভুল বোঝাচ্ছে বা আমাদের মিথ্যা ও কাল্পনীক ঠাকুরমার ঝুলির মতো গল্প শুনিয়ে ভয় আর লোভ দিচ্ছে সেহেতু আমাদের এই ধর্ম গুলিকে বর্জন করা ছাড়া বিজ্ঞানের চর্চা করে মানব সভ্যতার উন্নয়ন করা সম্ভব হবে না। সেই সাথে আরেকদল এসে পাশে দাঁড়িয়ে বলছে যখন মানুষ এই বিভিন্ন প্রচলিত ধর্মের কুসংস্কার আর মিথ্যা ও ভুল থেকে বেরিয়ে এসে বিজ্ঞানের চর্চা শুরু করছে জ্ঞানের পথে হাটছে তখন তাদের নাস্তিক বলে আলাদা করছে সেই ধার্মীক শ্রেনী। তাদের ধারনা বর্তমানে এই রকম দুইটি ভাগে ভাগ হয়ে যাচ্ছে দুইটি শ্রেনী আর মাঝখানে পড়ছে একেবারেই সাধারন ধার্মীক মানুষ যারা আসলে আগে পিছে কোথায় নাই বলে দাবী করছে। আসলে এই সধারন মানুষ গুলাই কি সমস্যা ? এরা কারা যারা বার বার শাক দিয়ে মাছ ঢাকতে চাচ্ছে ? আর কেনই বা চাচ্ছে ? আসলে কি এদের জানা বোঝার ভুল আছে না এদেরকে সেভাবেই শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। আমার আসলে ভেবে লজ্জা লাগে এরা কিভাবে ধর্মের নাম ব্যাবহার করে বেধর্মীদের যুদ্ধের মাধ্যমে হত্যাকে আইন সম্মত বলে চালাই আর লুটপাটকে বৈধ বলে প্রচার করে।
---------- মৃত কালপুরুষ
                ০৬/১১/২০১৭         


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন