শুক্রবার, ১০ নভেম্বর, ২০১৭

ইয়েমেন চলছে মুসলমান সৃষ্ট দুর্ভিক্ষ, বাংলাই ফেসবুক অনুভুতি।


সৌদি আরবের সৃষ্ট কৃত্রিম দুর্ভিক্ষ চলছে মুসলমানেদের দেশ ইয়েমেনে। তা বরাবরের মতোই অস্বীকার করে ও কিছু নির্লজ্জ মুমিন বান্দা এই বলে প্রচার করছে ইয়েমেনে যে হামলা আর হত্যা ও খাদ্য সংকট তৈরি করে দুর্ভিক্ষ তৈরি করে মানুষকে হত্যা করা হচ্ছে তাতে নাকি সৌদি আরবের কোন হাত নেই। অর্থাৎ সৌদি আরব নাকি কিছুই জানে না এমন ভাব। উলটা বলা হচ্ছে এসব ইহুদী নাসারাদের ষড়যন্ত্র। হাইরে মুমিন এ কেমন মুমিন আপনারা, এ কেমন মুসলমান। গত আগস্ট মাসের ২৪ তারিখে মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যের কিছু পুলিশ ক্যাম্প ও আর্মি ক্যাম্পে মুসলিম সন্ত্রাসী ও জিহাদী সংগঠন “আরসা” সসস্ত্র হামলা চালিয়ে ১৪ জন আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহীনির সদস্যকে হত্যা করার পর সেদেশের সরকার বাধ্য হয়ে এই সন্ত্রাসী রোহীঙ্গা জাতি উচ্ছেদের নামে তাদের দেশ থেকে বিতাড়িত করলো তাতে আপনাদের দয়ার আর মুসলমান ভায়েদের রক্ষার কোন কমতি রইলো না। আর ইয়েমেন সেই মুসলমানেদের মোড়ল বাবা সৌদি আরব যখন আরেক মুসলমানের উপরে তার স্বার্থের জন্য তাদেরকে হত্যা করছে খাবার আর পানি বন্ধ করে তাদেরকে ধ্বংস করে দিচ্ছে সেদিকে আপনাদের কোন খেয়াল নাই।
ফেসবুকে কিন্তু মুসলিম মুমিন ভায়েদের এক্টিভিটি আসলেই দেখার মতো। এতই অনুভুতি তাদের যে, সামান্য লেখা দেখেই বা ফেসবুকের কোন পোস্ট দেখেই তারা যুদ্ধে নেমে যেতে রাজি মনে হচ্ছে। ইয়েমেনের মানুষ হত্যা কোন ব্যাপারই না। আমার মনে হয় ফেসবুকের যত ইউসার আছে তাদের উচিত ফেসবুক কর্তৃপক্ষকে জানানো যে, এই মুসলিম বা মুমিন জাতিদের যেন ফেসবুক ব্যাবহার করতে না দেওয়া হয়। কারন এরা ফেসবুক যতটুকু না ব্যাবহার করে বা যতটুকু তারা লাভবান হয় তার থেকে তারা মানব সভ্যতার বেশি ক্ষতি করে। তাই কি আসলেই উচিত না যে মানব সভ্যতা রক্ষার্থে এই মুসলমান জাতির ফেসবুক ব্যাবহার বন্ধ করা ? কারন দেখুন গতকালও তারা ইসলাম প্রতিষ্ঠার নামে আর ফেসবুকের লেখাতে অনুভূতিতে আঘাত পাবার নামে রংপুরের বেশ কিছু বাড়িঘর জ্বালিয়ে পুড়িয়ে লুটপাট করে এমন এক বিশৃঙ্খলা তৈরি করেছে শেখানে যে পরবর্তীতে পুলিশ বাহীনি এসে রাবার বুলেট আর টিয়ার্শেল দিয়ে নিয়ন্ত্রন করতে হয়েছে এই মুমিন ভায়েদের। মুমিনদের যদি এতই নরম অনুভূতি হবে তাহলেই এই ফেসবুক ব্যাবহার না করাই ভালো তাদের।      
এই ঘটনা পড়লে আপনারও আমার মতো চিন্তা হতে পারে। ফেইসবুকে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে রংপুরে মিছিল নিয়ে হিন্দুদের বাড়িঘরে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ কারণে পাগলাপীর মমিনপুর হাড়িয়াল কুঠিসহ আশেপাশের এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় পুলিশের সঙ্গে মুসল্লিদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শত শত রাউন্ড টিয়ারসেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে পুলিশ। এতে ২৫ জন আহত হয়েছেন। কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আজিজুল ইসলাম জানান, সদর উপজেলায় খলেয়া ইউনিয়নের ঠাকুরপাড়া গ্রামে শুক্রবার বেলা ৩ টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। তিনি বলেন, “একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে কিছু লোক স্থানীয় টিটু রায়ের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। এ সময় পাশের ধীরেন রায়ের আরও দুটি বাড়ি পুড়ে যায়।খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে বলে জানান তিনি। এ সময় পুলিশের রাবার বুলেটে মাহাবুবুল, জামিল ও আলিম নামে তিন ব্যক্তি আহত হন। তাদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে পরিদর্শক আজিজুল জানান।  
ঠাকুরপাড়া গ্রামের পাগলাপীর জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সদস্য রফিকুল ইসলাম মাস্টার বলেন, আট/নয়দিন আগে স্থানীয় এক যুবক তার ফেইসবুকে ধর্মীয় অবমাননাকরছবি পোস্ট করেন। মঙ্গলবার ওই যুবককে গ্রেপ্তারের দাবিতে মিছিল করে এলাকাবাসী। তিনি বলেন, পরে তারা পুলিশ সুপারের কাছে গিয়ে তাকে গ্রেপ্তারের জন্য ২৪ ঘণ্টা সময় বেঁধে দেন। কিন্তু তাকে গ্রেপ্তার না হওয়ায় দুপুরে তারা আবার বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। এসময় পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। এর মধ্যেই টিটুর বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে বলে রফিকুল ইসলামের ভাষ্য। এদিকে বিক্ষুব্ধ মুসল্লিরা ঠাকুরবাড়ি গ্রামের অন্তত ৩০টি বাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করে ও আগুন জ্বালিয়ে দেয়। বেশ কয়েকটি বাড়ির মালামাল লুট হয়েছে বলে অভিযোগ গ্রামের হিন্দু পাড়ার মানুষদের।
ছবিঃ কলুর বলদ
--------- মৃত কালপুরুষ
              ১০/১১/২০১৭


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন