লিখতে চাচ্ছিলাম
অন্য কিছু। কিন্তু মাথার ভেতরে শুধুই ঘুরছে, আমার মাথা কাটতে হবে মাথায় নাকি ঘা
হয়েছে। আমি আসলে জানি না আমার মাথায় কিভাবে ঘা হলো আর কেনই সেটা কাটতে হবে। গত
সপ্তাহে আমেরিকার নিউ ইয়র্ক এ একজন মুসলিম বান্দা একটি মিনি ট্রাক দিয়ে আট জন
নিরিহ পথচারিকে “আল্লাহু আকবার” হলে হত্যা করেছে এবং আরো বারো জনকে আহত করেছিলো।
সেটা নিয়ে গত পরশু একটু আলোচনা করে লিখেছিলাম এবং একটি প্রশ্ন রেখেছিলাম “আল্লাহু
আকবার” শ্লোগানের সংজ্ঞা কি দাড়াচ্ছে ?” বলে। সেখানেই একজন এই কথা বলেছে তাই শুধুই
আমার মাথায় এটা ঘুরছে এখন। আসলে সমস্যাটা আমার মাথার কোথায় ? সেটা খুজতে গিয়ে
আবারও মনে পড়ে গেলো কিছু বোকা মানুষের কথা যারা এই ধরনের একটি দেশে এসে প্রচলিত
প্রথাকে সংস্কার করে এই সমাজ, এই দেশের জন্য কিছু ভেবে প্রান দিয়েছিলো। এদের
বেশিরভাগই ছিলো উন্নত কোন দেশের নাগরিক ও বিজ্ঞানী, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কেউ
কেউ ছিলেন বিজ্ঞান ভিত্তিক লেখক। এদের কেন বোকা বললাম কারন তারা কিন্তু এই সংস্কার
করতে চেয়েই তাদের প্রান দিয়েছে। তারা যদি জানতোই যে এই সংস্কার করতে চাওয়া একটা
বোকামী যাতে নিজের প্রানও দেওয়া লাগতে পারে তাহলে কেন তারা এসব করতে গেলো ?
আমরা তো এটুকু জানি
যে, বাংলাদেশের শুরু থেকেই কিছু নিয়ম কানুন ছিলো, সাথে ছিলো রাজনৈতিক কিছু শক্তি
যার দ্বারা আমরা পরিচালিত হয়ে আসছি। শুধু এই দেশেই যে এমন নিয়ম ছিলো তা কিন্তু নয়।
বহিঃবিশ্বের দিকে একটু চোখ তুলে তাকালেই দেখতে পারবেন আজকের দিনের সকল উন্নত ও ধনী
দেশ গুলিতেও কিন্তু একই নিয়ম কানুন ছিলো। তাহলে কথা হচ্ছে তারা কেন আমাদের থেকে
এগিয়ে গেলো ? এর কারন হচ্ছে তারা বিজ্ঞানের চর্চা করেছে আর জ্ঞান আহরন করেছে। আর
এদের ভেতরে যাদের মধ্যে সব থেকে বেশি জ্ঞান বিজ্ঞানের বিকাশ ঘটেছে তারাই হয়ছে বর্তমানের
সব থেকে উন্নত জাতি ও দেশ। একটু যাচাই বাচাই করলেই দেখা যাবে সেসব দেশের রাজনৈতিক
ধারা, অর্থনীতি, নিয়ম-কানুন, মূল্যবোধ সবই নিয়ন্ত্রন করেছে এই জ্ঞান আর বিজ্ঞান।
তাহলে কথা হলো আমাদের দেশে কেন সেটা হলো না ? এর একটা কারন হচ্ছে আমাদের দেশে
জ্ঞান ও বিজ্ঞানের কোন চর্চা নেই সাথে যোগ আছে আমাদের দেশের এমন কোন প্রাকৃতিক
সম্পদও নেই যা দিয়ে বর্তমানের তেল নির্ভর কোন দেশের সাথে পাল্লা দেওয়া যাবে। এর
সাথে আবার যোগ আছে বিশাল সংখ্যক এক জনসংখ্যা যার অধিকাংশই রাষ্ট্রের মুল
অর্থনীতিতে কোন ভূমিকা রাখেনা বা বিভিন্ন কারনে পারে না। যতই আমরা বলি না কেন
আমাদের দেশ সোনার দেশ আমাদের দেশের মাটি সোনা তাতে কিন্তু এটা প্রমান হচ্ছে না
আমাদের দেশে মনে হয় সোনার খনি জাতীয় কিছু আছে যা তুলে আমরা আমাদের দেশের অনেক
উন্নয়ন সাধন করতে পারি।
এই যদি হয় আমাদের
অবস্থা তাহলে কি করতে হবে আমাদের। আমাদের হতে হবে একটু উন্নত মানুষিকতার। জ্ঞান
বিজ্ঞানের চর্চা করতে হবে। বিশ্বের অন্যান্য সব উন্নত দেশকে ফলো করতে হবে তারা
আজকে কিভাবে তাদের রাষ্ট্র পরিচালনা করছে। আর এই চিন্তা থেকে যারা আমাদের দেশের
প্রচলিত প্রথা আর নিয়মের পরিবর্তন বা সংস্কার চেয়ে কথা বলতে আসে, তাদেরকেই আগে
বিভিন্ন ভয় ভীতি দেখিয়ে বসে আনার চেষ্টা করে একটি শ্রেনী। তারপর না পেরে তাদের
আঘাত করে বা পরবর্তিতে হত্যা করা হয়। এর একটা কারন হচ্ছে যারা আসলে সেই
নিয়ম-কানুনের সিস্টেম পরিচালনা করছে তাদের কেউ এই শ্রেনীর সাথে মিলেনা। যে প্রচলিত
নিয়ম বিভিন্ন দেশের শুরু থেকে তৈরি করা হয় তা আসলে অল্প কিছু মানুষ একত্রিত হয়ে
করে থাকে এবং পরবর্তিতে তা দেখা যায় পুরা জাতি বা গোষ্ঠী ও রাষ্ট্র সেই নিয়ম মেনে
চলছে। এদের মধ্যে একটি গ্রুপ থাকে তারা এই নিয়ম গ্রহন করে থাকে আর একটি গ্রুপ থাকে
তারা সেই নিয়ম পরিহার করে থাকে আর সেখান থেকেই আসলে শুরু হয় এই সমস্যা। একদল চাই
সেটার সংস্কার করা হোক এবং কেন করা হবে তার সাথে কিছু চ্যালঞ্জ ছুড়ে দেয়। অপরদিকে
যে পক্ষ সেই নিয়ম বানিয়েছে তারা অবশ্যয় চায় তাদের অতি সাধের গড়া এই নিয়ম যেকোন
মূল্যেই হোক রক্ষা করতে হবে। আর এখানে এসে ব্যাবহার করা হয় ধর্ম নামক বিষাক্ত
বস্তু। কারন এটা এমনই একটি জিনিষ যা একবার ঠিকমতো ব্যাবহার করতে পারলে সমস্ত জাতি
গোষ্ঠির সাপোর্ট বিনা নোটিশে পাওয়া সম্ভব। তাই তো অতীতে যারা এই প্রচলিত নিয়ম আর
প্রথা বিরোধী আন্দোলনের সাথে কন্ঠ মিলিয়ে কথা বলতে গিয়েছে তাদের কেউ কেই আজ এই দেশ
ছেড়েছে আর নয়তো পৃথিবী ছেড়েছে। তবে তাদের অবদান আমাদের ভুলে গেলে চলবে না। কারন
সত্য কোনদিন গোপন থাকে না বলে একটি কথা আছে আর ঘটেও তাই। ধর্মের নামে যে ভুতের
গল্প আর পরকালের লোভ বা ভয় দেখিয়ে আজ দেশের মানুষকে একটি শ্রেনী নিয়ন্ত্রন করে
রেখেছে তাদের আসল উদ্দেশ্য একদিন সাধারন মানুষ ও সাধারন ধার্মিকেরা অবশ্যয় বুঝতে
পারবে অন্যান্য উন্নত দেশের মতো।
বেশি দূরে না,
আমাদের কাছাকাছি দেশ চীন কে দেখুন একবার। সেখানকার রাস্তা ঘাটে আজকের দিনে একজন রিক্সাওয়ালা
খুজে পাওয়া যাবে না যে বিবর্তনবাদ বিশ্বাস করেনা। কিন্তু আমাদের দেশের চেহারা
দেখুন, এখানে বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান গুলিতে দেখা যায় বিশেষ করে মদজিদ, মাদ্রাসা
আর ওয়াজ মাহফিল গুলিতে লাগাতার শেখানো হচ্ছে বিবর্তনবাদ বলে আসলে কিছুই নেই সব
ভুল। এর সাথে আরও শক্ত ভাবে প্রচার করা হয় আদম, হাওয়া টাইপের গল্প ও হাশরের ময়দান।
আর এই সমস্ত কারনেই আজ সেই মূল সিস্টেমের সকল ব্লাক সাইড ঢাকা পড়ে থাকে এই ধর্মের
আড়ালে। প্রচলিত প্রথার বিরুদ্ধে যারাই আওয়াজ তুলেছে তারাই হত্যার শিকার হয়েছে বা
আজকে দেশ ছেড়েছে নানান হুমকি ধামকিতে। এই কাজে একচেটিয়া ভাবে সেই সকল ধর্মের অনুসারীদের
৯৯% এর সাপোর্ট পাওয়া সম্ভব হয়েছে। ধর্মের মূল কাজ হচ্ছে মানুষকে ভয় দেখানো ও লোভ
দেখানো আর এটাই হচ্ছে এই বিষাক্ত সিস্টেমের মূল অস্ত্র। বিজ্ঞান ভিত্তিক সকল
ব্যাখ্যা দূরে রেখে হাজার হাজার বছর ধরে প্রচলিত কোন নিয়ম-কানুন কে অন্ধের মতো বিশ্বাস
করার আরেক নাম হচ্ছে ধর্ম। এই ধর্মের নামে চলে সাধারন মানুষের ব্রেন ওয়াশ করার মতো
কাজ। বিশেষ করে যদি ১২ থেকে ২১ বছর বয়সের মধ্যে কোন কিশোর, কিশোরীর ব্রেন একটু
ভালো ভাবে ওয়াশ করা হয় এই ধর্মীয় ব্রাশ দিয়ে তাহলে সেটা মৃত্যুর আগ পর্যন্ত বলবৎ
থাকে। আর তা দিয়েই মূল সিস্টেমের হর্তা কর্তারা ধরা ছোয়ার বাইরে থেকে খুব সহজে
অনেক অপরাধ মূলক কর্মকান্ড করিয়ে নিতে পারে।
বাংলাদেশ আসলে উন্নতবিশ্বের
কোন দেশ না তাই বহিঃবিশ্বের কারো নজর এই দেশের উপরে পড়বে না। এদেশে নেই কোন সোনা
বা প্লাটিনিয়ামের খনি বা তেলের সন্ধান যা আমাদেরকে হাইলাইট করবে অন্যান্য দেশকে টেনে
আনবে আমাদের কাছে। যেহেতু কোন প্রকৃতি প্রদত্ত সম্পদ আমাদের নেই তাই আমাদেরকে কিছু
মানুষ বলতে চেয়েছিলো তোমরা জ্ঞান আর বুদ্ধির চর্চা কর। জ্ঞানের চর্চাকে মুক্ত করে
আমাদের দেশের যে স্বল্প সম্পদ আছে, তা দিয়েই কিছু করে দেখাও। সমাজে জ্ঞান বিজ্ঞান
মুক্ত করে সকলকে চিন্তা করার সুযোগ দেও। কারন তাকিয়ে দেখো বর্তমান বিশ্বে এরকম
অনেক নমুনা আছে প্রয়োজনে তাদের দিকে তাকিয়ে দেখো তাদের থেকে কিছু শেখো নাহলে টিকে
থাকা যাবে না। এতেই তারা হয়ে গেলো লাশ। কারন যারা ধর্মকে ব্যাবহার করে ধর্মীয় মোড়ল
দেশ থেকে সাহায্যের নামে ভিক্ষা পেতো তা কিন্তু বন্ধ হয়ে যাবার হুমকি এখানে কাজ
করেছে খুব ভালো ভাবে। যদি এসবের চর্চা আমাদের দেশে একবার চালু হয়ে যায় তাহলে
বিভিন্ন ধর্মীয় অর্থায়ন একেবারেই বন্ধ হয়ে যাবে। এখনও তাই ভেবে যাচ্ছি আসলে মাথার
ঘা টা কোথায় আর কেনইবা তা কেটে ফেলতে হবে।
---------- মৃত
কালপুরুষ
০৪/১১/২০১৭

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন