যখন বিশ্বাসী
মানুষের আর যুক্তি দিয়ে কথা বলার যায়গা থাকে তখন আমরা জানি সে অযুক্তি/কুযুক্তি
দিয়ে প্রতিপক্ষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে থাকে। আর যাদের জ্ঞানের লেভেল তার
প্র্তিপক্ষের সাথে মিলে না তখন সে বিভিন্ন ধরনের গালাগালি করে। আর যারা গালাগালি
করে তাদের ১০০% হয়ে থাকে বিভিন্ন ধর্মের অনুসারি মুমিন বান্দা। কিন্তু একজন
যুক্তিবাদী বা মুক্তচিন্তার চর্চাকারীকে কখনও দেখবেন না গালাগাল করছে। আমার চোখে
পড়েনি। আর যাদের কথা বলছিলাম যারা আর যুক্তি দিতে না পারে তারা একসময় নানা ভাবে
আগা মাথাহীন কথা বলে প্রতিপক্ষকে বিভ্রান্ত করে এবং পরিশেষে বলে আপনি সবই মিথ্যা
কথা বলেছেন। কিন্তু যখন প্রমান চেয়ে বলা হয় কোথাই মিথ্যা বলা হয়েছে আপনি আমাকে
একটু দেখিয়ে দিন, তখন সে নানা অযুহাত তৈরি করে সেই মিথ্যাগুলি ধরিয়ে না দিয়ে এড়িয়ে
যায়। এখন কেউ যদি বলে আপনি মিথ্যা কথা বলেছেন আর তখন যে মিথ্যা কথা বলেছে সে যদি
জিজ্ঞাসা করে কোথাই মিথ্যা বলেছি সেটা আমাকে একটু ধরিয়ে দিন তখন প্রতিপক্ষের কি
করা উচিত ? অবশ্যয় যেখানে মিথ্যা বলা হয়েছে সেটা ধরিয়ে দেওয়া উচিত। কিন্তু সেটা না
করে যারা বলে এসব চালাকি ছাড়ুন তাদের কি বলবেন ?
আচ্ছা যাক সেই কথা
বাদ রাখলাম, এখানে একটি প্রশ্ন তৈরি হবার কারনে এই আলোচনাটা। প্রশ্নটা হচ্ছে একজন দাবি
করেছে “শিশুরা নাকি প্রকৃতিগতভাবে মুসলমান, যাতে প্রমান হয় ইসলাম একটি প্রাকৃতিক
ধর্ম”। এই কথার মানে কি ? আমি এর জবাব কিভাবে দেবো ? তার মানে তিনি বলতে চাচ্ছেন
খ্রিস্টান, ইহুদী, হিন্দু, বৌদ্ধ, ক্যাথলিক, জৈন সহ যত প্রকারের অর্থাৎ এপর্যন্ত
সন্ধান পাওয়া ৫২০০ এবং প্রাতিষ্ঠানিক ৪০০০ টা ধর্মের অনুসারি যত পরিবার এই
পৃথিবীতে আছে এবং সেসব পরিবারে যত সন্তান জন্ম নেয় তারা সবাই মুসলমান থাকে। যাদের
পরবর্তীতে মুসলমান থেকে ট্রান্সফার করে এই সব ধর্মের অনুসারি করা হয় বা ইসলামের
ভাষায় কাফের, মুরতাদ, মুনাফেক, মুশরিক এগুলো বানানো হয় এবং যাদের সেই ইসলাম ধর্মেই
হত্যা করা মানে বেহেশতের টিকিট কনফার্ম করা বলা হয়ে থাকে। আর একটা কথা এখানে
কিভাবে প্রমানিত হচ্ছে ইসলাম একটি প্রকৃতিক ধর্ম ?
ইসলাম ধর্মের বয়স
হচ্ছে মাত্র ১৪৫০ বছর সর্বোচ্চো আর এপর্যন্ত পৃথিবীতে সন্ধান পাওয়া মানুষের ফসিল
বা অন্যান্য চিহ্ন আমরা পায়, প্রায় ১ লক্ষ ৮৫ হাজার বছর আগের। বিভিন্ন ধর্ম ও
ধর্মীয় ঐশরিক কিতাব মতে যেমন, বাইবেল এর ওল্ড টেস্টামেনের প্রথম অধ্যায় জেনেসিস
মতে পৃথিবীর প্রথম মানব মানে রেডিমেট আইটেম “এডাম” এর এই পৃথিবীতে পদার্পন ৪০০৪
খ্রস্টপুর্বাব্দে বা মতান্তরে ৪০২৬ খ্রিস্টপুর্বাব্দে ২২ বছরের পার্থক্য আছে। যার
মানে হচ্ছে বর্তমানের ২০১৭ সালের হিসাবে দাড়াচ্ছে ২০১৭+৪০০৪=৬০২১ বছর মাত্র। আর
ইসলাম ধর্ম এমন একটি ধর্ম যার কোন কথায় কোথাও পরিষ্কার আর সহজ করে কিছুই মানে
একেবারেই কিছুই বলা হয়নাই। সব কিছুই ঘোলাটে করে রাখা হয়েছে সেই ধর্মের অনুসারীদের
কাছে। এপর্যন্ত তাদের ঐশরিক কিতাব পবিত্র কোরান শরীফ যাকে তারা এক ও অদ্বিতীয় বলে
থাকে তার সর্বোমোট ৫ টি ভার্সনের সন্ধান আমরা পায় যার আয়াতের সংখ্যা ৬ হাজার থেকে
শুরু করে ৬ হাজার ৬০০ টি পর্যন্ত আছে। প্রমান দেখুন এখানে এই সব
আয়াতের কোনটাতে পরিপুর্ন তথ্য দেওয়া নাই। একটা বলতে গেলে আরেকটা মানে তার আগেরটা
আর পরেরটা কি বলছে সেটাও নাকি দেখতে হবে এমন দাবী তাদের। বিশ্লেষকদের দাবী বাইবেল
এবং কোরানের মধ্যে অনেক মিল আছে সেটা কত % তা আমার জানা নেই। আর সেই কারনে অনেকেই
বলে থাকে এটা বাইবেল থেকে কপি করা। আর বাইবেলে যে এডাম আর ইভ এই পৃথিবীর প্রথম
মানব মানবী ঠিক তেমনি কোরানের আদম আর হাওয়া এই পৃথিবীর প্রথম মানব আর মানবী কিন্তু
তাদের আগমনের সঠিক তথ্য এই কোরানে নাই। তবে সার্বিক বিশ্লেষনে সেটাও ৬ থেকে ৭
হাজার বছরের বেশি না। তাহলে এখন আবার আরেকটা প্রশ্ন হচ্ছে এর আগে যেসব মানুষ এই
পৃথিবীতে জন্ম নিতো তারা কারা ছিলো ? নাকি তখন কোন প্রকৃতি ছিলো না ?
আরো অনেক প্রশ্ন আছে
যেমন ধরুন ইসলাম ধর্ম মতে প্রতিটি মানুষের কাধে দুজন করে ফেরশতা থাকে বলে প্রচলিত
আছে। এবং তারা নাকি সেই মানুষটির সারা জীবনের পাপ পূর্ণের হিসাব নিকাশ করে। এখন
কথা হচ্ছে একটি শিশুর জন্মের কত বছর পর থেকে তার পাপ পুর্ণের হিসাব রাখা হচ্ছে ?
আর যারা খ্রিস্টান, ইহুদী বা হিন্দু ধর্মের পরিবার গুলিতে জন্ম নিচ্ছে তাদের জন্য
কি ব্যাবস্থা থাকছে ? যদি তারা প্রাকৃতিক ভাবেই ইসলাম ধর্মের অনুসারি হয়ে থাকে
তাহলে কেন তাদের কাধে এই ফেরেশতারা থাকবে না ? আর জন্মের পরে একটি শিশু যদি জানতেই
না পারে সে আসলে ইসলাম ধর্মের অনুসারি হয়ে মুসলমান পরিবার বাদে অন্য কোন ধর্মের
কোন একটি পরিবারে জন্ম গ্রহন করেছে তাহলে এখানে তার কাফের, মুরতাদ, মুনাফেক আর
মুশরিক হবার সাথে সম্পর্ক কি ?
এবার একটু ইসলামে
নারী সম্মানের কথা দিয়ে শেষ করি। যে ব্যাক্তি দাবি করেছিলো শিশুরা মুসলামান তার
আরেকটি দাবী ইসলাম ধর্মে প্রধান নবী “মুহাম্মদ (সাঃ) আসার পরে নারীদের এতো সন্মান
দিয়েছেন যে, কোন পরিবারে কন্যা সন্তান না থাকাটায় ছিলো লজ্জা জনক” তাহলে ইসলামে
নারীকে দিয়েছে সর্বোচ্চ সম্মান নামের এই লেখাটি পড়ে দেখতে পারেন আগে। --এটা লিংক -- আর তার এমন দাবী করার কারন তার ধারনা ইসলাম ধর্ম তৈরি হবার আগে নাকি
নারীদের মূল্যায়ন করা হত না কন্যা সন্তানদের হত্যা করা হতো। তাহলে ইসলাম এর পুর্বে
আরবের প্যাগান ধর্মাবল্মীদের মধ্যে প্রধান তিনটি দেবতাই ছিলো নারী যাদের নাম হচ্ছে
লাত, উজ্জা আর মানাত এরা ছিলো প্যাগানদের প্রধান দেবতা হুবালের তিন কন্যা এবং সব
চেয়ে শক্তিশালি তিনজন আরবের দেবতা। তাদের যদি আরবের বাসিন্দারা দেবতার আসনে বসিয়ে
পূজা করতে পারতো এমনকি নবী মুহাম্মদ (সাঃ) এর পিতা আব্দুল্লাহ নিজে তাদের পূজা
করতো তাহলে তারা কিভাবে সেই নারীদের অসম্মান করতো ? আর ইসলাম শুরু হবার আরো ২৫০০
বছর আগে মানে আজ থেকে প্রায় ৪ হাজার বছর আগে খ্রিস্টপুর্বাব্দ ২০০০ সালের দিকে
প্রাচীন মেসোপটেমীয় সভ্যতায় যার ব্যাবিলনের শুন্যদ্যান আমাদের সকলের পরিচিত ছিলো
সেই যায়গায় নারী শাসক কিভাবে রাজ্য শাসন করেছিলো যার নাম ছিলো “রানী সেমিরিস”
(সাম্মু রামত) ? আজ থেকে ৩৫০০ বছর আগে ইসলাম ধর্ম সৃষ্টি হবার ২ হাজার বছর আগে
অর্থাৎ খ্রিস্টপুর্বাদ ১৫০০ সালে প্রাচীন মিশরের ১২ তম ফারাও আমেনহোটেপ এর মৃত্যুর
পরে তার প্রধান স্ত্রী “রানী লসট্রিস” কিভাবে মিশর শাসন করেছিলো ? এবং মিশরের শেষ
নারী “ক্লিওপেট্রা” কিভাবে তখন তার রাজ্য পরিচালনা করেছিলো যদি নারীদের সন্মান নাই
থাকবে ?
লেখা সংক্ষিপ্ত করার
কারনে আরো অনেক উদাহরন এখানে তুলছি না। তবে যেটুকু না বললে নারীদের ছোট করা হবে
সেটা হচ্ছে আমাদের মনে রাখতে হবে আজ থেকে ২০ হাজার বছর আগের বরফ যুগের শেষে রেনেসা
যুগে যখন আমাদের এই পৃথিবীর বর্তমান সাহারা মরুভূমির যায়গাটি থেকে হোমোস্যাপিয়েন্স
এর দল আস্তে আস্তে শিকার থেকে বেরিয়ে কৃষি নির্ভর হবার জন্য উর্বর জমির সন্ধানে
শেখান থেকে সরে আসতে থাকলো তখন কিন্তু তার নেত্রিত্বে ছিলো এই নারী। রেনেসা যুগে নারীদের
হাত থেকে পুরুষরা ক্ষমতা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিলো। কৃষি নির্ভর যুগে একমাত্র
নারীই ছিলো সকল ক্ষমতার প্রধান। পুরুষরা ছিলো নারীদের তত্বাবধানে। যুগে যুগে যত
ধর্ম তৈরি হয়েছে তার সব গুলিতেই নারীদের অবস্থান প্রায় দেবতার আসনে ছিলো বিশেষ করে
মিশরীয় সভ্যতায়। শুধু মাত্র ইসলাম ধর্মে নারীদের করা হয়েছে একটি পন্যের সাথে
তুলনা। তাদের দাসী বানানো, তাদের ইচ্ছা অনিচ্ছার মুল্যায়ন না করা থেকে শুরু করে
তাদেরকে ইসলামিক দৃষ্টিতে একটি খারাপ চরিত্র “শয়তান” নামেও ডাকা হয়েছে। তাই এটা
কোন ভাবেই সঠিক কথা হতে পারে না যে, ইসলাম নারীকে দিয়েছে সর্বোচ্চ সম্মান বা
মর্যাদা আর ইসলামের প্রধান নবী মুহাম্মদ (সাঃ) নারীর ক্ষমাতায়নে বিশ্বাস করতো।
---------- মৃত
কালপুরুষ
২২/১১/২০১৭
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন