সোমবার, ২০ নভেম্বর, ২০১৭

মুসলমান, ইহুদী বা সৌদি, ইসরাইল সম্পর্ক কি মানবতার জন্য বিপর্যয় বয়ে আনবে ?


সম্প্রতি একটি আলোচনা চোখে পড়াতে মনে করলাম সৌদি আরব তথা মুসলমানদের মোড়ল দেশ আর ইসরাইল তথা ইহুদীদের অবৈধ দেশের সাথে যে বন্ধুত্বপুর্ণ সম্পর্ক দেখা যাচ্ছে তা নিয়ে একটু আলোচনা করবো। আলোচনার মূল বিষয়টা ছিলো “সৌদি আরব আর ইসরাইলের মধ্যে যে বন্ধুত্বপুর্ণ সম্পর্ক হচ্ছে তা মানবতার জন্য বিপর্যয় বয়ে নিয়ে আসবে”। আসলে এটা কোন ধর্মীয় আলোচনা ছিলো না তাই এখানে মুসলমান আর ইহুদী বিষয়টি পরে আসবে তবে আগে আসবে জিওপলিটিক্স এর বিষয়টি। আসলে সৌদি আরব আর ইসরাইল সম্পর্ক মানবতার জন্য বিপর্যয় বয়ে নিয়ে আসবে এই দাবী কোন ধার্মীক মুসলমানদের বা ইহুদীদের না, বরং এমন দাবী আমি করতে দেখলাম মুক্তচিন্তা ও যুক্তিবাদী মানুষের মধ্যেই। তাই আমার কিছু ধারনা তুলে ধরার চেষ্টা করলাম এ্কটু মিলিয়ে দেখবেন আসলে ব্যাপারটি কি হতে পারে। কারন আমার কাছে মনে হচ্ছে সৌদি আরব যদি ইসরায়েলের সাথে তাদের বন্ধুত্ব প্রকাশ্যে নিয়ে আসে তাহলে মানবতার বিপর্যয় নয় বরং মানবতার জন্য কল্যানকর হবে বলে আমার ধারনা।

বাংলাদেশের মতো তৃতীয় শ্রেনীর দেশ গুলোর মুসলমান সমাজ আসলে তার জন্মের পর থেকেই শুনে আসে ইহুদীরা মুসলমানের দুশমন আর তারা সারাটি জীবন মুসলমানেদের নির্যাতন করে। আস্তে আস্তে সে যখন বড় হতে থেকে তার ভেতরে ইহুদীদের প্রতি তৈরি হয় পাহাড় সমান ক্ষোভ আর ঘৃনা, কারণ এই দেশের একজন মুসলমান তার পুর্ণজীবনে যতবার ইহুদী নাসারার ষড়যন্ত্রের কথা শুনে থাকে ততবার সৌদি আরবের মুসলমানদের নামও শোনে না। তবে মজার ব্যাপার হচ্ছে এই মুসলমানদের যদি আপনি জিজ্ঞাসা করেন আচ্ছা আপনি কি আপনার জীবনে কোন ইহুদী জাতির মানুষকে দেখেছেন ? বা বাংলাদেশের কোথায় এই ইহুদী জাতি বসবাস করে বলতে পারবেন ? তখন সে আপনার দিকে হা করে তাকিয়ে থাকা ছাড়া আর কিছুই বলতে পারবে না। এই ইহুদী জাতির প্রতি মুসলমানদের এতো রাগ ক্ষোভ আর ঘৃনার জন্মদাতা হচ্ছে সেই কোরানের কিছু আয়াত যা আমি আর এখানে তুলে ধরছি না। তবে এটুকু বলছি মুসলমানদের শ্রেষ্ঠ মানব নবী মুহাম্মদ (সাঃ) কে কিন্তু মক্কা থেকে কোন ইহুদীরা বিতাড়িত করেননি যদি কোন প্রমান থাকে তাহলে দেখাতে পারেন। আসলে তাকে সেসময় মক্কা থেকে তাড়িয়েছিলো তারই বংশের লোক যাদের আমরা কুরাইশ বলে জানি। ইহুদীদের আস্তে আস্তে বর্তমান মক্কা থেকে কিন্তু পরর্বর্তিতে বিতাড়িত করা হয়েছিলো কিন্তু তাদের রক্ত শেখানে থেকে গিয়েছিলো। ধরুন আজকের সৌদি রাজপরিবারের মধ্যে সেই ইহুদীদের রক্ত আছে কিন্তু বাংলার মুসলমান জাতি জানেই না সে কথা।

যেই সৌদি আরবকে মুসলমানরা ইসলাম ধর্মের বাপ, মা মনে করে ও সমস্ত পৃথিবীর মধ্যে মুসলিমদের মোড়ল বলা হয়ে থাকে তাদের কিন্তু ইহুদী প্রীতির এই একটিই বড় কারন। ইতিহাস দেখলে জানা যায় যে মুসলমানরা মা্নুষকে শেখায় ইহুদীরা খারাপ আর এরা ইসলামের শত্রু সেই ইহুদীদের কিন্তু কোন কালেই মুসলমানদের ফাদার কান্ট্রি সৌদি আরব শত্রু মনে করেনি। তারা প্রকাশ্যে এসব না বললেও তার কিছু প্রামান দেখুন, আল সৌদ রাজবংশের ইতিহাস আর বর্তমান অবৈধ ইসরায়েল রাষ্ট্র সৃষ্টির ইতিহাস পড়লে দেখবেন এই আল সৌদ রাজবংশের অনেক সহযোগিতা ছিলো এই ইসরায়েল রাষ্ট্র গঠনের পেছনে। তাদের সম্মতি না থাকলে আজকে এই ইসরাইল তৈরি হতে পারতো না। এর একটি বড় কারণ হচ্ছে অনেক ঐতিহাসিক এর ধারনা এই আল সৌদ রাজবংশটি অতীতে ছিলো জাতিতে ইহুদী। তাইতো ইহুদী আর ইসরায়েলের উপরে তাদের নাড়ী আর রক্তের টান এখনও রয়ে গিয়েছে। আর তাইতো আজকে আমরা এই সৌদি আরবকে সব ধরনের সহযোগিতা করতে দেখি ইসরাইলকে। তার একটি প্রমান হচ্ছে ইরানের ইসলামী বিপ্লবের পর থেকেই দেখবেন সৌদি আরবের সাথে ইসরাইলের সম্পর্ক অনেক বেড়ে গিয়েছে। তাহলে এই বাংলার মুসলমানদের কেন এই ইহুদীদের প্রতি ঘৃনা তৈরি করানো হচ্ছে ? এর আসল কারন হচ্ছে তারা আসলে জিওপলিটিক্স নিয়ে মাথা ঘামাই না। তাইতো আগামীতে দেখা যাবে ওদিকে আম দুধ ঠিকই মিশে যাচ্ছে আর এই মডারেট মুসলমান আটি হয়ে গড়াগড়ি খাচ্ছে আর একে অপরকে জোড়ায় জোড়ায় আল্লাহু আকবার বলে কাটছে।

এর আগে ইহুদীবাদী ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনাইমিন নেতানিয়াহু ২০১৩ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেয়া এক ভাষনে বলেছিলেন, পরমানু অস্ত্র-সজ্জিত ইরানের বিপদ এবং এ অঞ্চলে অন্যান্য হুমকির উদ্ভব আমাদের অনেক আরব প্রতিবেশীকে শেষ পর্যন্ত এটা বলতে বাধ্য করেছে যে, ইসরাইল তাদের শত্রু নয়। ফলে ঐতিহাসিক অনেক শত্রুতার অবসান ঘটিয়ে নতুন সম্পর্ক, বন্ধুত্ব ও আশা গড়ে তোলার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। নেতানিয়াহুসহ ইসরাইলের অনেক নেতাই ইরানের পরমানু স্থাপনায় হামলার হুমকি দিয়েছেন আর সেই হামলার সহযোগিতা ও সৌদির আকাশ ব্যাবহার করে হামলা করার অনুমুতি বেশ কয়েকবার দিয়েছেন সৌদি আরব যে খবর বহুবার প্রকাশিত হয়েছে। আরেকটি বিষয় মাথায় রাখলেই চলবে সৌদি আরবে কিন্তু শুক্রবারের জুম্মার নামাজের খুতবায় সকল মসজিদেই আইন করে নিষেধ করা আছে কেউ জানি ইহুদীদের বিরুদ্ধে কোন কথা না বলে। তাহলে বাংলার মোল্লারা কেন মসজিদে মসজিদে ইহুদী বিদ্বেষ ছড়ায় যেখানে তারা কোনদিন একটি ইহুদীকে চোখে পর্যন্ত দেখেনি। আসলে এসবই হচ্ছে ইসলাম সম্পর্কে অজ্ঞতা আর জিওপলিটিক্স সম্পর্কে অজ্ঞতা থেকেই এসেছে।

আপাতত মনে হয় আর কিছুই বলা লাগবে না ইহুদী ইসরাইলকে কারা সহোযোগিতা করছে। ইউএস ইন্টেলিজেন্স এর এক রিপোর্টে দেখানো হয় গত কয়েক বছরে বিপুল অংকের অর্থ সাহায্য হয়েছে ইসরাইলে সৌদি আরব থেকে। বর্তমান সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান বদলে দিতে চায় সৌদি আরবের ইতিহাস। সৌদি আরবের বাইরে খুব কম মুসলমানই তার নাম জানেন বলে আমার ধারনা। মাত্র ৩১ বছর বয়ষ্ক এই যুবরাজ সত্যিই যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলার জন্য যোগ্য। তিনি ইতিমধ্যেই বেশ কিছু প্রজেক্ট হাতে নিয়েছেন। সে নারী অধিকার বাস্তবায়ন করেছেন সৌদিতে। আগামীতে সৌদি আরবকে আরো উন্নত ও একটি পর্যটক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে হাতে নিয়েছে ভিশন ২০৩০ নামক বিশাল পরিকল্পনা। আগামীতে ধর্মীয় কুসংস্কার মুক্ত করতে চায় সে সৌদি আরব থেকে। যেসব মুসলমান দেশ ও মুসলিমরা আসলে জিওপলিটিক্স নিয়ে মাথা ঘামাই আর ধর্ম নিয়ে ব্যাবসা করতে চায় তারা আসলে সৌদি যুবরাজের এই উদ্দ্যোগকে ভালো চোখে দেখছে না। এই সৌদি যুবরাজের পিতা বর্তমান সৌদি আরবের বাদশা সালমান বিন আব্দুল আজিজ কিন্তু সেই আল সৌদ বংশের উত্তরাধিকারী যারা অতীতে ছিলো ইহুদী জাতি। তাই তাদের সাথে ইসরাইলের সম্পর্ক ছিলো, আছে এবং থাকবে ও আগামীতে আরো প্রকাশ্যে তারা ইসরাইলকে সাহায্য সহোযোগিতা করবে।

যদি সৌদি আরব এই ধর্মীয় কুসংস্কার থেকে বেরিয়ে আসতে চাই তাহলে অবশ্যয় তাদের সেই ষড়যন্ত্রকারী ইহুদীদের সাথে বন্ধুত্ব করতেই হবে। কারন ইহুদীরা পৃথিবীর মধ্যে একটি জ্ঞানী ও বুদ্ধিমান জাতি হিসেবেই পরিচিত অপর পক্ষে মুসলমানের পরিচিতি আছে সন্ত্রাস আর জঙ্গী গোষ্ঠি হিসেবে। ইহুদীরা জ্ঞান বিজ্ঞানে নানান শাখায় অবদান রেখে বিশ্বের ৭০% নোবেল পুরষ্কার হাতে রেখেছে। সেই হিসাব করলে দেখা যাবে মুসলমানরা জিরো। আর ইহুদীরা তাদের জীবনের মুল্যবান সকল আবিষ্কারই করে মানুষের কল্যানে আর মানবতার স্বার্থে। তারা কখনই নিজেদের একার স্বার্থে কোন কিছু করে না। তাই যদি সৌদি আরব ইসরাইল এর সাথে তাদের সম্পর্ক স্থাপন করে তাহলে মানবতার বিপর্যয়ের থেকে মানবতার জন্য কল্যানকরই বেশি হবার কথা। আমার কাছে ইহুদী ইসরাইল আর মুসলিম সৌদি আরবের পুরাতন সম্পর্কের আরো কিছু প্রমান আছে কিন্তু তা মূল বিষয় থেকে আলাদা তাই এখানে আলোচনা করবো না। তা বাদেও সৌদি আরবের ইয়েমেন দখল এর পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কিন্তু ইসরাইলের বিমান ইয়েমেন বেশ কয়েকবার হামলা চালিয়েছে সেটাও একটু পর্যালোচনা করে দেখতে হবে। যারা ইহুদী নাসারার ষড়যন্ত্র, ইহুদী নাসারার ষড়যন্ত্র বলে লাফালাফি করেন তারা একটু ভেবে দেখবেন কার জন্য করেন।

---------- মৃত কালপুরুষ
               ২১/১১/২০১৭    

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন