সম্প্রতি
রংপুরের ফেসবুক স্টাটাস আমাদের আরো একবার প্রমান দিলো যে ইসলাম ধর্মের সাথে
নৈতিকতার কোন সম্পর্ক থাকতে পারে না। যদি আমার কথা ভুল হয়ে থাকে তাহলে তা ভুল
প্রমান করার অনুরোধ রইলো। তবে খারাপ ভাষা বা হুমকি ধামকি দিয়ে নয়। আমাদের পৃথিবীতে
প্রাতিষ্ঠানিক ধর্ম আছে প্রায় ৪০০০,
এপর্যন্ত ধর্মের আবির্ভাবের সংখ্যা প্রায় ৫২০০। বর্তমানে ৭.৬ বিলিয়ন মানুষ এই পৃথিবীতে বসবাস করছে তাদের
মধ্যে মাত্র ১.৮ বিলিয়ন মানুষ ইসলাম ধর্ম বিশ্বাস করে থাকে। এর
মধ্যে সুন্নী ধারার অনুসারী সর্বাধিক, প্রায়
১.৫ বিলিয়ন। শিয়া ধারার অনুসারী তুলনামূলকভাবে অনেক কম, প্রায় ১৭০ - ৩৪০ মিলিয়ন। কিন্তু এই দুই গ্রুপের মধ্যে কতজন ধর্মপ্রান
মানুষ এই ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে যথাযথ জ্ঞান রাখে তা কেউ বলতে পারবে না। আর যার
কারনে তারা হাতে পেট্রোলের কন্টেইনার আর হাতে মশাল নিয়ে নারায়ে ত্বাকবীর বলে টিটু
রায়দের উপরে ঝাপিয়ে পড়ছে।
১৯৪৭
সাল থেকে অবিভক্ত বাংলার এই বাংলাদেশটিকে পুর্বপাকিস্তান বলা হত। কারন তখন থেকে
১৯৭১ সাল পর্যন্ত আমাদের এই বাংলাদেশকে পাকিস্তানিরা শাসন শোষণ করেছে প্রায় ২৪
বছর। সেই বছরের ২৬ মার্চ থেকে শুরু করে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত দীর্ঘ ৯ মাস যুদ্ধ করে
আমাদের বাংলাদেশ স্বাধীন করা হয়েছিলো ৩০ লক্ষ শহীদ আর প্রায় ২ লক্ষেরও বেশি মা
বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে (মতান্তরে
ভিন্নতা পাওয়া যেতে পারে)। এই সময়ে কিছু ধর্মপ্রান মুসলমান ছিলো। যারা সচক্ষে
দেখেছিলো পাকিস্তানি বিহারী বা মুসলিম জাতি ১৯৪৭ সালে কিভাবে এই দেশে এসে অন্যের
সম্পদ দখল করেছিলো ইসলামের নিয়ম গনিমতের মাল অনুযায়ী। আবার যখন ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ
স্বাধীন করা হলো তখনও মুসলমানেরা আবার সেই সব বিহারীদের সম্পদ লুট করেছিলো গনিমতের
মাল বলেই। কিছু মানুষ তখন আমাদের দেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিলো তারাও মুসলান
ছিলো। যারা মনে প্রানে চাইতো আমাদের এই দেশ সেই পাকিস্তানই থেকে যাক। এবং
নিঃসন্ধেহে তারা ছিলো মুসলিম। তাদের ধারনা ছিলো পাকিস্তান একটি ইসলামিক দেশ এবং
ইসলামের পক্ষেই তারা কথা বলেন আর যারা সেই দেশকে বাংলাদেশ বানাতে চাইছিলো তারা
সবাই ইসলামের শত্রু। ইসলাম ধর্ম বিশ্বাসের কারনে তাদের এমন মনোভাব অপ্রাত্যশিত
কিছুই ছিলোনা আর এই বিশ্বাস ও চিন্তা ধারা থেকে তারা বাংলাদেশের সাধারন মানুষের
অসংখ্য ঘড়বাড়ী জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে দিয়েছিলো ১৯৭১ সালে। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর
সাথে যোগ দিয়ে অনেক লুটপাট করেছিলো অসহায় মানুষের থেকে।
কিন্তু
আজ স্বাধীন দেশে তারা আর সেভাবে গনিমতের মাল বানিয়ে মুসলমান বা হিন্দুদের ধন সম্পদ
লুট করতে পারছে না। তাই আস্রয় নিয়েছে নতুন পদ্ধতীর উপরে। তারাই আজকে টিটু রায়দের
নাম ব্যাবহার করে এমডি টিটু নামের ফেসবুক আইডি তৈরি করে কিছু ধর্মীয় উস্কানী মুলক
পোস্ট করে আমাদের দেশের মধ্যে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাধাচ্ছে। উদ্দেশ্য কিন্তু একই
থাকছে ভাংচুর করে বাড়িঘরে আগুন দিয়ে তাদের ধন সম্পদ লুট করে দেশ থেকে বিতাড়িত করা।
আর এই জন্যই তো আজ টিটু রায়েরা ২২% থেকে কমতে কমতে মাত্র ৮% এ এসে ঠেকেছে। এদের এই
উদ্দেশ্য যদি সরকার ও দেশের জনগন বুঝতে না পারে তাহলে আগামীতে আর কোন টিটু রায়কে
পাওয়া যাবে না। শুরুতে যে হিসেব দিয়েছিলাম ১.৮
বিলিয়নের সেই তারাই কিন্তু আজকের পৃথিবীতে মানব সভ্যতার যত ক্ষতি সুন্দর ভাবে সাধন
করে আসছে। যার একটাই কারন তারা আসলে কোন ধর্ম সম্পর্কেই যথাযথ জ্ঞান রাখে না ইসলাম
ধর্ম সম্পর্কে তো আগেই না। আমি মাঝে মাঝে এদের দেখে চিন্তা করি আজ যদি ইউরোপ
আমেরিকায় কোন হিন্দু ধর্মাবলম্বী কোন মুসলিম সম্প্রদায়ের উপরে ট্রাক তুলে বা বোমা
মেরে কোন হত্যা যজ্ঞ চালাতো তাহলে আমাদের দেশের হিন্ধুদের কি হত।
সম্প্রতি
ফেসবুক পোস্ট এর কারনে রংপুরের মুসলিম ভায়েরা এতই অনুভূতিতে আঘাত প্রাপ্ত হয়েছেন
যে তাদের পবিত্র জুম্মার দিন তারা লাঠি শোঠা আর পেট্রোল এর কন্টেইনার হাতে নারায়ে
ত্বাকবীর আল্লহু আকবার বলে প্রায় ৪০টি বাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছেন এবং সেসব বাড়ি লুটপাট
করেছেন। পরবর্তীতে এই নারায়ে ত্বাকবীর পার্টিকে ঠান্ডা করতে পুলিশ গুলি চালালে
দুজন আল্লার পথে যুদ্ধ করতে গিয়ে শহীদ হয়ে বেহেশতের টিকিটও পেয়েছেন বলে জানা যায়।
এই কথা লেখার কারনে আমাদের দেশের সেকেন্ড মরিস বুকাইলি বলে পরিচিত পিনাকী
ভট্টাচার্য বাবু যিনি এর আগেও এধরনের ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে গিয়ে মানুষের
মধ্যে বিভ্রান্তী সৃষ্টি করেছিলেন, বর্তমানে যিনি মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে গবেষনা করছেন,
মুক্তিযুদ্ধের উপরে তিনি বইও লিখেছেন কিছুদিন আগে, তিনি আবারও এই ঘটনাতে
সংখ্যালঘুদের একটু সান্তনা দেবেন কিনা তিনি উলটা তার বিশাল ফলোয়ার গ্রুপকে নানা
ভাবে বোঝাচ্ছেন যেমন কুকুর তেমন মুগর টাইপের বিষয় হয়েছে।
কিন্তু
দেখুন আজকে প্রমানীত হয়েছে যে ফেসবুক পোস্টের জের ধরে রংপুরে হিন্দুদের উপরে হামলা
হয়েছে সেই পোস্ট কিন্তু সর্বোপ্রথম করেছেন খুলনার মাওলানা হামিদী নামের এক হুজুর।
তিনি খুলনার দুইটি ইসলামিক সংগঠনের সাথেও জড়িত বলে কালের কন্ঠের কাছে শিকার করেছে।
যে প্রফাইলের পোস্টকে কেন্দ্র করে এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে সার্বিক পর্যালোচনায় বেরিয়ে
এসেছে সেই প্রোফাইল গত আগস্ট মাসে টিটু রায়ের নাম আর ছবি ব্যাবহার করে অন্য কেউ
তৈরি করেছে। এতো কিছুর পরেও পিনাকী ভট্টাচার্যের মতো আমাদের দেশের কিছূ লোক, যে
ছবিটি প্রথম আলো সবার আগে প্রকাশ করেছে রংপুরের ঘটনার সেটা রোহিঙ্গাদের ঘরবাড়ি
পুড়ানোর দৃশ্য বলে গুজব ছড়িয়েছে ও ছড়াচ্ছে। পাশাপাশি আজ কালের কন্ঠ খুলনার সেই
মাওলানা হামিদীর সেই পোস্ট যে পোস্ট এ পর্যন্ত ৮৭ বার শেয়ার করা হয়েছে তার ফেসবুক
প্রফাইল থেকে তাও তারা মিথ্যা বলে প্রচার করছে। আসলে এরা কারা ? আমাদের একটু খুজে
দেখতে হবে। আর সবাইকে খেয়াল রাখতে হবে যারা এধরনের কোন উদ্দেশ্য নিয়ে দেশের ভেতরে
বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চাচ্ছে তাদের আগেই চিহ্নিত করে প্রসাশনের নজরে আনতে হবে।
ফেসবুকে যারা এসব ঘটনার সত্যতা প্রচারের বিপক্ষে কথা বলছে তাদেরকেও চিহ্নিত করতে
হবে যারা আমাদের পরোক্ষভাবে হুমকি দিয়েই চলেছে।
----------
মৃত কালপুরুষ
১৩/১০/২০১৭




কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন