শনিবার, ২১ অক্টোবর, ২০১৭

ধর্ম এবং রাজনৈতিক সিস্টেমের হাতে বাংলাদেশ।


রাজনৈতিক কোন আলোচনা আমার কাছে একেবারেই ভালো লাগে না। কারন আধাশের বাংলাদেশে একমূঠো হাসিনা আর এক চিমটি খালেদা দিয়ে কিছু ইসলামিক মোল্লার মাধ্যমে নাড়াচাড়া করে খাবার স্যালাইন বানানো আমার পছন্দ না। তার থেকে ধর্ম, দর্শন, বিজ্ঞান আর ইতিহাস ও যেসব আলোচনায় কিছু জানা সম্ভব সেই সব আলোচনা আমাকে বেশি টানে। গত কয়েকদিন আমাদের দেশে বহুল আলোচিত একটি বিষয় ফ্রিল্যান্সারদের জন্য সুখবর বয়ে আনা পেপ্যাল সার্ভিস বাংলাদেশে চালু করা নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে যা সবাই জানেন নিশ্চয়। অবশেষে দেখেছেনও গত ১৯শে অক্টোবর পেপ্যাল এর নামে ঝুম নামের আরেকটি সার্ভিস উদ্বোধন করা হয়েছে। আমি সেটা নিয়ে ১৯ তারিখের আগেই আলোচনা করেছিলাম তাই আর আজকে তা করবো না। আর এখনও যারা আসল বিষয়টি বুঝতে পারেন নাই তারা আমার আগের লেখাটি পড়ে দেখতে পারেন, আশা করি ক্লিয়ার হতে পারবেন।

আমাদের দেশে একটি কথার খুব প্রচলন আছে দেখবেন। সেটা হচ্ছে “সংখ্যালঘূ” নামের একটি শব্দ এর সাথে অবশ্য ধর্ম শব্দটিও জড়িত। সংখ্যায় যারা কম থাকে তাদের আমরা সংখ্যালঘু বলে থাকি। সম্প্রতি আমাদের দেশে প্রধান বিচারপতি সিনহা সাহেবকে নিয়ে টানাটানি কারো জানতে বাকি থাকার কথা নয়। তিনি আসলে সংখ্যালঘুদের ভেতরে পড়েন, কেন পড়েন সেটা আপনাকে খুজে দেখতে হবে। তার কাছ থেকে অনেকেই কিন্তু আশা করেছিলো সংখ্যালঘুদের ভেতরে যে ভয় আর ভীরুতা কাজ করে তেমন কিছু। কিন্তু সিনহা সাহেব তার উল্টা করেছেন যেমনটি করা উচিত নয়। এই ব্যাক্তি একজন মনিপুরি জাতি এবং ধর্মে হিন্দু। আর তাই বর্তমান সরকারের এটা ভেবে ভুল হবার কথা নয় যে এই বিচারপতি তাদেরই জয়ধ্বনি দিবেন আর মুখে মুখে ধর্ম নিরাপেক্ষতার গান গাইবেন। বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক দলের নেতা কর্মীদের মুখের কথায় কিন্তু তাই প্রমানিত হয়েছে। সেই সাথে সুবিধাবাদী হিন্দু নেতারাও দেখিয়েছেন কিভাবে রাজনৈতিক ফাইদা লুটে নিতে নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন করা যায়। এই বিচারপতি সিনহা বিচার বিভাগের কাছে করা প্রতিজ্ঞা রক্ষা করতে গিয়ে সরকারের ইশারা বুঝেও না বুঝের ভান করে ইতিহাসের এক বড় রায় দিয়ে দিয়েছেন যার কারনে তাকে রহস্যজনকভাবে ও তুমূল আলোচনার মধ্য দিয়ে এই দেশ ত্যাগ করা লেগেছে। আর তার পরেই যেটা হবার সেটাই হচ্ছে। দেশ ত্যাগ করার মাত্র ১ ঘন্টা পরেই তার নামে আনা হয়েছে দুর্নীতির অভিযোগ সহ আরো অনেক নৈতিক আর অনৈতিক অভিযোগ। আর তার বিচার বিভাগই খোদ “সুপ্রিম কোর্ট” তার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ এনে বিভিন্ন গনমাধ্যমকে বিবৃতি দিয়েছেন যা ছিলো আমাদের প্রত্যাশিত ব্যাপার।

দেখুন এখানে আরেকটু সংক্ষিপ্ত আলোচনার দরকার আছে মনে হয়। কথায় আছে পরের জন্য গর্ত খুড়লে একদিন সেই গর্তে নিজেকেই পড়তে হতে পারে সেটা কি অনেকে ভেবে দেখেছেন। এই বিচার বিভাগের উপরে এক প্রকার হস্তক্ষেপ হলো এটা কি গর্ত খোড়া থেকে কোন অংশে কম বলা চলে। আমার মনে হয় আমাদের একটু ভেবে দেখতে হবে সেই সেনা শাসনের বা তত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে আমাদের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কথা যার মামলা লড়ার জন্য কোন দলীয় বা আওয়ামী লীগের উকিলকে খুজেই পাওয়া যায়নি মাঠে। তখন সবাই আশা করেছিলো যে সঠিক বিচার হোক। এই বিচার বিভাগই কিন্তু তখন সেই সেনা শাসনের কঠিন সময়ে এই বাংলাদেশের জনগনের জন্য বিচার পাবার অধিকারকে বাচিয়ে রেখেছিলো। আজকের নতুন নতুন আওয়ামী নেতাদের মনে হয় জানার কথা না সেদিন শেষ আশ্রয় স্থল হিসেবে এটাই ছিলো একমাত্র ন্যায্য বিচার পাবার আশার যায়গা। আর তাই আমি একটু মনে করিয়ে দিতে চাচ্ছি বর্তমান সরকার দলীয় নেতাদের ভেবে দেখা উচিত দিন যে এরকমই চিরদিন থাকবে তা কিন্তু নয়। আজকে আমরা বিচার বিভাগের যে চেহারা দেখতে পারলাম তাতে আগামীতে যদি আবার এমন কোন নজির সৃষ্টি হয় তাহলে কিভাবে আজকের এই ক্ষমতাধর নেতা নেত্রীরা এই বিচার বিভাগের উপরে আস্থা রাখবেন। প্রধান বিচারপতি সিনহা সহ বিচার বিভাগের উপরে হস্তক্ষেপ করে সরকার কি প্রমান করলো বা আমাদেরকে কোন রাস্তা দেখালো একটু ভেবে দেখতে হবে কিন্তু। আমার মনে হয় এরপর যখন ক্ষমতার পালাবদল হবে তখন সবার আগে এখানে বাতাস লাগবে।

এই যে একটি সম্পুর্ন সিস্টেমে রাজনীতিকরন দেখা গেলো এসব কিভাবে আসছে আর কেন হচ্ছে তা কি আমরা কখনও একটু ক্রিটিক্যালি ভেবে দেখছি ? আমরা দেশের সাধারন জনগন পড়ে আছি ধর্ম আর অধর্ম নিয়ে। ধর্মীয় রাজনীতি আর মোল্লা রাজনীতি আমাদের কোথায় নিয়ে যেতে পারে বা নিচ্ছে সেটাও কি আমরা ভেবে দেখছি। এসব বলতে গেলে হয়ে যাবে ভারী ভারী কথা নিয়ে আলোচনা কেন করছেন আপনি যা নিয়ে ছিলেন তাই নিয়ে থাকুন না এরকম কথা শুনতে হতে পারে। কিন্তু সচেতন নাগরিক হিসেবে তো এগুলা আলোচনা করা দরকার মনে করি। কিছু দিন আগে লক্ষিপুরের ঘটনা দেখলাম ধর্মীয় অজুহাত দেখিয়ে পাকিস্তান আর আফগানিস্তান এর মতো দোকান পাট বন্ধ করে রাখা হচ্ছে দিনের নির্দিষ্ট কিছু সময়ে। আর তা করছেন সেখানকার স্থানীয় একজন জনপ্রতিনিধি। আমরা সাধারন জনগন সামনের জিনিষ গুলাই দেখি মনে হয় বা আমাদের চোখে মনে হয় অন্য কিছু ধরা পড়ে না বা চোখ মনে হয় ধর্মীয় ফিল্টার লাগানো আছে যেসব ক্ষতিকারক দিক গুলা আমাদের জানা উচিত তা আমরা এই ধর্মীয় ফিল্টারের কারনে দেখতে পারছি না। একটা মাত্র পদ্মা সেতু আর কিছু উড়াল সেতু আর পেপ্যাল এর নাম করে ঝুম সার্ভিস আমাদের এই বাঙ্গালী জাতিকে উজ্জ্বল ভবিষৎ দিবে এমন কোন কথা নাই।

ধর্মীয় রাজনীতি আর মোল্লা রাজনীতি যতদিন এই সিস্টেমে মিশে থাকবে ততদিন আমাদের দেশ উন্নত হতে পারবে না। যদি কেই বলে তাহলে এতো কিছু উন্নয়ন হচ্ছে কিভাবে। তাহলে আমি বলবো আপনার চোখ থেকে ধর্মীয় চশমাটা একটু খুলে রেখে তারপর তাকিয়ে দেখুন ভালো ভাবে আসলে কি হতে চলেছে। ৭০ এর দশকে আফগানিস্তানের অবস্থাও ঠিক এভাবেই এগিয়েছিলো খোজ নিয়ে দেখুন। বর্তমান সরকারের সময়ে যে সৌদিপ্রীতি আর মৌলবাদীদের প্রভাব বিস্তার দেখা গেলো তা কি আগামী দিনে ইতিহাস থেকে মুছে ফেলতে পারবে বর্তমান সরকার। আজকে বাংলাদেশের বিচার বিভাগ প্রায় ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে এসে দাড়ালো। বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা অনেক আগেই ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। রাষ্ট্র ক্ষমতায় ধর্ম আর ধর্মীয় মৌলবাদিদের দাপট এসবই আমাদের দেখাচ্ছে সরকারের আন্তর্জাতিকভাবে সৌদি আরবের সঙ্গে বেশি সম্পৃক্ততা আগামীদিনের বাংলাদেশের একটা ছবি যেন স্পষ্ট দেখা যায়। এই দায় কি বর্তমান সরকার এড়াতে পারবে ইতিহাস থেকে ? আমার মনে হয় না এদেশের সিস্টেমে যে বড় ধরণের গন্ডগোল বাধানো হলো তার দায় বর্তমান নেতা নেত্রীরা আগামীতে নিবে।

---------- মৃত কালপুরুষ           
               ২১/১০/২০১৭
            





কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন