গতকাল থেকেই একটি সংবাদ
ফেসবুক সহ বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যম গুলিতে ব্যপক ভাবে প্রচারিত হচ্ছে দেখে এই বিষয়টি
নিয়ে লেখার প্রয়োজন মনে করলাম। গত আগস্ট ২০১৭ তে আমরা সবাই একটি সংবাদ শুনেছিলাম
যে, চীনে মুসলমানদের জন্য যে প্রধান উপাশনালয় বা মসজিদ গুলি আছে সেগুলি থেকে সমস্ত
লাউড স্পিকার খুলে ফেলার আদেশ দিয়েছেন সেদেশের সরকার। কারন লাউড স্পিকার ব্যবহার
করে তারা তাদের ধর্মানুসারীদের মসজিদে ডাকার পাশাপাশি নাকি আরো অন্য সাধারন
মানুষদের মধ্যে শব্দ দূষন করছিলো দীর্ঘদিন ধরেই এমন অভিযোগ আছে অনেকের। এরই
ধারাবাহিকতায় সেই মাসের একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই সমস্ত মসজিদ থেকে লাউড
স্পিকার খুলে ফেলা হয়। আপনারা হয়তো জানবেন যে বিশ্বের সমস্ত উন্নত দেশে শব্দ দূষন
এর উপরে একটি আইন আছে এবং লাউড স্পিকার ব্যবহার করতে হলে সেই আইন মেনে করতে হয়।
আমেরিকা ও ইউরোপের মসজিদ গুলির কথা বলি, সেখানে এমন ভাবে মসজিদ আছে যা কেউ বুঝতে
পারবে না। নিজস্ব কোন ভবন নেই। সাধারন অফিস বা কমার্শিয়াল এরিয়াতে ফ্লোর ভাড়া করে
মসজিদ নামে মুসলমান ধর্মাবলম্বীদের সমস্ত কাজ সেখানে করা হয় মসজিদ মনে করে। কোন
লাউড স্পিকার বাজাবার অনুমতি নেই। তাছাড়াও আরো অনেক রেস্ট্রেকশন আছে এই জাতীয়
উপাশনালয় পরিচালিত করার ক্ষেত্রে তবে কিছু কিছু এলাকায় এর ব্যতিক্রম হলে হতে পারে।
গতকাল থেকে বিভিন্ন
আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম গুলি প্রকাশ করেছে, চীন আবারও মুসলমান সম্প্রদায়ের উপরে
নতুন আইন করেছে। মুসলমানদের প্রধান ঐশরিক কিতাব পবিত্র কোরান শরিফ বহন করা, কাছে
রাখা এবং সংরক্ষন করা একেবারেই নিষেধ করেছে। চীনা পুলিশ মুসলিম নাগরিকদের জানিয়েছে
যে, যত দ্রুত সম্ভব তাদের এই পবিত্র গ্রন্থ যাতে নিকটস্থ পুলিশ ষ্টেশন এ গিয়ে জমা
দেয়। অন্যথায় তারা অন্য ব্যবস্থা গ্রহন করবে। ইতিমধ্যেই অনেক কোরান সংগ্রহ করেছে
তারা। এর কারন চীনাদের ধারনা এই ঐশরিক কিতাব জঙ্গীবাদ ছড়াচ্ছে যা থেকে মুসলিমরা
বেশি সন্ত্রসী করছে। তাই তারা সীদ্ধান্ত নিয়েছে এই কিতাব নিষিদ্ধ করার।
আমার কথা হচ্ছে সারা
বিশ্বের মুসলিম সম্প্রদায় কি এই বিষয়ে চুপ থাকবে না এর বিপক্ষে দাঁড়াবে। এটা
মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষের কাছে আমার প্রশ্ন। আমার মনে হয় বিপক্ষে দাড়াবার মতো
কারন তারা তৈরি করতে পারেনি। কারন বিশ্ব জুড়ে যত হানাহানী, যুদ্দ্ব, হত্যা, হামলা,
জঙ্গীপনা, সন্ত্রাসীপনা, জিহাদ, কিতাল, কিসাস, আল-কাতল সহ ইসলাম ধর্মে আর যা কিছু
আছে সেগুলোর কোনটাই প্রমান করে না এটা একটি শান্তির ধর্ম। আগে বলি কেউ আমার কথা
খারাপ ভাবে নিবেন না। আমি অতি সাধারন মানুষ। আমি শুধু জানতে চাচ্ছি চীনের বিরুদ্ধে
যদি কোরান নিষিদ্ধ করা নিয়ে আপনারা প্রতিবাদ করেন তাহলে কি অজুহাত এর প্লে কার্ড
হাতে নিয়ে রাস্তায় দাড়াবেন সেটা জানতে চাচ্ছি এর বেশি কিছু না। আমার জানা মতে
অন্যান্য দেশের মুসলমান সম্প্রদায়ের থেকে বাংলাদেশের মুসলমান জাতি এই ইসলাম ধর্ম
নিয়ে একটু বেশি আবেগ প্রবন। তার প্রমান হচ্ছে, এই যে বর্তমান সময়ের সব চেয়ে আলোচিত
ইস্যু রোহিঙ্গা ইস্যু। আমার মনে হয় মুসলমানদের জন্য রোহিঙ্গা ইস্যুর চেয়ে আরো বড়
ইস্যু হবার কথা ছিলো এই কোরান কে জিহাদি বই বলে নিষিদ্ধ ঘোষনা করার বিপক্ষে
আন্দোলন করা বা পথে নামা। কিন্তু তা হচ্ছে না কেন।
আমি “রোহিঙ্গা ইস্যুর নতুন
সম্ভবনা” নামের আমার একটি লেখাতে এর আগেই আপনাদের দক্ষিন এশিয়ার যে কোল্ড ওয়ার বা
ঠান্ডা যুদ্ধের কথা বলেছিলাম সেটা মনে আছে নিশ্চয়। কেউ না পড়ে থাকলে এখানে লিংক দিলাম পড়তে পারেন। চীন কিন্তু মায়ানমারে তাদের অনেক টাকা বিনিয়োগ করেছে
সেটা বা এতে আবার কেউ ভাববেন না রাখাইন রাজ্য সহ আরো বেশ কিছু অঞ্চলে যে, বড় বড়
কিছু খনির সন্ধান পাওয়া দিয়েছে সেটা এই ইস্যুর সাথে জড়িত তাহলে ভূল করবেন। আবারও
আমি বাংলাদেশের সাধারন মুসলিম ভায়েদের বলবো প্যান ইসলামিস্টদের চিনে রাখুন। এদের
উদ্দেশ্য আসলে অন্য কিছু।
আমি অনেক আগে বলতাম
বাংলাদেশের সাধারন মুসলমানেরা বা সাধারন ধার্মিকেরা আসলে এই জিহাদ, জঙ্গি,
সন্ত্রাসী, আইসিস, বোকো হারাম, তালেবান, আল-কায়েদা বা আরসা এতো কিছু বোঝে না। তারা
মানুষ হত্যা করা, অন্য ধর্মের মানুষকে ঘৃনা করা, নারীকে অপমান করা, বহু বিবাহ,
শিশু বিবাহ, মানবাধিকার লঙ্ঘন এসবকে প্রস্রয় দেয়না। কারন আমি দেখতাম বাংলাদেশের
সাধারন মুসলিমরা কখনই কোন বেধর্মীকে হত্যা করার কথা বলে না। তারা সর্বোচ্চ এটুকু
বলে যে এরা ইহকাল পরকাল কোন কালেই শান্তি পাবে না এর বেশি কিছু না। কিন্তু অনেকেই
আমার এই কথার দ্বিমত পোষন করে বলেছেন যে, “আপনি কি জানেন যে ইসলামেই কেন এই
জংগীপনা আর গুপ্তহত্যা বেশি করা হয় ? কারন এর বীজ বোনা আছে অন্য কোথাও একটু চেষ্টা
করলে দেখতে পারবেন নিশ্চয়। আপনার লেখার পক্ষে থাকতে পারলাম না বলে দুঃখিত”। এই
কথার পরে চেষ্টা করলাম আরো ভাল ভাবে জানার আসলে কি বীজ বোনা আছে এর মধ্যে যে এখান
থেকে এই জাতীয় মানুষিকতা তৈরি হচ্ছে।
এরকম নানা কারনেই আমার
আজকের এই প্রশ্ন যে, “কোরান শরিফ কেন নিষিদ্ধ করা হচ্ছে ?” একটু ভেবে দেখবেন। ১৯৭০
সালের দিকে আফগানিস্তানের নারীরা প্রকাশ্যে স্বাধীন ভাবে চলাফেরা করতে পারতো।
তাদের ছিলোনা কোন পোশাকের বাধা ধরা নিয়ম। তখন নারীরা কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে খুব
স্বাভাবিক ভাবেই পড়াশোনা করেছে এবং অফিস আদালতে চাকুরীও করেছে। কিন্তু তালেবান
নামের ইসলামি জঙ্গী গোষ্ঠী আফগানিস্তা্নে তৈরি হবার পর থেকে ৭০ এর দশক থেকেই হতে
থাকে তার পরিবর্তন। আস্তে আস্তে নারীদের প্রকাশ্যে চলাফেরাই বাধা দেওয়া শুরু হয়।
তাদেরকে বোরকা নামক বস্তা বন্দী করা হয়। পঞ্চম শ্রেনীর উপরে কোন নারীকে শিক্ষা গ্রহন
করতে দেওয়া যাবে না বলে আইন করা হয়। এমনকি কোরান বাদে অন্য যত বই আছে তা রাখা এবং
পড়া নিষিদ্ধ করা হয়, এই বলে যে, কোরান বাদে আর যত বই আছে তা সবই শয়তানি কিতাব। এই
বই রাখলে বা পড়লে মানুষের ঈমান নষ্ট হয়ে যাবে এবং তাকে ধর্মান্তরিত করা হবে। আর
ইসলামে বেধর্মিকে হত্যা করা জায়েজ। তাহলে কি আজ চীন সরকার কোরান শরিফ নিষিদ্ধ করে
ভালো করলো না খারপ করলো এটা আমার জানার বিষয়।
---------- মৃত কালপুরুষ
০১/১০/২০১৭






কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন