শুক্রবার, ১৩ অক্টোবর, ২০১৭

ইসলাম ধর্মের সূরা আম্বিয়ার ৩০ নং আয়াত ও বিগ ব্যাং।


অনেক মুসলমান ধার্মিক ভায়েদের ধারনা যে এই ক্ষুদ্র পৃথিবী যেই বিশাল সৌরজগত এর মধ্যে আছে, আর সেই সৌরজগত যে মহাবিশ্বের মধ্যে আছে, সেই মহাবিশ্বের যেভাবে সৃষ্টি তত্ব বিজ্ঞানীরা দিয়ে থাকেন বা বিজ্ঞানীরা যেভাবে ব্যাখ্যা করেছেন তার সাথে এই পৃথিবীর প্রচলিত ৫২০০ টি ধর্মের মধ্যে ইসলাম ধর্মের পবিত্র ঐশরিক কিতাব আল কোরানের ২১ তম সূরা আল আম্বিয়া এর ১১২টি আয়াতের মধ্যে ৩০ নম্বর আয়াতের মিল খুজে পাওয়া যায়। আর তাই তাদের ধারনা --- কি সেটা বুঝতেই পারছেন। আমি সুরা আল আম্বিয়ার ৩০ নম্বর আয়াত আর বিগ ব্যাং নিয়ে কিছু আলোচনা করছি একটু মিলিয়ে দেখুন ঠিক আছে নাকি। প্রথমেই আমরা একটু দেখে নেবো সূরা আল আম্বিয়া সেই ৩০ নম্বর আয়াত আমাদের কি বলছে। সূরা আল আম্বিয়া (আরবিسورة الأنبياء "নবীগণ") মুসলমানদের  ধর্মীয় গ্রন্থ  কুরআনের একুশতম সূরা। এই সূরাটি মক্কায় অবতীর্ণ হয়েছে এবং এর আয়াত সংখ্যা ১১২ টি। যে সূরার বিষয়বস্তু হচ্ছে হযরত মুহাম্মদ (সঃ) ও কুরাইশদের সাথে মধ্যে যে বিবাদ ছিল তা এখানে প্রতিফলিত হয়েছে। যার ৩০ নাম্বার আয়াতে বলা হচ্ছে –

أَوَلَمْ يَرَ الَّذِينَ كَفَرُوا أَنَّ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ كَانَتَا رَتْقًا فَفَتَقْنَاهُمَا وَجَعَلْنَا مِنَ الْمَاء كُلَّ شَيْءٍ حَيٍّ أَفَلَا يُؤْمِنُونَ

30
উচ্চারন -  আওয়ালাম্ ইয়ারল্লাযীনা কাফারূ য় আন্নাস্ সামা-ওয়া-তি অল্ র্আদ্বোয়া কা-নাতা- রত্ক্বন্ ফাফাতাক্বনা-হুমা-অজ্বাআল্না-মিনাল্ মা-য়ি কুল্লা শাইয়িন্ হাইয়িন্; আফালা-ইয়ু মিনূন্।

অর্থ - কাফেররা কি ভেবে দেখে না যে, আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর মুখ বন্ধ ছিল, অতঃপর আমি উভয়কে খুলে দিলাম এবং প্রাণবন্ত সবকিছু আমি পানি থেকে সৃষ্টি করলাম। এরপরও কি তারা বিশ্বাস স্থাপন করবে না ?




এটা হচ্ছে সূরা আল আম্বিয়ার ৩০ নাম্বার আয়াত। এখন দেখুন বিগ ব্যাং তত্ব নিয়ে সংক্ষিপ্ত কিছু আলোচনা। আজ থেকে হাজার হাজার বছর আগে থেকেই এই পৃথিবীর মানুষ একটি জিনিষ সঠিক ভাবে জানার অনেক চেষ্টা করেছে। আর সেটা হলো আমাদের এই চারপাশের সুন্দর পৃথিবী যে মহাজগৎ এর মধ্যে আছে সেই মহাবিশ্ব কিভাবে সৃষ্টি হয়েছে আর কেনই বা সৃষ্টি হয়েছে। এখানে আমরা কিভাবে এসেছি এরকম নানা প্রশ্ন। আর এই সব প্রশ্নের উত্তর খুজতে গিয়ে মানুষ যুগে যুগে তৈরি করেছে অনেক যৌক্তিক আর কিছু অযৌক্তিক গল্প। সেই সাথে তৈরি করেছে নানান নামের নানান শক্তির হরেক রকমের কল্পিত ঈশ্বর যারা আজকের এই পৃথিবীর অর্ধেক মানুষের মস্তিষ্ক দখল করে আছে। কিন্তু বিজ্ঞান আমাদেরকে দিয়েছে তার কিছু সঠিক নমুনা। বিজ্ঞান এর আবিষ্কার আমরা কখনই কল্পিত ঈশ্বর এর সৃষ্টির সাথে মেলাতে পারিনা। কারন ঈশ্বর প্রদত্ত সৃষ্টি রহস্য গুলা কয়েকটি কয়েকশো পাতার বই দিয়ে ইতি টানা হয়েছে। অনেকের বিশ্বাস যে এখানেই লুকায়িত আছে সকল সৃষ্টি রহস্য ও সমস্ত বিজ্ঞান জ্ঞান। কিন্তু বিজ্ঞান আমাদের তা বলে না। বিজ্ঞান আমাদের বলছে একটি নতুন তত্ব আবিষ্কার হবার পরে তার আগের তত্বটি আর ভ্যালিড থাকে না। শুরু হয় যেখানে এসে শেষ হয়েছিলো শেখান থেকে আবার নতুন করে নতুন তত্বের জন্য তথ্য সংগ্রহ করা। এই সৃষ্টি রহস্য আবিষ্কার করতে গিয়ে আজ বিজ্ঞান অনেক ভাগে বিভক্ত হয়েছে। লক্ষ লক্ষ বই লেখার প্রয়োজন পড়েছে আমাদের সৃষ্টি রহস্য প্রমান করতে গিয়ে। নতুন নতুন অনেক তত্ব আজো আবিষ্কার করে চলেছে বিজ্ঞানীরা। তবে আজ পর্যন্ত সব চেয়ে বেশি গ্রহনযোগ্য তত্ব হচ্ছে এই বিগ ব্যাং তত্ব।


বিগ ব্যাং বা একটি বিশাল বিস্ফোরন যার মাধ্যমে এই বিশ্বজগতের সৃষ্টি হয়েছে সেই তত্ত্ব মতে বিশ্বজগতের সৃষ্টির শুরুতে সমস্ত বিশ্বজগতের মোট উপাদান এক বিন্দুতে মিলিত ছিল এবং এর ফলে তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে বিগ ব্যাং সংগঠিত হয়েছে  শুরু হয়েছে বিশ্বজগতের যাত্রা এবং এই যাত্রায় নতুন করে যোগ হয়েছে সময় নামের একটা নতুন মাত্রার  ফলে আমাদের এই ত্রিমাত্রিক বিশ্বজগতে একটি নতুন মাত্রাসময় যুক্ত হয়ে চতুর্মাত্রিক জগতের সৃষ্টি হয়েছে সেই সাথে হয়েছে দিন এবং রাতের মতো পরিবেশ বিগ ব্যাং-এর পূর্বে সময়হীন একটা জগত ছিল, যে জগতে কোন সময় ছিল না , দিন বা রাত বলে কিছুই ছিলো না। বিগ ব্যাং-এর পরেই সময়ের সৃষ্টি হয়েছে যেমন করে ত্রিমাত্রিক জগত সৃষ্টি হয়েছে l তাই আজো আমাদের কাছে এই বিগ ব্যাং এক রহস্য হয়ে আছে।

বর্তমান যুগে আমরা অনেকেই মেনে নিতে পারি না এমন একটা সময় অতীতে ছিলো যেখানে কোন সময় ছিলো না। এটা অনেকের দাবী যে সময়হীন একটি বিশ্বজগত থাকা সম্ভব নয়। আসলে এখানে এসেই বিজ্ঞানীদের মাথা গুলিয়ে যায় যে বিগ ব্যাং এর পুর্বে এরকম কি ছিলো যা সেই বিন্দুতে এসে আটক হয়ে ছিলো এবং পরবর্তীতে তা আবার বিস্ফোরন হলো। অথবা আমরা চিন্তাই করতে পারি না যে বিগ ব্যাং-এর পূর্বে কোন সময় ছিল না এবং বিশ্বজগত এক বিন্দুতে মিলে ছিল আর এই এক বিন্দুর কোন অতীত নেই যেমন নেই কোন পূর্ব মুহূর্ত বা পাস্ট এবং এই এক বিন্দুর বাইরে কিছু ছিলনা। অর্থাৎ বিশ্বজগত এই এক বিন্দুতেই স্বীমাবদ্ধ ছিল এর বাইরে কিছু থাকা সম্ভব নয় এটা স্থান কালহীন এক অবস্থা যেটা সময়ের জগতে বসে কল্পনাও করা অসম্ভব আর এই অসম্ভব অকাল্পনিক অবস্থাই ছিল বিশ্বজগতের শুরুতে l বর্তমানে অনেক বিজ্ঞানী এই বিগ ব্যাং এর পুর্বের ঘটনা জানার চেষ্টা করছেন। তাদের অনেকেই কিছু নতুন তত্ব নিয়ে গবেষনা করছেন। কিন্তু ফলাফল সেই একই বিন্দুতে গিয়ে আটক হচ্ছে। তবে আজ আমি সেব্যপারে আলোচনা করবো না।


বর্তমানে মানুষের মনে এই বিগ ব্যাং নিয়ে কিছু প্রশ্ন ঘুরপাক খেতে থাকে তা হচ্ছে এই বিন্দু কিভাবে আসলো কোথা থেকে আসলো বা এই মহাবিশ্বের মূল উপাদান কিভাবে তৈরি হলো এরকম নানা প্রশ্ন। এব্যাপারে অনেকেই অনেক কথা বলতে পারেন কিন্তু আসল কথা হচ্ছে এর সঠিক উত্তর আমরা জানি না এবং বুঝতেও পারি না  এগুলো বিজ্ঞানের কঠিন হিসাব বা ক্যালকুলেশন যেগুলো বিজ্ঞানী ছাড়া খুব কম মানুষই বুঝতে পারে আর তাই মানুষ বুঝতে পারে না কেন বিগ ব্যাং-এর কোন পূর্ব মুহূর্ত অথবা কোন অতীত বা পাস্ট থাকা সম্ভব নয় তারা শুধু জানে যে বিগ ব্যাং-এর কোন অতীত বা পাস্ট নেই  কিন্তু সেই অতীত বা পাস্ট অর্থাৎ সময়হীন জগতটা কিভাবে থাকা সম্ভব সেটা মানুষের ধারণ ক্ষমতার বাইরে এই বাস্তব সত্যটি যেভাবে তাত্তিকভাবে ব্যাখ্যা করা যায় কিন্তু সেভাবে কল্পনা করা যায় না ফলে অনেকের কাছেই বিগ ব্যাং-এর আদি অবস্থাটা অর্থাৎ শুরুর অবস্থাটা ধুয়াশাময় থেকে যায়।  আমরা বিগ ব্যাং পর্যন্ত জগতকে চিন্তা করতে পারব অথবা জানতে পারব কিন্তু এর উত্পত্তি কেন হলো কিভাবে হলো অথবা এর কোন অতীত কেন থাকবে না অথবা এর অতীত যদি থেকেই থাকে তাহলে সেটা কেমন থাকা উচিত এসব প্রশ্ন অর্থহীন হয়ে যায় যখন বাস্তবতা বা থিওরি অথবা পদার্থ বিজ্ঞান বিগ ব্যাং -এর পূর্ব অবস্থা বর্ণনা করতে যায়  কারণ তাত্তিকভাবে অথবা পদার্থ বিজ্ঞানের তত্ত্ব অনুযায়ী বিগ ব্যাং-এর কোন অতীত অবস্থা বা এর কোন ভিন্ন অবস্থা থাকা সম্ভব নয় l

আমরা জানি বিগ ব্যাং তত্ত্ব অনুযায়ী মহাবিশ্ব অতীতে এক বিন্দুতে মিলিত ছিল যখন বিগ ব্যাং শুরু হলো এটি চারদিকে ছুটতে শুরু করে যেমন করে রাতের আকাশে আমরা তারা বাজি দেখে থাকি l ডানে বায়ে সামনে পেছনে উপরে নিচে সব দিকেই এই মহাবিশ্ব বিগ ব্যাং এর পরে সমান তালে বাড়তে থাকলো। এর পর থেকে এটি প্রসারিত হতে হতে আজকের এই মহাবিশ্বের আকার ধারণ করে l কিন্তু এটি যে সেখানেই থেমে গিয়েছিলো তা নয়, এটি প্রসারিত হতেই থাকছে এবং এর বিস্তার বাড়তেই থাকছে আর তাই আমরা জানতে পারি এই বিগ ব্যাং তত্ত্ব অনুযায়ী এটির একটি শুরু আছে এবং এটি এখনো প্রসারিত হচ্ছে অসীমের দিকে যার কোন সীমা পরিসীমা নেই l সৌর বিজ্ঞানীগণ মহাবিশ্বের প্রসারণ লক্ষ করে অনুমান করেছে যে এই মহাবিশ্ব বিগ ব্যাং-এর সময়ে এক বিন্দুতে মিলিত অবস্থায় ছিল এবং বিগ ব্যাং-এর মাধ্যমে এটি প্রসারিত হয়েছে এবং আজ অবধি তা হয়েই যাচ্ছে এখন মহাবিশ্বের বিগ ব্যাং থেকে আজকের দিন পর্যন্ত প্রসারণকে যদি আমরা একটি বৃত্তের সাথে তুলনা করি যে বৃত্তের একটা বর্তমান আয়তন আছে এবং এটি শুরুতে এক বিন্দুতে মিলিত অবস্থায় ছিল তাহলে আমরা কি দেখতে পায়  দেখবো যে এই বিন্দু বাড়তে বাড়তে আমাদের আজকের এই মহাবিশ্বের আকৃতি পেয়েছে।


আরেকটু সহজ ভাবে বোঝার জন্য আমরা এখন চেষ্টা করবো একটি বেলুন এর ব্যবহার করতে। ধরুন একটি বেলুন শুরুতে ছোট্ট একটি বস্তু ছিলো কিন্তু আমরা যখন এতে বাতাস দিতে থাকলাম তখন থেকে এটা তার আগের আকৃতি থেকে বাড়তে শুরু করলো। একটা সময় সেটা তার পুর্বের আকৃতি থেকে বেড়ে বড় একটি আকৃতি নিলো। এভাবেই শুরুতে ছোট্ট একটি বিন্দু থেকে বিস্ফোরনের মাধ্যমে প্রায় ১৩ বিলিয়ন বছরের ব্যবধানে আমাদের এই মহাবিশ্ব আজকের আকৃতিতে এসে দাড়িয়েছে। এখানেই এসে কিন্তু সেটা থেমে যায়নি বরং পুর্বের মতো আরো বৃদ্ধি হচ্ছে সমান তালে অসীমের দিকে। এখন আবার আরেকবার চিন্তা করে দেখুন এরকম একটি বেলুন কথা, যদি আমরা তার ভেতরের বাতাস বেরিয়ে যেতে দেখি তাহলে কি হবে। আমরা আমাদের সময়ের উলটা গননা যদি করি সময় যত পেছনে যাচ্ছে মানে বেলুনের বাতাস যত বেরিয়ে যাচ্ছে তত বেলুনের আকৃতি ছোট হচ্ছে। এভাবে ছোট হতে হতে একটা পর্যায়ে এসে আবার সেই পুর্বের আকৃতিতে এসে আটকে যাবে। আর এভাবে যেখান থেকে এই বিগ ব্যাং শুরু হয়েছিলো সেই বিন্দুতে গিয়ে থেমে যাবে। তার থেকে কিন্তু আর কমতে পারবে না। একটা সময় অবশ্যয় ক্ষুদ্র একটি আকৃতিতে গিয়ে তাকে থামতে হচ্ছে। আমরা যদি তার থেকেও ক্ষুদ্র কোন আয়তনের কথা ভাবী তাহলে সেটা হয়ে যাবে একটি শূন্য আয়তন। কিন্তু শূন্য আয়তনে কোন বিন্দু থাকতে পারেনা তাই নির্দিষ্ট একটি অবস্থানে গিয়ে তাকে থেমে যেতে হচ্ছে। আর সেটাই হচ্ছে বিগ ব্যাং এর পুর্ব অবস্থা। আর এর ভেতরেই ছিলো আজকের এই মহাবিশ্বের সমস্ত উপাদান।

এখন অনেক ঈশ্বরবাদীদের প্রশ্ন থাকতে পারে যে তাহলে আপনার এই বিন্দুর আগে কি ছিলো এই মহাবিশ্ব। আমি কিন্তু সে কথা আগেই বলেছি। সেটা একটা সময়হীন স্তব্ধ ব্যাপার আর তাই আমাদের এই সময় ও দিন রাত দ্বারা পরিচালিত পৃথিবীতে বসে কারো পক্ষে তার আগের ইতিহাস জানা সম্ভব না। তবে একটি বিন্দু অর্থাৎ যা থেকে আর ছোট হওয়া সম্ভব নয় সেই অবস্থায় গিয়ে চিন্তা শক্তি থেমে যাওয়া। আমাদের এই মহাবিশ্ব আজকের এই অবস্থানে এসে দাড়িয়েছে আনুমানিক প্রায় সাড়ে ১৩ বিলিয়ন বছরের ব্যবধানে। অর্থাৎ আজ থেকে সাড়ে ১৩ বিলিয়ন বছর আগে এই বিগ ব্যাং সংগঠিত হয়ে আমাদের এই মহাবিশ্বের সৃষ্টি হয়েছিলো আমরা যাকে মহাবিশ্বের যাত্রা বলে থাকি। আর এখানে এই মহাবিশ্বের ক্ষুদ্র থেকে অতি ক্ষুদ্র মানে এটা বলে বোঝানো সম্ভব নয়। যেমন ধরুন ৯৯,৯৯% বাদ রেখে যে বাকী সংখ্যাটা থাকে তার থেকে আবার ৯৯.৯৯% বাদ দিলে যা থাকবে সেই আকৃতির একটি ক্ষুদ্র পৃথিবীর মানুষের বিশ্বাস করা কল্পিত ঈশ্বর এর দ্বারা এই মহাবিশ্ব সৃষ্টির কোন কিছুই ঘটে নাই এটা নিশ্চিত থাকুন। এটা মহাবিশ্বের প্রচলিত প্রাকৃতিক নিয়মেই ঘটেছিলো এর বাইরে কিছুই ঘটেনি।


প্রথম আমাদেরকে বিজ্ঞানী হাবল এই বিগ ব্যাং এর কথা বলেছিলো। কিন্তু আজ হাজার হাজার বিজ্ঞানী ও নাসার মহাকাশ গবেষকেরা এই তত্বেই আটক আছেন। তবে এর সাথে নতুন অনেক কিছু যুক্ত হয়েছে যেমন আজ বিজ্ঞানীরা এটাও বের করে দেখতে সার্থক হয়েছেন যে এই মহা বিস্ফোরন বা বিগ ব্যাং এর মাত্র ১০ সেকেন্ড পর থেকেই আমাদের এই সৌরজগত এর সমস্ত উপাদান তৈরি হয়েছিলো। সৃষ্টির প্রাথমিককালে মহাবিশ্ব সুষম এবং সমতাপীয় রূপে একটিই অতি উচ্চ শক্তি ঘনত্ব এবং উচ্চ তাপমাত্রা ও চাপবিশিষ্ট পদার্থ দ্বারা পূর্ণ ছিল। মহাবিশ্ব সৃষ্টির ১০৪৩ সেকেন্ড পর পদার্থবিজ্ঞানের সূত্রগুলো কার্যকারিতা লাভ করে। তাই এই সময়কে প্ল্যাংকের সময় বলা হয়। প্ল্যাংকের সময়ের প্রায় ১০৩৫ সেকেন্ড পর একটি দশা পরিবর্তন তথা অবস্থান্তর অবস্থার সূচনা ঘটে যার ফলে মহাজাগতিক স্ফীতিশুরু হয়। এই সময় মহাবিশ্ব সম্প্রসারিত হতে শুরু করে। এ সময় থেকে মূলত মহাবিশ্বের exponential সম্প্রসারণ শুরু হয়।


---------- মৃত কালপুরুষ
               ১৪/১০/২০১৭



কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন