“আত্মা” বলে কিছু
আছে ? না, আত্মা বলে কিছু নেই ? এমন প্রশ্ন মানুষের মনে নতুন কিছুই না। আজ থেকে
হাজার হাজার বছর আগে থেকেই মানব সভ্যতার সাথে মিশে আছে এই “আত্মা” শব্দটি। লিখিত
মানব সভ্যতার ইতিহাস যতদুর পর্যন্ত জানা যায় সেটা ছিলো মিশরীয় সভ্যতা যার লিখিত
ইতিহাস পাওয়া যায় আজ থেকে প্রায় ৬ হাজার বছর পুর্বের। আর সেখানেও মানুষের মধ্যে এই
“আত্মা” বিষয়ক নানান জল্পনা কল্পনা দেখা যায়। শুধু তাই নয় তার অনেক পূর্বেও “আত্মা”র
বিশ্বাস মানুষের মাথায় ছিলো তার প্রমানও পাওয়া যায়। মুলত মানব সভ্যতায় ধর্মীয়
অনুশাসন তৈরি হবার সাথে সাথেই ধর্ম প্রস্তুতকারীরা বিভিন্ন ভূতের গল্প তৈরি করতে
থাকে মানুষের মাঝে আরো শক্ত ভাবে ঈশ্বর বিশ্বাস স্থাপন করার জন্য। আর এ থেকেই “আত্মা”র
গল্প আরো শক্তভাবে মানব সভ্যতায় মিশে যায়। যুগে যুগে অনেক ধর্ম তৈরি হয়েছে, হয়েছে
তার বিলুপ্তি, তারপরেও আজকের পৃথিবীতে টিকে থাকা ধর্মগুলিতে এই “আত্মা”র উপস্থিতি
অনেক শক্তিশালী ভাবেই টিকে আছে যার একটিই কা্রন, আর তা হচ্ছে “বিশ্বাস”। এখানে “বিশ্বাস” নিয়ে কিছু কথা না বললেই নয়, যেমন “বিশ্বাস”
জিনিষটি আসলে কি বা এই “বিশ্বাস” কথাটির সংজ্ঞা কি ?
একটা বিষয় সবাই ভেবে
দেখবেন “বিশ্বাস” কিন্তু করতে হয় যার কোন অস্তিত্ব নেই এমন জিনিষের উপরেই। কারন
যার যুক্তিযুক্ত প্রমান আছে বা লজিক্যালি আমরা যাকে প্রমান করতে পারি তাকে কিন্তু
বিশ্বাস করার কিছুই নেই। যেমন ধরুন চাঁদ বা সূর্যের ক্ষেত্রে আমাদের কিন্তু
বিশ্বাস করতে হয় না যে, চাঁদ আছে বা “বিশ্বাস করুন সূর্য আছে যা আমাদের আলো দেয়”
এমন কিছু। কারন এই চাঁদ বা সূর্যকে আমরা লজিক্যালি প্রমান করতে পারি এটার অস্তিত্ব
আমাদের মাঝে আছে। এখন যেহেতু এই “আত্মা”কে আমরা লজিক্যালি কেউ প্রমান করতে পারিনা
তাই এই “আত্মা”কে আমাদের “বিশ্বাস” করা ছাড়া আর কোন উপায় থাকে না। তাই বলছিলাম আমাদের আগে জেনে নেওয়া ভালো এই “বিশ্বাস”
জিনিষটি আসলে কি বা “বিশ্বাস” এর সংজ্ঞা কি। ইংরেজিতে Believe, Trust, Faith এই তিনটি শব্দের অর্থ আগে জেনে নেয়া যাক। Believe (অনুমান, বিশ্বাস, বিশেষভাবে প্রমাণ ছাড়াই মেনে নেয়া)1. accept that (something) is true,
especially without proof. 2. hold (something) as an opinion
think. যেমন, আত্মা
বিশ্বাস করা, ভুতে বিশ্বাস করা, এলিয়েনে বিশ্বাস করা ইত্যাদি।
এবার দেখুন Trust (আস্থা)1. firm belief in the reliability, truth, or ability of
someone or something. কোন পূর্ব
অভিজ্ঞতা বা ধারণার আলোকে কোন বিষয় সম্পর্কে ধারণা করা। যেমন আমি আমার অমুক বন্ধু
সম্পর্কে আস্থাশীল যে, সে টাকা ধার নিলে আমাকে ফেরত দেবে। এবার দেখুন Faith (বিশ্বাস, ধর্মবিশ্বাস, ঈশ্বরবিশ্বাস বা বৈজ্ঞানিক
তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই পরিপূর্ণ বিশ্বাস) 1. complete trust or confidence in someone or something. 2. strong belief in the doctrines of a religion, based on
spiritual conviction rather than proof. যেমন, ভূত বিশ্বাস, আত্মা বিশ্বাস, ঈশ্বর বিশ্বাস করা
ইত্যাদি। ইসলাম,
খৃষ্টান, হিন্দু বা ক্যাথলিক ধর্মে বিশ্বাস করা। আল্লাহ, ভগবান, ঈশ্বরে বিশ্বাস
রাখা।
![]() |
আর বিশ্বাসের সংজ্ঞা
থেকে আমরা যা পায় তা হচ্ছে, বিশ্বাস বলতে
সাধারণতঃ পারিপার্শ্বিক বিষয়-বস্তুরাজি ও জগৎ সম্পর্কে কোনো সত্ত্বার স্থায়ী-অস্থায়ী প্রত্যক্ষণকৃত ধারণাগত উপলব্ধি বা জ্ঞান এবং তার নিশ্চয়তার উপর আস্থা বোঝানো
হয়। সমাজবিজ্ঞান , মনোবিজ্ঞান , জ্ঞানতত্ত্ব ইত্যাদি
বিভিন্ন আঙ্গিকে বিশ্বাস শব্দটি বিভিন্ন
পরিপ্রেক্ষিতে খানিকটা আলাদা অর্থ বহন করতে পারে , তাই জ্ঞান , সত্য , ইত্যাদির মত বিশ্বাসেরও
কোনো একটি সর্বজনসম্মত সংজ্ঞা নেই
বলে অনেকের ধারণা । কোনো বিষয় সত্য না মিথ্যা তা বিচার ক'রে - সত্য মনে হলে তা
"বিশ্বাস করা" অথবা মিথ্যা মনে হলে অবিশ্বাস করা আর মিথ্যা হবার সম্ভাবনা বেশী মনে হলে সন্দেহ করা হয়
। বিশ্বাস মানে
হতে পারে আস্থা (faith) , ভরসা(trust) । বিশ্বাসের দৃঢ়তা (বিশ্বাস যত বেশি সন্দেহ তত কম) যা খুব বেশি হলে
তাকে বলা যায় ভক্তি বা অন্ধবিশ্বাস । আবার বিশ্বাস মানে
হতে পারে আশা (hope) বা আশ্বাস (assurance) বা বিশ্বাস করার ইচ্ছা (willingness to trust) । বিশ্বাস
হতে পারে কোন বাহ্যিক বা অভ্যন্তরীণ অনুভুতির সচেতন অনুধাবন বা কোনো তথ্য (information) বোধগম্য হওয়া এবং বিভিন্ন পরিস্থিতিতে যাচাই করার পর এই বোধের
নিশ্চয়তা সম্বন্ধে প্রত্যয় বা প্রতীতি জন্মালে (সত্য বলে স্থায়ী ধারণা) হলে
তাকে জ্ঞান (knowledge) বলা যায়। পর্যবেক্ষণের উপর যুক্তির (ও পূর্বলব্ধ জ্ঞানের) সাহায্যে
বিচার (deduction) করে কোন বিষয় সত্য বলে সিদ্ধান্ত নিলে তা থেকে
নতুন জ্ঞান জন্মায়। এইভাবে মনের মধ্যে উপলব্ধ সত্যগুলিকে জুড়ে যে তত্ত্বের জাল
বোনা হতে থাকে তাদের বিষয়বস্তুগুলি সামগ্রিকভাবে হল জ্ঞান আর তাদের গ্রহণযোগ্যতার
সচেতন অনুমোদন হল “বিশ্বাস”। তাহলে
আমরা এটুকু পর্যালোচনা করলে মোটামুটি এই “বিশ্বাস” শব্দটির একটি সংক্ষিপ্ত
ব্যাখ্যা নিশ্চয় পায়। আর এই হচ্ছে সেই বিশ্বাস যার উপরে টিকে আছে “আত্মা” নামের ধারনাটি।
বিশ্বাস হচ্ছে সোজা কথায় যুক্তিহীন কোন ধারণা, অনুমান, প্রমাণ ছাড়াই কোন প্রস্তাব মেনে নেয়া। তথ্য
প্রমাণ পর্যবেক্ষন এবং অভিজ্ঞতালব্ধ বিষয় মানুষের বিশ্বাসের অন্তর্ভুক্ত নয়।
এখন কথা হচ্ছে
যেহেতু কোন পর্যবেক্ষন বা অভিজ্ঞতালব্ধ কোন বিষয় বা তথ্য প্রমান সহ কোন বস্তু
মানুষের বিশ্বাসের মধ্যে পড়েনা তাহলে “আত্মা” মানুষের বিশ্বাসের মধ্যে পড়ে। কারন
পৃথিবীতে “আত্মা”র কোন প্রমান নেই, এর কোন গবেষনালব্ধ ফলাফল নেই, “আত্মা” সম্পর্কে
কারো কোন অভিজ্ঞতা নেই (চোখে দেখা বা স্পর্শ করা), “আত্মা” সম্পর্কে মানুষের তথ্য
প্রমানের তালিকা জিরো। তাই নিঃসন্ধেহে এই আত্মাকে বিশ্বাস করা ছাড়া আমাদের আর কোন
উপায় থাকে না। এখন অনেক সৃষ্টিবাদী বা ক্রিয়েসনিস্টদের একটি বৈজ্ঞানিক প্রমানের
কথা বলতে শোনা যায়। একজন বিজ্ঞানী একটি পরীক্ষন এর মাধ্যমে মানুষের আত্মার ওজন আছে
বলে এবং তা ২১ গ্রাম বলে দাবী করেছিলো। সেই দাবিটি কি ছিলো দেখুন। ১৯০৭ সালের ১১ই
মার্চ ডা: ম্যাকডুগাল নামের একজন চিকিৎসক আত্নার ওজন মেপে বের করেছেন বলে New York Times পত্রিকা প্রকাশ করেছিলো একটি প্রতিবেদন। এখন পর্যন্ত অনেকেই এই খবরকে আত্মার প্রমান
হিসেবে ব্যবহার করে। আসুন দেখি কেমন ছিলো সেই গবেষনা পদ্ধতি আর কতটা
নির্ভর করা যায় সেই গবেষনার ফলাফলের উপরে।
ডা: ম্যাকডুগাল ১৯০১
সালে ৬ জন রোগীর উপরে এই পরীক্ষা চালিয়েছিলেন এবং পরে ১৫টি কুকুরের উপরেও একই
পরীক্ষা করেছিলেন এবং বলেছিলেন যে কুকুরের আত্মা নেই। কারন সেই সময় ধারনা করা হত
মানুষের আত্মা আছে আর কুকুরের আত্মা নেই। ডা: ম্যাকডুগাল মারা যেতে পারে এমন রোগীদের তার
কক্ষে বিশেষ ভাবে তৌরি বিছানায় রাখতেন বিছানা বড় ওজন পরিমাপের যন্ত্রের সাথে
সংযুক্ত রাখা ছিলো। এবং ডা: ম্যাকডুগাল পর্যবেক্ষন করতেন রোগী মারা যাবার পরে
তার ওজনের পরিবর্তন হয়েছে কিনা। তিনি মোট ৬ জন
রোগীর উপরে এই পরীক্ষা চালিয়েছিলেন। যারা বৃদ্ধাআশ্রেমে ছিলো এবং যক্ষায়
আক্রান্ত ছিলো। তিনি মাত্র ১ম জনের
মৃত্যুর পরে ২১ গ্রাম ওজন কম পর্যবেক্ষন করেছিলেন। ২য়/৩য় রোগীর
তথ্য তিনি বাদ দেন কারিগরী সমস্যার জন্য। বাকি ৩ জনের ক্ষেত্রেও তিনি বিভিন্ন মাপের ওজন কম দেখেন। ৪র্থ জনের মৃত্যুর পরে কিছুটা
ওজন হারালেও একটু পরে তা ফিরে আশে। ৫ম রোগী মৃত্যুর পরে ওজন ঠিকই থাকে কিন্তু কয়েক মিনিট
পরে তার ওজন কমে।(তার মতে মৃত্যুর পরেও তার আত্মা শরিরে ছিলো)। ৬ষ্ঠ জন মারা যাবার পরে ওজন
হারায় এবং একটু পরে আরো বেশি ওজন হারায়। তিনি পরে ১৫টি কুকুরের উপরেও এই পরীক্ষা
চালিয়েছিলেন। কিন্তু তাতে কোন ওজনের পরিবর্তন তিনি দেখেন নাই। আর তাই তিনি লিখেছিলেন যে কুকুরের কোন আত্মা নেই। ডা: ম্যাকডুগাল
পরে আত্মার ছবি তোলার জন্য গবেষনা শুরু করেছিলেন কিন্তু কোন প্রমান তিনি
উপস্থাপন করতে পারেন নাই। পরবর্তিতে তিনি ১৯২০ সালে মারা জান এবং এই বিতর্কিত গবেষনা আজ
পর্যন্ত আর কেউ করেনি।
ডাঃ
ম্যাকডুগাল এর এই গবেষনা যখন প্রকাশ পায় তখন তিনি বিজ্ঞানী মহলে সমালোচনার শিকার
হন। যেমন, তার গবেষনার উপরে
অন্যান্য গবেষকদের মতামাত ছিলো এরকম physicist Robert L. Park বলেছিলেন
ডা: ম্যাকডুগাল এর গবেষনার কোন scientific merit নেই এবং তিনি তা ব্যাখ্যাও করে দেখিয়েছেন কিভাবে
মৃত্যুর পরে একটি মৃত দেহ থেকে ২১ গ্রাম ওজন কমতে পারে। psychologist Bruce
Hood বলেছিলেন because the weight loss was not reliable or
replicable, his findings were unscientific আর এই একটি মাত্র গবেষনা ছাড়া
আত্মা আছে বলে প্রমান করার জন্য আর কেউ কখনও চেষ্টাও করেনি। তবে তথ্য প্রমানের দিক
থেকে এই সৃষ্টিবাদীদের আরেকদল দাবী করে থাকেন অনেকেই আত্মা, ব্রহ্মা, জ্বীন, পরী
বা এই জাতীয় যত অলৌকিক চরিত্র গুলা আছে তা তাদের কেউ কেউ দেখতে পায় বা দেখেছে। আর
তাতেই তারা দাবী করে এই পৃথিবীতে এদের অস্তিত্ব আছে। বা মানুষ মারা গেলে তার আত্মা
বা রুহু তার শরীর থেকে বেরিয়ে যায়। কিন্তু দুঃখের বিষয় এখানেও বিজ্ঞান এই সব
আজগুবি ঘটনার কিছু কারন ব্যাখ্যা করেছেন। যাতে প্রমানিত হয়েছে এমন কিছু কেউ যদি দেখেই
থাকে বা এমন কিছু কারো সাথে যদি কখনও ঘটেই থাকে তাহলে চিকিৎসা বিজ্ঞানের আরেকটি
শাখা নিউরোসায়েন্স মতে তাকে মানুষিক রোগী বলা হয়ে থাকে। এই জাতীয় ঘটনা ঘটা বা
আত্মা দেখার কারন হিসাবে বিজ্ঞানীরা ১০টি কারনের কথা বলে থাকেন আর তা হচ্ছে (১) ইডিওমোটর এফেক্ট (Ideomotor
Effect) (২) পরিচলন (Convection) (৩) অটোম্যাটিজম
(Automatism) (৪) বৈদ্যুতিক
স্টিমুলেশান (Electric Stimulation) (৫) ইনফ্রাসাউন্ড (Infrasound) (৬) স্লিপ প্যারালাইসিস (Sleep
Paralysis) (৭) কার্বন মনোক্সাইড বিষক্রিয়া (Carbon Monoxide Poisoning) (৮) ফসফিন (Phosphine) এবং মিথেন (Methane) (৯) গণহিস্টেরিয়া (Mass
Hysteria) (১০) আয়ন (Ions) এসবের যে কোন একটির কারনে একজন মানুষ
আত্মা বা অশ্বরিরী দেখতে পারে বা অনুভব করতে পারে। এছাড়াও নিউরোসায়েন্স কিছু
বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মানুষকে এরকম অনুভূতির কাছাকাছি নিয়ে যেতে পারে যেই পদ্ধতির
নাম “গড হেলমেট” বলা হয়ে থাকে সেটা অন্য আলোচনা।
এত কিছুর পরেও একটি মহল কোনভাবেই বিশ্বাস করতে
চাই না আত্মা বা রুহু বলে কিছুই নেই, যা সম্পুর্ন একটি অলৌকিক চরিত্র বা
প্যারানরমাল এক্টিভিটি। তাদের একটি দাবী দেখা যায় তারা বলে যদি আত্মা বলে কিছু নাই থাকবে
তাহলে বিজ্ঞানীরা তার প্রমান কেন করতে পারেনা। সাইন্টিফিক ব্যাখ্যা কই ? রেফারেন্স
দিন। এমন কোন
লিংক/রেফারেন্স থাকলে দিন যেখানে কেউ প্রমান করেছে আত্মা বলে কিছু নাই, সাথে
রেফারেন্স থাকতে হবে। এই রকম কথাকে আমি অযুক্তি/কুযুক্তি ছাড়া কিছু বলি না। কারন
হচ্ছে, যে বস্তুর অস্তিত্ব আছে তাকে আছে বা নাই প্রমান করার চেষ্টা করা যায়। কিন্তু যে বিষয়
বা বস্তুর কোন প্রমান তো দূরে থাক অস্তিত্বই নাই তার আবার নাই প্রমান করার কি আছে।
এর পরেও এমন যদি হত যে কেই এমন কোন প্রমান দেখিয়েছে যে “আত্মা” বলে কিছু আছে তাহলে
সেটার পক্ষে বা বিপক্ষে কিছু বলা যেত কিন্তু যেখানে কিছুই নাই তার আবার কিভাবে নাই
প্রমান করে তাও আবার বৈজ্ঞানীক ব্যাখ্যা দিয়ে। হ্যা আগামীতে মানুষ অমরত্ব পেতে
যাচ্ছে। অর্ধেক মানুষ আর অর্ধেক রোবট এর মতো ব্যাবস্থা করা হচ্ছে যখন মানুষের
মস্তিষ্ক মৃত্যুর পরেও সচল থাকবে। সেটা হলে হইতো এই পরকাল ভাবনা সম্পর্কে বা আত্মা
সম্পর্কে আমরা কিছু জানতে পারবো বা আগামীতে হইতো বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যাসহ প্রমান করে
দেওয়া সম্ভব হবে “আত্মা” বলে কিছু নেই।
রাষ্ট্রব্যাবস্থার সাথে যেমন ধর্মব্যাবস্থা জড়িত
ঠিক তেমনই ধর্মের সাথে এই আত্মা বা এই জাতীয় অলৌকিক চরিত্র গুলি জড়িত। কিন্তু
দুঃখের বিষয় এদের অবস্থান মানুষের মস্তিষ্কে ছাড়া আর কোথাও নেই। মানুষ যুগে যুগে
তাদের ক্ষমতা ধরে রাখতে এই চরিত্র গুলার ব্যাবহার করে এসেছে। ধর্মবিশ্বাসী মানুষেরা
তাদের মস্তিষ্কে পুষে রেখেছে এই জাতীয় চরিত্র গুলিকে। একটি স্বল্প শিক্ষিত বা
অশিক্ষিত দেশে শিশুকাল থেকেই এই জাতীয় চরিত্রের সাথে একটি মানুষকে পরিচয় করিয়ে
দেওয়া হচ্ছে যার ফলে সে তার যৌবনে গিয়েও এমনকি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সেই এই বিশ্বাস
বয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছে। আর এই সুযোগে ধর্ম ব্যাবসায়ীরা তাদের ফাইদা লুটে নিচ্ছে।
প্রথমে মানুষকে এই জাতীয় ভূতের গল্প শুনিয়ে নিচ্ছে যেটা না থাকলে মানুষের পরকাল
চিন্তা মাথার ভেতরে ঢুকানো সম্ভব না আর তার পরে শুরু হচ্ছে ভোট চাওয়ার কাজ। আমাদের
দেশেও এরকম নজির অনেক দেখা যায়। আগে ধর্মের নামে ভূতের গল্প তার পর ভোটের কথা। আর
এই সমস্ত কারনেই আজ খুব শক্ত ভাবে এই আত্মারা আমাদের পৃথিবীতে, আমাদের দেশে,
আমাদের সমাজে এবং আমাদের পরিবারে টিকে আছে কিন্তু যার কোন অস্তিত্ব নেই।
---------- মৃত কালপুরুষ
২৬/১০/২০১৭







কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন