বিবেকানন্দ কি
হিন্ধু ধর্মের বিধবা বিবাহ, সতীদাহ, বাল্যবিবাহ, পুরুষের বহুবিবাহ সহ এরকম আরো
অনেক কুৎসিত প্রথাকে সমর্থন করেছেন না তার বিরোধিতা করেছেন তাই এখনও অনেক হিন্দু
ধর্মের অনুসারীরা জানে না। অনেক হিন্দু ধর্মাবলম্বী মনে করে থাকেন বিবেকানন্দ একজন
প্রথা বিরোধী মানুষ ছিলেন আসলে কিন্তু তাদের ধারণা ভুল। বিবেকানন্দকে মিডিয়া
সাধারণ মানুষের সামনে সেভাবেই উপস্থাপন করেছিলেন তাই হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের এই
ধারণা। প্রায় ৫০০০ বছর ধরে শত শত অমানবিক আর বর্বর প্রথা সাথে নিয়ে এই হিন্দু ধর্ম
এই ধর্মে বিশ্বাসী মানুষকে নানা ভাবে জাতাকলের মধ্যে ফেলে পিষে আসছিলো। এমন সময়
যদি কেউ সংস্কার এর নামে কিছু পরিবর্তন করে দেখায় তাহলে অন্ধের মতো বিশ্বাস করা
ধর্ম বিশ্বাসী মানুষের এটা ভেবে ভুল না করার কোন কারণ নেই যে সেই ব্যাক্তি একজন
প্রথাবিরোধী বা সমাজ সংস্কারক। আর এই স্বামী বিবেকানন্দের বেলায়ও ঘটেছে তাই। আসলে
তিনি সমাজ সংস্কারক ছিলেন না, তিনি ছিলেন প্রথার অচলায়তনে বন্দী একজন মানুষ আজ আমরা
সেটা নিয়ে একটু আলোচনা করবো।
হিন্দু ধর্মের একটি
বর্বর ও অমানবিক প্রথা হচ্ছে একজন নারীর স্বামী মারা গেলে তাকে বিধবা আখ্যা দিয়ে
এমন কিছু অমানবিক নিয়ম-কাননের মধ্যে সেই নারীকে বেধে রাখা হয় ও সমাজচ্যুত করা হয়
যা হিন্দু সমাজের নারীরা খুব ভালো করেই জানে। অল্প কিছুদিন আগেও এদেরকে সেই মৃত
স্বামীর চিতায় জোর করে তুলে আগুনে পুড়িয়া মেরে স্বতী বানাবার নিয়মও প্রচলিত ছিলো।
এই প্রথার পরিবর্তনে নারীদের এগিয়ে আসতে অনেক দেরি হবার একটা মুল কারণ হচ্ছে
হিন্দু সহ অন্যান্য আরো কয়েকটি ধর্মে নারীদের শিক্ষা বিষয়ক অনেক বাধা প্রচলিত ছিলো
ধর্মীয় কিছু বাধা ধরা নিয়মের কাছে। এরকম সময় স্বামী বিবেকান্দ নামের একজন সচেতন
ব্যাক্তি সমাজ সংস্কার এর নামে সেই সব বিধবাদের পুনরায় বিয়ে করার বা বিয়ে দেবার
জন্য বিভিন্ন যুক্তি দিয়ে প্রচার করা শুরু করেন এবং হয়তো কিছু কিছু ক্ষেত্রে তখন
সফলও হয়েছিলেন। কিন্তু যেহেতু এই জাতীয় অনেক বিষয় হিন্দু ধর্মের প্রধান প্রধান
কিছু ধর্মীয় গ্রন্থে অনেক আগে থেকেই আদেশ-উপদেশ দেওয়া ছিলো তাই হিন্দু সমাজ থেকে
এই বিষয় গুলি (কুসংস্কার গোড়ামী) সম্পুর্ণরুপে বিলুপ্ত করা সম্ভব হয়নি। যেমনটা
সম্ভব হয়নি হিন্দু ধর্মের কয়েকডজন জাতপাতের বৈষম্য এই ধর্মটি থেকে দূর করা যা আজ
অবধি বিভিন্ন হিন্দু সমাজে বিদ্যমান।
এই বিধবা নারীদের
পূণঃ বিবাহের চল চালু করে তখন বিবেকানন্দ সাধারণ হিন্দু ধর্মের মানুষের মধ্যে
ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন একজন সমাজ সংস্কারক হিসেবে। বিভিন্ন মিডিয়াও তাকে নিয়ে
অনেক প্রচার প্রচারণা চালায়। কিন্তু আসলেই কি বিবেকানন্দ একজন সমাজ সংস্কার ছিলেন
? তার বিভিন্ন ভাষ্য মতে আমরা তার কিছুই দেখতে পায় না যেমন ধরুন, তিনি আসলে বিধবা
বিবাহের বিরোধিতা করেছিলেন, শুধু তাই নয় সেই সাথে তিনি সতীদাহ, বাল্যবিবাহ,
পুরুষের বহুবিবাহ সহ আরো অনেক প্রথাকে একাধারে তিনি সমর্থন করে গিয়েছেন এই অমানবিক
আর বর্বর হিন্দু ধর্মের সাফাই গেয়ে। তার ইসলামী জিহাদী সন্ত্রাসীদের মতো অনেক
ডায়ালগ এর মধ্যে একটি ডায়ালগ হচ্ছে “এ দেশে সেই বুড়ো শিব ডমরু বাজাবেন, মা কালী
পাঁঠা খাবেন আর কৃষ্ণ বাঁশি বাজাবেন চিরকাল। যদি না পছন্দ হয় সরে পড় না কেন ?” এই
জাতীয় ভাষ্যর মধ্যে সেই মোল্লাদের প্রথমে মুখে বলো, তারপর হাতে বলো টাইপের একটি
হুমকি দেওয়া হচ্ছে ভারতবর্ষের হিন্দু ধর্ম বাদে অন্য ধর্মের অনুসারীদের যাদের
মধ্যে পড়ছে যারা আসলে কোন ধর্মই বিশ্বাস করেনা তারাও। আরো দেখুন, মডারেট হিন্দুরা
যতই বলে আমরা আমাদের ধর্মের অনেক সংস্কার করেছি আর এখনও করছি তাদের এই কথার উলটা
বলেছেন এই স্বামী বিবেকানন্দ। তিনি বলেছেন “যতোই বায়োবৃদ্ধি হইতেছে, ততই এই
প্রাচীন প্রথাগুলো আমার ভালো বলিয়া মনে হইতেছে” এই কথাই কি তার স্বতীদাহ প্রথা,
বিধবা বিবাহের বিরোধিতা, কৃষ্ণের ন্যায় পুরুষের বহু বিবাহ প্রথা, রুক্মীনির মতো
বাল্য বিবাহ প্রথা, সব একসাথে সমর্থন করা হয় না ?
শুধু তাই নয় হিন্দু
ধর্মের সব থেকে মূল যে সমস্যা সেটা হচ্ছে বিভিন্ন জাতপাতের সমস্যা যা মানুষে
মানুষে ভেদাভেদ তৈরি করে আসছে আজ থেকে হাজার হাজার বছর আগে থেকেই। সেই প্রথাকে
বর্তমান সময়ের মডারেট হিন্দুরা যতই বলুক আমরা আর এখন এই নিয়ম মানি না বা আমাদের
কোন ধর্মীয় কিতাবে এই জাতীয় কোন আদেশ উপদেশ নেই। তার পরেও এই হিন্দু ধর্মের সাধারণ
মানুষেরা খুব ভালো বলতে পারবেন তাদের সমাজের মধ্যে এখনও কি চলে। যদিও আমাদের মতো
সাধারণ পাঠকদের এই বিষয়ে কোন প্র্যকটিক্যাল ধারনা নেই তার পরেও এই ধর্মটি থেকে
বেরিয়ে আসা অনেক সচেতন মুক্তভাবে চিন্তা করতে পারা জ্ঞানী মানুষের কাছে শুনেছি তাদের
ধর্মের মধ্যে এই জাতপাত নিয়ে এখনও কি ভাবে সাধারণ মানুষকে ছোট করা হয়ে থাকে সেসব
কথা না হয় এখানে নাই তুলছি। এখন দেখুন এই স্বামী বিবেকানন্দ কিভাবে এই জাতপাত বজায়
রাখার চেষ্টা করেছেন মানুষে মানুষে এই বিভেদ সৃষ্টি করে রাখার চেষ্টা করেছেন। তিনি
বলেছেন “তুই বামুন, অপর জাতের অন্ন নাই খেলি” এই কথার মাধ্যমে সে এই অমানবিক
হিন্দু ধর্মের নিম্নবর্ণ আর উচ্চবর্ণ বা ব্রাহ্মন আর তার নিচের অন্যান্য সকল জাতের
মধ্যে পার্থক্য তৈরি করে রাখতে বলেছেন। সে জাতিভেদ সমর্থন করে আরো বলেছেন “জাতি
ভেদ আছে বলেই ৩০ কোটি মানুষ এখনও খাবার জন্য এক টুকরো রুটি পাচ্ছে” এখন আমার সেই
সব ফেসবুকার্সদের কাছে খুব জানতে ইচ্ছে করছে তারা যে মোল্লাদের মতো গলার জোর
বাড়িয়ে হাতের মুষ্টি শক্ত করে আমার হিন্দু ধর্মের সমালোচনা দেখে না্না ভাবে প্রমাণ
করতে চলে আসে আমার ধর্ম ভালো আমার ধর্ম ভালো তাদের মতামত।
আসলে একটি কথা মনে
রাখতে হবে শিক্ষিত আর অশিক্ষিত সকল অন্ধবিশ্বাসী ধর্মান্ধদের। আসলে ধর্মান্ধ নামটি
খারাপ শোনালেও এর ব্যাতিক্রম কিছু আপাতত হাতের কাছে পেলাম না, তবে পশ্চিমা দেশ
গুলা সহ বহিঃবিশ্বের সকল দেশে এদেরকে সুন্দর একটি নামে ডাকা হয়, আর তা হচ্ছে “ফ্যানাটিক”।
যেহেতু এই ফ্যানাটিকদের মধ্যে শিক্ষিত আর অশিক্ষিতদের কোন পার্থক্য নেই, তাই তাদের
উদ্দেশ্যেই বলা, ধরুন হিন্দু ধর্ম একটি কালকেউটা সাপ যেটা বর্তমান যুগে তার খোলশ
পালটিয়ে এখন গোখরা সাপে পরিনত হয়েছে কিন্তু এই দুইটা সাপই বিষধর এবং যা কামড় দিলে
মানুষের মৃত্য পর্যন্ত হতে পারে। শুধু তাই নয়, যদি এই সাপ যাকে কামড় দিচ্ছে সে
একাই অসুস্থ হয়ে মারা যেত তাহলে এই ধর্মের বর্বরতা আর অমানবিকতা তুলে ধরে সাধারণ
মানুষকে সচেতন করার প্রয়োজন খুব একটা ছিলোনা। কিন্তু এই সাপে কামড় দিলে সে তো নিজে
অসুস্থ হয়ে ধীরে ধীরে মারা পড়ছেই সাথে যখন বেশি অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে তখন অন্যান্য
ধর্মের বা সাধারণ মানুষকেও কামড় দিচ্ছে যাতে করে সেই মানুষটিও আবার মারা যাচ্ছে।
যেমন কিছুদিন আগে পশ্চিমবঙ্গের মালদাতে ঘটে যাওয়া লাভ জিহাদের নামে একজন মানুষকে
আরেকজন মানুষের হত্যা করার নৃশংস ঘটনা তারই একটি কারণ। এরা যে ধর্মের অনুসারী হবার
আগে একেকজন একেকটা মানুষ তা তারা এই সাপের কামড়ের বিষের কারনেই ভুলে যাচ্ছে।
---------- মৃত
কালপুরুষ
১৬/১২/২০১৭

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন