রবিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৭

হিন্দু ধর্মের নিজেদের ভেতরেই কোন মিল খুজে পাওয়া যায় না।


যাদের নিজের ধর্ম আর নিজেদের ধর্ম গ্রুন্থেরই একটির সাথে আরেকটির কোন মিল নেই তাদের কিভাবে আপনি একটি রেফারেন্স সত্য বা মিথ্যা প্রমাণ করে দেখাবেন। এই ধর্মটির আসলে শতশত শাখা প্রশাখা থাকার কারনে এক গ্রুপের সাথে আরেক গ্রুপের কোন মিল খুজে পাওয়া যায় না। তাই যদি কেউ হিন্দু ধর্মের (ব্লাক সাইড) বা খারপ দিক গুলো তুলে ধরে কোন রেফারেন্স বা সুত্র দিয়ে থাকে তাহলে মডারেট হিন্দুরা সেটা নিয়ে প্রশ্ন তোলে এই সুত্রটি ভুল আছে বা এটা আমাদের বেদে খুজে পাওয়া যাচ্ছে না। এর কারণ হচ্ছে তাদের বেদ আর পুরাণের ভার্সনের অভাব নেই। অনেক ভার্সনের মধ্যে তারা কিছু কিছু নির্ভরযোগ্য মানুষের লেখা বা অনুবাদ পড়ে এধরনের কথা বলে। আসলে এদেরও তেমন কোন দোষ নেই কারণ হিন্দু ধর্মের এই জাতীয় "ঋগ্বেদ সংহিতা" "যযুর্বেদ সংহিতা" "অথর্ববেদ সংহিতার" মতো গ্রন্থগুলি আসলে তাদের নিজেদের মধ্যেই সহজলভ্য নয়। এর কারণে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ৮০% তাদের এই মূল গ্রন্থগুলো পড়াতো দূরে থাক তারা হাতে নিয়েও কোন দিন দেখেনি। এই হিসাবটিতে আমার ভুল থাকতে পারে সংশোধন করে দেবার অনুরোধ রইলো। এই হিন্দু ধর্মের মানুষের একেক গ্রুপের মধ্যে একেক রকম মত বা একেক গ্রন্থে যে একেক রকম সুত্র দেওয়া আছে তার একটি নমুনা দেখুন এখানে।

বিভিন্ন একেশ্বরবাদী ধর্মের মতো হিন্দু ধর্মেও কিছু কিছু ক্ষেত্রে একজন ইশ্বর বা স্রষ্টার কথা বলা আছে তা অনেক হিন্দু বা সনাতন ধর্মাবলম্বীরা জানেই না। তারা মনে করে থাকে তাদের শত শত আর হাজার হাজার দেব-দেবতায় হচ্ছে সৃষ্টিকর্তা। যে কারোনে ১০০ জন হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের যদি জিজ্ঞাসা করা যায় আপনি কত জন দেবতা বা ঈশ্বরে বিশ্বাস করেন ? তাহলে নানা উত্তর আসে তাদের কাছে থেকে। সে যাই হোক প্রতিটি ধর্মই আসলে মানুষে তৈরি ঠিক যেমন প্রতিটি ঈশ্বর বা সৃষ্টিকর্তাও মানুষের তৈরি। এই মতে বর্তমান যুগের মানুষের আর কোন সন্ধেহ থাকার কথা না। যারা এখনও অন্যান্য (পৃথিবীর সকল) ধর্মের মতো হিন্দু ধর্মকে সত্য বা মানবিক ধর্ম বলে দাবী করে আসছেন তাদের আরো ভালো করে আপনাদের এই ধর্মের সত্যতা যাচাই করার অনুরোধ করবো আগে। কারণ আমরা হিন্দু ধর্মের যে সকল গ্রন্থ গুলো সহজে হাতে পেয়ে পড়ে থাকি তা পড়ার পড়ে এটুকুই জানতে পা্রি অন্যান্য সকল বর্বর আর আমানবিক ধর্মের মতো এই ধর্মটিও কোন অংশে বর্বরতার আর অমানবিকতার থেকে পিছিয়ে নেই বরং প্রথম সারিতেই আছে। আর যদি এই ধর্মটি মানবিক আর বর্বর না হয়ে থাকবে থাহলে কেন তাদের মূল ধর্মীয় গ্রুন্থ গুলো মানুষের মধ্যে সহজলভ্য করে রাখে নাই বা এখনও করছে না। সমস্যা কি ?

এবার আসুন আমরা হিন্দু ধর্মের ঈশ্বর ধারণা সম্পর্কে জানি। যদি কোনো সাধারন হিন্দুকে প্রশ্ন করেন আপনি কতজন ঈশ্বরে বিশ্বাস করেন কেউ হইতো বলবে ১০ জনকেউ ৫০ জন, কেউ ১০০ বা ২০০ জন,  কেউ ১০০০ জন আবার কেউ হয়তো বলবেন ৩৩ কোটি জন। কিন্তু আমরা যদি কোনো জ্ঞানী হিন্দু পন্ডিত যিনি হিন্দু ধর্মের পবিত্র ধর্ম গ্রন্থ গুলো  যেমন, বেদপূরান, ইত্যাদি পড়েছেন তার কাছে যাই তাহলে তিনি বলবেন হিন্দুদের কেবল মাত্র একজন ঈশ্বরের ইবাদাত করা উচিত। এ সম্পর্কে বেদ বা হিন্দু ধর্মের বহু কিতাব থেকে বহু উদ্ধৃতি উপস্থাপন করা যায়। যেমনচারটি বেদেই এই শ্লোক (মন্ত্রটি) আছে। একে বেদের ব্রহ্মসুত্রও বলা হয়ে থাকে-একম ব্রহ্মা দ্বৈত্য নাস্তি নহিনা নাস্তি কিঞ্চান" অর্থাৎ ঈশ্বর একজন তার মতো কেউ নেইকেউ নেই সামান্য নেই। আরও আছে  ”তিনি একজন তারই উপাসনা করো (ঋকবেদ ২/৪৫/১৬)। আরো দেখুন  "এক্‌ম এবম অদ্বৈতম ” অর্থাৎ তিনি একজন তার মত আর দ্বিতীয় কেউ নেই (ঋকবেদ ১/২/৩)। ”একজনই বিশ্বের প্রভূ (ঋকবেদ ১০/১২১/৩)।

এছাড়াও অনেক জোর দিয়ে বলা হয়েছে ন্ দ্বিতীয় ন্‌ তৃতীয় চতূর্থ না পুচ্যতে। ন্‌ পঞ্চম ন্‌ ষস্ট সপ্তম না পুচ্যতে।। ন্‌ অস্টম ন্‌ নবম দশমো না পুচ্যতে। য এতং দেব মেক বৃত্যং বেদ।।” (অথর্ব বেদ সুক্ত ১৪/৪/২) অর্থাৎ পরমাত্মা এক। তিনি ছাড়া কেহই দ্বিতীয়তৃতীয় বা চতুর্থপঞ্চম,ষস্ট,সপ্তম,অস্টম,নবম বা দশম বলিয়া অবিহিত আর কেহই নাই। যিনি তাহাকে এক বলিয়া জানেন তিনিই তাহাকে প্রাপ্ত হোন। উপরের এ সকল স্লোক থেকে এটা পরিষ্কার হয়ে যায় যেহিন্দু ধর্মেও একেশ্বরবাদ স্বীকৃত। তাই অন্যান্য একেশ্বরবাদী ধর্মের মতো হিন্দু ধর্মের মধ্যে প্রথম সাদৃশ্য হল একেশ্বরবাদ ব্যাতীত দ্বিতীয় কোন ঈশ্বর নেই। তাহলে প্রশ্ন থাকলো হিন্দুদের এতো শত শত, হাজার হাজার, লক্ষ লক্ষ, কোটি কোটি দেব দেবোতা আর ঈশ্বর যাদের সকলের নাম মনে হয় একজন হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের পক্ষে একজীবনে জানায় সম্ভব না তারা কোথায় গেলো। তাহলে কি হিন্দু ধর্মের নিজেদের ভেতরেই কোন মিল থাকলো ? যারা রেফারেন্স দেওয়া সুত্রের মিল নেই বলে দাবী করেন বা মিথ্যা তথ্য দেওয়া হয়েছে বলে অন্যান্য ধর্মের অনুসারীদের মতো প্যাচাতে থাকেন তাদের এই বিষয়টি পরিষ্কার করে দেবার অনুরোধ রইলো।

---------- মৃত কালপুরুষ
                ১০/১২/২০১৭


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন