চুড়ান্ত অশ্লীলতা আর জাতপাতের ভিন্নতা সাথে নিয়ে হাজার হাজার বছর ধরে চলমান একটি ধর্মের নাম
এই সনাতন ধর্ম যাকে বর্তমানে আমরা হিন্দু ধর্ম বলেই জানি। আসলে হিন্দু ধর্ম বলেও
কিছুই নেই। তারপরও অনেক না জানা হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা নিজেদের হিন্দু বলেই পরিচিতি
দিয়ে থাকে। হিন্দু শব্দটির উৎপত্তির কথা শুনলে আমরা দেখতে পায় হিন্দু শব্দটি হয়তো
এই ধর্মের বহু জাতপাতের ভেতরে কিছু মানুষকে ছোট করার জন্য বা (গালি) দেবার জন্য
অতীতে ব্যবহার করা হত। আজ সেই (গালি) হিন্দু শব্দটি তাদের ধর্মের নাম হয়ে গিয়েছে। বহু
পুর্বে থেকেই হিন্দু ধর্মটি অনেক ভয়ংকর সব রীতি-নীতি আর সংস্ককৃতি ও ঐতিহ্য সাথে
নিয়ে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মাধ্যমেই টিকে আছে এই ধর্মটি। যদিও যুগে যুগে তার অনেক
সংস্কার হয়েছে এবং মডারেট হিন্দুরা এই ধর্মটিকে মানবিক ও বিজ্ঞানসম্মত বলে প্রচার
করছে তারপরেও অনেক অমানবিক বিষয় ও নোংরামী তারা লুকাতে ব্যার্থ হচ্ছে। এই ধর্মটিতে
ব্রাহ্মনবাদ ব্যাপারটি সব থেকে খারাপ একটি দিক। এরাই বেশি জাতপাত করে থাকে তাদের
ধর্মের মানুষের ভেতরে। এমনকি দেখা যায় উচু জাতের হিন্দুরা নিচু জাতের হিন্দুদের
দেব-দেবীর মুর্তি পর্যন্ত প্রনাম (সন্মান) দেয়না। এতে করেই প্রামণিত হয় তাদের
দেব-দেবীর মুর্তি পূজা এই ধর্মেরই চালাক চতুর কিছু মানুষের তৈরি করা একটি বিষয়।
মডারেট হিন্দুদের ভাষ্য মতে এই ধর্মটি সংস্কার
হচ্ছে এবং আমরাও ইতিহাসে পাচ্ছি কালের বিবর্তনে এই ধর্মের ধর্মীয় বর্বরতা তারা
কিছুটা কাটিয়ে উঠতে পারলেও গোড়ামী এবং অশ্লীলতা হিন্দুদের মাঝে এখনও যথেষ্ট
পরিমানেই বিদ্যমান। অন্যান্য অধিক চর্চিত ধর্ম গুলোর মতো এই ধর্মটিও নারীদের করেছে
নানাভাবে অপমান অপদস্থ। পুর্বে সতীদাহ প্রথার মতো বাতিল হয়ে যাওয়া কিছু জঘন্য ও
বর্বর প্রথার সাথে তারা বর্তমানেও নারীদের সাথে জঘন্য আচরনের নানা দিক উন্মুক্ত
করে রেখেছে। যেমন ধরুন হিন্দুদের দুর্গাপূজা বেশ্যাবৃত্তিকে সমর্থন করে। সমাজের
বিভিন্ন জাত ও ধর্মের মানুষের দ্বারা নির্যাতিত আর নীপিড়িত নারীরাই বর্তমানে এশিয়া
মহাদেশের তৃতীয় শ্রেনীর বিভিন্ন দেশে এই বেশ্যাবৃত্তির সাথে জড়িত হয়ে পড়ে।
বহিঃবিশ্বের উন্নত দেশগুলির কথা আলাদা যেখানে নারীকে আলাদা চোখে দেখা হয়না।
যুক্তিবাদী সমাজ যেখানে এই নারীদের এই সব নির্যাতন আর নীপিড়ন থেকে মুক্তির জন্য
মানুষকে সচেতন করে চলেছে ঠিক তেমনি এই হিন্দু ধর্মের কিছু নিয়ম আবার এটাকে জাগ্রত
করে রাখছে। যেমন ধরুন হিন্দুদের বর্তমানে প্রধান ধর্মীয় উৎসব বলে পরিচিত দুর্গা
পুজা সেই নির্যাতিত নারীদের (পতিতা) ঘরের দরজার সামনের মাটি ছাড়া এই পূজা যথাযথ
হবে না বলে মনে করে থাকেন। অর্থাৎ বেশ্যাবৃত্তি না থাকলে এদের পূজা হবে না তাই তো
বোঝা যায়।
দুর্গা পুজা নামে পরিচিত হিন্দুদের এই মহা উৎসবটি
অতীতে বসন্তকালেই পালিত হতো বলে উল্লেখ পাওয়া যায়। বৃটিশ আমলের পুর্বে কোথাও এই
রকম জাক-জমকপুর্ণভাবে এই দুর্গা পূজা হতো বলে উল্লেখ পাওয়া যায় না। ব্রিটিশদের
খুশি করার জন্যই এই পূজার সময় পরিবর্তন করা হয়েছে বলে অনেকেই মনে করে থাকেন। তবে
এর পেছনে আরো কিছু কারণ আছে। বৃটিশরা নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে সরানোর জন্য কিছু হিন্দু
ধর্মাবলম্বীদের সাথে একটি ষড়যন্ত্র করে যখন সফল হয় তখন হিন্দুরা বৃটিশদের খুশি
করার জন্য ও বিজয় উৎযাপনের জন্য এই দুর্গা পূজাকে শরৎকালে এগিয়ে নিয়ে আসেন। এখানেও
নারীকে ছোট করা হয়েছে এবং ধারনা করা হচ্ছে এই সময়েই পতিতালয়ের মাটি ছাড়া এই পুজা
হবে না নিয়ম চালু করা হয়েছে। যেমন তৎকালীন বৃটিশরা ছিলো চরম নারীলোভী একটি জাতি
তাই দুর্গা পূজার মতো বড় উৎসবে পতিতা গমন
ছাড়া কিভাবে এই উৎসব সফল হবে। তাই পতিতা গমনের কথা মাথায় রেখেই তারা এই নিয়ম চালু
করেছিলো। কবি কালীদাসের বিভিন্ন কবিতায় এই হিন্দু ধর্মের অনেক বিষয় উঠে এসেছে যার
মধ্যে উন্নতম হচ্ছে হিন্দু ধর্মের সবচেয়ে বড় ঋষি “বিশ্বামিত্র” থেকে শুরু করে রাজা
“বিক্রমাদিত্য” পর্যন্ত পতিতাগমন করেছিলো বলে উল্লেখ পাওয়া যায় এই কালীদাসের
কবিতায়। এই সমস্ত বিষয় পর্যালোচনায় এটা মনে হবার কোন কারণ না থাকার কথা নয়, নারীকে
এই পেশায় অবদ্ধ করে রাখার জনক-জননীদের মধ্যে হিন্দু ধর্মই প্রধান।
এই ধর্মটি হিন্দু সমাজের মধ্যে নারীকে ছোট করার আর
সমাজচ্যুত করার বা সমাজ থেকে ছুড়ে ফেলে দেবার নানান পথ তৈরি করে রেখেছে যা এখানে
বলে শেষ করা যাবে না। বর্তমানে আমরা হিন্দু লেখক সাহিত্যিকদের বিভিন্ন লেখাতে এরকম
যথেষ্ট প্রমাণ পেয়ে থাকি। বিশেষ করে বিভিন্ন রম্যলেখকদের লেখার মধ্যে পাই। উদহারণ
স্বরুপ একটি ভয়ানক নিয়মের কথা না জানালেই নই যেটা ছিলো এবং এখনও কিছু কিছু অঞ্চলের
হিন্দু সমাজে যার প্রচলন আছে। বাংলা ভাষায় আমরা একটি প্রবাদ শুনে থাকি বিশেষ করে
হিন্দু ধর্মাবলম্বী সমাজে “মেয়েদের জীবনে লগন একবারই আসে” টাইপের প্রবাদ। “লগন”
শব্দটি আরো অনেক ক্ষেত্রেই ব্যাবহার হয়ে থাকে, তবে হিন্দু ধর্মের পরিভাষা অনুযায়ী
এটা নারীদের বিবাহের নির্দিষ্ট সময় বা লগ্ন হিসেবেই বেশি ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এই
লগ্ন বা সময়টাকে বিভিন্ন হিন্দু ঠাকুর (ব্রাহ্মন ঠাকুর) বাড়িতে ডেকে নিয়ে এসে
নানান ভাবে (ভুল-ভাল) ভূগোল বুঝিয়ে গননা করে একটি নির্দিষ্ট সময় বা লগ্ন বের করা হয়
একটি নারীর বিবাহের সঠিক সময় হিসেবে। আর এই সময়টি বা লগ্নটি যদি একবার পার হয়ে যায়
কোন নারীর জীবনে বা এই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কোন কারণে যদি বর সেখানে না পৌছতে
পারে তাহলে সেই নারীর জীবনে আর এই সময় বা লগ্ন আসবে না। অর্থাৎ সেই নারীকে তার
বাকি জীবন অবিবাহিত ভাবেই পার করতে হবে এমন নিয়ম আছে এই ধর্মে যা এই ধর্মের কেউ
অশ্বীকার করতে পারবে না। আর এরকম যদি কোন কারণে ঘটেই থাকে তাহলে সেই নারী তার বাকী
জীবন কিভাবে পার করবে সেটা কিন্তু ঠাকুর আর পুরোহিতরা বলে দেয়না সেই পথটা নারীকে
একাই খুজে নিতে হয়।
---------- মৃত কালপুরুষ
১১/১২/২০১৭ 
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন