শুক্রবার, ২৯ ডিসেম্বর, ২০১৭

ভীন গ্রহের প্রানী “ওন্ডজ্বীনা” (wandjina)


অস্ট্রেলিয়ার উওর পশ্চিমাঞ্চলের একেবারে উত্তরে অবস্থিত ৪২৩,৫১৭ বর্গকিমিঃ আয়তনের একটি অঞ্চল হচ্ছে ‘কিমবার্লি’ যা আমাদের বাংলাদেশের দ্বিগুন আয়তনের বলা চলে। এই অঞ্চলটির বিভিন্ন স্থান অনেক আগে থেকেই অনেকের কাছেই একটি রহস্যজনক স্থান হয়ে ছিলো নানা কারণে। সেই সাথে অস্ট্রেলিয়ার কিমবার্লি নামক অঞ্চলটির অনেক স্থানই মানুষের কাছে এখনও রহস্যজনক হয়ে আছে কিছু প্রাকৃতিক কারনেই। এখানে কিছু পাহাড় আছে যার সাথে পৃথিবীর অন্যান্য অঞ্চলের পাহাড়ের কোন মিল পাওয়া যায়না। এটার অন্য কোন কারণ নেই বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। তাদের মতে এটা প্রাকৃতিক ভাবেই এরকম আলাদা হয়ে আছে অন্যান্য অঞ্চল থেকে। তবে এই সমস্ত পাহাড় গুলির পাথরের মূল উপাদন সবই এক। কিছু কিছু ক্ষেত্রে এসব পাহাড়ের নাটকীয় প্রকৃতি বিজ্ঞানীদের চিন্তার কারণ হয়ে যায়। আধা শুকনো এসব পাহাড়ের মধ্যে অস্বাভাবিক কিছু গুহা দেখে মনে হবে এগুলো প্রকৃতিক ভাবে সম্ভব নয়।

কিমবার্লি মূলত মরু অঞ্চল বলেই পরিচিত যেখানে মানুষের বসবাস করা খুব কঠিন বলে মনে হয়। এতো বড় একটা স্টেটের লোকসংখ্যার কথা শুনলেও অনেকেই অবাক হবে মাত্র ৫০ হাজারের মতো ২০১১ সালের হিসাবে। এতেই বোঝা যায় অস্ট্রেলিয়ার উওরাঞ্চলের উওরে অবস্থিত এই অঞ্চলটি আসলে মানুষের বসবাসের জন্য নয়। এখানে বেশিরভাগই হচ্ছে বিচ্ছিন্ন কিছু উপকূলভুমি দারা আলাদা আলাদা করা যার সুনির্দিষ্ট কোন বসবাসযোগ্য স্থান নেই বলা চলে। এই বিস্তৃত অঞ্চলের অনেক যায়গায় আছে যা আজো মানুষের পদচারনার বাইরে বলা যায়। এই অঞ্চলে একটি বিশাল এলাকাকে “জর্জ পার্ক” বলা হয়ে থাকে যার আয়োতন প্রায় ৬৬০ বর্গকিমিঃ এর মতো। এই যায়গাটিতে মানুষের বসবাস আছে এবং অনেক গবেষকরা এখানেই গবেষনা করে থাকে। জর্জ ন্যাশনাল পার্ক বলে পরিচিত যায়গাটিতে প্রচুর পরিমানে চুনা পাথর, ও ক্লিফ পাওয়া যায়।  

এই এলাকাতে “এভরিগ্যানিয়ল” নামের একটি জাতি বা গোষ্ঠী আজ থেকে প্রায় ৪০০০ বছর আগে সেখানে বসবাস করতো যাদের একটি ধর্ম ছিলো যার নামও ছিলো “এভরিগ্যানিয়ল”। এই “এভরিগ্যানিয়ল” ধর্মের যে মূল গ্রন্থ ছিলো সেই গ্রন্থে একটি অপ্রচলিত চরিত্রের কথা পাওয়া যায় যা ইসলাম ধর্মের “জ্বীন জাতি” বা এরকম কিছু মনুষ্য সৃষ্ট কল্পিত চরিত্রের মতো একটি চরিত্র বলেই বিজ্ঞানীরা আগে ধারণা করেছিলো। কিন্তু আধুনিক বিজ্ঞান এই চরিত্রটি নিয়ে নানান গবেষনা করে ধারনা করেছে এই চরিত্রের ধারনা আসলে “এভরিগ্যানিয়ল” জাতি পেয়েছিলো ভীন গ্রহের মানুষের কাছ থেকে যাকে আমরা “এলিয়েন” বলে থাকি। এই এলিয়েনদেরকে এই “এভরিগ্যানিয়ল” জাতিরা “ওন্ডজ্বীনা” নামেই চিনতো। বিভিন্ন আর্কিওলজিস্ট এই এলাকাতে তাদের গবেষনা করতে গিয়ে বিভিন্ন পাহাড়ের গুহাতে প্রায় কয়েক হাজার প্রমাণ পেয়েছে যা এই “ওন্ডজ্বীনা” বা ভীন গ্রহের প্রানী এলিয়েনের অস্ত্বিতের বলে তারা দাবী করে থাকে।

“ওন্ডজ্বীনা” যে ভীন গ্রহের কোন প্রানী ছিলো এবং তারা দেখতে কেমন ছিলো তার অনেক নমূনা গবেষকেরা এই সমস্ত পাহাড়ের গুহা থেকে পেয়েছে যার সবই ৪০০০ থেকে ৩৮০০ বছর আগে “এভরিগ্যানিয়ল” জাতি এসব গুহার ভেতরে একেছিলো যা কার্বন ডেটিং এর মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা জানতে পেরেছে। পাহাড়ের গুহায় তাদের আঁকা ছবিতে যে চরিত্রটির দেখা পাওয়া যায় তা বর্তমান সময়ের অনেক বিজ্ঞানীদের ধারনা করা বা কল্পিত এলিয়েনের সাথে মিলে যায়। বিজ্ঞানীদের ধারনা “ওন্ডজ্বীনা” সেই সময়ে “এভরিগ্যানিয়ল” জাতিদেরকে বিভিন্ন সময়ে দেখা দিত এবং তাদের কাছাকাছিই থাকতো যার কারনে “এভরিগ্যানিয়ল”রা এই “ওন্ডজ্বীনা”দের খুব স্বচ্ছ গঠনের (শারীরিক গঠন) ছবি আঁকতে পে্রেছিলো। অনেকেই ধারনা করে থাকেন এই “ওন্ডজ্বীনা”দের “এভরিগ্যানিয়ল” জাতিরা দেবতা মনে করতো এবং পূজা করতো তাই এরা এদের ছবি গুহার দেওয়ালে একেছিলো। এতো কিছু থাকতে এই “এভরিগ্যানিয়ল” জাতি কেন এই ধরনের একটি কাল্পনিক চরিত্রের ছবি আঁকতে যাবে সেই প্রশ্নের জবাব খুজতে গিয়ে আজকের বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেছে এগুলা কোন কাল্পনিক চরিত্র ছিলোনা এগুলা ছিলো ভীন গ্রহের প্রানী বা এলিয়েন যার অনেক অস্তিত্ব পৃথিবীর মানুষ এর আগেও পেয়েছে।

এলিয়েন বা ভীন গ্রহের প্রানী নিয়ে অতীতে ১৯৬৮ সালে সুইডিশ একজন বিখ্যাত লেখক “এরিক ভন দানিকেন” একটি বই লিখেছিলো যার নাম ছিলো “Chariots of the Gods” যে বইতে দানিকেন দাবী করেছিলো প্রাচীন মিশরের সভ্যতায় এলিয়েন বা ভীন গ্রহের প্রানীর সন্ধান পাওয়া যায়। এমনকি সেই সময়ে মানুষের মধ্যে পিরামিড আর মানব দেহ মমি করে রাখার মতো আরো অনেক ধারনায় তারা পেয়েছিলো এই সমস্ত এলিয়েনদের কাছ থেকে। কিন্তু দানিকেন এই বই লেখার পরে অনেক সমালোচনার শিকার হয় এবং একটা সময় তার দাবী অযৌক্তিক আর অবৈজ্ঞানিক বলে অনেকেই ভুল দাবী করে প্রমান দিতে থাকে। তবে এপর্যন্ত কেউ দাবী করতে পারেনি যে এলিয়েন বা ভীন গ্রহে কোন প্রানীর অস্তিত্ব নেই বা মানুষের মতো বা কিছুটা আলাদা বা এই “ওন্ডজ্বীনা”দের মত কোন প্রানী আমাদের সৌরজগৎ বা সৌরজৎ এর বাইরে আরো বিলিয়ন বিলিয়ন সৌরজগৎতের মধ্যে কোন একটি গ্রহতে এরা নেই সেই দাবী।

---------- মৃত কালপুরুষ
               ৩০/১২/২০১৭        


বুধবার, ২৭ ডিসেম্বর, ২০১৭

ধর্মীয় মৌলবাদ ও বাংলাদেশের বাক স্বাধীনতা।


ধর্মীও অনুভূতিতে আঘাত দিয়ে কিছু বলা যাবে না, এই কথা বাংলাদেশের ১৮ বছর বয়সী কোন ইন্টারনেট ব্যবহারকারির না জানার কথা নয়। বরং তার থেকে কম বয়সের যে সমস্ত ইউসার আছে তারও এটা খুব ভালো করেই জানে যে এই কাজটি করা ঠিক নই। তবে কথা হচ্ছে আমরা কি সঠিক ভাবে বুঝতে পারছি আসলে কোন অনুভূতির কথা বা কোন স্বাধীনতার কথা এখানে বলা হচ্ছে ? বাংলাদেশ হচ্ছে ৮৯% মুসলমান নাগরিকের দেশ তাই অন্য ধর্ম নিয়ে সমালোচনা করেন অসুবিধা নেই তবে ইসলাম নিয়ে কথা বলা যাবেনা কারন তারা এই দেশে অনেক শক্তিশালী অবস্থানে আছে এরকম ধারনা আসলে সবার মধ্যেই ছড়িয়ে দেওয়া হয়। আর যদি সাধারণ মানুষের মধ্যে এমন ধারনা থেকে থাকে তাহলে সরকার কেন এই থেকে পিছিয়ে থাকবে তাইনা। তাইতো সরকার সেই ৮৯% মডারেট মানুষদের খুশি করার জন্য এমন কিছু আইন করে দিয়েছে যেখানে ধর্মীয় অনুভূতি্র নামেই একটি প্রজন্মকে বোবা বানিয়ে রাখা হয়েছে। 

আমি বাংলাদেশ সরকারের ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল ‘আওয়ামী লীগ’ কে বলতে চাই, আপনারা যে বাংলাদেশের বাইরে অর্থাৎ বহিঃবিশ্বে মানুষের কাছে বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে বোঝাবার চেষ্টা করেন “বাংলাদেশ একটি ধর্মনিরপেক্ষ ও সেক্যুলার কান্ট্রি” তার এখন কি হলো ? সম্প্রতি আইসিটি এক্টের অধীনে ৫৭ ধারায় একটি অনলাইন এক্টিভিস্ট যে একজন ভিডিও ব্লগার ছিলো যার নাম ‘আসাদ নূর’ তাকে এই ধারায় আটক করে বাংলাদেশ কি প্রমাণ করলো। এপর্যন্ত বাংলাদেশের নিউজ মিডিয়া এই বিষয়ে যতটা না প্রকাশ করেছে তার থেকেও বেশি দেখলাম আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মিডিয়া খবর প্রকাশ করেছে “Blogger arrested at Dhaka airport Bangladesh in case filed under ICT act  এই শিরোনামে। এতেকরে কি বহিঃবিশ্বে বাংলাদেশ একটি ধর্ম নিরপেক্ষ ও সেক্যুলার রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে না এই সংবাদে এটা প্রামণিত হচ্ছে বাংলাদেশ সরকার একটি ধর্মীয় মৌলবাদী সরকার যারা মানুষের বাক স্বাধীনতা রোধ করছে।  

একটা কথা এখানে না বললেই নয় যেটা শুনতে খারাপ লাগলেও সত্য কথা, আসলে বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন প্রশাসনের সাথে সংশ্লিষ্টরা আদৌ জানে না ধর্মীয় মৌলবাদ কি জিনিস। যদি তাই জানতো তাহলে তারা এই ৫৭ ধারার মতো কোন একটি আইনকে বৈধ করে দেশের সাধারণ জনগন ও বর্তমান প্রজন্মের কথা বলার অধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করতো না। এই বিষয়ে খুব গভীরে গিয়ে কিছু বলতে চাচ্ছি না কারণ বাংলাদেশ সরকারের ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের নতুন প্রজন্ম এবং প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় নিজেদের ধর্মনিরপেক্ষ ও সেক্যুলার বলে পরিচয় দিতে চাইনা বলে জানিয়েছিলেন বহু পুর্বে। বাংলাদেশের মধ্যে চলতি বছরের কোন একসময় বাংলাদেশের বিভিন্ন নিউজ মিডিয়ায় প্রকাশ করা হয়েছিলো যদিও এই সরকার বহিঃবিশ্বে বলে থাকে বাংলাদেশে একটি ধর্ম নিরপেক্ষ ও সেক্যুলার দেশ। আগেই বলেছিলাম ধর্মীও মৌলবাদ কি জিনিস সেটা মনে হয় এই দেশের অনেকেই জানেনা তাই সেটা নিয়ে দুইটা কথা বলে শেষ করবো।

আমাদের দেশে আসলে দুই প্রকৃতির মানুষ আছে। যাদের একদল আসলে একেবারেই অযৌক্তিক কোন কিছুর উপরে ভরসা করে বসে থাকে তাদেরকেই মূলত আমরা মৌলবাদী বলে থাকি। মৌলবাদ হচ্ছে বাস্তব বর্জিত, অর্থহীন, যুক্তিহীন, বৈজ্ঞানিক চিন্তা-ভাবনাহীন, নৃতত্ব, সমাজতত্ব, বিবর্তনাবাদ সম্পর্কে একাবারেই জ্ঞানহীন, প্রচার ও প্রসারহীন, অসুস্থ এবং গোড়ামী ও কুসংস্কারাচ্ছন্ন একটি মতবাদ। আর এই মতবাদে যারা মনে প্রানে বিশ্বাস ও আস্থা রেখে থাকে তারাই হচ্ছে আসলে মৌলবাদী এই জন্যই আমি সবার আগেই বলেছিলাম যারা আসলে অযৌক্তিক কোন কিছুর উপরে ভরসা করে বসে থাকে তাদেরকেই আমরা মূলত মৌলবাদী বলে থাকি। এদের জন্য সব থেকে লজ্জার কথা হচ্ছে এই ধর্মীয় মৌলবাদীরা আসলে তাদের জীবন ধারন করে থাকে সভ্যতার বিজ্ঞান ও বর্তমান কালের সকল বৈজ্ঞানিক সুযোগ সুবিধা ব্যবহার করে। কিন্তু তারাই আবার শতশত বছর আগের কিছু অযৌক্তিক ধর্মীয় রীতি-নীতি চালু করতে চাই এই বর্তমান সমাজ ব্যবস্থায় যা বর্তমান যুগে পুরাপুরি অযোগ্য ও অচল বলে প্রামাণিত।

যারা এই অচল সমাজ ব্যবস্থা আর সহস্রাব্দবছর আগের কিছু অবৈজ্ঞানিক ধর্মীয় রীতি-নীতি ও অস্ত্বিত্বহীন কিছু ধর্মবিশ্বাস যে কোন প্রক্রিয়ায় (সেটা হোক কাউকে হত্যা করে) সাধারণ মানুষের মাঝে প্রতিষ্ঠা করতে চাই তারাই হচ্ছে ধর্মীয় মৌলবাদী। এদের সব থেকে বড় সমস্যা হচ্ছে এই মৌলবাদীরা তাদের ধর্মের দোহায় দিয়ে একটি গনতান্ত্রিক দেশের মধ্যে মানুষের স্বাভাবিক জীবন যাপনে বিভিন্ন ভাবে বাধা দিয়ে থাকে। তারা সাধারন মানুষের চিন্তার স্বাধীনতা রোধ করে। একটি মানুষ কি চিন্তা করতে পারবে আর কি চিন্তা করতে পারবে না তা তারা নির্ধারন করে দিতে চায়। সাধারণ মানুষের স্বাধীন মত প্রকাশে তারা বাধা দিয়ে থাকে। একটি মানুষ কোন বিষয়ে তার মতামত দিতে  পারবে আর কোন কোন বিষয়ে তাদের মতামত দিতে পারবে না তারা তা নির্ধারন করে দিতে চায়। এই ধর্মীয় মৌলবাদীদের আরেকটি খারাপ দিক হচ্ছে তারা সাধারণ মানুষের ব্যাক্তিগত আচার আচরনের কোন স্বাধীনতা দিতে চায়না অথবা একজন মানুষের ব্যাক্তিগত পছন্দ বা অপছন্দ করার অধিকার তারা দেয়না।

আসলে এই ধর্মীয় মৌলবাদ এমন একটি মতবাদ যা আমাদের দেশের ও সমাজের শিরাই উপশিরাই মিশে আছে এই মতবাদের এরকম হিসাব দিয়ে শেষ করা যাবেনা যা কেন বর্তমান যুগের মানব সভ্যতার জন্য ক্ষতিকারক। এই মতবাদের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে আপনি যত গুরুত্বপুর্ণ বিষয়ই উপস্থাপন করুননা কেন যতক্ষন পর্যন্ত এই মৌলবাদীদের স্ব স্ব ধর্মের কথিত ধর্মীয় ঐশরিক কিতাবের সাথে না মিলবে ততক্ষন আপনার কথার কোন অস্তিত্বই এই বাহীনি স্বীকার করবেনা। কারণ এদের এমন একটা ধারনা সেই শিশুকাল থেকেই দেওয়া হয়ে থাকে যেখানে বলা হয় ‘সবকিছুই ধর্মগ্রন্থে রয়েছে’ টাইপের কথা। এবং তারা বিশ্বাসও করে তাই। সেই সাথে এই মনভাবের কারনে তাদের ধারনা ধর্মগ্রন্থে যা নেই তা মানুষের জীবনেও দরকার নেই। এই ধর্মীয় মৌলবাদীদের মধ্যে মুসলিম মৌলবাদীদের উদ্দেশ্য পৃথিবীর প্রতিটি দেশেই খিলাফত শাসন প্রতিষ্ঠা করা। এই খিলাফত শাসনের মাধ্যমে ইসলামী শরিয়াহ আইনের অধীনে সম্পুর্ণ রাষ্ট্রকাঠামো পরিচালনা করা। কিন্তু এই মৌলবাদীদের হাভভাব দেখে আপনার মনে হবে তারা কিছুই জানেনা যে এই শরিয়াহ আইন আর খিলাফত শাসন বর্তমানের আধুনিক বিশ্বে গণতন্ত্র বলে পরিচিত রাষ্ট্রকাঠামোর একটি স্বাভাবিক ধারনার সম্পূর্ণ বিপরীত ও সাংঘর্ষিক।

ছবিঃ বোবা ওয়ার্ল্ড।

---------- মৃত কালপুরুষ

               ২৮/১২/২০১৭

আমরা চাই কুসংস্কার মুক্ত এবং সচেতন মানুষের বাংলাদেশ।


সম্প্রতি বাংলাদেশ আসাদুজ্জামান নূর নামের একজন ইউটিউবার (ভিডিও ব্লগার) আটক হওয়াকে কেন্দ্র করে দেশে বিদেশে বেশ কিছু নিউজ মিডিয়া তাকে নিয়ে ইতিবাচক ও নেতিবাচিক অনেক কথায় লিখেছেন, যা কারো নজরে পড়তে আসলে বাকি থাকার কথা না। আসাদ নূর মোটামুটি বাংলাদেশ ভারত সহ বিশ্বের অন্যান্য দেশের বাংলাভাষী মানুষদের কাছে দীর্ঘদিন ধরেই একজন পরিচিত মুখ ছিলেন। তবে বিভিন্ন ধর্মের মধ্যে ইসলাম ধর্মের কঠোর সমালোচনা করার কারনে সে অনেক আগে থেকেই এক শ্রেনীর মানুষের রোষানলে পড়েন তাই তাকে বিভিন্ন সময়ে গা ঢাকা দিয়ে থাকতে হয়েছে। এমনকি তার নামে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারী মাসে তথ্য ও প্রযুক্তি আইনের আওতায় ৫৭ ধারায় একটি মামলাও করা হয়েছিলো। এরপর বেশ কিছুদিন আমরা তার ভিডিও খুব একটা দেখতে পারিনি অনলাইন মাধ্যম গুলাতে। যথা সম্ভব সে অনলাইনে কম এক্টিভ ছিলো কিছুদিন। সম্প্রতি তার বাংলাদেশে আটকের ঘটনায় মানুষ আবারও তার সম্পর্কে জানতে পারলো।

আমরা সবাই কমবেশি জানি বাংলাদেশে মুক্তভাবে কথা বলার অধিকার কারও নেই। এই দেশে আইন করে তা বন্ধ করা আছে। বাংলাদেশে এমন কিছু আইন আছে যা ব্যবহার করে এই দেশের প্রতিটি মানুষকেই আইনের আওতায় আনা যায়বর্তমানে বাংলাদেশে যে বা যারাই এই আসাদ নূর এর মতো ব্লগারদের পক্ষে কথা বলবে তারা সবাই এই দেশের সেই শ্রেনীর মানুষের দ্বারা বিতর্কিত হবে এটা সকলেরই জানা কথা। কারণ আসাদ নূর যেভাবে এতোদিন সমালোচনা করেছে তাতে করে তার পক্ষে কথা বলার মানুষের থেকে বিপক্ষে কথা বলা মানুষের সংখ্যা এখন বেশি হবে এই দেশে। বাংলাদেশের ধার্মীকদের একটি ভূল ধারনা আছে বাক স্বাধীনতা নিয়ে। তারা মনে করে বাক স্বাধীনতা হচ্ছে কেউ মুক্তভাবে চিন্তা করে কিছু লিখলে তার লেখার সমালোচনা না করে সেই ব্যাক্তির সমালোচনায় তার চোদ্দগুষ্টিও উদ্ধার করে ফেলাকে বাক স্বাধীনতা বলে। এদের সিংহভাগ বাংলাদেশের বিভিন্ন মাদ্রাসার ছাত্র আর নয়তো গোড়া ধার্মীক। তারা বিভিন্ন সময় অনেক ব্লগারের লেখার সমালোচনা না করে তাদের সমালোচনাতেই বেশি সময় ব্যয় করে থাকে। আমারও এই অভিজ্ঞতা কম না। আসলে কিন্তু তাদের কারো সাথে আমার ব্যাক্তিগত কোন পরিচয় নেই, শুধু ভার্চুয়ালে ও সোস্যাল মিডিয়াতে লেখা দেখেই তারা এমন আচরন করে থাকে। তারা এটা ভুলে যায় যে, আসলে কিন্তু প্রতিবাদের রাস্তা খোলা আছে বা কেউ যদি ভুল কিছু বা মিথ্যা কিছু বলে থাকে বা লিখে থাকে সেটার বিপক্ষে বলার অধিকার তারও আছে। কিন্তু অধিকাংশ সময়ে তারা সেটা না করে লেখককে ব্যাক্তি আক্রমন করতে তাদের সময় ব্যয় করে থাকে।

Freedom of speech বলতে আমরা যা বুঝি এই বাংলাদেশের ধার্মীকরা তা বুঝে না, তারা মনে করে থাকে মুক্তমনারা  যা করে তাকে Heat of speech বলা হয়। কারন তারা শুধু ধর্মেরই সমালোচনা করে, তাও আবার শুধুই ইসলাম ধর্মের সমালোচনা করে। আবার আরেকটা সমস্যা দেখা যায় এখানে, যেমন অনেক হিন্ধু ধর্মাবলম্বী আছে যারা কোন মুক্তমনা লেখকের ইসলাম ধর্মের খারাপ দিক গুলো তুলে ধরে কিছু লেখা দেখলেই হাতে তালি দেয় আর যখনই হিন্ধু ধর্মের সমালোচনা করা হয় তখন সেই তারাই আবার তাদের পুর্ণ জীবনে শেখা সকল খারাপ ভাষার ব্যবহার করা শুরু করে দেয়। বিপরিত ভাবেও একই আচরন ঘটে থাকে। এরকমই হচ্ছে বাংলাদেশের ধার্মীকদের মধ্যে বাক-স্বাধীনতা ধারনা । আমার মতে কথা বলার অধিকার সকলেরই থাকা উচিত সবাই কথা বলবে। আপনার যা খুশি আপনি তাই বলবেন, ধর্ম নিয়ে বলবেন, রাজনীতি নিয়ে বলবেন, কোথাও অন্যায় হতে দেখলে তা বলবেন, মানব সভ্যতা ও মানব জাতির জন্য কোন কিছু হুমকি স্বরুপ বলে মনে করলে আপনি তার বিরুদ্ধে বলবেন এবং অবশ্যয় বলবেন। কিন্তু তার মানে এই না যে ভাষার সঠিক ব্যবহার বা মার্জিত বা সামাজিক বলে যে কথাগুলা আছে তা আপনি ভুলে যাবেন। আপনাকে এই বিষয় গুলি মাথায় রেখে কথা বলতে হবে বলতে হবে শালীনতা বজায় রেখে।

মুক্তভাবে যারা চিন্তা করে বা সমাজের প্রথাবিরোধী আন্দোলনের সাথে যারা জড়িত আছে দীর্ঘদিন ধরে, যারা কুসংস্কার আর গোড়ামীর বিরুদ্ধে লিখে আসছে ও বিভিন্ন ভিডিও ব্লগিং এর মাধ্যমে বলে আসছে তারা আসলে সবসময় এই বিষয়গুলি মাথায় নিয়েই কাজ করে। তাই এমন কিছু ভাবার দরকার নেই যে আসাদ কাউকে ব্যাক্তি আক্রমন করে কোন সমালোচনা করেছে। সে যদি সমালোচনা করে থাকে তাহলে গোড়ামীর বিরুদ্ধে করেছে। আপনারা যারা তার ফাঁসির দাবীতে আন্দোলনে যেতে চাচ্ছেন তারা একটিবার ভেবে দেখুন সে কি আপনাদের কাউকে ব্যাক্তিগত আক্রমন করে কোন কথা বলেছে ? না আপনার সাথে তার জমিজমা নিয়ে আগে বিরোধ ছিল তাই আপনি আসাদ নূর গ্রেপ্তারের কথা শুনে তার ফাঁসির দাবীতে রাস্তায় নামতে চাচ্ছেন কোনটা ? কি এমন অনুভূতি আপনার যে একজন আসাদের কিছু ভিডিও দেখেই তাতে আঘাত লেগে যায়। আগে অনুভূতিকে একটু শক্ত করুন। আসাদ ভুল কিছু বলে থাকলে আপনিও তার বিপক্ষে ভিডিও বানান আর আপলোড করুন। আপনার কথা বলুন। এটা না করে আপনারা সেই কথা বলার অধিকার কেড়ে নেবার পক্ষেই যাচ্ছেন। এতে করে যে বাংলাদেশের সমস্ত মানুষের সাথে সাথে আপনারও কথা বলার অধিকার বন্ধ হয়ে যাচ্ছে সেটাও খেয়াল করুন।

অবশ্যয় বাক স্বাধীনতার কিছু সীমা আছে। নিজের ইচ্ছা মতো রাস্তার উলটা সাইড দিয়ে যেমন গাড়িচালানো যায়না তেমনি নিজের ইচ্ছা মতো যাকে তাকে যা খুশি তাই বলা যায়না যদি তার বিরুদ্ধে সেই সমস্ত উল্লেখ করা অভিযোগ না থাকে। বর্তমানে বাংলাদেশে বাক স্বাধীনতার বিপক্ষে যে কয়েকটি আইন প্রচলিত আছে তাতে এই বাক স্বাধীনতার সীমা আসলে কতটুকু সেটা খুবই ঘোলাটে এবং বিতর্কিত একটা ইস্যু হয়ে আছে। বর্তমানে ভার্চুয়াল জগতে বাংলাদেশের মানুষের অনলাইনে এক্টিভিটির কারনে সেটা আবার আরেক মোড় নিয়েছে। সামনা সামনি কেউ কারো সাথে যে কথায় বলুক না কেন তাতে বলার একটা ভঙ্গী আমরা সামনা সামনি দেখতে পায় যেখানে আমরা ধারনা করে নেই এই মানুষটি আসলে কি বলতে চাচ্ছে। কিন্তু অনলাইনে লেখা আর ভিডিও ব্লগিং দেখে বা পড়ে কিন্তু অনেক সময় মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হতে পারে তাই কিছু আইন থাকার দরকার আছে তবে একটি জাতিকে পুরাটায় বোবা বানিয়ে রাখা সেই আইন হতে পারেনা। বাংলাদেশের মানুষকে মনে রাখতে হবে মানুষের কথা বলার মাধ্যমেই কিন্তু আলোচনার রাস্তা খোলা হবে আর যত আলোচনা হবে ততই একটি মতবাদের ফাইন্ডেশন শক্ত হবে। আর যদি তা না করা হয় তাহলে আমাদের থেকে বিশ্ব এগিয়ে যাবে আমরা সেই পিছনে তো পেছনেই পড়ে থাকবো।

ছবিঃ ক্যাফেটেরিয়া।

---------- মৃত কালপুরুষ

               ২৭/১২/২০১৭              

রবিবার, ২৪ ডিসেম্বর, ২০১৭

মহাকাশের সৃষ্টিতত্ব ও ধর্মীয় মতবাদ।


খুব সহজ একটি কথা বিভিন্ন ধর্মের বিভিন্ন ঈশ্বর বিশ্বাসী অথবা সৃষ্টিবাদীদের আমারা বলতে শুনে থাকি। যেমন- আমাদের এই পৃথিবী যেই গ্যালাক্সির মধ্যে আছে বা এরকম বিলিয়ন বিলিয়ন, ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন গ্যালাক্সি যেই মহাবিশ্বের (ইউনিভার্স) এর মধ্যে আছে অথবা এরকম আরো বিলিয়ন বিলিয়ন মহাবিশ্ব (মাল্টিভার্স)যদি থেকে থাকে তাহলে এসবই যেকোন একজন বা বহুজন ঈশ্বর সৃষ্টি করেছেন (যার যার ধর্মের ঈশ্বর অনুযায়ী)। কিন্তু আজ পর্যন্ত পৃথিবীর কোন ধর্মের ঐশরিক কিতাব বা ঈশ্বরের বানীতে তার ৯৯,৯৯% বাদ দিয়ে যা থাকে তা থেকেও সব বাদ দিয়ে মাত্র ০,০১% এর মতো তথ্য কেন ঈশ্বরেরা এই পৃথিবীর সাধারন মানুষকে দিতে পারেনি আজো ? এটা একটা ছোট্ট প্রশ্ন রাখা হোক সমস্ত ঈশ্বরে বিশ্বাসী মানুষদের কাছে। এই সব গ্রহ, উপগ্রহ, নক্ষত্র, গ্যালাক্সি, ছায়াপথ, মহাবিশ্ব সবই যদি কোন একজন ঈশ্বর বা কয়েকজন ঈশ্বরের সৃষ্টি হয়ে থাকবে তাহলে এতো বিলিয়ন বিলিয়ন, ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন গ্রহ, উপগ্রহ, নক্ষত্র, গ্যালাক্সি, ছায়াপথ, মহাবিশ্ব বাদ দিয়ে সেই সৃষ্টিকর্তা কেন এই (পৃথিবীর মাপ অনুযায়ী) অনু বা পরমানু সাইজের একটা গ্রহ “পৃথিবী” নিয়ে এতো চিন্তিত হবেন এবং এতো আদেশ উপদেশ দিবেন এখানে বসবাস করা সাধারণ মানুষদের ? এটা আরেকটা প্রশ্ন রাখা যেতে পারে।

আধুনিক বিজ্ঞান আমাদের এই পৃথিবী যে গ্যালাক্সির মধ্যে আছে এবং সেই গ্যালাক্সির মতো বিলিয়ন বিলিয়ন গ্যালাক্সি যেই মহাবিশ্বের মধ্যে আছে সেই মহাবিশ্বের সৃষ্টি হবার কারণ “বিগ ব্যাং” বা একটি বড় বিস্ফোরন বলে থাকে। তার মানে এই মহাবিশ্বের মতো যদি আরো অনেক মহাবিশ্ব থেকে থাকে (যা বিজ্ঞানীরা ধারণা করেন মাত্র) সেগুলোও নিশ্চয় একই নিয়মে তৈরি হয়ে থাকবে। কিন্তু মহাবিশ্ব সৃষ্টির কোন কথা বা এই কোটি কোটি গ্রহ, উপগ্রহ, নক্ষত্র, গ্যালাক্সী, ছায়াপথ, মহাবিশ্ব তৈরি হবার কথা আমাদের এই পৃথিবীর একেকটি ধর্ম একেক রকমের ব্যাখ্যা দিয়ে থাকেন। বিজ্ঞানের মতো তাদের সকলের ব্যাখ্যা আবার এক নয়। একেকজন একেক রকমের ব্যাখ্যা দেন এবং প্রতিটি ব্যাখ্যার সাথেই বিজ্ঞানের অমিল পাওয়া যাওয়ার কারণেই সৃষ্টিবাদীদের সাথে বিবর্তনবাদীদের মতের অমিল দেখা যায়। তবে এক্ষেত্রে সৃষ্টিবাদীদের শিশুকাল থেকেই ধর্মের ওপরে আস্থা তৈরি করে রাখার ফলে যুক্তিসংগত আলাপ আলোচনার একটি পর্যায়ে আচরনিক সমস্যা দেখা দেয়। কিন্তু অপরদিকে একজন বিবর্তনবাদী কখনই তার আচরন খারাপ করেনা সেই আলোচনার মধ্যে, বরং চেষ্টা করে যুক্তিযুক্ত আলোচনার মাধ্যমে সঠিক ও সত্য ঘটনাটা বোঝানোর।  

যেহেতু আজকের দিনে কোন সাধারন মানুষের এই বিগ ব্যাং থিউরীর কথা অজানা থাকার কথা নয় যা প্রথম ১৯২৭ সালে বেলজিয়ামের একজন বিজ্ঞানী “জর্জ লেমিটর” আমাদেরকে বলেছিলো। পরবর্তিতে “এডুইন হাবল” নামের আরেকজন বিজ্ঞানী এই মতবাদের সমর্থন করে তা পর্যবেক্ষন করে সঠিক বলে গ্রহন করেছিলো এবং ব্যাখ্যাও করেছিলো যা আজ পর্যন্ত সেখানেই আটকে আছে। যদি এই থিউরীর বাইরে অন্য কেউ নতুন কোন গ্রহনযোগ্য তত্ব দিতে পারে তাহলে সাথে সাথে এই তত্ব বাতিল হয়ে যাবে কিন্তু তা এখনও কেউ দিতে পারেনি। আমি এখানে বিগ ব্যাং তত্বটি কি এবং কেমন তার বিস্তারিত দিয়ে আর লেখটি বড় করতে চাই না। এখন দেখুন কয়েকটি ধর্ম আমাদেরকে এই বিষয়ে কি ধারনা দেয়। যেমন প্রথমেই আমরা দেখবো এই ছোট্ট পৃথিবীর সব থেকে বহুল প্রচলিত ধর্ম “খ্রিস্টান ধর্ম” আজকে যারা তাদের সব চেয়ে বড় বাৎসরিক উৎসব পালন করবে তারা এই সৃষ্টিতত্বের ব্যাখ্যা কিভাবে দিয়ে থাকেন। এই ধর্মটির প্রধান ও পবিত্র বা ঐশরিক কিতাবের নাম হচ্ছে “বাইবেল”। এই বাইবেলের আবার বর্তমানে দুইটি ভাগ করা হয়েছে যার একটি আমরা আদিপুস্তক বলে থাকি (ওল্ড স্টেটমেন্ট) এবং অপরটিকে নতুনপুস্তক (নিউ স্টেটমেন্ট) বলে থাকি। সে বাইবেলের আদিপুস্তকের প্রথম অধ্যায়ের নাম হচ্ছে “জেনেসিস”। এই জেনেসিস শুরু হয়েছে এই মহাবিশ্ব সৃষ্টির তত্ব দিয়েই। বাইবেল মতে এই মহাবিশ্ব সৃষ্টির কারণ এখানে দেখুন -

১ শুরুতে, ঈশ্বর আকাশ ও পৃথিবী সৃষ্টি করলেন। প্রথমে পৃথিবী সম্পূর্ণ শূন্য ছিল; পৃথিবীতে কিছুই ছিল না।
২ অন্ধকারে আবৃত ছিল জলরাশি আর ঈশ্বরের আত্মা সেই জলরাশির উপর দিয়ে ভেসে বেড়াচ্ছিল।
৩ তারপর ঈশ্বর বললেন, “আলো ফুটুক!তখনই আলো ফুটতে শুরু করল।
৪ আলো দেখে ঈশ্বর বুঝলেন, আলো ভাল। তখন ঈশ্বর অন্ধকার থেকে আলোকে পৃথক করলেন।
৫ ঈশ্বর আলোর নাম দিলেন, “দিনএবং অন্ধকারের নাম দিলেন রাত্রি।সন্ধ্যা হল এবং সেখানে সকাল হল। এই হল প্রথম দিন।
৬ তারপর ঈশ্বর বললেন, “জলকে দুভাগ করবার জন্য আকাশমণ্ডলের ব্যবস্থা হোক।
৭ তাই ঈশ্বর আকাশমণ্ডলের সৃষ্টি করে জলকে পৃথক করলেন। এক ভাগ জল আকাশমণ্ডলের উপরে আর অন্য ভাগ জল আকাশমণ্ডলের নীচে থাকল।
৮ ঈশ্বর আকাশমণ্ডলের নাম দিলেন আকাশ।সন্ধ্যা হল আর তারপর সকাল হল। এটা হল দ্বিতীয় দিন।
৯ তারপর ঈশ্বর বললেন, “আকাশের নীচের জল এক জায়গায় জমা হোক যাতে শুকনো ডাঙা দেখা যায়।এবং তা-ই হল।
১০ ঈশ্বর শুকনো জমির নাম দিলেন, “পৃথিবীএবং এক জায়গায় জমা জলের নাম দিলেন, “মহাসাগর।ঈশ্বর দেখলেন ব্যবস্থাটা ভাল হয়েছে।

এরকম সর্বোমোট ২৫টি পয়েন্ট আছে এই জেনেসিস অধ্যায়ে যা আমি আর এখানে দিয়ে আপনাদের মুল্যবান সময় অপচয় করাতে চাচ্ছিনা। আপনারা কেউ চাইলে বাইবেলের প্রথম অধ্যায়টি পড়ে দেখতে পারেন। এবার একটু দেখবো এশিয়া মহাদেশের আরেকটি বহুল প্রচলিত ধর্ম “হিন্দু ধর্ম” আসলে হিন্দু ধর্ম বলে কোন ধর্ম নেই, আছে “সনাতন ধর্ম” সেই সনাতন ধর্ম এই সৃষ্টি তত্ব নিয়ে কি বলে দেখুন। এই ধর্মটিতে আসলে নির্দিষ্ট কোন ঈশ্বর প্রদত্ত বা ঐশরিক কিতাবের সন্ধান পাওয়া যায়না। এই ধর্মে যে সমস্ত কিতাব বা গ্রন্থ প্রচলিত আছে তা সবই এই ধর্মের প্রাচীন ঋষিদের রচিত বেশ কিছু গ্রন্থ। আর এই সমস্ত গ্রন্থের সাথে প্রচলিত আছে আরো কিছু পৌরানিক উপাখ্যান। এই হিন্দু ধর্মে যে এক এবং অদ্বিতীয় সত্তা আছে তার নাম হচ্ছে ব্রহ্ম। আর এই ব্রহ্ম সম্পর্কে তাদের ঈশ উপনিষদে বলা আছে – (“ঈশা ব্যসমিদং সর্বং যতকিঞ্চ জগত্যাং জগত্‍। তেন ত্যক্তেন ভুঞ্জীথা মা গৃধঃ কস্যস্বিদ্‌ ধনম্”) জগতে যে কিছু পদার্থ আছে, তৎসমস্তই আত্মরূপী পরমেশ্বর দ্বারা আচ্ছাদন করিবে, অর্থাৎ একমাত্র পরমেশ্বরই সত্য, জগৎ তাহাতে কল্পিতমিথ্যা, এই জ্ঞানের দ্বারা জগতের সত্যতা-বুদ্ধি বিলুপ্ত করিবে। (তাহাতেই তোমার হৃদয়ে আসক্তি-ত্যাগরূপ সন্ন্যাস আসিবে) সেই ত্যাগ বা সন্ন্যাস দ্বারা আত্মার অদ্বৈত নির্ব্বিকার ভাব রক্ষা কর কাহারো ধনে আকাঙ্ক্ষা করিও না। এছাড়াও এটি হিন্দু ধর্মের একেশ্বরবাদী রূপ। “যার ভিত্তি এক ও অদ্বিতীয় সত্তা ব্রহ্ম। তিনি সবকিছুর উৎস। বেদের শেষ ও দার্শনিক অংশ উপনিষদে বলা হয়েছে তিনি অদ্বিতীয় সত্তা। তিনি সূক্ষ্ম ও স্থূল সব কিছুরই উৎস। এর থেকে জগতের বিভিন্ন উপকরণের সৃষ্টি হয়েছে” তারমানে এখানেই আমরা সৃষ্টির রহস্য পেয়ে যাচ্ছি।   

এছাড়াও হিন্দু ধর্মের মার্কেণ্ডয় পুরাণ মতে- যা অব্যক্ত এবং ঋষিরা যাকে প্রকৃতি বলে থাকেন, যা ক্ষয় বা জীর্ণ হয় না, রূপ রস গন্ধ শব্দ ও স্পর্শহীন, যার আদি অন্ত নেই, যেখান থেকে জগতের উদ্ভব হয়েছে, যা চিরকাল আছে এবং যার বিনাশ নেই, যার স্বরূপ জানা যায় না, সেই ব্রহ্ম সবার আগে বিরাজমান থাকেন। আরো দেখুন - সৃষ্টি প্রক্রিয়া বিভিন্ন স্তরে সম্পন্ন হয়। এখানে তিনটি গুণ রয়েছে। এই তিনটি গুণ হলো সত্ত্ব, রজ ও তম। সত্ত্ব হলো প্রকৃতি। রজের প্রভাবে অহংকারসহ অন্যান্য খারাপগুণের জন্ম এবং তম হলো অন্ধকার। শ্রী সুবোধকুমার চক্রবর্তৗ অনূদিত মার্কেণ্ডয় পুরাণে বলা হয়েছে- এই তিন গুণ তাঁর মধ্যে পরস্পরের অনুকূলে ও অব্যাঘাতে অধিষ্ঠিত আছে। সৃষ্টির সময়ে তিনি (ব্রহ্ম) এই গুণের সাহায্যে সৃষ্টিক্রিয়ায় প্রবৃত্ত হলে প্রধান তত্ত্ব প্রাদুর্ভূত হয়ে মহত্তত্ত্বকে (মহৎ নামক তত্ত্ব) আবৃত করে। এই মহত্তত্ত্ব তিনগুণের ভেদে তিন প্রকার। এর থেকে তিন প্রকার ত্রিবিধ অহংকার প্রাদুর্ভূত হয়। এই অহংকারও মহত্তত্ত্বে আবৃত ও তার প্রভাবে বিকৃত হয়ে শব্দতন্মাত্রের সৃষ্টি করে। তা থেকেই শব্দ লক্ষণ আকাশের জন্ম। অহংকার শব্দমাত্র আকাশকে আবৃত করে এবং তাতেই স্পর্শতন্মাত্রের জন্ম। এতে বলবান বায়ু প্রাদুর্ভূত হয়। স্পর্শই বায়ুর গুণ। শব্দমাত্র আকাশ যখন স্পর্শমাত্রকে আবৃত করে, তখন বায়ু বিকৃত হয়ে রূপমাত্রের সৃষ্টি করে। বায়ু থেকে জ্যোতির উদ্ভব, রূপ ঐ জ্যোতির গুণ। স্পর্শমাত্র বায়ু যখন রূপমাত্রকে আবৃত করে, তখন জ্যোতি বিকৃত হয়ে রসমাত্রের সৃষ্টি করে। তাতেই রসাত্মক জলের উদ্ভব। সেই রসাত্মক জল যখন রূপমাত্রকে আবৃত করে তখন জল বিকৃত হয়ে গন্ধমাত্রের সৃষ্টি করে। তাতেই পৃথিবীর জন্ম হয়।

আবারও মুল্যবান সময় অপচয় না করার স্বার্থে আমি এর বেশি হিন্দু ধর্মের তত্ব এখানে দিলাম না। তবে সবশেষে মধ্যপ্রাচ্যের একটি বহুল প্রচলিত ধর্ম যার অবস্থান এই পৃথিবীতে এখনও দ্বিতীয় বলা চলে সেই “ইসলাম” ধর্ম মতে তাদের বিশ্বাস করা সৃষ্টিতত্ব এখানে না দিলে অন্যায় হয়ে যাবে। দেখুন ইসলাম ধর্ম এই সৃষ্টিতত্ব সম্পর্কে কি বলে। ইসলাম ধর্মের প্রধান ও ঐশরিক কিতাব হচ্ছে একটি যার নাম “আল-কোরান”। এই গ্রন্থে যা যা লেখা আছে তা এই ধর্মের অনুসারীরা একমনে কোনকিছু যাচাই বাছাই না করে মনে প্রাণে বিশ্বাস করে থাকে। তাদের ধারনা এই গ্রন্থে যা কিছু লেখা আছে তা এই পৃথিবীর বিজ্ঞানের সকল শাখার ব্যাখ্যা একত্র করে একটি বই আকারেই প্রকাশ করা হয়েছে যার নাম এই আল-কোরান। এই ধর্মের অনুসারীদের অনেকের দাবী এই কিতাবে সব বিষয়েই সংক্ষিপ্ত ভাবে এসব বিষয়ে ব্যাখ্যা করা আছে। কিন্তু বাস্তবে আমরা যখন মহাকাশ তত্বের আথে তার মিল খুজে দেখতে যায় তখন বাধে তার সাথে বড় ধরনের দ্বন্দ। এই কোরানে প্রাচীন গ্রিক, প্রাচীন মিশরীয় বা ইহুদী ও খ্রিস্টান ধর্মের মতো শুরুতেই সৃষ্টিতত্ব দিয়ে শুরু করা হয়নি। এই কোরানের মাঝে মাঝে (৬ থেকে সাড়ে ৬ হাজার আয়াতের) বিভিন্ন সময় বিভিন্ন যায়গায় এই সৃষ্টি তত্বের কথা বলা আছে। যেমন –

সূরা আরাফ (আয়াত-৫৪)
إِنَّ رَبَّكُمُ اللّهُ الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضَ فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ يُغْشِي اللَّيْلَ النَّهَارَ يَطْلُبُهُ حَثِيثًا وَالشَّمْسَ وَالْقَمَرَ وَالنُّجُومَ مُسَخَّرَاتٍ بِأَمْرِهِ أَلاَ لَهُ الْخَلْقُ وَالأَمْرُ تَبَارَكَ اللّهُ رَبُّ الْعَالَمِينَ
54
অর্থঃ নিশ্চয় তোমাদের প্রতিপালক আল্লাহ। তিনি নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলকে ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর আরশের উপর অধিষ্টিত হয়েছেন। তিনি পরিয়ে দেন রাতের উপর দিনকে এমতাবস্থায় যে, দিন দৌড়ে রাতের পিছনে আসে। তিনি সৃষ্টি করেছেন সূর্য, চন্দ্র ও নক্ষত্র দৌড় স্বীয় আদেশের অনুগামী। শুনে রেখ, তাঁরই কাজ সৃষ্টি করা এবং আদেশ দান করা। আল্লাহ, বরকতময় যিনি বিশ্বজগতের প্রতিপালক।
সূরা হা-মীম সেজদা (আয়াত-৯)
قُلْ أَئِنَّكُمْ لَتَكْفُرُونَ بِالَّذِي خَلَقَ الْأَرْضَ فِي يَوْمَيْنِ وَتَجْعَلُونَ لَهُ أَندَادًا ذَلِكَ رَبُّ الْعَالَمِينَ
অর্থঃ বলুন, তোমরা কি সে সত্তাকে অস্বীকার কর যিনি পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন দুদিনে এবং তোমরা কি তাঁর সমকক্ষ স্থীর কর? তিনি তো সমগ্র বিশ্বের পালনকর্তা।

 সূরা হা-মীম সেজদা (আয়াত-১০)
وَجَعَلَ فِيهَا رَوَاسِيَ مِن فَوْقِهَا وَبَارَكَ فِيهَا وَقَدَّرَ فِيهَا أَقْوَاتَهَا فِي أَرْبَعَةِ أَيَّامٍ سَوَاء لِّلسَّائِلِينَ
অর্থঃ তিনি পৃথিবীতে উপরিভাগে অটল পর্বতমালা স্থাপন করেছেন, তাতে কল্যাণ নিহিত রেখেছেন এবং চার দিনের মধ্যে তাতে তার খাদ্যের ব্যবস্থা করেছেন-পূর্ণ হল জিজ্ঞাসুদের জন্যে।

 সূরা হা-মীম সেজদা (আয়াত-১১)
ثُمَّ اسْتَوَى إِلَى السَّمَاء وَهِيَ دُخَانٌ فَقَالَ لَهَا وَلِلْأَرْضِ اِئْتِيَا طَوْعًا أَوْ كَرْهًا قَالَتَا أَتَيْنَا طَائِعِينَ
অর্থঃ অতঃপর তিনি আকাশের দিকে মনোযোগ দিলেন যা ছিল ধুম্রকুঞ্জ, অতঃপর তিনি তাকে ও পৃথিবীকে বললেন, তোমরা উভয়ে আস ইচ্ছায় অথবা অনিচ্ছায়। তারা বলল, আমরা স্বেচ্ছায় আসলাম।




এছাড়াও ইসলাম ধর্মের পবিত্র গ্রন্থ আল-কোরানের আরো বেশ কিছু আয়াতে এই সৃষ্টিতত্ব সম্পর্কে আরো কিছু কথা বলা আছে যেমন – সূরা আন-নাযিয়াত (আয়াত-২৭ থেকে ৩০) এ বলা আছে। তারপর সূরা আম্বিয়া (আয়াত-৩০) এ বলা আছে এই জাতীয় একই কথা যা বর্তমান মহাকাশ বিজ্ঞান বা সৌরবিজ্ঞানের সাথে কোন মিল খুজে পাওয়া যায়না। এই সমস্ত ধর্মীয় বানীকে এই ধর্মের বর্তমান যুগের মডারেট কিছু ধর্ম বিশ্বাসী বিজ্ঞানের সাথে মিল আছে দেখিয়ে “জল পড়ে পাতা নড়ে” টাইপের কিছু ব্যাখ্যাও করে থাকেন তারা। কিন্তু তাতেও যে খুব একটা সফল হচ্ছেন তারা তাও কিন্তু না। নিচের ভিডিওটি একটু ভালো করে দেখলে আপনার কিছুটা ধারনা হতে পারে আমাদের এই পৃথিবীর অবস্থান আসলে কোথায় যা নিয়ে আমাদের এতো রহস্য।

---------- মৃত কালপুরুষ

               ২৪/১২/২০১৭

শনিবার, ২৩ ডিসেম্বর, ২০১৭

যীশু খ্রিস্ট এর জীবনি ও ধর্মীয় মতবাদ কতটুকু সত্য ?


চারিদিকেই ক্রিসমাস এর আমেজ। এশিয়া মহাদেশের দেশগুলিতে যদিও পশ্চিমা ও ইউরোপীয়দের মতো জাঁকজমক পূর্নভাবে ক্রিসমাসের আয়োজন করা হয়না তারপরও কেউই এই উৎসবের বাইরে থাকেনা। বছরের পর বছর ধরে যীশুর জন্মদিন ২৫ ডিসেম্বর, যা ক্রিসমাস হিসেবে উদযাপন করা হয়। দেশ ভেদে ও চার্চ ভেদে খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীরা জানুয়ারী মাসের বিভিন্ন সময়েও এই জন্মদিন পালন করে থাকে। যদিও যীশুর জন্মদিন সম্পর্কে বিশেষ তথ্য জানা যায় না তবে খ্রিস্টান পণ্ডিতদের দাবি তিনি বসন্ত বা শীতের প্রারম্ভে জন্মগ্রহণ করেন। আর সেই মতে ডিসেম্বর থেকে শুরু করে জানুয়ারীর বিভিন্ন সময়ে সেটা পালিত হয়ে থাকে। যদিও এই যীশু চরিত্রটি নিয়ে ইসলাম ধর্ম ও খ্রিস্টান ধর্ম নানা হাস্যকর ও অযৌক্তিক কেচ্ছা কাহীনি প্রচলিত আছে তারপরেও যীশুর জীবনি নিয়ে দর্শন শাস্ত্রে ও ইতিহাসে বেশ কিছু মতবাদ প্রচলিত আছে।

খ্রিস্টান ধর্মের যীশু খ্রিস্ট বা ইসলাম ধর্মের ঈসা নবী সম্পর্কে অনেক মতবাদের মধ্যে একটি মতবাদ হচ্ছে সে একটা সময় এশিয়া মহাদেশে এসেছিলেন। শুধু তাই নয় সে ভারতবর্ষে এসেছিলো এবং একবার নয় সে ভারতবর্ষে দুইবার এসেছিলো বলে ধারনা করা হয়। এমনকি কিছু খ্রিস্টান পন্ডিতের দাবী যীশুর সমাধি ভারতের কাশ্মীরে অবস্থিত। আনুমানিক ১০০ থেকে ২০০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে ফরাসি সাধু “আইরেনিয়াস” দাবী করেছিলেন ৩৩ বছর বয়সে যীশুকে ক্রুশবিদ্ধ করা হলেও সে তখন মারা যায়নি বরং জীবিত ছিলো এবং ৫০ বছরেরও বেশি সময় জীবিত ছিলো। ভালো যে সাধু “আইরেনিয়াস” এই কথা ইসলাম ধর্মের কোরান রচনা হবার ৩০০ বছর আগে বলেছিলেন তা না হলে তার এই কথা কোরানের সাথে সম্পুর্ণ সাংঘর্ষিক হবার কারনে হয়তো ইসলাম ধর্ম অনুসারীরা তাকে হত্যা করতো। কারণ ইসলাম ধর্ম মতে যীশুকে হত্যার আগ মুহুর্তে আল্লাহ জীবিত অবস্থায় তাকে বেহেশতে নিয়ে যান। যা ইসলাম ধর্মের ঐশরিক কিতাব আল-কোরানের সূরা নিসার ১৫৭ ও ১৫৮ নাম্বার আয়াতে পরিষ্কার বলা আছে। এখন এই ফরাসি সাধু যদি এই কথা বলে তাহলে কোরানের বানী মিথ্যা ও ভুল প্রমানীত হয়। এই বিষয়ে ১৯৮১ সালে একজন জার্মান লেখক যার নাম “হলগার ক্রেস্টেন” একটি বই লিখেছিলো “যীসুস লিভড ইন ইন্ডিয়া” নামের বই যেখানে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

এই কথার সত্যতা যাচাই করে অনেক ইতিহাসবিদ ও দার্শনিক একসময় তাদের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন এবং হলগার ক্রিস্টেনের লেখা বইয়ের সাধুবাদ জানিয়েছিলেন। এই সময়ে সমস্ত ইউরোপে এই লেখা কিছুটা সাড়া ফেলেছিলো। এছাড়াও খ্রিস্টান ধর্মের ঐশরিক কিতাব বাইবেল পর্যালোচনা করে পাওয়া যায় যীশুর ১৩ থেকে ৩০ বছর বয়সের কোন কথায় বাইবেলে নেই তাহলে এই ১৭ বছর সে কি করেছিলো এমন প্রশ্নের উত্তরে লেখক “নটোভিচ” ১৯ শতকের শেষ দিকে একটি বই লিখেছিলেন যার নাম “দ্যা আননোন লাইফ অব যীসুস ক্রিস্ট”। লেখক নটোভিচ ছিলেন একজন তথ্যনুসন্ধানী রাশিয়ার সাংবাদিক। তিনি তার এই বইতে যীশুর জীবনের এই ১৭ বছরকে “মিসিং লাইফ অব যীসুস” বলে আখ্যায়িত করেন যেখানে তিনি বিভিন্ন যুক্তি দিয়ে প্রমাণ করেছিলেন এই হারানো ১৭ বছরের মধ্যে যীশু রোমান সাম্রাজ্যের বাইরে দুইবার ভারতবর্ষে এসেছিলেন যার একবার তার ক্রুশবিদ্ধ হবার আগে এবং একবার ক্রুশবিদ্ধ হবার পরে। এটা একটি দীর্ঘ আলোচনা হবার কারণে এখানে আর সে বিষয়ে কিছুই লিখবো না তবে পরবর্তিতে জানানোর চেষ্টা করবো।

ঐতিহাসিকভাবে আমরা যীশুর অস্তিত্বের সন্ধান করলে তার সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি প্রচলিত যে মতবাদ গুলা দেখে থাকি তা হচ্ছে এই যীশুর জীবন শুরু হয়েছিলো বর্তমানে যা উওর ও মধ্য ফিলিস্তিন নামে পরিচিত যায়গাটিতে। উত্তর ও মধ্য ফিলিস্তিন এবং পূর্বে মৃত সাগর (ডেড সী) এবং জর্দান নদী এবং পশ্চিমে পূর্ব ভূমধ্যসাগরের মাঝখানের একটি অঞ্চলেই এই যীশুর জীবন শুরু হয়েছিলো। বিভিন্ন ধর্মীয় ঐশরিক কিতাব মতেও সেই একই কথা পাওয়া যায়। খ্রিস্টের শুরুতে প্রথম শতাব্দীর সময়ে বা প্রথম শতাব্দীর শুরু থেকে এই অঞ্চলটি রোমানদের নিয়ন্ত্রনাধীন একটি অঞ্চল ছিলো। যদিও রোমান সাম্রাজ্যের শাসনাধীন অঞ্চলসমূহ ভূমধ্যসাগরের চারিদিকে ইউরোপ, আফ্রিকা এবং এশিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল তারও আগে থেকেই তাই এই অঞ্চলটিকে রোমানরা প্রাথমিকভাবে একটি উপজাতীয় রাজ্য বা অঞ্চল হিসেবেই বিবেচনা করতো যে কারনেই যীশুর জন্য তার প্রচার করা কথা মানুষকে বিশ্বাস করাতে সুবিধা হয়েছিলো যদিও পরবর্তিতে তাকে এই কারনেই ক্রুশবিদ্ধ করা হয়েছিলো। একটা সময় রোমান সভ্যতায় বিভিন্ন অভ্যন্তরীন সমস্যা দেখা দেয় যার কারনে বিভিন্ন অভিযানের সুত্রপাত করা হয়। এসময় রোমান সভ্যতার অনেক অঞ্চলের মানুষই অভ্যন্তরীন বিদ্রোহের সাথে জড়িয়ে পড়েন এবং সেই সাথে পার্শিয়ানদের আক্রমনও ঘটে। আনুমানিক খ্রিস্টপূর্বাব্দ ৩৭ সালের দিকে এই অঞ্চলটিতে অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয় যখন রোমান সাম্রাজ্যের রাজা ছিলেন “হেরোদ দ্যা গ্রেট”। তার সময় থেকে “জুলিয়াস সিজারের” সময় পর্যন্ত সময়ে এই অঞ্চলটি ধীরে ধীরে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা লাভ করে ও সমৃদ্ধি লাভ করে।

রাজা “হেরোদ” ছিলেন ইহুদী ধর্মের অনুসারী তবে অনেকের দাবী তিনি সাম্রাজ্যের স্বার্থে এই ধর্মের বানী মানুষের মাঝে প্রচার করতেন। যীশুকে খ্রিস্টান ধর্মের অনুসারীরা “যীশু খ্রিস্ট” নামেই জানেন তবে সব থেকে মজার ব্যাপার হচ্ছে “খ্রিস্ট” কিন্তু যীশুর আসল নাম না। তখনকার সময়ে সন্তানের নামের সাথে তার জন্মদাতা পিতা বা পালক পিতার নাম যোগ করে দেওয়ার নিয়ম চালু ছিলো। যেহেতু যীশুর কোন বায়োলজিক্যাল পিতা ছিলো না বা পৃথিবীর কোন মানুষ তার পিতা না তাই দেবতাদের নামের একটি অংশ যোগ করে তার নামের সাথে “খ্রিস্ট” শব্দটি যোগ করা হয়েছে। এই বিষয়ে খ্রিস্টান ধর্মের ঐশরিক কিতাব বাইবেলের (লূক-Luck ৪,২২)  এ বলা আছে “সকলেই তাঁর খুব প্রশংসা করল, তাঁর মুখে অপূর্ব সব কথা শুনে তারা আশ্চর্য হয়ে গেল। তারা বলল, ‘এ কি য়োষেফের ছেলে নয়?” এছাড়াও এই বিষয়ে আরো উল্লেখ আছে বাইবেলের (যোহন-John ১,৪৫ ৬,৪২) তারপরে (বিধান-Act ১০,৩৮) সহ আরও অনেক যায়গাতে। যীশু খিস্ট নামের খ্রিস্ট শব্দটি এসেছে গ্রিক শব্দ “ক্রিশোসের” থেকে যা গ্রিকরা তাদের যেকোন শিরোনামে ব্যবহার করে থাকে। এই খ্রিস্ট শব্দের বাংলা অর্থের কিছুটা মিল হচ্ছে “অভিষিক্ত এক” বা “নির্বাচন করা হয়েছে” এমন কিছু যা ইসলাম ধর্মেও প্রচলিত আছে এই যীশুর নামে যেমন “ঈশা মসীহ”। এই মশীহ মানে হচ্ছে ইসলামে আল্লাহ তাকে নির্বাচন করেছেন যা এই খ্রিস্ট শব্দেরই রুপান্তর বলা চলে।

---------- মৃত কালপুরুষ
              ২৩/১২/২০১৭  


শুক্রবার, ২২ ডিসেম্বর, ২০১৭

ইসলাম ধর্মের ঈসা নবী বা খ্রিস্টান ধর্মের যীশুর কিছু ক্ষমতা।


ঐতিহাসিকভাবে খ্রিস্টান ও ইসলাম ধর্মের ঐশরিক কিতাব বলে পরিচিত গ্রন্থ গুলির বাইরে যীশু বা ঈসা নামের একজন ব্যাক্তির সন্ধান পাওয়া যায়। খ্রিস্টীয় ঐতিহ্যের বাইরে যীশুর অস্তিত্বের সবচেয়ে প্রাচীন রেফারেন্স হচ্ছে ইহুদিদের পুরাতাত্ত্বিক ঐতিহ্য গুলি। “জোসেফাস” নামের একজন জিউস স্কোলারের লেখাতে উল্লেখ পাওয়া যায় এই যীশু চরিত্রটির যা (খ্রিস্টপূর্ব 37 খ্রিস্টাব্দের) বলে ধারনা করা হয়। সেই হিসাবে খ্রিস্টান ধর্মের বাইবেল আর ইসলাম ধর্মের কোরান মতে এই যীশুর জন্ম খৃস্টপুর্বাব্দ ৫-৭ এর সাথে মিল পাওয়া যায়। ইসলাম ধর্মে এই ব্যাক্তির নামে যা রচিত আছে সেটা থেকেও খ্রিস্টান ধর্মের অনুসারিদের মধ্যে আরো বেশি অলৌকিক ও রুপকথার ন্যায় গল্প পাওয়া যায়। যেমন, এই ব্যাক্তি মৃত মানুষ জীবিত করতে পারতো, অন্ধকে দৃষ্টি শক্তি দিতে পারতো, বধির এর শোনার ক্ষমতা দিতে পারতো এবং পঙ্গু ব্যাক্তি যে হাটাচলা করতে পারে না তাকে হাটাচলার ক্ষমতা দিতে পারতো বলে বিশ্বাস করে থাকে। যেহেতু সেই সময় এই যীশু খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে একজন ঈশ্বরের পুত্র হিসেবে বিবেচিত হতো এবং যীশুর অনেক সম্মান ছিলো তাই ইসলাম ধর্মের আবির্ভাবের পরে তাকে ইসলাম ধর্মের সাথে জুড়ে দেওয়া হয়েছে বলে অনেকেই মনে করেন।

ইসলাম ধর্মে ঈশ্বরপুত্র যীশুকে ভালো সম্মান দেওয়া হয়েছে তবে খ্রিস্টান ধর্মে তাকে ঈশ্বরের পুত্র মানা হলেও ইসলাম ধর্মে তা মানা হয় না। তবে একজন নবী হিসেবে ইসলাম ধর্ম অনুসারিরা তাকে স্বীকৃতি দিয়ে থাকেন। ইসলাম ধর্মের পবিত্র গ্রন্থ আল-কোরান মতে ঈসা নবী বা যীশু এখনও জীবিত আছে স্বর্গে বা বেহেশত নামক স্থানে। সে একটা সময় আবার এই পৃথিবীতে আসবে এবং সমস্ত পৃথিবী সে রাজত্ব করবে। ইসলাম ধর্মে ঈসাকে যীশু নামে ডাকা হয়না তার নাম “ঈসা মশীহ” বা “ঈসা ইবনে মারিয়াম” যিনি খ্রিস্টান ধর্মের পবিত্র গ্রন্থ বাইবেলে যীশু নামেই পরিচিত। ঈসা ইবনে মারিয়াম এর অর্থ “মারিয়ামের পুত্র ঈসা”। ইসলাম ধর্ম অনুযায়ী তিনিও ইসলাম ধর্মের প্রতিষ্ঠাতা নবী মুহাম্মদ এর মতো একজন আল্লাহর দূত বা পয়গম্বর। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে তিনি নবী মুহাম্মদ এর জন্মের প্রায় ৫০০ বছর আগে জন্ম নিয়েছিলো এবং ইসলাম ধর্ম প্রচার না করে সে খ্রিস্টান ধর্ম প্রচার করেছিলো এবং বর্তমানে এই একই চরিত্র দুই নামে দুইটি ধর্মের প্রবর্তক হিসেবে পরিচিত থাকায় অনেকের মাঝেই বিভ্রান্তির কারণ হয়ে যায় আসলে কে এই যীশু আর কে এই ঈসা। আবার এই চরিত্রটি নিয়ে দুইটি ধর্মে দুইটি গল্প প্রচলিত আছে যেমন খ্রিস্টান ধর্মের অনুসারিরা বিশ্বাস করেন এই যীশু বা ঈসাকে ক্রুশে বিদ্ধ করে হত্যা করা হয়েছিলো আর ইসলাম ধর্মের অনুসারিরা বিশ্বাস করেন যাকে ক্রুশে বিদ্ধ করা হয়েছিলো সে ঈসা বা যীশু কেউই ছিলো না।

ইসলাম ধর্ম মতে বলা হয় যে, ক্রুশবিদ্ধ করার জন্য যখন বাহক যীশু বা ঈসা নবীকে নিতে তার ঘরে প্রবেশ করে তখনই আল্লাহ তাকে উপরে তুলে নেন এবং বাহকের চেহারাকে ঈসা-এর চেহারার অনুরুপ করে দেন। ফলে ঈসা মনে করে ঐ বাহককে ক্রুশবিদ্ধ করা হয়| এবং ইসলাম ধর্ম মতে ঈসা নবী বর্তমানে জীবিত অবস্থায় জান্নাতে অবস্থান করছেন| ইসলামিক ধারনা অনুযায়ী কেয়ামতের পূর্বে মসীহ দাজ্জালের আবির্ভাবের পর ঈসা নবী মুহাম্মদ (সঃ) এর একজন উম্মত বা অনুসারী হিসেবে পুনরায় পৃথিবীতে অবতরণ করবেন এবং দাজ্জালকে হত্যা করবেন| এরপর সমস্ত পৃথিবীর শাসনভার গ্রহণ করবেন এবং পৃথিবীতে শান্তি ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা করবেন| সবশেষে তিনি একজন রাজা হিসেবে মৃত্যূবরণ করবেন এবং মুহাম্মদ-এর কবরের পাশে তাকে সমাহিত করা হবে। যে কারণে মদীনায় নবী মুহাম্মদ (সঃ) এর কবরের পাশে তাকে কবর দেয়ার জায়গা প্রস্তুত করে রাখা হয়েছিল যা এখনও বহাল আছে| ইসলামে যীশুকে মশিহ বলেও মনে করা হয়। মশিহ অর্থ আল্লাহ তাকে নির্বাচন করেছে যে শেষ কালে তিনি দুনিয়ায় মানে পৃথিবীতে ফিরে আসবেন এবং পৃথিবীতে তিনি সর্ব শান্তি আনবেন ও সব ধর্ম একান্ত করে ইসলামের মধ্যে আনবে।


এই সম্পর্কে ইসলাম ধর্মের আল-কোরানে বলা আছে (সূরা নিসার ১৫৭ ও ১৫৮ নাম্বার আয়াতে) যেমন, وَقَوْلِهِمْ إِنَّا قَتَلْنَا الْمَسِيحَ عِيسَى ابْنَ مَرْيَمَ رَسُولَ اللّهِ وَمَا قَتَلُوهُ وَمَا صَلَبُوهُ وَلَـكِن شُبِّهَ لَهُمْ وَإِنَّ الَّذِينَ اخْتَلَفُواْ فِيهِ لَفِي شَكٍّ مِّنْهُ مَا لَهُم بِهِ مِنْ عِلْمٍ إِلاَّ اتِّبَاعَ الظَّنِّ وَمَا قَتَلُوهُ يَقِينًا” যার অর্থঃ “আর তাদের একথা বলার কারণে যে, আমরা মরিয়ম পুত্র ঈসা মসীহকে হত্যা করেছি যিনি ছিলেন আল্লাহর রসূল অথচ তারা না তাঁকে হত্যা করেছে, আর না শুলীতে চড়িয়েছে, বরং তারা এরূপ ধাঁধায় পতিত হয়েছিল বস্তুতঃ তারা ব্যাপারে নানা রকম কথা বলে, তারা এক্ষেত্রে সন্দেহের মাঝে পড়ে আছে, শুধুমাত্র অনুমান করা ছাড়া তারা বিষয়ে কোন খবরই রাখে না আর নিশ্চয়ই তাঁকে তারা হত্যা করেনি” (সূরা নিসা, আয়াত-১৫৭) এর পর “بَل رَّفَعَهُ اللّهُ إِلَيْهِ وَكَانَ اللّهُ عَزِيزًا حَكِيمًا” অর্থঃ “বরং তাঁকে উঠিয়ে নিয়েছেন আল্লাহ তাআলা নিজের কাছে আর আল্লাহ হচ্ছেন মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়” (সূরা নিসা, আয়াত-১৫৮)


এবার দেখুন খ্রিস্টান ধর্ম মতে এই একই ব্যাক্তি বা চরিত্রটির সম্মন্ধে আমরা কি জানতে পারি। খ্রিস্টান ধর্মের বেশ কিছু শাখার মধ্যে তাদের অধিকাংশ শাখার খ্রিস্টান ধর্ম অনুসারীরা মনে করে এবং বিশ্বাস করে এই যীশু বা ঈসা হচ্ছে ঈশ্বরের পুত্র এবং সেও সয়ং একজন ঈশ্বর। এই খ্রিস্টান ধর্ম অনুসারিরা ইসলাম ধর্ম সৃষ্টি হবার আগে থেকেই বিশ্বাস করতো এই যীশু বা ঈসা মশীহের পুনরুথানকে। তারা এটাও বিশ্বাস করে এই যীশু যখন আবার এই পৃথিবীতে আসবেন তখন মানব জাতির জন্য হবে অত্যান্ত গুরুত্বপুর্ণ একটি বিষয়। তারা আরো বিশ্বাস করেন এই যীশুর বলিদানের ভেতরে অনন্ত জীবনের প্রতিশ্রুতি রয়েছে। খৃস্টান ধর্ম মতে এই যীশু বা ঈসার গর্ভধারিনী মা যিনি ছিলেন মরিয়ম তিনি কোন প্রকারের যৌন ক্রিয়া ছাড়াই যীশু বা ঈসার জন্ম দিয়েছিলেন। এই ধর্মের অনুসারিদের মতে মরিয়মের গর্ভাবস্থার জন্য পবিত্র আত্মা (খ্রিস্টীয় পবিত্র ত্রিত্বের তিনজনের একজন) দায়ী ছিলেন যে কারনেই তাকে ঈশ্বরের পুত্র মনে করা হয় এবং তাকেও তারা ঈশ্বরের কাছাকাছি মনে করে থাকেন। ঈসা বা যীশুর মাতা মরিয়ম বা মেরীর কুমারী অবস্থা খ্রিস্টান ধর্মের অনুসারিরা বিভিন্ন ধর্মীয় ঐতিহ্য ও অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পালন করে থাকে।


খ্রিস্টান ধর্মের পবিত্র গ্রন্থ বাইবেল এর ওল্ড টেস্টামেন্ট বা পুরাতন সংস্করন অনুযায়ী আমরা এই ঈসা বা যীশুর অনেক ঐশরিক ক্ষমতা দেখতে পায় যা একেবারেই অলৌকিক বা ঐশরিক যার কোন ভালো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়না এটা তখনকার সময়ে কিভাবে সম্ভব হয়েছিলো। তবে খ্রিস্টান ধর্ম অনুসারিরা এই সব অলৌকিক ঘটনাগুলিকে অন্যান্য ধর্মের অনুসারিদের মতোই গভীর ভাবে বিশ্বাস করে থাকে। যেমন বাইবেলের “লূক” (Luck) এর (৭,১৮-২৩) এ যীশু সম্পর্কে বলা আছে অর্থঃ “(১৮) বাপ্তিস্মদাতা য়োহনের অনুগামীরা এই সব ঘটনার কথা য়োহনকে জানাল তখন য়োহন তাঁর দুজন অনুগামীকে ডেকে।(১৯) প্রভুর কাছে জিজ্ঞেস করে পাঠালেন য়ে, ‘য়াঁর আগমণের কথা আছে আপনিই কি সেই, না আমরা অন্য কারোর জন্য অপেক্ষা করব?’ (২০) সেই লোকেরা যীশুর কাছে এসে বলল, ‘বাপ্তিস্মদাতা য়োহন আপনার কাছে আমাদের জিজ্ঞেস করতে পাঠিয়েছেনয়াঁর আসবার কথা আপনিই কি সেই ব্যক্তি, না আমরা অন্য কারো অপেক্ষায় থাকব?” (২১) সেই সময় যীশু অনেক লোককে বিভিন্ন রোগ ব্যাধি থেকে সুস্থ করছিলেন, অশুচি আত্মায় পাওযা লোকদের ভাল করছিলেন, আর অনেক অন্ধ লোককে দৃষ্টি শক্তি দান করছিলেন (২২) তখন তিনি তাদের প্রশ্নের জবাবে বললেন, ‘তোমরা যা দেখলে শুনলে তা গিয়ে য়োহনকে বল অন্ধেরা দেখতে পাচ্ছে, খোঁড়ারা হাঁটছে, কুষ্ঠ রোগীরা সুস্থ হচ্ছে, বধিরেরা শুনছে, মরা মানুষ বেঁচে উঠছে;আর দরিদ্ররা সুসমাচার শুনতে পাচ্ছে (২৩) ধন্য সেই লোক, য়ে আমাকে গ্রহণ করার জন্য মনে কোন দ্বিধা বোধ করে না। এর মানে এরকম দাঁড়ায় যীশু অনেক ক্ষমতার অধিকারী একজন মানুষ ছিলো যে অন্ধ, বোবা, বধির, এবং পঙ্গু মানুষদের সুস্থ করে দিতে পারতো।


এই যীশু বা ঈসার আরো কিছু অলৌকিক বা অবিশ্বাস ঘটনার উল্লেখ পাওয়া যায় এই খ্রিস্টান ধর্মে। তার মধ্যে আবারও বাইবেলের ওল্ড টেস্টামেন্টের “ঈসা” (Isha) (২৯,১৮-১৯) এ এই যীশু বা ইসা নবী সম্পর্কে বলা আছে অর্থঃ (১৮) বধির শুনতে পাবে, বই থেকে পড়ে শোনানো কথাগুলি, অন্ধ কুযাশা অন্ধকারের মধ্যেও দেখতে পাবে (১৯) প্রভু গরীব মানুষদের সুখী করবেন ইস্রায়েলে গরীব লোকরা ইস্রায়েলের সেই পবিত্র এক জনের নামে আনন্দ করবে” এবং “ঈসা” (Isha) (৩৫,৫-৬) এ বলা আছে “(৫) তখন অন্ধ মানুষরা চোখে দেখতে পারবে তাদের চোখ খুলে যাবে তখন বধিররা শুনতে পাবে তাদের কান খুলে যাবে (৬) পঙ্গু মানুষরা হরিণের মতো নেচে উঠবে এবং যারা এখন কথা বলতে পারে না তারা গেযে উঠবে সুখের সঙ্গীত বসন্তের জল যখন মরুভূমিতে প্রবাহিত হবে তখনই এসব ঘটবে বসন্ত নেমে আসবে শুষ্ক জমিতে” আরো দেখুন বাইবেলের “ঈসা” (Isha) (৬১,১) এখানেও বলা আছে, যীশু বলছেন “(১) প্রভুর দাস বলেন, “প্রভু, আমার সদাপ্রভু, তাঁর আত্মা আমার মধ্যে দিয়েছেনগরীবদের সঙ্গে কথা বলবার জন্য, তাদের ভগ্নহৃদয়ের ক্ষতে বন্ধনী জড়াবার জন্য এবং দুঃখীকে আরাম দেবার জন্য প্রভু আমাকে মনোনীত করেছেন ঈশ্বর আমাকে পাঠিয়েছেন নির্য়াতিতদের বন্দীদের জানাতে যে, তারা মুক্ত হচ্ছে” এই কথার মাধ্যমে যীশু তৎকালীন সাধারণ মানুষদের বোঝাবার চেষ্টা করেছিলেন সে ঈশ্বরের প্রেরিত একজন দূত। শুধু এসবই নই আরো অনেক কিছুই বলা আছে খ্রিস্টান ধর্মের পবিত্র গ্রন্থ বাইবেলে যীশু বা ইসলাম ধর্মের নবী ঈসা সম্পর্কে যার সবই আজ পর্যন্ত এই ধর্মের অনুসারিরা খুব ভক্তির সাথে বিশ্বাস করে থাকে।

---------- মৃত কালপুরুষ
               ২২/১২/২০১৭