বইমেলা আসছে তাই
চলছে লেখক ও পাঠকদের প্রস্তুতি। শেষ সময় পর্যন্ত সকলের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকে, এই
দেশের মানুষকে লেখকেরা একটু আলোকিত করতে। পূর্বে যারা আলোর মশাল জালিয়ে হারিয়ে
গিয়েছিলো একশ্রেনীর মানুষের রোষানলে পড়ে, তাদের সেই আলোর মশালকে আরেকটু উচু করে
ধরতে যাতে করে সেই আলো আরেকিটু দূরে ছড়িয়ে পড়ে। যারা এখনও অন্ধকারের মধ্যে হাতড়িয়ে
বেড়াচ্ছে এবং আশৈশব লালিত প্রথার দেওয়ালে ধাক্কা খেয়ে নিজেদের ক্ষতবিক্ষত করছে
তাদেরকে মুক্তি দেবার জন্য সেই আলোকিত মানুষগুলি তাদের সেরা লেখা গুলি নিয়ে বই
মেলায় অংশগ্রহন করে। আমি শ্রদ্ধায় নত হয় বারবার সেই মানুষদের কাছে যারা নিজেদেরকে
বিলিয়ে দিয়েছিলো এই দেশের সাধারণ মানুষদের একটু আলোর পথ দেখাতে। যারা সেই অন্ধকার
বিশ্বাসের কক্ষে আটক থেকে দেওয়ালে দেওয়ালে ধাক্কা খেয়ে আহত হচ্ছে তাদেরকে প্রশ্নের
পাথরে বিক্ষত হবার আহব্বান জানাতেই এই বইমেলা।
বাংলাদেশের অনলাইন
সপ রকমারি ডট কমের কথা সবাই নিশ্চয় জানেন। রকমারি ডট কম এই দেশের মানুষের হাতে
হাতে বই পৌছিয়ে দিয়ে এক অসধারণ ভূমিকা রাখছে তাতে কোন সন্ধেহ নেই। কারণ অনেকেই
অনেক বই খুজে খুজে আশা ছেড়ে দিয়ে একটু অনলাইনে ঢু মেরে দেখি বইটা পাওয়া যায় কিনা
এমন মনোভাব নিয়ে যখন এই সাইটটিতে গিয়ে বইটা পেয়ে যায়, তখন সেই মানুষটির মনোভাব
কেমন থাকে বা হতে পারে তা আর কারো আজানা থাকার কথা না। কিন্তু আমি আজ অনলাইন বুক
সপ রকমারি ডট কমের গুন গান করতে লেখিনি। কারন আমি ভুলিনি সেই সময়ের কথা যখন হুমকি
পেয়ে রকমরির স্বত্বাধীকারী ‘মাহমুদুল হাসান সোহাগ’ ভাই তার এক স্টাটাসে জানিয়েছিলো
সত্য এবং আলোর পথ প্রদর্শনকারী সকল বই যখন সেই সাইটে বিক্রয় করা নিষিদ্ধ করেছিলো
সেই কথা। আপনাদেরও নিশ্চয় মনে আছে। তারপরও আমি চাই আরো একটিবার রকমারী ভেবে দেখুক,
তখন নিজেদের মেরুদন্ড হীনতার পরিচয় তারা দিয়েছিলো না মানুষের কল্যানের জন্য তারা
কাজ করেছিলো।
আমি জানি এবং আগেও
বলেছি রকমারি ডট কমের এই জগতে অর্থাৎ মানুষের হাতে জ্ঞানের মশাল পৌছিয়ে দেবারা
অবদান কম নয়। সেই জ্ঞনের মশাল দিয়ে আরো মানুষকে হয়তো আলোকিত করে চলেছে আমাদের
দেশের অগনিত মুক্তচিন্তক ও যুক্তিবাদী সমাজ। সেই শ্রদ্ধা মাথায় রেখেই ২০১৪ সালের
রকমারি ডট কমের মেরুদন্ডহীনতার কথা একটু মনে করাতে চাই। তখন সেই “ফারাবী”র তালিকা
করা বই আর “ফারাবীর” হুমকি পেয়ে আপনারা যেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, বিজ্ঞান মনষ্ক,
যুক্তিবাদী ও প্রগতিশীল সকল বই বিক্রয় বন্ধ করে দিয়েছিলেন আপনারা, সেটা আপনাদের
মেরুদন্ডহীনতার বহিঃপ্রকাশ ছাড়া আর কিছুই ছিলোনা। আর এমন ভাবার কোন কারণ নেই যে আমার
মতো সাধারণ পাঠকরা সেই কথা এতো সহজেই ভুলে যাবে। আমার আশা এবং আস্থা আছে তারা সেই
কথা এখনও ভোলেনি আর যেভাবে আমাদের মাঝে মুক্তচিন্তার চর্চা বৃদ্ধি পাচ্ছে তাতে করে
আগামীতেও যে সেই কথা ভুলে যাবে তার নিশ্চয়তাও কম।
বর্তমানে দেখি
রকমারি বিভিন্ন ধর্মের বৈজ্ঞানীক আর সেই মরিস বুকাইলির “বিজ্ঞানময় কোরান” বা “দ্যা
বাইবেল দ্যা কোরান এন্ড সায়েন্স” এর বাংলা ভার্সনের লেখক ‘আজাদ’ আর কথিত ইসলাম
ধর্মের অনুসারী ‘ভট্টাচার্য’ লেখক টাইপের লেখকদের বই এই সাইটে বিভিন্ন পাতায় ঝুলে
থাকে। আমার উদ্দেশ্য আসলে এসব বলা না, আপনারা অপাঠ্য বই বিক্রয় ও মানুষের হাতে
পৌছানো বন্ধ করুন। সব কোয়ালিটির বই আসলে থাকা দরকার আছে যা না হলে সাধারণ পাঠকরা
মান যাচাই করতে পারবেনা। তবে যেই ভুল রকমারী ২০১৪ সালে করেছিলো একটু তাকিয়ে দেখবেন
যাতে করে তা শুধরাবার সুযোগ আপনাদের তৈরি হতে পারে। বাংলাদেশে লেখকদের পাশাপাশি
অনেক প্রকাশককেও এক শ্রেনীর বিকৃত মস্তিষ্কের মানুষেরা একসময় হত্যা করেছে এবং এখনও
করছে। তাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেও আপনার আপনাদের সাইটের মাধ্যমে যুক্তিবাদী,
বিজ্ঞানমনষ্ক ও প্রগতিশীল বই দেশের অন্ধকারে থাকা মানুষের হাতে আলোর মশাল রুপে
পৌছিয়ে দিতে পারেন আসছে বইমেলা উপলক্ষে আমাদের মতো সাধারণ পাঠকদের এটাই দাবী।
---------- মৃত
কালপুরুষ
০৬/০১/২০১৮

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন