রবিবার, ১২ নভেম্বর, ২০১৭

নৈতিকতার সাথে ইসলাম ধর্মের কি কোন সম্পর্ক আছে ?


সম্প্রতি রংপুরের ফেসবুক স্টাটাস আমাদের আরো একবার প্রমান দিলো যে ইসলাম ধর্মের সাথে নৈতিকতার কোন সম্পর্ক থাকতে পারে না। যদি আমার কথা ভুল হয়ে থাকে তাহলে তা ভুল প্রমান করার অনুরোধ রইলো। তবে খারাপ ভাষা বা হুমকি ধামকি দিয়ে নয়। আমাদের পৃথিবীতে প্রাতিষ্ঠানিক ধর্ম আছে প্রায় ৪০০০, এপর্যন্ত ধর্মের আবির্ভাবের সংখ্যা প্রায় ৫২০০। বর্তমানে ৭.৬ বিলিয়ন মানুষ এই পৃথিবীতে বসবাস করছে তাদের মধ্যে মাত্র ১.৮ বিলিয়ন মানুষ ইসলাম ধর্ম বিশ্বাস করে থাকে। এর মধ্যে সুন্নী ধারার অনুসারী সর্বাধিক, প্রায় ১.৫ বিলিয়ন। শিয়া ধারার অনুসারী তুলনামূলকভাবে অনেক কম, প্রায় ১৭০ - ৩৪০ মিলিয়ন। কিন্তু এই দুই গ্রুপের মধ্যে কতজন ধর্মপ্রান মানুষ এই ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে যথাযথ জ্ঞান রাখে তা কেউ বলতে পারবে না। আর যার কারনে তারা হাতে পেট্রোলের কন্টেইনার আর হাতে মশাল নিয়ে নারায়ে ত্বাকবীর বলে টিটু রায়দের উপরে ঝাপিয়ে পড়ছে।

১৯৪৭ সাল থেকে অবিভক্ত বাংলার এই বাংলাদেশটিকে পুর্বপাকিস্তান বলা হত। কারন তখন থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত আমাদের এই বাংলাদেশকে পাকিস্তানিরা শাসন শোষণ করেছে প্রায় ২৪ বছর। সেই বছরের ২৬ মার্চ থেকে শুরু করে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত দীর্ঘ ৯ মাস যুদ্ধ করে আমাদের বাংলাদেশ স্বাধীন করা হয়েছিলো ৩০ লক্ষ শহীদ আর প্রায় ২ লক্ষেরও বেশি মা বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে (মতান্তরে ভিন্নতা পাওয়া যেতে পারে)। এই সময়ে কিছু ধর্মপ্রান মুসলমান ছিলো। যারা সচক্ষে দেখেছিলো পাকিস্তানি বিহারী বা মুসলিম জাতি ১৯৪৭ সালে কিভাবে এই দেশে এসে অন্যের সম্পদ দখল করেছিলো ইসলামের নিয়ম গনিমতের মাল অনুযায়ী। আবার যখন ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন করা হলো তখনও মুসলমানেরা আবার সেই সব বিহারীদের সম্পদ লুট করেছিলো গনিমতের মাল বলেই। কিছু মানুষ তখন আমাদের দেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিলো তারাও মুসলান ছিলো। যারা মনে প্রানে চাইতো আমাদের এই দেশ সেই পাকিস্তানই থেকে যাক। এবং নিঃসন্ধেহে তারা ছিলো মুসলিম। তাদের ধারনা ছিলো পাকিস্তান একটি ইসলামিক দেশ এবং ইসলামের পক্ষেই তারা কথা বলেন আর যারা সেই দেশকে বাংলাদেশ বানাতে চাইছিলো তারা সবাই ইসলামের শত্রু। ইসলাম ধর্ম বিশ্বাসের কারনে তাদের এমন মনোভাব অপ্রাত্যশিত কিছুই ছিলোনা আর এই বিশ্বাস ও চিন্তা ধারা থেকে তারা বাংলাদেশের সাধারন মানুষের অসংখ্য ঘড়বাড়ী জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে দিয়েছিলো ১৯৭১ সালে। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সাথে যোগ দিয়ে অনেক লুটপাট করেছিলো অসহায় মানুষের থেকে।


কিন্তু আজ স্বাধীন দেশে তারা আর সেভাবে গনিমতের মাল বানিয়ে মুসলমান বা হিন্দুদের ধন সম্পদ লুট করতে পারছে না। তাই আস্রয় নিয়েছে নতুন পদ্ধতীর উপরে। তারাই আজকে টিটু রায়দের নাম ব্যাবহার করে এমডি টিটু নামের ফেসবুক আইডি তৈরি করে কিছু ধর্মীয় উস্কানী মুলক পোস্ট করে আমাদের দেশের মধ্যে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাধাচ্ছে। উদ্দেশ্য কিন্তু একই থাকছে ভাংচুর করে বাড়িঘরে আগুন দিয়ে তাদের ধন সম্পদ লুট করে দেশ থেকে বিতাড়িত করা। আর এই জন্যই তো আজ টিটু রায়েরা ২২% থেকে কমতে কমতে মাত্র ৮% এ এসে ঠেকেছে। এদের এই উদ্দেশ্য যদি সরকার ও দেশের জনগন বুঝতে না পারে তাহলে আগামীতে আর কোন টিটু রায়কে পাওয়া যাবে না। শুরুতে যে হিসেব দিয়েছিলাম ১.৮ বিলিয়নের সেই তারাই কিন্তু আজকের পৃথিবীতে মানব সভ্যতার যত ক্ষতি সুন্দর ভাবে সাধন করে আসছে। যার একটাই কারন তারা আসলে কোন ধর্ম সম্পর্কেই যথাযথ জ্ঞান রাখে না ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে তো আগেই না। আমি মাঝে মাঝে এদের দেখে চিন্তা করি আজ যদি ইউরোপ আমেরিকায় কোন হিন্দু ধর্মাবলম্বী কোন মুসলিম সম্প্রদায়ের উপরে ট্রাক তুলে বা বোমা মেরে কোন হত্যা যজ্ঞ চালাতো তাহলে আমাদের দেশের হিন্ধুদের কি হত।

সম্প্রতি ফেসবুক পোস্ট এর কারনে রংপুরের মুসলিম ভায়েরা এতই অনুভূতিতে আঘাত প্রাপ্ত হয়েছেন যে তাদের পবিত্র জুম্মার দিন তারা লাঠি শোঠা আর পেট্রোল এর কন্টেইনার হাতে নারায়ে ত্বাকবীর আল্লহু আকবার বলে প্রায় ৪০টি বাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছেন এবং সেসব বাড়ি লুটপাট করেছেন। পরবর্তীতে এই নারায়ে ত্বাকবীর পার্টিকে ঠান্ডা করতে পুলিশ গুলি চালালে দুজন আল্লার পথে যুদ্ধ করতে গিয়ে শহীদ হয়ে বেহেশতের টিকিটও পেয়েছেন বলে জানা যায়। এই কথা লেখার কারনে আমাদের দেশের সেকেন্ড মরিস বুকাইলি বলে পরিচিত পিনাকী ভট্টাচার্য বাবু যিনি এর আগেও এধরনের ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে গিয়ে মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তী সৃষ্টি করেছিলেন, বর্তমানে যিনি মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে গবেষনা করছেন, মুক্তিযুদ্ধের উপরে তিনি বইও লিখেছেন কিছুদিন আগে, তিনি আবারও এই ঘটনাতে সংখ্যালঘুদের একটু সান্তনা দেবেন কিনা তিনি উলটা তার বিশাল ফলোয়ার গ্রুপকে নানা ভাবে বোঝাচ্ছেন যেমন কুকুর তেমন মুগর টাইপের বিষয় হয়েছে।

কিন্তু দেখুন আজকে প্রমানীত হয়েছে যে ফেসবুক পোস্টের জের ধরে রংপুরে হিন্দুদের উপরে হামলা হয়েছে সেই পোস্ট কিন্তু সর্বোপ্রথম করেছেন খুলনার মাওলানা হামিদী নামের এক হুজুর। তিনি খুলনার দুইটি ইসলামিক সংগঠনের সাথেও জড়িত বলে কালের কন্ঠের কাছে শিকার করেছে। যে প্রফাইলের পোস্টকে কেন্দ্র করে এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে সার্বিক পর্যালোচনায় বেরিয়ে এসেছে সেই প্রোফাইল গত আগস্ট মাসে টিটু রায়ের নাম আর ছবি ব্যাবহার করে অন্য কেউ তৈরি করেছে। এতো কিছুর পরেও পিনাকী ভট্টাচার্যের মতো আমাদের দেশের কিছূ লোক, যে ছবিটি প্রথম আলো সবার আগে প্রকাশ করেছে রংপুরের ঘটনার সেটা রোহিঙ্গাদের ঘরবাড়ি পুড়ানোর দৃশ্য বলে গুজব ছড়িয়েছে ও ছড়াচ্ছে। পাশাপাশি আজ কালের কন্ঠ খুলনার সেই মাওলানা হামিদীর সেই পোস্ট যে পোস্ট এ পর্যন্ত ৮৭ বার শেয়ার করা হয়েছে তার ফেসবুক প্রফাইল থেকে তাও তারা মিথ্যা বলে প্রচার করছে। আসলে এরা কারা ? আমাদের একটু খুজে দেখতে হবে। আর সবাইকে খেয়াল রাখতে হবে যারা এধরনের কোন উদ্দেশ্য নিয়ে দেশের ভেতরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চাচ্ছে তাদের আগেই চিহ্নিত করে প্রসাশনের নজরে আনতে হবে। ফেসবুকে যারা এসব ঘটনার সত্যতা প্রচারের বিপক্ষে কথা বলছে তাদেরকেও চিহ্নিত করতে হবে যারা আমাদের পরোক্ষভাবে হুমকি দিয়েই চলেছে।

---------- মৃত কালপুরুষ
               ১৩/১০/২০১৭    
  




শুভ জন্মদিন হুমায়ুন আহমেদ।


আজ হুমায়ুন আহমেদের জন্মদিন। গুগল সার্চ ইঞ্জিন আজকের এই দিনে তাকে স্বরন করে তাদের ডুডলে এনেছে হুমায়ুন আহমেদের শ্রেষ্ট চরিত্র হিমু ও তার প্রতিকৃতি। হুমায়ূন আহমেদ (১৩ নভেম্বর, ১৯৪৮ — ১৯ জুলাই, ২০১২) বিংশ শতাব্দীর বাঙালি জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিকদের মধ্যে অন্যতম। তাঁকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা পরবর্তী শ্রেষ্ঠ লেখক গণ্য করা হয়। তিনি একাধারে ঔপন্যাসিক, ছোটগল্পকার, নাট্যকার এবং গীতিকার। বলা হয় আধুনিক বাংলা কল্পবিজ্ঞান সাহিত্যের তিনি পথিকৃৎ। নাটক ও চলচ্চিত্র পরিচালক হিসাবেও তিনি সমাদৃত। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা দুই শতাধিক। বাংলা কথাসাহিত্যে তিনি সংলাপপ্রধান নতুন শৈলীর জনক। তাঁর বেশ কিছু গ্রন্থ পৃথিবীর নানা ভাষায় অনূদিত হয়েছে, বেশ কিছু গ্রন্থ স্কুল-কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যসূচীর অন্তর্ভুক্ত। সত্তর দশকের শেষভাগে থেকে শুরু করে মৃত্যু অবধি তিনি ছিলেন বাংলা গল্প-উপন্যাসের অপ্রতিদ্বন্দ্বী কারিগর। এই কালপর্বে তাঁর গল্প-উপন্যাসের জনপ্রিয়তা ছিল তুলনারহিত।
তাঁর সৃষ্ট হিমু ও মিসির আলি চরিত্রগুলি বাংলাদেশের যুবকশ্রেণীকে গভীরভাবে উদ্বেলিত করেছে। তাঁর নির্মিত চলচ্চিত্রসমূহ পেয়েছে অসামান্য দর্শকপ্রিয়তা। তবে তাঁর টেলিভিশন নাটকগুলি ছিল সর্বাধিক জনপ্রিয়। সংখ্যায় বেশী না হলেও তাঁর রচিত গানগুলিো সবিশেষ জনপ্রিয়তা লাভ করে। তাঁর অন্যতম উপন্যাস হলো নন্দিত নরকে, মধ্যাহ্ন, জোছনা ও জননীর গল্প, মাতাল হাওয়া ইত্যাদি। তাঁর নির্মিত কয়েকটি চলচ্চিত্র হলো দুই দুয়ারী, শ্রাবণ মেঘের দিন, ঘেঁটুপুত্র কমলা ইত্যাদি। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক হিসাবে দীর্ঘকাল কর্মরত ছিলেন। লেখালিখি এবং চলচ্চিত্র নির্মাণের স্বার্থে তিনি অধ্যাপনা ছেড়ে দেন। ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানী সেনাবাহিনী তাঁকে আটক করে এবং নির্যাতনের পর হত্যার জন্য গুলি চালায়। তিনি অলৌকিকভাবে বেঁচে যান।
হুমায়ূন আহমেদ ১৯৪৮ সালের ১৩ই নভেম্বর তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের ময়মনসিংহ জেলার অন্তর্গত নেত্রকোণা মহুকুমার মোহনগঞ্জে তাঁর মাতামহের বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা শহীদ ফয়জুর রহমান আহমদ এবং মা আয়েশা ফয়েজ। তাঁর পিতা একজন পুলিশ কর্মকর্তা ছিলেন এবং তিনি ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তৎকালীন পিরোজপুর মহকুমার এসডিপিও (উপ-বিভাগীয় পুলিশ অফিসার) হিসেবে কর্তব্যরত অবস্থায় শহীদ হন। তার বাবা সাহিত্য অনুরাগী মানুষ ছিলেন। তিনি পত্র-পত্রিকায় লেখালিখি করতেন। বগুড়া থাকার সময় তিনি একটি গ্রন্থও প্রকাশ করেছিলেন। গ্রন্থের নাম দ্বীপ নেভা যার ঘরে । তাঁর মা'র লেখালিখির অভ্যাস না-থাকলেও একটি আত্ম জীবনী গ্রন্থ রচনা করেছেন যার নাম জীবন যে রকম । পরিবারে সাহিত্যমনস্ক আবহাওয়ায় ছিল।
তাঁর অনুজ মুহম্মদ জাফর ইকবাল দেশের একজন বিজ্ঞান শিক্ষক এবং কথাসাহিত্যিক; সর্বকনিষ্ঠ ভ্রাতা আহসান হাবীব রম্য সাহিত্যিক এবং কার্টুনিস্ট। তাঁর রচিত উপন্যাস থেকে জানা যায় যে ছোটকালে হুমায়ূন আহমেদের নাম রাখা হয়েছিল শামসুর রহমান; ডাকনাম কাজল। তাঁর পিতা (ফয়জুর রহমান) নিজের নামের সাথে মিল রেখে ছেলের নাম রাখেন শামসুর রহমান। পরবর্তীতে আবার তিনি নিজেই ছেলের নাম পরিবর্তন করে ‌হুমায়ূন আহমেদ রাখেন। হুমায়ূন আহমেদের ভাষায়, তাঁর পিতা ছেলে-মেয়েদের নাম পরিবর্তন করতে পছন্দ করতেন। তাঁর ছোট ভাই মুহম্মদ জাফর ইকবালের নাম আগে ছিল বাবুল এবং ছোটবোন সুফিয়ার নাম ছিল শেফালি। ১৯৬২-৬৪ সালে চট্টগ্রামে থাকাকালে হুমায়ুন আহমেদের নাম ছিল বাচ্চু।
ছবিঃ কলুর বলদ।
---------- মৃত কালপুরুষ
             ১৩/১০/২০১৭

শনিবার, ১১ নভেম্বর, ২০১৭

প্রকৃত ভার্চুয়াল জগৎ “অকুলাস গো” (Oculus Go)


নতুন প্রজন্মের ভি আর বা ভার্চুয়াল রিয়েলিটির অনাগত প্রযুক্তি ফেসবুকের “অকুলাস গো” সম্পর্কে কিছু ভুলধারনার কারনে আমার এই রিভিউটি লেখা। আসছে আগামী বছর ২০১৮ এর শুরুতেই আমরা এক প্রকৃত ভার্চুয়াল জগৎ এ প্রবেশ করতে যাচ্ছি বলে জানিয়েছেন ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা “মার্ক জুকারবার্গ” ও “হুগো বাররা” ভাইস প্রেসিডেন্ট, ভার্চুয়াল রিয়েলিটি। তারা বলেছে আজকে আমরা প্রযুক্তির গুরুত্বপুর্ণ সকল বিষয় উপোভোগ করে চলেছি। ভার্চুয়াল রিয়েলিটি বা ভি,আর এর সাথে আমরা সবাই পরিচিত আছি তাই এটা নিয়ে কিছু বলার প্রয়োজন নাই আশা করি। ভি,আর বা ভার্চুয়াল রিয়েলিটির জগতে আরেকটি নতুন মাত্রা যোগ হতে চলেছে যা আমাদের দেবে আরো স্বাধীনতা ও আরো বেশি এক্সেস করার সুবিধা। এটি ডিজাইন করা হয়েছে সেভাবেই যা পুর্বের সকল ভি,আর এর অভিজ্ঞতা থেকে অন্য কিছু দিবে আমাদের। পুর্বের ভি,আর হেডসেট গুলার মতো এতে মোবাইল ফোন বা ক্যাবল কানেক্ট করার প্রয়োজন পড়বে না। তারা আরো জানান অকুলাস গো হবে খুব সহজে ত্রিডি জগতে প্রবেশ করার সব চেয়ে সহজ উপায়। যার মুল্য ধরা হয়েছে ১৯৯ ডলার। এটি থেকে মানুষ ভার্চুয়াল জগতের মাধ্যমে সকল স্বাদ নিতে পারবেন, যেমন ত্রিডি মুভি দেখা, কোন লাইভ কনসার্ট দেখা, ভি,আর গেম খেলা ও বন্ধুদের সাথে লাইভে ভার্চুয়াল এর মাধ্যমে আড্ডা দেওয়া।


আসুন একটু দেখে নেই এই “অকুলাস গো” তে আসলেই কি থাকছে। প্রথমেই বলতে হয় এই ডিভাইসে থাকছে হাই রেজুলেশন ফার্স্ট সুইচ ওএলসিডি (OLED) স্ক্রিন সাথে আরো একটি স্ক্রিন টেকনোলজি এড করা হয়েছে যা চাক্ষুস স্পষ্টতা আরো বৃদ্ধি করবে যার রেজুলেশন অত্যান্ত হাই (২৫৬০ X ১৪৪০) যা প্রকৃত বাস্তব অনুভূতি দিবে ব্যাবহারকারীকে। আর বিশেষ করে নেক্সট জেনারেশনের উন্নত লেন্স ও গ্লাস এই থ্রিডি জগতের বাস্তবতা আরো ফুটিয়ে তুলবে। অকুলাস গো এর ফেব্রিক ব্যান্ড এর সাথেই আছে সাউন্ড সিস্টেম যা তে করে আলাদা হেডফোন ব্যাবহার করার প্রয়োজন নেই। সাথে বিল্ট ইন মাউথ স্পিকারও আছে। এর মাধ্যমে খুব সহজেই বন্ধুদের মাধ্যমে কথা বলা ও শোনা যাবে তবে কেউ চাইলে আলাদা হেডফোন ব্যাবহার করতে পারেন তার জন্য এই ডিভাইসে থাকছে একটি ৩.৫ মিমি হেডফোন জ্যাক। এই অকুলাস গো ভি,আর হেডসেটটি খুবই হাল্কা ও সহজে ব্যাবহার উপযোগী একটি ডিভাইস যার বেল্ট গুলি তৈরি করা হয়েছে খুবই নরম একজাতীয় ফেব্রিক যার সাথে থাকছে ইলাস্টিক।


ফেসবুকের মালিকানাধীন ওকুলাস গো ভিআর এর ভাইস প্রেসিডেন্ট হুগো বাররা আরো ঘোষণা করেছে, এটি একটি নতুন স্বতন্ত্র ভিআর হেডসেট যা পিসি বা স্মার্টফোনে সংযোগের প্রয়োজন থেকে ব্যবহারকারীদের মুক্ত করবে। তাই এতে থাকছে আরো উন্নত প্রযুক্তি। অকুলাস গো এর ভি আর হ্যাডসেটটিতে যে স্ক্রীন থাকবে  তাতে “ফিল ফ্যাক্টর” নামের একটি নতুন প্রযুক্তি যোগ করা হয়েছে যার কারনে ব্যাবহারকারী পিক্সেলের মাঝে যে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ফাকা অনুভব করতেন তার প্রভাব কমে যাবে। ব্যাবহারকারীর শরীরের অবস্থান ও তার দুই হাতের অবস্থান সনাক্ত করার জন্য থাকছে এই ডিভাইসটির সামনে সেন্সর ও ক্যামেরা যা অবস্থা্নগত ট্র্যাকিংযের সাহায্যে করবে। অকুলাস গো স্মার্টফোন চালিত গুগল ডে-ড্রীম এবং স্যামসাং গিয়ার ভিআর ও কর্ডবোর্ডের মতো ভিআর হ্যাডসেট বা ডিভাইস গুলি থেকে অনেক উন্নত হবে যাকে কিছুটা এইচটিসি ভাইভ এর উচ্চমাত্রার পিসি চালিত হ্যাডসেটের সাথে তুলনা করা যায়। এছাড়াও গিয়ার ভিআরের সকল এপস এতে সাপোর্ট করবে পাশাপাশি ফেসবুকের নতুন নতুন অকুলাস গো রেগুলার এপস থাকবে।


গত অক্টোবর মাসে এই সেমিনারে মার্ক জুকারবার্গ জানিয়েছিলেন ২০১৮ সালের প্রথম দিকে এটি সবাই কিনতে পারবে তবে চলতি মাসেই শুধুমাত্র ডেভেলপাররা এটি কিনে ব্যাবহার করতে পারছে। তিনি আরো বলে আমি আশা করছি প্রথম ধাপেই আমরা ১ বিলিয়ন মানুষকে এই থ্রিডি জগতে আনতে সক্ষম হবো অকুলাস গো এর মাধ্যমে। জুকারবার্গ এই ডিভাইসটিকে বলেছে এটি একটি “সর্বাধিক এক্সসেযোগ্য ভিআর হ্যাডসেট” ( “most accessible VR headset ever.”) হবে।


শুধু অকুলাস গো না সাথে এর আরেকটি ভার্সনের কথায় জানিয়েছেন মার্ক জুকারবার্গ। যার নাম হচ্ছে “অকুলাস গো সান্তা ক্রুজ” যেটি আরো উন্নত কিছু প্রযুক্তি নিয়ে সামনে আসছে। কিন্তু কবে নাগাত সেটি সাধারন ব্যাবহারকারীরা হাতে পাবে সে ব্যাপারে কিছুই বলনি। তবে আগামী বছরের শুরুতে যখন অকুলাস গো সবাই কিনতে পারবে তখন ডেভেলপাররা এই অকুলাস গো সান্তা ক্রুজ ডিভাইসটি কিনে ব্যাবহার করতে পারবে বলে জানানো হয়। সান্তা ক্রুজে থাকছে রঙ ও অল্প কিছু ভিন্নতা ও হাতের জন্য অত্যাধুনিক কন্ট্রোলার সুবিধা।

---------- মৃত কালপুরুষ
               ১১/১১/২০১৭


শুক্রবার, ১০ নভেম্বর, ২০১৭

ইয়েমেন চলছে মুসলমান সৃষ্ট দুর্ভিক্ষ, বাংলাই ফেসবুক অনুভুতি।


সৌদি আরবের সৃষ্ট কৃত্রিম দুর্ভিক্ষ চলছে মুসলমানেদের দেশ ইয়েমেনে। তা বরাবরের মতোই অস্বীকার করে ও কিছু নির্লজ্জ মুমিন বান্দা এই বলে প্রচার করছে ইয়েমেনে যে হামলা আর হত্যা ও খাদ্য সংকট তৈরি করে দুর্ভিক্ষ তৈরি করে মানুষকে হত্যা করা হচ্ছে তাতে নাকি সৌদি আরবের কোন হাত নেই। অর্থাৎ সৌদি আরব নাকি কিছুই জানে না এমন ভাব। উলটা বলা হচ্ছে এসব ইহুদী নাসারাদের ষড়যন্ত্র। হাইরে মুমিন এ কেমন মুমিন আপনারা, এ কেমন মুসলমান। গত আগস্ট মাসের ২৪ তারিখে মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যের কিছু পুলিশ ক্যাম্প ও আর্মি ক্যাম্পে মুসলিম সন্ত্রাসী ও জিহাদী সংগঠন “আরসা” সসস্ত্র হামলা চালিয়ে ১৪ জন আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহীনির সদস্যকে হত্যা করার পর সেদেশের সরকার বাধ্য হয়ে এই সন্ত্রাসী রোহীঙ্গা জাতি উচ্ছেদের নামে তাদের দেশ থেকে বিতাড়িত করলো তাতে আপনাদের দয়ার আর মুসলমান ভায়েদের রক্ষার কোন কমতি রইলো না। আর ইয়েমেন সেই মুসলমানেদের মোড়ল বাবা সৌদি আরব যখন আরেক মুসলমানের উপরে তার স্বার্থের জন্য তাদেরকে হত্যা করছে খাবার আর পানি বন্ধ করে তাদেরকে ধ্বংস করে দিচ্ছে সেদিকে আপনাদের কোন খেয়াল নাই।
ফেসবুকে কিন্তু মুসলিম মুমিন ভায়েদের এক্টিভিটি আসলেই দেখার মতো। এতই অনুভুতি তাদের যে, সামান্য লেখা দেখেই বা ফেসবুকের কোন পোস্ট দেখেই তারা যুদ্ধে নেমে যেতে রাজি মনে হচ্ছে। ইয়েমেনের মানুষ হত্যা কোন ব্যাপারই না। আমার মনে হয় ফেসবুকের যত ইউসার আছে তাদের উচিত ফেসবুক কর্তৃপক্ষকে জানানো যে, এই মুসলিম বা মুমিন জাতিদের যেন ফেসবুক ব্যাবহার করতে না দেওয়া হয়। কারন এরা ফেসবুক যতটুকু না ব্যাবহার করে বা যতটুকু তারা লাভবান হয় তার থেকে তারা মানব সভ্যতার বেশি ক্ষতি করে। তাই কি আসলেই উচিত না যে মানব সভ্যতা রক্ষার্থে এই মুসলমান জাতির ফেসবুক ব্যাবহার বন্ধ করা ? কারন দেখুন গতকালও তারা ইসলাম প্রতিষ্ঠার নামে আর ফেসবুকের লেখাতে অনুভূতিতে আঘাত পাবার নামে রংপুরের বেশ কিছু বাড়িঘর জ্বালিয়ে পুড়িয়ে লুটপাট করে এমন এক বিশৃঙ্খলা তৈরি করেছে শেখানে যে পরবর্তীতে পুলিশ বাহীনি এসে রাবার বুলেট আর টিয়ার্শেল দিয়ে নিয়ন্ত্রন করতে হয়েছে এই মুমিন ভায়েদের। মুমিনদের যদি এতই নরম অনুভূতি হবে তাহলেই এই ফেসবুক ব্যাবহার না করাই ভালো তাদের।      
এই ঘটনা পড়লে আপনারও আমার মতো চিন্তা হতে পারে। ফেইসবুকে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে রংপুরে মিছিল নিয়ে হিন্দুদের বাড়িঘরে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ কারণে পাগলাপীর মমিনপুর হাড়িয়াল কুঠিসহ আশেপাশের এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় পুলিশের সঙ্গে মুসল্লিদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শত শত রাউন্ড টিয়ারসেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে পুলিশ। এতে ২৫ জন আহত হয়েছেন। কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আজিজুল ইসলাম জানান, সদর উপজেলায় খলেয়া ইউনিয়নের ঠাকুরপাড়া গ্রামে শুক্রবার বেলা ৩ টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। তিনি বলেন, “একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে কিছু লোক স্থানীয় টিটু রায়ের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। এ সময় পাশের ধীরেন রায়ের আরও দুটি বাড়ি পুড়ে যায়।খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে বলে জানান তিনি। এ সময় পুলিশের রাবার বুলেটে মাহাবুবুল, জামিল ও আলিম নামে তিন ব্যক্তি আহত হন। তাদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে পরিদর্শক আজিজুল জানান।  
ঠাকুরপাড়া গ্রামের পাগলাপীর জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সদস্য রফিকুল ইসলাম মাস্টার বলেন, আট/নয়দিন আগে স্থানীয় এক যুবক তার ফেইসবুকে ধর্মীয় অবমাননাকরছবি পোস্ট করেন। মঙ্গলবার ওই যুবককে গ্রেপ্তারের দাবিতে মিছিল করে এলাকাবাসী। তিনি বলেন, পরে তারা পুলিশ সুপারের কাছে গিয়ে তাকে গ্রেপ্তারের জন্য ২৪ ঘণ্টা সময় বেঁধে দেন। কিন্তু তাকে গ্রেপ্তার না হওয়ায় দুপুরে তারা আবার বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। এসময় পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। এর মধ্যেই টিটুর বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে বলে রফিকুল ইসলামের ভাষ্য। এদিকে বিক্ষুব্ধ মুসল্লিরা ঠাকুরবাড়ি গ্রামের অন্তত ৩০টি বাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করে ও আগুন জ্বালিয়ে দেয়। বেশ কয়েকটি বাড়ির মালামাল লুট হয়েছে বলে অভিযোগ গ্রামের হিন্দু পাড়ার মানুষদের।
ছবিঃ কলুর বলদ
--------- মৃত কালপুরুষ
              ১০/১১/২০১৭


শহীদ নূর হোসেন দিবস আজ।


নূর হোসেন (১৯৬১ - ১০ নভেম্বর ১৯৮৭) বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সবচেয়ে স্মরণীয় নাম। ১৯৮৭ সালের ১০ নভেম্বর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি লেফটেন্যান্ট জেনারেল হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে সংগঠিত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলন চলাকালে পুলিশের গুলিতে তিনি নিহত হন। নূর হোসেনের পৈতৃক বাড়ি পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া উপজেলার ঝাটিবুনিয়া গ্রামে। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের পর তার পরিবার স্থান পরিবর্তন করে ঢাকার৭৯/১ বনগ্রাম রোডে আসে। পিতা মুজিবুর রহমান ছিলেন পেশায় অটো-রিকশা চালক। তাঁর মায়ের নাম মরিয়ম বিবি। অথর্নৈতিক অসচ্ছলতার কারণে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত পড়ার পর নূর হোসেন পড়াশোনা বন্ধ করে মোটর চালক হিসেবে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। নূর হোসেন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। তিনি ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের বনগ্রাম শাখার প্রচার সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন।
১৯৮৭ সালের ১০ই নভেম্বর দেশের দুটি রাজনৈতিক দল বিএনপি ও আওয়ামী লীগ একত্র হয়ে স্বৈরশাসক এরশাদের পতনের লক্ষ্যে ঢাকা অবরোধ কর্মসূচির ঘোষণা করে। এরপূর্বে এরশাদ ১৯৮২ সালে একটি সেনা উত্থানের মধ্যদিয়ে ক্ষমতা গ্রহণ করেন এবং ১৯৮৭ সালের নির্বাচনে জয়্লাভ করেন, কিন্তু বিরোধী দলগুলো তার এই নির্বাচনকে জালিয়াতি বলে অভিযুক্ত করে। তাদের একমাত্র দাবী ছিল নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নিয়ন্ত্রনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন করা। অবরোধ কর্মসূচীর অংশ হিসেবে ঢাকায় একটি মিছিলে নূর হোসেন অংশ নেন এবং প্রতিবাদ হিসেবে বুকে পিঠে সাদা রঙে লিখিয়ে নেন “স্বৈরাচার নিপাত যাক, গণতন্ত্র মুক্তি পাক” । মিছিলটি ঢাকা জিপিও-র সামনে জিরো পয়েন্টের কাছাকাছি আসলে স্বৈরশাসকের মদদপুষ্ট পুলিশবাহিনীর গুলিতে নূর হোসেনসহ মোট তিনজন আন্দোলনকারী নিহত হন, এসময় বহু আন্দোলনকারী আহত হন। নিহত অপর দুই ব্যক্তি হলেন যুবলীগ নেতা নুরুল হূদা বাবুল এবং আমিনুল হূদা টিটু।
এই হত্যাকান্ডের প্রতিক্রিয়া স্বরূপ বিরোধী দলগুলো ১১ ও ১২ই নভেম্বর সারা দেশে সকাল সন্ধ্যা হরতাল ঘোষনা করে। বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী মানুষ বিক্ষোভে ফেটে পড়েন, ফলে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন আরোও ত্বরান্বিত হয়। এই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর জেনারেল এরশাদ পদত্যাগ করেন। এর মধ্য দিয়ে স্বৈরাচারী সরকারের পতন ঘটে গণতন্ত্র পুণ-প্রতিষ্ঠিত হয়। এরশাদ পদত্যাগ করলে বাংলাদেশে দুটি হ্যাঁ-না ভোটের মধ্য দিয়ে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার এবং প্রধানমন্ত্রী শাসিত সরকার ব্যবস্থা চালু হয়। জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, এতে বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। এর এক বছর পর সরকারের পক্ষ থেকে নূর হোসেন এর মৃত্যুর দিনটি সরকারীভাবে উদযাপনে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। দিনটিকে প্রথমে ঐতিহাসিক ১০ই নভেম্বর দিবস হিসেবে ঘোষনা করা হলেও আওয়ামী লীগ এটিকে শহীদ নূর হোসেন দিবস করার জন্য সমর্থন প্রদান করে এবং এই নামটি এখন পর্যন্ত বহাল রয়েছে।পদত্যাগের পর এরশাদের জাতীয় পার্টি আওয়ামী লীগের সাথে একত্রে মহাজোট গঠন করে। ১৯৯৬ সালে এরশাদ, নূর হোসেনের মৃত্যুর জন্য জাতীয় সংসদে অফিসিয়াল ভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করে। তার দল জাতীয় পার্টি এখন ১০ই নভেম্বরকে গণতন্ত্র দিবস হিসেবে পালন করে।
২০১২ সালে এরশাদ অভিযোগ করেন বিরোধী দলগুলো নূর হোসেনকে তার সরকার বিরধী একটি প্রতীকে রুপান্তরিত করেছে। তিনি বলেন, "আপনারা (বিরোধী দল) আমাকে সরাতে লাশ নিয়ে এসেছিলেন, কারণ আন্দোলনকে চাঙ্গা করতে এটা দরকার ছিল।" প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১০ই নভেম্বরের স্মৃতিচারন করে বলেন, সেদিন আমরা যখন মিছিল শুরু করছিলাম তখন নূর হোসেন আমার পাশে দাড়িয়ে ছিল। আমি তাকে কাছে ডাকলাম এবং বললাম তার গায়ের এই লেখাগুলোর কারণে তাকে পুলিশ গুলি করবে। তখন সে তার মাথা আমার গাড়ির জানালার কাছে এনে বলল, "আপা আপনি আমাকে দোয়া করুন, আমি গণতন্ত্র রক্ষায় আমার জীবন দিতে প্রস্তুত।" নূর হোসেনের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তার নামে স্মারক ডাকটিকেট প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতি বছরের ১০ই নভেম্বর বাংলাদেশে নূর হোসেন দিবস হিসেবে পালন করা হয়। এছাড়া তিনি যে স্থানে পুলিশের গুলিতে নিহত হন, তার নামানুসারে সেই জিরো পয়েন্টের নামকরণ করা হয়েছে নূর হোসেন স্কয়ার। ১০ই নভেম্বর তার মৃত্যুর কিছু সময় পূর্বে তোলা তার গায়ে লেখাযুক্ত আন্দোলনরত অবস্থার ছবিটি বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
সুত্রঃ উইকিপিডিয়া। ছবিঃ অনীশ্বরবাদী।
---------- মৃত কালপুরুষ
              ১০/১১/২০১৭