শুক্রবার, ১০ নভেম্বর, ২০১৭

ইসলাম ধর্ম নারীকে দিয়েছে সর্বোচ্চ সম্মান।


দেখুন, ধর্মানুভূতি সকল ধার্মিকের আছে আমি জানি। আর এটা কেমন অনুভূতি তা আমারও জানা আছে। আমার লেখা পড়ে কারো যদি কোন প্রকার অনুভূতিতে আঘাত লাগে তাহলে বলবো আবার নতুন করে প্রাথমিক শিক্ষা থেকে শুরু করুন। কারন সুশিক্ষাই শিক্ষিত হয়ে এখানে আসলে আর অনুভতিতে আঘাত লাগবে না। আর সেটা না করতে পারলে সিলিং ফ্যান এর সাথে ঝুলে পড়তে বলবো না বলবো লেখাটা পড়ে বোঝার চেষ্টা করুন আর কি কি ভুল আছে আমাকে ধরিয়ে দিন।

এই যুগে এসেও যদি কেউ এমন কথা বলে তাহলে কেমন লাগে বলেন “ইসলাম ধর্ম নারীকে দিয়েছে সর্বোচ্চ সম্মান যা আর অন্য কোন ধর্ম দেইনি” সব চেয়ে বড় দুঃখজনক কথা হচ্ছে শিক্ষিত নারীরা যখন এই কথা বলে। আর পুরুষদের কথা কি বলবো। ডক্টরেট করা বা পিএইচডি করা একজন ধার্মিক নারীর সাথে যদি ইসলাম বিষয়ক কোন আলাপ হয় সে দুই চার মিনিট কথা বলার পরে বলে যে আপনার সাথে এই বিষয়ে কথা বলাই উচিত হয়নি আপনি আপনার মতো থাকুন আর আমাকে আমার মতো থাকতে দিন। কথা হচ্ছে তাহলে আপনি এই জাতীয় মিথ্যাচার কেন করবেনআর যদি না বুঝে বলে থাকেন সেটাই না হয় বলুন। ও আচ্ছা প্রেস্টিজ বলে কথা তাই না যদি বলি আপনি কি কোরান আর হাদিস বুঝে পড়েছেন নাকি না বুঝে তাহলে তো বলবেন অবশ্যয় বুঝে পড়েছি। তাহলে আমার কথা হচ্ছে আপনি কেন কোরান আর হাদীসের এই আয়াত গুলা দেখেন নাই বা জানেন না।

ইসলাম ধর্মের মূল গ্রন্থ পবিত্র আল কোরানের আয়াত ৪:৩৪ এবং ২:২২৮ এ বলা হচ্ছে “অবশ্যয় নারীর অবস্থান পুরুষের নিচে” আল কোরান (আয়াত নং ২:২৮২) “অবশ্যয় নারীর মর্যাদা পুরুষের অর্ধেক” আল কোরান (আয়াত নং ২:২২২) “রজ্বচক্র চলাকালীন তারা অপবিত্র” আরো অনেক যায়গায় নারীকে ছোট করা হয়েছে যা বলে শেষ করা যাবে না। এমনকি নারীকে ধর্ষনের কথাও বলা হয়েছে। এখন আমি এই কথা বললে অনেক মডারেট মুসলিম নারী ও মুসলিম ভায়েরা বলবেন দেখেন আপনি সঠিকভাবে কোরান বুঝতে পারছেন না আপনার উচিত হবে এই এই আয়াতের আগের আয়াত আর পরের আয়াত কি বলছে তা ভালো করে আগে বোঝা ও সেই সাথে আমাদের নবীজী যেই সকল হাদীসের বানী দিয়েছিলেন সেগুলো পড়া। এখন কথা হচ্ছে হাদীসের কথা যদি বলি তাহলে কি হবে জানেন ? দেখেন তাহলে।

ইসলাম ধর্মের অনুসারিদের সব থেকে বেশি গ্রহনযোগ্য এবং সর্বাধিক পাঠিত হাদিস গুলা থেকে মাত্র ৫ টি হাদিস দিচ্ছি মিলিয়ে দেখুন আমি কথা দিচ্ছি কেউ চাইলে আমি এরকম শত শত হাদিস দেখাতে পারি কোন সমস্যা নাই, তবে আমাকে কেউ হুমকি দিতে পারবেন না। (সহী বুখারী শরিফ – ৫:৫৬:৫২৪ “নারী পুরুষের অধিকৃত সম্পত্তি”) তারপর দেখুন “তারা নিকৃষ্ট”(সহী বুখারী শরীফ – ৯:৮৮:২১৯) তারপর দেখুন “বুদ্ধীহীন” (সহী বুখারী শরিফ – ২:২৪:৫৪১) তারপর দেখুন “তারা কুকুরের সমতুল্য” (সহী বুখারী শরিফ – ১::৪৮৬ ও ১::৪৯০ ও ১::৪৯৩ ও সহী মুসলিম – ৪:১০৩২ ও ৪:১০৩৪ ও ৪:১০৩৮-৩৯ ও আবু দাউদ ২:৭০৪) বেশি না আর একটা দেখবো লজ্জার কিছু নাই “পুরুষ কর্তৃক নারীকে ধর্ষনের অনুমোদন” (আল কোরান – ৭০:২৯-৩০ এবং আবু দাউদ – ১১:২১৫৩ এবং ৩১:৪০০৬ এবং সহী বুখারী শরিফ – ৫:৫৯:৪৫৯ এবং ৮:৭৭:৬০০ এবং ৮:৩৪৩২ এবং ৮:৩৩৭১) এই সমস্ত হাদীসে এই কথা গুলা স্পষ্ট করে বলা আছে আমার কাছে খুবই দুঃখ লাগে যখন এই সব না দেখে নারীরাই যুক্তিতর্কে লিপ্ত হয় আর বলে “ইসলাম নারীকে দিয়েছে সর্বোচ্চ সম্মান” আপনার চোখে কাঠের চশমা লাগানো আছে আপনি দেখবেন কিভাবে।

এবার কিছু কথা শুনুন, আমাদের দেশের বেশি না মাত্র ২০০ বছর আগের কিছু ইতিহাস পড়ে দেখুন সেখানে পাবেন প্রতিটি সমাজে খুবই অল্প কিছু মানুষ শিক্ষিত ছিলো যারা মানবতার কথা বুঝতো এবং মনে করতো প্রচলিত ধর্ম গুলা সবই কুসংস্কার। কিন্তু বাদবাকি সবাই ছিলো গোড়া ধার্মিক টাইপের তারা ধর্মকর্ম মেনে চলতো যারা ছিলো আমাদের পুর্বপুরূষ। তাদের ভেতরে যদি এমন আচরন লক্ষ করা যায় তাহলে আমাদের অবাক হবার কিছুই নাই কারন এটা প্রত্যশিত ব্যাপার ছিলো। কিন্তু এই যুগে ২০১৭ সালে এসে যদি বলে ইসলাম ধর্মই দিয়েছে নারীকে সর্বোচ্চ মর্যাদা তাহলে তাকে কি বলা উচিত আমি জানি না। অবশ্য সোস্যাল মিডিয়া গুলাতে এদের একটা নাম আছে। এবার একটু ভেবে দেখুন সেই ১৪০০ বছর আগের মানুষের কথা তার কি মনে করে ইসলাম ধর্ম গ্রহন করেছিলো তা আমি জানি কিন্তু এখন বলবো না সেটা অন্য গল্প। আর তখন মূলত শিক্ষিত ও জানাবোঝা মানুষের সংখ্যা কত ছিলোইসলামের প্রচারক নবী মুহাম্মদ (সাঃ) এর জন্ম ৫৭০ খ্রিস্টাব্দ থেকে ৬৩২ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত যেই সময়টা ছিলো আমি সেই সময়ের কথা বলছি পারলে একটু ইসলামের ইতিহাস ঘেটে দেখবেন নারীকে আপনার ইসলাম কতটা সম্মান দিয়েছে।

শুধু তাই না আরো কিছু গুরুত্বপুর্ণ ইনফরমেশন দিচ্ছি। ইসলাম ধর্মের প্রচারক শ্রেষ্ঠ নবী ও শ্রেষ্ঠ মানব ও শ্রেষ্ঠ চরিত্রের অধিকারী নবী মোহাম্মদ (সা:) এর উপরে পবিত্র গ্রন্থ কোরান নাজিল হয়েছিলো তার বয়স যখন ৪০ বছর মানে ৬১০ খৃষ্টাব্দে। কিন্তু তা তখনই কাগজ কলমে লেখা হয় নাই। তা মুখস্ত করে রেখেছিলো হাফেজ গন (যারা কোরান মুখস্ত করে তারা হাফেজ)। এই হাফেজদের একত্রিত করে তারও অনেক পরে মানে প্রায় ২০০ বছর পরে হজরত ওসমান (রাঃ) এই আল কোরান লিপিবদ্ধ করান। এখন কথা হচ্ছে, আজ থেকে মাত্র ৪৬ বছর আগের কথা এই আধুনিক যুগে এসে মিলানো কঠিন হয়ে যাচ্ছে যেমন ধরুন, স্বাধীনতা যুদ্ধে আমাদের এই সুন্দর সবুজ শ্যামল দেশটিকে কিছু মানুষ ইসলামিক আইন গঠন করার জন্য পাকিস্তানী আলবদর বাহিনীকে সাহায্য করে প্রায় ৩০ লক্ষ মানুষ ও ২ লক্ষের অধিক নারীর ইজ্জত লুটেছিলো তাদেরকেই আজকের বাংলাদেশের মানুষ সঠিক ভাবে চিনতে পারছে না। তবে এটা নিশ্চিত থাকেন তারা ছিলো সকলেই মুসলাম। তাহলে কিভাবে সেই যুগে ২০০ বছর পরে একজন মানুষের চরিত্র --- আমি বুঝি না এতোকিছু, আপনারা ভেবে নিন।

আসলে প্রথমে যেই শিক্ষিত ডক্টরেট আর পিএইচডি করা যেই নারী দুজনের কথা বলছিলাম না তারা আসলে শিক্ষিত হয়েছে কিন্তু বাপ দাদার উত্তরাধীকার সূত্রে পাওয়া তাদের ধর্মটিকে ক্রিটিক্যালি এনালাইসিস করার প্রয়োজন মনে করেনি তাই এই অবস্থা। যদি এরকম আচরন আমাদের দেশের নিন্ম শিক্ষিত বা একেবারেই অশিক্ষিত কোন মানুষ বলতো তাহলে আমি এসব কিছুই লেখতাম না বিলিভ মি। কারন আমি মনে করি সেই শ্রেনীর জন্য এসব জানা আসলেই খুবই কঠিন ব্যাপার আমাদের এই ধর্মান্ধ সমাজে। আর এই যে শিক্ষিত সমাজে এমন মনোভাব হবার কারন কি জানেন ?

অশিক্ষিত এসব মানুষের মতো সমাজের উচ্চশিক্ষিত নারীদের এই মা্নুষিকতা গুলা বা ইসলামিক জ্ঞান এসেছে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মসজিদ, মাদ্রাসা, তাবলিগ, ওয়াজ মাহফিলে মৌলভি সাহেবের বয়ান, কিছু ইসলামী টিভি চ্যানেল, কিছু বিশেষ বিশেষ ইসলামি বই, খবরের কাগজের আর্টিকেল, কিছু আলাপচারিতা ও বিখ্যাত ডাঃ জাকির নায়েকের মিথ্যাচার থেকে। এইসব নারীরা কোরান তেলাওয়াত করেন অনেক ভক্তি দিয়ে কিন্তু সেটা আরবিতে এবং একেবারেই না বুঝে। তাদের ভেতরে ৫০% পাওয়া যাবে যারা তাদের পুর্ণ জীবনে হয়তো একটিবারের জন্যও ব্যাখ্যাসহ সম্পুর্ন কোরানের তর্জমা পড়েনি। আর পড়ে থাকলেও এখানে অন্তর্নিহিত বিষয়গুলি একটিবারের জন্যও বোঝার চেষ্টা করেননি বা একটু কঠিন দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে দেখেননি। সমস্যা হচ্ছে তাদের মস্তিষ্ক এমনভাবে জাংক হয়ে আছে হিজাব পরার কারনে তারা স্বীকারও করতে চাননা তারা কোরান বুঝে পড়েননি। হাজার হলেও প্রেস্টিজ বলে একটা কথা আছে সাথে অপমানিত বোধও। আমি দুঃখিত এভাবে বলার জন্য। বলার কারন হচ্ছে যেখানে বর্তমান সমাজে নারীরা সমতার লক্ষ্যে এই সব কুসংস্কার থেকে বেরিয়ে আসতে চাচ্ছে সেখানে তারাই কেন আবার তাদের আচল ধরে টান দিচ্ছে বুঝিনা। অনেক সিনিয়র নারীবাদী আবার বলছেন আস্তিক হলেও নারীবাদী হওয়া যায় আর যারা এসব বোঝে না তার শিশু আর তাই আমিও এসব বুঝিনা। অনেক বলে ফেলেছি আজ আর নই। আবার আলোচনা হবে সে পর্যন্ত শুভকামনা।

---------- মৃত কালপুরুষ
         ১৯/১০/২০১৭             


বৃহস্পতিবার, ৯ নভেম্বর, ২০১৭

বাংলাদেশের হারানো ঐতিহ্য “নৌকা বাইচ”



প্রাপ্ত ইতিহাস অনুযায়ী ধারনা করা হয় মিশরীয়রা পৃথিবীতে সবার আগে নৌকার ব্যাবহার ও আবিষ্কার করলেও খ্রিস্টপুর্বাব্দ ২০০০ এর দিকে প্রাচীন মেসোপটেমীয় সভ্যতাতে নৌকা বাইচের মতো একটি প্রতিযোগীতার উল্লেখ পাওয়া যায়। প্রাচীন মেসোপটেমীয় সভ্যতার মানুষেরা তাদের ইউফ্রেটিস ও টাইগ্রীস নদীতে একধরনের নৌকা বাইচের আয়োজন করতো। পরবর্তীতে অবশ্য মিশরীয় সভ্যতাতে তাদের নীল নদে এই নৌকা বাইচের চল শুরু হয়েছিলো। তাই নৌকা বাইচ এর আদি ঐতিহ্য জড়িয়ে আছে মেসোপটেমীয় ও মিশরীয় সভ্যতার সাথে। প্রাচীন এই প্রতিযোগীতাকে এখনো টিকিয়ে রাখতে অক্সফোর্ড ও ক্যামব্রীজ বিশ্ববিদ্যালয় আজো আয়োজন করে এই প্রতিযোগিতার। এবং এটি একটি জনপ্রিয় প্রতিযোগীতা হিসেবেই স্বীকৃত। নৌকা বাইচ ১৯০০ সাল থেকে অলিম্পিক প্রতিযোগাতায় বিশ্বব্যাপী একটি জনপ্রিয় প্রতিযোগীতা। অলিম্পিকে ১৯০০ সাল থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত মোট ১৩৫ টি ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয়েছে যার মধ্যে ২৬ বার যুক্ত্ররাষ্ট্র, ২৫ বার জার্মানী ও ১৪ বার যুক্ত্ররাজ্য বিজয়ী হয়।


প্রাচীন ভারতবর্ষে নৌকা বাইচ এর প্রচলন হয় ব্রিটিশদের মাধ্যমে। “বাইচ” শব্দটি একটি ফরাসি শব্দ, যার বাংলা অর্থ হচ্ছে প্রতিযোগিতা। নৌকা বাইচ ভারতবর্ষে চালু হবার পর ধীরে ধীরে তা এই জনপদের মানুষের মধ্যে একটি জনপ্রিয় প্রতিযোগিতা হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে এই অঞ্চলের নদী প্রধান দেশ গুলিতে এই প্রতিযোগিতাকে সেখানকার মানুষেরা আপন করে নিতে থাকে। নদীমাতৃক বাংলাদেশে নৌকাবাইচ লোকায়ত বাংলার লোকসংস্কৃতির একটি অংশ। তবে কবে এদেশে গণবিনোদন হিসেবে নৌকাবাইচের প্রচলন হযেছির তার সঠিক ইতিহাস পাওয়া যায় না। "বাইচ" শব্দটির বুৎপত্তি বিবেচনা করে অনুমিত হয়েছে যে মধ্যযুগের মুসলমান নবাবসুবেদারভূস্বামীরা, যাদের নৌবাহিনী দ্বারা এই প্রতিযোগিতামূলক বিনোদনের সূত্রপাত করেছিলেন। তবে এ বিষয়ে দুটি জনশ্রুতি আছে। একটি জনশ্রুতি জগন্নাথ দেবের স্নানযাত্রাকে কেন্দ্র করে। জগন্নাথ দেবের স্নান যাত্রার সময় স্নানার্থীদের নিয়ে বহু নৌকার ছড়াছড়ি ও দৌড়াদৌড়ি পড়ে যায়। এতেই মাঝি-মাল্লা-যাত্রীরা প্রতিযোগিতার আনন্দ পায়। এ থেকে কালক্রমে নৌকাবাইচের শুরু। দ্বিতীয় জনশ্রুতি পীরগাজীকে কেন্দ্র করে। আঠার শতকের শুরুর দিকে কোন এক গাজী পীর মেঘনা নদীর এক পাড়ে দাঁড়িয়ে অন্য পাড়ে থাকা তার ভক্তদের কাছে আসার আহ্বান করেন। কিন্তু ঘাটে কোন নৌকা ছিল না। ভক্তরা তার কাছে আসতে একটি ডিঙ্গি নৌকা খুঁজে বের করেন। যখনই নৌকাটি মাঝ নদীতে এলো তখনই নদীতে তোলপাড় আরম্ভ হল। নদী ফুলে ফেঁপে উঠলো। তখন চারপাশের যত নৌকা ছিল তারা খবর পেয়ে ছুটে আসেন। তখন সারি সারি নৌকা একে অন্যের সাথে পাল্লা দিয়ে ছুটে চলে। এ থেকেই নৌকা বাইচের গোড়াপত্তন হয়।


নদীমাতৃক এই বাংলাদেশে মুসলিম যুগের নবাব-বাদশাহদের আমলে নৌকা বাইচ বেশ জনপ্রিয় ছিল। অনেকে মনে করেন, নবাব বাদশাহদের নৌ বাহিনী থেকেই নৌকা বাইচের গোড়াপত্তন হয়। পূর্ববঙ্গের ভাটি অঞ্চলের রাজ্য জয় ও রাজ্য রক্ষার অন্যতম কৌশল ছিল নৌ শক্তি। বাংলার বার ভূঁইয়ারা নৌ বলেই মোগলদের সাথে যুদ্ধ করেছিলেন। মগ ও হার্মাদ জলদস্যুদের দমনে নৌ শক্তি কার্যকর ভূমিকা রাখে। এসব রণবহর বা নৌবহরে দীর্ঘাকৃতির ছিপ জাতীয় নৌকা থাকত।


বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় নৌকার বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য দেখতে পাওয়া যায়। ঢাকা, গফরগাঁও, ময়মনসিংহ ইত্যাদি এলাকায় বাইচের জন্য ব্যবহৃত হয় সাধারণত কোশা ধরনের নৌকা। এর গঠন সরু এবং এটি লম্বায় ১৫০ ফুট থেকে ২০০ ফুট হয়। এর সামনের ও পিছনের অংশ একেবারে সোজা। এটি দেশিয় শাল, শীল কড়ই, চাম্বুল ইত্যাদি গাছের কাঠ দ্বারা তৈরি করা হয়। টাঙ্গাইল ও পাবনা জেলায় নৌকা বাইচে সরু ও লম্বা দ্রুতগতিসম্পন্ন ছিপ জাতীয় নৌকা ব্যবহৃত হয়। এর গঠনও সাধারণত সরু এবং এটি লম্বায় ১৫০ ফুট থেকে ২০০ ফুট, তবে এর পিছনের দিকটা নদীর পানি থেকে প্রায় ৫ ফুট উঁচু ও সামনের দিকটা পানির সাথে মিলানো থাকে। এর সামনের ও পিছনের মাথায় চুমকির দ্বারা বিভিন্ন রকমের কারুকার্য করা হয়। এটিও শাল, গর্জন, শীল কড়ই, চাম্বুল ইত্যাদি কাঠ দ্বারা তৈরি করা হয়। কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, আজমিরিগঞ্জ ও সিলেট অঞ্চলে বাইচের জন্য সারেঙ্গি নৌকা ব্যবহার করা হয়। এটি সাধারণত ১৫০ ফুট থেকে ২০০ ফুট লম্বা হয় এবং এর প্রস্থ একটু বেশি (৫ থেকে ৬ ফুট) হয়ে থাকে। এগুলির সামনের ও পিছনের দিকটা হাঁসের মুখের মতো চ্যাপ্টা এবং পানি থেকে ২-৩ ফুট উঁচু থাকে। চট্টগ্রাম, নোয়াখালী জেলার নিম্নাঞ্চল ও সন্দ্বীপে বাইচের জন্য সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় সাম্পান। এটির গঠন জাহাজের মতো। ঢাকা ও ফরিদপুরে ব্যবহৃত হয় গয়না নৌকা। এগুলির দৈর্ঘ্য প্রায় ১০০ থেকে ১২৫ ফুট এবং মাঝখানটা ৮-৯ ফুট প্রশস্ত। গয়না নৌকার সামনের দিক পানি থেকে ৩ ফুট উঁচু এবং পিছনের দিক ৪-৫ ফুট উঁচু।


এই লিঙ্ক এর ভিডিওটি ২০১৪ সালে গোপালগঞ্জ, বাংলাদেশের একটি ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচের ফুটেজ যা প্রবাসী এক বড় ভাই “জয়ন্ত” ড্রোন দিয়ে ভিডিও করেছিলেন। এই নদীটি গোপালগঞ্জের কালীগঙ্গা নদীর একটি শাখা যা পুর্বে আরো অনেক বড় ছিলো। বর্তমানে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী এই ধরনের ছোট বড় অনেক আয়োজনে আমরা সরাসরি অংশগ্রহন করতে পারিনা তাই আমাদের অনেকের পক্ষে এমন দৃশ্য দেখা সম্ভব হয়না। সেই সাথে বর্তমান প্রজন্ম এই নৌকা বাইচ প্রতিযোগীতার সাথে খুব একটা পরিচিত না তাই এই ভিডিওটি শেয়ার করা।  

---------- মৃত কালপুরুষ
               ০৯/১১/২০১৭  


মেয়েদের জামা কাটা পার্টি আবার শোচ্চার।


বাসে আবারও মেয়েদের জামা, কাপড় ব্লেড দিয়ে কেটে দেবার ধুম দেখা যাচ্ছে ইদানীং। অবাক হবার কিছু নাই এটা আমাদের দেশের কিছু প্রত্যাশিত ঘটনার একটি। যারা মেয়েদের পোষাক এভাবে ব্লেড দিয়ে কেটে দিচ্ছে তাদের ভাষ্য হচ্ছে মেয়েরা জিন্স পরে, সালোয়ার কামিজ পরে শাড়ি পরে তাতে আমাদের অসুবিধা হয় মানুষের ঈমান নষ্ট হয়। ঈমান কি জিনিষ সেটা জিজ্ঞাসা করলে তারা আর উত্তর দিতে পারে না। এই জাতীয় ঘটনা দেখে অনেকেই প্রশ্ন করেছেন দেখলাম আচ্ছা ভাইয়া জামা কাপড় কেটে দিয়ে কি করে তারা। আসলে এর সঠিক ব্যাখ্যা কি হবে আমি ঠিক বলতে পারছি না তবে তাদের যে উদ্দেশ্য মেয়েদের জামা কেটে তাদের শরীর দেখবে এমন কিছু না এটা নিশ্চিত। কারন মেয়েরা এখন সাধারন পোষাক পরে রাস্তায় বের হচ্ছে এতে তাদের এই আচরনের বহিঃপ্রকাশ ঘটছে এখন যদি তারা ইউরোপ আমেরিকার মতো ছোট ছোট স্কার্ট পরে রাস্তায় বের হয় তাহলে তাদের দেখে তো এদের খুশি হবার কথা তাই না। কিন্তু ব্যাপারটা মনে হয় তানা। কারন তারা চাচ্ছে মেয়েরা বিভিন্ন ভাবে অপমানিত হোক তারা বাইরে চলাচল করতে ভয়পাক এমন কিছু তারা করতে চাইছে যাতে তারা মেয়েদের আতঙ্কিত করে তুলতে পারে। আর একবার তা করতে পারলে তারা মেয়েদের স্বাভাবিক চলাফেরার উপরে আবারও ইসলামিক আইন মোতাবেক শাসন শুরু করতে পারবে।


আসলে যারা এসব করছে তারা কারা একটু ভেবে দেখেছি কি আমরা ? আপনাদের মনে আছে ? আমাদের দেশের বহুল পরিচিত ও মোস্ট পপুলার ব্যাতিত্ব জেএমবি কমান্ডার বাংলা ভায়ের কথা। জিনি খুব সুকৌশলে ১২ থেকে ২১ বছরের ছেলেদের মস্তিষ্ক এত সুন্দর করে ওয়াশ করে দিতে পারতো যাতে করে তারা নিজেদের জীবন পর্যন্ত দিতে একটুও ভাবতো না। যারা নিজেদের শরীরে বোমা দেধে আল্লাহু আকবার বলে লাফিয়ে পড়তেও কাপে না। সেই বাংলা ভাই কিন্তু সব শেষে ধরা পড়েছিলো বোরাকা পরা অবস্থায় একজন রিক্সাওয়ালার কাছে তারপর পুলিশ তার সন্ধান পায়। আসলে মেয়েদের বোরকার নামে তারা নিজেদের অপকর্ম অবাধে আবার চালিয়ে যেতে চায় এমন ধারনা করা কি আবার ভুল হবে ? বোরকা আসলে আরব্য একটি পোশাক ছিলো অনেক আগে। প্রাকৃতিক কারনে সেখানকার আবহাওয়ার উপরে নির্ভর করে এই জাতীয় পোশাকের চল শুরু হয়েছিলো সেখানে।

পোশাক নিয়ে যত মুমিন আর ইসলামিক গবেষক নারীদের নামে ইসলামিক ফতোয়া দিয়েছেন তার আসলে এই ধর্মটিতে কোন যুক্তিযুক্ত ব্যাখ্যা নেই থাকলে থাকতে পারে পর্দা করার কিছু নিয়ম। কিন্তু তার মানে এই না যে বোরকা নামক বস্তা পরতে হবে আবার চোখ দেখা গেলে চলবে না, শুধু তাই না হাতে হাত মোজা পরতে হবে, পায়েও তাই অর্থাৎ কমপ্লিট কাভার। অনেক সময় হিজাব আর সিদুর দেখে তারা দল আলাদা করে থাকে সেটাও একটা কারন। এই ভাবে কিন্তু আফগানিস্তানের মসজিদ গুলা থেকে একসময় আমরা অবাধে মাদক পাচার হতে দেখেছি তালেবানদের রমরমা সময়েমাদক, অস্ত্র, ও অবাধ নারী ও পুরুষ চলাচলের একটি সহজ মাধ্যম হতে পারে এই বোরকা নামক অসাধারন পোষাকটি। যারা আসলে এই জাতীয় আলোচনা দেখে মন্তব্য করে থাকেন শেয়াল আর মুরগী টাইপের তারা আসলে সব থেকে বেশি খারাপ। মানে বর্তমান সময়ের মডারেট মুসলমান ভায়েরা। যারা শাক দিয়ে মাছ ঢাকতে ঢাকতে আজ এই পরিস্থিতি গুলো আবার তৈরি করছে এই সভ্য সমাজে।


গতকাল নিউজ মিডিয়া গুলা প্রকাশ করেছে এক সাহসী তরুনীর কথা। সে মিরপুর ১০ নাম্বার থেকে বাসে ঊঠার পরে খেয়াল করলো তার পেছনের সিটে বসা তার নানার বয়সী এক মুরুব্বী ভদ্র চেহারার লোক তার সালোয়ার কামিজের একটি অংশ ধরে টানছে। এতে সে একটু সচেতন হয়ে উঠে দাঁড়িয়ে দেখলো সেই লোক হাতে কিছু একটা নিয়ে তার পায়জামা কেটে দিয়েছে। সে বোঝে উঠার আগেই অই লোক দৌড় লাগাতে গিয়েছিলো এর মধ্যেই সেই তরুনী তার কলার চেপে ধরে ও চিৎকার করে। এতে প্রথমে সবাই না বুঝতে পেরে জিজ্ঞাসা করে আসলে কি ঘটনা কারন লোকটির চেহারায় তখন আতঙ্ক। পরে যখন সবাই বুঝতে পারলো এই লোক মেয়েদেরকে অপমান আর অপদস্ত করার জন্য তাদের পোষাক কেটে দেওয়া পার্টির একজন তখন তারা তাকে ধরে কলাবাগান থানার পুলিশের কাছে হস্তান্তর করলো। ঘটনাটা শুনতে সাধারন হলেও আসলে কিন্তু মোটেও তা নয়। এই কাজ যারা করছে তাদের আমি সরাসরি ইসলামি সন্ত্রাসী বলি। এরা নির্দিষ্ট কোন উদ্দেশ্য নিয়ে বড় ধরনের কোন উদ্দোগে এই কাজ করছে যদি সংস্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই ব্যাপারে তদন্ত করে তাহলে দেখতে পারবে এই ধরনের ৯৫% কাজই সংঠিত হচ্ছে সেসব কারনে। যথা সময়ে সাহস দেখিয়ে এই তরূনী যা করেছে তাতে অবশ্যয় সে সকলের বাহবা পাবার যোগ্য। আর তাই আবারও তসলিমা নাসিরিনের কথা মনে পড়ে তার প্রতি সম্মানে নত হতে হয় আরেকবারদরকার শুধু একটু সাহসের আর কিছুই না।

---------- মৃত কালপুরূষ
               ০৮/১১/২০১৭



সোমবার, ৬ নভেম্বর, ২০১৭

১ নম্বর হচ্ছে মোল্লারা ২ নম্বর হচ্ছে নাস্তিকরা।


এই ১ ও ২ দুজনেরই নাকি মুল উদ্দেশ্য হচ্ছে মুসলিমদের বিজ্ঞানচর্চা ও গবেষনা থেকে দূরে রাখা। কথাটা আসলে আমার না তাই আমি নিজেই দ্বন্দে পড়ে যাচ্ছি এখানে। কারন মোল্লা কারা নাস্তিক কারা আর মুসলমান কারা এটাই তো বুঝতে পারছি না এই কথায়। যাইহোক এই কথার উত্তর খুজতে এখানে কিছু ব্যাখা দিচ্ছি কেউ বুঝে থাকলে সঠিক ব্যাপারটি কি তা জানানোর অনুরোধ রইলো। ইসলাম ধর্ম যখন ইসলামী খেলাফত বিশ্বজুড়ে প্রচার করছিলো এবং বহু বছর ব্যাপী রাজত্ব করার সময় যখন মুসলিম শাসকেরা স্বেচ্ছাচারিতা, ব্যাক্তিগত বিশ্বাস ও নানা কারনে ইসলামের মুল লক্ষ্য থেকে আস্তে আস্তে দূরে সরে আসছিলো তখন আবদুল ওহাব সবাইকে সংগঠিত করেছিলো এই বলে যে, মুসলমানদের অবশ্যয় তাদের পুর্বপুরুষ ও ইসলামের নবী রাসুলদের দেখানো প্রকৃত ধর্মে ফিরে যেতে হবে। অতীতে নবী রাসুল ও সাহাবীরা যেভাবে পরিচালিত হয়েছেন যেভাবে দেশ চালিয়েছিলেন সেই ভাবে কোরান হাদিসের দলিল মতো চালাতে হবে। তার ধারনা ছিলো এই ভাবে না চলার কারনে তখন মুসলমানরা সারা বিশ্বে পরাজিত আর নির্যাতিত হচ্ছিলো। এই ওহাবি ডাককেই বর্তমানে “স্যালাফি” বলা হয় এখন। খেয়াল করবেন, এখন কিন্তু সেই মুসলমানেরাই আবার বলছে এটা একটা উগ্রপন্থা এর কারন কি ? সেটা খুজতে গেলে আমরা আগেই দেখতে পাই ওহাব কিন্তু শুধুই বলেছেন কোরান এবং হাদীস ফলো করে চলতে হবে এর বাইরে কোন কথা বলে নাই তাহলে আসলে উগ্রপন্থা কোথায় লুকিয়ে আছে। মুসলমানেরা যদি তাদের কোরান আর হাদিসের দলিল ফলো করে চলে তাহলে আবার আরেকদল মুসলমান কেন বলবে এই “স্যালাফি” বা ওহাবীরা হচ্ছে উগ্র যারা ইসলামকে ধ্বংশ করছে। এর কারন হচ্ছে ইসলামী নিয়ম অনুযায়ী ও কোরান আর হাদীসের ইসলামী দলিল মেনে চলতে গিয়ে তখন থেকে মুসলিমদের মধ্যে ব্যাপকভাবে জিহাদ চেতনা, খিলাফত, দারুল ইসলাম, দারুল হার্ব, জিজিয়া, গণিমত, বাইতুল মাল ইত্যাদি বিশ্বাস জেগে উঠতে শুরু করেছিলো।
বর্তমান সময়ে যদি সৌদি আরব এর বিপক্ষে কোন ইসলামিক কার্যক্রম যায় তাহলেই তারা তাকে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড বলে থাকে। কিন্তু প্রকৃত সত্য হচ্ছে আজকের এই সৌদি আরব, আইএস, তালেবান, বোকো হারাম, আল-কায়েদা, লস্কর, আনসারুল্লাহ যার সবই মুলত ইসলামের সেই পূর্ণজাগরন থেকেই এসেছে তা তারা কেউ অস্বীকার করতে পারবে না। এখন একটু বর্তমান বিশ্বের সার্বিক ধর্মীয় পরিস্থিতি যদি নিরাপেক্ষ একটি দৃষ্টিতে আপনি একবার রিভিউ করে দেখেন তাহলে দেখবেন যে, অন্যান্য আরো অনেক ধর্ম, বিশেষ করে খ্রিস্টান স্যালাফি যারা ইহুদী ধর্ম থেকে স্থানান্তরিত বা হিন্দু স্যালাফি যারা সনাতন ধর্ম থেকে পরিবর্তিত হয়েছে এবং পুর্বের কিছু বর্বরতা পরিহার করে কিছুটা নিরহ টাইপের ধর্ম হয়ে উঠেছিলো তাদের সাথে কিন্তু ইসলাম ধর্মকে মেলানো যাচ্ছে না। কেন যাচ্ছে না, কারন হচ্ছে এই ইসলাম ধর্ম বর্তমানে ধীরে ধীরে আরো ভয়ংকর হয়ে উঠছে যখনই তারা তাদের পুর্ব পুরুষ আর নবী রাসুলদের পথ অনুসরন করছে। যদি তারা নবী রাসুলদের প্রবর্তিত পথ অবলম্বন না করতো তাহলে মনে হয় এতটা ভয়ংকর হতো না। এই বিষয়ে আমার জানা বোঝার যায়গা কম থাকাই আমি এই ব্যাপারে কিছু বলবো না। তবে মানুষকে সচেতন করতে যদি কিছু লেখা হয় তাতে আমি দোষের কিছু দেখি না। এখানে “গায়ে মানে না আপনে মোড়ল” বা গায়ের মোড়ল হলেই যে এই কথা সে বলতে পারবে এমন কোন বিষয় জড়িত থাকার কথা না বা থকতে পারেনা, যেহেতু এটা একটা সচেতনতা মূলক ব্যাপার।
একটা বিষয় লক্ষ করলাম ইসলামের জিহাদি পথ অবলম্বন করে যারা বিভিন্ন অপকর্ম করছে ও মানুষ হত্যা করছে তাদের ব্যাপারে কিছু লিখলেই অনেক ধার্মীক ভায়েরা ধারনা করে থাকছেন যে সকল ধর্মবিশ্বাসী মানুষকেই মনে হয় বলা হচ্ছে জিহাদি বা জঙ্গি সন্ত্রাসী। এটা আসলে তাদের কোন ভুল নয় কারন তারা আসলে ব্যাপারটি বুঝতে পারছেন না মনে হচ্ছে। আমি তাদের উদ্দেশ্য ছোট্ট করে বলছি, আসলে সব ধর্ম বিশ্বাসী মানুষই জংগী বা জিহাদি সন্ত্রাসী এমন কথা কোনদিন কেউ বলে না আর আমিও কোথায় দেখি নাই কোন মুক্তমনা, নাস্তিক, যুক্তিবাদী, সংশয়বাদী, আজ্ঞেয়বাদী বা এরকম কেউ কোথাও বলেছে যে সকল ধার্মীকই আসলে সন্ত্রাসী বা জঙ্গী। আসলে তারা যেটা বলে সেটা সর্বসাধারন ও ধার্মিক মানুষদের রক্ষা করার উদ্দেশ্যেই বলে যা ধার্মীকেরা আসলেই বুঝতে পারে নাএখানে একটা উদাহরন আমি প্রবাসী লেখক আসিফ মহীউদ্দিন এর একটি লেখাতে পড়েছিলাম। ধরুন একটি ভয়ানক ভাইরাস কোন একটা কোম্পানীর ঔষধ বা খাবারের ভেতরে করে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে মানুষকে অসুস্থ করার জন্য। আসলে অনেক সময় সেই কোম্পানী নিজেও হয়তো কিছু কিছু সময় জানতে পারছেনা এমন কিছু তার কোম্পানীর প্রোডাক্ট থেকে হচ্ছে। আমরা বাজার থেকে যে সকল কোমল পানীয় কিনে খাচ্ছি সেটার একটা আন্তর্জাতিক মানের ব্রান্ড ও কোম্পানীর একটি কোমল পালীয় এর কথায় ধরুন। তাদের বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের ব্যাবসা হচ্ছে এই পানীয় সারা বিশ্বে সরবরাহ করে। এখন হঠাৎ দেখা গেলো এই নির্দিষ্ট কিছু কোম্পানীর পানীয় যারা খাচ্ছে বা একটি কোম্পানীর পানীয় যারা খাচ্ছে তারা অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে। এবং তারা অসুস্থ হতে হতে একটা পর্যায়ে গিয়ে কিছু সুস্থ মানুষকে কামড়াচ্ছে।
এই পর্যায়ে আক্রান্ত ব্যাক্তিদের চিকিৎসার পক্ষে কারা কারা থাকবেন বলে মনে হয়। অবশ্যয় সকলেই চাইবেন যে সমস্ত মানুষ অসুস্থ হচ্ছে তাদের সকলকেই চিকিৎসা করে সুস্থ করে তোলা উচিত। এমন সময় একদল মানুষ একটি গবেষনা করে দেখলো যে যারা এই অসুখে আক্রান্ত হচ্ছেন তারা আসলে সবাই নির্দিষ্ট একটি কোম্পানীর কোমল পানীয় খায় অর্থাৎ মূল সমস্যা সেই কোমল পানীয়র মধ্যে লুকিয়ে আছে। তাহলে কি আপনি চাইবেন না আসলে সেই কোম্পানীর পানীয়র মূল উপাদানে কি কি মেশানো আছে তা জানতে ? এমন একটি কোম্পানী যারা বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের ব্যাবসা করছে পৃথিবীর মানুষের কাছে, যেই কোম্পানীর উপরে পৃথিবীর এক তৃতীয়াংশ মানুষের আস্থা আছে, রয়েছে অনেক লোকবল ও প্রচার প্রচারনা। বিভিন্ন মডেলরা টিভি বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে বারবার আমাদের বলছে এই পানীয় ব্যাবহার করার কথা। সেখানে কেউ যদি এমন কথা বলতে চাই আসলে আপনাদের কোমল পানীয়র মূল উপাদানে কোন সমস্যা আছে কারন তা যারা খাচ্ছে তাদের অধিকাংশ আজ অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে আর শুধু অসুস্থই হচ্ছে না আরো সুস্থ মানুষদের ক্ষতি করছে তারা সুস্থ মানুষদের কামড় দিচ্ছে তাহলে কি এই কথাটা খুব গ্রহনযোগ্য হবে ?  
আশা করি তা সেই কোম্পানীর পরিচালনা পরিষদ ও কোম্পানীর শুভাকাঙ্খী, সেই কোম্পানীর পন্য ব্যাবহারকারী পৃথিবীর এক তৃতীয়াংশ মানুষ তারা আসলে কেউ চাইবেনা এমন কোন কথা প্রচার করা হোক বা তারা কেউ চাইবে না যে মানুষ এই কোম্পানীর পন্য খেয়ে আজ অসুস্থ হচ্ছে এই কথা মেনে নিতে। তাই যারা এই কথা বলছে তাদের গবেষনা ভুল আর মিথ্যা। যখন তাদের কথা আর ভুল প্রমান করা সম্ভব হচ্ছে না তখন হয়তো তাদের অন্য ভাবে থামিয়ে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে আইন কানুন ও নিয়মের দোহাই দিয়ে। এরপরেও যাদের থামানো সম্ভব হচ্ছে না তখন সেই কোম্পানীর পন্য খেয়ে অসুস্থ হওয়া কিছু মানুষ দিয়ে তাদের হত্যা করা হচ্ছে।
বর্তমানে কিছু মানুষ আছে যারা বলছে বিশ্বের তৃতীয় শ্রেনীর আর স্বল্প শিক্ষিত দেশ গুলোতো অনেক পুর্বে থেকেই বিভিন্ন ধর্মের চর্চা হয়ে আসছে। আর ধর্ম এমন একটি সেনসেটিভ ইস্যু যা মানুষ চোখ বন্ধ অরে গিলে নিচ্ছে। এই ইস্যুটি ব্যাবহার করে একদল মানুষ এতদিন তাদের রাজত্ব চালিয়ে এসেছে আমাদের মাঝে। কিন্তু বর্তমানে জ্ঞান আর বিজ্ঞানের অধিক চর্চার ফলে সেই সব ধর্মীয় সিস্টেমগুলো সবই ভুল প্রমানিত হয়েছে। তারা বলছে যেহেতু ধর্ম ভুল বোঝাচ্ছে বা আমাদের মিথ্যা ও কাল্পনীক ঠাকুরমার ঝুলির মতো গল্প শুনিয়ে ভয় আর লোভ দিচ্ছে সেহেতু আমাদের এই ধর্ম গুলিকে বর্জন করা ছাড়া বিজ্ঞানের চর্চা করে মানব সভ্যতার উন্নয়ন করা সম্ভব হবে না। সেই সাথে আরেকদল এসে পাশে দাঁড়িয়ে বলছে যখন মানুষ এই বিভিন্ন প্রচলিত ধর্মের কুসংস্কার আর মিথ্যা ও ভুল থেকে বেরিয়ে এসে বিজ্ঞানের চর্চা শুরু করছে জ্ঞানের পথে হাটছে তখন তাদের নাস্তিক বলে আলাদা করছে সেই ধার্মীক শ্রেনী। তাদের ধারনা বর্তমানে এই রকম দুইটি ভাগে ভাগ হয়ে যাচ্ছে দুইটি শ্রেনী আর মাঝখানে পড়ছে একেবারেই সাধারন ধার্মীক মানুষ যারা আসলে আগে পিছে কোথায় নাই বলে দাবী করছে। আসলে এই সধারন মানুষ গুলাই কি সমস্যা ? এরা কারা যারা বার বার শাক দিয়ে মাছ ঢাকতে চাচ্ছে ? আর কেনই বা চাচ্ছে ? আসলে কি এদের জানা বোঝার ভুল আছে না এদেরকে সেভাবেই শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। আমার আসলে ভেবে লজ্জা লাগে এরা কিভাবে ধর্মের নাম ব্যাবহার করে বেধর্মীদের যুদ্ধের মাধ্যমে হত্যাকে আইন সম্মত বলে চালাই আর লুটপাটকে বৈধ বলে প্রচার করে।
---------- মৃত কালপুরুষ
                ০৬/১১/২০১৭         


শনিবার, ৪ নভেম্বর, ২০১৭

ধর্ম এবং ধর্মান্ধরা কতটা নৃশংস, কতটা যুক্তি বুদ্ধি হীন তারা কি জানে ?


লিখতে চাচ্ছিলাম অন্য কিছু। কিন্তু মাথার ভেতরে শুধুই ঘুরছে, আমার মাথা কাটতে হবে মাথায় নাকি ঘা হয়েছে। আমি আসলে জানি না আমার মাথায় কিভাবে ঘা হলো আর কেনই সেটা কাটতে হবে। গত সপ্তাহে আমেরিকার নিউ ইয়র্ক এ একজন মুসলিম বান্দা একটি মিনি ট্রাক দিয়ে আট জন নিরিহ পথচারিকে “আল্লাহু আকবার” হলে হত্যা করেছে এবং আরো বারো জনকে আহত করেছিলো। সেটা নিয়ে গত পরশু একটু আলোচনা করে লিখেছিলাম এবং একটি প্রশ্ন রেখেছিলাম “আল্লাহু আকবার” শ্লোগানের সংজ্ঞা কি দাড়াচ্ছে ?” বলে। সেখানেই একজন এই কথা বলেছে তাই শুধুই আমার মাথায় এটা ঘুরছে এখন। আসলে সমস্যাটা আমার মাথার কোথায় ? সেটা খুজতে গিয়ে আবারও মনে পড়ে গেলো কিছু বোকা মানুষের কথা যারা এই ধরনের একটি দেশে এসে প্রচলিত প্রথাকে সংস্কার করে এই সমাজ, এই দেশের জন্য কিছু ভেবে প্রান দিয়েছিলো। এদের বেশিরভাগই ছিলো উন্নত কোন দেশের নাগরিক ও বিজ্ঞানী, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কেউ কেউ ছিলেন বিজ্ঞান ভিত্তিক লেখক। এদের কেন বোকা বললাম কারন তারা কিন্তু এই সংস্কার করতে চেয়েই তাদের প্রান দিয়েছে। তারা যদি জানতোই যে এই সংস্কার করতে চাওয়া একটা বোকামী যাতে নিজের প্রানও দেওয়া লাগতে পারে তাহলে কেন তারা এসব করতে গেলো ?

আমরা তো এটুকু জানি যে, বাংলাদেশের শুরু থেকেই কিছু নিয়ম কানুন ছিলো, সাথে ছিলো রাজনৈতিক কিছু শক্তি যার দ্বারা আমরা পরিচালিত হয়ে আসছি। শুধু এই দেশেই যে এমন নিয়ম ছিলো তা কিন্তু নয়। বহিঃবিশ্বের দিকে একটু চোখ তুলে তাকালেই দেখতে পারবেন আজকের দিনের সকল উন্নত ও ধনী দেশ গুলিতেও কিন্তু একই নিয়ম কানুন ছিলো। তাহলে কথা হচ্ছে তারা কেন আমাদের থেকে এগিয়ে গেলো ? এর কারন হচ্ছে তারা বিজ্ঞানের চর্চা করেছে আর জ্ঞান আহরন করেছে। আর এদের ভেতরে যাদের মধ্যে সব থেকে বেশি জ্ঞান বিজ্ঞানের বিকাশ ঘটেছে তারাই হয়ছে বর্তমানের সব থেকে উন্নত জাতি ও দেশ। একটু যাচাই বাচাই করলেই দেখা যাবে সেসব দেশের রাজনৈতিক ধারা, অর্থনীতি, নিয়ম-কানুন, মূল্যবোধ সবই নিয়ন্ত্রন করেছে এই জ্ঞান আর বিজ্ঞান। তাহলে কথা হলো আমাদের দেশে কেন সেটা হলো না ? এর একটা কারন হচ্ছে আমাদের দেশে জ্ঞান ও বিজ্ঞানের কোন চর্চা নেই সাথে যোগ আছে আমাদের দেশের এমন কোন প্রাকৃতিক সম্পদও নেই যা দিয়ে বর্তমানের তেল নির্ভর কোন দেশের সাথে পাল্লা দেওয়া যাবে। এর সাথে আবার যোগ আছে বিশাল সংখ্যক এক জনসংখ্যা যার অধিকাংশই রাষ্ট্রের মুল অর্থনীতিতে কোন ভূমিকা রাখেনা বা বিভিন্ন কারনে পারে না। যতই আমরা বলি না কেন আমাদের দেশ সোনার দেশ আমাদের দেশের মাটি সোনা তাতে কিন্তু এটা প্রমান হচ্ছে না আমাদের দেশে মনে হয় সোনার খনি জাতীয় কিছু আছে যা তুলে আমরা আমাদের দেশের অনেক উন্নয়ন সাধন করতে পারি।

এই যদি হয় আমাদের অবস্থা তাহলে কি করতে হবে আমাদের। আমাদের হতে হবে একটু উন্নত মানুষিকতার। জ্ঞান বিজ্ঞানের চর্চা করতে হবে। বিশ্বের অন্যান্য সব উন্নত দেশকে ফলো করতে হবে তারা আজকে কিভাবে তাদের রাষ্ট্র পরিচালনা করছে। আর এই চিন্তা থেকে যারা আমাদের দেশের প্রচলিত প্রথা আর নিয়মের পরিবর্তন বা সংস্কার চেয়ে কথা বলতে আসে, তাদেরকেই আগে বিভিন্ন ভয় ভীতি দেখিয়ে বসে আনার চেষ্টা করে একটি শ্রেনী। তারপর না পেরে তাদের আঘাত করে বা পরবর্তিতে হত্যা করা হয়। এর একটা কারন হচ্ছে যারা আসলে সেই নিয়ম-কানুনের সিস্টেম পরিচালনা করছে তাদের কেউ এই শ্রেনীর সাথে মিলেনা। যে প্রচলিত নিয়ম বিভিন্ন দেশের শুরু থেকে তৈরি করা হয় তা আসলে অল্প কিছু মানুষ একত্রিত হয়ে করে থাকে এবং পরবর্তিতে তা দেখা যায় পুরা জাতি বা গোষ্ঠী ও রাষ্ট্র সেই নিয়ম মেনে চলছে। এদের মধ্যে একটি গ্রুপ থাকে তারা এই নিয়ম গ্রহন করে থাকে আর একটি গ্রুপ থাকে তারা সেই নিয়ম পরিহার করে থাকে আর সেখান থেকেই আসলে শুরু হয় এই সমস্যা। একদল চাই সেটার সংস্কার করা হোক এবং কেন করা হবে তার সাথে কিছু চ্যালঞ্জ ছুড়ে দেয়। অপরদিকে যে পক্ষ সেই নিয়ম বানিয়েছে তারা অবশ্যয় চায় তাদের অতি সাধের গড়া এই নিয়ম যেকোন মূল্যেই হোক রক্ষা করতে হবে। আর এখানে এসে ব্যাবহার করা হয় ধর্ম নামক বিষাক্ত বস্তু। কারন এটা এমনই একটি জিনিষ যা একবার ঠিকমতো ব্যাবহার করতে পারলে সমস্ত জাতি গোষ্ঠির সাপোর্ট বিনা নোটিশে পাওয়া সম্ভব। তাই তো অতীতে যারা এই প্রচলিত নিয়ম আর প্রথা বিরোধী আন্দোলনের সাথে কন্ঠ মিলিয়ে কথা বলতে গিয়েছে তাদের কেউ কেই আজ এই দেশ ছেড়েছে আর নয়তো পৃথিবী ছেড়েছে। তবে তাদের অবদান আমাদের ভুলে গেলে চলবে না। কারন সত্য কোনদিন গোপন থাকে না বলে একটি কথা আছে আর ঘটেও তাই। ধর্মের নামে যে ভুতের গল্প আর পরকালের লোভ বা ভয় দেখিয়ে আজ দেশের মানুষকে একটি শ্রেনী নিয়ন্ত্রন করে রেখেছে তাদের আসল উদ্দেশ্য একদিন সাধারন মানুষ ও সাধারন ধার্মিকেরা অবশ্যয় বুঝতে পারবে অন্যান্য উন্নত দেশের মতো।

বেশি দূরে না, আমাদের কাছাকাছি দেশ চীন কে দেখুন একবার। সেখানকার রাস্তা ঘাটে আজকের দিনে একজন রিক্সাওয়ালা খুজে পাওয়া যাবে না যে বিবর্তনবাদ বিশ্বাস করেনা। কিন্তু আমাদের দেশের চেহারা দেখুন, এখানে বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান গুলিতে দেখা যায় বিশেষ করে মদজিদ, মাদ্রাসা আর ওয়াজ মাহফিল গুলিতে লাগাতার শেখানো হচ্ছে বিবর্তনবাদ বলে আসলে কিছুই নেই সব ভুল। এর সাথে আরও শক্ত ভাবে প্রচার করা হয় আদম, হাওয়া টাইপের গল্প ও হাশরের ময়দান। আর এই সমস্ত কারনেই আজ সেই মূল সিস্টেমের সকল ব্লাক সাইড ঢাকা পড়ে থাকে এই ধর্মের আড়ালে। প্রচলিত প্রথার বিরুদ্ধে যারাই আওয়াজ তুলেছে তারাই হত্যার শিকার হয়েছে বা আজকে দেশ ছেড়েছে নানান হুমকি ধামকিতে। এই কাজে একচেটিয়া ভাবে সেই সকল ধর্মের অনুসারীদের ৯৯% এর সাপোর্ট পাওয়া সম্ভব হয়েছে। ধর্মের মূল কাজ হচ্ছে মানুষকে ভয় দেখানো ও লোভ দেখানো আর এটাই হচ্ছে এই বিষাক্ত সিস্টেমের মূল অস্ত্র। বিজ্ঞান ভিত্তিক সকল ব্যাখ্যা দূরে রেখে হাজার হাজার বছর ধরে প্রচলিত কোন নিয়ম-কানুন কে অন্ধের মতো বিশ্বাস করার আরেক নাম হচ্ছে ধর্ম। এই ধর্মের নামে চলে সাধারন মানুষের ব্রেন ওয়াশ করার মতো কাজ। বিশেষ করে যদি ১২ থেকে ২১ বছর বয়সের মধ্যে কোন কিশোর, কিশোরীর ব্রেন একটু ভালো ভাবে ওয়াশ করা হয় এই ধর্মীয় ব্রাশ দিয়ে তাহলে সেটা মৃত্যুর আগ পর্যন্ত বলবৎ থাকে। আর তা দিয়েই মূল সিস্টেমের হর্তা কর্তারা ধরা ছোয়ার বাইরে থেকে খুব সহজে অনেক অপরাধ মূলক কর্মকান্ড করিয়ে নিতে পারে।

বাংলাদেশ আসলে উন্নতবিশ্বের কোন দেশ না তাই বহিঃবিশ্বের কারো নজর এই দেশের উপরে পড়বে না। এদেশে নেই কোন সোনা বা প্লাটিনিয়ামের খনি বা তেলের সন্ধান যা আমাদেরকে হাইলাইট করবে অন্যান্য দেশকে টেনে আনবে আমাদের কাছে। যেহেতু কোন প্রকৃতি প্রদত্ত সম্পদ আমাদের নেই তাই আমাদেরকে কিছু মানুষ বলতে চেয়েছিলো তোমরা জ্ঞান আর বুদ্ধির চর্চা কর। জ্ঞানের চর্চাকে মুক্ত করে আমাদের দেশের যে স্বল্প সম্পদ আছে, তা দিয়েই কিছু করে দেখাও। সমাজে জ্ঞান বিজ্ঞান মুক্ত করে সকলকে চিন্তা করার সুযোগ দেও। কারন তাকিয়ে দেখো বর্তমান বিশ্বে এরকম অনেক নমুনা আছে প্রয়োজনে তাদের দিকে তাকিয়ে দেখো তাদের থেকে কিছু শেখো নাহলে টিকে থাকা যাবে না। এতেই তারা হয়ে গেলো লাশ। কারন যারা ধর্মকে ব্যাবহার করে ধর্মীয় মোড়ল দেশ থেকে সাহায্যের নামে ভিক্ষা পেতো তা কিন্তু বন্ধ হয়ে যাবার হুমকি এখানে কাজ করেছে খুব ভালো ভাবে। যদি এসবের চর্চা আমাদের দেশে একবার চালু হয়ে যায় তাহলে বিভিন্ন ধর্মীয় অর্থায়ন একেবারেই বন্ধ হয়ে যাবে। এখনও তাই ভেবে যাচ্ছি আসলে মাথার ঘা টা কোথায় আর কেনইবা তা কেটে ফেলতে হবে। 


---------- মৃত কালপুরুষ
                  ০৪/১১/২০১৭